সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আত ত্বালাক (الـطلاق) | তালাক

মাদানী

মোট আয়াতঃ ১২

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ اِذَا طَلَّقۡتُمُ النِّسَآءَ فَطَلِّقُوۡہُنَّ لِعِدَّتِہِنَّ وَاَحۡصُوا الۡعِدَّۃَ ۚ وَاتَّقُوا اللّٰہَ رَبَّکُمۡ ۚ لَا تُخۡرِجُوۡہُنَّ مِنۡۢ بُیُوۡتِہِنَّ وَلَا یَخۡرُجۡنَ اِلَّاۤ اَنۡ یَّاۡتِیۡنَ بِفَاحِشَۃٍ مُّبَیِّنَۃٍ ؕ وَتِلۡکَ حُدُوۡدُ اللّٰہِ ؕ وَمَنۡ یَّتَعَدَّ حُدُوۡدَ اللّٰہِ فَقَدۡ ظَلَمَ نَفۡسَہٗ ؕ لَا تَدۡرِیۡ لَعَلَّ اللّٰہَ یُحۡدِثُ بَعۡدَ ذٰلِکَ اَمۡرًا ١

ইয়াআইয়ুহান্নাবিইয়ুইযা-তাল্লাকতুমুন্নিছাআ ফাতালিলকূহুন্না লি‘ইদ্দাতিহিন্না ওয়া আহসুল ‘ইদ্দাতা ওয়াত্তাকুল্লা-হা রাব্বাকুম লা-তুখরিজুহুন্না মিম বুয়ূতিহিন্না ওয়ালাইয়াখরুজনা ইল্লাআইঁ ইয়া’তীনা বিফা-হিশাতিম মুবাইয়িনাতিওঁ ওয়া তিলকা হুদূদুল্লাহি ওয়া মাইঁ ইয়াতা‘আদ্দা হুদূদাল্লা-হি ফাকাদ জালামা নাফছাহূ লা-তাদরী লা‘আল্লাল্লা-হা ইউহদিছু বা‘দা যা-লিকা আমরা-।

হে নবী! তোমরা যখন নারীদেরকে তালাক দাও, তখন তাদেরকে তাদের ইদ্দতের সময়ে তালাক দিও এবং ভালোভাবে ইদ্দতের হিসাব রেখ এবং আল্লাহকে ভয় করো, যিনি তোমাদের প্রতিপালক। তাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করো না এবং তারা নিজেরাও যেন বের না হয় যদি না তারা সুস্পষ্ট কোন অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। এটা আল্লাহর (স্থিরীকৃত) সীমারেখা। কেউ আল্লাহর (স্থিরীকৃত) সীমারেখা লংঘন করলে সে তো তার নিজের উপরই জুলুম করল। তুমি জান না, হয়ত আল্লাহ এরপর কোন নতুন বিষয় সৃষ্টি করে দেবেন।

তাফসীরঃ

১. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাকের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটার পর স্ত্রী যদি নতুন স্বামী গ্রহণ করতে চায়, তবে সেজন্য তাকে কিছুকাল অপেক্ষা করতে হয়। অপেক্ষার সেই মেয়াদকেই ‘ইদ্দত’ বলে। সূরা বাকারায় (২ : ২২৮) বলা হয়েছে, তালাকপ্রাপ্তা নারীর ইদ্দত হল, তালাকের পর তিনটি ঋতু অতিবাহিত হওয়া। এ আয়াতে তালাকদাতা স্বামীকে আদেশ করা হয়েছে, স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইলে এমন সময় দেবে, যার পরপর সে ইদ্দত শুরু করতে পারে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যাখ্যা করেছেন এই যে, স্ত্রীকে তার ঋতু চলাকালে তালাক দেবে না; বরং এমন পবিত্রতার মেয়াদে দেবে, যেই মেয়াদের ভেতর সে তার সাথে সহবাস করেনি। এ নির্দেশের বহু তাৎপর্য আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি এই যে, (এক) ইসলাম চায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা অটুট থাকুক। যদি কখনও তালাকের মাধ্যমে তা ছিন্ন করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে তা যেন ভালোভাবে চিন্তা-ভাবনা করে ভদ্রোচিত পন্থায় হয় এবং তাতে কোন পক্ষই অন্যের জন্য অহেতুক কষ্টের কারণ না হয়। ঋতুকালে তালাক দিলে এই সম্ভাবনা থাকে যে, স্বামী স্ত্রীর অশুচি অবস্থার কারণে সাময়িক ঘৃণার বশে তালাক দিয়ে দিয়েছে। কিংবা যেই পবিত্রতার মেয়াদে সহবাস হয়েছে, সেই মেয়াদের ভিতর তালাক দিলেও হতে পারে স্ত্রীর প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে তালাক দিয়েছে। পক্ষান্তরে যে পবিত্রতার মেয়াদে একবারও সহবাস হয়নি, সেই মেয়াদের ভেতর তালাক দিলে বোঝা যায় এ তালাক কোন সাময়িক অনাগ্রহের ফল নয়। কেননা এরূপ সময়ে সাধারণত স্ত্রীর প্রতি পূর্ণ আগ্রহ ও আকর্ষণ থাকে, তা সত্ত্বেও যখন তালাক দিচ্ছে, তখন নিশ্চয়ই এর যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ আছে। (দুই) ঋতুকালে তালাক দিলে স্ত্রীর ইদ্দত অহেতুক দীর্ঘ করা হয়। কেননা যেই ঋতুতে তালাক দেওয়া হয়েছে, সেটি তো ইদ্দতের মধ্যে হিসাবে ধরা হবে না। তার ইদ্দত হিসাব করা হবে সেই ঋতু থেকে পাক হওয়ার পর যখন পরবর্তী ঋতু শুরু হবে তখন থেকে। এর ফলে স্ত্রীকে অযথা কষ্ট দেওয়া হবে। তাই হুকুম দেওয়া হয়েছে, তালাক দিতে হবে পবিত্রতার মেয়াদে এবং তাও সেই মেয়াদে, যার ভেতর সহবাস হয়নি। অধিকাংশ মুফাসসির আয়াতের তাফসীর এভাবেই করেছেন। কয়েকটি সহীহ হাদীস দ্বারাও এর সমর্থন পাওয়া যায়। কোন কোন মুফাসসির এর অন্য রকম তাফসীরও করেছেন। তারা আয়াতের তরজমা করেছেন এ রকম, ‘তাদেরকে তালাক দাও ইদ্দতের জন্য।’ তারা এর ব্যাখ্যা করেন যে, আয়াতে আল্লাহ তাআলা পুরুষদেরকে উৎসাহিত করেছেন, তাদের যদি স্ত্রীদেরকে তালাক দেওয়ার দরকার পড়ে, তবে যেন রজঈ তালাক দেয়। অর্থাৎ এমন তালাক দেয়, যার পর ইদ্দতকালে স্ত্রীকে ফেরত গ্রহণ করা সম্ভব হয়। যেন তালাক দেওয়া হবে ইদ্দতকালের সময় পর্যন্ত। এ সময়কালে চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ হবে এবং অবস্থা অনুকূল মনে হলে তালাক প্রত্যাহার করে নেওয়া যাবে, যেমন পরের আয়াতে বলা হয়েছে।

فَاِذَا بَلَغۡنَ اَجَلَہُنَّ فَاَمۡسِکُوۡہُنَّ بِمَعۡرُوۡفٍ اَوۡ فَارِقُوۡہُنَّ بِمَعۡرُوۡفٍ وَّاَشۡہِدُوۡا ذَوَیۡ عَدۡلٍ مِّنۡکُمۡ وَاَقِیۡمُوا الشَّہَادَۃَ لِلّٰہِ ؕ  ذٰلِکُمۡ یُوۡعَظُ بِہٖ مَنۡ کَانَ یُؤۡمِنُ بِاللّٰہِ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ۬ؕ  وَمَنۡ یَّتَّقِ اللّٰہَ یَجۡعَلۡ لَّہٗ مَخۡرَجًا ۙ ٢

ফাইযা-বালাগনা আজালাহুন্না ফাআমছিকূহুন্না বিমা‘রূফিন আও ফা-রিকূহুন্না বিমা‘রূফিওঁ ওয়া আশহিদূযাওয়াই ‘আদলিম মিনকুম ওয়া আকীমুশশাহা-দাতা লিল্লা-হি যা-লিকুম ইঊ‘আজুবিহী মান কা-না ইউ’মিনুবিল্লা-হি ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি ওয়া মাইঁ ইয়াত্তাকিল্লা-হা ইয়াজ‘আল্লাহূমাখরাজা-।

অতঃপর তাদের (ইদ্দতের) মেয়াদ শেষ পর্যায়ে পৌঁছলে তোমরা হয় তাদেরকে যথাবিধি (নিজেদের বিবাহাধীন) রেখে দেবে অথবা তাদেরকে যথাবিধি বিচ্ছিন্ন করে দেবে। আর নিজেদের মধ্য হতে ন্যায়নিষ্ঠ দু’জন লোককে সাক্ষী রাখবে। তোমরা আল্লাহর জন্য সঠিক সাক্ষ্য দিও। (হে মানুষ!) এটা এমন বিষয়, যার দ্বারা তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তাদেরকে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। যে-কেউ আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার জন্য সংকট থেকে উত্তরণের কোন পথ তৈরি করে দেবেন।

তাফসীরঃ

৪. এটা রজঈ তালাক সংক্রান্ত বিধান। স্বামী যদি স্ত্রীকে রজঈ তালাক দেয় আর স্ত্রী ইদ্দত পালন করতে থাকে, তবে ইদ্দত শেষ হওয়ার আগেই স্বামীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সে কি তালাক প্রত্যাহার করে স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক পুনর্বহাল করবে, না এখনও বিচ্ছেদকেই সে সমীচীন মনে করে। উভয় অবস্থায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সে যা-ই করতে চায়, তা যেন ভালোভাবে করে, ন্যায়সঙ্গতভাবে করে। যদি দাম্পত্য সম্পর্ক পুনর্বহাল করতে চায়, তবে তালাক প্রত্যাহার করে নিক এবং এরপর থেকে স্ত্রীর সাথে প্রীতিপূর্ণ আচার-আচরণ করে চলুক আর যদি বিচ্ছেদকেই বেছে নেয়, তবে ভদ্রোচিত পন্থায়, সদ্ভাবে স্ত্রীকে বিদায় করুক।

وَّیَرۡزُقۡہُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَحۡتَسِبُ ؕ وَمَنۡ یَّتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰہِ فَہُوَ حَسۡبُہٗ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بَالِغُ اَمۡرِہٖ ؕ قَدۡ جَعَلَ اللّٰہُ لِکُلِّ شَیۡءٍ قَدۡرًا ٣

ওয়া ইয়ারঝুকহু মিন হাইছুলা-ইয়াহতাছিবু ওয়া মাইঁ ইয়াতাওয়াক্কাল ‘আলাল্লা-হি ফাহুওয়া হাছবুহূ ইন্নাল্লা-হা বা-লিগু আমরিহী কাদ জা‘আলাল্লা-হু লিকুল্লি শাইয়িন কাদরা-।

এবং তাকে এমন স্থান থেকে রিযক দান করবেন, যা তার ধারণার বাইরে। যে-কেউ আল্লাহর উপর নির্ভর করে, আল্লাহই তার (কর্ম সম্পাদনের) জন্য যথেষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ তার কাজ পূরণ করেই থাকেন। (অবশ্য) আল্লাহ সবকিছুর জন্য একটা পরিমাণ নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।

তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার উপর ভরসা করে, আল্লাহ তাআলা তার কাজ পূর্ণ করে দেন। তবে কাজ পূর্ণ করার ধরন ও তার সময় আল্লাহ তাআলা নিজেই নির্ধারণ করেন। কেননা তিনি প্রতিটি জিনিসের এক মাপজোখকৃত পরিমাণ নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। প্রকাশ থাকে যে, উপায় অবলম্বন করা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়। বরং তা অবলম্বন করাও আল্লাহর হুকুম। কিন্তু ভরসা রাখতে হবে আল্লাহ তা‘আলার উপর, উপায়ের উপর নয়।

وَالّٰٓیِٴۡ یَئِسۡنَ مِنَ الۡمَحِیۡضِ مِنۡ نِّسَآئِکُمۡ اِنِ ارۡتَبۡتُمۡ فَعِدَّتُہُنَّ ثَلٰثَۃُ اَشۡہُرٍ ۙ وَّالّٰٓیِٴۡ لَمۡ یَحِضۡنَ ؕ وَاُولَاتُ الۡاَحۡمَالِ اَجَلُہُنَّ اَنۡ یَّضَعۡنَ حَمۡلَہُنَّ ؕ وَمَنۡ یَّتَّقِ اللّٰہَ یَجۡعَلۡ لَّہٗ مِنۡ اَمۡرِہٖ یُسۡرًا ٤

ওয়াল্লাঈইয়াইছনা মিনাল মাহীদিমিন্নিছাইকুম ইনিরতাবতুম ফা‘ইদ্দাতুহুন্না ছালাছাতুআশহুরিওঁ ওয়াল্লায়ী লাম ইয়াহিদনা ওয়া উলা-তুল আহমা-লি আজালুহুন্না আইঁ ইয়াদা‘না হামলাহুন্না ওয়া মাইঁ ইয়াত্তাকিল্লা-হা ইয়াজ‘আল লাহূমিন আমরিহী ইউছরা-।

তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের ঋতু আসার কোন আশা নেই, তোমাদের যদি (তাদের ইদ্দত সম্পর্কে) সন্দেহ হয়, তবে (জেনে রাখ) তাদের ইদ্দত হল তিন মাস। আর এখনও পর্যন্ত যারা ঋতুমতীই হয়নি, তাদেরও (ইদ্দত এটাই)। যারা গর্ভবতী, তাদের (ইদ্দতের) মেয়াদ হল তাদের সন্তান প্রসব। যে-কেউ আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার কাজ সহজে সমাধান করে দেন।

তাফসীরঃ

৯. সূরা বাকারায় (২ : ২২৮) বলা হয়েছিল তালাকপ্রাপ্তা নারীর ইদ্দতকাল তিনটি ঋতু। এতে কারও মনে প্রশ্ন দেখা দিল, যাদের বয়স বেশি হওয়ার কারণে ঋতু আসা বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের ইদ্দত কী হবে? এ আয়াতে তার জবাব দেওয়া হয়েছে যে, তাদের ইদ্দতকাল তিন ঋতুর স্থানে তিন মাস হবে। এমনিভাবে নাবালেগ মেয়ে, যার এখনও পর্যন্ত ঋতু দেখা দেয়নি, তার ইদ্দতও তিন মাস। যাদেরকে গর্ভাবস্থায় তালাক দেওয়া হয়েছে, তার ইদ্দত ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকবে, যতক্ষণ না সন্তান প্রসব হয় বা কোন কারণে গর্ভপাত ঘটে, তা তিন মাসের আগেই হোক বা তার পরে।

ذٰلِکَ اَمۡرُ اللّٰہِ اَنۡزَلَہٗۤ اِلَیۡکُمۡ ؕ وَمَنۡ یَّتَّقِ اللّٰہَ یُکَفِّرۡ عَنۡہُ سَیِّاٰتِہٖ وَیُعۡظِمۡ لَہٗۤ اَجۡرًا ٥

যা-লিকা আমরুল্লা-হি আনঝালাহূইলাইকুম ওয়া মাইঁ ইয়াত্তাকিল্লা-হা ইউকাফফির ‘আনহু ছাইয়িআ-তিহী ওয়া ইউ‘জিম লাহূআজরা-।

এটা আল্লাহর নির্দেশ, যা তিনি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন। যে-কেউ আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তাঁর পাপরাশি মার্জনা করবেন এবং তাকে দিবেন মহা পুরস্কার।

اَسۡکِنُوۡہُنَّ مِنۡ حَیۡثُ سَکَنۡتُمۡ مِّنۡ وُّجۡدِکُمۡ وَلَا تُضَآرُّوۡہُنَّ لِتُضَیِّقُوۡا عَلَیۡہِنَّ ؕ  وَاِنۡ کُنَّ اُولَاتِ حَمۡلٍ فَاَنۡفِقُوۡا عَلَیۡہِنَّ حَتّٰی یَضَعۡنَ حَمۡلَہُنَّ ۚ  فَاِنۡ اَرۡضَعۡنَ لَکُمۡ فَاٰتُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ ۚ  وَاۡتَمِرُوۡا بَیۡنَکُمۡ بِمَعۡرُوۡفٍ ۚ  وَاِنۡ تَعَاسَرۡتُمۡ فَسَتُرۡضِعُ لَہٗۤ اُخۡرٰی ؕ ٦

আছকিনূহুন্না মিন হাইছুছাকানতুম মিওঁউজদিকুম ওয়ালা-তুদাররূহুন্না লিতুদাইয়িকূ ‘আলাইহিন্না ওয়া ইন কুন্না ঊলা-তি হামলিন ফাআনফিকূ‘আলাইহিন্না হাত্তা-ইয়াদা‘না হামলাহুন্না ফাইন আরদা‘না লাকুম ফাআ-তূহুন্না উজূরাহুন্না ওয়া’তামিরূবাইনাকুম বিমা‘রূফিও ওয়া ইন তা‘আ-ছারতুম ফাছাতুরদি‘উ লাহূউখরা-।

তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদেরকে সেই স্থানে বাস করতে দাও, যেখানে তোমরা নিজেরা বাস কর। তাদেরকে সংকটে ফেলার জন্য কষ্ট দিও না। ১০ তারা গর্ভবতী হলে তাদের জন্য ব্যয় করতে থাক, যতক্ষণ না তারা সন্তান প্রসব করে। ১১ তারপর তারা যদি তোমাদের জন্য শিশুদের দুধ পান করায়, তবে তাদেরকে তাদের পারিশ্রমিক দিও। আর (পারিশ্রমিক নির্ধারণের জন্য) উত্তম পন্থায় নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে নিও। তোমরা যদি একে অন্যের জন্য সংকট সৃষ্টি কর, তবে অন্য কোন নারী তাকে দুধ পান করাবে। ১২

তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ স্বামী যেন এরূপ চিন্তা না করে যে, স্ত্রীকে যখন বিদায়ই দিতে হবে তখন আচ্ছা মত জ্বালিয়ে নেই। বরং তার উচিত হবে, যত দিন স্ত্রী তার ঘরে ইদ্দত পালন করবে, ততদিন তার সাথে ভালো ব্যবহার করা। এ আয়াত দ্বারাই হানাফী ফুকাহায়ে কেরাম প্রমাণ করেন, তালাক রজঈ হোক বা বায়েন, ইদ্দতকালে স্ত্রীর ব্যয়ভার স্বামীকেই বহন করতে হবে। কেননা খোরপোষ না দেওয়াটা তাকে কষ্ট দানেরই নামান্তর, যা এ আয়াতে নিষেধ করা হয়েছে।

لِیُنۡفِقۡ ذُوۡ سَعَۃٍ مِّنۡ سَعَتِہٖ ؕ  وَمَنۡ قُدِرَ عَلَیۡہِ رِزۡقُہٗ فَلۡیُنۡفِقۡ مِمَّاۤ اٰتٰىہُ اللّٰہُ ؕ  لَا یُکَلِّفُ اللّٰہُ نَفۡسًا اِلَّا مَاۤ اٰتٰىہَا ؕ  سَیَجۡعَلُ اللّٰہُ بَعۡدَ عُسۡرٍ یُّسۡرًا ٪ ٧

লিইয়ুনফিকযূছা‘আতিম মিন ছা‘আতিহী ওয়া মান কুদিরা ‘আলাইহি রিঝকুহূ ফালইউনফিকমিম্মাআ-তা-হুল্লা-হু লা-ইউকালিলফুল্লা-হু নাফছান ইল্লা-মাআ-তাহা- ছাইয়াজ‘আলুল্লা-হু বা‘দা ‘উছরিইঁ ইউছরা-।

প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তি নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী খরচা দেবে আর যার জীবিকা সংকীর্ণ করে দেওয়া হয়েছে, (অর্থাৎ যে গরীব) সে, আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা থেকে খরচা দেবে। আল্লাহ যাকে যতটুকু দিয়েছেন তার বেশি ভার তার উপর অর্পণ করেন না। ১৩ আল্লাহ সংকটের পর স্বাচ্ছন্দ্য সৃষ্টি করে দেবেন। ১৪

তাফসীরঃ

১৩. এটা গরীবদের জন্য একটা সুসংবাদ যে, আল্লাহ তাআলা তাকে যতটুকুই দিয়েছেন, তা থেকেই সে যদি বিধিমতো খরচ করে, তবে একদিন আল্লাহ তা‘আলা তার অর্থকষ্ট ঘুচিয়ে দেবেন। -অনুবাদক

وَکَاَیِّنۡ مِّنۡ قَرۡیَۃٍ عَتَتۡ عَنۡ اَمۡرِ رَبِّہَا وَرُسُلِہٖ فَحَاسَبۡنٰہَا حِسَابًا شَدِیۡدًا ۙ وَّعَذَّبۡنٰہَا عَذَابًا نُّکۡرًا ٨

ওয়া কাআইয়িম মিন কারয়াতিন ‘আতাত ‘আন আমরি রাব্বিহা-ওয়া রুছুলিহী ফাহা-ছাব নাহা-হিছা-বান শাদীদাওঁ ওয়া ‘আযযাবনা-হা-‘আযা-বান নুকরা-।

এমন কত জনপদ রয়েছে, যেগুলো নিজ প্রতিপালক ও তাঁর রাসূলগণের আদেশ অহংকার বশে অমান্য করেছিল। ফলে আমি তাদের হিসাব নেই কঠোরভাবে এবং তাদেরকে শাস্তি দেই, অদৃষ্টপূর্ব শাস্তি।

فَذَاقَتۡ وَبَالَ اَمۡرِہَا وَکَانَ عَاقِبَۃُ اَمۡرِہَا خُسۡرًا ٩

ফাযা-কাত ওয়া বা-লা আমরিহা-ওয়া কা-না ‘আ-কিবাতুআমরিহা-খুছরা-।

এভাবে তারা তাদের কর্মের পরিণতি ভোগ করল। বস্তুত ক্ষতিই ছিল তাদের কর্মের পরিণতি।
১০

اَعَدَّ اللّٰہُ لَہُمۡ عَذَابًا شَدِیۡدًا ۙ  فَاتَّقُوا اللّٰہَ یٰۤاُولِی الۡاَلۡبَابِ ۬ۚۖۛ  الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ؕ۟ۛ  قَدۡ اَنۡزَلَ اللّٰہُ اِلَیۡکُمۡ ذِکۡرًا ۙ ١۰

আ‘আদ্দাল্লা-হু লাহুম ‘আযা-বান শাদীদান ফাত্তাকুল্লা-হা ইয়াউলিল আলবা-বিল্লাযীনা আ-মানূ কাদ আনঝালাল্লা-হু ইলাইকুম যিকরা-।

(আর আখেরাতে) আল্লাহ তাদের জন্য এক কঠিন শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। সুতরাং হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ, যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। ১৫ আল্লাহ তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন এক উপদেশ

তাফসীরঃ

১৫. এটা কুরআন মাজীদের এক বিশেষ বাকশৈলী। কুরআন যখনই যে বিধান দেয়, তার আগে-পরে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়, তোমাদেরকে আল্লাহ তাআলার সামনে অবশ্যই একদিন জবাবদিহি করতে হবে। সুতরাং সেই চেতনার সাথে তাকে ভয় করে চল। এটা এমন এক চেতনা, যা তোমাদের জন্য তাঁর সমস্ত আদেশ-নিষেধের অনুসরণকে সহজ করে দেবে।
১১

رَّسُوۡلًا یَّتۡلُوۡا عَلَیۡکُمۡ اٰیٰتِ اللّٰہِ مُبَیِّنٰتٍ لِّیُخۡرِجَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ مِنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ ؕ وَمَنۡ یُّؤۡمِنۡۢ بِاللّٰہِ وَیَعۡمَلۡ صَالِحًا یُّدۡخِلۡہُ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا ؕ قَدۡ اَحۡسَنَ اللّٰہُ لَہٗ رِزۡقًا ١١

রাছূলাইঁ ইয়াতলূ‘আলাইকুম আ-য়া-তিল্লা-হি মুবাইয়িনা-তিল লিইউখরিজাল্লাযী না আ-মানূ ওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি মিনাজ্জুলুমা-তি ইলান্নূরি ওয়া মাইঁ ইউ’মিম বিল্লা-হি ওয়া ইয়া‘মাল সা-লিহাইঁ ইউদখিলহু জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহাআবাদা- কাদ আহছানাল্লা-হু লাহূরিঝকা-।

অর্থাৎ এমন এক রাসূল, যে তোমাদের সামনে পাঠ করে আল্লাহর আলোকপাতকারী আয়াত, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোতে আনার জন্য। যে-কেউ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাকে প্রবেশ করাবেন এমন উদ্যানে, যার নিচে নহর প্রবাহিত থাকবে, যাতে তারা সর্বদা থাকবে। আল্লাহ এরূপ ব্যক্তির জন্য উৎকৃষ্ট রিযকের ব্যবস্থা রেখেছেন।
১২

اَللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ وَّمِنَ الۡاَرۡضِ مِثۡلَہُنَّ ؕ  یَتَنَزَّلُ الۡاَمۡرُ بَیۡنَہُنَّ لِتَعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ۬ۙ  وَّاَنَّ اللّٰہَ قَدۡ اَحَاطَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عِلۡمًا ٪ ١٢

আল্লা-হুল্লাযী খালাকা ছাব‘আ ছামা-ওয়া-তিওঁ ওয়া মিনাল আরদিমিছলাহুন্না ইয়াতানাঝঝালুল আমরু বাইনাহুন্না লিতা‘লামূআন্নাল্লা-হা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীরুওঁ ওয়া আন্নাল্লা-হা কাদ আহা-তা বিকুল্লি শাইয়িন ‘ইল মা-।

আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন সাত আকাশ এবং তার অনুরূপ পৃথিবীও। ১৬ তাদের মাঝে আল্লাহর হুকুম অবতীর্ণ হতে থাকে, যাতে তোমরা জানতে পার আল্লাহ সর্ব বিষয়ে পরিপূর্ণ শক্তি রাখেন এবং আল্লাহর জ্ঞান সবকিছুকে বেষ্টন করে আছে।

তাফসীরঃ

১৬. বিভিন্ন হাদীস দ্বারা এর যে অর্থ বোঝা যায়, তা হচ্ছে আকাশমণ্ডলীর মত পৃথিবীও সাতটি। কিন্তু কুরআন ও হাদীস এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা পেশ করেনি। অর্থাৎ সাত পৃথিবী স্তরে-স্তরে গ্রথিত, না এর পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব আছে? দূরত্ব থাকলে তা কোথায়-কোথায় অবস্থিত? এসব জানানো হয়নি। কিন্তু একথাও সত্য যে, মহা বিশ্বে এখনও এমন অসংখ্য বস্তু রয়েছে, মানব-জ্ঞান যে পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। কেবল আল্লাহ তাআলাই তা জানেন। কুরআন মাজীদ যে উদ্দেশ্যে নাযিল হয়েছে তা পূরণের জন্য এসব জানা জরুরিও নয়। এ আয়াতের মূল উদ্দেশ্য এই যে, মহাবিশ্বের সৃষ্টিনিচয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করে আল্লাহ তাআলার অসীম শক্তি ও অপার হেকমতের উপর ঈমান আনাই সুস্থ বিবেক-বুদ্ধির দাবি।