সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল লাহাব  (الـمسد) | জ্বলন্ত অংগার

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৫

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

تَبَّتۡ یَدَاۤ اَبِیۡ لَہَبٍ وَّتَبَّ ؕ ١

তাব্বাত ইয়াদাআবী লাহাবিওঁ ওয়া তাবব।

আবু লাহাবের দু’হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজে ধ্বংস হয়েই গেছে।

তাফসীরঃ

১. আবু লাহাব ছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক চাচা। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইসলামের দাওয়াত দিলেন, সে তাঁর শত্রু হয়ে গেল। বিভিন্নভাবে সে তাঁকে কষ্ট দিত। তিনি প্রথমবার যখন সাফা পাহাড়ে উঠে খান্দানের লোকদেরকে একত্র করেন এবং তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান, তখন আবু লাহাব বলেছিল تبالك! ألهذا جمعتنا؟ ‘তুমি ধ্বংস হও! এজন্যই তুমি আমাদেরকে ডেকেছ?’ তারই উত্তরে এ সূরাটি নাযিল হয়। এর প্রথম আয়াতে আবু লাহাবকে অভিশাপ দিয়ে বলা হয়েছে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয়; বরং আবু লাহাবের দু’ হাতই ধ্বংস হোক। আরবী বাগধারায় ‘হাত ধ্বংস হওয়া’-এর দ্বারা ব্যক্তির ধ্বংসকেই বোঝানো হয়। তারপর বলা হয়েছে, ‘সে তো ধ্বংস হয়েই গেছে’ অর্থাৎ তার ধ্বংস হওয়াটা এমনই নিশ্চিত, যেন হয়েই গেছে। সুতরাং বদর যুদ্ধের সাত দিন পর সে আদাসা (প্লেগের মত একটি রোগ)-এ আক্রান্ত হয়। আরবের লোক ছুত-ছাতে বিশ্বাসী ছিল। যার আদাসা রোগ দেখা দিত, তাকে স্পর্শ করত না। কাজেই সে ওই রোগেই অস্পৃশ্য অবস্থায় মারা যায়। তার লাশে মারাত্মক দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। লোকজন তাকে লাঠি দিয়ে ঠেলে একটা গর্তে মাটিচাপা দিয়ে রাখে (রূহুল মাআনী)।

مَاۤ اَغۡنٰی عَنۡہُ مَالُہٗ وَمَا کَسَبَ ؕ ٢

মাআগনা-‘আনহু মা-লুহূওয়ামা-কাছাব।

তার সম্পদ ও তার উপার্জন তার কোন কাজে আসেনি

سَیَصۡلٰی نَارًا ذَاتَ لَہَبٍ ۚۖ ٣

ছাইয়াসলা-না-রান যা-তা লাহাব।

অচিরেই সে লেলিহান আগুনে প্রবেশ করবে

তাফসীরঃ

২. لهب (লাহাব) অর্থ লেলিহান অগ্নিশিখা। তাকে আবু লাহাব বলা হত এ কারণে যে, তার চেহারা আগুনের মত লাল ছিল। কুরআন মাজীদ এস্থলে জাহান্নামের অগ্নিশিখার জন্য এ শব্দটি ব্যবহার করে ইশারা করেছে যে, তাঁর নামের ভেতরই জাহান্নামে দগ্ধ হওয়ার ইঙ্গিত আছে। সেই প্রসঙ্গ ধরেই এ সূরার নাম রাখা হয়েছে সূরা ‘লাহাব’।

وَّامۡرَاَتُہٗ ؕ  حَمَّالَۃَ الۡحَطَبِ ۚ ٤

ওয়ামরাআতুহূ; হাম্মা-লাতাল হাতাব।

এবং তার স্ত্রীও, কাষ্ঠ বহনরত অবস্থায়

তাফসীরঃ

৩. ‘কাষ্ঠ বহনরত অবস্থায়’-এর দু’ রকম ব্যাখ্যা আছে। কোন কোন মুফাসসির বলেন, উম্মে জামিল যদিও অভিজাত পরিবারের নারী ছিল, কিন্তু ছিল ভীষণ কৃপণ। এ কারণেই সে নিজেই জ্বালানি কাঠ বহন করে আনত। কেউ কেউ বলেন, সে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যাতায়াত পথে কাটাযুক্ত ডালপালা ফেলে রাখত। আয়াতের ইশারা সে দিকেই। এ উভয় অবস্থায় কাষ্ঠ বহনের বিশেষণটি ইহ-জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। কোন কোন মুফাসসিরের মতে এর দ্বারা তার জাহান্নামে প্রবেশের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ সে কাষ্ঠের বোঝা বহনরত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে। কুরআন মাজীদের শব্দাবলী সাধারণ। এর মধ্যে উভয় ব্যাখ্যারই অবকাশ আছে। আমরা যে তরজমা করেছি তারও এ দু’রকম ব্যাখ্যাই করা যায়।

فِیۡ جِیۡدِہَا حَبۡلٌ مِّنۡ مَّسَدٍ ٪ ٥

ফী জীদিহা-হাবলুম মিম মাছাদ।

গলদেশে মুঞ্জ (তৃণ বিশেষ)-এর রশি লাগানো অবস্থায়।

তাফসীরঃ

৫. প্রথমোক্ত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উম্মে জামিল যখন কাষ্ঠ সংগ্রহ করে আনত তখন সে মুঞ্জের রশি দ্বারা তা বেঁধে গলায় ঝুলিয়ে নিত। আর দ্বিতীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটাও তার জাহান্নামে প্রবেশের একটা অবস্থা। জাহান্নামে তার গলায় মুঞ্জের রশির মত বেড়ি পরানো থাকবে।
সূরা আল লাহাব  | মুসলিম বাংলা