সূরা
পারা
Loading verses...
সূরা
পারা
Loading verses...
অন্যান্য
অনুবাদ
তেলাওয়াত
সূরা কুরাইশ (قريش) | কুরাইশ গোত্র
মাক্কী
মোট আয়াতঃ ৪
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
اٖلٰفِہِمۡ رِحۡلَۃَ الشِّتَآءِ وَالصَّیۡفِ ۚ ٢
ঈলা-ফিহিম রিহলাতাশশিতাই ওয়াসসাঈফ।
অর্থাৎ তারা শীত ও গ্রীষ্মকালে (ইয়ামান ও শামে) সফর করতে অভ্যস্ত। ১
তাফসীরঃ
১. এ সূরার প্রেক্ষাপট এই যে, জাহেলী যুগে অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবের আগে আরব অঞ্চলে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা ছিল না। হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। কেউ নিরাপদে স্বাধীনভাবে সফর করতে পারত না। কেননা পথে যেমন চোর-ডাকাতের ভয় ছিল তেমনি আশঙ্কা ছিল শত্রু গোত্রের লোকে তাকে মেরে ফেলতে পারে। কিন্তু কুরাইশ গোত্র যেহেতু বাইতুল্লাহ শরীফের আশপাশে বাস করত এবং তারা এ পবিত্র ঘরের সেবা করত। তাই আরবের সমস্ত লোকই তাদেরকে সম্মান করত। তারা যখন সফর করত কেউ তাদের কোন ক্ষতি করত না। সুতরাং তারা প্রতি বছর শীতকালে শামে ও গ্রীষ্মকালে ইয়ামানে নিরাপদ বাণিজ্যিক সফর করত। তাদের আয়-রোজগার এসব সফরের উপরই নির্ভরশীল ছিল। মক্কা মুকাররমায় কোন খেত-খামার ছিল না। তা সত্ত্বেও এসব সফরের কারণে তারা সচ্ছল জীবন যাপন করত।
আল্লাহ তাআলা এ সূরায় তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, সারা আরবে তাদের যে সম্মান এবং যে কারণে তারা শীত ও গ্রীষ্মকালে নিরাপদে বাণিজ্যিক ভ্রমণ করতে পারে, এসব এই বাইতুল্লাহ শরীফেরই বরকত এবং এ ঘরের প্রতিবেশী হওয়ার কারণেই সকলে তাদেরকে বিশেষ সম্মান ও খাতির করে। সুতরাং তাদের উচিত এ ঘরের মালিক অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা ও মূর্তিপূজা পরিত্যাগ করা। কেননা এ ঘরের কারণেই তো তারা খাবার পাচ্ছে এবং এরই কারণে তারা শান্তি ও নিরাপত্তা ভোগ করছে। এর মধ্যে শিক্ষা রয়েছে যে, কোন দীনী সম্পর্কের কারণে যে ব্যক্তি দুনিয়ায় বিশেষ কোন সুবিধা ভোগ করে তার অন্যদের তুলনায় বেশি ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকা উচিত।