সূরা
পারা
Loading verses...
সূরা
পারা
Loading verses...
অন্যান্য
অনুবাদ
তেলাওয়াত
সূরা আন নাস্র (الـنصر) | স্বর্গীয় সাহায্য
মাদানী
মোট আয়াতঃ ৩
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
اِذَا جَآءَ نَصۡرُ اللّٰہِ وَالۡفَتۡحُ ۙ ١
ইযা-জাআ নাসরুল্লা-হি ওয়াল ফাতহ।
যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে ১
তাফসীরঃ
১. এর দ্বারা মক্কা মুকাররমার বিজয় বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ যখন আপনার হাতে মক্কা মুকাররমার বিজয় লাভ হবে। অধিকাংশ তাফসীরবিদের মত অনুযায়ী এ সূরাটি মক্কা বিজয়ের কিছু পূর্বে নাযিল হয়েছিল। এতে এক দিকে তো সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, মক্কা মুকাররমা বিজিত হয়ে যাবে এবং তারপর আরবের মানুষ দলে-দলে ইসলাম গ্রহণ করবে, আর বাস্তবে তাই হয়েছিল; অন্যদিকে চারদিকে ইসলাম বিস্তারের ফলে দুনিয়ায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবের উদ্দেশ্য যেহেতু পূরণ হয়ে যাবে, তাই এরপর আর দুনিয়ায় তার বেশি দিন থাকার দরকার নেই, এভাবে এ সূরায় তাঁর আশু ওফাতের দিকেও ইশারা করে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তাঁকে আদেশ করা হয়েছে, তিনি যেন আল্লাহ তাআলার হামদ ও তাসবীহতে রত হয়ে এবং তাঁর কাছে মাগফিরাত প্রার্থনা করে দুনিয়া হতে বিদায়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। যখন এ সূরাটি নাযিল হল, সাহাবায়ে কেরামের অনেকেই এতে প্রদত্ত সুসংবাদের কারণে খুব খুশী হলেন। কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা এ সূরা শুনে কাঁদতে শুরু করলেন। তিনি এর কারণ বর্ণনা করলেন যে, এ সূরা দ্বারা বোঝা যাচ্ছে, দুনিয়া থেকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিদায় গ্রহণের দিন কাছে এসে গেছে।
فَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ وَاسۡتَغۡفِرۡہُ ؕؔ اِنَّہٗ کَانَ تَوَّابًا ٪ ٣
ফাছাব্বিহবিহামদি রাব্বিকা ওয়াছতাগফিরহু ইন্নাহূকা-না তাওওয়া-বা-।
তখন তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো ও তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো।২ নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল।
তাফসীরঃ
২. যদিও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রকার গোনাহ থেকে পবিত্র ও মাছুম ছিলেন এবং তাঁর অত্যুচ্চ মর্যাদার দৃষ্টিতে কোন ভুল-চুক হয়ে গেলেও সূরা ফাতহ (৪৮ : ২)-এ আল্লাহ তাআলা তা ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন, তা সত্ত্বেও তাকে ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিনয়ার্থে এবং উম্মতকে একথা শিক্ষা দেওয়ার জন্য যে, যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পর্যন্ত ইস্তিগফার করতে বলা হচ্ছে, তখন অন্যান্য মুসলিমদের তো অনেক বেশি গুরুত্বের সাথে ইস্তিগফারে লিপ্ত থাকা উচিত।
[কাজেই এর দ্বারা এরূপ ধারণার কোন অবকাশ নেই যে, নবুওয়াতী দায়িত্ব পালনে তাঁর দ্বারা কোনো দুর্বলতা বা ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে গিয়েছিল বলেই ক্ষমাপ্রার্থনার হুকুম করা হয়েছে। তা তো হওয়া সম্ভবও ছিল না আর বাস্তবে যে আদৌ হয়নি, বিদায় হজ্জের সময় লক্ষাধিক সাহাবীর সাক্ষ্য দ্বারাই তা প্রমাণিত হয়। তারা সমস্বরে বলে উঠেছিলেন, আপনি প্রচারকার্য সম্পূর্ণ করেছেন এবং আমানতও আদায় করেছেন। তা সত্ত্বেও এরূপ ধারণা করলে তা হবে চরম গোমরাহী। -অনুবাদক]
এ সূরার তরজমা ও টীকার কাজ শেষ হলো ১৪ই রমযানুল মুবারক ১৪২৯ হিজরী।