সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আদ-দুখান (الدخان) | ধোঁয়া

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৫৯

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

حٰمٓ ۚۛ ١

হা-মীম।

হা-মীম।

وَالۡکِتٰبِ الۡمُبِیۡنِ ۙۛ ٢

ওয়াল কিতা-বিল মুবীন।

শপথ কিতাবের, যা (সত্যের) সুস্পষ্টকারী।

اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰہُ فِیۡ لَیۡلَۃٍ مُّبٰرَکَۃٍ اِنَّا کُنَّا مُنۡذِرِیۡنَ ٣

ইন্নাআনঝালনা-হূফী লাইলাতিম মুবা-রাকাতিন ইন্না-কুন্না-মুনযিরীন।

আমি এটা নাযিল করেছি এক মুবারক রাতে। (কেননা) আমি মানুষকে সতর্ক করার ছিলাম।

তাফসীরঃ

১. এর দ্বারা ‘শবে কদর’ বোঝানো উদ্দেশ্য। কেননা এ রাতেই কুরআন মাজীদকে লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আকাশে নাযিল করা হয়। তারপর সেখান থেকে অল্প-অল্প করে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লামের কাছে পাঠানো হতে থাকে।

فِیۡہَا یُفۡرَقُ کُلُّ اَمۡرٍ حَکِیۡمٍ ۙ ٤

ফীহা-ইউফরাকুকুল্লুআমরিন হাকীম।

এ রাতেই প্রতিটি প্রজ্ঞাজনোচিত বিষয় স্থির করা হয়।

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ প্রতি বছর কোন ব্যক্তি জন্ম নেবে, তাকে কী পরিমাণ রিযক দেওয়া হবে, কার মৃত্যু হবে ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয় এবং তা কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

اَمۡرًا مِّنۡ عِنۡدِنَا ؕ  اِنَّا کُنَّا مُرۡسِلِیۡنَ ۚ ٥

আমরাম মিন ‘ইনদিনা- ইন্না-কুন্না-মুরছিলীন।

(তাছাড়া) আমার নির্দেশে, আমি (এক) রাসূল পাঠাবার ছিলাম,

رَحۡمَۃً مِّنۡ رَّبِّکَ ؕ  اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ۙ ٦

রাহমাতাম মির রাব্বিকা ইন্নাহূহুওয়াছ ছামী‘উল ‘আলীম।

তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে রহমত স্বরূপ। নিশ্চয় তিনিই সকল কথা শোনেন, সবকিছু জানেন।

رَبِّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا ۘ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّوۡقِنِیۡنَ ٧

রাব্বিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়া মা-বাইনাহুমা- । ইন কনতুম মূকিনীন।

যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং উভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর রব্ব যদি বাস্তবিকই তোমরা বিশ্বাসী হও।

لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ یُحۡیٖ وَیُمِیۡتُ ؕ رَبُّکُمۡ وَرَبُّ اٰبَآئِکُمُ الۡاَوَّلِیۡنَ ٨

লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু রাব্বুকুম ওয়া রাব্বুআ-বাইকুমুল আওওয়ালীন।

তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যুও ঘটান। তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং পূর্বে গত তোমাদের বাপ-দাদাদেরও প্রতিপালক।

بَلۡ ہُمۡ فِیۡ شَکٍّ یَّلۡعَبُوۡنَ ٩

বালহুম ফী শাক্কিইঁ ইয়াল‘আবূন।

(তা সত্ত্বেও কাফেরগণ ঈমান আনে না); বরং তারা সন্দেহে নিপতিত থেকে খেল-তামাশা করছে।
১০

فَارۡتَقِبۡ یَوۡمَ تَاۡتِی السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِیۡنٍ ۙ ١۰

ফারতাকিব ইয়াওমা তা’তিছ ছামাউ বিদুখা-নিম মুবীন।

সুতরাং সেই দিনের অপেক্ষা কর, যখন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে দেখা দেবে
১১

یَّغۡشَی النَّاسَ ؕ ہٰذَا عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ١١

ইয়াগশান্না-ছা হা-যা-‘আযা-বুন আলীম।

যা মানুষকে আচ্ছন্ন করবে। এটা এক যন্ত্রণাময় শাস্তি।

তাফসীরঃ

৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.) থেকে এ আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলা কাফেরদেরকে সতর্ক করার জন্য তাদেরকে এক কঠিন দুর্ভিক্ষের কবলে ফেলেছিলেন। প্রচণ্ড খাদ্য সংকটে মানুষের মধ্যে হাহাকার পড়ে গিয়েছিল। ক্ষুধার্ত মানুষ যখন আকাশের দিকে তাকাত তখন তার মনে হত সারা আকাশ ধোঁয়ায় ছেয়ে আছে। এ আয়াতে সেই দুর্ভিক্ষের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, শাস্তি হিসেবে কাফেরদেরকে এমন দুর্ভিক্ষের কবলে ফেলা হবে যে, ক্ষুধার্ত অবস্থায় তারা আকাশে শুধু ধোঁয়া দেখতে পাবে। তখন তারা ওয়াদা করবে, এই দুর্ভিক্ষ কেটে গেলে আমরা অবশ্যই ঈমান আনব। কিন্তু যখন তাদেরকে দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তি দেওয়া হল, তখন সে ওয়াদার কথা ভুলে পুনরায় শিরকে লিপ্ত হল।
১২

رَبَّنَا اکۡشِفۡ عَنَّا الۡعَذَابَ اِنَّا مُؤۡمِنُوۡنَ ١٢

রাব্বানাকশিফ ‘আন্নাল ‘আযা-বা ইন্না-মু’মিনূন।

(তখন তারা বলবে) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের থেকে এই শাস্তি অপসারণ করুন। আমরা অবশ্যই ঈমান আনব।
১৩

اَنّٰی لَہُمُ الذِّکۡرٰی وَقَدۡ جَآءَہُمۡ رَسُوۡلٌ مُّبِیۡنٌ ۙ ١٣

আন্না-লাহুমুযযিকরা-ওয়াকাদ জাআহুম রাছূলুম মুবীন।

কোথায় তারা উপদেশ গ্রহণ করে? অথচ তাদের কাছে এসেছে এমন রাসূল, যে সত্য স্পষ্ট করে দেয়।
১৪

ثُمَّ تَوَلَّوۡا عَنۡہُ وَقَالُوۡا مُعَلَّمٌ مَّجۡنُوۡنٌ ۘ ١٤

ছু ম্মা তাওয়াল্লাও ‘আনহু ওয়া কা-লূমু‘আল্লামুম মাজনূন।

তারপরও তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখল এবং বলল, একে তো শেখানো হয়েছে, সে তো উন্মাদ।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ তারা তো কুরআনের প্রতি ঈমান আনলই না এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতকেও স্বীকার করল না, উল্টো বলতে লাগল, এ কুরআন আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে পাঠানো নয়; বরং তিনি কোন এক মানুষের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে তাই আমাদের শোনাচ্ছেন (নাউযুবিল্লাহ)। সেই সঙ্গে তারা তাকে পাগলও বলত -অনুবাদক।
১৫

اِنَّا کَاشِفُوا الۡعَذَابِ قَلِیۡلًا اِنَّکُمۡ عَآئِدُوۡنَ ۘ ١٥

ইন্না-কা-শিফুল ‘আযা-বি কালীলান ইন্নাকুম ‘আইদূন।

আমি কিছু কালের জন্য শাস্তি অপসারণ করছি। এটা নিশ্চিত যে, তোমরা আবার এ অবস্থায়ই ফিরে আসবে।
১৬

یَوۡمَ نَبۡطِشُ الۡبَطۡشَۃَ الۡکُبۡرٰی ۚ اِنَّا مُنۡتَقِمُوۡنَ ١٦

ইয়াওমা নাবতিশুল বাতশাতাল কুবরা- ইন্না-মুনতাকিমূন।

যে দিন আমি ধরব সর্ববৃহৎ ধরায়, সে দিন আমি অবশ্যই শাস্তি দেব।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ এখন তো এ শাস্তি তাদের থেকে দূর করা হবে, কিন্তু কিয়ামতে যখন তাদেরকে ধরা হবে, তখন তাদেরকে পুরোপুরি শাস্তিই ভোগ করতে হবে।
১৭

وَلَقَدۡ فَتَنَّا قَبۡلَہُمۡ قَوۡمَ فِرۡعَوۡنَ وَجَآءَہُمۡ رَسُوۡلٌ کَرِیۡمٌ ۙ ١٧

ওয়া লাকাদ ফাতান্না-কাবলাহুম কাওমা ফির‘আওনা ওয়া জাআহুম রাছূলুন কারীম।

তাদের আগে ফির‘আউনের সম্প্রদায়কে আমি পরীক্ষা করেছিলাম এবং তাদের কাছে এসেছিল এক মর্যাদাবান রাসূল।
১৮

اَنۡ اَدُّوۡۤا اِلَیَّ عِبَادَ اللّٰہِ ؕ  اِنِّیۡ لَکُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِیۡنٌ ۙ ١٨

আন আদ্দূইলাইইয়া ‘ইবা-দাল্লা-হি ইন্নী লাকুম রাছূলুন আমীন।

(সে বলেছিল) আল্লাহর বান্দাদেরকে আমার কাছে সমর্পণ কর। আমি তোমাদের কাছে এক বিশ্বস্ত রাসূল হয়ে এসেছি।

তাফসীরঃ

৬. ইশারা বনী ইসরাঈলের প্রতি, ফির‘আউন যাদেরকে দাস বানিয়ে রেখেছিল। বিস্তারিত দেখুন সূরা তোয়াহা (২০ : ৪৭)।
১৯

وَّاَنۡ لَّا تَعۡلُوۡا عَلَی اللّٰہِ ۚ  اِنِّیۡۤ اٰتِیۡکُمۡ بِسُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ ۚ ١٩

ওয়া আল্লা-তা‘লূ‘আল্লাল্লা-হি ইন্নীআ-তীকুম বিছুলতা-নিম মুবীন।

আরও বলল, আল্লাহর বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করো না। আমি তোমাদের সামনে এক স্পষ্ট প্রমাণ পেশ করছি।
২০

وَاِنِّیۡ عُذۡتُ بِرَبِّیۡ وَرَبِّکُمۡ اَنۡ تَرۡجُمُوۡنِ ۫ ٢۰

ওয়া ইন্নী ‘উযতুবিরাববী ওয়া রাব্বিকুম আন তার জুমূন।

তোমরা যে আমাকে পাথর মেরে হত্যা করবে, তার থেকে আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি আমার ও তোমাদের প্রতিপালকের।

তাফসীরঃ

৭. ফির‘আউন হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে তাঁর দাওয়াতের জবাবে হত্যা করার হুমকি দিয়েছিল। এটা তারই উত্তর।
২১

وَاِنۡ لَّمۡ تُؤۡمِنُوۡا لِیۡ فَاعۡتَزِلُوۡنِ ٢١

ওয়া ইল্লাম তু’মিনূলী ফা‘তাঝিলূন।

তোমরা যদি আমার প্রতি ঈমান না আন, তবে তোমরা আমার থেকে দূরে থাক।

তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ তোমরা যদি আমার উপর ঈমান না আন, তবে অন্ততপক্ষে আমাকে ছেড়ে দাও, যাতে আমি আল্লাহর বান্দাদের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছাতে পারি এবং যাদের ঈমান আনার যোগ্যতা আছে তারা ঈমানের দাওয়াত পেতে পারে। সুতরাং আমাকে কষ্ট দেওয়া ও আমার কাজে বাধা সৃষ্টি করা হতে বিরত থাক।
২২

فَدَعَا رَبَّہٗۤ اَنَّ ہٰۤؤُلَآءِ قَوۡمٌ مُّجۡرِمُوۡنَ ؓ ٢٢

ফাদা‘আ-রাব্বাহূআন্না হাউলাই কাওমুম মুজরিমূন।

তারপর সে নিজ প্রতিপালককে ডাক দিয়ে বলল, এরা তো এক অপরাধী সম্প্রদায়।
২৩

فَاَسۡرِ بِعِبَادِیۡ لَیۡلًا اِنَّکُمۡ مُّتَّبَعُوۡنَ ۙ ٢٣

ফাআছরি বি‘ইবা-দী লাইলান ইন্নাকুম মুত্তাবা‘ঊন।

(আল্লাহ তাআলা বললেন,) তা হলে তুমি আমার বান্দাদের নিয়ে রাতের ভেতর রওয়ানা হয়ে যাও। অবশ্যই তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।
২৪

وَاتۡرُکِ الۡبَحۡرَ رَہۡوًا ؕ اِنَّہُمۡ جُنۡدٌ مُّغۡرَقُوۡنَ ٢٤

ওয়াতরুকিল বাহরা রাহওয়া- ইন্নাহুম জনদুম মুগরাকূন।

তুমি সাগরকে স্থির থাকতে দাও। নিশ্চয়ই তারা এমন এক বাহিনী যা নিমজ্জিত হবে।

তাফসীরঃ

৯. অর্থাৎ পথে তোমার সামনে যখন সাগর পড়বে, তখন আল্লাহ তাআলা সাগরকে থামিয়ে দেবেন এবং তোমার জন্য তার মধ্য দিয়ে পথ করে দেবেন। সাগর পার হয়ে যাওয়ার পর তোমার আর এই চিন্তা করার দরকার নেই যে, সাগরের সেই পথ তো ফির‘আউনের বাহিনীকেও উপকার দেবে এবং তা দিয়ে পার হয়ে তারা যথারীতি আমাদের পশ্চাদ্ধাবন করতে থাকবে। বরং তুমি সাগরকে সেভাবেই স্থির থাকতে দাও। আল্লাহ তাআলা নিজেই তাদেরকে ডোবানোর জন্য সাগরকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেবেন। ফলে তারা সব ধ্বংস হবে। এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সূরা ইউনুস (১০ : ৯০-৯২) ও সূরা শুআরায় (২৬ : ৫৬-৬৭) গত হয়েছে।
২৫

کَمۡ تَرَکُوۡا مِنۡ جَنّٰتٍ وَّعُیُوۡنٍ ۙ ٢٥

কাম তারাকূমিন জান্না-তিওঁ ওয়া ‘উইয়ূন।

তারা পিছনে রেখে গিয়েছিল কত বাগান ও প্রস্রবণ।
২৬

وَّزُرُوۡعٍ وَّمَقَامٍ کَرِیۡمٍ ۙ ٢٦

ওয়া ঝুরূ‘ইওঁ ওয়া মাকা-মিন কারীম।

কত শস্যক্ষেত্র ও সুরৌম্য বসতবাড়ি।
২৭

وَّنَعۡمَۃٍ کَانُوۡا فِیۡہَا فٰکِہِیۡنَ ۙ ٢٧

ওয়া না‘মাতিন কা-নূফীহা-ফা-কিহীন।

এবং কত বিলাস সামগ্রী, যার ভেতর তারা আনন্দ-ফুর্তিতে ছিল।
২৮

کَذٰلِکَ ۟ وَاَوۡرَثۡنٰہَا قَوۡمًا اٰخَرِیۡنَ ٢٨

কাযা-লিকা ওয়া আওরাছনা-হা-কাওমান আ-খারীন।

ওই রকমই হল তাদের পরিণাম। আর আমি এসব জিনিসের ওয়ারিশ বানিয়ে দিলাম অপর এক সম্প্রদায়কে। ১০

তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ বনী ইসরাঈলকে। এক বর্ণনা অনুযায়ী ফির‘আউন সসৈন্যে নিমজ্জিত হওয়ার পর সমগ্র মিসরে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় আর এভাবে আল্লাহ তাআলা নিপীড়িত সম্প্রদায়টিকে তাদের উৎপীড়ক জাতির স্থানে অধিষ্ঠিত করে দেন (দেখুন সূরা আরাফ ৭ : ১৩৭, শুআরা ২৬ : ৫৯)। -অনুবাদক
২৯

فَمَا بَکَتۡ عَلَیۡہِمُ السَّمَآءُ وَالۡاَرۡضُ وَمَا کَانُوۡا مُنۡظَرِیۡنَ ٪ ٢٩

ফামা-বাকাত ‘আলাইহিমুছ ছামাউ ওয়াল আরদুওয়ামা-কা-নূমুনজারীন।

অতঃপর তাদের জন্য না আসমান কাঁদল, না যমীন ১১ এবং তাদেরকে কিছুমাত্র অবকাশও দেওয়া হল না।

তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ তাদের জুলুম-অত্যাচারে গণমানুষ এমনই অতিষ্ঠ ছিল যে, তাদের নিদারুণ উচ্ছেদ কারও অন্তরে করুণা সঞ্চার করল না, তাদের প্রতি কেউ কণামাত্র বিয়োগ বেদনা অনুভব করল না। -অনুবাদক
৩০

وَلَقَدۡ نَجَّیۡنَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ مِنَ الۡعَذَابِ الۡمُہِیۡنِ ۙ ٣۰

ওয়ালাকাদ নাজ্জাইনা-বানীইছরাঈলা মিনাল ‘আযা-বিল মুহীন।

আর বনী ইসরাঈলকে উদ্ধার করলাম লাঞ্ছনাকর শাস্তি হতে।
৩১

مِنۡ فِرۡعَوۡنَ ؕ اِنَّہٗ کَانَ عَالِیًا مِّنَ الۡمُسۡرِفِیۡنَ ٣١

মিন ফির‘আওনা ইন্নাহূকা-না ‘আ-লিয়াম্মিনাল মুছরিফীন।

অর্থাৎ ফির‘আউনের থেকে। প্রকৃতপক্ষে সে ছিল সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত এক উদ্ধত ব্যক্তি।
৩২

وَلَقَدِ اخۡتَرۡنٰہُمۡ عَلٰی عِلۡمٍ عَلَی الۡعٰلَمِیۡنَ ۚ ٣٢

ওয়া লাকাদিখতারনা-হুম ‘আলা-‘ইলমিন ‘আলাল ‘আ-লামীন।

আমি তাদেরকে জেনেশুনেই বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।
৩৩

وَاٰتَیۡنٰہُمۡ مِّنَ الۡاٰیٰتِ مَا فِیۡہِ بَلٰٓـؤٌا مُّبِیۡنٌ ٣٣

ওয়া আ-তাইনা-হুম মিনাল আ-য়া-তি মা-ফীহি বালাউম মুবীন।

এবং তাদেরকে দিয়েছিলাম এমন নিদর্শন, যার ভেতর ছিল সুস্পষ্ট অনুগ্রহ। ১২

তাফসীরঃ

১২. এর দ্বারা সেই সব নি‘আমতের কথা বোঝানো হয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে বনী ইসরাঈলকে দান করেছিলেন, যেমন মান্ন ও সালওয়া অবতীর্ণ করা, পাথর থেকে পানির ধারা চালু করা ইত্যাদি। বিস্তারিত দ্রষ্টব্য সূরা বাকারা (২ : ৪৭-৫৮)।
৩৪

اِنَّ ہٰۤؤُلَآءِ لَیَقُوۡلُوۡنَ ۙ ٣٤

ইন্না হাউলাই লাইয়াকূলূন।

নিশ্চয়ই তারা বলে থাকে
৩৫

اِنۡ ہِیَ اِلَّا مَوۡتَتُنَا الۡاُوۡلٰی وَمَا نَحۡنُ بِمُنۡشَرِیۡنَ ٣٥

ইন হিয়া ইল্লা-মাওতাতুনাল ঊলা-ওয়ামা-নাহনুবিমুনশারীন।

আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই নেই। এবং আমরা পুনরায় জীবিত হওয়ার নই।
৩৬

فَاۡتُوۡا بِاٰبَآئِنَاۤ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٣٦

ফা’তূবিআ-বাইনাইন কনতুম সা-দিকীন।

তোমরা সত্যবাদী হলে আমাদের বাপ-দাদাদেরকে তুলে আন।
৩৭

اَہُمۡ خَیۡرٌ اَمۡ قَوۡمُ تُبَّعٍ ۙ وَّالَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ اَہۡلَکۡنٰہُمۡ ۫ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا مُجۡرِمِیۡنَ ٣٧

আহুম খাইরুন আম কাওমুতুব্বা‘ইওঁ ওয়াল্লাযীনা মিন কাবলিহিম আহলাকনা-হুম ইন্নাহুম কা-নূমুজরিমীন।

তারা শ্রেষ্ঠ, না তুব্বা’র সম্প্রদায় ১৩ ও তাদের পূর্ববর্তীগণ? আমি তাদের সকলকে ধ্বংস করে দিয়েছি। (কেননা) তারা অবশ্যই অপরাধী ছিল।

তাফসীরঃ

১৩. ‘তুব্বা’ ছিল ইয়ামানের রাজাদের উপাধি। এস্থলে কোন তুব্বা’কে বোঝানো উদ্দেশ্য কুরআন মাজীদ তা স্পষ্ট করেনি। হাফেজ ইবনে কাছীর (রহ.) তাঁর তাফসীর গ্রন্থে বলেন, এস্থলে যে তুব্বা’কে বোঝানো উদ্দেশ্য তার নাম ছিল আসআদ আবু কুরাইব। তাঁর রাজত্বকাল ছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবের সাতশ’ বছর আগে। তিনি হযরত মূসা আলাইহিস সালামের দীনের উপর ঈমান এনেছিলেন। তখন সেটাই ছিল সত্য দীন। কিন্তু তাঁর সম্প্রদায় পরবর্তীকালে পৌত্তলিকতা গ্রহণ করেছিল, যার পরিণামে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হয়।
৩৮

وَمَا خَلَقۡنَا السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَا لٰعِبِیۡنَ ٣٨

ওয়ামা-খালাকনাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ামা বাইনাহুমা-লা-‘ইবীন।

আমি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও তার অন্তর্গত বস্তু নিচয় ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।
৩৯

مَا خَلَقۡنٰہُمَاۤ اِلَّا بِالۡحَقِّ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٣٩

মা-খালাকনা-হুমাইল্লা বিলহাক্কিওয়ালা-কিন্না আকছারাহুম লা-ইয়া‘লামূন।

আমি তা সৃষ্টি করেছি যথার্থ উদ্দেশ্যে। ১৪ কিন্তু তাদের অধিকাংশেই বোঝে না।

তাফসীরঃ

১৪. আখেরাতকে অস্বীকার করা হলে তার অর্থ দাঁড়ায়, এমন কোনদিন আসবে না, যে দিন সৎকর্মশীলদেরকে তাদের সৎকর্মের পুরস্কার এবং অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধের শাস্তি দেওয়া হবে আর তার ফলাফল হয় এই যে, আল্লাহ তাআলা বিশ্ব-জগতকে এমনিই তামাশা স্বরূপ সৃষ্টি করেছেন (নাউযুবিল্লাহ)। [এ আয়াতে তার উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, না, আমি বিশ্ব-জগতকে তামাশা করার জন্য সৃষ্টি করিনি; বরং এর যথাযথ এক উদ্দেশ্য আছে। তা হল, মানুষকে পরীক্ষা করা, সে এখানে স্বেচ্ছায় ভালো কাজ করে, না মন্দ কাজ। তারপর একদিন আসবে, যখন তাকে তার ভালো-মন্দ কাজ অনুসারে ফলাফল দেওয়া হবে। ভালো লোক যাবে জান্নাতে এবং মন্দ লোক জাহান্নামে -অনুবাদক]।
৪০

اِنَّ یَوۡمَ الۡفَصۡلِ مِیۡقَاتُہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ۙ ٤۰

ইন্না ইয়াওমাল ফাসলি মীকা-তুহুম আজমা‘ঈন।

বস্তুত মীমাংসা দিবসই তাদের সকলের জন্য নির্ধারিত কাল।
৪১

یَوۡمَ لَا یُغۡنِیۡ مَوۡلًی عَنۡ مَّوۡلًی شَیۡئًا وَّلَا ہُمۡ یُنۡصَرُوۡنَ ۙ ٤١

ইয়াওমা লা-ইউগনী মাওলান ‘আম মাওলান শাইআওঁ ওয়ালা-হুম ইউনসারূন।

যে দিন এক মিত্র অপর মিত্রের কিছুমাত্র কাজে আসবে না এবং তাদের কারও কোনও সাহায্য করা হবে না,
৪২

اِلَّا مَنۡ رَّحِمَ اللّٰہُ ؕ  اِنَّہٗ ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪ ٤٢

ইল্লা-মার রাহিমাল্লা-হু ইন্নাহূহুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।

আল্লাহ যার প্রতি রহম করেন, সে ব্যতীত। নিশ্চয়ই তিনি পরিপূর্ণ ক্ষমতার মালিক, পরম দয়ালু।
৪৩

اِنَّ شَجَرَتَ الزَّقُّوۡمِ ۙ ٤٣

ইন্না শাজারাতাঝঝাক্কূম।

নিশ্চয়ই যাক্কুম গাছ হবে
৪৪

طَعَامُ الۡاَثِیۡمِ ۖۛۚ ٤٤

তা‘আ-মুল আছীম।

গুনাহগারদের খাবার
৪৫

کَالۡمُہۡلِ ۚۛ  یَغۡلِیۡ فِی الۡبُطُوۡنِ ۙ ٤٥

কালমুহলি ইয়াগলী ফিলবুতূন।

তেলের তলানি-সদৃশ। তা তাদের পেটে উথলাতে থাকবে
৪৬

کَغَلۡیِ الۡحَمِیۡمِ ٤٦

কাগালইল হামীম।

গরম পানির উথলানোর মত।
৪৭

خُذُوۡہُ فَاعۡتِلُوۡہُ اِلٰی سَوَآءِ الۡجَحِیۡمِ ٭ۖ ٤٧

খুযূহু ফা‘তিলূহু ইলা-ছাওয়াইল জাহীম।

(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে,) তাকে ধর এবং হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে জাহান্নামের মাঝখানে নিয়ে যাও।
৪৮

ثُمَّ صُبُّوۡا فَوۡقَ رَاۡسِہٖ مِنۡ عَذَابِ الۡحَمِیۡمِ ؕ ٤٨

ছু ম্মা সুববূফাওকা রা’ছিহী মিন ‘আযা-বিল হামীম।

তারপর তার মাথার উপর উত্তপ্ত পানির শাস্তি ঢেলে দাও।
৪৯

ذُقۡ ۚۙ اِنَّکَ اَنۡتَ الۡعَزِیۡزُ الۡکَرِیۡمُ ٤٩

যুক ইন্নাকা আনতাল ‘আঝীঝুল কারীম।

(বলা হবে,) স্বাদ গ্রহণ কর। তুই-ই তো সেই মহা ক্ষমতাবান, মহা সম্মানী ব্যক্তি। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. অর্থাৎ তুই দুনিয়ায় নিজেকে বড় ক্ষমতাশালী ও মর্যাদাবান লোক মনে করতি আর সেজন্য তোর অহংকারের সীমা ছিল না। আজ দেখে নে, অহমিকা ও বড়াইয়ের পরিণাম কী এবং সত্য অস্বীকার করার শাস্তি কেমন!
৫০

اِنَّ ہٰذَا مَا کُنۡتُمۡ بِہٖ تَمۡتَرُوۡنَ ٥۰

ইন্না হা-যা-মা-কুনতুম বিহী তামতারূন।

এটাই সেই জিনিস, যে সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ করতে।
৫১

اِنَّ الۡمُتَّقِیۡنَ فِیۡ مَقَامٍ اَمِیۡنٍ ۙ ٥١

ইন্নাল মুত্তাকীনা ফী মাকা-মিন আমীন।

(অপর দিকে) মুত্তাকীগণ অবশ্যই নিরাপদ স্থানে থাকবে
৫২

فِیۡ جَنّٰتٍ وَّعُیُوۡنٍ ۚۙ ٥٢

ফী জান্না-তিওঁ ওয়া ‘উইঊন।

উদ্যানরাজিতে ও প্রস্রবণে!
৫৩

یَّلۡبَسُوۡنَ مِنۡ سُنۡدُسٍ وَّاِسۡتَبۡرَقٍ مُّتَقٰبِلِیۡنَ ۚۙ ٥٣

ইয়ালবাছূনা মিন ছুনদুছিওঁ ওয়া ইছতাবরাকিম মুতাকা-বিলীন।

তারা ‘সুন্দুস’ ও ‘ইসতাবরাক’ ১৬-এর পোশাক পরিহিত অবস্থায় সামনা সামনি বসা থাকবে।

তাফসীরঃ

১৬. ‘সুন্দুস’ ও ‘ইসতিব্রাক’ দুই ধরনের রেশমি কাপড়। সুনদুস হয় মিহি আর ইস্তাব্রাক মোটা। এটা তো দুনিয়ার হিসেবে, কিন্তু জান্নাতের সুনদুস ও ইস্তাব্রাক যে আসলে কেমন হবে তা আল্লাহ তাআলাই জানেন।
৫৪

کَذٰلِکَ ۟  وَزَوَّجۡنٰہُمۡ بِحُوۡرٍ عِیۡنٍ ؕ ٥٤

কাযা-লিকা ওয়া ঝাওওয়াজনা-হুম বিহূরিন ‘ঈন।

তাদের সাথে এ রকমই ব্যবহার করা হবে। আমি ডাগর-ডাগর চোখের হুরদের সাথে তাদের বিবাহ দেব।
৫৫

یَدۡعُوۡنَ فِیۡہَا بِکُلِّ فَاکِہَۃٍ اٰمِنِیۡنَ ۙ ٥٥

ইয়াদ‘ঊনা ফীহা-বিকুল্লি ফা-কিহাতিন আ-মিনীন।

সেখানে তারা অত্যন্ত নিশ্চিন্তে সব রকম ফলের ফরমায়েশ করবে।
৫৬

لَا یَذُوۡقُوۡنَ فِیۡہَا الۡمَوۡتَ اِلَّا الۡمَوۡتَۃَ الۡاُوۡلٰی ۚ  وَوَقٰہُمۡ عَذَابَ الۡجَحِیۡمِ ۙ ٥٦

লা-ইয়াযূকূনা ফীহাল মাওতা ইল্লাল মাওতাতাল ঊলা- ওয়া ওয়াকা-হুম ‘আযা-বাল জাহীম।

(দুনিয়ায়) তাদের যে মৃত্যু প্রথমে এসেছিল, তা ছাড়া সেখানে (অর্থাৎ জান্নাতে) তাদেরকে কোন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে না এবং আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করবেন,
৫৭

فَضۡلًا مِّنۡ رَّبِّکَ ؕ ذٰلِکَ ہُوَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ٥٧

ফাদলাম মির রাব্বিকা যা-লিকা হুওয়াল ফাওঝুল ‘আজীম।

তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে অনুগ্রহ স্বরূপ। (মানুষের জন্য) এটাই মহা সাফল্য।
৫৮

فَاِنَّمَا یَسَّرۡنٰہُ بِلِسَانِکَ لَعَلَّہُمۡ یَتَذَکَّرُوۡنَ ٥٨

ফাইন্নামা-ইয়াছছারনা-হু বিলিছা-নিকা লা‘আল্লাহুম ইয়াতাযাক্কারূন।

(হে রাসূল!) আমি এ কুরআনকে তোমার মুখে সহজ করে দিয়েছি, যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করে।
৫৯

فَارۡتَقِبۡ اِنَّہُمۡ مُّرۡتَقِبُوۡنَ ٪ ٥٩

ফারতাকিব ইন্নাহুম মুরতাকিবূন।

সুতরাং তুমি অপেক্ষা কর, তারাও অপেক্ষায় আছে। ১৭

তাফসীরঃ

১৭. তারা অর্থাৎ কাফেরগণ তো অপেক্ষা করছে এ হিসেবে যে, তারা কিয়ামতকে স্বীকারই করে না। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে তাতে ঈমান ও বিশ্বাসের কারণে। উভয় পক্ষের অপেক্ষার পর সত্যিই যখন কিয়ামত এসে যাবে, তখন প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ হয়ে যাবে এবং তখন কাফেরদেরকে তাদের অবিশ্বাসের পরিণামে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
সূরা আদ-দুখান | মুসলিম বাংলা