সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আত তাহরীম (الـتحريم) | নিষিদ্ধকরণ

মাদানী

মোট আয়াতঃ ১২

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَاۤ اَحَلَّ اللّٰہُ لَکَ ۚ تَبۡتَغِیۡ مَرۡضَاتَ اَزۡوَاجِکَ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ١

ইয়াআইয়ুহান্নাবিইয়ুলিমা তুহাররিমুমাআহাল্লাল্লা-হু লাকা তাবতাগী মারদা-তা আঝওয়া-জিকা ওয়াল্লা-হু গাফূরুর রাহীম।

হে নবী! আল্লাহ যে জিনিস তোমার জন্য হালাল করেছেন, তুমি নিজ স্ত্রীদেরকে খুশী করার জন্য তা হারাম করছ কেন? আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

১. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটা নিয়ম ছিল, তিনি প্রতিদিন আসরের পর প্রত্যেক স্ত্রীর কাছে কিছুক্ষণের জন্য যেতেন। নিয়ম অনুসারে একদিন তিনি হযরত যয়নাব (রাযি.)-এর ঘরে গেলেন। হযরত যয়নাব (রাযি.) তাকে মধু খেতে দিলেন। তিনি তা খেলেন। তারপর তিনি হযরত আয়েশা ও হযরত হাফসা (রাযি.)-এর ঘরে গেলেন। তারা দু’জনেই জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি মাগাফির খেয়েছেন? (মাগাফির এক জাতীয় উদ্ভিদ, যাতে কিছুটা দুর্গন্ধ আছে)। তিনি বললেন, না তো! তারা বললেন, তাহলে আপনার মুখে এ গন্ধ কিসের? তখন তাঁর সন্দেহ হল, হয়ত তিনি যে মধু পান করেছেন, মৌমাছি তাতে মাগাফিরের রসও রেখেছিল! মুখে গন্ধ থাকাটা তাঁর কাছে খুবই অপছন্দের ছিল। কাজেই তিনি কসম করলেন, আর কখনও মধু পান করবেন না। তারই প্রেক্ষাপটে এ আয়াত নাযিল হয়।

قَدۡ فَرَضَ اللّٰہُ لَکُمۡ تَحِلَّۃَ اَیۡمَانِکُمۡ ۚ وَاللّٰہُ مَوۡلٰىکُمۡ ۚ وَہُوَ الۡعَلِیۡمُ الۡحَکِیۡمُ ٢

কাদ ফারাদাল্লা-হু লাকুম তাহিল্লাতা আইমা-নিকুম ওয়াল্লা-হু মাওলা-কুম ওয়া হুওয়াল ‘আলীমুল হাকীম।

আল্লাহ তোমাদের কসম থেকে মুক্তি লাভের ব্যবস্থা দান করেছেন। আল্লাহ তোমাদের অভিভাবক। তিনিই সর্বজ্ঞ, পরিপূর্ণ হেকমতের মালিক।

তাফসীরঃ

২. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধু না খাওয়া সম্পর্কে যে কসম করেছিলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত তাকে নির্দেশ দিচ্ছে, তিনি যেন কসম ভেঙ্গে ফেলেন এবং তার জন্য কাফফারা আদায় করেন। হাদীসে আছে, কেউ যদি কোন অনুচিত কসম করে, তবে সে যেন তা ভেঙ্গে ফেলে ও কাফফারা আদায় করে। এর কাফফারা সেটাই, যা সূরা মায়েদার (৫ : ৮৯) বর্ণিত হয়েছে।

وَاِذۡ اَسَرَّ النَّبِیُّ اِلٰی بَعۡضِ اَزۡوَاجِہٖ حَدِیۡثًا ۚ فَلَمَّا نَبَّاَتۡ بِہٖ وَاَظۡہَرَہُ اللّٰہُ عَلَیۡہِ عَرَّفَ بَعۡضَہٗ وَاَعۡرَضَ عَنۡۢ بَعۡضٍ ۚ فَلَمَّا نَبَّاَہَا بِہٖ قَالَتۡ مَنۡ اَنۡۢبَاَکَ ہٰذَا ؕ قَالَ نَبَّاَنِیَ الۡعَلِیۡمُ الۡخَبِیۡرُ ٣

ওয়া ইযআছাররান্নাবিইয়ুইলা-বা‘দিআঝওয়া-জিহী হাদীছান ফালাম্মা-নাব্বাআত বিহী ওয়া আজহারাহুল্লা-হু আলাইহি ‘আররাফা বা‘দাহূওয়াআ‘রাদা ‘আম বা‘দিন ফালাম্মা-নাব্বাআহা-বিহী কা-লাত মান আম্বাআকা হা-যা- কা-লা নাব্বাআনিয়াল ‘আলীমুল খাবীর।

এবং স্মরণ কর, যখন নবী তার কোন এক স্ত্রীকে গোপনে একটি কথা বলেছিল। তারপর সেই স্ত্রী যখন সে কথা (অন্য কাউকে) বলে দিল এবং আল্লাহ তা নবীর কাছে প্রকাশ করে দিলেন, তখন সে তার কিছু অংশ জানাল এবং কিছু এড়িয়ে গেল। যখন নবী তা তার সেই স্ত্রীকে জানাল, তখন সে বলতে লাগল, আপনাকে একথা কে জানাল? নবী বলল, আমাকে জানিয়েছেন তিনি, যিনি সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবগত।

তাফসীরঃ

৩. গোপন কথাটি ছিল এই যে, ‘আমি আর মধু খাব না বলে কসম করেছি’। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটি হযরত হাফসা (রাযি.)কে বলে দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে সাবধান করেছিলেন, তিনি যেন একথা কারও কাছে ফাঁস না করেন। কেননা তাহলে হযরত যয়নাব (রাযি.) যার ঘরে তিনি মধু খেয়েছিলেন, মনে কষ্ট পাবেন।

اِنۡ تَتُوۡبَاۤ اِلَی اللّٰہِ فَقَدۡ صَغَتۡ قُلُوۡبُکُمَا ۚ وَاِنۡ تَظٰہَرَا عَلَیۡہِ فَاِنَّ اللّٰہَ ہُوَ مَوۡلٰىہُ وَجِبۡرِیۡلُ وَصَالِحُ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ بَعۡدَ ذٰلِکَ ظَہِیۡرٌ ٤

ইন তাতূবাইলাল্লা-হি ফাকাদ সাগাত কুলূবুকুমা- ওয়া ইন তাজা-হারা-‘আলাইহি ফাইন্নাল্লা-হা হুওয়া মাওলা-হু ওয়া জিবরীলুওয়া সা-লিহুল মু’মিনীনা ওয়াল মালাইকাতুবা‘দা যা-লিকা জাহীর।

(হে নবী পত্নীগণ!) তোমরা যদি আল্লাহর কাছে তাওবা কর (তবে তাই হবে উচিত কাজ), কেননা তোমাদের অন্তর ঝুঁকে পড়েছে। কিন্তু তোমরা যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য কর, তবে (জেনে রেখ) তার সঙ্গী আল্লাহ, জিবরাঈল ও সৎকর্মশীল মুমিনগণ। তাছাড়া ফেরেশতাগণ তার সাহায্যকারী।

তাফসীরঃ

৬. একথা বলা হচ্ছে হযরত আয়েশা (রাযি.) ও হযরত হাফসা (রাযি.) উভয়কে। অধিকাংশ মুফাসসির এর ব্যাখ্যা করেছেন ‘তোমাদের অন্তর সত্য থেকে অন্য দিকে ঝুঁকে পড়েছে।’ অর্থাৎ সত্য-সঠিক পথ থেকে সরে গিয়েছে। কিন্তু কারও কারও মতে এর ব্যাখ্যা হল তোমাদের অন্তর তাওবার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। কাজেই তোমাদের তাওবা করে ফেলা উচিত।

عَسٰی رَبُّہٗۤ اِنۡ طَلَّقَکُنَّ اَنۡ یُّبۡدِلَہٗۤ اَزۡوَاجًا خَیۡرًا مِّنۡکُنَّ مُسۡلِمٰتٍ مُّؤۡمِنٰتٍ قٰنِتٰتٍ تٰٓئِبٰتٍ عٰبِدٰتٍ سٰٓئِحٰتٍ ثَیِّبٰتٍ وَّاَبۡکَارًا ٥

‘আছা-রাব্বুহইন তাল্লাকাকুন্না আইঁ ইউবদিলাহূ আঝওয়া-জান খাইরাম মিনকুন্না মুছলিমাতিম মু’মিনা-তিন কা-নিতা-তিন তাইবা-তিন ‘আ-বিদা-তিন ছাইহা-তিন ছাইয়িবাতিওঁ ওয়া আবকা-রা-।

সে যদি তোমাদের সকলকে তালাক দিয়ে দেয়, তবে তার প্রতিপালক তোমাদের পরিবর্তে শীঘ্রই তাকে দিতে পারেন এমন স্ত্রী, যারা হবে তোমাদের চেয়ে উত্তম, মুসলিম, মুমিন, অনুগত, তাওবাকারী, ইবাদতগোজার, রোযাদার, পূর্ববিবাহিতা বা কুমারী।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا قُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ وَاَہۡلِیۡکُمۡ نَارًا وَّقُوۡدُہَا النَّاسُ وَالۡحِجَارَۃُ عَلَیۡہَا مَلٰٓئِکَۃٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا یَعۡصُوۡنَ اللّٰہَ مَاۤ اَمَرَہُمۡ وَیَفۡعَلُوۡنَ مَا یُؤۡمَرُوۡنَ ٦

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূকূআনফুছাকুমওয়াআহলীকুমনা-রাওঁ ওয়াকূ দুহান্না-ছু ওয়াল হিজা-রাতু‘আলাইহা-মালাইকাতুনগিলা-জু নশিদা-দুল লা-ইয়া‘সূনাল্লা-হা মা আমারাহুম ওয়া ইয়াফ‘আলূনা মা-ইউ’মারূন।

হে মুমিনগণ! নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে রক্ষা কর সেই আগুন থেকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। তাতে নিয়োজিত আছে কঠোর স্বভাব, কঠিন হৃদয় ফেরেশতাগণ, যারা আল্লাহর কোন হুকুমে তাঁর অবাধ্যতা করে না এবং সেটাই করে, যার নির্দেশ তাদেরকে দেওয়া হয়।

তাফসীরঃ

৭. ‘পাথর’ দ্বারা পাথর নির্মিত প্রতিমা বোঝানো হয়েছে, মূর্তিপূজকরা যাদের পূজা করে থাকে। তাদেরকে জাহান্নামে ফেলে তার পূজারীদের শিক্ষা দেওয়া হবে যে, দেখ তোমরা যাদেরকে উপাস্য মনে করতে আজ তাদের কী শোচনীয় পরিণাম হয়েছে।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَا تَعۡتَذِرُوا الۡیَوۡمَ ؕ  اِنَّمَا تُجۡزَوۡنَ مَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٪ ٧

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা কাফারূলা-তা‘তাযিরুল ইয়াওমা ইন্নামা-তুজঝাওনা মা-কুনতুম তা‘মালূন।

হে কাফেরগণ! আজ তোমরা অজুহাত দেখিও না। তোমরা যা করতে তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেওয়া হচ্ছে।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا تُوۡبُوۡۤا اِلَی اللّٰہِ تَوۡبَۃً نَّصُوۡحًا ؕ عَسٰی رَبُّکُمۡ اَنۡ یُّکَفِّرَ عَنۡکُمۡ سَیِّاٰتِکُمۡ وَیُدۡخِلَکُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ۙ یَوۡمَ لَا یُخۡزِی اللّٰہُ النَّبِیَّ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَہٗ ۚ نُوۡرُہُمۡ یَسۡعٰی بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَبِاَیۡمَانِہِمۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَاۤ اَتۡمِمۡ لَنَا نُوۡرَنَا وَاغۡفِرۡ لَنَا ۚ اِنَّکَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٨

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূতূবূইলাল্লা-হি তাওবাতান নাসূহা ‘আছা-রাব্বুকুম আইঁ ইউকাফফিরা ‘আনকুম ছাইয়িআ-তিকুম ওয়া ইউদখিলাকুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ইয়াওমা লা-ইউখঝিল্লা-হুন নাবিইইয়া ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ মা‘আহূ নূরুহুম ইয়াছ‘আ-বাইনা আইদীহিম ওয়া বিআইমা-নিহিম ইয়াকূলূনা রাব্বানা আতমিম লানা-নূরানা-ওয়াগফিরলানা- ইন্নাকা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

হে মুমিনগণ! আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা কর। অসম্ভব নয় যে, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের পাপসমূহ তোমাদের থেকে মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে এমন উদ্যানে প্রবেশ করাবেন, যার নিচে নহর বহমান থাকবে, সেই দিন, যে দিন আল্লাহ নবীকে এবং তাঁর সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও তাদের ডান পাশে ধাবিত হবে। তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য এ আলোকে পরিপূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান।

তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ এ আলো শেষ পর্যন্ত স্থায়ী রাখুন। সূরা হাদীদে গেছে, মুনাফেকরাও প্রথম দিকে সে আলো দ্বারা উপকৃত হবে, কিন্তু পরে তাদের থেকে তা সরিয়ে নেওয়া হবে।

یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ جَاہِدِ الۡکُفَّارَ وَالۡمُنٰفِقِیۡنَ وَاغۡلُظۡ عَلَیۡہِمۡ ؕ وَمَاۡوٰىہُمۡ جَہَنَّمُ ؕ وَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ ٩

ইয়াআইয়ুহান্নাবিইয়ুজা-হিদিল কুফফা-রা ওয়াল মুনা-ফিকীনা ওয়াগলুজ‘আলাইহিম ওয়া মা’ওয়া-হুম জাহান্নামু ওয়া বি’ছাল মাসীর।

হে নবী! কাফের ও মুনাফেকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর ১০ এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হয়ে যাও। তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। তা অতি মন্দ ঠিকানা।

তাফসীরঃ

১০. ‘জিহাদ’-এর প্রকৃত অর্থ চেষ্টা ও মেহনত করা। দীনী দাওয়াতের যে-কোন শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টাও এর অন্তর্ভুক্ত। এমনিভাবে দীনের প্রচার-প্রসার ও প্রতিষ্ঠাকল্পে যেসব নির্বিরোধী কর্মপন্থা গ্রহণ করা হয় তাও। আবার শত্রুর মোকাবেলায় যে সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালিত হয় তাও জিহাদ। তবে সশস্ত্র সংগ্রাম কেবল কাফেরদের বিরুদ্ধেই হতে পারে। মুনাফেকরা যেহেতু নিজেদেরকে মুমিন বলে পরিচয় দিত তাই দুনিয়ায় তাদের সাথে মুমিনদের মত আচরণই করা হত। সাধারণ অবস্থায় তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা হত না, তবে তারা বিদ্রোহ করলে সেটা ভিন্ন কথা।
১০

ضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا لِّلَّذِیۡنَ کَفَرُوا امۡرَاَتَ نُوۡحٍ وَّامۡرَاَتَ لُوۡطٍ ؕ کَانَتَا تَحۡتَ عَبۡدَیۡنِ مِنۡ عِبَادِنَا صَالِحَیۡنِ فَخَانَتٰہُمَا فَلَمۡ یُغۡنِیَا عَنۡہُمَا مِنَ اللّٰہِ شَیۡئًا وَّقِیۡلَ ادۡخُلَا النَّارَ مَعَ الدّٰخِلِیۡنَ ١۰

দারাবাল্লা-হু মাছালালিলল্লাযীনা কাফারুমরাআতা নূহিওঁ ওয়ামরাআতা লূতিন কানাতা-তাহতা ‘আবদাইনি মিন ‘ইবা-দিনা-ছা-লিহাইনি ফাখা-নাতা-হুমা-ফালাম ইউগনিয়া-‘আনহুমা-মিনাল্লা-হি শাইআওঁ ওয়া কীলাদ খুলান্না-রা মা‘আদ্দা-খিলীন।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য নূহের স্ত্রী ও লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত পেশ করছেন। তারা আমার অত্যন্ত নেককার দু’জন বান্দার বিবাহাধীন ছিল। অতঃপর তারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। ১১ ফলে আল্লাহর বিরুদ্ধে তারা তাদের কোন কাজে আসল না এবং তাদেরকে (অর্থাৎ স্ত্রী দু’জনকে) বলা হল, অন্যান্য প্রবেশকারীদের সাথে তোমরাও জাহান্নামে প্রবেশ কর।

তাফসীরঃ

১১. হযরত নূহ আলাইহিস সালামের স্ত্রী তার মহাত্মা স্বামীর বিরুদ্ধাচরণ করত এবং তাঁকে পাগল বলত। তাঁর গোপনীয় বিষয় সে মানুষের কাছে ফাঁস করে দিত। আর হযরত লূত আলাইহিস সালামের স্ত্রীও ছিল স্বামীর অবাধ্য। সেও তাঁর শত্রুদের সাহায্য করত (রূহুল মাআনী)। এ দৃষ্টান্ত দ্বারা আল্লাহ তাআলা বোঝাচ্ছেন, মানুষ নিজে মুমিন না হলে, নিকটতম আত্মীয়ের ঈমান দ্বারাও উপকৃত হতে পারবে না।
১১

وَضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوا امۡرَاَتَ فِرۡعَوۡنَ ۘ  اِذۡ قَالَتۡ رَبِّ ابۡنِ لِیۡ عِنۡدَکَ بَیۡتًا فِی الۡجَنَّۃِ وَنَجِّنِیۡ مِنۡ فِرۡعَوۡنَ وَعَمَلِہٖ وَنَجِّنِیۡ مِنَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ ۙ ١١

ওয়া দারাবাল্লা-হু মাছালালিলল্লাযীনা আ-মানুমরাআতা ফির‘আওনা । ইযকা-লাত রাব্ব্বিনি লী ‘ইনদাকা বাইতান ফিল জান্নাতি ওয়া নাজ্জিনী মিন ফির‘আওনা ওয়া ‘আমালিহী ওয়া নাজ্জিনী মিনাল কাওমিজ্জা-লিমীন।

আর আল্লাহ মুমিনদের জন্য পেশ করছেন ফির‘আউন-পত্নীর দৃষ্টান্ত, ১২ যখন সে বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার জন্য আপনার কাছে জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করুন এবং আমাকে ফির‘আউন ও তার কর্ম হতে মুক্তি দিন। আর আমাকে নাজাত দিন জালেম সম্প্রদায় হতে।

তাফসীরঃ

১২. ফির‘আউনের স্ত্রীর নাম ছিল আসিয়া। আল্লাহ তাআলা যখন হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে যাদুকরদের বিরুদ্ধে জয়যুক্ত করেছিলেন, তখন যাদুকরদের সঙ্গে তিনিও হযরত মূসা আলাইহিস সালামের উপর ঈমান এনেছিলেন। এ কারণে ফির‘আউন তার উপর অনেক নিপীড়ন চালিয়েছিল। সেই নিপীড়ন ভোগ কালেই তিনি এই দুআ করেছিলেন। কোন কোন বর্ণনায় আছে, ফির‘আউন তার হাত-পায়ে পেরেক গেঁথে উপর থেকে পাথর নিক্ষেপে উদ্যত হয়েছিল, কিন্তু তার আগে-আগেই আল্লাহ তাআলা তাঁকে মৃত্যু দান করেন (রূহুল মাআনী)। [এ দৃষ্টান্ত দ্বারা বোঝানো হচ্ছে নিজে ঈমানদার হলে স্বামী বা অন্য কোনও প্রিয়জনের কুফরীর কারণে আখিরাতে তার কোনো ক্ষতি হবে না। -অনুবাদক]
১২

وَمَرۡیَمَ ابۡنَتَ عِمۡرٰنَ الَّتِیۡۤ اَحۡصَنَتۡ فَرۡجَہَا فَنَفَخۡنَا فِیۡہِ مِنۡ رُّوۡحِنَا وَصَدَّقَتۡ بِکَلِمٰتِ رَبِّہَا وَکُتُبِہٖ وَکَانَتۡ مِنَ الۡقٰنِتِیۡنَ ٪ ١٢

ওয়া মারইয়ামাবনাতা ‘ইমরা-নাল্লাতীআহসানাত ফারজাহা-ফানাফাখনা-ফীহি মিররূহিনাওয়া সাদ্দাকাত বিকালিমা-তি রাব্বিহা-ওয়া কুতুবিহী ওয়া কা-নাত মিনাল কা-নিতীন।

তাছাড়া ইমরান কন্যা মারয়ামকেও (দৃষ্টান্ত রূপে পেশ করছেন), যে তার সতীত্ব রক্ষা করেছিল। ১৩ ফলে আমি তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিলাম। ১৪ আর সে নিজ প্রতিপালকের বাণী ও তার কিতাবসমূহকে সত্য বলে স্বীকার করেছিল এবং সে ছিল আনুগত্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত। ১৫

তাফসীরঃ

১৩. এর দ্বারা ইয়াহূদীদের দেওয়া অপবাদ খণ্ডন হয়ে গেছে। তারা হযরত মারয়াম ‘আলায়হাস সালামের প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছিল। তাদের ধারণা হযরত ‘ঈসা ‘আলায়হিস সালামের জন্ম সেই ব্যভিচার থেকেই (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)। -অনুবাদক
সূরা আত তাহরীম | মুসলিম বাংলা