সূরা
পারা
Loading verses...
সূরা
পারা
Loading verses...
অন্যান্য
অনুবাদ
তেলাওয়াত
সূরা আল কাউছার (الـكوثر) | প্রাচুর্য
মাক্কী
মোট আয়াতঃ ৩
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
اِنَّاۤ اَعۡطَیۡنٰکَ الۡکَوۡثَرَ ؕ ١
ইন্নাআ‘তাইনা-কাল কাওছার।
(হে রাসূল!) নিশ্চয়ই আমি তোমাকে কাওছার দান করেছি। ১
তাফসীরঃ
১. ‘কাওছার’-এর শাব্দিক অর্থ প্রভূত কল্যাণ। জান্নাতের একটি বিশেষ হাওজের নামও কাওছার, যা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্তৃত্বাধীন থাকবে। তাঁর উম্মত সে পানি দ্বারা পরিতৃপ্ত হবে। হাদীসে আছে, সে হাওজের পেয়ালা আকাশের তারকারাশির মত বিপুল সংখ্যক হবে। এখানে ‘কাওছার’-এর অর্থ যদি করা হয় ‘প্রভূত কল্যাণ’, তবে ‘হাওজে কাওছার’-ও তার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
اِنَّ شَانِئَکَ ہُوَ الۡاَبۡتَرُ ٪ ٣
ইন্না শা-নিআকা হুওয়াল আবতার।
নিশ্চয়ই তোমার যে শত্রু তারই শেকড় কাটা। ২
তাফসীরঃ
২. ‘শেকড় কাটা’ কুরআন মাজীদের শব্দ হল ابتر (আবতার) শাব্দিক অর্থ, যার শেকড় কাটা। আরববাসী ‘আবতার’ শব্দটি এমন লোকের জন্য ব্যবহার করে যার বংশধারা চালু থাকে না, অর্থাৎ যার কোন পুত্র সন্তান থাকে না। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল পুত্র সন্তান ইন্তেকাল করলে আস ইবনে ওয়াইল ও অন্যান্য কাফেরগণ তাঁর প্রতি কটাক্ষ করে বলতে লাগল, তিনি আবতার, তার বংশ রক্ষা হবে না। তারই জবাবে আল্লাহ তাআলা এ সূরাটি নাযিল করেছিলেন। এতে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা তো আপনাকে কাওছার দান করেছেন। আপনার ঔরসজাত পুত্র বেঁচে না থাকলে ক্ষতি কি? আপনার রূহানী পুত্র তো অগণ্য। তারাই আপনার নাম রাখবে এবং আপনার দীন নিয়ে এগিয়ে চলবে। ‘আবতার’ তো আপনার শত্রুগণ। মৃত্যুর পর তাদের কোন নাম-নিশানা বাকি থাকবে না। বাস্তবে তাই হয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমর হয়ে আছেন ও থাকবেন। তাঁর নাম বিশ্বের সর্বত্র ভক্তি-শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয়ে থাকে। আলহামদুলিল্লাহ তাঁর পবিত্র জীবন-চরিতের চর্চা একটা জীবন্ত বিষয় হয়ে আছে। অপর দিকে যারা তাঁর নিন্দা করত, তাদেরকে কেউ চেনেও না আর কেউ তাদের নামোল্লেখ করলেও ঘৃণার ও অবজ্ঞার সাথেই করে।