সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আয-যারিয়াত (الذاريات) | বিক্ষেপকারী বাতাস

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৬০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَالذّٰرِیٰتِ ذَرۡوًا ۙ ١

ওয়াযযা-রিয়া-তি যারওয়া-।

কসম সেই সবের (অর্থাৎ সেই বায়ুর), যা ধুলোবালি উড়িয়ে বিক্ষিপ্ত করে দেয়,

فَالۡحٰمِلٰتِ وِقۡرًا ۙ ٢

ফাল হা-মিলা-তি বিকরা-।

তারপর সেই সবের, যা (মেঘের) ভার বহন করে,

فَالۡجٰرِیٰتِ یُسۡرًا ۙ ٣

ফালজা-রিয়া-তি ইউছরা-।

তারপর সেই সবের, যা সচ্ছন্দ গতিতে চলাচল করে,

فَالۡمُقَسِّمٰتِ اَمۡرًا ۙ ٤

ফাল মুকাছছিমা-তি আমরা-।

তারপর সেই সবের, যা বস্তুরাজি বণ্টন করে

তাফসীরঃ

১. এখানে দু’টি বিষয় বুঝে রাখা প্রয়োজন। (এক) নিজের কোন কথা বিশ্বাস করানোর জন্য আল্লাহ তাআলার কোন কসম করার প্রয়োজন নেই। নিজের কোন কথা সম্পর্কে কসম করা হতে তিনি বেনিয়ায। কুরআন মাজীদে বিভিন্ন স্থানে যে বিভিন্ন বিষয়ে কসম করা হয়েছে, তার উদ্দেশ্য কথাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত, অলঙ্কারপূর্ণ ও বলিষ্ঠ করে তোলা। অনেক সময় এ দিকটার প্রতি লক্ষ্য থাকে যে, যেই জিনিসের কসম করা হচ্ছে, তার ভেতর দৃষ্টিপাত করলে দেখা যাবে, তা তার পরবর্তীতে যে বক্তব্য আসছে তার সত্যতার প্রমাণ বহন করে। আলোচ্য স্থলে কসমের পরে যে বক্তব্য আসছে তা হল, কিয়ামত অবশ্যই আসবে এবং পুরস্কার ও শাস্তি সম্পর্কিত ফায়সালা অবশ্যই হবে। এখানে কসম করা হয়েছে বাতাসের, যা ধুলোবালি উড়িয়ে নিয়ে যায়, মেঘের বোঝা বয়ে তা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায় এবং যখন সেই মেঘ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হয়, তখন তার পানি মৃত ভূমিতে জীবন সঞ্চার করে তার উৎপাদন থেকে সৃষ্টির জীবিকা বণ্টন করে এবং এভাবে তা সৃষ্টি রাজির জন্য নতুন জীবনের কারণে পরিণত হয়। তো এই বাতাসের কসম করে বান্দার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে যে, যেই আল্লাহ এই বাতাসকে এবং তার প্রভাবে বর্ষিত বৃষ্টির পানিকে নতুন জীবনের মাধ্যম বানান, নিশ্চয়ই তিনি মৃত মানুষকে পুনর্জীবন দান করতে সক্ষম। আয়াতের এ ব্যাখ্যা করা হয়েছে এ হিসেবে যে, আয়াতে যে চারটি জিনিসের কসম করা হয়েছে, তার সবগুলো দ্বারাই বায়ুকে বোঝানো হয়েছে, যার সঙ্গে বায়ুর চারটি বিশেষণ উল্লেখ করা হয়েছে। (দুই) এই আয়াতসমূহের আরও একটি তাফসীর বর্ণিত আছে। তা এই যে, প্রথম বিশেষণটি অর্থাৎ ‘ধুলোবালি উড়ানো’-এর সম্পর্ক বাতাসের সঙ্গে বটে, কিন্তু বাকিগুলো বাতাসের বিশেষণ নয়; বরং দ্বিতীয়টি দ্বারা বোঝানো হয়েছে মেঘপুঞ্জকে, যা পানির ভার বহন করে। তৃতীয় বিশেষণটি জলযানের, যা পানিতে সচ্ছন্দে চলাচল করে আর চতুর্থ বিশেষণটি হল ফেরেশতাদের, যা সৃষ্টির মাঝে জীবিকা ইত্যাদি বণ্টনের দায়িত্বে নিয়োজিত। এই দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি একটি হাদীছে খোদ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে। তবে বর্ণনাটি সম্পর্কে আল্লামা হায়ছামী (রহ.) বলেন, এটি বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবী সাব্রা, যিনি একজন যয়ীফ ও পরিত্যক্ত রাবী (মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৬ষ্ঠ খণ্ড ২৪৪২৪৫ পৃষ্ঠা, তাফসীর অধ্যায়, হাদীছ নং ১১৩৬৫)। তারপরও যেহেতু এ তাফসীরটির এক রকম সম্পর্ক মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে রয়েছে, তাই বহু মুফাসসির এটাই গ্রহণ করেছেন। আর আমি যে তরজমা করেছি, তা থেকে বন্ধনীর অংশটুকু বাদ দিলে এর ভেতর ওই ব্যাখ্যারও অবকাশ থাকে। এ তাফসীর অনুযায়ী এ কসমের সাথে আখেরাতের সম্পর্ক দৃশ্যত এভাবে যে, আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রয়োজনাদি সমাধার জন্য এসব ব্যবস্থাপনা উদ্দেশ্যহীনভাবে করেননি। এসবের উদ্দেশ্য হল মানুষকে পরীক্ষা করা, তারা আল্লাহ প্রদত্ত নি‘আমতসমূহ যথাযথ পন্থায় ব্যবহার করে, না অন্যায় পন্থা অবলম্বন করে। যারা এর যথাযথ ব্যবহার করবে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে আর যারা অন্যায়ভাবে ব্যবহার করবে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে। সুতরাং সৃষ্টি জগতের এসব বস্তুর দাবি হল যে, এমন একদিন অবশ্যই আসুক, যে দিন পুরস্কার ও শাস্তি দানের ফায়সালাকে কার্যকর করা হবে।

اِنَّمَا تُوۡعَدُوۡنَ لَصَادِقٌ ۙ ٥

ইন্নামা-তূ‘আদূনা লাসা-দিক।

তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে তা নিশ্চিত সত্য

وَّاِنَّ الدِّیۡنَ لَوَاقِعٌ ؕ ٦

ওয়া ইন্নাদ দীনা লাওয়া-কি‘উ।

এবং কর্মের প্রতিফল অবশ্যম্ভাবী।

وَالسَّمَآءِ ذَاتِ الۡحُبُکِ ۙ ٧

ওয়াছছামাই যা-তিল হুবুক।

কসম বহু পথবিশিষ্ট আকাশের,

তাফসীরঃ

২. এখানে ‘পথ’ বলে আমাদের দৃষ্টির অগোচর পথ বোঝানো হয়েছে, যে পথ দিয়ে ফেরেশতাগণ চলাচল করে। কেউ কেউ বলেন, السماء (আকাশ) বলতে অনেক সময় উপরের যে-কোনও বস্তুকেও বোঝায়। এখানে উপরের শূন্যমণ্ডল বোঝানো হয়েছে, যাতে তারকারাজির জন্য গতিপথ নির্দিষ্ট করা আছে।

اِنَّکُمۡ لَفِیۡ قَوۡلٍ مُّخۡتَلِفٍ ۙ ٨

ইন্নাকুম লাফী কাওলিম মুখতালিফ।

তোমরা পরস্পর বিরোধী কথায় লিপ্ত।

তাফসীরঃ

৩. ‘পরস্পর বিরোধী কথায় লিপ্ত’, অর্থাৎ একদিকে তো স্বীকার কর আল্লাহ তাআলাই বিশ্ব জগতের সৃষ্টিকর্তা, অন্য দিকে তিনি যে মানুষকে তাদের মৃত্যুর পর পুনরায় জীবন দান করতে সক্ষম, তাঁর এ শক্তিকে মানতে রাজি নও, এর চেয়ে স্ববিরোধিতা আর কী হতে পারে?

یُّؤۡفَکُ عَنۡہُ مَنۡ اُفِکَ ؕ ٩

ইউ’ফাকু‘আনহু মান উফিক।

এর (অর্থাৎ আখেরাতের বিশ্বাস) থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে কেবল সেই যে সম্পূর্ণরূপে সত্যবিমুখ।

তাফসীরঃ

৪. সত্য সন্ধানী ব্যক্তির পক্ষে আখেরাতকে স্বীকার করা মোটেই কঠিন নয়। এ সত্যকে অস্বীকার করে কেবল তারাই যাদের মনে সত্যের অনুসন্ধিৎসা নেই; বরং তারা সত্যের প্রতি বীতশ্রদ্ধ।
১০

قُتِلَ الۡخَرّٰصُوۡنَ ۙ ١۰

কুতিলাল খাররা-ছূন।

আল্লাহর ‘মার’ হোক (আকীদা-বিশ্বাসের ব্যাপারে) অনুমান নির্ভর উক্তিকারীদের প্রতি।
১১

الَّذِیۡنَ ہُمۡ فِیۡ غَمۡرَۃٍ سَاہُوۡنَ ۙ ١١

আল্লাযীনা হুম ফী গামরাতিন ছা-হূন।

যারা উদাসীনতায় নিমজ্জিত থেকে সব কিছু বিস্মৃত হয়ে আছে।
১২

یَسۡـَٔلُوۡنَ اَیَّانَ یَوۡمُ الدِّیۡنِ ؕ ١٢

ইয়াছআলূনা আইয়া-না ইয়াওমুদ্দীন।

জিজ্ঞেস করে, কর্মফল দিবস কবে?

তাফসীরঃ

৫. তারা এ প্রশ্ন সত্য জানার উদ্দেশ্যে নয়; বরং উপহাস করার জন্যই করত।
১৩

یَوۡمَ ہُمۡ عَلَی النَّارِ یُفۡتَنُوۡنَ ١٣

ইয়াওমা হুম ‘আলান্না-রি ইউফতানূন।

তা সেই দিন, যে দিন তাদেরকে আগুনে দগ্ধ করা হবে।
১৪

ذُوۡقُوۡا فِتۡنَتَکُمۡ ؕ ہٰذَا الَّذِیۡ کُنۡتُمۡ بِہٖ تَسۡتَعۡجِلُوۡنَ ١٤

যূকূফিতনাতাকুম হা-যাল্লাযী কনতুম বিহী তাছতা‘জিলূন।

(বলা হবে) নিজেদের দুষ্কর্মের মজা ভোগ কর। এটাই সেই জিনিস, যা তোমরা তাড়াতাড়ি চাচ্ছিলে।

তাফসীরঃ

৬. কাফেরদেরকে যখন আখেরাতের শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করা হত, তখন তারা বলত, সে শাস্তি এখনই আসছে না কেন?
১৫

اِنَّ الۡمُتَّقِیۡنَ فِیۡ جَنّٰتٍ وَّعُیُوۡنٍ ۙ ١٥

ইন্নাল মুত্তাকীনা ফী জান্না-তিওঁ ওয়া উ‘ইয়ূন।

মুত্তাকীগণ অবশ্যই উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণসমূহের ভেতর থাকবে।
১৬

اٰخِذِیۡنَ مَاۤ اٰتٰہُمۡ رَبُّہُمۡ ؕ  اِنَّہُمۡ کَانُوۡا قَبۡلَ ذٰلِکَ مُحۡسِنِیۡنَ ؕ ١٦

আ-খিযীনা মাআ-তা-হুম রাব্বুহুম ইন্নাহুম কা-নূকাবলা যা-লিকা মুহছিনীন।

তাদের প্রতিপালক তাদেরকে যা-কিছু দেবেন, তারা তা উপভোগ করতে থাকবে। তারা তো এর আগেই সৎকর্মশীল ছিল।
১৭

کَانُوۡا قَلِیۡلًا مِّنَ الَّیۡلِ مَا یَہۡجَعُوۡنَ ١٧

কা-নূকালীলাম মিনাল্লাইলি মা-ইয়াহজা‘ঊন।

তারা রাতের অল্প সময়ই ঘুমাত
১৮

وَبِالۡاَسۡحَارِ ہُمۡ یَسۡتَغۡفِرُوۡنَ ١٨

ওয়া বিলআছহা-রিহুম ইয়াছতাগফিরূন।

এবং তারা সাহরীর সময় ইস্তিগফার করত।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ রাতের বেশির ভাগ ইবাদতে কাটানোর পরও তারা নিজেদের আমল নিয়ে অহংকার বোধ করে না, বরং না-জানি ইবাদতের ভেতর কত ভুল-ত্রুটি হয়ে গেছে, যদ্দরুণ তা আল্লাহ তাআলার কাছে কবুলের উপযুক্ত হবে না, এই চিন্তা তাদের ভেতর কাজ করে। ফলে সাহরীকালে আল্লাহ তাআলার দরবারে বিনয় প্রকাশ করে ও কাকুতি-মিনতির সাথে ইস্তিগফার করে।
১৯

وَفِیۡۤ اَمۡوَالِہِمۡ حَقٌّ لِّلسَّآئِلِ وَالۡمَحۡرُوۡمِ ١٩

ওয়া ফীআমওয়া-লিহিম হাক্কুল লিছছাইলি ওয়াল মাহরূম।

তাদের ধন-সম্পদে যাচক ও বঞ্চিতের (যথারীতি) হক থাকত।

তাফসীরঃ

৮. السائل (যাচক) দ্বারা সেই অভাবগ্রস্তকে বোঝানো হয়েছে, যে মুখে তার অভাবের কথা প্রকাশ করে আর المحروم (বঞ্চিত) দ্বারা বোঝানো হয়েছে তাকে, যে অভাব থাকা সত্ত্বেও কারও কাছে কিছু চায় না। এ আয়াতে ‘হক’ শব্দটি ব্যবহার করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ধনী ব্যক্তি গরীবদেরকে যে যাকাত-ফিতরা দেয়, সেটা তাদের প্রতি তার কোন দয়া নয়; বরং তা তাদের প্রাপ্য, যা তাদেরকে দেওয়াই তার কর্তব্য ছিল। কেননা ধন-সম্পদ আল্লাহ তাআলার দান। এটা তাঁরই নির্দেশ যে, তাতে গরীব-দুঃখীর অংশ আছে।
২০

وَفِی الۡاَرۡضِ اٰیٰتٌ لِّلۡمُوۡقِنِیۡنَ ۙ ٢۰

ওয়া ফিল আরদিআ-য়া-তুলিলল মূ’কিনীন।

যারা নিশ্চিত বিশ্বাসী, তাদের জন্য পৃথিবীতে আছে বহু নিদর্শন।
২১

وَفِیۡۤ اَنۡفُسِکُمۡ ؕ اَفَلَا تُبۡصِرُوۡنَ ٢١

ওয়া ফীআনফুছিকুম আফালা-তুবসিরূন।

এবং স্বয়ং তোমাদের অস্তিত্বেও! তবুও কি তোমরা অনুধাবন করতে পার না?
২২

وَفِی السَّمَآءِ رِزۡقُکُمۡ وَمَا تُوۡعَدُوۡنَ ٢٢

ওয়া ফিছছামাই রিঝকুকুম ওয়ামা-তূ‘আদূন।

আসমানেই আছে তোমাদের রিযক এবং তোমাদেরকে যার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় তাও।

তাফসীরঃ

৯. এখানে আসমান দ্বারা ঊর্ধ্বজগত বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ তোমাদের রিযকের ফায়সালাও ঊর্ধ্বজগতে হয়ে থাকে এবং তোমাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়ে থাকে তার ফায়সালাও সেখানেই হয়।
২৩

فَوَرَبِّ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ اِنَّہٗ لَحَقٌّ مِّثۡلَ مَاۤ اَنَّکُمۡ تَنۡطِقُوۡنَ ٪ ٢٣

ফাওয়ারাব্বিছ ছামাই ওয়াল আরদিইন্নাহূলাহাক্কুম মিছলা মাআন্নাকুম তানতিকূন।

সুতরাং আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালকের শপথ! নিশ্চয়ই এটা সত্য, যেমন (সত্য) তোমাদের কথা বলাটা। ১০

তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ ‘তোমরা কথা বলছ’এটা যেমন সত্য, তেমনি আখেরাতের যে কথা বলা হচ্ছে তাও নিশ্চিত সত্য। কেননা এটা বিশ্ব জগতের স্রষ্টা নিজে বলেছেন।
২৪

ہَلۡ اَتٰىکَ حَدِیۡثُ ضَیۡفِ اِبۡرٰہِیۡمَ الۡمُکۡرَمِیۡنَ ۘ ٢٤

হাল আতা-কা হাদীছুদাইফি ইবরা-হীমাল মুকরামীন।

(হে রাসূল!) তোমার কাছে কি ইবরাহীমের সম্মানিত অতিথিদের বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? ১১

তাফসীরঃ

১১. সে অতিথিগণ মূলত ফেরেশতা ছিলেন। তারা এসেছিলেন দু’টি কাজে। (ক) হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে এই সুসংবাদ দানের জন্য যে, ইসহাক নামে তার এক পুত্র সন্তান জন্ম নেবে। (খ) হযরত লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কে শাস্তি দানের জন্য। তাদের ঘটনা বিস্তারিতভাবে সূরা হুদ (১১ : ৬৯-৮৩) ও সূরা হিজর (১৫ : ৫১-৭৭)-এ গত হয়েছে।
২৫

اِذۡ دَخَلُوۡا عَلَیۡہِ فَقَالُوۡا سَلٰمًا ؕ  قَالَ سَلٰمٌ ۚ  قَوۡمٌ مُّنۡکَرُوۡنَ ۚ ٢٥

ইয দাখালূ‘আলাইহি ফাকা-লূছালা-মান কা-লা ছালা-মুন কাওমুম মুনকারূন।

যখন তারা ইবরাহীমের কাছে উপস্থিত হয়ে বলল সালাম, তখন ইবরাহীমও বলল, সালাম (এবং সে মনে মনে চিন্তা করল যে,) এরা তো অপরিচিত লোক।
২৬

فَرَاغَ اِلٰۤی اَہۡلِہٖ فَجَآءَ بِعِجۡلٍ سَمِیۡنٍ ۙ ٢٦

ফারা-গা ইলাআহলিহী ফাজাআ বি‘ইজলিন ছামীন।

তারপর সে চুপিসারে নিজ পরিবারবর্গের কাছে গেল এবং একটি মোটাতাজা বাছুর (-ভাজা) নিয়ে আসল।
২৭

فَقَرَّبَہٗۤ اِلَیۡہِمۡ قَالَ اَلَا تَاۡکُلُوۡنَ ۫ ٢٧

ফাকাররাবাহূইলাইহিম কা-লা আলা-তা’কুলূন।

এবং তা সেই অতিথিদের সামনে এগিয়ে দিল এবং বলল, আপনারা খাচ্ছেন না যে?
২৮

فَاَوۡجَسَ مِنۡہُمۡ خِیۡفَۃً ؕ قَالُوۡا لَا تَخَفۡ ؕ وَبَشَّرُوۡہُ بِغُلٰمٍ عَلِیۡمٍ ٢٨

ফাআওজাছা মিন হুম খীফাতান কা-লূলা-তাখাফ ওয়াবাশশারূহু বিগুলা-মিন ‘আলীম।

এতে তাদের সম্পর্কে ইবরাহীমের মনে ভয় দেখা ১২ দিল। তারা বলল, ভয় পাবেন না। অতঃপর তারা তাকে এক মস্ত জ্ঞানী পুত্রের সুসংবাদ দিল।

তাফসীরঃ

১২. ফেরেশতাগণ যেহেতু পানাহার করেন না, তাই তারা সে খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থেকেছিলেন, কিন্তু ইবরাহীম আলাইহিস সালাম দেশীয় প্রথা অনুযায়ী মনে করেছিলেন, তারা তার শত্রু (কেননা প্রথা অনুযায়ী শত্রুই মেযবানের বাড়িতে খাদ্য গ্রহণ করে না)। তারপর তারা যখন পুত্র জন্মের সংবাদ দিলেন, তখন তিনি বুঝতে পারলেন, তারা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে প্রেরিত ফেরেশতা। সুতরাং ৩০ নং আয়াতে তারা তাঁর সাথে সে হিসেবেই কথা বলেছেন।
২৯

فَاَقۡبَلَتِ امۡرَاَتُہٗ فِیۡ صَرَّۃٍ فَصَکَّتۡ وَجۡہَہَا وَقَالَتۡ عَجُوۡزٌ عَقِیۡمٌ ٢٩

ফাআকবালাতিম রাআতুহূফী সাররাতিন ফাসাক্কাত ওয়াজহাহা- ওয়াকা-লাত ‘আজূঝুন ‘আকীম।

তখন তার স্ত্রী উচ্চৈঃস্বরে বলতে বলতে সামনে আসল এবং সে তার গাল চাপড়িয়ে বলতে লাগল, এক বৃদ্ধা বন্ধ্যা (বাচ্চা জন্ম দেবে)?
৩০

قَالُوۡا کَذٰلِکِ ۙ قَالَ رَبُّکِ ؕ اِنَّہٗ ہُوَ الۡحَکِیۡمُ الۡعَلِیۡمُ ٣۰

কা-লূকাযা-লিকি কা-লা রাব্বুকি ইন্নাহূহুওয়াল হাকীমুল ‘আলীম।

অতিথিগণ বলল, তোমার প্রতিপালক এ রকমই বলেছেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি হেকমতওয়ালা, সর্বজ্ঞ।
৩১

قَالَ فَمَا خَطۡبُکُمۡ اَیُّہَا الۡمُرۡسَلُوۡنَ ٣١

কা-লা ফামা-খাতবুকুম আইয়ুহাল মুরছালূন।

ইবরাহীম বলল, ওহে আল্লাহ-প্রেরিত ফেরেশতাগণ! তোমাদের গুরু কার্যটি কী?
৩২

قَالُوۡۤا اِنَّاۤ اُرۡسِلۡنَاۤ اِلٰی قَوۡمٍ مُّجۡرِمِیۡنَ ۙ ٣٢

কা-লূইন্নাউরছিলনাইলা-কাওমিম মুজরিমীন।

তারা বলল, আমাদেরকে এক অপরাধী সম্প্রদায়ের কাছে পাঠানো হয়েছে।
৩৩

لِنُرۡسِلَ عَلَیۡہِمۡ حِجَارَۃً مِّنۡ طِیۡنٍ ۙ ٣٣

লিনুরছিলা ‘আলাইহিম হিজা-রাতাম মিন তীন।

যেন তাদের উপর নিক্ষেপ করি পাকা মাটির ঢেলা।
৩৪

مُّسَوَّمَۃً عِنۡدَ رَبِّکَ لِلۡمُسۡرِفِیۡنَ ٣٤

মুছাওয়ামাতান ‘ইন্দা রাব্বিকা লিলমুছরিফীন।

যাতে তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে বিশেষ চিহ্ন দেওয়া আছে সীমালংঘনকারীদের জন্য।
৩৫

فَاَخۡرَجۡنَا مَنۡ کَانَ فِیۡہَا مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ ٣٥

ফাআখরাজনা-মান কা-না ফীহা-মিনাল মু’মিনীন।

অতঃপর সেই জনপদে যেসব মুমিন ছিল আমি তাদেরকে সেখান থেকে বের করলাম।
৩৬

فَمَا وَجَدۡنَا فِیۡہَا غَیۡرَ بَیۡتٍ مِّنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ۚ ٣٦

ফামা-ওয়াজাদনা-ফীহা-গাইরা বাইতিম মিনাল মুছলিমীন।

এবং সেখানে একটি পরিবার ১৩ ছাড়া আর কোন মুসলিম পাইনি।

তাফসীরঃ

১৩. ইশারা হযরত লূত আলাইহিস সালামের পরিবারের প্রতি। তিনি ও তার দুই কন্যা ছাড়া আর কোনো মুসলিম সে জনপদে ছিল না।
৩৭

وَتَرَکۡنَا فِیۡہَاۤ اٰیَۃً لِّلَّذِیۡنَ یَخَافُوۡنَ الۡعَذَابَ الۡاَلِیۡمَ ؕ ٣٧

ওয়াতারাকনা-ফীহাআ-য়াতালিলল্লাযীনা ইয়াখা-ফূনাল ‘আযা-বাল আলীম।

আমি তাতে (শিক্ষা গ্রহণের জন্য) এক নিদর্শন রেখে দিয়েছি তাদের জন্য, যারা যন্ত্রণাময় শাস্তিকে ভয় করে।
৩৮

وَفِیۡ مُوۡسٰۤی اِذۡ اَرۡسَلۡنٰہُ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ بِسُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ ٣٨

ওয়া ফী মূছাইয আরছালনা -হু ইলা-ফির‘আওনা বিছুলতা-নিম মুবীন।

এবং মূসার ঘটনায়ও (আমি এ রকম নিদর্শন রেখেছি), যখন আমি তাকে এক প্রকাশ্য দলীলসহ ফির‘আউনের কাছে পাঠিয়েছিলাম।
৩৯

فَتَوَلّٰی بِرُکۡنِہٖ وَقَالَ سٰحِرٌ اَوۡ مَجۡنُوۡنٌ ٣٩

ফাতাওয়াল্লা-বিরুকনিহী ওয়াকা-লা ছা-হিরুন আও মাজনূন।

ফির‘আউন তার ক্ষমতার দর্পে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল, সে একজন যাদুকর অথবা উন্মাদ।
৪০

فَاَخَذۡنٰہُ وَجُنُوۡدَہٗ فَنَبَذۡنٰہُمۡ فِی الۡیَمِّ وَہُوَ مُلِیۡمٌ ؕ ٤۰

ফাআখাযনা-হু ওয়া জুনূদাহূফানাবাযনা-হুম ফিল ইয়াম্মি ওয়া হুওয়া মুলীম।

সুতরাং আমি তাকে ও তার বাহিনীকে পাকড়াও করলাম এবং সকলকে সাগরে নিক্ষেপ করলাম। সে তো ছিলই তিরস্কার যোগ্য।
৪১

وَفِیۡ عَادٍ اِذۡ اَرۡسَلۡنَا عَلَیۡہِمُ الرِّیۡحَ الۡعَقِیۡمَ ۚ ٤١

ওয়া ফী ‘আ-দিন ইযআরছালনা-‘আলাইহিমুররী হাল ‘আকীম।

এবং আদ জাতির মধ্যেও (আমি অনুরূপ নিদর্শন রেখেছিলাম), যখন আমি তাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলাম এমন ঝঞ্ঝা বায়ু, যা সর্বপ্রকার কল্যাণ থেকে বন্ধ্যা ছিল। ১৪

তাফসীরঃ

১৪. অর্থাৎ তা ছিল শাস্তির ঝড়ো হাওয়া, যে কারণে সাধারণত বাতাসের মধ্যে যেসব উপকার থাকে তার মধ্যে তা ছিল না, আদ জাতির বৃত্তান্ত সূরা আরাফে (৭ : ৬৫) এবং ছামুদ জাতির বৃত্তান্ত সূরা আরাফে (৭ : ৭৩) গত হয়েছে।
৪২

مَا تَذَرُ مِنۡ شَیۡءٍ اَتَتۡ عَلَیۡہِ اِلَّا جَعَلَتۡہُ کَالرَّمِیۡمِ ؕ ٤٢

মা-তাযারু মিন শাইয়িন আতাত ‘আলাইহি ইল্লা-জা‘আলাতহু কার রামীম।

তা যা-কিছুর উপর দিয়েই বয়ে যেত তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে রেখে যেত।
৪৩

وَفِیۡ ثَمُوۡدَ اِذۡ قِیۡلَ لَہُمۡ تَمَتَّعُوۡا حَتّٰی حِیۡنٍ ٤٣

ওয়া ফী ছামূদা ইযকীলা লাহুম তামাত্তা‘ঊ হাত্তা-হীন।

এবং ছামুদ জাতির মধ্যেও (অনুরূপ নিদর্শন রেখেছিলাম), যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, কিছু কালের জন্য মজা লুটে নাও (এর মধ্যে নিজেদের না শোধরালে শাস্তি ভোগ করতে হবে)।
৪৪

فَعَتَوۡا عَنۡ اَمۡرِ رَبِّہِمۡ فَاَخَذَتۡہُمُ الصّٰعِقَۃُ وَہُمۡ یَنۡظُرُوۡنَ ٤٤

ফা‘আতাও ‘আন আমরি রাব্বিহিম ফাআখাযাতহুমুসসা-‘ইকাতুওয়া হুম ইয়ানজুরূন।

কিন্তু তারা তাদের প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল। ফলে তাদেরকে আক্রান্ত করল বজ্র এবং তারা তা দেখছিল। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. হযরত সালিহ ‘আলায়হিস সালাম তাদেরকে বলেছিলেন, ‘তোমাদেরকে তিনদিন পর চরম শাস্তি দেওয়া হবে। আগামীকাল তোমাদের চেহারা হলুদ হয়ে যাবে। তার পরের দিন হবে লাল এবং তৃতীয় দিন কালো। পরদিন ভোরে আসবে আসল শাস্তি। তারা যখন এসব আলামত দেখতে পাচ্ছিল তখন উচিত তো ছিল তওবা করা, তা না করে উল্টো তারা হযরত সালিহ আলায়হিস সালামকেই হত্যা করতে উদ্যত হল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাকে রক্ষা করলেন এবং চতুর্থদিন ভোরে বজ্রাঘাত ও অগ্নিবর্ষণ দ্বারা তাদেরকে ধ্বংস করে দিলেন। -অনুবাদক
৪৫

فَمَا اسۡتَطَاعُوۡا مِنۡ قِیَامٍ وَّمَا کَانُوۡا مُنۡتَصِرِیۡنَ ۙ ٤٥

ফামাছতাতা-‘ঊ মিন কিয়া-মিওঁ ওয়ামা-কা-নূমুনতাসিরীন।

ফলে তারা না পারল উঠে দাঁড়াতে আর না ছিল তারা আত্মরক্ষায় সক্ষম।
৪৬

وَقَوۡمَ نُوۡحٍ مِّنۡ قَبۡلُ ؕ  اِنَّہُمۡ کَانُوۡا قَوۡمًا فٰسِقِیۡنَ ٪ ٤٦

ওয়া কাওমা নূহিম মিন কাবলু ইন্নাহুম কা-নূকাওমান ফা-ছিকীন।

তারও আগে আমি নূহের সম্প্রদায়কে পাকড়াও করেছিলাম। ১৬ নিশ্চয়ই তারা ছিল এক অবাধ্য সম্প্রদায়।

তাফসীরঃ

১৬. হযরত নূহ আলাইহিস সালাম ও তাঁর সম্প্রদায়ের বৃত্তান্ত বিস্তারিতভাবে সূরা হুদে (১১ : ২৫-৪৮) গত হয়েছে।
৪৭

وَالسَّمَآءَ بَنَیۡنٰہَا بِاَیۡىدٍ وَّاِنَّا لَمُوۡسِعُوۡنَ ٤٧

ওয়াছ ছামাআ বানাইনা-হা-বিআইদিওঁ ওয়া ইন্না-লামূছি‘ঊন।

আমি আকাশকে নির্মাণ করেছি (আমার) ক্ষমতাবলে এবং নিশ্চয়ই আমি বিস্তৃতি দাতা। ১৭

তাফসীরঃ

১৭. কোন কোন মুফাসসির এর ব্যাখ্যা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করে মানুষের রিযকে বিস্তৃতি ও প্রাচুর্য দান করেছেন। কোন কোন মুফাসসির বাক্যটির তরজমা করেছেন, ‘আমার ক্ষমতা অতি বিস্তৃত’। এর এরূপ অর্থও করা যেতে পারে যে, ‘আমি আকাশকেই বিস্তৃতি দান করেছি।’
৪৮

وَالۡاَرۡضَ فَرَشۡنٰہَا فَنِعۡمَ الۡمٰہِدُوۡنَ ٤٨

ওয়াল আর দা ফারাশ-হা-ফানি‘মাল মা-হিদূন।

আমি ভূমিকে বিছিয়ে দিয়েছি। সুতরাং আমি কত উত্তম করে বিছাই!
৪৯

وَمِنۡ کُلِّ شَیۡءٍ خَلَقۡنَا زَوۡجَیۡنِ لَعَلَّکُمۡ تَذَکَّرُوۡنَ ٤٩

ওয়া মিন কুল্লি শাইয়িন খালাকনা-ঝাওজাইনি লা‘আল্লাকুম তাযাক্কারূন।

আমি প্রতিটি বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, ১৮ যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।

তাফসীরঃ

১৮. কুরআন মাজীদ একাধিক স্থানে এই বাস্তবতা তুলে ধরেছে যে, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি বস্তুর মধ্যে স্ত্রী ও পুরুষের যুগল সৃষ্টি করেছেন। বিজ্ঞান আগে এ সত্য জানতে পারেনি, তবে আধুনিক বিজ্ঞান এই কুরআনী তত্ত্ব স্বীকার করে নিয়েছে।
৫০

فَفِرُّوۡۤا اِلَی اللّٰہِ ؕ  اِنِّیۡ لَکُمۡ مِّنۡہُ نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ۚ ٥۰

ফাফিররূইলাল্লা-হি ইন্নী লাকুম মিনহু নাযীরুম মুবীন।

সুতরাং ধাবিত হও আল্লাহর দিকে। ১৯ নিশ্চয়ই আমি তাঁর পক্ষ হতে তোমাদের কাছে এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী (হয়ে এসেছি)।

তাফসীরঃ

১৯. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার মনোনীত দীনের উপর ঈমান আনা ও তার দাবি অনুযায়ী কাজ করার জন্য দ্রুত এগিয়ে চল।
৫১

وَلَا تَجۡعَلُوۡا مَعَ اللّٰہِ اِلٰـہًا اٰخَرَ ؕ  اِنِّیۡ لَکُمۡ مِّنۡہُ نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ۚ ٥١

ওয়ালা-তাজ‘আলূমা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা ইন্নী লাকুম মিনহু নাযীরুম মুবীন।

আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে মাবুদ বানিও না। নিশ্চয়ই আমি তাঁর পক্ষ হতে তোমাদের কাছে এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী (হয়ে এসেছি)।
৫২

کَذٰلِکَ مَاۤ اَتَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ مِّنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا قَالُوۡا سَاحِرٌ اَوۡ مَجۡنُوۡنٌ ۚ ٥٢

কাযা-লিকা মাআতাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম মির রাছূলিন ইল্লা-কা-লূছা-হিরুন আও মাজনূন।

এমনিভাবে তাদের আগে যারা ছিল, তাদের কাছেও এমন কোন রাসূল আসেনি, যার সম্পর্কে তারা বলেনি যে, সে একজন যাদুকর বা উন্মাদ।
৫৩

اَتَوَاصَوۡا بِہٖ ۚ  بَلۡ ہُمۡ قَوۡمٌ طَاغُوۡنَ ۚ ٥٣

আতাওয়া-সাও বিহী বাল হুম কাওমুন তা-গূন।

তারা কি পরস্পরে এ কথার অসিয়ত করে আসছে? না, বরং তারা এক উদ্ধত সম্প্রদায়। ২০

তাফসীরঃ

২০. অর্থাৎ পূর্ববর্তীগণ পরবর্তীদেরকে এই ওসিয়ত করে যায় নি যে, তারাও যেন তাদের মত রাসূলদেরকে অস্বীকার করে। বরং পূর্ববর্তীদের মত তারাও অত্যন্ত উদ্ধত এক জাতি। ঔদ্ধত্যই পূর্ববর্তীদেরকে অবিশ্বাস ও অবাধ্যতায় প্ররোচিত করেছিল। আর সেই একই চরিত্রের কারণে এরাও তাদের মত কর্মকাণ্ড করছে। -অনুবাদক
৫৪

فَتَوَلَّ عَنۡہُمۡ فَمَاۤ اَنۡتَ بِمَلُوۡمٍ ٭۫ ٥٤

ফাতাওয়াল্লা ‘আনহুম ফামাআনতা বিমালূম।

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে অগ্রাহ্য কর। কেননা তুমি নিন্দাযোগ্য নও।
৫৫

وَّذَکِّرۡ فَاِنَّ الذِّکۡرٰی تَنۡفَعُ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٥٥

ওয়া যাক্কির ফাইন্নাযযিকরা-তানফা‘উল মু’মিনীন।

এবং উপদেশ দিতে থাক। কেননা উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।
৫৬

وَمَا خَلَقۡتُ الۡجِنَّ وَالۡاِنۡسَ اِلَّا لِیَعۡبُدُوۡنِ ٥٦

ওয়ামা-খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইনছা ইল্লা-লিইয়া‘বুদূন।

আমি জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার ইবাদত করবে।
৫৭

مَاۤ اُرِیۡدُ مِنۡہُمۡ مِّنۡ رِّزۡقٍ وَّمَاۤ اُرِیۡدُ اَنۡ یُّطۡعِمُوۡنِ ٥٧

মাউরীদুমিনহুম মির রিঝকিওঁ ওয়ামাউরীদুআইঁ ইয়ুত‘ইমূন।

আমি তাদের কাছে কোন রকম রিযক চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে খাবার দিক।
৫৮

اِنَّ اللّٰہَ ہُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الۡقُوَّۃِ الۡمَتِیۡنُ ٥٨

ইন্নাল্লা-হা হুওয়াররাঝঝা-কুযুল কুওওয়াতিল মাতীন।

আল্লাহ নিজেই তো রিযিকদাতা এবং তিনি প্রবল পরাক্রমশালী।
৫৯

فَاِنَّ لِلَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ذَنُوۡبًا مِّثۡلَ ذَنُوۡبِ اَصۡحٰبِہِمۡ فَلَا یَسۡتَعۡجِلُوۡنِ ٥٩

ফাইন্না লিল্লাযীনা জালামূযানূবাম মিছলা যানূবি আসহা-বিহিম ফালা-ইয়াছতা‘জিলূন।

যারা জুলুম করেছে তাদেরও (শাস্তির) সেই পালা আসবে, যেমন পালা এসেছিল তাদের (পূর্ববর্তী) অনুরূপ লোকদের ক্ষেত্রে। সুতরাং তারা যেন আমার কাছে তাড়াহুড়া করে (শাস্তি) না চায়।
৬০

فَوَیۡلٌ لِّلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ یَّوۡمِہِمُ الَّذِیۡ یُوۡعَدُوۡنَ ٪ ٦۰

ফাওয়াইলুলিলল্লাযীনা কাফারূমিইঁ ইয়াওমিহিমুল্লাযী ইঊ‘আদুন।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ সেই দিনের, যে দিনের প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে।