সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আছ ছাফ্‌ফাত (الصّافّات) | সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ফিরিশতাগণ

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ১৮২

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَالصّٰٓفّٰتِ صَفًّا ۙ ١

ওয়াসসাফফা-তি সাফফা-।

শপথ তাদের, যারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়।

তাফসীরঃ

১. নিজের কোন কথাকে সত্য প্রমাণ করার জন্য আল্লাহ তাআলার শপথ করার দরকার পড়ে না, কিন্তু তা সত্ত্বেও কুরআন মাজীদে তিনি বিভিন্ন বস্তুর শপথ করেছেন। মুফাসসিরগণ বলেন, শপথ হচ্ছে আরবী ভাষালঙ্কারের একটি বিশেষ শৈলী। এর দ্বারা কথা শক্তিশালী হয় এবং এর ফলে কথায় আছর সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয়ত যেসব জিনিসের শপথ করা হয়েছে, লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তা সেই বিষয়বস্তুর সপক্ষে প্রমাণ হয়ে থাকে, যার উল্লেখ শপথের পর করা হয়।

فَالزّٰجِرٰتِ زَجۡرًا ۙ ٢

ফাঝঝা-জিরা-তি ঝাজরা-।

তারপর তাদের, যারা কঠোরভাবে বাধা প্রদান করে।

তাফসীরঃ

৩. অর্থাৎ সেই ফেরেশতাগণ যারা শয়তানদেরকে ঊর্ধ্বজগতে প্রবেশ ও দুষ্কর্ম করতে বাধা প্রদান করে।

فَالتّٰلِیٰتِ ذِکۡرًا ۙ ٣

ফাত্তা-লিয়া-তি যিকরা-।

তারপর তাদের, যারা ‘যিকর’-এর তেলাওয়াত করে।

তাফসীরঃ

৪. এর দ্বারা কুরআন মাজীদের তেলাওয়াতও বোঝানো হতে পারে এবং আল্লাহ তাআলার যিকিরে রত থাকাও। কুরআন মাজীদের এক নাম যিকর (উপদেশবাণী)। সূরার প্রথম তিন আয়াতে বর্ণিত গুণগুলি ফেরেশতাদের। এর ভেতর ইবাদত-বন্দেগীর সবগুলো পদ্ধতি এসে গেছে। অর্থাৎ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা, তাগুত ও শয়তানী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আল্লাহ তাআলার কালাম তেলাওয়াত করা ও তার যিকিরে মশগুল থাকা। এ সবের শপথ করে বলা হয়েছে, সত্য মাবুদ কেবলই আল্লাহ তাআলা। তাঁর কোন শরীক নেই এবং তাঁর সন্তান-সন্ততির কোন প্রয়োজন নেই। ফেরেশতাদের এসব গুণের শপথ করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তোমরা যদি ফেরেশতাদের এসব অবস্থার ভেতর চিন্তা কর তবে অবশ্যই বুঝতে পারবে তারা সকলে আল্লাহ তাআলার বন্দেগীতে লিপ্ত আছে। আল্লাহ তাআলার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক পিতা-পুত্রীর নয়; বরং আবেদ ও মাবুদের।

اِنَّ اِلٰـہَکُمۡ لَوَاحِدٌ ؕ ٤

ইন্না ইলা-হাকুম লাওয়া-হিদ।

নিশ্চয়ই তোমাদের মাবুদ একই।

رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا وَرَبُّ الۡمَشَارِقِ ؕ ٥

রাব্বুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ামা-বাইনাহুমা-ওয়া রাব্বুল মাশা-রিক।

যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর মালিক এবং তিনি মালিক নক্ষত্ররাজি উদয়স্থলেরও।

اِنَّا زَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنۡیَا بِزِیۡنَۃِۣ الۡکَوَاکِبِ ۙ ٦

ইন্না-ঝাইয়ান্নাছছামাআদ্দুনইয়া-বিঝীনাতিনিল কাওয়া-কিব।

নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী আকাশকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছি (বিভিন্ন) নকশা দ্বারা অর্থাৎ নক্ষত্রমণ্ডলী দ্বারা।

তাফসীরঃ

৫. এর দ্বারা মহাকাশে একক বা গুচ্ছাকারে নক্ষত্ররাজির যে বিভিন্ন নকশা ও আকৃতি লক্ষ করা যায় সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। পরিষ্কার আকাশে খালি চোখেও তা দেখা যায়। আর শক্তিশালী দূরবীনের সাহায্যে তো সে অপরূপ শোভা দেখে মুগ্ধ-মোহিত দর্শক মনের অজান্তে বলে ওঠে, হে মহান স্রষ্টা! তুমি এসব অহেতুক সৃষ্টি করনি। প্রকাশ থাকে যে, আয়াতের এ তরজমা করা হয়েছে এ হিসেবে যে, الكواكب শব্দটি زينة থেকে بدل হয়েছে। কোনও কোনও পাঠে بزينة الكواكب কে ইযাফতের সাথে পড়া হয়। সে হিসেবে তরজমা হবে আমি নিকটবর্তী আকাশকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছি নক্ষত্ররাজির শোভা দ্বারা। বিস্তারিত দেখুন ‘আল-কাশশাফ’। -অনুবাদক

وَحِفۡظًا مِّنۡ کُلِّ شَیۡطٰنٍ مَّارِدٍ ۚ ٧

ওয়া হিফজাম মিন কুল্লি শাইতা-নিম মা-রিদ।

এবং প্রত্যেক দুষ্ট (শয়তান) থেকে হেফাজতের মাধ্যম বানিয়েছি।

لَا یَسَّمَّعُوۡنَ اِلَی الۡمَلَاِ الۡاَعۡلٰی وَیُقۡذَفُوۡنَ مِنۡ کُلِّ جَانِبٍ ٭ۖ ٨

লা ইয়াছছাম্মা‘ঊনা ইলাল মালাইল আ‘লা-ওয়া ইউকযাফূনা মিন কুল্লি জা-নিব।

তারা ঊর্ধ্ব জগতের কথাবার্তা শুনতে পারে না এবং সকল দিক থেকে তাদের উপর মার আসে।

دُحُوۡرًا وَّلَہُمۡ عَذَابٌ وَّاصِبٌ ۙ ٩

দুহূ রাও ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন ওয়া-সিব।

তাদেরকে করা হয় বিতাড়িত এবং (আখেরাতে) তাদের জন্য আছে স্থায়ী শাস্তি।
১০

اِلَّا مَنۡ خَطِفَ الۡخَطۡفَۃَ فَاَتۡبَعَہٗ شِہَابٌ ثَاقِبٌ ١۰

ইল্লা-মান খাতিফাল খাতফাতা ফাআতবা‘আহূশিহা-বুন ছাকিব।

তবে কেউ কোন কিছু ছোঁ মেরে নিয়ে যেতে চাইলে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।

তাফসীরঃ

৬. এ সম্পর্কে সূরা হিজর (১৫ : ১৬, ১৭)-এর টীকায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে দ্রষ্টব্য।
১১

فَاسۡتَفۡتِہِمۡ اَہُمۡ اَشَدُّ خَلۡقًا اَمۡ مَّنۡ خَلَقۡنَا ؕ اِنَّا خَلَقۡنٰہُمۡ مِّنۡ طِیۡنٍ لَّازِبٍ ١١

ফাছতাফতিহিম আহুম আশাদ্দুখাল কান আম্মান খালাকনা- ইন্না-খালাকনা-হুম মিন তীনিল লা-ঝিব।

সুতরাং তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) জিজ্ঞেস কর, তাদেরকে সৃষ্টি করা বেশি কঠিন, না আমার অন্যান্য মাখলুককে? আমি তো তাদেরকে সৃষ্টি করেছি আঠাল কাদা হতে।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ আসমান, যমীন ও চন্দ্র-সূর্যের সৃজন তাদের সৃজন অপেক্ষা বেশি কঠিন। আল্লাহ তাআলা যখন সেই কঠিন মাখলুকসমূহকেই অতি সহজে নাস্তি থেকে অস্তিতে আনয়ন করেছেন, তখন কাদা দ্বারা সৃষ্ট মানুষকে একবার মৃত্যু দানের পর পুনরায় জীবিত করে তোলা তার পক্ষে মুশকিল হবে কেন?
১২

بَلۡ عَجِبۡتَ وَیَسۡخَرُوۡنَ ۪ ١٢

বাল ‘আজিবতা ওয়া ইয়াছখারূন।

(হে রাসূল!) তুমি তো (তাদের কথায়) বিস্ময়বোধ করছ, কিন্তু তারা করছে বিদ্রূপ।
১৩

وَاِذَا ذُکِّرُوۡا لَا یَذۡکُرُوۡنَ ۪ ١٣

ওয়া ইযা-যুক্কিরূলা-ইয়াযকুরূন।

তাদেরকে যখন উপদেশ দেওয়া হয়, তখন তারা উপদেশ গ্রহণ করে না।
১৪

وَاِذَا رَاَوۡا اٰیَۃً یَّسۡتَسۡخِرُوۡنَ ۪ ١٤

ওয়া ইযা-রাআও আ-য়াতাই ইয়াছতাছখিরূন।

আর যখন কোন নিদর্শন দেখে, তখন ব্যঙ্গ করে।
১৫

وَقَالُوۡۤا اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ۚۖ ١٥

ওয়া কা-লূ ইন হা-যাইল্লা-ছিহরু মুবীন।

তারা বলে, এটা এক প্রকাশ্য যাদু ছাড়া কিছুই নয়।
১৬

ءَاِذَا مِتۡنَا وَکُنَّا تُرَابًا وَّعِظَامًا ءَاِنَّا لَمَبۡعُوۡثُوۡنَ ۙ ١٦

আইযা-মিতনা-ওয়া কুন্না-তুরাবাওঁ ওয়া ‘ইজা-মান আইন্না-লামাব‘ঊছূন।

তবে কি আমরা মরে মাটি ও অস্থিতে পরিণত হয়ে যাওয়ার পরও আমাদেরকে পুনরায় জীবিত করা হবে?
১৭

اَوَاٰبَآؤُنَا الۡاَوَّلُوۡنَ ؕ ١٧

আওয়াআ-বাউনাল আওওয়ালূন।

এমন কি পূর্বেকার আমাদের বাপ-দাদাদেরকেও?
১৮

قُلۡ نَعَمۡ وَاَنۡتُمۡ دَاخِرُوۡنَ ۚ ١٨

কুল না‘আম ওয়া আনতুম দা-খিরূন।

বলে দাও, হ্যাঁ এবং তোমরা লাঞ্ছিতও হবে।
১৯

فَاِنَّمَا ہِیَ زَجۡرَۃٌ وَّاحِدَۃٌ فَاِذَا ہُمۡ یَنۡظُرُوۡنَ ١٩

ফাইন্নামা-হিয়া ঝাজরাতুওঁ ওয়া-হিদাতুন ফাইযা-হুম ইয়ানজু রূন।

ব্যস, তা তো একটি মাত্র মহানাদ হবে, আর অমনি তারা (যত সব বীভৎস দৃশ্য) দেখতে শুরু করবে।
২০

وَقَالُوۡا یٰوَیۡلَنَا ہٰذَا یَوۡمُ الدِّیۡنِ ٢۰

ওয়া-কা-লূইয়া-ওয়াইলানা-হা-যা-ইয়াওমুদ্দীন।

এবং বলবে, হায়, আমাদের দুর্ভোগ! এটা তো হিসাব-নিকাশের দিন।
২১

ہٰذَا یَوۡمُ الۡفَصۡلِ الَّذِیۡ کُنۡتُمۡ بِہٖ تُکَذِّبُوۡنَ ٪ ٢١

হা-যা-ইয়াওমুল ফাসলিল্লাযী কুনতুম বিহী তুকাযযিবূন।

(জী হ্যাঁ!) এটাই সেই মীমাংসার দিন, যাকে তোমরা অবিশ্বাস করতে।
২২

اُحۡشُرُوا الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا وَاَزۡوَاجَہُمۡ وَمَا کَانُوۡا یَعۡبُدُوۡنَ ۙ ٢٢

উহশুরুল্লাযীনা জালামূওয়া আঝওয়া-জাহুম ওয়ামা-কা-নূইয়া‘বুদূন।

(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে,) যারা জুলুম করেছিল, তাদেরকে ঘেরাও করে নিয়ে এসো এবং তাদের সঙ্গীদেরকেও এবং তারা যাদের ইবাদত করত তাদেরকেও।
২৩

مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ فَاہۡدُوۡہُمۡ اِلٰی صِرَاطِ الۡجَحِیۡمِ ٙ ٢٣

মিন দূনিল্লা-হি ফাহদূহুম ইলা-সিরা-তিল জাহীম।

আল্লাহকে ছেড়ে, তারপর তাদেরকে জাহান্নামের পথ দেখাও।
২৪

وَقِفُوۡہُمۡ اِنَّہُمۡ مَّسۡئُوۡلُوۡنَ ۙ ٢٤

ওয়াকিফূহুম ইন্নাহুম মাছঊলূন।

এবং তাদেরকে একটু দাঁড় করাও। কেননা তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে।
২৫

مَا لَکُمۡ لَا تَنَاصَرُوۡنَ ٢٥

মা-লাকুম লা-তানা-সারূন।

তোমাদের কী হল যে, একে অন্যকে সাহায্য করছ না?
২৬

بَلۡ ہُمُ الۡیَوۡمَ مُسۡتَسۡلِمُوۡنَ ٢٦

বাল হুমুল ইয়াওমা মুছতাছলিমূন।

বরং আজ তারা সকলে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে আছে।
২৭

وَاَقۡبَلَ بَعۡضُہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ یَّتَسَآءَلُوۡنَ ٢٧

ওয়া আকবালা বা‘দুহুম ‘আলা-বা‘দিইঁ ইয়াতাছাআলূন।

তারা একে অন্যের অভিমুখী হয়ে পরস্পরে সওয়াল-জওয়াব করবে।
২৮

قَالُوۡۤا اِنَّکُمۡ کُنۡتُمۡ تَاۡتُوۡنَنَا عَنِ الۡیَمِیۡنِ ٢٨

কা-লূইন্নাকুম কুনতুম তা’তূনানা-‘আনিল ইয়ামীন।

(অধীনস্থরা তাদের নেতৃবর্গকে) বলবে, তোমরাই তো অত্যন্ত শক্তিমানরূপে আমাদের কাছে আসতে।

তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে যেন আমরা কিছুতেই ঈমান না আনি। (আরবীতে اليمين শব্দটি শক্তি ও ক্ষমতা অর্থেও ব্যবহৃত হয়।)
২৯

قَالُوۡا بَلۡ لَّمۡ تَکُوۡنُوۡا مُؤۡمِنِیۡنَ ۚ ٢٩

কা-লূবাল লাম তাকূনূমু’মিনীন।

তারা বলবে, না, বরং তোমরা নিজেরাই ঈমান আনার ছিলে না।
৩০

وَمَا کَانَ لَنَا عَلَیۡکُمۡ مِّنۡ سُلۡطٰنٍ ۚ بَلۡ کُنۡتُمۡ قَوۡمًا طٰغِیۡنَ ٣۰

ওয়ামা-কা-না লানা-‘আলাইকুম মিন ছুলতা-নিন বাল কুনতুম কাওমান তা-গীন।

আর তোমাদের উপর আমাদের কোন আধিপত্যও ছিল না। বস্তুত তোমরা নিজেরাই ছিলে এক অবাধ্য সম্প্রদায়।
৩১

فَحَقَّ عَلَیۡنَا قَوۡلُ رَبِّنَاۤ ٭ۖ اِنَّا لَذَآئِقُوۡنَ ٣١

ফাহাক্কা ‘আলাইনা-কাওলুরাব্বিনা ইনা-লাযাইকূন।

ফলে আমাদের উপর আমাদের প্রতিপালকের একথা সাব্যস্ত হয়ে গেছে যে, আমাদের সকলকেই শাস্তিভোগ করতে হবে।
৩২

فَاَغۡوَیۡنٰکُمۡ اِنَّا کُنَّا غٰوِیۡنَ ٣٢

ফাআগওয়াইনা-কুম ইন্না-কুন্না-গা-বীন।

ফলে আমরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছি আর আমরা নিজেরাও ছিলাম বিভ্রান্ত।

তাফসীরঃ

৯. অর্থাৎ আমরা নিজেরা যেহেতু বিভ্রান্ত ছিলাম, তাই আমরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছিলাম ঠিক, কিন্তু আমরা বিভ্রান্ত করেছি বলে তোমরা কুফর করতে বাধ্য হয়ে যাওনি। তোমরা নিজেরা বিপথগামী না হলে তোমাদের উপর আমাদের জোর খাটত না।
৩৩

فَاِنَّہُمۡ یَوۡمَئِذٍ فِی الۡعَذَابِ مُشۡتَرِکُوۡنَ ٣٣

ফাইন্নাহুম ইয়াওমাইযিন ফিল ‘আযা-বি মুশতারিকূন।

মোটকথা সে দিন শাস্তিতে তারা সকলে একে অন্যের শরীক হবে।
৩৪

اِنَّا کَذٰلِکَ نَفۡعَلُ بِالۡمُجۡرِمِیۡنَ ٣٤

ইন্না-কাযা-লিকা নাফ‘আলুবিলমুজরিমীন।

আমরা অপরাধীদের সাথে এ রকমই করে থাকি।
৩৫

اِنَّہُمۡ کَانُوۡۤا اِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا اللّٰہُ ۙ  یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ ۙ ٣٥

ইন্নাহুম কা-নূইযা-কীলা লাহুম লাইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ইয়াছতাকবিরূন।

তাদের অবস্থা তো ছিল এই যে, তাদেরকে যখন বলা হত, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তখন তারা অহমিকা প্রদর্শন করত।
৩৬

وَیَقُوۡلُوۡنَ اَئِنَّا لَتَارِکُوۡۤا اٰلِہَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجۡنُوۡنٍ ؕ ٣٦

ওয়া ইয়াকূলূনা আইন্না-লাতা-রিকূআ-লিহাতিনা-লিশা-‘ইরিম মাজনূন।

এবং বলত, আমরা কি এমন নাকি যে, এক উন্মাদ কবির কারণে আপন উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব?
৩৭

بَلۡ جَآءَ بِالۡحَقِّ وَصَدَّقَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ٣٧

বাল জাআ বিলহাক্কিওয়া সাদ্দাকাল মুরছালীন।

অথচ সে (অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্য নিয়ে এসেছিল এবং সে অন্যান্য রাসূলগণেরও সমর্থন করেছিল।
৩৮

اِنَّکُمۡ لَذَآئِقُوا الۡعَذَابِ الۡاَلِیۡمِ ۚ ٣٨

ইন্নাকুম লাযাইকু ল ‘আযা-বিল আলীম।

সুতরাং (তাদেরকে বলা হবে), তোমাদের সকলকে মর্মন্তুদ শাস্তির মজা ভোগ করতেই হবে।
৩৯

وَمَا تُجۡزَوۡنَ اِلَّا مَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ۙ ٣٩

ওয়া মা-তুজঝাওনা ইল্লা-মা-কুনতুম তা‘মালূন।

আর তোমাদেরকে কেবল তোমাদের কৃতকর্মেরই প্রতিফল দেওয়া হবে।
৪০

اِلَّا عِبَادَ اللّٰہِ الۡمُخۡلَصِیۡنَ ٤۰

ইল্লা-‘ইবাদাল্লা-হিল মুখলাসীন।

তবে আল্লাহর মনোনীত বান্দাগণ ব্যতিক্রম।
৪১

اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ رِزۡقٌ مَّعۡلُوۡمٌ ۙ ٤١

উলাইকা লাহুম রিঝকুম মা‘লূম।

তাদের জন্য আছে স্থিরীকৃত রিযক
৪২

فَوَاکِہُ ۚ  وَہُمۡ مُّکۡرَمُوۡنَ ۙ ٤٢

ফাওয়া-কিহু ওয়া হুম মুকরামূন।

ফলমূল আর তাদেরকে করা হবে সম্মানিত।
৪৩

فِیۡ جَنّٰتِ النَّعِیۡمِ ۙ ٤٣

ফী জান্না-তিন না‘ঈম।

নি‘আমতপূর্ণ উদ্যানে
৪৪

عَلٰی سُرُرٍ مُّتَقٰبِلِیۡنَ ٤٤

‘আলা-ছুরুরিম মুতাকা-বিলীন।

তারা উঁচু আসনে সামনা-সামনি বসা থাকবে।
৪৫

یُطَافُ عَلَیۡہِمۡ بِکَاۡسٍ مِّنۡ مَّعِیۡنٍۭ ۙ ٤٥

ইউতা-ফু‘আলাইহিম বিকা’ছিম মিম মা‘ঈন।

তাদেরকে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে এমন স্বচ্ছ সুরাপাত্র
৪৬

بَیۡضَآءَ لَذَّۃٍ لِّلشّٰرِبِیۡنَ ۚۖ ٤٦

বাইদাআ লাযযাতিল লিশশা-রিবীন।

যা হবে সাদা রংয়ের, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।
৪৭

لَا فِیۡہَا غَوۡلٌ وَّلَا ہُمۡ عَنۡہَا یُنۡزَفُوۡنَ ٤٧

লা-ফীহা-গাওলুওঁ ওয়ালা-হুম ‘আনহা-ইউনঝাফূন।

তাতে মাথা ঘুরবে না এবং তাতে তারা হবে না মাতাল।
৪৮

وَعِنۡدَہُمۡ قٰصِرٰتُ الطَّرۡفِ عِیۡنٌ ۙ ٤٨

ওয়া ‘ইনদাহুম কা-সিরা-তুত্তারফি ‘ঈন।

তাদের কাছে থাকবে ডাগর চোখের নারী, যাদের দৃষ্টি (আপন-আপন স্বামীতে) থাকবে নিবদ্ধ। ১০

তাফসীরঃ

১০. এ আয়াতসমূহে যে নারীদের ছবি আঁকা হয়েছে, তারা হল জান্নাতের হুর। তাদের দৃষ্টি আপন-আপন স্বামীতেই আবদ্ধ থাকবে। অন্য কারও দিকে তারা চোখ তুলে তাকাবে না। আয়াতের আরও একটি ব্যাখ্যা আছে। কোন কোন মুফাসসির বলেন, তারা (এমনি তো অকল্পনীয় রূপসী হবেই, তাছাড়াও) আপন-আপন স্বামীদের চোখে এতটাই সুন্দরী হবে যে, তারা তাদের অন্য কোন নারীর দিকে আকৃষ্টই হতে দেবে না।
৪৯

کَاَنَّہُنَّ بَیۡضٌ مَّکۡنُوۡنٌ ٤٩

কাআন্নাহুন্না বাইদুম মাকনূন।

(তাদের নিখুঁত অস্তিত্ব এমন) যেন তারা (ধুলোবালি হতে) লুকিয়ে রাখা ডিম।
৫০

فَاَقۡبَلَ بَعۡضُہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ یَّتَسَآءَلُوۡنَ ٥۰

ফাআকবালা বা‘দুহুম ‘আলা-বা‘দিইঁ ইয়াতাছাআলূন।

অতঃপর জান্নাতবাসীগণ একে অন্যের সামনা-সামনি হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
৫১

قَالَ قَآئِلٌ مِّنۡہُمۡ اِنِّیۡ کَانَ لِیۡ قَرِیۡنٌ ۙ ٥١

কা-লা কা-ইলুম মিনহুম ইন্নী কা-না লী কারীন।

তাদের এক বক্তা বলবে, আমার ছিল এক সাথী,
৫২

یَّقُوۡلُ اَئِنَّکَ لَمِنَ الۡمُصَدِّقِیۡنَ ٥٢

ইয়াকূ লুআইন্নাকা লামিনাল মুসাদ্দিকীন।

সে (আমাকে) বলত, সত্যিই কি তুমি তাদের একজন, যারা (আখেরাতের জীবনকে) সত্য মনে করে?
৫৩

ءَاِذَا مِتۡنَا وَکُنَّا تُرَابًا وَّعِظَامًا ءَاِنَّا لَمَدِیۡنُوۡنَ ٥٣

আইযা-মিতনা-ওয়া কুন্না-তুরা-বাওঁ ওয়া ‘ইজা-মান আইন্না-লামাদীনূন।

আমরা যখন মরে মাটি ও অস্থিতে পরিণত হবো, তখন কি বাস্তবিকই আমাদেরকে (আমাদের কৃতকর্মের) প্রতিফল দেওয়া হবে?
৫৪

قَالَ ہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّطَّلِعُوۡنَ ٥٤

কা-লা হাল আনতুম মুত্তালি‘ঊন।

সেই জান্নাতী (অন্য জান্নাতীদেরকে) বলবে, তোমরা কি উকি মেরে (আমার সেই সাথীকে) দেখতে চাও?
৫৫

فَاطَّلَعَ فَرَاٰہُ فِیۡ سَوَآءِ الۡجَحِیۡمِ ٥٥

ফাত্তালা‘আ ফারাআ-হু ফী ছাওয়াইল জাহীম।

তারপর সে নিজে (জাহান্নামে) উঁকি মারবে, তখন সে তাকে দেখতে পাবে জাহান্নামের মাঝখানে।
৫৬

قَالَ تَاللّٰہِ اِنۡ کِدۡتَّ لَتُرۡدِیۡنِ ۙ ٥٦

কা-লা তাল্লা-হি ইন কিত্তা লাতুরদীন।

সে (তাকে) বলবে, আল্লাহর কসম! তুমি তো আমাকে একেবারেই বরবাদ করে দিচ্ছিলে!
৫৭

وَلَوۡلَا نِعۡمَۃُ رَبِّیۡ لَکُنۡتُ مِنَ الۡمُحۡضَرِیۡنَ ٥٧

ওয়া লাওলা-নি‘মাতুরাববী লাকুনতুমিনাল মুহদারীন।

আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ না থাকলে অন্যদের সাথে আমিও ধৃত হতাম।
৫৮

اَفَمَا نَحۡنُ بِمَیِّتِیۡنَ ۙ ٥٨

আফামা-নাহনু বিমাইয়িতীন।

(তারপর সে আনন্দাতিশয্যে তার জান্নাতী সঙ্গীদেরকে বলবে) আচ্ছা, আমাদের কি আর মৃত্যু নেই,
৫৯

اِلَّا مَوۡتَتَنَا الۡاُوۡلٰی وَمَا نَحۡنُ بِمُعَذَّبِیۡنَ ٥٩

ইল্লা-মাওতাতানাল ঊলা-ওয়ামা-নাহনুবিমু‘আযযাবীন।

আমাদের প্রথমে যে মৃত্যু এসেছিল সেটি ছাড়া? এবং আমাদের শাস্তিও হবে না?
৬০

اِنَّ ہٰذَا لَہُوَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ٦۰

ইন্না হা-যা-লাহুওয়াল ফাওঝুল ‘আজীম।

প্রকৃতপক্ষে এটাই মহা সাফল্য।
৬১

لِمِثۡلِ ہٰذَا فَلۡیَعۡمَلِ الۡعٰمِلُوۡنَ ٦١

লিমিছলি হা-যা-ফাল ইয়া‘মালিল ‘আ-মিলূন।

এ রকম সাফল্যের জন্যই আমলকারীদের আমল করা উচিত।
৬২

اَذٰلِکَ خَیۡرٌ نُّزُلًا اَمۡ شَجَرَۃُ الزَّقُّوۡمِ ٦٢

আযা-লিকা খাইরুন নুঝুলান আম শাজারাতুঝ ঝাককূম।

বল তো, এই আতিথেয়তা উত্তম, না যাক্কুম গাছ?
৬৩

اِنَّا جَعَلۡنٰہَا فِتۡنَۃً لِّلظّٰلِمِیۡنَ ٦٣

ইন্না-জা‘আলনা-হা-ফিতনাতাল লিজ্জা-লিমীন।

আমি সে গাছকে জালেমদের জন্য এক পরীক্ষার বিষয় বানিয়ে দিয়েছি। ১১

তাফসীরঃ

১১. কুরআন মাজীদ যখন জানাল, জাহান্নামে যাক্কুম গাছ থাকবে এবং তা হবে জাহান্নামবাসীদের খাদ্য, কাফেরগণ তা শুনে হাসি-ঠাট্টা শুরু করে দিল। তারা বলতে লাগল, আগুনের মধ্যে গাছ থাকবে কি করে? আল্লাহ তাআলা বলছেন, যাক্কুম গাছের কথা উল্লেখ করে কাফেরদেরকে একটা পরীক্ষার মধ্যে ফেলা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে, তারা আল্লাহ তাআলার কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, না তাকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেয়।
৬৪

اِنَّہَا شَجَرَۃٌ تَخۡرُجُ فِیۡۤ اَصۡلِ الۡجَحِیۡمِ ۙ ٦٤

ইন্নাহা-শাজারাতুন তাখ রুজুফীআসলিল জাহীম।

বস্তুত সেটি এমন গাছ, যা জাহান্নামের তলদেশ থেকে উদগত হয়।
৬৫

طَلۡعُہَا کَاَنَّہٗ رُءُوۡسُ الشَّیٰطِیۡنِ ٦٥

তাল‘উহা-কাআন্নাহূরুঊছুশশায়া-তীন।

তার মোচা এমন, যেন তা শয়তানদের মাথা। ১২

তাফসীরঃ

১২. এর এক তরজমা করা হয়েছে শয়তানের মাথা। এ কারণেই কেউ কেউ বলেন, আমরা যাকে ফনিমনসা গাছ বলি সেটাই হল যাক্কুম গাছ।
৬৬

فَاِنَّہُمۡ لَاٰکِلُوۡنَ مِنۡہَا فَمَالِـُٔوۡنَ مِنۡہَا الۡبُطُوۡنَ ؕ ٦٦

ফাইন্নাহুম লাআ-কিলূনা মিনহা-ফামা-লিঊনা মিনহাল বুতূন।

সুতরাং জাহান্নামবাসীগণ তা থেকেই খাবে এবং তা দ্বারাই পেট ভরবে।
৬৭

ثُمَّ اِنَّ لَہُمۡ عَلَیۡہَا لَشَوۡبًا مِّنۡ حَمِیۡمٍ ۚ ٦٧

ছু ম্মা ইন্না লাহুম ‘আলাইহা- লাশাওবাম মিন হামীম।

তদুপরি তারা পাবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. অর্থাৎ বিস্বাদ যাক্কুম গাছ, পুঁজ ইত্যাদির সাথে থাকবে গরম পানি মেশানো।
৬৮

ثُمَّ اِنَّ مَرۡجِعَہُمۡ لَا۠اِلَی الۡجَحِیۡمِ ٦٨

ছু ম্মা ইন্না মারজি‘আহুম লা ইলাল জাহীম।

তারপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে সেই জাহান্নামেরই দিকে। ১৪

তাফসীরঃ

১৪. অর্থাৎ এত কিছু শাস্তি ভোগের পরও তারা যে জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবে তা নয়; বরং কোথাও ফিরবে তো সেই জাহান্নামেই ফিরবে। জাহান্নামই হবে তাদের অনন্তকালীন নিবাস।
৬৯

اِنَّہُمۡ اَلۡفَوۡا اٰبَآءَہُمۡ ضَآلِّیۡنَ ۙ ٦٩

ইন্নাহুম আলফাও আ-বাআহুম দাল্লীন।

তারা তাদের বাপ-দাদাদেরকে পেয়েছিল বিপথগামীরূপে।
৭০

فَہُمۡ عَلٰۤی اٰثٰرِہِمۡ یُہۡرَعُوۡنَ ٧۰

ফাহুম ‘আলাআ-ছা-রিহিম ইউহরা‘ঊন।

সুতরাং তারা লাফিয়ে লাফিয়ে তাদেরই পদছাপ ধরে চলতে থাকে। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. ‘লাফিয়ে-লাফিয়ে চলা’-এর দ্বারা ইশারা করা হয়েছে যে, তারা স্বেচ্ছায়-সানন্দে পূর্বসুরীদের পথ অনুসরণ করেছিল। নিজেদের বুদ্ধি-বিবেককেও কাজে লাগায়নি এবং নবী-রাসূলদের কথায়ও কর্ণপাত করেনি।
৭১

وَلَقَدۡ ضَلَّ قَبۡلَہُمۡ اَکۡثَرُ الۡاَوَّلِیۡنَ ۙ ٧١

ওয়া লাকাদ দাল্লা কাবলাহুম আকছারুল আওওয়ালীন।

তাদের পূর্ববর্তীদের অধিকাংশও পথভ্রষ্ট হয়েছিল।
৭২

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا فِیۡہِمۡ مُّنۡذِرِیۡنَ ٧٢

ওয়া লাকাদ আরছালনা-ফীহিম মুনযিরীন।

আমি তো তাদের কাছে সতর্ককারী (রাসূল)দেরকে পাঠিয়েছিলাম।
৭৩

فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُنۡذَرِیۡنَ ۙ ٧٣

ফানজু র কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুনযারীন।

সুতরাং দেখে নাও, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছে।
৭৪

اِلَّا عِبَادَ اللّٰہِ الۡمُخۡلَصِیۡنَ ٪ ٧٤

ইল্লা-‘ইবা-দাল্লা-হিল মুখলাসীন।

তবে আল্লাহর মনোনীত বান্দাগণ (নিরাপদ ছিল)।
৭৫

وَلَقَدۡ نَادٰىنَا نُوۡحٌ فَلَنِعۡمَ الۡمُجِیۡبُوۡنَ ۫ۖ ٧٥

ওয়ালা কাদ না-দা-না-নূহুন ফালানি‘মাল মুজীবূন।

নূহ আমাকে ডেকেছিল (লক্ষ করে দেখ), আমি কত উত্তম সাড়াদানকারী।
৭৬

وَنَجَّیۡنٰہُ وَاَہۡلَہٗ مِنَ الۡکَرۡبِ الۡعَظِیۡمِ ۫ۖ ٧٦

ওয়া নাজ্জাইনা-হু ওয়া আহলাহূমিনাল কারবিল ‘আজীম।

আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গকে নাজাত দিয়েছিলাম মহাসংকট থেকে।
৭৭

وَجَعَلۡنَا ذُرِّیَّتَہٗ ہُمُ الۡبٰقِیۡنَ ۫ۖ ٧٧

ওয়া জা‘আলনা- যুররিইইয়াতাহূহুমুল বাকীন।

আর আমি তার বংশধরকেই (দুনিয়ায়) বাকি রেখেছি।
৭৮

وَتَرَکۡنَا عَلَیۡہِ فِی الۡاٰخِرِیۡنَ ۫ۖ ٧٨

ওয়া তারাকনা-‘আলাইহি ফিল আ-খিরীন।

পরবর্তীদের মধ্যে তার সম্পর্কে এই ঐতিহ্য চালু করেছি
৭৯

سَلٰمٌ عَلٰی نُوۡحٍ فِی الۡعٰلَمِیۡنَ ٧٩

ছালা-মুন ‘আলা-নূহিন ফিল ‘আ-লামীন।

(যে, তারা বলবে), জগদ্বাসীদের মধ্যে নূহের প্রতি সালাম (শান্তি বর্ষিত হোক)।
৮০

اِنَّا کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ ٨۰

ইন্না-কাযা-লিকা নাজঝিল মুহছিনীন।

আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।
৮১

اِنَّہٗ مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٨١

ইন্নাহূমিন ‘ইবা-দিনাল মু’মিনীন।

নিশ্চয়ই সে আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
৮২

ثُمَّ اَغۡرَقۡنَا الۡاٰخَرِیۡنَ ٨٢

ছু ম্মা আগরাকনাল আ-খারীন।

অতঃপর আমি অন্যদেরকে পানিতে নিমজ্জিত করি। ১৬

তাফসীরঃ

১৬. হযরত নূহ আলাইহিস সালাম ও তার কওমের ঘটনা বিস্তারিতভাবে সূরা হুদে (১১ : ৩৬) গত হয়েছে।
৮৩

وَاِنَّ مِنۡ شِیۡعَتِہٖ لَاِبۡرٰہِیۡمَ ۘ ٨٣

ওয়া ইন্না মিন শী‘আতিহী লাইবরা-হীম।

এবং তারই অনুগামীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল ইবরাহীমও।
৮৪

اِذۡ جَآءَ رَبَّہٗ بِقَلۡبٍ سَلِیۡمٍ ٨٤

ইযজাআ রাব্বাহূবিকালবিন ছালীম।

যখন সে তার প্রতিপালকের কাছে উপস্থিত হয়েছিল বিশুদ্ধ অন্তরে।
৮৫

اِذۡ قَالَ لِاَبِیۡہِ وَقَوۡمِہٖ مَاذَا تَعۡبُدُوۡنَ ۚ ٨٥

ইযকা-লা লিআবীহি ওয়া কাওমিহী মা-যা-তা‘বুদূন।

যখন সে তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা কোন জিনিসের ইবাদত করছ?
৮৬

اَئِفۡکًا اٰلِہَۃً دُوۡنَ اللّٰہِ تُرِیۡدُوۡنَ ؕ ٨٦

আইফকান আ-লিহাতান দূনাল্লা-হি তুরীদূন।

তোমরা কি আল্লাহকে ছেড়ে অলীক উপাস্যদেরকে কামনা করছ?
৮৭

فَمَا ظَنُّکُمۡ بِرَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٨٧

ফমা-জান্নুকুম বিরাব্বিল ‘আ-লামীন।

তো যেই সত্তা সমস্ত জগতের প্রতিপালক তার সম্পর্কে তোমাদের কী ধারণা?
৮৮

فَنَظَرَ نَظۡرَۃً فِی النُّجُوۡمِ ۙ ٨٨

ফানাজারা নাজরাতান ফিননুজূম।

এর (কিছুকাল) পর সে তারকারাজির দিকে একবার তাকাল।
৮৯

فَقَالَ اِنِّیۡ سَقِیۡمٌ ٨٩

ফাকা-লা ইন্নী ছাকীম।

এবং বলল, আমি অসুস্থ। ১৭

তাফসীরঃ

১৭. হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে তার কওমের লোকজন এক মেলায় নিয়ে যেতে চাচ্ছিল। এক তো তিনি সে মেলায় শরীক হতে চাচ্ছিলেন না, দ্বিতীয়ত তার অভিপ্রায় ছিল, যখন লোকজন সব মেলায় চলে যাবে এবং মন্দির খালি হয়ে যাবে, তখন সেই সুযোগে তিনি মূর্তিগুলি ভেঙ্গে ফেলবেন, যাতে তারা যাদেরকে উপাস্য বানিয়ে রেখেছে, তাদের অসহায়ত্ব নিজ চোখে দেখে নেয়। তাই তিনি অসুস্থ থাকার ওজর দেখালেন। হতে পারে তখন বাস্তবিকই তার মন-মেজাজ ভালো ছিল না। কিংবা তিনি বোঝাতে চাচ্ছিলেন, তোমাদের কুফর ও শিরক দেখে রূহানীভাবে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি।
৯০

فَتَوَلَّوۡا عَنۡہُ مُدۡبِرِیۡنَ ٩۰

ফাতওয়াল্লাও ‘আনহু মুদবিরীন।

সুতরাং তারা পৃষ্ঠ ঘুরিয়ে তার কাছ থেকে চলে গেল।
৯১

فَرَاغَ اِلٰۤی اٰلِہَتِہِمۡ فَقَالَ اَلَا تَاۡکُلُوۡنَ ۚ ٩١

ফারা-গা ইলাআ-লিহাতিহিম ফাকা-লা আলা-তা’কুলূন।

তারপর সে তাদের (হাতেগড়া) উপাস্যদের (অর্থাৎ মূর্তিদের) কাছে ঢুকে পড়ল এবং (তাদেরকে) বলল, তোমরা যে খাচ্ছ না?
৯২

مَا لَکُمۡ لَا تَنۡطِقُوۡنَ ٩٢

মা-লাকুম লা-তানতিকূন।

কী ব্যাপার, তোমরা কথা বলছ না যে?
৯৩

فَرَاغَ عَلَیۡہِمۡ ضَرۡبًۢا بِالۡیَمِیۡنِ ٩٣

ফারা-গা ‘আলাইহিম দারবাম বিলইয়ামীন।

অতঃপর সবলে আঘাত হানতে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
৯৪

فَاَقۡبَلُوۡۤا اِلَیۡہِ یَزِفُّوۡنَ ٩٤

ফাআকবালূইলাইহি ইয়াঝিফফূন।

অনন্তর তারা (কওমের লোকজন) তার কাছে দৌড়ে আসল।
৯৫

قَالَ اَتَعۡبُدُوۡنَ مَا تَنۡحِتُوۡنَ ۙ ٩٥

কা-লা আতা‘বুদূনা মা-তানহিতূন।

ইবরাহীম বলল, তোমরা কি নিজেরা যা বানাও তার পূজা কর?
৯৬

وَاللّٰہُ خَلَقَکُمۡ وَمَا تَعۡمَلُوۡنَ ٩٦

ওয়াল্লা-হু খালাকাকুম ওয়ামা-তা‘মালূন।

অথচ আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে এবং তোমরা যা-কিছু তৈরি কর তাদেরকেও।
৯৭

قَالُوا ابۡنُوۡا لَہٗ بُنۡیَانًا فَاَلۡقُوۡہُ فِی الۡجَحِیۡمِ ٩٧

কা-লুবনূলাহূবুনইয়া-নান ফাআলকূহু ফিল জাহীম।

তারা বলল, ইবরাহীমের জন্য একটি ইমারত বানাও এবং তাকে (তার ভেতর) জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ কর।
৯৮

فَاَرَادُوۡا بِہٖ کَیۡدًا فَجَعَلۡنٰہُمُ الۡاَسۡفَلِیۡنَ ٩٨

ফাআরাদূবিহী কাইদান ফাজা‘আলনা-হুমুল আছফালীন।

এভাবে তারা ইবরাহীমের বিরুদ্ধে এক দূরভিসন্ধি করতে চাইল। কিন্তু আমি তাদেরকে হেয় করে ছাড়লাম। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. অর্থাৎ তারা যে আগুন জ্বালিয়েছিল, আল্লাহ তাআলা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের জন্য তা শীতল করে দিলেন। এ ঘটনা বিস্তারিতভাবে সূরা আম্বিয়ায় (২১ : ৩২) চলে গেছে। টীকাসহ দ্রষ্টব্য।
৯৯

وَقَالَ اِنِّیۡ ذَاہِبٌ اِلٰی رَبِّیۡ سَیَہۡدِیۡنِ ٩٩

ওয়া কা-লা ইন্নী যা-হিবুন ইলা-রাববী ছাইয়াহদীন।

ইবরাহীম বলল, আমি আমার প্রতিপালকের কাছে যাচ্ছি। তিনিই আমাকে পথ দেখাবেন। ১৯

তাফসীরঃ

১৯. হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের মূল নিবাস ছিল ইরাক। এ ঘটনার পর তিনি শামে হিজরত করলেন।
১০০

رَبِّ ہَبۡ لِیۡ مِنَ الصّٰلِحِیۡنَ ١۰۰

রাব্বি হাবলী মিনাসসা-লিহীন।

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এমন পুত্র দান কর, যে হবে সৎলোকদের একজন।
১০১

فَبَشَّرۡنٰہُ بِغُلٰمٍ حَلِیۡمٍ ١۰١

ফাবাশশারনা-হু বিগুলা-মিন হালীম।

সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। ২০

তাফসীরঃ

২০. এর দ্বারা হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে বোঝানো হয়েছে। [এখান থেকে পরবর্তী আয়াতসমূহ দ্বারা জানা যায়, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম পুত্র সন্তানের জন্য দুআ করেছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআ কবুল করেছিলেন এবং সে পুত্রকেই কুরবানীর জন্য পেশ করা হয়েছিল। বর্তমান তাওরাত দ্বারাও প্রমাণ হয় হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দুআর ফলে যে পুত্র জন্ম নিয়েছিলেন, তিনি হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম। দুআর ফসল হওয়ার কারণেই তাঁর নাম রাখা হয়েছিল ইসমাঈল। কেননা ইসমাঈল দু’টি শব্দের যৌগিক রূপ। সামা‘ ও ‘ঈল’। ‘সামা’ অর্থ ‘শোনা’ ও ‘ঈল’ অর্থ ‘আল্লাহ’। অর্থাৎ আল্লাহ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দুআ শুনলেন। তাওরাতে আছে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে বললেন, ইসমাঈলের ব্যাপারে আমি তোমার কথা শুনলাম। সুতরাং এ আয়াতসমূহে তাঁর যে পুত্রের কথা বলা হচ্ছে তিনি হযরত ইসহাক নন; বরং হযরত ইসমাঈল। তাছাড়া যবাহর বৃত্তান্ত বর্ণনা করার পর হযরত ইসহাক আলাইহিস সালামের জন্মের সুসংবাদ স্বতন্ত্রভাবে দেওয়া হয়েছে, যেমন সামনে এ সূরাতেই ইরশাদ হয়েছে ‘এবং আমি তাকে সুসংবাদ দিলাম ইসহাকের, যে হবে একজন নবী-নেককারদের অন্তর্ভুক্ত’ (আয়াত-১১২)। এটা নির্দেশ করে ‘আমি তাকে সুসংবাদ দিলাম একজন সহনশীল পুত্রের’ (আয়াত-১০১)-এর দ্বারা যে পুত্রের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, তিনি ইসহাক ছাড়া অন্য কেউ। তাছাড়া হযরত ইসহাক সম্পর্কে সুসংবাদ দানকালে তাকে নবী বানানোরও সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে এবং সূরা হুদে সেই সঙ্গে পৌত্র হযরত ইয়াকুবের জন্মেরও সুসংবাদ রয়েছে। এ অবস্থায় কী করে ধারণা করা যায় যে, যাবীহ (যাকে যবাহের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, তিনি) ছিলেন ইসহাক? তাহলে তো তার অর্থ দাঁড়ায় নবী বানানো ও ইয়াকুবের পিতা হওয়ার আগেই তাকে যবাহ করে দেওয়া হবে। কাজেই এটা অনস্বীকার্য যে, যাবীহ হযরত ইসমাঈল (আ.)-ই, অন্য কেউ নন, যার জন্মের সুসংবাদ দানের সাথে নবী বানানো ও সন্তান দানের সুসংবাদ দেওয়া হয়নি, যদিও পরবর্তীকালে তিনি উভয়ই লাভ করেছিলেন। আর যাবীহ যেহেতু ছিলেন তিনি সে কারণেই তাঁর কুরবানীর স্মারকরূপে কুরবানী দানের প্রথা বরাবর তাঁরই বংশধরদের মধ্যে চলে আসছে এবং আজও এ প্রথা তাঁর রূহানী সন্তান তথা মুসলিমগণই পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান তাওরাতে স্পষ্ট আছে, কুরবানীর স্থান ছিল মূরা বা ‘মুরয়া’। ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ টেনে কষে এর বিভিন্ন সম্ভাবনা বের করার চেষ্টা করেছে, অথচ এটা অতি পরিষ্কার যে, শব্দটি পবিত্র কাবা সংলগ্ন ‘মারওয়া’কেই নির্দেশ করে...। তাওরাতে আরও আছে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তিনি যেন তার একমাত্র পুত্রকে যবাহ করেন। দু’ পুত্রের মধ্যে হযরত ইসমাঈল ছিলেন বড়, ইসহাক ছোট। হযরত ইসমাঈলের বর্তমানে হযরত ইসহাক একমাত্র পুত্র নন যে, আমরা তাকে যাবীহ সাব্যস্ত করব। যবাহকালে হযরত ইসমাঈল ছিলেন হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর একমাত্র পুত্র। সুতরাং সর্ব বিচারে তিনিই যাবীহ -অনুবাদক, তাফসীরে উসমানী অবলম্বনে]।
১০২

فَلَمَّا بَلَغَ مَعَہُ السَّعۡیَ قَالَ یٰبُنَیَّ اِنِّیۡۤ اَرٰی فِی الۡمَنَامِ اَنِّیۡۤ اَذۡبَحُکَ فَانۡظُرۡ مَاذَا تَرٰی ؕ قَالَ یٰۤاَبَتِ افۡعَلۡ مَا تُؤۡمَرُ ۫ سَتَجِدُنِیۡۤ اِنۡ شَآءَ اللّٰہُ مِنَ الصّٰبِرِیۡنَ ١۰٢

ফালাম্মা-বালাগা মা‘আহুছ ছা‘ইয়া কা-লা ইয়া-বুনাইইয়া ইন্নীআরা-ফিল মানা-মি আন্নী আযবাহুকা ফানজুর মা-যা-তারা- কা-লা ইয়াআবাতিফ‘আল মা-তু’মারু ছাতাজিদুনীইন শা-আল্লা-হু মিনাসসা-বিরীন।

অতঃপর সে পুত্র যখন ইবরাহীমের সাথে চলাফেরা করার উপযুক্ত হল, তখন সে বলল, বাছা! আমি স্বপ্নে দেখছি যে, তোমাকে যবাহ করছি। এবার চিন্তা করে বল, তোমার অভিমত কী। পুত্র বলল, আব্বাজী! আপনাকে যার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে আপনি সেটাই করুন। ২১ ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে সবরকারীদের একজন পাবেন।

তাফসীরঃ

২১. যদিও এটা ছিল এক স্বপ্ন, কিন্তু নবীগণের স্বপ্নও ওহী হয়ে থাকে। তাই হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম তাকে আল্লাহ তাআলার আদেশ সাব্যস্ত করলেন।
১০৩

فَلَمَّاۤ اَسۡلَمَا وَتَلَّہٗ لِلۡجَبِیۡنِ ۚ ١۰٣

ফালাম্মাআছলামা-ওয়া তাল্লাহূলিলজাবীন।

সুতরাং (সেটা ছিল এক বিস্ময়কর দৃশ্য) যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং পিতা পুত্রকে কাত করে শুইয়ে দিল। ২২

তাফসীরঃ

২২. পিতা-পুত্র উভয়ে তো নিজেদের পক্ষ থেকে আল্লাহ তাআলার হুকুম তামিল প্রসঙ্গে এটাই ধরে নিয়েছিলেন যে, পিতা পুত্রকে যবাহ করবেন। তাই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম পুত্রকে কাত করে শোয়ালেন, যাতে ছুরি চালানোর সময় চেহারা নজরে না পড়ে, পাছে পুত্র বাৎসল্যে মন টলে যায়।
১০৪

وَنَادَیۡنٰہُ اَنۡ یّٰۤاِبۡرٰہِیۡمُ ۙ ١۰٤

ওয়া না-দাইনা-হু আইঁ ইয়াইবরা-হীম।

আর আমি তাকে ডাক দিয়ে বললাম, হে ইবরাহীম!
১০৫

قَدۡ صَدَّقۡتَ الرُّءۡیَا ۚ اِنَّا کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ ١۰٥

কাদ সাদ্দাকতার রু’ইয়া- ইন্না-কাযা-লিকা নাজঝিল মুহছিনীন।

তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখিয়েছ। নিশ্চয়ই আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।
১০৬

اِنَّ ہٰذَا لَہُوَ الۡبَلٰٓـؤُا الۡمُبِیۡنُ ١۰٦

ইন্না হা-যা-লাহুওয়াল বালাউল মুবীন।

নিশ্চয়ই এটা ছিল এক স্পষ্ট পরীক্ষা।
১০৭

وَفَدَیۡنٰہُ بِذِبۡحٍ عَظِیۡمٍ ١۰٧

ওয়া ফাদাইনা-হু বিযিবহিন ‘আজীম।

এবং আমি এক মহান কুরবানীর বিনিময়ে সে শিশুকে মুক্ত করলাম। ২৩

তাফসীরঃ

২৩. পিতা-পুত্র উভয়ে যেহেতু আল্লাহ তাআলার আদেশ পালনের জন্য তাদের এখতিয়ারাধীন সবকিছুই করে ফেলেছিলেন, তাই তাদের পরীক্ষা হয়ে গিয়েছিল। অনন্তর আল্লাহ তাআলা তাঁর কুদরতের এক কারিশমা দেখালেন। ছুরি হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামের স্থলে একটি দুম্বার উপর চলল। আল্লাহ তাআলা সেটিকে নিজ কুদরতে সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম জীবিত ও নিরাপদ থাকলেন।
১০৮

وَتَرَکۡنَا عَلَیۡہِ فِی الۡاٰخِرِیۡنَ ۖ ١۰٨

ওয়া তারাকনা-‘আলাইহি ফিল আ-খিরীন।

এবং পরবর্তীদের মধ্যে এই ঐতিহ্য চালু করলাম
১০৯

سَلٰمٌ عَلٰۤی اِبۡرٰہِیۡمَ ١۰٩

ছালা-মুন ‘আলাইবরা-হীম।

যে, (তারা বলবে,) সালাম হোক ইবরাহীমের প্রতি,
১১০

کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ ١١۰

কাযা-লিকা নাজঝিল মুহছিনীন।

আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।
১১১

اِنَّہٗ مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ١١١

ইন্নাহূমিন ‘ইবা-দিনাল মু’মুনীন।

নিশ্চয়ই সে আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১১২

وَبَشَّرۡنٰہُ بِاِسۡحٰقَ نَبِیًّا مِّنَ الصّٰلِحِیۡنَ ١١٢

ওয়া বাশশারনা-হু বিইছহা-কা নাবিইয়াম মিনাসসা-লিহীন।

আর আমি তাকে সুসংবাদ দিলাম ইসহাকের, যে নেককারদের মধ্যে একজন নবী হবে।
১১৩

وَبٰرَکۡنَا عَلَیۡہِ وَعَلٰۤی اِسۡحٰقَ ؕ  وَمِنۡ ذُرِّیَّتِہِمَا مُحۡسِنٌ وَّظَالِمٌ لِّنَفۡسِہٖ مُبِیۡنٌ ٪ ١١٣

ওয়া বা-রাকনা ‘আলাইহিওয়া ‘আলাইছহা-ক ওয়া মিন যুররিইইয়াতিহিমামুহছিনুওঁ ওয়া জা-লিমুল লিনাফছিহী মুবীন।

আমি তার প্রতি বরকত নাযিল করলাম এবং ইসহাকের প্রতিও। তাদের আওলাদের মধ্যে কিছু লোক সৎকর্মশীল এবং কিছু লোক নিজ সত্তার প্রতি প্রকাশ্য জুলুমকারী।
১১৪

وَلَقَدۡ مَنَنَّا عَلٰی مُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ ۚ ١١٤

ওয়া লাকাদ মান্নান্না-‘আলা-মূছা-ওয়া হা-রূন।

নিশ্চয়ই আমি মূসা ও হারুনের প্রতিও অনুগ্রহ করেছিলাম।
১১৫

وَنَجَّیۡنٰہُمَا وَقَوۡمَہُمَا مِنَ الۡکَرۡبِ الۡعَظِیۡمِ ۚ ١١٥

ওয়া নাজ্জাইনা-হুমা ওয়া কাওমাহুমা-মিনাল কারবিল ‘আজীম।

আমি তাদেরকে ও তাদের কওমকে এক মহা সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম।
১১৬

وَنَصَرۡنٰہُمۡ فَکَانُوۡا ہُمُ الۡغٰلِبِیۡنَ ۚ ١١٦

ওয়া নাসারনা-হু ফাকা-নূহুমুল গা-লিবীন।

আর তাদেরকে সাহায্য করেছিলাম, ফলে তারাই হয়েছিল বিজয়ী।
১১৭

وَاٰتَیۡنٰہُمَا الۡکِتٰبَ الۡمُسۡتَبِیۡنَ ۚ ١١٧

ওয়া আ-তাইনা-হুমাল কিতা-বাল মুছতাবীন।

আর আমি তাদেরকে এক সুস্পষ্ট কিতাব দিয়েছিলাম।
১১৮

وَہَدَیۡنٰہُمَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِیۡمَ ۚ ١١٨

ওয়া হাদাইনা-হুমাসসিরাতাল মুছতাকীম।

আর তাদেরকে প্রদর্শন করেছিলাম সরল পথ।
১১৯

وَتَرَکۡنَا عَلَیۡہِمَا فِی الۡاٰخِرِیۡنَ ۙ ١١٩

ওয়া তারাকনা-‘আলাইহিমা-ফিল আ-খিরীন।

আর পরবর্তীদের মধ্যে এই ঐতিহ্য চালু করলাম
১২০

سَلٰمٌ عَلٰی مُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ ١٢۰

ছালা-মুন ‘আলা-মূছা-ওয়া হা-রূন।

যে, (তারা বলবে) সালাম হোক মূসা ও হারুনের প্রতি।
১২১

اِنَّا کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ ١٢١

ইন্না-কাযা-লিকা নাজঝিল মুহছীনীন।

নিশ্চয়ই আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করি।
১২২

اِنَّہُمَا مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ١٢٢

ইন্নাহুমা-মিন ‘ইবা-দিনাল মু’মিনীন।

নিশ্চয়ই তারা ছিল আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
১২৩

وَاِنَّ اِلۡیَاسَ لَمِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ؕ ١٢٣

ওয়া ইন্না ইলইয়াছা লামিনাল মুরছালীন।

নিশ্চয়ই ইলিয়াসও রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২৪

তাফসীরঃ

২৪. কুরআন মাজীদ হযরত ইলিয়াস আলাইহিস সালামের বৃত্তান্ত সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা দেয়নি। ঐতিহাসিক ও ইসরাঈলী বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের পর বনী ইসরাঈল ব্যাপকভাবে কুফর ও শিরকে লিপ্ত হয়ে পড়লে তাদের হেদায়াতের জন্য হযরত ইলিয়াস আলাইহিস সালামকে পাঠানো হয়। বাইবেলের ‘রাজাবলী’ পুস্তকে আছে, রাজা আখিআবের পত্নী ‘ইযাবীল’ ‘বাল’ নামক এক প্রতিমার পূজা শুরু করেছিল। হযরত ইলিয়াস আলাইহিস সালাম তাকে প্রতিমা পূজা করতে নিষেধ করলেন এবং মুজিযাও দেখালেন। কিন্তু অবাধ্য কওম তাঁর কথা গ্রাহ্য তো করলই না, উপরন্তু তাঁকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র আঁটল। আল্লাহ তাআলা তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়ে উল্টো তাদের উপর বালা-মুসিবত চাপিয়ে দিলেন। আর হযরত ইলিয়াস আলাইহিস সালামকে নিজের কাছে ডেকে নিলেন। ইসরাঈলী বর্ণনায় আরও আছে, তাকে আসমানে জীবিত তুলে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ভরযোগ্য কোন বর্ণনা দ্বারা এটা সমর্থিত নয়। বিস্তারিত দ্র. মাআরিফুল কুরআন।
১২৪

اِذۡ قَالَ لِقَوۡمِہٖۤ اَلَا تَتَّقُوۡنَ ١٢٤

ইযকা-লা লিকাওমিহীআলা-তাত্তাকূন।

যখন সে নিজ কওমকে বলেছিল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করো না?
১২৫

اَتَدۡعُوۡنَ بَعۡلًا وَّتَذَرُوۡنَ اَحۡسَنَ الۡخَالِقِیۡنَ ۙ ١٢٥

আ তাদ‘ঊনা বা‘লাওঁ ওয়া তাযারূনা আহছানাল খা-লিকীন।

তোমরা কি ‘বা‘ল’ (নামক মূর্তি)-এর পূজা করছ এবং পরিত্যাগ করছ শ্রেষ্ঠতম স্রষ্টাকে?
১২৬

اللّٰہَ رَبَّکُمۡ وَرَبَّ اٰبَآئِکُمُ الۡاَوَّلِیۡنَ ١٢٦

আল্লা-হা রাব্বাকুম ওয়া রাব্বা আ-বাই কুমুল আওওয়ালীন।

সেই আল্লাহকে, যিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের বাপ-দাদাদেরও, যারা পূর্বে গত হয়েছে?
১২৭

فَکَذَّبُوۡہُ فَاِنَّہُمۡ لَمُحۡضَرُوۡنَ ۙ ١٢٧

ফাকাযযাবূহু ফাইন্নাহুম লামুহদারূন।

তারপর এই হল যে, তারা ইলিয়াসকে মিথ্যাবাদী বলল; এর ফলে তাদেরকে অবশ্যই শাস্তির সম্মুখীন করা হবে।
১২৮

اِلَّا عِبَادَ اللّٰہِ الۡمُخۡلَصِیۡنَ ١٢٨

ইল্লা-‘ইবাদাল্লা-হিল মুখলাসীন।

তবে আল্লাহর মনোনীত বান্দাগণ ছাড়া (তারা থাকবে নিরাপদ)।
১২৯

وَتَرَکۡنَا عَلَیۡہِ فِی الۡاٰخِرِیۡنَ ۙ ١٢٩

ওয়া তারাকনা-‘আলাইহি ফিল আ-খিরীন।

আর পরবর্তীদের মধ্যে এই ঐতিহ্য চালু করলাম
১৩০

سَلٰمٌ عَلٰۤی اِلۡ یَاسِیۡنَ ١٣۰

ছালা-মুন ‘আলাইলইয়া-ছীন।

যে, (তারা বলবে) সালাম হোক ইলিয়াসীনের ২৫ প্রতি।

তাফসীরঃ

২৫. ‘ইলয়াসীন’এটা হযরত ইলিয়াস (আ.)-এর আরেক নাম অথবা এটা ‘ইলিয়াস’-এর বহুবচন। অর্থাৎ ইলিয়াস ও তার অনুসারীগণ -অনুবাদক।
১৩১

اِنَّا کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ ١٣١

ইন্না-কাযা-লিকা নাজঝিল মুহছিনীন।

নিশ্চয়ই আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।
১৩২

اِنَّہٗ مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ١٣٢

ইন্নাহু মিন ‘ইবা-দিনাল মু’মিনীন।

নিশ্চয়ই সে ছিল আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
১৩৩

وَاِنَّ لُوۡطًا لَّمِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ؕ ١٣٣

ওয়া ইন্না লূতাল্লা মিনাল মুরছালীন।

নিঃসন্দেহে লূত ছিল রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত।
১৩৪

اِذۡ نَجَّیۡنٰہُ وَاَہۡلَہٗۤ اَجۡمَعِیۡنَ ۙ ١٣٤

ইযনাজ্জাইনা-হু ওয়া আহলাহূআজমা‘ঈন।

যখন আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গের সকলকে রক্ষা করেছিলাম (আযাব থেকে)।
১৩৫

اِلَّا عَجُوۡزًا فِی الۡغٰبِرِیۡنَ ١٣٥

ইল্লা-‘আজূঝান ফিল গা-বিরীন।

এক বৃদ্ধাকে ছাড়া, যে পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২৬

তাফসীরঃ

২৬. এ বৃদ্ধা হল হযরত লূত আলাইহিস সালামের স্ত্রী। শেষ পর্যন্ত সে কাফেরদের সাথেই থাকে এবং তাদের সঙ্গে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়। হযরত লূত (আ.)-এর ঘটনা বিস্তারিতভাবে সূরা হুদে (১১ : ৭৭) গত হয়েছে।
১৩৬

ثُمَّ دَمَّرۡنَا الۡاٰخَرِیۡنَ ١٣٦

ছু ম্মা দাম্মার নাল আ-খারীন।

তারপর অন্যদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে ফেললাম।
১৩৭

وَاِنَّکُمۡ لَتَمُرُّوۡنَ عَلَیۡہِمۡ مُّصۡبِحِیۡنَ ١٣٧

ওয়া ইন্নাকুম লাতামুররূনা ‘আলাইহিম মুসবিহীন।

(হে মক্কাবাসীগণ!) তোমরা তো তাদের (বসতিসমূহের) উপর দিয়ে যাতায়াত করে থাক (কখনও) ভোর বেলা।
১৩৮

وَبِالَّیۡلِ ؕ  اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ٪ ١٣٨

ওয়া বিল্লাইলি আফালা-তা‘কিলূন।

এবং (কখনও) রাতের বেলা। ২৭ তা সত্ত্বেও কি তোমরা অনুধাবন করবে না?

তাফসীরঃ

২৭. আরববাসীগণ যখন বাণিজ্য উপলক্ষে শামের সফর করত, তখন হযরত লূত আলাইহিস সালামের কওমকে যেখানে ধ্বংস করা হয়, সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত বসতিসমূহের উপর দিয়ে আসা-যাওয়া করত।
১৩৯

وَاِنَّ یُوۡنُسَ لَمِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ؕ ١٣٩

ওয়া ইন্না ইঊনুছা লামিনাল মুরছালীন।

নিশ্চয়ই ইউনুসও ছিল রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত।
১৪০

اِذۡ اَبَقَ اِلَی الۡفُلۡکِ الۡمَشۡحُوۡنِ ۙ ١٤۰

ইয আবাকা ইলাল ফুলকিল মাশহূন।

যখন পালিয়ে একটি বোঝাই নৌকায় পৌঁছল। ২৮

তাফসীরঃ

২৮. হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনা সূরা ইউনুসেও (১০ : ৯৮) সংক্ষেপে চলে গেছে এবং কিছুটা সূরা আম্বিয়ায়ও (২১ : ৮৭)। তিনি ইরাকের ‘নিনেভা’ অঞ্চলে প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন পর্যন্ত নিজ কওমকে দাওয়াত দিতে থাকেন। কিন্তু কিছুতেই যখন তারা তাঁর কথায় কর্ণপাত করল না, তখন তিনি তাদেরকে সাবধান করে দিলেন, তিন দিনের ভেতরেই তোমাদের উপর আযাব আসবে। কওমের লোক বলাবলি করল, হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তো কখনও মিথ্যা কথা বলেন না, কাজেই তিনি যদি এলাকা ছেড়ে চলে যান, বুঝবে তিনি সত্য বলেছেন। অতঃপর তিনি আল্লাহ তাআলার হুকুমে বসতি ছেড়ে চলে গেলেন। এদিকে বসতির লোকে যখন দেখল তিনি সেখানে নেই এবং শাস্তির কিছু পূর্বাভাসও নজরে পড়ল, তখন তারা অনুতপ্ত হল ও তাওবা করল। ফলে আল্লাহ তাআলা তাদের আযাব সরিয়ে নিলেন। তাদের তাওবার কথা হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের জানা ছিল না। তিনি যখন দেখলেন তিন দিন গত হওয়ার পরও আযাব আসল না, তখন ভয় পেয়ে গেলেন এবং আশঙ্কা বোধ করলেন এলাকায় ফিরে গেলে কওমের লোক তাকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করবে, এমনকি তারা তাকে হত্যাও করে ফেলতে পারে। এই আশঙ্কায় তিনি আল্লাহ তাআলার হুকুম আসার আগেই সাগরের দিকে অগ্রসর হলেন। এলাকায় আর ফিরে আসলেন না। সাগর পার হওয়ার জন্য তিনি একটি নৌকায় চড়লেন। নৌকাটি ছিল যাত্রীতে বোঝাই। তিনি যেহেতু আল্লাহ তাআলার এক মহা মর্যাদাবান নবী, তাই আদেশ পাওয়ার আগেই তাঁর এলাকা ত্যাগ আল্লাহ তাআলার পছন্দ হল না। জানা কথা, বড় মানুষের তুচ্ছ ভুলও ধরা হয়ে থাকে। সুতরাং তাঁকেও ধরা হল। যাত্রী বেশী হওয়ার কারণে নৌকাটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কাজেই বোঝা হালকা করার জন্য দরকার পড়েছিল একজনকে নৌকা থেকে ফেলে দেওয়ার। কিন্তু কাকে ফেলা হবে এটা নিষ্পত্তির জন্য লটারী ধরা হল। কয়েক বারই তা ধরা হল, কিন্তু প্রতিবারই নাম উঠছিল হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের। অগত্যা তাকেই পানিতে ফেলে দেওয়া হল। যেখানে ফেলা হয়েছিল আল্লাহ তাআলার হুকুমে সেখানে একটি মাছ তাঁর অপেক্ষায় ছিল। মাছটি সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গিলে ফেলল। তিনি কিছুকাল তার পেটে থাকলেন। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায় তার মেয়াদ ছিল তিন দিন। কোন কোন বর্ণনায় কয়েক ঘণ্টার কথাও বলা হয়েছে, যেমন সূরা আম্বিয়ায় বলা হয়েছে। তিনি মাছের পেটে তাসবীহ পড়ছিলেন لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ سُبْحَانَكَ اِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ ۝ ‘তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তুমি মহান, পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি একজন অপরাধী’।
১৪১

فَسَاہَمَ فَکَانَ مِنَ الۡمُدۡحَضِیۡنَ ۚ ١٤١

ফাছা-হামা ফাকা-না মিনাল মুদ হাদীন।

অতঃপর সে লটারিতে শরীক হল এবং তাতে পরাভূত হল।
১৪২

فَالۡتَقَمَہُ الۡحُوۡتُ وَہُوَ مُلِیۡمٌ ١٤٢

ফালতাকামাহুল হূতুওয়া হুওয়া মুলীম।

তারপর মাছ তাকে গিলে ফেলল, যখন সে নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছিল।
১৪৩

فَلَوۡلَاۤ اَنَّہٗ کَانَ مِنَ الۡمُسَبِّحِیۡنَ ۙ ١٤٣

ফালাওলাআন্নাহূকা-না মিনাল মুছাব্বিহীন।

সুতরাং সে যদি তাসবীহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত
১৪৪

لَلَبِثَ فِیۡ بَطۡنِہٖۤ اِلٰی یَوۡمِ یُبۡعَثُوۡنَ ۚؒ ١٤٤

লালাবিছা ফী বাতনিহীইলা-ইয়াওমি ইউব‘আছূন।

তবে মৃতদেরকে পুনর্জীবিত করার দিন পর্যন্ত সে সেই মাছেরই পেটে থাকত।
১৪৫

فَنَبَذۡنٰہُ بِالۡعَرَآءِ وَہُوَ سَقِیۡمٌ ۚ ١٤٥

ফানাবাযনা-হু বিল‘আরাই ওয়া হুওয়া ছাকীম।

অতঃপর আমি তাকে পীড়িত অবস্থায় একটি উন্মুক্ত প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম। ২৯

তাফসীরঃ

২৯. তাসবীহ পাঠের বরকতে আল্লাহ তাআলা মাছকে হুকুম দিলেন যেন হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে একটি খোলা মাঠের কিনারায় নিয়ে ফেলে দেয়। সুতরাং তাই হল। তখন তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। কোন-কোন বর্ণনায় আছে, তার শরীরে তখন আর কোন পশম বাকি ছিল না। আল্লাহ তাআলা একটি বৃক্ষ উদগত করে তার উপর বিস্তার করে দিলেন। কোন-কোন বর্ণনায় আছে, সেটি ছিল লাউ গাছ। তিনি তার ছায়া লাভ করছিলেন এবং সম্ভবত তার ফলকে তার জন্য ঔষধও বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে একটি বকরীও পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তার দুধ খেতে থাকেন এবং এক সময় তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।
১৪৬

وَاَنۡۢبَتۡنَا عَلَیۡہِ شَجَرَۃً مِّنۡ یَّقۡطِیۡنٍ ۚ ١٤٦

ওয়া আমবাতনা ‘আলাইহি শাজারাতাম মিইঁ ইয়াকতীন।

এবং তার উপর উদগত করলাম একটি লতাযুক্ত গাছ।
১৪৭

وَاَرۡسَلۡنٰہُ اِلٰی مِائَۃِ اَلۡفٍ اَوۡ یَزِیۡدُوۡنَ ۚ ١٤٧

ওয়া আরছালনা-হু ইলা-মিআতি আলফিন আও ইয়াঝীদূন।

তাকে রাসূল করে পাঠিয়েছিলাম এক লাখ, বরং তারও কিছু বেশি লোকের কাছে।
১৪৮

فَاٰمَنُوۡا فَمَتَّعۡنٰہُمۡ اِلٰی حِیۡنٍ ؕ ١٤٨

ফাআ-মানূফামাত্তা‘না-হুম ইলা-হীন।

অতঃপর তারা ঈমান এনেছিল। ৩০ ফলে আমি তাদেরকে একটা কাল পর্যন্ত জীবন ভোগ করতে দেই।

তাফসীরঃ

৩০. যেমন উপরে বর্ণিত হয়েছে এবং সূরা ইউনুস (১০ : ৯৮)-এও চলে গেছে যে, হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের কওম আযাবের লক্ষণ দেখেই সতর্ক হয়ে গিয়েছিল এবং আযাব আসার আগেই ঈমান এনেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের থেকে আযাব সরিয়ে নিয়েছিলেন এবং তারা ঈমান আনার পর কিছুকাল জীবিত ছিল।
১৪৯

فَاسۡتَفۡتِہِمۡ اَلِرَبِّکَ الۡبَنَاتُ وَلَہُمُ الۡبَنُوۡنَ ۙ ١٤٩

ফাছতাফতিহিম আ লিরাব্বিকাল বানা-তুওয়া লাহুমুল বানূন।

সুতরাং তাদেরকে (মক্কার মুশরিকদেরকে) জিজ্ঞেস কর, তোমার প্রতিপালকের জন্যই কি রয়েছে কন্যা সন্তান আর তাদের জন্য পুত্র সন্তান? ৩১

তাফসীরঃ

৩১. সূরার শুরুতে বলা হয়েছিল যে, মক্কা মুকাররমার মূর্তিপূজকগণ ফেরেশতাদেরকে আল্লাহ তাআলার কন্যা বলত। এবার তাদের সেই বেহুদা আকীদা খণ্ডন করা হচ্ছে। সেই মূর্তিপূজকরা নিজেদের জন্য কিন্তু কন্যা সন্তান পছন্দ করত না; বরং এতটাই ঘৃণা করত যে, তাদের অনেকে তো কন্যা সন্তানের জন্ম হলে তাকে জ্যান্ত পুতে ফেলত। আল্লাহ তাআলা প্রথমত বলছেন, এটা কেমন বেইনসাফী যে, তোমরা নিজেদের জন্য কন্যা অপছন্দ কর, অথচ আল্লাহ সম্পর্কে বিশ্বাস কর ‘তার কন্যা সন্তান আছে’? তারপর বলেছেন, আল্লাহ তাআলার কোন সন্তানের প্রয়োজন নেই না পুত্র সন্তানের, না কন্যা সন্তানের।
১৫০

اَمۡ خَلَقۡنَا الۡمَلٰٓئِکَۃَ اِنَاثًا وَّہُمۡ شٰہِدُوۡنَ ١٥۰

আম খালাকনাল মালাইকাতা ইনা-ছাওঁ ওয়া হুম শা-হিদূন।

নাকি আমি যখন ফেরেশতাদেরকে নারী বানিয়েছিলাম, তখন তারা তা প্রত্যক্ষ করছিল?
১৫১

اَلَاۤ اِنَّہُمۡ مِّنۡ اِفۡکِہِمۡ لَیَقُوۡلُوۡنَ ۙ ١٥١

আলাইন্নাহুম মিন ইফকিহিম লাইয়াকূলূন।

মনে রেখ, তারা তাদের মনগড়া কথার কারণে বলে
১৫২

وَلَدَ اللّٰہُ ۙ وَاِنَّہُمۡ لَکٰذِبُوۡنَ ١٥٢

ওয়ালাদাল্লা-হু ওয়া ইন্নাহুম লাকা-যিবূন।

আল্লাহর কোন সন্তান আছে। বস্তুত তারা নিশ্চিতভাবেই মিথ্যাবাদী।
১৫৩

اَصۡطَفَی الۡبَنَاتِ عَلَی الۡبَنِیۡنَ ؕ ١٥٣

আসতাফাল বানা-তি ‘আলাল বানীন।

আল্লাহ কি পুত্রের পরিবর্তে কন্যাদেরই বেছে নিয়েছেন?
১৫৪

مَا لَکُمۡ ۟ کَیۡفَ تَحۡکُمُوۡنَ ١٥٤

মা-লাকুম কাইফা তাহকুমূন।

তোমাদের হল কী? তোমরা কেমন বিচার করছ?
১৫৫

اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ ۚ ١٥٥

আফালা-তাযাক্কারূন।

তোমরা কি এতটুকুও অনুধাবন কর না?
১৫৬

اَمۡ لَکُمۡ سُلۡطٰنٌ مُّبِیۡنٌ ۙ ١٥٦

আম লাকুম ছুলতা-নুম মুবীন।

না কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ আছে?
১৫৭

فَاۡتُوۡا بِکِتٰبِکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ١٥٧

ফা’তূবিকিতা-বিকুম ইন কুনতুম সা-দিকীন।

তবে নিয়ে এসো তোমাদের সেই কিতাব যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
১৫৮

وَجَعَلُوۡا بَیۡنَہٗ وَبَیۡنَ الۡجِنَّۃِ نَسَبًا ؕ  وَلَقَدۡ عَلِمَتِ الۡجِنَّۃُ اِنَّہُمۡ لَمُحۡضَرُوۡنَ ۙ ١٥٨

ওয়াজা‘আলূবাইনাহূওয়া বাইনাল জিন্নাতি নাছাবাওঁ ওয়ালাকাদ ‘আলিমাতিল জিন্নাতু ইন্নাহুম লামুহদারূন।

তারা আল্লাহ ও জিনদের মধ্যেও বংশীয় সম্পর্ক স্থির করেছে। ৩২ অথচ স্বয়ং জিনরোও জানে, তাদেরকে অপরাধীরূপে হাজির করা হবে।

তাফসীরঃ

৩২. এর দ্বারা মুশরিকদের আরেকটি বেহুদা বিশ্বাস খণ্ডন করা হয়েছে। তারা বলত, জিনদের যারা সর্দার, তাদের কন্যাগণ হল ফেরেশতাদের মা’, যেন তারা আল্লাহ তাআলার স্ত্রী নাউযুবিল্লাহ।
১৫৯

سُبۡحٰنَ اللّٰہِ عَمَّا یَصِفُوۡنَ ۙ ١٥٩

ছুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা-ইয়াসিফূন।

(কেননা) তারা যা-কিছু বলে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র।
১৬০

اِلَّا عِبَادَ اللّٰہِ الۡمُخۡلَصِیۡنَ ١٦۰

ইল্লা-‘ইবাদাল্লা-হিল মুখলাসীন।

তবে আল্লাহর মনোনীত বান্দাগণ (নিরাপদ থাকবে)।
১৬১

فَاِنَّکُمۡ وَمَا تَعۡبُدُوۡنَ ۙ ١٦١

ফাইন্নাকুম ওয়ামা-তা‘বুদূন।

কেননা তোমরা এবং তোমরা যাদের ইবাদত কর তারা
১৬২

مَاۤ اَنۡتُمۡ عَلَیۡہِ بِفٰتِنِیۡنَ ۙ ١٦٢

মাআনতুম ‘আলাইহি বিফা-তিনীন।

তোমরা কেউ আল্লাহ সম্পর্কে কাউকে বিভ্রান্ত করতে পার না
১৬৩

اِلَّا مَنۡ ہُوَ صَالِ الۡجَحِیۡمِ ١٦٣

ইল্লা-মান হুওয়া সা-লিল জাহীম।

সেই ব্যক্তিকে ছাড়া, যে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
১৬৪

وَمَا مِنَّاۤ اِلَّا لَہٗ مَقَامٌ مَّعۡلُوۡمٌ ۙ ١٦٤

ওয়ামা-মিন্নাইল্লা-লাহূমাকা-মুম মা‘লূম।

আর (ফেরেশতাগণ তো বলে) আমাদের প্রত্যেকেরই আছে এক নির্দিষ্ট স্থান।
১৬৫

وَّاِنَّا لَنَحۡنُ الصَّآفُّوۡنَ ۚ ١٦٥

ওয়া ইন্না-লানাহনুসসাফফূন।

আর আমরা তো (আল্লাহ তাআলার আনুগত্যে) সারিবদ্ধ হয়ে থাকি।
১৬৬

وَاِنَّا لَنَحۡنُ الۡمُسَبِّحُوۡنَ ١٦٦

ওয়া ইন্না-লানাহনুল মুছাব্বিহূন।

এবং আমরা তো তাঁর পবিত্রতা বর্ণনায় রত থাকি। ৩৩

তাফসীরঃ

৩৩. অর্থাৎ ফেরেশতাগণ নিজেরা তো নিজেদেরকে আল্লাহ তাআলার কন্যা বলে না; বরং নিজেদের দাসত্বই প্রকাশ করে।
১৬৭

وَاِنۡ کَانُوۡا لَیَقُوۡلُوۡنَ ۙ ١٦٧

ওয়া ইন কা-নূলাইয়াকূলূন।

তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) পূর্বে তো বলত
১৬৮

لَوۡ اَنَّ عِنۡدَنَا ذِکۡرًا مِّنَ الۡاَوَّلِیۡنَ ۙ ١٦٨

লাও আন্না ‘ইনদানা- যিকরাম মিনাল আওওয়ালীন।

আমাদের কাছে যদি পূর্ববর্তী লোকদের মত উপদেশবাণী থাকত
১৬৯

لَکُنَّا عِبَادَ اللّٰہِ الۡمُخۡلَصِیۡنَ ١٦٩

লাকুন্না-‘ইবা-দাল্লা-হিল মুখলাসীন।

তবে আমরাও আল্লাহর মনোনীত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম। ৩৪

তাফসীরঃ

৩৪. মূর্তিপূজকগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবের আগে ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বলত, আমাদের উপর যদি কোন আসমানী কিতাব নাযিল হত, তবে আমরা তা তোমাদের অপেক্ষা বেশি বিশ্বাস করতাম এবং তার অনুসরণে তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী থাকতাম। এ আয়াতে তারই জবাব দেওয়া হয়েছে। অনুরূপ বিষয়বস্তু সূরা ফাতিরেও (৩৪ : ৪২) গত হয়েছে।
১৭০

فَکَفَرُوۡا بِہٖ فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ ١٧۰

ফাকাফারূবিহী ফাছাওফা ইয়া‘লামূন।

তা সত্ত্বেও তারা তার কুফরীতে লিপ্ত হল। সুতরাং তারা অচিরেই জানতে পারবে।
১৭১

وَلَقَدۡ سَبَقَتۡ کَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۚۖ ١٧١

ওয়া লাকাদ ছাবাকাত কালিমাতুনা-লি‘ইবা-দিনাল মুরছালীন।

আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে পূর্বেই আমার একথা স্থিরীকৃত রয়েছে
১৭২

اِنَّہُمۡ لَہُمُ الۡمَنۡصُوۡرُوۡنَ ۪ ١٧٢

ইন্নাহুম লাহুমুল মানসূরূন।

যে, নিশ্চিতভাবেই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
১৭৩

وَاِنَّ جُنۡدَنَا لَہُمُ الۡغٰلِبُوۡنَ ١٧٣

ওয়া ইন্না জুনদানা-লাহুমুল গা-লিবূন।

এবং নিশ্চয়ই আমার বাহিনীই হবে জয়যুক্ত।
১৭৪

فَتَوَلَّ عَنۡہُمۡ حَتّٰی حِیۡنٍ ۙ ١٧٤

ফাতাওয়াল্লা ‘আনহুম হাত্তা-হীন।

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি কিছু কাল পর্যন্ত তাদেরকে উপেক্ষা করে চল।
১৭৫

وَّاَبۡصِرۡہُمۡ فَسَوۡفَ یُبۡصِرُوۡنَ ١٧٥

ওয়া আবসিরহুম ফাছাওফা ইউবসিরূন।

এবং তাদেরকে দেখতে থাক। অচিরেই তারা নিজেরাও দেখতে পাবে।
১৭৬

اَفَبِعَذَابِنَا یَسۡتَعۡجِلُوۡنَ ١٧٦

আফাবি‘আযা-বিনা-ইয়াছতা‘জিলূন।

তবে কি তারা আমার শাস্তির জন্য তাড়াহুড়া করছে? ৩৫

তাফসীরঃ

৩৫. কাফেরগণ ঠাট্টাচ্ছলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলত, আপনি আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছেন, তা তাড়াতাড়ি আসছে না কেন? এ আয়াতে তার উত্তর দেওয়া হয়েছে।
১৭৭

فَاِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِہِمۡ فَسَآءَ صَبَاحُ الۡمُنۡذَرِیۡنَ ١٧٧

ফাইযা-নাঝালা বিছা-হাতিহিম ফাছাআ সাবাহুল মুনযারীন।

তাদের আঙ্গিনায় যখন শাস্তি নেমে আসবে, তখন যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, তাদের প্রভাত হবে অতি মন্দ।
১৭৮

وَتَوَلَّ عَنۡہُمۡ حَتّٰی حِیۡنٍ ۙ ١٧٨

ওয়া তাওয়াল্লা ‘আনহুম হাত্তা-হীন।

তুমি কিছু কালের জন্য তাদেরকে উপেক্ষা কর।
১৭৯

وَّاَبۡصِرۡ فَسَوۡفَ یُبۡصِرُوۡنَ ١٧٩

ওয়া আবসির ফাছাওফা ইউবসিরূন।

এবং দেখতে থাক, অচিরেই তারা নিজেরাও দেখতে পাবে।
১৮০

سُبۡحٰنَ رَبِّکَ رَبِّ الۡعِزَّۃِ عَمَّا یَصِفُوۡنَ ۚ ١٨۰

ছুবহা-না রাব্বিকা রাব্বিল ‘ইঝঝাতি ‘আম্মা-ইয়াসিফূন।

তোমার প্রতিপালক, যিনি ক্ষমতার মালিক, তারা যা বলছে, তা হতে পবিত্র।
১৮১

وَسَلٰمٌ عَلَی الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۚ ١٨١

ওয়া-ছালা-মুন ‘আলাল মুরছালীন।

আর সালাম রাসূলদের প্রতি।
১৮২

وَالۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٪ ١٨٢

ওয়াল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন।

এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।