সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আত্ ত্বুর (الـطور) | পাহাড়

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৪৯

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَالطُّوۡرِ ۙ ١

ওয়াততূরি।

কসম তূর পাহাড়ের,

وَکِتٰبٍ مَّسۡطُوۡرٍ ۙ ٢

ওয়া কিতা-বিম মাছতূর।

এবং সেই কিতাবের,

فِیۡ رَقٍّ مَّنۡشُوۡرٍ ۙ ٣

ফী-রাক্কিম মানশূর।

যা লেখা আছে খোলা পাতায়।

وَّالۡبَیۡتِ الۡمَعۡمُوۡرِ ۙ ٤

ওয়াল বাইতিল মা‘মূর।

এবং কসম ‘বায়তুল মামুর’-এর

وَالسَّقۡفِ الۡمَرۡفُوۡعِ ۙ ٥

ওয়াছছাকফিল মারফূ‘।

এবং উন্নীত ছাদের

وَالۡبَحۡرِ الۡمَسۡجُوۡرِ ۙ ٦

ওয়াল বাহরিল মাছজূর।

এবং উত্তাল সাগরের

اِنَّ عَذَابَ رَبِّکَ لَوَاقِعٌ ۙ ٧

ইন্না ‘আযা-বা রাব্বিকা লাওয়া-কি‘।

তোমার প্রতিপালকের আযাব অবশ্যম্ভাবী।

তাফসীরঃ

১. পূর্বের সূরায় কুরআন মাজীদের কসমসমূহ সম্পর্কে যে টীকা লেখা হয়েছে, এখানেও তা দেখে নেওয়া চাই। এখানে আল্লাহ তাআলা কসম করেছেন চারটি জিনিসের। (এক) তূর পাহাড়ের। এ পাহাড়ে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের কথোপকথন হয়েছিল এবং আল্লাহ তাআলা তাকে তাওরাত দান করেছিলেন। এর দ্বারা ইশারা করা হয়েছে যে, আখেরাতে অবাধ্যদের শাস্তি দানের ঘোষণাটি অভিনব কিছু নয়; বরং তূর পাহাড়ে হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে যে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাও একথার সাক্ষ্য দেয়। (দুই) দ্বিতীয় কসম করা হয়েছে একখানি কিতাবের, যা খোলা পাতায় লেখা। কোন কোন মুফাসসির বলেন, এর দ্বারা তাওরাত বোঝানো হয়েছে। সে হিসেবে আখেরাতের আযাবের সাথে এ কসমের সম্পর্কও ঠিক সেই রকমেরই যেমনটা তূর পাহাড় সম্পর্কে বলা হয়েছে। তবে অপর কতক মুফাসসিরের মতে এর দ্বারা আমলনামা বোঝানো উদ্দেশ্য। সে হিসেবে এর ব্যাখ্যা এই যে, সদা-সর্বদা মানুষের যে আমলনামা লেখা হচ্ছে তা প্রমাণ করে একদিন না একদিন হিসাব-নিকাশ হবেই এবং তখন অবাধ্যদেরকে অবশ্যই তাদের অপরাধের শাস্তি ভোগ করতে হবে। (তিন) তৃতীয় কসম করা হয়েছে ‘বায়তুল মামুর’-এর। এটা ঊর্ধ্ব জগতের একটি ঘর, ঠিক দুনিয়ার বাইতুল্লাহ শরীফের মত। ঊর্ধ্ব জগতের এ ঘর হল ফেরেশতাদের ইবাদতখানা। এ ঘরের কসম করে বলা হচ্ছে, ফেরেশতাগণ যদিও মানুষের মত বিধি-বিধানপ্রাপ্ত নয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা ইবাদতে মশগুল থাকে। মানুষকে তো বিধি-বিধান দেওয়াই হয়েছে এজন্য যে, তারা আল্লাহ তাআলার ইবাদতে লিপ্ত থাকবে। অন্যথায় তারা শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যাবে। (চার) চতুর্থ কসম করা হয়েছে উঁচু ছাদের অর্থাৎ আকাশের। (পাঁচ) আর পঞ্চম কসমটি হল পরিপ্লুত সাগরের। এ কসম দু’টি দ্বারা ইশারা করা হয়েছে, শাস্তি ও পুরস্কারের বিষয়টি না থাকলে উপরে আকাশ ও নিচে সাগর বিশিষ্ট এ জগত সৃষ্টি অহেতুক হয়ে যায়। এর দ্বারা আরও বোঝানো হচ্ছে যে, যেই মহান সত্তা এত বড় বড় বস্তু সৃষ্টি করতে সক্ষম, নিশ্চয়ই তিনি মানুষকে পুনর্জীবিত করারও ক্ষমতা রাখেন।

مَّا لَہٗ مِنۡ دَافِعٍ ۙ ٨

মা-লাহূমিন দা-ফি‘।

তা রোধ করতে পারে এমন কেউ নেই।

یَّوۡمَ تَمُوۡرُ السَّمَآءُ مَوۡرًا ۙ ٩

ইয়াওমা তামূরুছ ছামাউ মাওরা-।

যে দিন আকাশ কেঁপে উঠবে থরথর করে,
১০

وَّتَسِیۡرُ الۡجِبَالُ سَیۡرًا ؕ ١۰

ওয়া তাছীরুল জিবা-লুছাইরা-।

এবং পবর্তমালা সঞ্চলন করবে ভয়ানক ভাবে
১১

فَوَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُکَذِّبِیۡنَ ۙ ١١

ফাওয়াইলুইঁ ইয়াওমাইযিলিললমুকাযযিবীন।

সে দিন মহা দুর্ভোগ হবে, সত্য প্রত্যাখ্যান কারীদের,
১২

الَّذِیۡنَ ہُمۡ فِیۡ خَوۡضٍ یَّلۡعَبُوۡنَ ۘ ١٢

আল্লাযীনা হুম ফী খাওদিইঁ ইয়াল‘আবূন।

যারা বৃথা কথাবার্তায় নিমজ্জিত থেকে খেল-তামাশা করছে।
১৩

یَوۡمَ یُدَعُّوۡنَ اِلٰی نَارِ جَہَنَّمَ دَعًّا ؕ ١٣

ইয়াওমা ইউদা‘‘ঊনা ইলা-না-রি জাহান্নামা দা‘‘আ-।

সে দিন যখন তাদেরকে ধাক্কিয়ে ধাক্কিয়ে জাহান্নামের আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।
১৪

ہٰذِہِ النَّارُ الَّتِیۡ کُنۡتُمۡ بِہَا تُکَذِّبُوۡنَ ١٤

হা-যিহিন্না-রুল্লাতী কুনতুম বিহা-তুকাযযিবূন।

(এবং বলা হবে) এই সেই আগুন, যাকে তোমরা অবিশ্বাস করতে।
১৫

اَفَسِحۡرٌ ہٰذَاۤ اَمۡ اَنۡتُمۡ لَا تُبۡصِرُوۡنَ ۚ ١٥

আফাছিহরুন হা-যাআম আনতুম লা-তুবসিরূন।

এটা কি যাদু, না কি তোমরা (এখনও) কিছু দেখতে পাচ্ছ না?
১৬

اِصۡلَوۡہَا فَاصۡبِرُوۡۤا اَوۡ لَا تَصۡبِرُوۡا ۚ سَوَآءٌ عَلَیۡکُمۡ ؕ اِنَّمَا تُجۡزَوۡنَ مَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ١٦

ইসলাওহা-ফাসবিরূআওলা-তাসবিরূ ছাওয়াউন ‘আলাইকুম ইন্নামা-তুজঝাওনা মা-কুনতুম তা‘মালূন।

তোমরা এতে প্রবেশ কর। অতঃপর তোমরা ধৈর্য ধর বা নাই ধর তোমাদের পক্ষে উভয়ই সমান। তোমাদেরকে কেবল সেই সব কর্মেরই প্রতিফল দেওয়া হবে, যা তোমরা করতে।
১৭

اِنَّ الۡمُتَّقِیۡنَ فِیۡ جَنّٰتٍ وَّنَعِیۡمٍ ۙ ١٧

ইন্নাল মুত্তাকীনা ফী জান্না-তিওঁ ওয়া না‘ঈম।

নিশ্চয়ই মুত্তাকীগণ উদ্যানরাজি ও নি‘আমতের ভেতর থাকবে।
১৮

فٰکِہِیۡنَ بِمَاۤ اٰتٰہُمۡ رَبُّہُمۡ ۚ وَوَقٰہُمۡ رَبُّہُمۡ عَذَابَ الۡجَحِیۡمِ ١٨

ফা-কিহীনা বিমাআ-তা-হুম রাব্বুহুম ওয়া ওয়াকা-হুম রাব্বুহুম ‘আযা-বাল জাহীম।

তাদের প্রতিপালক তাদেরকে যা-কিছু দান করবেন এবং তাদের প্রতিপালকই তাদেরকে যেভাবে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন, তারা তা উপভোগ করবে।

তাফসীরঃ

২. ‘আল্লামা আলুসী (রহ.) আয়াতটির বিন্যাসগত যে বিশ্লেষণ দিয়েছেন সেই আলোকেই এর তরজমা করা হয়েছে। তিনি বলেন, وَوَقٰهُمْ رَبُّهُمْ عَذَابَ الْجَحِيْمِ -এর عطف হয়েছে اتاهم -এর উপর, যদি ما শব্দটিকে مصدربة (ক্রিয়ামূল বোধক) ধরা হয় (বাক্যটির বিশ্লিষ্ট রূপ এ রকম فاكهين بايتائهم ربهم ووقايتهم عذاب الجحيم
১৯

کُلُوۡا وَاشۡرَبُوۡا ہَنِیۡٓـًٔۢا بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ۙ ١٩

কুলূওয়াশরাবূহানীআম বিমা-কুনতুম তা‘মালূন।

(তাদেরকে বলা হবে,) তৃপ্তি সহকারে পানাহার কর, তোমরা যা করতে তার পুরস্কার স্বরূপ।
২০

مُتَّکِئِیۡنَ عَلٰی سُرُرٍ مَّصۡفُوۡفَۃٍ ۚ وَزَوَّجۡنٰہُمۡ بِحُوۡرٍ عِیۡنٍ ٢۰

মুত্তাকিঈনা ‘আলা-ছুরুরিম মাসফূফাতিওঁ ওয়াঝাওওয়াজনা-হুম বিহূরিন ‘ঈন।

তারা সারিবদ্ধভাবে সাজানো আসনে হেলান দেওয়া অবস্থায় থাকবে এবং আমি ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুরদের সাথে তাদের বিবাহ দেব।
২১

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَاتَّبَعَتۡہُمۡ ذُرِّیَّتُہُمۡ بِاِیۡمَانٍ اَلۡحَقۡنَا بِہِمۡ ذُرِّیَّتَہُمۡ وَمَاۤ اَلَتۡنٰہُمۡ مِّنۡ عَمَلِہِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ ؕ کُلُّ امۡرِیًٴۢ بِمَا کَسَبَ رَہِیۡنٌ ٢١

ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়াত্তাবা‘আতহুম যুররিইইয়াতুহুম বিঈমা-নিন আলহাকনা-বিহিম যুররিইইয়াতাহুম ওয়ামাআলাতনা-হুম মিন ‘আমালিহিম মিন শাইয়িন কুল্লুমরিইম বিমাকাছাবা রাহীন।

যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের সন্তান-সন্ততিগণ ঈমানের ক্ষেত্রে তাদের অনুগামী হয়েছে, আমি তাদের সন্তান-সন্ততিদেরকে তাদের সাথে মিলিয়ে দেব এবং তাদের কর্ম হতে কিছুমাত্র হ্রাস করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের বিনিময়ে বন্ধক রয়েছে।

তাফসীরঃ

৩. رهين মানে বন্ধকীকৃত, অর্থাৎ ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা স্বরূপ যে বস্তু বন্ধক রেখে ঋণের লেনদেন হয়। আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মানুষকে যে যোগ্যতা দান করেছেন তা তাকে প্রদত্ত আল্লাহ তাআলার ঋণ। এ ঋণের দায় থেকে সে কেবল তখনই মুক্তি পেতে পারে, যখন সে তার যোগ্যতাকে আল্লাহ তাআলার হুকুম মোতাবেক ব্যবহার করবে। দুনিয়ায় তার প্রমাণ হয় ঈমান আনা ও সৎকর্ম করার দ্বারা। এ ঋণের দায়ে প্রত্যেক ব্যক্তির সত্তা এমনভাবে বন্ধক রাখা আছে যে, সে যদি ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে নিজ দেনা পরিশোধ করতে পারে, তবে আখেরাতে তার মুক্তি ও স্বাধীনতা লাভ হবে। সে জান্নাতে সুখণ্ডশান্তিতে বসবাস করবে। পক্ষান্তরে সে যদি এ দেনা শোধ না করে, তবে তাকে জাহান্নামে বন্দী থাকতে হবে। আয়াতে এ বাক্যটি উল্লেখ করে বোঝানো হচ্ছে যে, যেই ঈমানদারদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা জান্নাতে পুরস্কৃত হবে এবং তাদের মুমিন সন্তানদেরকেও তাদের স্তরে পৌঁছিয়ে দেওয়া হবে, তারা আল্লাহ তাআলার আদেশ-নিষেধ মেনে চলার মাধ্যমে নিজেদের দেনা শোধ করে ফেলেছে এবং নিজেদেরকে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত করে নিয়েছে। কিন্তু কারও সন্তান যদি মুমিনই না হয়, তবে পিতা-মাতার ঈমান আনার দ্বারা তার কোন উপকার হবে না। কেননা যে জন্য তার সত্তা বন্ধক রাখা ছিল তা সে পরিশোধ করেনি। তাই তাকে জাহান্নামে আটক হয়ে থাকতে হবে। এ স্থলে বাক্যটির আরও এক তাৎপর্য থাকা সম্ভব। তা এই যে, পিতার পুণ্যের কারণে তার সন্তানের মর্যাদা তো বৃদ্ধি করা হবে, কিন্তু সন্তানের দুষ্কর্মের কারণে পিতাকে কোন শাস্তি ভোগ করতে হবে না। কেননা প্রত্যেকের সত্তা তার নিজ কর্মের বিনিময়েই বন্ধক রাখা আছে, অন্যের কর্মের বিনিময়ে নয়।
২২

وَاَمۡدَدۡنٰہُمۡ بِفَاکِہَۃٍ وَّلَحۡمٍ مِّمَّا یَشۡتَہُوۡنَ ٢٢

ওয়া আম দাদ না-হুম বিফা-কিহাতিওঁ ওয়া লাহমিম মিম্মা-ইয়াশতাহূন।

আমি তাদেরকে তাদের চাহিদামত একের পর এক ফল ও গোশত দেব,
২৩

یَتَنَازَعُوۡنَ فِیۡہَا کَاۡسًا لَّا لَغۡوٌ فِیۡہَا وَلَا تَاۡثِیۡمٌ ٢٣

ইয়াতানা-ঝা‘ঊনা ফীহা-কা’ছাল লা-লাগউন ফীহা-ওয়ালা-তা’ছীম।

সেখানে তারা (বন্ধুত্বপূর্ণভাবে) কাড়াকাড়ি করবে সূরা পাত্র নিয়ে, যা পান করার দ্বারা কোন অনর্থ ঘটবে না এবং হবে না কোন গুনাহ।

তাফসীরঃ

৫. ‘কাড়াকাড়ি’ শব্দ দ্বারা এমন প্রীতিপূর্ণ খুনসুটি বোঝানো হয়েছে, যা কোন উপভোগ্য বস্তুর স্বাদ গ্রহণের জন্য বন্ধুজনদের মধ্যে হয়ে থাকে এবং যাতে কারও মনে কষ্ট হয় না; বরং তাতে মজলিসের মাধুর্য আরও বেড়ে যায়। সুতরাং বলা হয়েছে যে, সেই সুরাপাত্র থেকে পান করার দ্বারা কোনও রকম অনর্থ ঘটবে না এবং গুনাহের কোন কাজও হবে না, যা সাধারণত দুনিয়ার সুরাখোরদের মধ্যে হয়ে থাকে। সে সুরায় এমন নেশা থাকবে না, যার দরুন মানুষ অশোভন কাজে উৎসাহ পায়।
২৪

وَیَطُوۡفُ عَلَیۡہِمۡ غِلۡمَانٌ لَّہُمۡ کَاَنَّہُمۡ لُؤۡلُؤٌ مَّکۡنُوۡنٌ ٢٤

ওয়া ইয়াতূফু‘আলাইহিম গিলমা-নুল্লাহুম কাআন্নাহুম লু’লুউম মাকনূন।

তাদের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করবে এমন কিশোররা, যারা তাদের (সেবার) জন্য নিয়োজিত থাকবে, তারা (এমন রূপবান) যেন লুকিয়ে রাখা মুক্তা।
২৫

وَاَقۡبَلَ بَعۡضُہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ یَّتَسَآءَلُوۡنَ ٢٥

ওয়া আকবালা বা‘দুহুম ‘আলা-বা‘দিইঁ ইয়াতাছাআলূন।

তারা একে অন্যের দিকে ফিরে অবস্থাদি জিজ্ঞেস করবে।
২৬

قَالُوۡۤا اِنَّا کُنَّا قَبۡلُ فِیۡۤ اَہۡلِنَا مُشۡفِقِیۡنَ ٢٦

কা-লূইন্না-কুন্না-কাবলুফীআহলিনা-মুশফিকীন।

বলবে, আমরা পূর্বে আমাদের পরিবারবর্গের মধ্যে (অর্থাৎ দুনিয়ায়) বড় ভয়ের ভেতর ছিলাম।
২৭

فَمَنَّ اللّٰہُ عَلَیۡنَا وَوَقٰىنَا عَذَابَ السَّمُوۡمِ ٢٧

ফামান্নাল্লা-হু ‘আলাইনা-ওয়া ওয়াকা-না ‘আযা-বাছছামূম।

অবশেষে আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে রক্ষা করেছেন উত্তপ্ত বায়ুর শাস্তি থেকে।
২৮

اِنَّا کُنَّا مِنۡ قَبۡلُ نَدۡعُوۡہُ ؕ  اِنَّہٗ ہُوَ الۡبَرُّ الرَّحِیۡمُ ٪ ٢٨

ইন্না-কুন্না-মিন কাবলুনাদ‘ঊহু ইন্নাহূহুওয়াল বাররুর রাহীম।

আমরা এর আগে তার কাছে দুআ করতাম। বস্তুত তিনি অতি অনুগ্রহশীল, পরম দয়ালু।
২৯

فَذَکِّرۡ فَمَاۤ اَنۡتَ بِنِعۡمَتِ رَبِّکَ بِکَاہِنٍ وَّلَا مَجۡنُوۡنٍ ؕ ٢٩

ফাযাক্কির ফামাআনতা বিনি‘মাতি রাব্বিকা বিকা-হিনিওঁ ওয়ালা-মাজনূন।

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি উপদেশ দিতে থাক। কেননা তুমি তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহে নও অতীন্দ্রিয়বাদী এবং নও উন্মাদ।
৩০

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ شَاعِرٌ نَّتَرَبَّصُ بِہٖ رَیۡبَ الۡمَنُوۡنِ ٣۰

আম ইয়াকূলূনা শা-‘ইরুন নাতারাব্বাসুবিহী রাইবাল মানূন।

তারা কি বলে, সে একজন কবি, যার জন্য আমরা কালচক্রের অপেক্ষায় আছি?

তাফসীরঃ

৬. আরবী ব্যাকরণ অনুসারে বাক্যটির অর্থ এ রকমও করা যায় যে, ‘সে একজন কবি, আমরা যার মৃত্যু ঘটার অপেক্ষা করছি।’ আল্লামা সুয়ুতী (রহ.) বর্ণনা করেছেন যে, কুরাইশের কতিপয় নেতা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলত, সে তো একজন কবি মাত্র এবং অন্যান্য কবিরা যেমন মরে শেষ হয়ে গেছে এবং তাদের কবিত্বও তাদের মৃত্যুর সাথে দাফন হয়ে গেছে, তেমনি এরও একদিন মৃত্যু ঘটবে এবং এর সব কথাবার্তাও কবরে চলে যাবে। সুতরাং আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি। আয়াতে তাদের এ কথারই জবাব দেওয়া হয়েছে।
৩১

قُلۡ تَرَبَّصُوۡا فَاِنِّیۡ مَعَکُمۡ مِّنَ الۡمُتَرَبِّصِیۡنَ ؕ ٣١

কুল তারাব্বাসূফাইন্নী মা‘আকুম মিনাল মুতারাব্বিসীন।

বলে দাও, অপেক্ষা করতে থাক, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান আছি।
৩২

اَمۡ تَاۡمُرُہُمۡ اَحۡلَامُہُمۡ بِہٰذَاۤ اَمۡ ہُمۡ قَوۡمٌ طَاغُوۡنَ ۚ ٣٢

আম তা’মুরুহুম আহলা-মুহুম বিহা-যাআম হুম কাওমুন তা-গূন।

তাদের বুদ্ধি কি তাদেরকে এসব করতে বলে, নাকি তারা এক অবাধ্য সম্প্রদায়।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ তারা তো নিজেদেরকে খুবই বুদ্ধিমান বলে দাবি করে। তা তাদের বুদ্ধির কি এমনই দশা যে, একেবারে সামনের বিষয়টাও তারা বুঝতে পারছে না? ফলে এ রকম আবোল তাবোল কথা বলছে? না কি সত্য কথা তারা ঠিকই উপলব্ধি করতে পারে, কিন্তু স্বভাবগত অবাধ্যতার কারণে তা তারা মানতে পারছে না?
৩৩

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ تَقَوَّلَہٗ ۚ  بَلۡ لَّا یُؤۡمِنُوۡنَ ۚ ٣٣

আম ইয়াকূলূনা তাকাওওয়ালাহূ বাল্লা-ইউ’মিনূন।

তারা কি বলে, সে এটা (এই কুরআন) নিজে রচনা করে নিয়েছে? না, বরং তারা (জিদের কারণে) ঈমান আনছে না।
৩৪

فَلۡیَاۡتُوۡا بِحَدِیۡثٍ مِّثۡلِہٖۤ اِنۡ کَانُوۡا صٰدِقِیۡنَ ؕ ٣٤

ফালইয়া’তূবিহাদীছিম মিছলিহীইন কা-নূসা-দিকীন।

তারা সত্যবাদী হলে এর মত কোন বাণী (নিজেরা রচনা করে) নিয়ে আসুক।

তাফসীরঃ

৮. কুরআন মাজীদ কয়েক জায়গায় এ রকম চ্যালেঞ্জ দিয়েছে যে, তোমরা যদি কুরআনকে মানব রচিত বল, তবে তোমাদের মধ্যেও তো বড়-বড় কবি-সাহিত্যিক ও অলঙ্কারবিদ আছে, সকলে মিলে এ রকম কোন বাণী তৈরি করে আন তো দেখি! (দেখুন সূরা বাকারা ২ : ২৩, সূরা ইউনুস ১০ : ৩৮; সূরা হুদ ১১ : ১৩ ও সূরা বনী ইসরাঈল ১৭ : ৮৮)। কিন্তু এই খোলা চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য তাদের কেউ এগিয়ে আসতে পারেনি।
৩৫

اَمۡ خُلِقُوۡا مِنۡ غَیۡرِ شَیۡءٍ اَمۡ ہُمُ الۡخٰلِقُوۡنَ ؕ ٣٥

আম খুলিকূমিন গাইরি শাইয়িন আম হুমুল খা-লিকূন।

তারা কি কারও ছাড়া আপনা-আপনিই সৃষ্টি হয়ে গেছে, না কি তারাই (নিজেদের) স্রষ্টা?
৩৬

اَمۡ خَلَقُوا السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ ۚ  بَلۡ لَّا یُوۡقِنُوۡنَ ؕ ٣٦

আম খালাকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা বাল্লা-ইঊকিনূন।

না কি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী তারা সৃষ্টি করেছে? না; বরং (মূল কথা হচ্ছে) তারা বিশ্বাসই রাখে না।
৩৭

اَمۡ عِنۡدَہُمۡ خَزَآئِنُ رَبِّکَ اَمۡ ہُمُ الۡمُصَۜیۡطِرُوۡنَ ؕ ٣٧

আম ‘ইনদাহুম খাঝাইনুরাব্বিকা আম হুমুল মুসাইতিরূন।

তোমার প্রতিপালকের ভাণ্ডার কি তাদের কাছে, নাকি তারাই (সবকিছুর) নিয়ন্ত্রক?

তাফসীরঃ

৯. মক্কা মুকাররমার কাফেরগণ বলত, আল্লাহ তাআলার যদি কোন নবী পাঠানোর দরকারই ছিল, তবে মক্কা মুকাররমা বা তায়েফের কোন বড় সর্দারকে কেন নবী বানালেন না? (দেখুন সূরা যুখরুফ ৪৩ : ৩১)। আল্লাহ তাআলা বলছেন, আল্লাহ তাআলার রহমতের ভাণ্ডার, কাউকে নবী বানানোও যার অন্তর্ভুক্ত, তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার অধীন নাকি যে, তারা যাকে ইচ্ছা করবে তাকেই নবী বানানো হবে?
৩৮

اَمۡ لَہُمۡ سُلَّمٌ یَّسۡتَمِعُوۡنَ فِیۡہِ ۚ  فَلۡیَاۡتِ مُسۡتَمِعُہُمۡ بِسُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ ؕ ٣٨

আম লাহুম ছুল্লামুইঁ ইয়াছতামি‘ঊনা ফীহি ফালইয়া’তি মুছতামি‘উহুম বিছুলতা-নিম মুবীন।

না কি তাদের কাছে আছে কোন সিঁড়ি, যাতে চড়ে তারা এটা (ঊর্ধ্ব জগতের কথাবার্তা) শুনতে পায়। তাই যদি হয়, তবে তাদের মধ্যে যে শোনে, সে সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ উপস্থিত করুক। ১০

তাফসীরঃ

১০. মক্কার মুশরিকগণ এমন কিছু বিশ্বাস পোষণ করত, যার সম্পর্ক ছিল ঊর্ধ্ব জগতের সাথে, যেমন (ক) আল্লাহ তাআলার সহযোগিতার জন্য অনেক ছোট-ছোট খোদা রয়েছে। তাদের হাতে তিনি বহু এখতিয়ার দিয়ে রেখেছেন। (খ) আল্লাহ তাআলা কোন নবী পাঠাননি। (গ) ফেরেশতাগণ আল্লাহ তাআলার কন্যা। পরের আয়াতে তাদের এই শেষোক্ত বিশ্বাসের প্রতিই ইশারা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলছেন, এই ঊর্ধ্ব জগতের বিষয়াবলী তোমরা কোথা হতে জানতে পারলে? তোমাদের কাছে কি এমন কোন সিঁড়ি আছে, যাতে চড়ে তোমরা সে জগতের জ্ঞান অর্জন কর?
৩৯

اَمۡ لَہُ الۡبَنٰتُ وَلَکُمُ الۡبَنُوۡنَ ؕ ٣٩

আম লাহুল বানা-তুওয়া লাকুমুল বানূন।

তবে কি কন্যা সন্তান পড়ল আল্লাহর ভাগে আর পুত্র সন্তান তোমাদের ভাগে?
৪০

اَمۡ تَسۡـَٔلُہُمۡ اَجۡرًا فَہُمۡ مِّنۡ مَّغۡرَمٍ مُّثۡقَلُوۡنَ ؕ ٤۰

আম তাছআলূহুম আজরান ফাহুম মিম মাগরামিম মুছকালূন।

নাকি তুমি তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছ, যে কারণে তারা জরিমানা-ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ছে?
৪১

اَمۡ عِنۡدَہُمُ الۡغَیۡبُ فَہُمۡ یَکۡتُبُوۡنَ ؕ ٤١

আম ‘ইনদা হুমুল গাইবুফাহুম ইয়াকতুবূন।

নাকি তাদের কাছে গায়েবের জ্ঞান আছে, যা তারা লিপিবদ্ধ করছে? ১১

তাফসীরঃ

১১. পূর্বের টীকায় মুশরিকদের যেসব আকীদা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সবই অদৃশ্য জগতের সাথে সম্পৃক্ত। তাই বলা হচ্ছে, তাদের কাছে কি গায়েবের জ্ঞান আছে, যে জ্ঞান তারা লিখে সংরক্ষণ করছে?
৪২

اَمۡ یُرِیۡدُوۡنَ کَیۡدًا ؕ  فَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ہُمُ الۡمَکِیۡدُوۡنَ ؕ ٤٢

আম ইউরীদূ না কাইদান ফাল্লাযীনা কাফারূহুমুল মাকীদূ ন।

নাকি তারা কোন ষড়যন্ত্র করতে চাচ্ছে। তবে যারা কুফরী করেছে পরিণামে সে ষড়যন্ত্র তাদেরই বিরুদ্ধে যাবে। ১২

তাফসীরঃ

১২. ইশারা সেই সব ষড়যন্ত্রের দিকে, যা কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের বিরুদ্ধে চালাত।
৪৩

اَمۡ لَہُمۡ اِلٰہٌ غَیۡرُ اللّٰہِ ؕ سُبۡحٰنَ اللّٰہِ عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ٤٣

আম লাহুম ইলা-হুন গাইরুল্লা-হি ছুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা-ইউশরিকূন।

তাদের কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ আছে? তারা যে শিরক করে, তা হতে আল্লাহ পবিত্র!
৪৪

وَاِنۡ یَّرَوۡا کِسۡفًا مِّنَ السَّمَآءِ سَاقِطًا یَّقُوۡلُوۡا سَحَابٌ مَّرۡکُوۡمٌ ٤٤

ওয়া ইয়ঁইয়ারাও কিছফাম মিনাছছামাই ছা-কিতাইঁ ইয়াকূলূছাহা-বুম মার কূম।

তারা যদি আকাশের কোন খন্ড ভেঙ্গে পড়তে দেখে, তবে বলবে, এটা জমাট মেঘ। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. মক্কার মুশরিকগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিত্য-নতুন মুজিযা দেখানোর দাবি জানাত। যেমন বলত, আমাদেরকে আকাশের একটা খণ্ড ভেঙ্গে এনে দেখাও। আল্লাহ তাআলা বলছেন, তাদের এসব দাবি-দাওয়া সত্য সন্ধানের প্রেরণা থেকে উদ্ভূত নয়। সত্য লাভের কোন ইচ্ছাই আসলে তাদের নেই। তারা এসব দাবি করছে কেবল জিদ ও বিদ্বেষবশত। তাদের দাবি অনুযায়ী তাদেরকে এ রকম কোন মুজিযা দেখানো হলেও তারা তাতে বিশ্বাস করবে না। বরং তারা বলে দেবে, এটা আকাশের কোন খণ্ড নয়; বরং জমাট বাঁধা মেঘের খণ্ড।
৪৫

فَذَرۡہُمۡ حَتّٰی یُلٰقُوۡا یَوۡمَہُمُ الَّذِیۡ فِیۡہِ یُصۡعَقُوۡنَ ۙ ٤٥

ফাযারহুম হাত্তা-ইউলা-কূইয়াওমাহুমুল্লাযী ফীহি ইউস‘আকূন।

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে (আপন অবস্থায়) ছেড়ে দাও, যাবত না তারা সেই দিনের সম্মুখীন হয়, যে দিন তারা অচেতন হয়ে পড়বে।
৪৬

یَوۡمَ لَا یُغۡنِیۡ عَنۡہُمۡ کَیۡدُہُمۡ شَیۡئًا وَّلَا ہُمۡ یُنۡصَرُوۡنَ ؕ ٤٦

ইয়াওমা লা-ইউগনী ‘আনহুম কাইদুহুম শাইআওঁ ওয়ালা-হুম ইউনসারূন।

যে দিন তাদের চক্রান্ত তাদের কোন কাজে আসবে না এবং তারা কোন সাহায্যও লাভ করবে না।
৪৭

وَاِنَّ لِلَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا عَذَابًا دُوۡنَ ذٰلِکَ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٤٧

ওয়া ইন্না লিল্লাযীনা জালামূ‘আযা-বান দূনা যা-লিকা ওয়ালা-কিন্না আকছারাহুম লাইয়া‘লামূন।

তার পূর্বেও এ জালেমদের জন্য এক শাস্তি আছে। ১৪ কিন্তু তাদের অধিকাংশেই তা জানে না।

তাফসীরঃ

১৪. অর্থাৎ আখেরাতে জাহান্নামের যে শাস্তি আছে, তার আগে এ দুনিয়াতেই কাফেরদেরকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। সুতরাং তাদের অনেককেই বদরের যুদ্ধে নিহত হতে হয়েছে। আর শেষ পর্যন্ত তো আরব উপদ্বীপের কোথাও তাদের কোন আশ্রয়স্থল থাকেনি।
৪৮

وَاصۡبِرۡ لِحُکۡمِ رَبِّکَ فَاِنَّکَ بِاَعۡیُنِنَا وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ حِیۡنَ تَقُوۡمُ ۙ ٤٨

ওয়াসবির লিহূকমি রাব্বিকা ফাইন্নাকা বিআ‘ইউনিনা-ওয়াছাব্বিহবিহামদি রাব্বিকা হীনা তাকূম।

তুমি নিজ প্রতিপালকের আদেশের উপর অবিচলিত থাক। কেননা তুমি আমার দৃষ্টির মধ্যে রয়েছ। ১৫ আর তুমি যখন ওঠ, তখন প্রশংসার সাথে নিজ প্রতিপালকের তাসবীহ পাঠ কর। ১৬

তাফসীরঃ

১৫. এর এক অর্থ হতে পারে এই যে, আপনি যখন তাহাজ্জুদের জন্য ওঠেন তখন তাসবীহ পাঠ করুন। আরেক অর্থ হতে পারে, আপনি যখন কোন মজলিস থেকে উঠবেন, তখন তা তাসবীহের মাধ্যমে শেষ করে উঠবেন। এক হাদীসে আছে, মজলিসের শেষে দুআ হল سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ اَسْتَغْفِرُكَ وَاَتُوْبُ اِلَيْكَ ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তোমার প্রশংসা করছি। তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার কাছে তাওবা করছি’। কোন মজলিস শেষে এ দুআ পড়া হলে তা সে মজলিসের জন্য কাফফারা হয়ে যায় (আবু দাঊদ, হাদীস নং ৪২১৬)। অর্থাৎ মজলিসে দীনী দিক থেকে কোন ভুল-ত্রুটি হয়ে গেলে এ দুআ দ্বারা তার প্রতিকার হয়ে যায়।
৪৯

وَمِنَ الَّیۡلِ فَسَبِّحۡہُ وَاِدۡبَارَ النُّجُوۡمِ ٪ ٤٩

ওয়া মিনাল্লাইলি ফাছাব্বিহহু ওয়া ইদবা-রান নুজূম।

এবং রাতের কিছু অংশেও তার তাসবীহ পাঠ কর এবং যখন তারকারাজি অস্ত যায়, তখনও। ১৭

তাফসীরঃ

১৭. এর দ্বারা সাহরী বা ফজরের ওয়াক্ত বোঝানো হয়েছে, যখন তারকারাজি অস্ত যেতে থাকে।