সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল মাঊন (المـاعون) | সাহায্য-সহায়তা

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৭

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اَرَءَیۡتَ الَّذِیۡ یُکَذِّبُ بِالدِّیۡنِ ؕ ١

আরাআইতাল্লাযী ইউকাযযি বুবিদ্দীন।

তুমি কি দেখেছ তাকে, যে কর্মফলকে অস্বীকার করে?

فَذٰلِکَ الَّذِیۡ یَدُعُّ الۡیَتِیۡمَ ۙ ٢

ফাযা-লিকাল্লাযী ইয়াদু‘‘উল ইয়াতীম।

সে তো সে-ই, যে ইয়াতীমকে ধাক্কা দেয়,

তাফসীরঃ

১. কয়েকজন কাফের সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তাদের কাছে কোন ইয়াতীম সাহায্য চাইতে আসলে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিত। এ কাজটি যে-কারও জন্যই নিষ্ঠুরতার পরিচায়ক এবং অতি বড় গুনাহ। কিন্তু বিশেষভাবে কাফেরদের কথা বলে ইশারা করা হয়েছে যে, এ কাজটি মূলত কাফেররাই করতে পারে। কোন মুসলিমের থেকে এরূপ আশা করা যায় না।

وَلَا یَحُضُّ عَلٰی طَعَامِ الۡمِسۡکِیۡنِ ؕ ٣

ওয়ালা-ইয়াহুদ্দু‘আলা-তা‘আ-মিল মিছকীন।

এবং মিসকীনকে খাদ্য দানে উৎসাহ দেয় না

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ নিজে তো গরীব-দুঃখীর সাহায্য করেই না, অন্যকেও করতে উৎসাহ দেয় না।

فَوَیۡلٌ لِّلۡمُصَلِّیۡنَ ۙ ٤

ফাওয়াইঁলুললিল মুসাল্লীন।

সুতরাং বড় দুর্ভোগ আছে সেই নামাযীদের,

الَّذِیۡنَ ہُمۡ عَنۡ صَلَاتِہِمۡ سَاہُوۡنَ ۙ ٥

আল্লাযীনাহুম ‘আন সালা-তিহিমি ছা-হূন।

যারা তাদের নামাযে গাফলতি করে

তাফসীরঃ

৩. নামাযে গাফলতি করার এক অর্থ তো নামায একদম না পড়া। দ্বিতীয়ত এটাও গাফলতির অন্তর্ভুক্ত যে, কেউ নামায পড়ল তো বটে, কিন্তু সহীহ তরীকায় পড়ল না।

الَّذِیۡنَ ہُمۡ یُرَآءُوۡنَ ۙ ٦

আল্লাযীনা হুম ইউরাঊনা।

যারা মানুষকে দেখায়

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ নামায পড়লেও আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য পড়ে না; বরং উদ্দেশ্য থাকে মানুষকে দেখানো। মূলত এ কাজটি ছিল মুনাফেকদের। যেখানে এ সূরাটি নাযিল হয়েছে, সেই মক্কা মুকাররমায় যদিও কোন মুনাফেক ছিল না, কিন্তু কুরআন মাজীদ যেহেতু সাধারণ নিয়ম বর্ণনা করে থাকে, আর ভবিষ্যতে এ রকম মুনাফেক সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, যেমনটা পরবর্তীকালে মদীনা মুনাওয়ারায় হয়েছে, তাই আগেই এ গুনাহের কথা বর্ণনা করে দিয়েছে।

وَیَمۡنَعُوۡنَ الۡمَاعُوۡنَ ٪ ٧

ওয়া ইয়ামনা‘ঊনাল মা-‘ঊন।

এবং অন্যকে মামুলী বস্তু দিতেও অস্বীকার করে।

তাফসীরঃ

৫. ‘মামুলী জিনিস’ এটা الماعون -এর তরজমা। এ শব্দটি দ্বারাই সূরার নামকরণ করা হয়েছে। মূলত মাঊন এমন সব ছোট-খাট জিনিসকে বলে, যা এক প্রতিবেশী অন্য প্রতিবেশীর কাছে চেয়ে থাকে, যেমন থালা-বাসন ইত্যাদি। পরবর্তীতে শব্দটি আরও ব্যাপক হয়ে যায়, ফলে যে-কোন সাধারণ বস্তুকেই মাঊন বলা হতে থাকে। হযরত আলী (রাযি.) সহ কয়েকজন সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে, তারা এর ব্যাখ্যা করেছেন যাকাত, যেহেতু তাও মানুষের সম্পদের মামুলী অংশ (চল্লিশ ভাগের এক ভাগ) হয়ে থাকে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.) থেকে এর ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে, এক প্রতিবেশী অপর প্রতিবেশীর কাছে গৃহস্থালীর ব্যবহার্য জিনিস চাইলে তা না দেওয়া।
সূরা আল মাঊন | মুসলিম বাংলা