সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল আহ্‌ক্বাফ (الأحقاف) | বালুর পাহাড়

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৩৫

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

حٰمٓ ۚ ١

হা-মীম।

হা-মীম।

تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ مِنَ اللّٰہِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَکِیۡمِ ٢

তানঝীলুল কিতা-বি মিনাল্লা-হিল ‘আঝীঝিল হাকীম।

এ কিতাব নাযিল করা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ হতে, যিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

مَا خَلَقۡنَا السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَاۤ اِلَّا بِالۡحَقِّ وَاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا عَمَّاۤ اُنۡذِرُوۡا مُعۡرِضُوۡنَ ٣

মা-খালাকনাছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ামা-বাইনাহুমাইল্লা-বিলহাক্কি ওয়াআজালিম মুছাম্মাওঁ ওয়াল্লাযীনা কাফারূ‘আম্মাউনযিরূমু‘রিদূন।

আমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দু’য়ের মাঝের বস্তুসমূহ সৃষ্টি করিনি যথাযথ উদ্দেশ্য ও সুনির্দিষ্ট মেয়াদ ছাড়া । যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারা তাদেরকে যে বিষয় সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে, তা থেকে বিমুখ হয়ে আছে।

তাফসীরঃ

১. অর্থাৎ মহাবিশ্বকে আমি অনর্থক সৃষ্টি করিনি। এর সৃষ্টির পেছনে আমার যথার্থ উদ্দেশ্য আছে। সে উদ্দেশ্য হল একে আমার একত্ব ও আমার অপার জ্ঞান-কুদরতের নিদর্শনরূপে পেশ করা। আর জগতকে আমি অনন্তকালের জন্য সৃষ্টি করিনি। এর জন্য একটি মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। সে মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে এ জগত ধ্বংস হয়ে যাবে। -অনুবাদক

قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ مَّا تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اَرُوۡنِیۡ مَاذَا خَلَقُوۡا مِنَ الۡاَرۡضِ اَمۡ لَہُمۡ شِرۡکٌ فِی السَّمٰوٰتِ ؕ اِیۡتُوۡنِیۡ بِکِتٰبٍ مِّنۡ قَبۡلِ ہٰذَاۤ اَوۡ اَثٰرَۃٍ مِّنۡ عِلۡمٍ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٤

কুল আরাআইতুম মা-তাদ‘ঊনা মিন দূ নিল্লা-হি আরূনী মা-যা-খালাকূমিনাল আরদিআম লাহুম শিরকুন ফিছ ছামা-ওয়া-তি ঈতূনী বিকিতা-বিম মিন কাবলি হা-যাআও আছারাতিম মিন ‘ইলমিন ইন কুনতুম সা-দিকীন।

তুমি তাদেরকে বল, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ডাক, তাদের নিয়ে কি কখনও চিন্তা করেছ? আমাকে একটু দেখাও তো তারা পৃথিবীর কোন জিনিসটা সৃষ্টি করেছে? অথবা আকাশ- মণ্ডলীর (সৃজনের) মধ্যে তাদের কি কোন অংশ আছে? তোমরা এর পূর্বের কোন কিতাব বা জ্ঞানভিত্তিক কোন বর্ণনা থাকলে তা আমার সামনে নিয়ে এসো যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

তাফসীরঃ

২. এ আয়াতসমূহে বলা হয়েছে, নিজেদের শিরকী আকীদা-বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করার জন্য মুশরিকদের কাছে না কোন যুক্তিসিদ্ধ প্রমাণ আছে, না আছে বর্ণনা নির্ভর দলীল। তারা যে মাবুদদের পূজা করে, তারা যে আল্লাহ তাআলার প্রভুত্বে কোনও রকমের অংশীদারিত্ব রাখে এর সপক্ষে তাদের কোনও যুক্তিই নেই। বর্ণনা নির্ভর দলীল দু’রকম হতে পারে। (ক) আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কোন কিতাব থাকা, যাতে তাদের উপাস্যদেরকে আল্লাহ তাআলার প্রভুত্বের অংশীদার সাব্যস্ত করা হয়েছে। মুশরিকদেরকে বলা হচ্ছে, এমন কোন কিতাব থাকলে তা এনে দেখাও। (খ) বর্ণনা নির্ভর দলীলের দ্বিতীয় প্রকার হল, কোন নবীর পক্ষ হতে কোন উক্তি থাকা এবং সে উক্তির সপক্ষে জ্ঞানভিত্তিক কোন সনদ থাকা যে, বাস্তবিকই সেটা নবীর কথা। ‘জ্ঞানভিত্তিক কোন বর্ণনা’ বলে এই দ্বিতীয় প্রকার দলীলের প্রতিই ইশারা করা হয়েছে। মোদ্দাকথা নিজেদের আকীদা-বিশ্বাসের সপক্ষে মুশরিকদের কাছে না আছে কোন আসমানী কিতাব আর না আছে কোন নবীর উক্তি, যা নির্ভরযোগ্যভাবে তাঁর উক্তি হিসেবে স্বীকৃত।

وَمَنۡ اَضَلُّ مِمَّنۡ یَّدۡعُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَنۡ لَّا یَسۡتَجِیۡبُ لَہٗۤ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ وَہُمۡ عَنۡ دُعَآئِہِمۡ غٰفِلُوۡنَ ٥

ওয়ামান আদাল্লুমিম্মাইঁ ইয়াদ‘ঊ মিন দূনিল্লা-হি মাল্লা-ইয়াছতাজীবুলাহূইলা-ইয়াওমিল কিয়া-মাতি ওয়াহুম ‘আন দু‘আইহিম গা-ফিলূন।

তার চেয়ে বড় পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে আল্লাহকে ছেড়ে এমন কাউকে (অর্থাৎ মনগড়া দেবতাকে) ডাকে, যে কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিতে সক্ষম নয় এবং তাদের ডাক সম্পর্কে তাদের খবর পর্যন্ত নেই।

وَاِذَا حُشِرَ النَّاسُ کَانُوۡا لَہُمۡ اَعۡدَآءً وَّکَانُوۡا بِعِبَادَتِہِمۡ کٰفِرِیۡنَ ٦

ওয়া ইযা-হুশিরান্না-ছুকা-নূলাহুম আ‘দাআওঁ ওয়া কা-নূবি‘ইবা-দাতিহিম কা-ফিরীন।

এবং মানুষকে (হাশরের মাঠে) যখন একত্র করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং তারা তাদের ইবাদতকেই অস্বীকার করবে।

তাফসীরঃ

৩. অর্থাৎ মুশরিকরা যাদের পূজা করে, আখেরাতে তারা সকলে ঘোষণা করবে, মুশরিকদের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই এবং তারা তাদের ইবাদত করত না। সূরা কাসাসেও (২৮ : ৬৩) এ কথা বর্ণিত হয়েছে। এর বিশদ এই যে, মুশরিক কয়েক রকমের হয়ে থাকে। (এক) এক শ্রেণীর মুশরিক কোন কোন ব্যক্তিকে মাবুদ বানিয়ে তাদের পূজা করে থাকে। অনেক সময় সেই সকল ব্যক্তির খবরও থাকে না যে, তাদের পূজা করা হচ্ছে। তাই তারা তাদের পূজা করার কথা অস্বীকার করবে। আর যাদের খবর আছে, তারা বলবে, প্রকৃতপক্ষে তারা আমাদের নয়; বরং নিজেদের খেয়াল-খুশীরই পূজা করত। (দুই) কতক মুশরিক ফেরেশতাদের পূজা করত। তাদের সম্পর্কে সূরা সাবায় (৩৪ : ৪০, ৪১) বলা হয়েছে যে, যখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি তোমাদের ইবাদত করত? তখন তারা বলবে, তারা তো জিন ও শয়তানদের ইবাদত করত। কেননা তারাই তাদেরকে সে কাজে লিপ্ত করেছিল। (তিন) তৃতীয় শ্রেণীর মুশরিক তারা, যারা মাটি-পাথরের প্রতিমার পূজা করে। কোন কোন বর্ণনায় আছে, আল্লাহ তাআলা সেই মুশরিকদেরকে দেখানোর জন্য প্রতিমাদেরকে বাকশক্তি দান করবেন। দুনিয়ায় তারা যেহেতু নিষ্প্রাণ বস্তু, তাই বাস্তবিকই তাদের খবর থাকে না যে, তাদের পূজা করা হয়। তাই তারাও বলবে, তারা আমাদের ইবাদত করত না। এ বর্ণনা যদি প্রমাণিত না হয়, তবে তাদের একথা বলার অর্থ তারা তাদের অবস্থা দ্বারা বোঝাবে যে, আমরা তো নিষ্প্রাণ পাথর। কাজেই তারা যে আমাদের পূজা করত তার খবর আমাদের কি করে থাকবে (রূহুল মাআনী)।

وَاِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ قَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِلۡحَقِّ لَمَّا جَآءَہُمۡ ۙ  ہٰذَا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ؕ ٧

ওয়া ইযা-তুতলা ‘আলাইহিম আ-য়া-তুনা-বাইয়িনা-তিন কা-লাল্লাযীনা কাফারূ লিলহাক্কিলাম্মা-জাআহুম হা-যা-ছিহরুম মুবীন।

যখন তাদের সামনে আমার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে পড়া হয়, তখন কাফেরগণ তাদের কাছে সত্য পৌঁছে যাওয়ার পরও বলে, এটা তো পরিষ্কার যাদু।

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰىہُ ؕ قُلۡ اِنِ افۡتَرَیۡتُہٗ فَلَا تَمۡلِکُوۡنَ لِیۡ مِنَ اللّٰہِ شَیۡئًا ؕ ہُوَ اَعۡلَمُ بِمَا تُفِیۡضُوۡنَ فِیۡہِ ؕ کَفٰی بِہٖ شَہِیۡدًۢا بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَکُمۡ ؕ وَہُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ ٨

আম ইয়াকূলূনাফতারা-হূ কুল ইনিফতারাইতুহূফালা-তামলিকূনা লী মিনাল্লা-হি শাইআন হুওয়া আ‘লামুবিমা-তুফীদূ না ফীহি কাফা-বিহী শাহীদাম বাইনী ওয়া বাইনাকুম ওয়া হুওয়াল গাফূরুর রাহীম।

তাদের কথা কি এই যে, নবী তা নিজের পক্ষ থেকে রচনা করেছে? বলে দাও, আমি যদি এটা নিজের পক্ষ হতে রচনা করে থাকি, তবে আল্লাহর ধরা হতে তোমরা আমাকে কিছুমাত্র রক্ষা করতে পারবে না। তোমরা যেসব কথায় লিপ্ত আছ, তা তিনি ভালোভাবে জানেন। আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হওয়ার জন্য তিনিই যথেষ্ট এবং তিনিই অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

৪. আল্লাহ তাআলার রীতি হল, কোন ব্যক্তি যদি নবুওয়াতের মিথ্যা দাবি করে এবং নিজের পক্ষ থেকে কোন কথা রচনা করে বলে, এটা আল্লাহর বাণী, তবে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেই তাকে লাঞ্ছিত করেন। তাই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আদেশ করা হয়েছে, আপনি বলুন, আমি যদি এ বাণী নিজে রচনা করে থাকি, তবে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেই আমাকে শাস্তি দান করবেন আর তাঁর শাস্তি হতে আমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।

قُلۡ مَا کُنۡتُ بِدۡعًا مِّنَ الرُّسُلِ وَمَاۤ اَدۡرِیۡ مَا یُفۡعَلُ بِیۡ وَلَا بِکُمۡ ؕ اِنۡ اَتَّبِعُ اِلَّا مَا یُوۡحٰۤی اِلَیَّ وَمَاۤ اَنَا اِلَّا نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ٩

কুল মা-কুনতুবিদ‘আম মিনার রুছুলি ওয়ামাআদরী মা-ইউফ‘আলুবী ওয়ালা-বিকুম ইন আত্তাবি‘উ ইল্লা-মা-ইউহাইলাইইয়া ওয়ামাআনা ইল্লা-নাযীরুম মুবীন।

বল, আমি রাসূলগণের মধ্যে অভিনব নই। আমি জানি না আমার সঙ্গে কী আচরণ করা হবে এবং এটাও (জানি) না যে, তোমাদের সঙ্গে কী আচরণ করা হবে। আমি তো কেবল আমার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হয়, তারই অনুসরণ করি। আর আমি তো কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।

তাফসীরঃ

৫. এ বাক্যটিকে পরের বাক্যের সাথে মিলিয়ে পড়া চাই। এতে বলা হচ্ছে, আমি এমন অভিনব রাসূল নই যে, আমার আগে কোন রাসূল আসেনি এবং আমি এ রকম অস্বাভাবিক দাবি করছি না যে, আমি আলেমুল গায়েব, অদৃশ্যের সবকিছু আমি জানি। আমি যা-কিছু পেয়েছি কেবল ওহীর মাধ্যমেই পেয়েছি। এমনকি ওহী ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে আমার এটাও জানা সম্ভব নয় যে, দুনিয়া ও আখেরাতে আমার বা তোমাদের সাথে কি রকম ব্যবহার হবে।
১০

قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ کَانَ مِنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ وَکَفَرۡتُمۡ بِہٖ وَشَہِدَ شَاہِدٌ مِّنۡۢ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ عَلٰی مِثۡلِہٖ فَاٰمَنَ وَاسۡتَکۡبَرۡتُمۡ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ٪ ١۰

কুল আরাআইতুম ইন কা-না মিন ‘ইনদিল্লা-হি ওয়া কাফারতুম বিহী ওয়া শাহিদা শা-হিদুম মিম বানীইছরাঈলা ‘আলা-মিছলিহী ফাআ-মানা ওয়াছতাকবারতুম ইন্নাল্লা-হা লাইয়াহদিল কাওমাজ্জা-লিমীন।

বল, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি এটা (অর্থাৎ কুরআন) আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় আর তোমরা তাকে অস্বীকার কর। অন্যদিকে বনী ইসরাঈলের কোন সাক্ষী এ রকম বিষয়ের পক্ষে সাক্ষ্য দেয় এবং সে তার প্রতি ঈমানও আনে আর তোমরা নিজেদের অহমিকায় লিপ্ত থাক (তবে এটা কি মারাত্মক অবিচার হবে না?)। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়াতপ্রাপ্ত করেন না।

তাফসীরঃ

৬. ভবিষ্যদ্বাণী করা হচ্ছে, ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের মধ্যে কিছু লোক কুরআন মাজীদের প্রতি ঈমান আনবে। যেমন পরবর্তীতে ইয়াহুদীদের মধ্যে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযি.) ও খ্রিস্টানদের মধ্যে হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাযি.) ও নাজাশী (রহ.) ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তারা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, এ রকমই কিতাব হযরত মূসা আলাইহিস সালামের উপর নাযিল করা হয়েছিল এবং মৌলিক আকীদা-বিশ্বাসের দিক থেকে কুরআন মাজীদ তারই মত কিতাব। মক্কা মুকাররমার পৌত্তলিকদেরকে বলা হচ্ছে, পূর্বে যাদের আসমানী কিতাব ছিল তারা তো ঈমান আনার দিক থেকে তোমাদের সামনে চলে যাবে আর তোমরা আত্মাভিমান নিয়ে বসে থাকবে এটা কতই না জুলুমের কথা হবে।
১১

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَوۡ کَانَ خَیۡرًا مَّا سَبَقُوۡنَاۤ اِلَیۡہِ ؕ وَاِذۡ لَمۡ یَہۡتَدُوۡا بِہٖ فَسَیَقُوۡلُوۡنَ ہٰذَاۤ اِفۡکٌ قَدِیۡمٌ ١١

ওয়া কা-লাল্লাযীনা কাফারূলিল্লাযীনা আ-মানূলাও কা-না খাইরাম মা-ছাবাকূনা ইলাইহি ওয়া ইযলাম ইয়াহতাদূবিহী ফাছাইয়াকূলূনা হা-যাইফকুন কাদীম।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা মুমিনদের সম্পর্কে বলে, এটা (ঈমান আনয়ন) যদি ভালো কিছু হত, তবে তারা এর প্রতি আমাদের চেয়ে অগ্রগামী হতে পারত না এবং কাফেরগণ যখন এর দ্বারা নিজেরা হেদায়াত লাভ করল না, তখন তো এটাই বলবে যে, এটা সেই পুরানো দিনের মিথ্যা।

তাফসীরঃ

৭. এটা হল কাফেরদের অহমিকা। তারা মনে করত, ভালো যা-কিছু সব আমাদের মধ্যেই আছে আর যারা ঈমান এনেছে আমাদের সামনে তাদের কোন মর্যাদা নেই। কাজেই ইসলাম কোন ভালো জিনিস হলে আমরা আগে গ্রহণ করতাম। তারা আমাদেরকে পেছনে ফেলতে পারত না।
১২

وَمِنۡ قَبۡلِہٖ کِتٰبُ مُوۡسٰۤی اِمَامًا وَّرَحۡمَۃً ؕ  وَہٰذَا کِتٰبٌ مُّصَدِّقٌ لِّسَانًا عَرَبِیًّا لِّیُنۡذِرَ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ٭ۖ  وَبُشۡرٰی لِلۡمُحۡسِنِیۡنَ ۚ ١٢

ওয়া মিন কাবলিহী কিতা-বুমূছাইমা-মাওঁ ওয়া রাহমাতাওঁ ওয়া হা-যা-কিতাবুম মুসাদ্দিকুল্লিছা-নান ‘আরাবিইইয়াল লিইউনযিরাল্লাযীনা জালামূ ওয়াবুশরালিলমুহছিনীন।

এর আগে মূসার কিতাব এসেছে পথপ্রদর্শক ও রহমত হয়ে। আর এটা (অর্থাৎ কুরআন) আরবী ভাষায় অবতীর্ণ কিতাব, যা তাকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়, যাতে এটা জালেমদেরকে সতর্ক করে এবং সৎকর্মশীলদের জন্য হয় সুসংবাদ।

তাফসীরঃ

৮. কুরআন আরবী ভাষায় হওয়ার কথাটা বিশেষভাবে উল্লেখ করার দ্বারা ইশারা করা হয়েছে যে, পূর্বে আরবী ভাষায় কোন কিতাব অবতীর্ণ হয়নি এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবী ছাড়া অন্য কোন ভাষা জানতেন না। তা সত্ত্বেও তিনি আরবী ভাষায় পূর্ববর্তী এমন সব কিতাবের কথা বর্ণনা করছেন, যা জানার জন্য ওহী ছাড়া তাঁর আর কোন মাধ্যম ছিল না। এটাই প্রমাণ যে, তাঁর উপর ওহী নাযিল হয়।
১৩

اِنَّ الَّذِیۡنَ قَالُوۡا رَبُّنَا اللّٰہُ ثُمَّ اسۡتَقَامُوۡا فَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ۚ ١٣

ইন্নাল্লাযীনা কা-লূরাব্বুনাল্লা-হুছু ম্মাছতাকা-মূফালা-খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা-হুম ইয়াহঝানূন।

নিশ্চয়ই যারা বলেছে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, তারপর এতে অবিচল থেকেছে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।

তাফসীরঃ

৯. ‘আমার প্রতিপালক আল্লাহ’ একথার উপর অবিচলিত থাকার অর্থ মৃত্যু পর্যন্ত ঈমানের উপর থাকা এবং তার দাবি অনুযায়ী জীবন যাপন করা।
১৪

اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ۚ جَزَآءًۢ بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ١٤

উলাইকা আসহা-বুল জান্নাতি খা-লিদীনা ফীহা- জাঝাআম বিমা-কা-নূ ইয়া‘মালূন।

তারা হবে জান্নাতবাসী। সেখানে তারা থাকবে সর্বদা। তারা যা করত তার প্রতিদানস্বরূপ।
১৫

وَوَصَّیۡنَا الۡاِنۡسَانَ بِوَالِدَیۡہِ اِحۡسٰنًا ؕ حَمَلَتۡہُ اُمُّہٗ کُرۡہًا وَّوَضَعَتۡہُ کُرۡہًا ؕ وَحَمۡلُہٗ وَفِصٰلُہٗ ثَلٰثُوۡنَ شَہۡرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ اَشُدَّہٗ وَبَلَغَ اَرۡبَعِیۡنَ سَنَۃً ۙ قَالَ رَبِّ اَوۡزِعۡنِیۡۤ اَنۡ اَشۡکُرَ نِعۡمَتَکَ الَّتِیۡۤ اَنۡعَمۡتَ عَلَیَّ وَعَلٰی وَالِدَیَّ وَاَنۡ اَعۡمَلَ صَالِحًا تَرۡضٰہُ وَاَصۡلِحۡ لِیۡ فِیۡ ذُرِّیَّتِیۡ ۚؕ اِنِّیۡ تُبۡتُ اِلَیۡکَ وَاِنِّیۡ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ١٥

ওয়া ওয়াসসাইনালইনছা-না বিওয়া-লিদাইহি ইহছা-নান হামালাতহু উম্মুহূ কুরহাওঁ ওয়া ওয়াদা‘আতহু কুরহাওঁ ওয়া হামলুহূওয়া ফিসা-লুহূছালা-ছূনা শাহরান হাত্তা ইযা-বালাগা আশুদ্দাহূওয়া বালাগা আরবা‘ঈনা ছানাতান কা-লা রাব্বি আওঝি‘নীআন আশকুরা নি‘মাতাকাল্লাতীআন‘আমতা ‘আলাইইয়া ওয়া ‘আলা-ওয়া-লিদাইইয়া ওয়া আন আ‘মালা সা-লিহান তারদা-হু ওয়া আসলিহলী ফী যুররিইইয়াতী ইন্নী তুবতুইলাইকা ওয়া ইন্নী মিনাল মুছলিমীন।

আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করার হুকুম দিয়েছি। ১০ তার মা তাকে অতি কষ্টের সাথে (গর্ভে) ধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে তাকে প্রসব করেছে। তাকে (গর্ভে) ধারণ ও দুধ ছাড়ানোর মেয়াদ হয় ত্রিশ মাস। ১১ অবশেষে সে যখন তাঁর পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছে এবং চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হয়, ১২ তখন বলে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তাওফীক দান করুন, যেন আপনি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে যে নি‘আমত দিয়েছেন তার শোকর আদায় করতে পারি এবং এমন সৎকর্ম করতে পারি, যাতে আপনি খুশী হন এবং আমার জন্য আমার সন্তানদেরকেও (সেই) যোগ্যতা দান করুন। আমি আপনার কাছে তাওবা করছি এবং আমি আনুগত্য প্রকাশকারীদের অন্তর্ভুক্ত। ১৩

তাফসীরঃ

১০. ঈমানের উপর অবিচলিত থাকার একটা দাবি এইও যে, মানুষ তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। তাছাড়া সূরার পরিচিতিতে যেমন বলা হয়েছে, কোন কোন পরিবারে পুত্র ইসলাম গ্রহণ করেছিল, কিন্তু পিতা-মাতা ছিল কাফের, সেক্ষেত্রে প্রশ্ন দেখা দিত, সেই কাফের পিতা-মাতার সাথে কি রকম আচরণ করা হবে? এ আয়াতে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার অনুগ্রহ বিপুল। তাই সর্বদা তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। তবে আকীদা-বিশ্বাসে কখনও তাদের অনুসরণ করা যাবে না এবং কোন গুনাহের ব্যাপারেও তাদের কথা মানা উচিত হবে না। সূরা আনকাবুতে (২৯ : ৮) এ বিষয়টা পুরোপুরি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
১৬

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ نَتَقَبَّلُ عَنۡہُمۡ اَحۡسَنَ مَا عَمِلُوۡا وَنَتَجَاوَزُ عَنۡ سَیِّاٰتِہِمۡ فِیۡۤ اَصۡحٰبِ الۡجَنَّۃِ ؕ وَعۡدَ الصِّدۡقِ الَّذِیۡ کَانُوۡا یُوۡعَدُوۡنَ ١٦

উলাইকাল্লাযীনা নাতাকাব্বালু‘আনহুম আহছানা মা-‘আমিলূওয়া নাতাজা-ওয়াঝু‘আন ছাইয়িআ-তিহিম ফীআছহা-বিল জান্নাতি ওয়া‘দাসসিদকিল্লাযী কা-নূইঊ‘আদূ ন।

এরাই তারা, আমি যাদের উৎকৃষ্ট কাজসমূহ কবুল করব এবং তাদের মন্দ কাজসমূহ ক্ষমা করব। (ফলে) তারা জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাদেরকে যে সত্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত তার বদৌলতে।
১৭

وَالَّذِیۡ قَالَ لِوَالِدَیۡہِ اُفٍّ لَّکُمَاۤ اَتَعِدٰنِنِیۡۤ اَنۡ اُخۡرَجَ وَقَدۡ خَلَتِ الۡقُرُوۡنُ مِنۡ قَبۡلِیۡ ۚ وَہُمَا یَسۡتَغِیۡثٰنِ اللّٰہَ وَیۡلَکَ اٰمِنۡ ٭ۖ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ ۚۖ فَیَقُوۡلُ مَا ہٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ ١٧

ওয়াল্লাযী কা-লা লিওয়া-লিদাইহি উফফিল্লাকুমাআতা‘ইদা-নিনীআন উখরাজা ওয়াকাদ খালাতিল কুরূনুমিন কাবলী ওয়া হুমা-ইয়াছতাগীছা-নিল্লা-হা ওয়াইলাকা আ-মিন ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুন ফাইয়াকূলুমা-হা-যাইল্লাআছা-তীরুল আওওয়ালীন।

অপর এক ব্যক্তি এমন, যে তার পিতা-মাতাকে বলল, আফসোস তোমাদের প্রতি! তোমরা কি আমাকে এই প্রতিশ্রুতি দাও যে, আমাকে জীবিত করে কবর থেকে ওঠানো হবে, অথচ আমার আগে বহু মানবগোষ্ঠী গত হয়েছে? পিতা-মাতা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে (এবং পুত্রকে বলে,) আফসোস তোর প্রতি! ঈমান আন। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তখন সে বলে, প্রকৃতপক্ষে এসব পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণিত হয়ে আসা উপকথা ছাড়া কিছুই নয়।
১৮

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ حَقَّ عَلَیۡہِمُ الۡقَوۡلُ فِیۡۤ اُمَمٍ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ مِّنَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ ؕ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا خٰسِرِیۡنَ ١٨

উলাইকাল্লাযীনা হাক্কা ‘আলাইহিমুল কাওলুফীউমামিন কাদ খালাত মিন কাবলিহিম মিনাল জিন্নি ওয়াল ইনছি ইন্নাহুম কা-নূখা-ছিরীন।

এরাই তারা, যাদের সম্পর্কে তাদের পূর্বে গত জিন ও মানব জাতিসমূহের মত (শাস্তির) বাণী চূড়ান্ত হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
১৯

وَلِکُلٍّ دَرَجٰتٌ مِّمَّا عَمِلُوۡا ۚ وَلِیُوَفِّیَہُمۡ اَعۡمَالَہُمۡ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ ١٩

ওয়া লিকুল্লিন দারাজা-তুমমিম্মা-‘আমিলূ ওয়া লিইউওয়াফফিয়াহুম আ‘মা-লাহুম ওয়া হুম লা-ইউজলামূন।

আপন কৃতকর্মের কারণে প্রত্যেক (দল)-এর রয়েছে বিভিন্ন স্তর এবং তা এই জন্য যে, আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের পুরোপুরি প্রতিফল দেবেন এবং তাদের প্রতি কোন জুলুম করা হবে না।
২০

وَیَوۡمَ یُعۡرَضُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا عَلَی النَّارِ ؕ  اَذۡہَبۡتُمۡ طَیِّبٰتِکُمۡ فِیۡ حَیَاتِکُمُ الدُّنۡیَا وَاسۡتَمۡتَعۡتُمۡ بِہَا ۚ  فَالۡیَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ عَذَابَ الۡہُوۡنِ بِمَا کُنۡتُمۡ تَسۡتَکۡبِرُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ وَبِمَا کُنۡتُمۡ تَفۡسُقُوۡنَ ٪ ٢۰

ওয়া ইয়াওমা ইউ‘রাদুল্লায ীনা কাফারূ‘আলান্না-রি আযহাবতুম তাইয়িবা-তিকুম ফী হায়া-তিকুমুদ্দুনইয়া-ওয়াছতামতা‘তুম বিহা- ফালইয়াওমা তুজঝাওনা ‘আযা-বাল হূনি বিমা-কুনতুম তাছতাকবিরূনা ফিল আরদিবিগাইরিল হাক্কিওয়া বিমা-কুনতুম তাফ ছুকূন।

এবং সেই দিনকে স্মরণ রেখ, যে দিন কাফেরদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হবে (এবং বলা হবে,) তোমরা নিজেদের অংশের উৎকৃষ্ট জিনিসসমূহ পার্থিব জীবনে (ভোগ করে) নিঃশেষ করে ফেলেছ ১৪ এবং তা বেজায় ভোগ করেছ। সুতরাং আজ বিনিময়রূপে তোমরা পাবে লাঞ্ছনাকর শাস্তি, যেহেতু তোমরা পৃথিবীতে নাহক গৌরব করতে এবং যেহেতু তোমরা নাফরমানি করতে।

তাফসীরঃ

১৪. অর্থাৎ দুনিয়ায় তোমরা কিছু ভালো কাজ করে থাকলেও আমি দুনিয়াতেই তোমাদেরকে তার বদলা দিয়ে দিয়েছিলাম। ফলে তোমরা সেখানে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের ভেতর জীবন কাটিয়েছ এবং ভোগ-বিলাসে মত্ত থেকে নিজেদের প্রাপ্য অংশ দুনিয়াতেই নিঃশেষ করে ফেলেছ।
২১

وَاذۡکُرۡ اَخَا عَادٍ ؕ اِذۡ اَنۡذَرَ قَوۡمَہٗ بِالۡاَحۡقَافِ وَقَدۡ خَلَتِ النُّذُرُ مِنۡۢ بَیۡنِ یَدَیۡہِ وَمِنۡ خَلۡفِہٖۤ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّا اللّٰہَ ؕ اِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ عَذَابَ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ ٢١

ওয়াযকুর আখা-‘আ-দিন ইয আনযারা কাওমাহূবিলআহকা-ফি ওয়াকাদ খালাতিন্নুযূরু মিম বাইনি ইয়াদাইহি ওয়া মিন খালফিহীআল্লা-তা‘বুদূ ইল্লাল্লা-হা ইন্নীআখা-ফু‘আলাইকুম ‘আযা-বা ইয়াওমিন ‘আজীম।

এবং আদ জাতির ভাই (হযরত হুদ আলাইহিস সালাম)-এর বৃত্তান্ত উল্লেখ কর, যখন সে তার সম্প্রদায়কে আঁকা-বাঁকা টিলাময় ভূমিতে ১৫ সতর্ক করেছিল এবং এ রকম সতর্ককারী গত হয়েছিল তার আগেও এবং তার পরেও (সে তাদেরকে বলেছিল) যে, আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত করো না। আমি তোমাদের জন্য ভয় করছি এক মহা দিবসের শাস্তির।

তাফসীরঃ

১৫. اَحقاف শব্দটি حِقف-এর বহুবচন, দীর্ঘ বঙ্কিম টিলা শ্রেণীকে اَحقاف বলে। আদ জাতি যে অঞ্চলে বাস করত, সেখানে এ রকমের বহু টিলা ছিল। কারও মতে আহকাফ সেই অঞ্চলটিরই নাম। এটা ইয়ামানে অবস্থিত। বর্তমানে সেখানে কোন লোকবসতি নেই। আদ জাতির কাছে হযরত হুদ আলাইহিস সালামকে নবী করে পাঠানো হয়েছিল। [কিন্তু তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনেনি। ফলে তাদের যে পরিণাম হয়েছিল সেটাই এ আয়াতসমূহে বিবৃত হয়েছে -অনুবাদক]। এ জাতির পরিচয় পূর্বে সূরা আরাফের (৭ : ৬৫) টীকায় গত হয়েছে।
২২

قَالُوۡۤا اَجِئۡتَنَا لِتَاۡفِکَنَا عَنۡ اٰلِہَتِنَا ۚ فَاۡتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ ٢٢

কা-লূআজি’তানা-লিতা’ফিকানা-‘আন আ-লিহাতিনা- ফা’তিনা-বিমা-তা‘ইদুনা ইন কুনতা মিনাসসা-দিকীন।

তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যই এসেছ যে, আমাদেরকে আমাদের উপাস্যদের থেকে বিমুখ করে দেবে? আচ্ছা তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ তা নিয়ে এসো।
২৩

قَالَ اِنَّمَا الۡعِلۡمُ عِنۡدَ اللّٰہِ ۫ۖ وَاُبَلِّغُکُمۡ مَّاۤ اُرۡسِلۡتُ بِہٖ وَلٰکِنِّیۡۤ اَرٰىکُمۡ قَوۡمًا تَجۡہَلُوۡنَ ٢٣

কা-লা ইন্নামাল ‘ইলমু‘ইনদাল্লা-হি ওয়া উবালিলগুকুম মাউরছিলতুবিহী ওয়ালা-কিন্নী আরা-কুম কাওমান তাজহালূন।

সে বলল, (সে আযাব কখন আসবে এর) যথাযথ জ্ঞান তো আল্লাহরই কাছে। আমাকে যে বার্তা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমি তো তোমাদের কাছে তাই পৌঁছাচ্ছি। তবে আমি দেখছি তোমরা এক অজ্ঞ সম্প্রদায় (-এর মত কথাবার্তা বলছ)।
২৪

فَلَمَّا رَاَوۡہُ عَارِضًا مُّسۡتَقۡبِلَ اَوۡدِیَتِہِمۡ ۙ  قَالُوۡا ہٰذَا عَارِضٌ مُّمۡطِرُنَا ؕ  بَلۡ ہُوَ مَا اسۡتَعۡجَلۡتُمۡ بِہٖ ؕ  رِیۡحٌ فِیۡہَا عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ۙ ٢٤

ফালাম্মা-রাআওহু ‘আ-রিদামমুছতাকবিলা আও দিয়াতিহিম কা-লূহা-যা-‘আরিদুমমুম তিরুনা- বাল হুওয়া মাছ তা‘জালতুম বিহী রীহুন ফীহা-‘আযা-বুন আলীম।

অতঃপর তারা যখন তাকে (অর্থাৎ আযাবকে) একটি মেঘখণ্ড রূপে তাদের উপত্যকার দিকে এগিয়ে আসতে দেখল, তখন তারা বলল, এটা মেঘ, যা আমাদেরকে বৃষ্টি দেবে।’ না, বরং এটাই সেই জিনিস, যার জন্য তোমরা তাড়াহুড়া করছিলে, এক ঝড়ো হাওয়া, যার মধ্যে আছে যন্ত্রণাময় শাস্তি।
২৫

تُدَمِّرُ کُلَّ شَیۡءٍۭ بِاَمۡرِ رَبِّہَا فَاَصۡبَحُوۡا لَا یُرٰۤی اِلَّا مَسٰکِنُہُمۡ ؕ کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡقَوۡمَ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ٢٥

তুদাম্মিরু কুল্লা শাইয়িম বিআমরি রাব্বিহা-ফাআসবাহূলা-ইউরাইল্লা-মাছা-কিনুহুম কাযা-লিকা নাজঝিল কাওমাল মুজরিমীন।

যা তার প্রতিপালকের হুকুমে সবকিছু তছনছ করে ফেলবে। অনন্তর তারা এমন হয়ে গেল যে, তাদের আবাসস্থল ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। অপরাধী সম্প্রদায়কে আমি এ রকমই শাস্তি দিয়ে থাকি।
২৬

وَلَقَدۡ مَکَّنّٰہُمۡ فِیۡمَاۤ اِنۡ مَّکَّنّٰکُمۡ فِیۡہِ وَجَعَلۡنَا لَہُمۡ سَمۡعًا وَّاَبۡصَارًا وَّاَفۡـِٕدَۃً ۫ۖ  فَمَاۤ اَغۡنٰی عَنۡہُمۡ سَمۡعُہُمۡ وَلَاۤ اَبۡصَارُہُمۡ وَلَاۤ اَفۡـِٕدَتُہُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ اِذۡ کَانُوۡا یَجۡحَدُوۡنَ ۙ  بِاٰیٰتِ اللّٰہِ وَحَاقَ بِہِمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٪ ٢٦

ওয়া লাকাদ মাক্কান্না-হুমফীমাইম্মাক্কান্না-কুমফীহি ওয়া জা‘আলনা-লাহুমছাম‘আওঁ ওয়া আবসা-রাওঁ ওয়া আফইদাতান ফামাআগনা-‘আনহুম ছাম‘উহুম ওয়ালাআবসা-রুহুম ওয়ালাআফইদাতুহুম মিন শাইয়িন ইযকা-নূইয়াজহাদূ না বিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়া হাকা বিহিম মা-কা-নূবিহী ইয়াছতাহঝিউন।

এবং (হে আরববাসী!) আমি তাদেরকে এমন বিষয়ে ক্ষমতা দিয়েছিলাম, যার ক্ষমতা তোমাদেরকে দেইনি এবং আমি তাদেরকে কান, চোখ ও হৃদয় সবকিছুই দিয়েছিলাম, কিন্তু না তাদের কান ও চোখ তাদের কোন উপকারে আসল আর না তাদের হৃদয়, যেহেতু তারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করত। আর তারা যে জিনিস নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তাই তাদেরকে পরিবেষ্টন করল।
২৭

وَلَقَدۡ اَہۡلَکۡنَا مَا حَوۡلَکُمۡ مِّنَ الۡقُرٰی وَصَرَّفۡنَا الۡاٰیٰتِ لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ ٢٧

ওয়া লাকাদ আহলাকনা- মা-হাওলাকুমমিনাল কুরা- ওয়াসাররাফনাল আ-য়া-তি লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন।

আমি তোমাদের আশপাশের অন্যান্য জনপদকেও ধ্বংস করেছি। ১৬ আমি বিভিন্ন রকমের নিদর্শন (তাদের) সামনে এনেছিলাম, যাতে তারা ফিরে আসে।

তাফসীরঃ

১৬. এর দ্বারা ছামূদ জাতি ও হযরত লূত আলাইহিস সালামের কওম যেসব এলাকায় বাস করত তার প্রতি ইশারা করা হয়েছে। শামের যাতায়াতকালে সেসব জনপদ আরববাসীর পথে পড়ত।
২৮

فَلَوۡلَا نَصَرَہُمُ الَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ قُرۡبَانًا اٰلِـہَۃً ؕ بَلۡ ضَلُّوۡا عَنۡہُمۡ ۚ وَذٰلِکَ اِفۡکُہُمۡ وَمَا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ ٢٨

ফালাওলা-নাসারাহুমুল্লাযীনাত্তাখাযূমিন দূ নিল্লা-হি কুরবা-নান আ-লিহাতান বাল দাললূ ‘আনহুম ওয়া যা-লিকা ইফকুহুম ওয়ামা-কা-নূইয়াফতারূন।

তারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে আল্লাহ ছাড়া যেসব জিনিসকে মাবুদরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা তাদের সাহায্য করল না কেন? বরং তারা সব তাদের থেকে অন্তর্হিত হয়ে গেল। বস্তুত এটা ছিল তাদের মিথ্যা অপবাদ এবং যা তারা রচনা করেছিল।
২৯

وَاِذۡ صَرَفۡنَاۤ اِلَیۡکَ نَفَرًا مِّنَ الۡجِنِّ یَسۡتَمِعُوۡنَ الۡقُرۡاٰنَ ۚ فَلَمَّا حَضَرُوۡہُ قَالُوۡۤا اَنۡصِتُوۡا ۚ فَلَمَّا قُضِیَ وَلَّوۡا اِلٰی قَوۡمِہِمۡ مُّنۡذِرِیۡنَ ٢٩

ওয়া ইযসারাফনাইলাকা নাফারাম মিনাল জিন্নি ইয়াছতামি‘ঊনাল কুরআ-না ফালাম্মাহাদারূহু কা-লূআনছিতূ ফালাম্মা-কুদিয়া ওয়াল্লাও ইলা-কাওমিহিম মুনযিরীন।

এবং (হে রাসূল!) স্মরণ কর, যখন আমি এক দল জিনকে কুরআন শোনার জন্য তোমার অভিমুখী করে দিয়েছিলাম। ১৭ যখন তারা সেখানে পৌঁছল, (একে অন্যকে) বলল, চুপ কর। তা পড়া হয়ে গেলে তারা আপন সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেল সতর্ককারীরূপে।

তাফসীরঃ

১৭. আল্লাহ তাআলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিন জাতির কাছেও নবী করে পাঠিয়েছিলেন। তিনি যখন দাওয়াতের উদ্দেশ্যে তায়েফ গমন করেন, তারপর তাদের থেকে সাড়া না পেয়ে, উপরন্তু তাদের পক্ষ হতে বর্ণনাতীত নিপীড়নের শিকার হয়ে মক্কা মুকাররমার উদ্দেশে ফেরত রওয়ানা হন, তখন পথিমধ্যে নাখলা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটেছিল। তিনি নাখলায় বিশ্রামের জন্য থেমেছিলেন। সেখানে যখন ফজরের নামাযে কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করছিলেন, তখন সেখান দিয়ে একদল জিন কোথাও যাচ্ছিল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তেলাওয়াত শুনে তারা সেখানে থেমে গেল এবং মন দিয়ে শোনার জন্য একে অন্যকে চুপ থাকতে বলল। একে কুরআন মাজীদের আবেদনপূর্ণ বাণী, আবার মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কণ্ঠে তার তেলাওয়াত। সুতরাং জিন্নদের দলটি তাতে গভীরভাবে প্রভাবিত হল। এমনকি তারা নিজ সম্প্রদায়ের কাছেও এর দাওয়াত নিয়ে গেল। তাদের সে দাওয়াতে কাজও হল। বিভিন্ন সময়ে তাদের কয়েকটি প্রতিনিধি দল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাত করেছিল। তিনি তাদের মধ্যে তাবলীগ ও তালীমের দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছিলেন। যে সকল রাতে জিনদের সাথে তাঁর সাক্ষাত হয়েছিল, তার প্রত্যেকটিকে ‘লাইলাতুল জিন্ন’ বা জিন্নদের সাথে সাক্ষাতের রাত বলে। তার মধ্যে এক রাতে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.)-ও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলেন। জিনদের ইসলাম গ্রহণের বৃত্তান্ত সূরা জিনে বিস্তারিতভাবে আসবে ইনশাআল্লাহ তাআলা।
৩০

قَالُوۡا یٰقَوۡمَنَاۤ اِنَّا سَمِعۡنَا کِتٰبًا اُنۡزِلَ مِنۡۢ بَعۡدِ مُوۡسٰی مُصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیۡہِ یَہۡدِیۡۤ اِلَی الۡحَقِّ وَاِلٰی طَرِیۡقٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ٣۰

কা-লূইয়া-কাওমানাইন্না-ছামি‘না-কিতা-বান উনঝিলা মিম বা‘দি মূছা-মুসাদ্দিকালিলমাবাইনা ইয়াদাইহি ইয়াহদীইলাল হাক্কিওয়া ইলা-তারীকিম মুছতাকীম।

তারা বলল, হে আমাদের কওম! নিশ্চয়ই জেনে রেখ, আমরা এমন এক কিতাব (-এর পাঠ) শুনেছি, যা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর পর অবতীর্ণ হয়েছে, তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সমর্থকরূপে, যা পথ-নির্দেশ করে সত্যের ও সরল পথের।
৩১

یٰقَوۡمَنَاۤ اَجِیۡبُوۡا دَاعِیَ اللّٰہِ وَاٰمِنُوۡا بِہٖ یَغۡفِرۡ لَکُمۡ مِّنۡ ذُنُوۡبِکُمۡ وَیُجِرۡکُمۡ مِّنۡ عَذَابٍ اَلِیۡمٍ ٣١

ইয়া-কাওমানাআজীবূদা-‘ইয়াল্লা-হি ওয়াআ-মিনূবিহী ইয়াগফিরলাকুম মিন যুনূবিকুম ওয়া ইউজিরকুম মিন ‘আযা-বিন আলীম।

হে আমাদের কওম! আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দাও ও তার প্রতি ঈমান আন। আল্লাহ তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদেরকে রক্ষা করবেন এক যন্ত্রণাময় শাস্তি থেকে।
৩২

وَمَنۡ لَّا یُجِبۡ دَاعِیَ اللّٰہِ فَلَیۡسَ بِمُعۡجِزٍ فِی الۡاَرۡضِ وَلَیۡسَ لَہٗ مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءُ ؕ اُولٰٓئِکَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ٣٢

ওয়া মাল লা-ইউজিব দা-‘ইয়াল্লা-হি ফালাইছা বিমু‘জিঝিন ফিল আরদিওয়া লাইছা লাহূমিন দূ নিহীআওলিূআউ উলাইকা ফী দালা-লিমমুবীন।

যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেবে না, সে পৃথিবীর কোথাও গিয়ে আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না ১৮ এবং আল্লাহ ছাড়া সে কোনও রকমের অভিভাবকও পাবে না। এরূপ লোক সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত।

তাফসীরঃ

১৮. অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাকে ব্যর্থ করতে পারবে না। তিনি যখন তাকে শাস্তি দিতে চাইবেন, তখন সে কোথাও পালিয়ে আত্মরক্ষা করতে পারবে না। -অনুবাদক
৩৩

اَوَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّ اللّٰہَ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَلَمۡ یَعۡیَ بِخَلۡقِہِنَّ بِقٰدِرٍ عَلٰۤی اَنۡ یُّحۡیِۦَ الۡمَوۡتٰی ؕ بَلٰۤی اِنَّہٗ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٣٣

আওয়ালাম ইয়ারাও আন্নাল্লা-হাল্লাযী খালাকাছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ালাম ইয়া‘ইয়া বিখালকিহিন্না বিকা-দিরিন ‘আলাআইঁ ইউহইয়াল মাওতা- বালাইন্নাহূ ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

তারা কি অনুধাবন করেনি যে, যেই আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এসবের সৃজনে তাঁর বিন্দুমাত্র ক্লান্তি দেখা দেয়নি, তিনি নিঃসন্দেহে মৃতদেরকে জীবিত করতে সক্ষম? কেনইবা হবেন না? নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
৩৪

وَیَوۡمَ یُعۡرَضُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا عَلَی النَّارِ ؕ اَلَیۡسَ ہٰذَا بِالۡحَقِّ ؕ قَالُوۡا بَلٰی وَرَبِّنَا ؕ قَالَ فَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ بِمَا کُنۡتُمۡ تَکۡفُرُوۡنَ ٣٤

ওয়া ইয়াওমা ইউ‘রাদুল্লাযীনা কাফারূ‘আলান্না-রি আলাইছা হা-যা-বিলহাক্কি কা-লূবালা-ওয়া রাব্বিনা- কা-লা ফাযূকুল ‘আযা-বা বিমা-কুনতুম তাক ফুরূন।

যে দিন কাফেরদেরকে আগুনের সামনে উপস্থিত করা হবে, (সে দিন তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে,) এটা (অর্থাৎ জাহান্নাম) কি সত্য নয়? তারা বলবে, আমাদের প্রতিপালকের শপথ! এটা বাস্তবিকই সত্য। আল্লাহ বলবেন, তাহলে তোমরা যে কুফর অবলম্বন করেছিলে তার বিনিময়ে শাস্তি ভোগ কর।
৩৫

فَاصۡبِرۡ کَمَا صَبَرَ اُولُوا الۡعَزۡمِ مِنَ الرُّسُلِ وَلَا تَسۡتَعۡجِلۡ لَّہُمۡ ؕ  کَاَنَّہُمۡ یَوۡمَ یَرَوۡنَ مَا یُوۡعَدُوۡنَ ۙ  لَمۡ یَلۡبَثُوۡۤا اِلَّا سَاعَۃً مِّنۡ نَّہَارٍ ؕ  بَلٰغٌ ۚ  فَہَلۡ یُہۡلَکُ اِلَّا الۡقَوۡمُ الۡفٰسِقُوۡنَ ٪ ٣٥

ফাসবির কামা-সাবারা ঊলুল ‘আঝমি মিনাররুছুলি ওয়ালা-তাছতা‘জিল লাহুম কাআন্নাহুম ইয়াওমা ইয়ারাওনা মা-ইঊ‘আদূ না লাম ইয়ালবাছূদ্ম ইল্লা-ছা-‘আতাম মিন নাহা-রিন বালা-গুন ফাহাল ইউহলাকুইল্লাল কাওমুল ফা-ছিকূন।

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি সবর অবলম্বন কর, যেমন সবর অবলম্বন করেছিল দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ এবং তুমি তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) বিষয়ে তাড়াহুড়া করো না। তাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে, তা যে দিন তারা দেখবে, সে দিন (তাদের মনে হবে) তারা যেন (দুনিয়ায়) দিনের এক মুহূর্তের বেশি অবস্থান করেনি। ১৯ এটাই সেই বার্তা, যা পৌঁছিয়ে দেওয়া হল। অতঃপর ধ্বংস তো হবে কেবল এমন সব লোক, যারা অবাধ্য।

তাফসীরঃ

১৯. অর্থাৎ আখেরাতে কাফেরগণ যখন সেই শাস্তির সম্মুখীন হবে, যে সম্পর্কে তাদের বারবার সাবধান করা হয়েছিল, তখন তার বিভীষিকা দেখে তারা হতবিহ্বল হয়ে পড়বে এবং দুনিয়ার গোটা জীবন তাদের কাছে অতি সংক্ষিপ্ত মনে হবে, যেন তা এক দিনের ভগ্নাংশ মাত্র।
সূরা আল আহ্‌ক্বাফ | মুসলিম বাংলা