সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল হাদীদ (الحـديد) | লোহা

মাদানী

মোট আয়াতঃ ২৯

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

سَبَّحَ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۚ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ١

ছাব্বাহা লিল্লা-হি মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া হুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, তা আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে। তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

তাফসীরঃ

১. দেখুন সূরা বনী ইসরাঈল (১৭ : ৪৪)।

لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۚ یُحۡیٖ وَیُمِیۡتُ ۚ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٢

লাহূমুলকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ইউহঈ ওয়া ইউমীতু ওয়া হুওয়া ‘আলাকুল্লি শাইয়িন কাদীর।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব তারই। তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। তিনি প্রতিটি বিষয়ে পরিপূর্ণ ক্ষমতাবান।

ہُوَ الۡاَوَّلُ وَالۡاٰخِرُ وَالظَّاہِرُ وَالۡبَاطِنُ ۚ وَہُوَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ٣

হুওয়াল আওওয়ালুওয়াল আ-খিরু ওয়াজ্জা-হিরুওয়াল বা-তিনু ওয়া হুওয়া বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।

তিনিই আদি, তিনিই অন্ত এবং তিনিই ব্যক্ত ও তিনিই গুপ্ত। তিনি সবকিছু পরিপূর্ণভাবে জানেন।

তাফসীরঃ

২. আল্লাহ তাআলা আদি। অর্থাৎ তার আগে কোন কিছুই ছিল না। তাঁর নিজের কোন শুরু নেই। তিনি সর্বদাই ছিলেন। আর তিনি ‘অন্ত’ এই অর্থে যে, যখন বিশ্ব-জগতের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন বাকি থাকবে কেবল তাঁরই সত্তা। তাঁর নিজের কোন শেষ নেই। তিনি সর্বদাই থাকবেন। তিনি ‘ব্যক্ত’। অর্থাৎ তাঁর অস্তিত্ব, তাঁর শক্তি ও তাঁর হেকমতের নিদর্শন বিশ্ব-জগতের সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে। জগতের প্রতিটি জিনিস সাক্ষ্য দেয়, তিনি আছেন। আর তিনি ‘গুপ্ত’ এই অর্থে যে, তিনি অস্তিমান হওয়া সত্ত্বেও দুনিয়ার এ চোখ দিয়ে তাকে দেখা যায় না। এভাবে তিনি ব্যক্তও এবং গুপ্তও।

ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ ؕ یَعۡلَمُ مَا یَلِجُ فِی الۡاَرۡضِ وَمَا یَخۡرُجُ مِنۡہَا وَمَا یَنۡزِلُ مِنَ السَّمَآءِ وَمَا یَعۡرُجُ فِیۡہَا ؕ وَہُوَ مَعَکُمۡ اَیۡنَ مَا کُنۡتُمۡ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ ٤

হুওয়াল্লাযীখালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদাফী ছিত্তাতি আইয়া-মিন ছু ম্মাছতাওয়া‘আলাল ‘আরশি ইয়া‘লামুমা-ইয়ালিজূফিল আরদিওয়ামা-ইয়াখরুজূমিনহা-ওয়ামাইয়ানঝিলুমিনাছ ছামাই ওয়ামা-ওয়া‘রুজূফীহা- ওয়া হুওয়া মা‘আকুম আইনামাকুনতুম ওয়াল্লা-হু বিমা-তা‘মালূনা বাসীর।

তিনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। তারপর আরশে ইসতিওয়া গ্রহণ করেছেন। তিনি এমন প্রতিটি জিনিস জানেন, যা ভূমিতে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে বের হয় এবং জানেন এমন প্রতিটি জিনিস, যা আকাশ থেকে নেমে আসে এবং যা তাতে উত্থিত হয়। তোমরা যেখানেই থাক, তিনি তোমাদের সাথে আছেন এবং তোমরা যা-কিছুই কর, তা তিনি দেখেন।

তাফসীরঃ

৩. এর ব্যাখ্যার জন্য দেখুন সূরা আরাফ (৭ : ৫৪), সূরা ইউনুস (১০ : ৩) ও সূরা রাদ (১৩ : ২)। কুরআন মাজীদ এ বিষয়টা সূরা তোয়াহা (২০ : ৫), সূরা ফুরকান (২৫ : ৫৯), সূরা তানযীল আস-সাজদা (৩২ : ৪) ও সূরা হা-মীম আস-সাজদায় (৪১ : ১১)-ও বর্ণনা করেছে।

لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ وَاِلَی اللّٰہِ تُرۡجَعُ الۡاُمُوۡرُ ٥

লাহূমুলকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া ইলাল্লা-হি তুর জা‘উল উমূর।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব তাঁরই এবং সমস্ত বিষয় আল্লাহরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।

یُوۡلِجُ الَّیۡلَ فِی النَّہَارِ وَیُوۡلِجُ النَّہَارَ فِی الَّیۡلِ ؕ وَہُوَ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ٦

ইঊলিজূল লাইলা ফিন্নাহা-রি ওয়া ইঊলিজূন্নাহা-রা ফিল্লাইলি ওয়া হুওয়া ‘আলীমুম বিযাতিসসুদূ র।

তিনি রাতকে দিনের ভেতর প্রবেশ করান এবং দিনকে প্রবেশ করান রাতের ভেতর এবং মনের মধ্যকার সবকিছু সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত।

তাফসীরঃ

৪. সূরা আলে ইমরানে এর ব্যাখ্যা চলে গেছে (৩ : ২৭)। আরও দেখুন সূরা হজ্জ (২২ : ৬১), সূরা লুকমান (৩১ : ২৯) ও সূরা ফাতির (৩৫ : ১৩)।

اٰمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَاَنۡفِقُوۡا مِمَّا جَعَلَکُمۡ مُّسۡتَخۡلَفِیۡنَ فِیۡہِ ؕ فَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡکُمۡ وَاَنۡفَقُوۡا لَہُمۡ اَجۡرٌ کَبِیۡرٌ ٧

আ-মিনূবিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়া আনফিকূমিম্মা-জা‘আলাকুম মুছতাখলাফীনা ফীহি ফাল্লাযীনা আ-মানূমিনকুম ওয়া আনফাকূলাহুম আজরুন কাবীর।

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখ এবং আল্লাহ যে সম্পদে তোমাদেরকে প্রতিনিধি করেছেন, তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় কর। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং (আল্লাহর পথে) ব্যয় করেছে, তাদের জন্য আছে মহা প্রতিদান।

তাফসীরঃ

৫. ধন-দৌলতে মানুষকে প্রতিনিধি বানানোর কথা বলে দু’টি মহা সত্যের দিকে ইশারা করা হয়েছে। (এক) ধন-দৌলত যা-ই হোক না কেন, তার প্রকৃত মালিক আল্লাহ তাআলাই। তিনিই তা সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে তা দান করেছেন তাদের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য। তাই মানুষ এর মালিকানায় আল্লাহ তাআলার প্রতিনিধি। মানুষ যখন এক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার প্রতিনিধি তখন তার কর্তব্য আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ও হুকুম মোতাবেক তা ব্যয় করা। (দুই) মানুষ যে সম্পদই অর্জন করে, তা তার আগে অন্য কারও মালিকানায় থাকে। সেখান থেকে ক্রয়, উপহার বা উত্তরাধিকার সূত্রে তা তার কাছে এসেছে। এ হিসেবে সে তাতে তার প্রাক্তন মালিকের স্থলাভিষিক্ত। এর দ্বারা বোঝানো হচ্ছে, এ সম্পদ যেমন তোমার পূর্ববর্তী মালিকের কাছে স্থায়ী হয়ে থাকেনি, বরং তার কাছ থেকে তোমার কাছে চলে এসেছে, তেমনি তোমার কাছেও তা চিরদিন থাকবে না; বরং অন্য কারও হাতে চলে যাবে। যখন এ সম্পদ চিরকাল তোমার কাছে থাকার নয়, অন্য কারও না কারও কাছে অবশ্যই চলে যাবে, তখন তোমার উচিত এমন কারও কাছেই তা হস্তান্তর করা, যাকে তা দেওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা হুকুম করেছেন।

وَمَا لَکُمۡ لَا تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ ۚ وَالرَّسُوۡلُ یَدۡعُوۡکُمۡ لِتُؤۡمِنُوۡا بِرَبِّکُمۡ وَقَدۡ اَخَذَ مِیۡثَاقَکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ٨

ওয়ামা-লাকুম লা-তু’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়াররাছূলুইয়াদ‘ঊকুম লিতু’মিনূবিরাব্বিকুম ওয়া কাদ আখাযা মীছা-কাকুম ইন কুনতুম মু’মিনীন।

তোমাদের এমন কী কারণ আছে, যদ্দরুন আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখবে না, অথচ রাসূল তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান রাখার জন্য আহ্বান করছে এবং তোমাদের থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে যদি বাস্তবিকই তোমরা মুমিন হও।

তাফসীরঃ

৬. কোন কোন মুফাসসির বলেন, এটা বলা হচ্ছে কাফেরদেরকে লক্ষ করে। কিন্তু অনেকের মতে মুমিনদেরকেই লক্ষ করে বলা হচ্ছে। অর্থাৎ এমন মুমিনদেরকে, যাদের ঈমানে কোন রকমের দুর্বলতা লক্ষ করা যাচ্ছিল, যদ্দরুন তারা আল্লাহ তাআলার পথে অর্থ ব্যয় করতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। আয়াতের পূর্বাপর লক্ষ করলে দ্বিতীয় মতই বেশি সঠিক মনে হয়।

ہُوَ الَّذِیۡ یُنَزِّلُ عَلٰی عَبۡدِہٖۤ اٰیٰتٍۭ بَیِّنٰتٍ لِّیُخۡرِجَکُمۡ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ ؕ وَاِنَّ اللّٰہَ بِکُمۡ لَرَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ ٩

হুওয়াল্লাযী ইউনাঝঝিলু‘আলা-‘আবদিহীআ-য়া-তিম বাইয়িনা-তিল লিইউখরিজাকুম মিনাজ্জুলুমা-তি ইলান নূরি ওয়া ইন্নাল্লা-হা বিকুম লারাঊফুর রাহীম।

আল্লাহই তো নিজ বান্দার প্রতি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেন, তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোকে বের করে আনার জন্য। নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের প্রতি করুণাময়, পরম দয়ালু।
১০

وَمَا لَکُمۡ اَلَّا تُنۡفِقُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَلِلّٰہِ مِیۡرَاثُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ  لَا یَسۡتَوِیۡ مِنۡکُمۡ مَّنۡ اَنۡفَقَ مِنۡ قَبۡلِ الۡفَتۡحِ وَقٰتَلَ ؕ  اُولٰٓئِکَ اَعۡظَمُ دَرَجَۃً مِّنَ الَّذِیۡنَ اَنۡفَقُوۡا مِنۡۢ بَعۡدُ وَقٰتَلُوۡا ؕ  وَکُلًّا وَّعَدَ اللّٰہُ الۡحُسۡنٰی ؕ  وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ ٪ ١۰

ওয়ামা-লাকুম আল্লা-তুনফিকূফী ছাবীলিল্লা-হি ওয়া লিল্লা-হি মীরা-ছু ছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি লা-ইয়াছতাবী মিনকুম মান আনফাকা মিন কাবলিল ফাতহিওয়া কাতালা উলাইকা আ‘জামুদারাজাতাম মিনাল্লাযীনা আনফাকূমিম বা‘দুওয়া কা-তালূ ওয়া কুল্লাওঁ ওয়া‘আদাল্লা-হুল হুছনা- ওয়াল্লা-হু বিমা-তা‘মালূনা খাবীর।

কী কারণে তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করবে না, অথচ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সমস্ত মীরাছ আল্লাহরই জন্য। তোমাদের মধ্যে যারা (মক্কা) বিজয়ের আগে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে তারা (পরবর্তীদের) সমান নয়। মর্যাদায় তারা সেই সকল লোক অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, যারা (মক্কা বিজয়ের) পরে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সকলকেই, তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত।

তাফসীরঃ

৯. মক্কা বিজয় (০৮ হিজরী)-এর আগে মুমিনদের লোক সংখ্যা ও যুদ্ধসামগ্রী কম ছিল এবং শত্রুদের জনবল ও অস্ত্রবল ছিল অনেক বেশি। যে কারণে তখন যারা জিহাদ করেছেন ও আল্লাহ তাআলার পথে অর্থ ব্যয় করেছেন, তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষাও বেশি ছিল। ফলে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সওয়াব ও সম্মানও বেশি দিয়েছেন। মক্কা বিজয়ের পর অবস্থা ছিল এর বিপরীত। তখন মুসলিমদের লোক সংখ্যা ও যুদ্ধসামগ্রী বৃদ্ধি পায় এবং শত্রু দুর্বল হয়ে পড়ে। কাজেই মক্কা বিজয়ের পর যারা জিহাদ ও দান-সদকা করেছেন, তাদের এত বড় ত্যাগ-তিতিক্ষার সম্মুখীন হতে হয়নি। কাজেই তারা সেই স্তরের মর্যাদা লাভ করতে পারেননি। তবে পরের বাক্যেই আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কল্যাণ তথা জান্নাতের নি‘আমত লাভ করবে উভয় দলই।
১১

مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یُقۡرِضُ اللّٰہَ قَرۡضًا حَسَنًا فَیُضٰعِفَہٗ لَہٗ وَلَہٗۤ اَجۡرٌ کَرِیۡمٌ ۚ ١١

মান যাল্লাযী ইউকরিদু ল্লা-হা কারদান হাছানান ফাইউদা-‘ইফাহূলাহূওয়া লাহূ আজরুন কারীম।

কে আছে, যে আল্লাহকে ঋণ দেবে, উত্তম ঋণ? ১০ তাহলে তিনি দাতার জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেবেন এবং তার জন্য রয়েছে মহা প্রতিদান।

তাফসীরঃ

১০. আল্লাহ তাআলার কোন অর্থ-সম্পদের দরকার নেই। কাজেই কারও থেকে তার ঋণ নেওয়ার কোনও প্রশ্ন আসে না। তিনি সকল প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে। কিন্তু মানুষ যা-কিছু দান- খয়রাত করে কিংবা জিহাদ ও দীনী কাজে অর্থ ব্যয় করে, আল্লাহ তাআলা নিজ কৃপায় তাকে ঋণ নামে অভিহিত করেছেন। অর্থাৎ ঋণগ্রহীতা যেই গুরুত্বের সাথে ঋণ পরিশোধ করে আল্লাহ তাআলাও সেই রকম গুরুত্বের সাথে দাতাকে দুনিয়া ও আখেরাতে উত্তম বদলা দান করেন। উত্তম ঋণ দ্বারা সেই অর্থ ব্যয়কে বোঝানো হয়েছে, যা পরিপূর্ণ ইখলাসের সাথে কেবল আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার জন্য সম্পাদন করা হয়, মানুষকে দেখানোর জন্য করা হয় না। সূরা বাকারা (২ : ২৪৫) ও সূরা মায়েদায় (৫ : ১২)-ও এভাবে উত্তম ঋণের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।
১২

یَوۡمَ تَرَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَالۡمُؤۡمِنٰتِ یَسۡعٰی نُوۡرُہُمۡ بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَبِاَیۡمَانِہِمۡ بُشۡرٰىکُمُ الۡیَوۡمَ جَنّٰتٌ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ  ذٰلِکَ ہُوَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ۚ ١٢

ইয়াওমা তারাল মু’মিনীনা ওয়াল মুমিনা-তি ইয়াছ‘আ-নূরুহুম বাইনা আইদীহিম ওয়া বিআইমানিহিম বুশরা-কুমুল ইয়াওমা জান্না-তুন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা- যা-লিকা হুওয়াল ফাওঝুল ‘আজীম।

সে দিন তুমি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে দেখবে, তাদের নূর তাদের সামনে ও তাদের ডান দিকে ধাবিত হচ্ছে ১১ (এবং তাদেরকে বলা হবে,) তোমাদের জন্য আজ এমন সব উদ্যানের সুসংবাদ, যার নিচে নহর প্রবাহিত থাকবে, যাতে তোমরা সর্বদা থাকবে। এটাই মহা সাফল্য।

তাফসীরঃ

১১. খুব সম্ভব এটা সেই সময়ের কথা যখন মানুষ পুলসিরাত পার হতে শুরু করবে। তখন প্রত্যেকের ঈমান তার সামনে আলো হয়ে পথ দেখাবে।
১৩

یَوۡمَ یَقُوۡلُ الۡمُنٰفِقُوۡنَ وَالۡمُنٰفِقٰتُ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوا انۡظُرُوۡنَا نَقۡتَبِسۡ مِنۡ نُّوۡرِکُمۡ ۚ  قِیۡلَ ارۡجِعُوۡا وَرَآءَکُمۡ فَالۡتَمِسُوۡا نُوۡرًا ؕ  فَضُرِبَ بَیۡنَہُمۡ بِسُوۡرٍ لَّہٗ بَابٌ ؕ  بَاطِنُہٗ فِیۡہِ الرَّحۡمَۃُ وَظَاہِرُہٗ مِنۡ قِبَلِہِ الۡعَذَابُ ؕ ١٣

ইয়াওমা ইয়াকূলুল মুনা-ফিকূনা ওয়াল মুনা-ফিকা-তুলিল্লাযীনা আ-মানুনজুরূনানাকতাবিছ মিন নূরিকুম কীলারজি‘ঊ ওয়া রাআকুম ফালতামিছূনূরান ফাদুরিবা বাইনাহুম বিছূরিল লাহূবা-ব বা-তিনুহূফীহির রাহমাতুওয়া জা-হিরুহূমিন কিবালিহিল ‘আযা-ব।

সে দিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীগণ মুমিনদেরকে বলবে, আমাদের জন্য একটু অপেক্ষা কর, যাতে তোমাদের নূর থেকে আমরাও কিছুটা আলো গ্রহণ করতে পারি। ১২ তাদেরকে বলা হবে, তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরে যাও, তারপর নূর তালাশ কর। ১৩ তারপর তাদের মাঝখানে স্থাপিত হবে একটি প্রাচীর। তার মধ্যে থাকবে একটি দরজা, যার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে শাস্তি।

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ কে আলো পাবে আর কে পাবে না, সে ফায়সালা পিছনে হয়ে গেছে। কাজেই পিছনে গিয়ে আলো পাওয়ার জন্য আবেদন কর।
১৪

یُنَادُوۡنَہُمۡ اَلَمۡ نَکُنۡ مَّعَکُمۡ ؕ قَالُوۡا بَلٰی وَلٰکِنَّکُمۡ فَتَنۡتُمۡ اَنۡفُسَکُمۡ وَتَرَبَّصۡتُمۡ وَارۡتَبۡتُمۡ وَغَرَّتۡکُمُ الۡاَمَانِیُّ حَتّٰی جَآءَ اَمۡرُ اللّٰہِ وَغَرَّکُمۡ بِاللّٰہِ الۡغَرُوۡرُ ١٤

ইউনা-দূ নাহুম আলাম নাকুম মা‘আকুম কা-লূবালা-ওয়ালা-কিন্নাকুম ফাতানতুম আনফুছাকুম ওয়া তারাব্বাসতুম ওয়ারতাবতুম ওয়া গাররাতকুমুল আমা-নিইয়ুহাত্তা-জাআ আমরুল্লা-হি ওয়া গাররাকুম বিল্লা-হিল গারূর।

তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবে, আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না? মুমিনগণ বলবে, হা, ছিলে বটে, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদে ফেলেছ। তোমরা অপেক্ষা করছিলে, ১৪ সন্দেহে নিপতিত ছিলে এবং মিথ্যা আশা তোমাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছিল ১৫ যতক্ষণ না আল্লাহর হুকুম আসল। আর সেই মহা প্রতারক (অর্থাৎ শয়তান) তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করে যাচ্ছিল।

তাফসীরঃ

১৪. অর্থাৎ মুনাফেকদের আন্তরিক আশা ও আকাঙ্ক্ষা ছিল মুসলিমগণ যেন শত্রুদের হাতে সম্পূর্ণরূপে পর্যুদস্ত হয় আর এভাবে ইসলাম চিরতরে নির্মূল হয়ে যায় (নাউযুবিল্লাহ)।
১৫

فَالۡیَوۡمَ لَا یُؤۡخَذُ مِنۡکُمۡ فِدۡیَۃٌ وَّلَا مِنَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ؕ مَاۡوٰىکُمُ النَّارُ ؕ ہِیَ مَوۡلٰىکُمۡ ؕ وَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ ١٥

ফাল ইয়াওমা লা-ইউ’খাযুমিনকুম ফিদ ইয়াতুওঁ ওয়ালা-মিনাল্লাযীনা কাফারূ মা’ওয়াকুমুন্না-রু হিয়া মাওলা-কুম ওয়াবি’ছাল মাসীর।

সুতরাং আজ তোমাদের থেকে কোন মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের থেকেও না, যারা (প্রকাশ্যে) কুফর অবলম্বন করেছিল। তোমাদের ঠিকানা জাহান্নাম। তা-ই তোমাদের আশ্রয়স্থল এবং তা অতি মন্দ পরিণাম।
১৬

اَلَمۡ یَاۡنِ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنۡ تَخۡشَعَ قُلُوۡبُہُمۡ لِذِکۡرِ اللّٰہِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الۡحَقِّ ۙ وَلَا یَکُوۡنُوۡا کَالَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ مِنۡ قَبۡلُ فَطَالَ عَلَیۡہِمُ الۡاَمَدُ فَقَسَتۡ قُلُوۡبُہُمۡ ؕ وَکَثِیۡرٌ مِّنۡہُمۡ فٰسِقُوۡنَ ١٦

আলাম ইয়া’নি লিল্লাযীনা আ-মানূআন তাখশা‘আ কুলূবুহুম লিযিকরিল্লা-হি ওয়ামানাঝালা মিনাল হাক্কি ওয়ালা-ইয়াকূনূকাল্লাযীনা ঊতুল কিতা-বা মিন কাবলুফাতালা ‘আলাইহিমুল আমাদুফাকাছাত কুলূবুহুম ওয়া কাছীরুম মিনহুম ফা-ছিকূন।

যারা ঈমান এনেছে, তাদের জন্য কি এখনও সেই সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তাদের অন্তর বিগলিত হবে? এবং তারা তাদের মত হবে না, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল অতঃপর যখন তাদের উপর দিয়ে দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হল, তখন তাদের অন্তর শক্ত হয়ে গেল এবং (আজ) তাদের অধিকাংশই অবাধ্য।
১৭

اِعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰہَ یُحۡیِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِہَا ؕ قَدۡ بَیَّنَّا لَکُمُ الۡاٰیٰتِ لَعَلَّکُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ ١٧

ই‘লামূআন্নাল্লা-হা ইউহয়িল আরদা বা‘দা মাওতিহা- কাদ বাইয়ান্না-লাকুমুল আ-য়াতি লা‘আল্লাকুম তা‘কিলূন।

জেনে রেখ, আল্লাহই ভূমিকে তার মৃত্যুর পর জীবন দান করেন। ১৬ আমি তোমাদের জন্য নিদর্শনাবলী সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে দিয়েছি, যাতে তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগাও।

তাফসীরঃ

১৬. অর্থাৎ যে সকল মুসলিমের দ্বারা কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে গেছে এবং তারা ঈমানের সব দাবি পূরণ করতে পারেনি, তাদের হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। আল্লাহ তাআলা যেভাবে মৃত ভূমিকে পুনর্জীবিত করেন, তেমনিভাবে তিনি তাওবাকারীদেরকেও তাদের তাওবা কবুল করে নতুন জীবন দান করেন।
১৮

اِنَّ الۡمُصَّدِّقِیۡنَ وَالۡمُصَّدِّقٰتِ وَاَقۡرَضُوا اللّٰہَ قَرۡضًا حَسَنًا یُّضٰعَفُ لَہُمۡ وَلَہُمۡ اَجۡرٌ کَرِیۡمٌ ١٨

ইন্নাল মুসসাদ্দিকীনা ওয়াল মুসসাদ্দিকা-তি ওয়া আকরাদুল্লা-হা কারদান হাছানাইঁ ইউদা-‘আফুলাহুম ওয়া লাহুম আজরুন কারীম।

নিশ্চয়ই যারা দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহকে ঋণ দিয়েছে, উত্তম ঋণ, তাদের জন্য তা (অর্থাৎ সেই দান) বহু গুণ বৃদ্ধি করা হবে এবং তাদের জন্য আছে সম্মানজনক প্রতিদান।
১৯

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاللّٰہِ وَرُسُلِہٖۤ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الصِّدِّیۡقُوۡنَ ٭ۖ  وَالشُّہَدَآءُ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ؕ  لَہُمۡ اَجۡرُہُمۡ وَنُوۡرُہُمۡ ؕ  وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَکَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَحِیۡمِ ٪ ١٩

ওয়াল্লাযীনা আ-মানূবিল্লা-হি ওয়া রুছুলিহীউলাইকা হুমুসসিদ্দীকূনা ওয়াশশুহাদাউ ‘ইনদা রাব্বিহিম লাহুম আজরুহুম ওয়া নূরুহুম ওয়াল্লাযীনা কাফারূ ওয়াকাযযাবূবিআ-য়া-তিনাউলাইকা আসহা-বুল জাহীম।

যারা আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে, তারাই তাদের প্রতিপালকের কাছে সিদ্দীক ও শহীদ। ১৭ তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রতিদান ও তাদের নূর। আর যারা কুফর অবলম্বন করেছে এবং আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছে, তারাই জাহান্নামবাসী।

তাফসীরঃ

১৭. ‘সিদ্দীক’ বলে এমন ব্যক্তিকে, যে কথা ও কর্মে সাচ্চা। নবী-রাসূলগণের পর এটা তাকওয়া-পরহেজগারীর সর্বোচ্চ স্তর। যেমন সূরা নিসায় (৪ : ৭০) গত হয়েছে। ‘শহীদ’-এর আভিধানিক অর্থ সাক্ষী। কিয়ামতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের পরহেজগার ব্যক্তিবর্গ পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে, যেমন সূরা বাকারায় (২ : ১৪৩) বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া আল্লাহ তাআলার পথে জিহাদ রত অবস্থায় যারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে, তাদেরকেও শহীদ বলে। এস্থলে মুনাফেকদের বিপরীতে বলা হচ্ছে যে, কেবল মৌখিক দাবির মাধ্যমে কেউ সিদ্দীক ও শহীদের মর্যাদা লাভ করতে পারে না। বরং সে মর্যাদা অর্জিত হয় কেবল তাদেরই, যারা অন্তর থেকে পরিপক্ব ঈমান আনে, ফলে তাদের ঈমানের আছর ও আলামত তাদের যাপিত জীবনের সর্বক্ষেত্রে পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ পায়।
২০

اِعۡلَمُوۡۤا اَنَّمَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا لَعِبٌ وَّلَہۡوٌ وَّزِیۡنَۃٌ وَّتَفَاخُرٌۢ بَیۡنَکُمۡ وَتَکَاثُرٌ فِی الۡاَمۡوَالِ وَالۡاَوۡلَادِ ؕ کَمَثَلِ غَیۡثٍ اَعۡجَبَ الۡکُفَّارَ نَبَاتُہٗ ثُمَّ یَہِیۡجُ فَتَرٰىہُ مُصۡفَرًّا ثُمَّ یَکُوۡنُ حُطَامًا ؕ وَفِی الۡاٰخِرَۃِ عَذَابٌ شَدِیۡدٌ ۙ وَّمَغۡفِرَۃٌ مِّنَ اللّٰہِ وَرِضۡوَانٌ ؕ وَمَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الۡغُرُوۡرِ ٢۰

ই‘লামূআন্নামাল হায়া-তুদ্দুনইয়া-লা‘ইবুওঁ ওয়ালাহউওঁ ওয়া ঝীনাতুওঁ ওয়া তাফা-খুরুম বাইনাকুম ওয়া তাকা-ছু রুন ফিল আমওয়া-লি ওয়ালআওলা-দা কামাছালি গাইছিন আ‘জাবাল কুফফা-রা নাবাতুহূছু ম্মা ইয়াহীজুফাতারা-হু মুসফাররান ছুম্মা ইয়াকূনুহুতামাও ওয়া ফিল আ-খিরাতি ‘আযা-বুন শাদীদুওঁ ওয়া মাগফিরাতুম মিনাল্লা-হি ওয়া রিদওয়ানুওঁ ওয়ামাল হায়া-তুদ্দুনইয়াইল্লা মাতা-‘উল গুরূর।

জেনে রেখ, পার্থিব জীবন তো কেবল খেলাধুলা, বাহ্যিক সাজসজ্জা, তোমাদের পারস্পরিক অহংকার প্রদর্শন এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে একে অন্যের উপরে থাকার প্রতিযোগিতারই নাম। ১৮ তার উপমা হল বৃষ্টি, যা দ্বারা উদগত ফসল কৃষকদেরকে মুগ্ধ করে দেয়, তারপর তা তেজস্বী হয়ে ওঠে। তারপর তুমি দেখতে পাও তা হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে। অবশেষে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। আর আখেরাতে (এক তো) আছে কঠিন শাস্তি এবং (আরেক আছে) আল্লাহর পক্ষ হতে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ ছাড়া কিছুই নয়।

তাফসীরঃ

১৮. এখানে আল্লাহ তাআলা মানুষের বিভিন্ন চিত্তাকর্ষক জিনিসের উল্লেখ করেছেন। মানুষ তার জীবনের একেক পর্যায়ে একেকটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে, যেমন শৈশবে তার আকর্ষণ থাকে খেলাধুলার দিকে, যৌবনকালে সাজসজ্জা, বেশভূষার প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয় এবং সেই সাজসজ্জা ও পার্থিব অন্যান্য সাজ-সরঞ্জামে একে অন্যের উপর চলে যাওয়ার ও তা নিয়ে অহমিকা দেখানোর আগ্রহ দেখা দেয়। তারপর আসে বার্ধক্য। তখন মানুষের যাবতীয় চিন্তা-ভাবনা আবর্তিত হয় সম্পদ ও সন্তানকে কেন্দ্র করে। তখনকার চেষ্টা একটাই কিভাবে সম্পদে অন্যকে ছাড়িয়ে যাবে এবং সন্তানের দিক থেকেও অন্যের উপরে থাকবে। প্রতিটি স্তরে মানুষ যে জিনিসকে তার আকর্ষণ ও চাহিদার সর্বোচ্চ শিখর মনে করে, পরবর্তী স্তরে সেটাই তার কাছে বিলকুল মূল্যহীন হয়ে যায়। বরং অনেক সময় মানুষ এই ভেবে মনে মনে হাসে যে, আমি কোন জিনিসকে জীবনের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলাম! অবশেষে যখন আখেরাত আসবে, তখন মানুষ উপলব্ধি করবে, আসলে দুনিয়ার আকর্ষণীয় সবকিছুই ছিল মূল্যহীন। প্রকৃত অর্জনীয় জিনিস তো ছিল এই আখেরাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যই।
২১

سَابِقُوۡۤا اِلٰی مَغۡفِرَۃٍ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَجَنَّۃٍ عَرۡضُہَا کَعَرۡضِ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ ۙ اُعِدَّتۡ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاللّٰہِ وَرُسُلِہٖ ؕ ذٰلِکَ فَضۡلُ اللّٰہِ یُؤۡتِیۡہِ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰہُ ذُو الۡفَضۡلِ الۡعَظِیۡمِ ٢١

ছা-বিকূইলা-মাগফিরাতিম মির রাব্বিকুম ওয়া জান্নাতিন ‘আরদুহা-কা‘আরদিছ ছামাই ওয়াল আরদি উ‘ইদ্দাত লিল্লাযীনা আ-মানূবিল্লা-হি ওয়া রুছুলিহী যা-লিকা ফাদলুল্লা-হি ইউ’তীহি মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু যুল ফাদলিল ‘আজীম।

তোমরা একে অন্যের অগ্রণী হওয়ার চেষ্টা কর তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও সেই জান্নাত লাভের জন্য, যার প্রশস্ততা আকাশ ও পৃথিবীর প্রশস্ততা তুল্য। তা প্রস্তুত করা হয়েছে এমন সব লোকের জন্য, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে চান দান করেন। আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।
২২

مَاۤ اَصَابَ مِنۡ مُّصِیۡبَۃٍ فِی الۡاَرۡضِ وَلَا فِیۡۤ اَنۡفُسِکُمۡ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ نَّبۡرَاَہَا ؕ  اِنَّ ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ یَسِیۡرٌ ۚۖ ٢٢

মাআসা-বা মিমমুসীবাতিন ফিল আরদিওয়ালা-ফীআনফুছিকুম ইল্লা-ফী কিতা-বিম মিন কাবলি আন্নাবরাআহা- ইন্না যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াছীর।

পৃথিবীতে অথবা তোমাদের প্রাণের উপর যে মুসিবত দেখা দেয়, ১৯ তার মধ্যে এমন কোনওটিই নেই, যা সেই সময় থেকে এক কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই, যখন আমি সেই প্রাণসমূহ সৃষ্টিও করিনি। ২০ নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষে এটা অতি সহজ।

তাফসীরঃ

১৯. ‘কিতাব’ দ্বারা লাওহে মাহফুজ বোঝানো উদ্দেশ্য। কিয়ামত পর্যন্ত যা-কিছু ঘটবে সবই তাতে পূর্ব থেকেই লিপিবদ্ধ আছে।
২৩

لِّکَیۡلَا تَاۡسَوۡا عَلٰی مَا فَاتَکُمۡ وَلَا تَفۡرَحُوۡا بِمَاۤ اٰتٰىکُمۡ ؕ  وَاللّٰہُ لَا یُحِبُّ کُلَّ مُخۡتَالٍ فَخُوۡرِۣ ۙ ٢٣

লিকাইলা-তা’ছাও ‘আলা-মা-ফা-তাকুম ওয়ালা-তাফরাহূবিমাআ-তা-কুম ওয়াল্লা-হু লা-ইউহিব্বুকুল্লা মুখতা-লিন ফাখূর।

তা এই জন্য যে, তোমরা যা হারিয়েছ, তার জন্য যাতে দুঃখিত না হও এবং যা আল্লাহ তোমাদেরকে দান করেছেন তার জন্য উল্লসিত না হও। ২১ আল্লাহ এমন কোন ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না, যে দর্প দেখায় ও বড়ত্ব প্রকাশ করে।

তাফসীরঃ

২১. প্রত্যেক মুমিনের জন্যই এ বিশ্বাস জরুরি যে, দুনিয়ায় যা-কিছু ঘটে, লাওহে মাহফুজে লিখিত সেই তাকদীর অনুযায়ীই তা ঘটে। এ বিশ্বাস যে পোষণ করে সে কোনও রকমের অপ্রীতিকর ঘটনায় এতটা দুঃখিত হয় না যে, সেই দুঃখ তার স্থায়ী অশান্তি ও পেরেশানীর কারণ হয়ে যাবে। বরং সে এই ভেবে সান্তনা লাভ করে যে, তাকদীরে যা লেখা ছিল তাই হয়েছে। আর এটা তো কেবল দুনিয়ারই কষ্ট। আখেরাতের নি‘আমতের সামনে দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট কোন গ্রাহ্য করার বিষয় নয়। এমনিভাবে যদি তার কোন খুশির ঘটনা ঘটে, তবে সে উল্লসিত হয় না ও বড়ত্ব দেখায় না। কেননা সে জানে এ ঘটনা আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত তাকদীর অনুযায়ী ও তার সৃজনেই ঘটেছে। এর জন্য অহমিকা না দেখিয়ে আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করাই কর্তব্য।
২৪

الَّذِیۡنَ یَبۡخَلُوۡنَ وَیَاۡمُرُوۡنَ النَّاسَ بِالۡبُخۡلِ ؕ وَمَنۡ یَّتَوَلَّ فَاِنَّ اللّٰہَ ہُوَ الۡغَنِیُّ الۡحَمِیۡدُ ٢٤

আল্লাযীনা ইয়াবখালূনা ওয়া ইয়া’মুরূনান্না-ছা বিলবুখলি ওয়া মাইঁ ইয়াতাওয়াল্লা ফাইন্নাল্লাহা হুওয়াল গানিইয়ূল হামীদ।

তারা এমন লোক, যারা কৃপণতা করে এবং অন্যকেও কৃপণতার নির্দেশ দেয়। ২২ কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলে (সে জেনে রাখুক) আল্লাহ সকলের থেকে অনপেক্ষ, তিনি আপনিই প্রশংসার উপযুক্ত।

তাফসীরঃ

২২. এ সূরায় যেহেতু মানুষকে আল্লাহ তাআলার পথে অর্থ ব্যয় করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, তাই এখানে বলা হচ্ছে, যারা তাকদীরে ঈমান রাখে না, তারা তাদের সম্পদকে কেবল নিজেদের চেষ্টার ফসল মনে করে আর সে কারণে অর্থ বলের দর্প দেখায় এবং সৎকাজে ব্যয় করতে কার্পণ্য করে।
২৫

لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا رُسُلَنَا بِالۡبَیِّنٰتِ وَاَنۡزَلۡنَا مَعَہُمُ الۡکِتٰبَ وَالۡمِیۡزَانَ لِیَقُوۡمَ النَّاسُ بِالۡقِسۡطِ ۚ  وَاَنۡزَلۡنَا الۡحَدِیۡدَ فِیۡہِ بَاۡسٌ شَدِیۡدٌ وَّمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِیَعۡلَمَ اللّٰہُ مَنۡ یَّنۡصُرُہٗ وَرُسُلَہٗ بِالۡغَیۡبِ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ قَوِیٌّ عَزِیۡزٌ ٪ ٢٥

লাকাদ আরছালনা-রুছুলানা-বিলবাইয়িনা-তি ওয়া আনঝালনা-মা‘আহুমুল কিতা-বা ওয়াল মীঝা-না লিইয়াকূমান্না-ছুবিলকিছতি ওয়া আনঝালনাল হাদীদা ফীহি বা’ছুন শাদীদুওঁ ওয়া মানা-ফি‘উ লিন্না-ছি ওয়া লিইয়া‘লামাল্লা-হু মাইঁ ইয়ানসুরুহূওয়া রুছুলাহূবিলগাইবি ইন্নাল্লা-হা কাবিইয়ুন ‘আঝীঝ।

বস্তুত আমি আমার রাসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলীসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সঙ্গে নাযিল করেছি কিতাব ও তুলাদণ্ড, ২৩ যাতে মানুষ ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং আমি অবতীর্ণ করেছি লোহা, যার ভেতর রয়েছে রণশক্তি এবং মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ। ২৪ এটা এই জন্য যে, আল্লাহ জানতে চান, কে তাকে না দেখে তাঁর (দীনের) ও তাঁর রাসূলগণের সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাশক্তিমান ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক। ২৫

তাফসীরঃ

২৩. ‘তুলাদণ্ড’ বলে এমন বস্তুকে, যা দ্বারা কোন জিনিসকে মাপা হয়। তা অবতীর্ণ করার অর্থ, আল্লাহ তাআলা তা সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তা দ্বারা ন্যায়ানুগ পরিমাপ ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার হুকুম দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীগণ ও তাঁর কিতাবের সাথে তুলাদণ্ডের উল্লেখ দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন, মানুষের উচিত তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও পরিমিতি রক্ষা করা। সেই ভারসাম্য ও পরিমিতির শিক্ষাই নবী-রাসূলগণের কাছে ও আসমানী কিতাবসমূহে পাওয়া যায়।
২৬

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا وَّاِبۡرٰہِیۡمَ وَجَعَلۡنَا فِیۡ ذُرِّیَّتِہِمَا النُّبُوَّۃَ وَالۡکِتٰبَ فَمِنۡہُمۡ مُّہۡتَدٍ ۚ وَکَثِیۡرٌ مِّنۡہُمۡ فٰسِقُوۡنَ ٢٦

ওয়া লাকাদ আরছালনা-নূহাও ওয়া ইবরা-হীমা ওয়া জা‘আলনা-ফী যুররিইইয়াতিহিমান নুবুওয়াতা ওয়াল কিতা-বা ফামিনহুম মুহতাদিও ওয়া কাছীরুম মিনহুম ফা-ছিকূন।

আমি নূহ ও ইবরাহীমকে রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছিলাম এবং তাদের বংশধরদের মধ্যে নবুওয়াত ও কিতাবের ধারা চালু করেছিলাম। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক তো হেদায়াতপ্রাপ্ত হল আর বিপুল সংখ্যকই অবাধ্য হয়ে থাকল।
২৭

ثُمَّ قَفَّیۡنَا عَلٰۤی اٰثَارِہِمۡ بِرُسُلِنَا وَقَفَّیۡنَا بِعِیۡسَی ابۡنِ مَرۡیَمَ وَاٰتَیۡنٰہُ الۡاِنۡجِیۡلَ ۬ۙ وَجَعَلۡنَا فِیۡ قُلُوۡبِ الَّذِیۡنَ اتَّبَعُوۡہُ رَاۡفَۃً وَّرَحۡمَۃً ؕ وَرَہۡبَانِیَّۃَۨ ابۡتَدَعُوۡہَا مَا کَتَبۡنٰہَا عَلَیۡہِمۡ اِلَّا ابۡتِغَآءَ رِضۡوَانِ اللّٰہِ فَمَا رَعَوۡہَا حَقَّ رِعَایَتِہَا ۚ فَاٰتَیۡنَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡہُمۡ اَجۡرَہُمۡ ۚ وَکَثِیۡرٌ مِّنۡہُمۡ فٰسِقُوۡنَ ٢٧

ছু ম্মা কাফফাইনা-‘আলাআ-ছা-রিহিম বিরুছুলিনা-ওয়া কাফফাইনা-বি‘ঈছাবনি মারইয়ামা ওয়া আ-তাইনা-হুল ইনজীলা ওয়া জা‘আলনা-ফী কুলূবিল্লাযীনাত্তাবা‘ঊহু রা’ফাতাওঁ ওয়া রাহমাতাও ওয়া রাহবা-নিইয়াতানিব তাদা‘ঊহা-মা-কাতাবনা-হা‘আলাইহিম ইল্লাবতিগাআ রিদওয়া-নিল্লা-হি ফামা-রা‘আওহা-হাক্কা রি‘আ-ইয়াতিহা- ফাআ-তাইনাল্লাযীনা আ-মানূমিনহুম আজরাহুম ওয়া কাছীরুম মিনহুম ফাছিকূন।

অতঃপর আমি তাদেরই পদাঙ্কনুসারী করে পাঠাই আমার রাসূলগণকে এবং তাদের পেছনে পাঠালাম ঈসা ইবনে মারয়ামকে। আর তাকে দান করলাম ইনজিল। যারা তার অনুসরণ করল, আমি তাদের অন্তরে দিলাম মমতা ও দয়া। ২৬ আর রাহবানিয়্যাতের যে বিষয়টা, তা তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল। আমি তাদের উপর তা বাধ্যতামূলক করিনি। ২৭ বস্তুত তারা (এর মাধ্যমে) আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানই করতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে পালন করেনি। ২৮ তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল, তাদেরকে আমি তাদের প্রতিদান দিয়েছিলাম। আর তাদের বহু সংখ্যক হয়ে থাকল অবাধ্য।

তাফসীরঃ

২৬. এমনিতে তো মমতা ও করুণার বিষয়টা সমস্ত নবীর শিক্ষায়ই ছিল, কিন্তু হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের শিক্ষায় এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া তার শরীয়তে যেহেতু যুদ্ধ-বিগ্রহের বিধান ছিল না, তাই তাঁর অনুসারীদের মধ্যে দয়া-মায়ার দিকটি বেশি প্রতীয়মান ছিল।
২৮

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ وَاٰمِنُوۡا بِرَسُوۡلِہٖ یُؤۡتِکُمۡ کِفۡلَیۡنِ مِنۡ رَّحۡمَتِہٖ وَیَجۡعَلۡ لَّکُمۡ نُوۡرًا تَمۡشُوۡنَ بِہٖ وَیَغۡفِرۡ لَکُمۡ ؕ  وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ۚۙ ٢٨

ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুত্তাকুল্লা-হা ওয়া আ-মিনূবিরাছুলিহী ইউ’তিকুম কিফলাইনি মির রাহমাতিহী ওয়া ইয়াজ‘আল্লাকুম নূরান তামশূনা বিহী ওয়া ইয়াগফির লাকুম ওয়াল্লা-হু গাফূরুর রাহীম।

হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তার রাসূলের প্রতি ঈমান আন, তাহলে তিনি তোমাদেরকে তাঁর রহমতের দু’টি অংশ দান করবেন। ২৯ তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন এমন আলো, যার সাহায্যে তোমরা চলবে ৩০ এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

২৯. অর্থাৎ তোমরা যেখানেই যাবে, সে আলো তোমাদের সঙ্গে থাকবে। অথবা এর অর্থ, সে আলো পুলসিরাতকে তোমাদের জন্য আলোকিত করে তুলবে, যার উপর দিয়ে তোমরা সহজে চলতে পারবে।
২৯

لِّئَلَّا یَعۡلَمَ اَہۡلُ الۡکِتٰبِ اَلَّا یَقۡدِرُوۡنَ عَلٰی شَیۡءٍ مِّنۡ فَضۡلِ اللّٰہِ وَاَنَّ الۡفَضۡلَ بِیَدِ اللّٰہِ یُؤۡتِیۡہِ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ  وَاللّٰہُ ذُو الۡفَضۡلِ الۡعَظِیۡمِ ٪ ٢٩

লিয়াল্লা-ইয়া‘লামা আহলুল কিতা-বি আল্লা-ইয়াকদিরূনা ‘আলা-শাইয়িম মিন ফাদলিল্লা-হি ওয়া আন্নাল ফাদলা বিয়াদিল্লা-হি ইউ’তীহি মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু যুল ফাদলিল ‘আজীম।

তা এজন্য যে, যাতে কিতাবীগণ জানতে পারে, ৩১ আল্লাহর অনুগ্রহের মধ্যে তাদের কিছুমাত্র এখতিয়ার নেই ৩২ এবং সমস্ত অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।

তাফসীরঃ

৩১. কিতাবীদের সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে এ বাক্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। (এক) যে সকল ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঈমান আনেনি, তাদের মধ্যে একটা বড় অংশের ঈমান না আনার কারণ ছিল কেবলই ঈর্ষাকাতরতা। তাদের কথা ছিল শেষ নবী বনী ইসরাঈলদের মধ্যে না এসে হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বংশে কেন আসবেন? তাদেরকে বলা হচ্ছে, নবুওয়াত আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ। এ অনুগ্রহ তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। এটা তোমাদের এখতিয়ারাধীন বিষয় নয় যে, তোমরা যাকে ইচ্ছা কর তাকেই দিতে হবে। (দুই) খ্রিস্টানদের মধ্যে এক সময় রেওয়াজ হয়ে গিয়েছিল যে, তাদের পাদ্রী অর্থের বিনিময়ে পাপ থেকে মানুষের মুক্তিপত্র লিখে দিত। মৃত্যুর পর সেই ব্যক্তির সঙ্গে তা কবরে দাফন করে দেওয়া হত। মনে করা হত, পাদ্রীর দেওয়া মুক্তিপত্রের কারণে সেই ব্যক্তির পাপ মোচন হয়ে গেছে। কাজেই আল্লাহ তাআলার কাছে সে ক্ষমা পাবে। এ আয়াত বলছে, আল্লাহ তাআলার করুণা কেবলই তাঁর নিজস্ব ব্যাপার। এতে কোন বান্দার কিছুমাত্র এখতিয়ার নেই। আল্লাহ তাআলা কাকে ক্ষমা করবেন, কে তাঁর রহমত-øাত হবে আর কে তার ক্ষমা ও রহমত থেকে বঞ্চিত হয়ে শাস্তিপ্রাপ্ত হবে একচ্ছত্রভাবে সে ফায়সালা তিনিই করবেন।