সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল ক্বলম (الـقـلـم) | কলম

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৫২

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

نٓ وَالۡقَلَمِ وَمَا یَسۡطُرُوۡنَ ۙ ١

নূন ওয়াল কালামি ওয়ামা- ইয়াছতুরূন।

নূন। (হে রাসূল!) শপথ কলমের এবং তারা যা লিখছে তার।

তাফসীরঃ

১. মক্কা মুকাররমার কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাগল বলত (নাউযুবিল্লাহ)। ২নং আয়াতে তা রদ করা হয়েছে। তার আগে এ আয়াতে এভাবে শপথ করা হয়েছে। বহু মুফাসসিরের মতে এখানে ‘কলম’ দ্বারা তাকদীর লেখার কলম বোঝানো হয়েছে আর ‘তারা’ সর্বনাম দ্বারা বোঝানো হয়েছে ফেরেশতাদেরকে। অর্থাৎ শপথ তাকদীর লেখার কলমের এবং ফেরেশতাগণ তাকদীরের যে সিদ্ধান্তসমূহ লেখে তার, তুমি উন্মাদ নও। বোঝানো হচ্ছে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে নবী হবেন এবং মক্কা মুকাররমায় প্রেরিত হবেন, তা তাকদীরে পূর্বেই লিখে রাখা হয়েছে। সুতরাং তিনি যদি দুনিয়াবাসীর কাছে আল্লাহ তাআলার বার্তা পৌঁছিয়ে থাকেন, তা অস্বাভাবিক ও আশ্চর্যজনক কোন ব্যাপার নয়। কোন কোন মুফাসসির বলেন, এখানে যে কলমের শপথ করা হয়েছে, তা সাধারণ কলমই আর ‘যা তারা লিখছে’ বলেও মানুষ সাধারণভাবে যা লেখে তাই বোঝানো হয়েছে। এ হিসেবে এর ব্যাখ্যা হল, কলম দ্বারা যারা লিখতে পারে, তাদের পক্ষেও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন মাজীদের মাধ্যমে মানুষের কাছে যে উচ্চ মানের বিষয়বস্তু পেশ করছেন তার মত কিছু লেখা সম্ভব নয়। অথচ তিনি একজন উম্মী, নিরক্ষর। তিনি লেখাপড়া জানেন না। একজন উম্মীর মুখে এ রকম উচ্চ মানের বাণী উচ্চারিত হওয়াটা একথার সমুজ্জ্বল প্রমাণ যে, তাঁর কাছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহী আসে। সুতরাং তাকে যে উন্মাদ বলে সে নিজেই মহা উন্মাদ।

مَاۤ اَنۡتَ بِنِعۡمَۃِ رَبِّکَ بِمَجۡنُوۡنٍ ۚ ٢

মাআনতা বিনি‘মাতি রাব্বিকা বিমাজনূন।

স্বীয় প্রতিপালকের অনুগ্রহে তুমি উন্মাদ নও।

وَاِنَّ لَکَ لَاَجۡرًا غَیۡرَ مَمۡنُوۡنٍ ۚ ٣

ওয়া ইন্না লাকা লাআজরান গাইরা মামনূন।

নিশ্চয়ই তোমার জন্য আছে অনিঃশেষ প্রতিদান।

وَاِنَّکَ لَعَلٰی خُلُقٍ عَظِیۡمٍ ٤

ওয়া ইন্নাকা লা‘আলা-খুলুকিন ‘আজীম।

এবং নিশ্চয়ই তুমি অধিষ্ঠিত আছ মহান চরিত্রে।

فَسَتُبۡصِرُ وَیُبۡصِرُوۡنَ ۙ ٥

ফাছাতুবসিরু ওয়া ইউবসিরূন।

সুতরাং অচিরেই তুমি দেখবে এবং তারাও দেখতে পাবে—

بِاَىیِّکُمُ الۡمَفۡتُوۡنُ ٦

বিআইয়িকুমুল মাফতূন।

তোমাদের মধ্যে কে বিকারগ্রস্ত—।

اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ اَعۡلَمُ بِمَنۡ ضَلَّ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ۪ وَہُوَ اَعۡلَمُ بِالۡمُہۡتَدِیۡنَ ٧

ইন্না রাব্বাকা হুওয়া আ‘লামুবিমান দাল্লা ‘আন ছাবীলিহী ওয়াহুওয়া আ‘লামু বিলমুহতাদীন।

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক ভালোভাবে জানেন সেই ব্যক্তিকে, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং ভালোভাবে জানেন সঠিক পথপ্রাপ্তদেরকেও।

فَلَا تُطِعِ الۡمُکَذِّبِیۡنَ ٨

ফালা-তুতি‘ইল মুকাযযি বীন।

সুতরাং যারা (তোমাকে) মিথ্যাবাদী বলে, তুমি তাদের কথায় চলো না।

وَدُّوۡا لَوۡ تُدۡہِنُ فَیُدۡہِنُوۡنَ ٩

ওয়াদ্দূলাও তুদহিনুফাইউদহিনূন।

তারা চায় তুমি নমনীয় হলে তারাও নমনীয় হবে।

তাফসীরঃ

৩. কাফেরদের পক্ষ থেকে কয়েক বারই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি দীনের দাওয়াতে কিছুটা নমনীয়তা প্রদর্শন করেন এবং কাফেরদের দেব-দেবীদেরকে অলীক সাব্যস্ত না করেন, তবে তারাও তাদের আচরণে নমনীয় হবে এবং তাকে আর কষ্ট দেবে না। আয়াতে তাদের সে প্রস্তাবের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১০

وَلَا تُطِعۡ کُلَّ حَلَّافٍ مَّہِیۡنٍ ۙ ١۰

ওয়ালা-তুতি‘ কুল্লা হাল্লাফিম মাহীন।

এবং অত্যধিক কসমকারী হীন ব্যক্তির কথায়ও চলো না,

তাফসীরঃ

৪. যে সকল কাফের মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছিল এবং যে-কোনও উপায়ে তাকে দীনের প্রচার কার্য হতে বিরত রাখার চেষ্টা করছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন আখলাক-চরিত্রের দিক থেকে অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ের ছিল। ১০ থেকে ১২নং পর্যন্ত আয়াতগুলিতে তাদের চারিত্রিক দোষগুলি উল্লেখ করা হয়েছে। কোন কোন মুফাসসিরের বর্ণনা অনুযায়ী তারা হল আখনাস ইবনে শারীক, আসওয়াদ ইবনে আবদে ইয়াগূছ বা ওয়ালীদ ইবনে মুগীরা।
১১

ہَمَّازٍ مَّشَّآءٍۭ بِنَمِیۡمٍ ۙ ١١

হাম্মা-ঝিম মাশশাইম বিনামীম।

যে নিন্দা করতে অভ্যস্ত, চুগলি করে বেড়ায়,
১২

مَّنَّاعٍ لِّلۡخَیۡرِ مُعۡتَدٍ اَثِیۡمٍ ۙ ١٢

মান্না-‘ইলিলল খাইরি মু‘তাদিন আছীম।

সৎকাজে বাধাদানকারী, সীমালংঘনকারী, পাপিষ্ঠ,
১৩

عُتُلٍّۭ بَعۡدَ ذٰلِکَ زَنِیۡمٍ ۙ ١٣

‘উতুলিলম বা‘দা যা- লিকা ঝানীম।

রূঢ় স্বভাব, তাছাড়া অজ্ঞাতকুলশীল।
১৪

اَنۡ کَانَ ذَا مَالٍ وَّبَنِیۡنَ ؕ ١٤

আন কা-না যা- মা-লিওঁ ওয়া বানীন।

এই কারণে যে, সে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে সমৃদ্ধ।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ সে অতি সম্পদশালী এবং তার বংশে লোকজনও অনেক বেশি, কেবল এ কারণেই এই শ্রেণীর লোকের কথায় পড়া উচিত নয়। আখলাক-চরিত্র ও ভদ্রতাই মানুষের আসল জিনিস। তা যাদের মধ্যে নেই, ধনে জনে তারা যত বড়ই হোক তাদের কথা ভ্রক্ষেপযোগ্য নয়।
১৫

اِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِ اٰیٰتُنَا قَالَ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ ١٥

ইযা-তুতলা- ‘আলাইহি আ-য়া-তুনা- কা- লা আছা-তীরুল আওওয়ালীন।

তার সামনে যখন আমার আয়াতসমূহ পড়া হয়, তখন সে বলে, (এটা তো) অতীত লোকদের কিসসা-কাহিনী।
১৬

سَنَسِمُہٗ عَلَی الۡخُرۡطُوۡمِ ١٦

ছানাছিমুহূ‘আলাল খুরতূম।

আমি অচিরেই তার শুঁড় দাগিয়ে দেব।

তাফসীরঃ

৬. শুঁড় দ্বারা নাক বোঝানো হয়েছে। এরূপ বলা হয়েছে তাকে হেয় করার জন্য। আয়াতের মর্ম হল, কিয়ামতের দিন এরূপ লোকের নাক দাগিয়ে দেওয়া হবে, যেহেতু নাক উঁচু করা তথা অহমিকার কারণেই তারা সত্য গ্রহণ করছে না। সেই অহমিকার শাস্তিস্বরূপ এই লাঞ্ছনাকর শাস্তি তাদেরকে দেওয়া হবে।
১৭

اِنَّا بَلَوۡنٰہُمۡ کَمَا بَلَوۡنَاۤ اَصۡحٰبَ الۡجَنَّۃِ ۚ  اِذۡ اَقۡسَمُوۡا لَیَصۡرِمُنَّہَا مُصۡبِحِیۡنَ ۙ ١٧

ইন্না- বালাওনা- হুম কামা-বালাওনাআসাহা-বাল জান্নাতি ইযআকছামূ লাইয়াসরিমুন্নাহা- মুসবিহীন।

আমি তাদেরকে (অর্থাৎ মক্কাবাসীকে) পরীক্ষায় ফেলেছি, যেমন পরীক্ষায় ফেলেছিলাম (এক) বাগানওয়ালাদেরকে, যখন তারা শপথ করেছিল, ভোর হওয়া মাত্র আমরা বাগানের ফসল কাটব।

তাফসীরঃ

৭. মক্কা মুকাররমার বিত্তবান কাফেরগণ মনে করত, আল্লাহ তাআলা আমাদের উপর অসন্তুষ্ট থাকলে আমাদেরকে এতটা ধন-সম্পদ দিতেন না। সূরা মুমিনূন (২৩ : ৫৬)-এ আল্লাহ তাআলা তাদের এ ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন। এখানে আল্লাহ তাআলা বলছেন, আমি অনেক সময় অর্থ-সম্পদ দেই পরীক্ষা করার জন্য। যাকে তা দেই, সে যদি শোকর আদায়ের পরিবর্তে নাশোকরী করে, তবে দুনিয়াতেই তার উপর আযাব এসে যায়। এরই প্রসঙ্গে এখানে একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। ঘটনাটি আরববাসীর কাছে প্রসিদ্ধ ছিল। তার সারসংক্ষেপ এরূপ, এক ব্যক্তি অত্যন্ত নেককার ছিল, তার ছিল একটি বড় বাগান। লোকটির অভ্যাস ছিল, যখনই বাগানের ফসল কাটত, তা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গরীব-দুঃখীদের দান করত। তার ইন্তিকালের পর তার পুত্রগণ, যারা তাদের পিতার মত নেককার ছিল না, নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, আমাদের পিতার কোন বুদ্ধি ছিল না। তাই তো ফল-ফসলের এত বড় অংশ গরীবদের মধ্যে বিলাত আর এভাবে নিজ সম্পদ নষ্ট করত। এখন আমরা যখন বাগানের ফসল তুলব, তখন এমন ব্যবস্থা করব, যাতে কোন গরীব কাছেই আসতে না পারে। এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা যখন ফল পাড়ার জন্য বাগানে গেল, তারা আশ্চর্য হয়ে দেখল, আল্লাহ তাআলা বাগানটির উপর এমন এক বিপর্যয় ছেড়ে দিয়েছেন যে, তাতে গোটা বাগান তছনছ হয়ে গেছে। অধিকাংশ বর্ণনা অনুযায়ী এ ঘটনাটি ঘটেছিল ‘যারওয়ান’ নামক স্থানে, যা ইয়ামানের ‘সানআ’ শহর থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত। আজও পর্যন্ত এলাকাটিকে ‘যারওয়ান’-ই বলা হয়। আমি সেখানে গিয়েছি। সেখানে চারদিকে বিস্তীর্ণ সবুজ-সজীবের মাঝখানে কালো পাথুরে একখণ্ড বিরাণ ভূমি পড়ে রয়েছে। প্রসিদ্ধ আছে, এটাই কুরআন বর্ণিত সেই বাগানটির স্থান, যা পরবর্তীতে আবাদ করা সম্ভব হয়নি।
১৮

وَلَا یَسۡتَثۡنُوۡنَ ١٨

ওয়ালা-ইয়াছতাছনূন।

এবং (একথা বলার সময়) তারা কোন ব্যতিক্রম রাখছিল না।

তাফসীরঃ

৮. يستثنون ক্রিয়াপদটি (استثناء = ব্যতিক্রম রাখা) হতে উৎপন্ন। তাদের সম্পর্কে যে বলা হয়েছে তারা কোন ‘ব্যতিক্রম রাখছিল না’-এর দু’টি ব্যাখ্যা হতে পারে। (ক) তাদের অভিপ্রায় ছিল সবটা ফসলই নিজেরা নিয়ে যাবে, কিছুই ব্যতিক্রম ও বাদ রাখবে না অর্থাৎ গরীবদেরকে কিছুই দেবে না। (খ) অনেক সময় এ শব্দটি দ্বারা ‘ইনশাআল্লাহ বলা’-ও বোঝানো হয়। এ হিসেবে অর্থ হবে, যখন তারা বলছিল, আমরা ভোর হওয়া মাত্র ফসল কাটব, তখন তারা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেনি।
১৯

فَطَافَ عَلَیۡہَا طَآئِفٌ مِّنۡ رَّبِّکَ وَہُمۡ نَآئِمُوۡنَ ١٩

ফাতা-ফা ‘আলাইহা- তাইফুম মিররাব্বিকা ওয়া হুম নাইমূন।

অতঃপর তারা যখন নিদ্রিত ছিল, তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সেই বাগানে হানা দিল এক উপদ্রব,
২০

فَاَصۡبَحَتۡ کَالصَّرِیۡمِ ۙ ٢۰

ফাআসবাহাত কাসসারীম।

ফলে ভোরবেলা তা হয়ে গেল কাটা ক্ষেতের মত।
২১

فَتَنَادَوۡا مُصۡبِحِیۡنَ ۙ ٢١

ফাতানা-দাও মুসবিহীন।

ভোর হতেই তারা একে অন্যকে ডাক দিল।
২২

اَنِ اغۡدُوۡا عَلٰی حَرۡثِکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰرِمِیۡنَ ٢٢

আনিগদূ‘আলা-হারছিকুম ইন কুনতুম সা-রিমীন।

তোমরা ফসল কাটতে চাইলে ভোর বেলায়ই ক্ষেতে চল।
২৩

فَانۡطَلَقُوۡا وَہُمۡ یَتَخَافَتُوۡنَ ۙ ٢٣

ফানতালাকূওয়া হুম ইয়াতাখা-ফাতূন।

সুতরাং তারা চুপিসারে একে অন্যকে এই বলতে বলতে রওয়ানা হল
২৪

اَنۡ لَّا یَدۡخُلَنَّہَا الۡیَوۡمَ عَلَیۡکُمۡ مِّسۡکِیۡنٌ ۙ ٢٤

আল্লা-ইয়াদখুলান্নাহাল ইয়াওমা ‘আলাইকুম মিছকীন।

যে, আজ যেন কোন মিসকীন তোমাদের কাছে এ বাগানে ঢুকতে না পারে।
২৫

وَّغَدَوۡا عَلٰی حَرۡدٍ قٰدِرِیۡنَ ٢٥

ওয়া গাদাও ‘আলা- হার দিন কা- দিরীন।

এবং তারা সতেজে বের হয়ে পড়ল শক্তিমত্তার সাথে।

তাফসীরঃ

৯. এর আরেক অর্থ হতে পারে, তারা গরীবদেরকে বাধা দিতে সক্ষম হবে এই বিশ্বাস নিয়ে ভোরে ভোরে রওয়ানা হল।
২৬

فَلَمَّا رَاَوۡہَا قَالُوۡۤا اِنَّا لَضَآلُّوۡنَ ۙ ٢٦

ফালাম্মা- রআওহা-কা- লূইন্না-লাদাললূন।

অতঃপর যখন বাগানটি দেখল, বলে উঠল, আমরা নিশ্চয়ই রাস্তা হারিয়ে ফেলেছি। ১০

তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ যখন তারা বাগানের কাছে গিয়ে দেখল গাছ-বৃক্ষের নাম-নিশানা নেই, তখন প্রথম দিকে মনে করেছিল পথ ভুলে অন্য কোথাও চলে এসেছে।
২৭

بَلۡ نَحۡنُ مَحۡرُوۡمُوۡنَ ٢٧

বাল নাহনূমাহরূমূন।

(কিছুক্ষণ পর বলল) না, বরং আমরা তো হৃতসর্বস্ব। ১১

তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ আমরা পথ হারাইনি; বরং আমাদের সব খোয়া গেছে। এটা আমাদেরই বাগান, কিন্তু কৃত অপরাধের কারণে আমরা এর ফল ও কল্যাণ থেকে তো বঞ্চিত হয়ে গেছি। ভবিষ্যতেও কিছু পাওয়ার আশা নেই, যেহেতু গাছপালাও সব তছনছ হয়ে গেছে। আমরা এখন সর্বহারা। -অনুবাদক
২৮

قَالَ اَوۡسَطُہُمۡ اَلَمۡ اَقُلۡ لَّکُمۡ لَوۡلَا تُسَبِّحُوۡنَ ٢٨

কা-লা আওছাতুহুম আলাম আকুল্লাকুম লাওলা-তুছাব্বিহূন

তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে ভালো ছিল, সে বলল, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, তোমরা তাসবীহ পড়ছ না কেন? ১২

তাফসীরঃ

১২. ভাইদের মধ্যে একজন অপেক্ষাকৃত ভালো ছিল। সে আগেই অন্য ভাইদেরকে বলেছিল, আল্লাহ তাআলার যিকির কর এবং গরীবদেরকে বাধা দিও না, কিন্তু তারা তার কথায় কান দেয়নি এবং শেষ পর্যন্ত সে নিজেও তাদের মত হয়ে গিয়েছিল।
২৯

قَالُوۡا سُبۡحٰنَ رَبِّنَاۤ اِنَّا کُنَّا ظٰلِمِیۡنَ ٢٩

কা-লূছুবহা- না রাব্বিনাইন্না-কুন্না- জা- লিমীন।

তখন তারা বলল, আমরা আমাদের প্রতিপালকের তাসবীহ (তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা) করছি। নিশ্চয়ই আমরা জালেম ছিলাম।
৩০

فَاَقۡبَلَ بَعۡضُہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ یَّتَلَاوَمُوۡنَ ٣۰

ফাআকবালা বা‘দুহুম ‘আলা-বা‘দিইঁ ইয়াতালা-ওয়ামূন।

তারপর তারা একে অন্যের দিকে মুখ করে পরস্পরকে দোষারোপ করতে লাগল।
৩১

قَالُوۡا یٰوَیۡلَنَاۤ اِنَّا کُنَّا طٰغِیۡنَ ٣١

কা-লূইয়া- ওয়াইলানা ইন্না-কুন্না-তা-গীন।

তারপর সকলে (একযোগে) বলল, হায় আফসোস! নিশ্চয়ই আমরা অবাধ্য হয়ে গিয়েছিলাম।
৩২

عَسٰی رَبُّنَاۤ اَنۡ یُّبۡدِلَنَا خَیۡرًا مِّنۡہَاۤ اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا رٰغِبُوۡنَ ٣٢

‘আছা-রাব্বুনাআইঁ ইউবদিলানা-খাইরাম মিনহাইন্নাইলা-রাব্বিনা-রা-গিবূন।

অসম্ভব কিছু নয়, আমাদের প্রতিপালক এ বাগানের পরিবর্তে আমাদেরকে আরও উৎকৃষ্ট বাগান দান করবেন। আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হচ্ছি। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. এর দ্বারা এটাই প্রকাশ যে, এ ঘটনার পর তারা তাওবা করেছিল। (এর আরেক অর্থ হতে পারে, ‘আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছে আশাবাদী’। তিনি চাইলে নিজ রহমতে আমাদেরকে আরও উৎকৃষ্ট বাগান দিতে পারেন। -অনুবাদক)
৩৩

کَذٰلِکَ الۡعَذَابُ ؕ  وَلَعَذَابُ الۡاٰخِرَۃِ اَکۡبَرُ ۘ  لَوۡ کَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ ٪ ٣٣

কাযা-লিকাল ‘আযা-বু ওয়ালা‘আযা-বুল আ-খিরাতি আকবারু । লাও কা-নূ ইয়া‘লামূন।

শাস্তি এমনই হয়ে থাকে। আর নিশ্চয়ই আখেরাতের শাস্তি কঠিনতর যদি তারা জানত!
৩৪

اِنَّ لِلۡمُتَّقِیۡنَ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ جَنّٰتِ النَّعِیۡمِ ٣٤

ইন্না লিলমুত্তাকীনা ‘ইনদা রাব্বিহিম জান্না-তিন না‘ঈম।

তবে মুত্তাকীদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে আছে নি‘আমতপূর্ণ উদ্যানরাজি।
৩৫

اَفَنَجۡعَلُ الۡمُسۡلِمِیۡنَ کَالۡمُجۡرِمِیۡنَ ؕ ٣٥

আফানাজ‘আলুল মুছলিমীনা কালমুজরিমীন।

আচ্ছা, আমি কি অনুগতদেরকে অপরাধীদের সমান গণ্য করব?
৩৬

مَا لَکُمۡ ٝ  کَیۡفَ تَحۡکُمُوۡنَ ۚ ٣٦

মা-লাকুম কাইফা তাহকুমূন।

তোমাদের কী হল? তোমরা কী রকমের সিদ্ধান্ত করছ?
৩৭

اَمۡ لَکُمۡ کِتٰبٌ فِیۡہِ تَدۡرُسُوۡنَ ۙ ٣٧

আম লাকুম কিতা-বুন ফীহি তাদরুছূন।

তোমাদের কাছে কি এমন কোন কিতাব আছে, যার ভেতর তোমরা পড়ছ
৩৮

اِنَّ لَکُمۡ فِیۡہِ لَمَا تَخَیَّرُوۡنَ ۚ ٣٨

ইন্না লাকুম ফীহি লামা- তাখাইইয়ারূন।

যে, সেখানে তোমরা যা পছন্দ কর তাই পাবে? ১৪

তাফসীরঃ

১৪. কোন কোন কাফের বলত, আল্লাহ তাআলা যদি মৃত্যুর পর আমাদেরকে ফের জীবিত করেনও, তবে তিনি সে জীবনেও আমাদেরকে জান্নাতের নি‘আমত দান করবেন। যেমন সূরা হা-মীম-সাজদায় (৪১ : ৫০) গত হয়েছে। এসব আয়াত তাদের সেই ভিত্তিহীন ধারণা রদ করছে।
৩৯

اَمۡ لَکُمۡ اَیۡمَانٌ عَلَیۡنَا بَالِغَۃٌ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ ۙ  اِنَّ لَکُمۡ لَمَا تَحۡکُمُوۡنَ ۚ ٣٩

আম লাকুম আইমা-নুন ‘আলাইনা- বা-লিগাতুন ইলা-ইয়াওমিল কিয়া-মাতি ইন্না লাকুম লামা-তাহকুমূন।

নাকি তোমরা আমার থেকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে এমন কসম নিয়ে রেখেছ যে, তোমরা যা স্থির করবে তাই সেখানে পাবে?
৪০

سَلۡہُمۡ اَیُّہُمۡ بِذٰلِکَ زَعِیۡمٌ ۚۛ ٤۰

ছালহুম আইয়ুহুম বিযা-লিকা ঝা‘ঈম।

(হে রাসূল!) তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, তাদের মধ্যে কে এ বিষয়ের যিম্মাদার? ১৫

তাফসীরঃ

১৫. অর্থাৎ তোমরা যে দাবি করছ, আখিরাতে তোমরা তোমাদের ইচ্ছামত সবকিছুই পাবে এবং দুনিয়ার চেয়ে আরও বেশি আরাম-আয়েশে সেখানে থাকবে, তা তোমাদের মধ্যে কে এর নিশ্চয়তা আল্লাহর থেকে নিয়ে রেখেছে? তোমাদের পক্ষে এর জামিন ও যিম্মাদার কে? এমন কেউ থাকলে সে সামনে এসে বলুক যে আমি তাকে এরূপ নিশ্চয়তা দিয়েছি! প্রকৃতপক্ষে এসব তাদের মিথ্যা আশা অথবা তাদের তরল পরিহাস। -অনুবাদক
৪১

اَمۡ لَہُمۡ شُرَکَآءُ ۚۛ فَلۡیَاۡتُوۡا بِشُرَکَآئِہِمۡ اِنۡ کَانُوۡا صٰدِقِیۡنَ ٤١

আম লাহুম শুরাকা-উ ফালইয়া’তূবিশুরাকাইহিম ইন কা-নূসা-দিকীন।

না কি (আল্লাহর প্রভুত্বে) তাদের (বিশ্বাস মত) কোন শরীক আছে (যারা এই নিশ্চয়তা গ্রহণ করেছে)? তাহলে তারা তাদের সেই শরীকদেরকে উপস্থিত করুক, যদি তারা সত্যবাদী হয়!
৪২

یَوۡمَ یُکۡشَفُ عَنۡ سَاقٍ وَّیُدۡعَوۡنَ اِلَی السُّجُوۡدِ فَلَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ ۙ ٤٢

ইয়াওমা ইউকশাফূ‘আন ছা-কিওঁ ওয়াইউদ‘আওনা ইলাছছুজূদি ফালা-ইয়াছতাতী‘ঊন।

যে দিন ‘সাক’ খুলে দেওয়া হবে এবং তাদেরকে সিজদার জন্য ডাকা হবে, তখন তারা (সিজদা করতে) সক্ষম হবে না। ১৬

তাফসীরঃ

১৬. ‘সাক’ (ساق) অর্থ পায়ের গোছা। কোন কোন মুফাসসির সাক বা পায়ের গোছা খোলার ব্যাখ্যা করেন যে, এটা একটা আরবী বাগধারা। কঠিন কোন সঙ্কট দেখা দিলে এ কথাটি ব্যবহৃত হয়। সুতরাং এর অর্থ হল, যখন কিয়ামতের কঠিন সঙ্কট সামনে এসে যাবে, তখন কাফেরদের এ রকম অবস্থা হবে। আবার অনেক মুফাসসির বলেন, সে দিন আল্লাহ তাআলা নিজের গোছা খুলে দেবেন। তবে তাঁর গোছা মানুষের গোছার মত নয়; বরং এটা আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ গুণের নাম, যার প্রকৃত অবস্থা আল্লাহ তাআলাই জানেন। তো আল্লাহ তাআলা তাঁর সেই গুণ প্রকাশ করবেন এবং মানুষকে সিজদার জন্য ডাকা হবে কিন্তু কাফেরগণ সিজদা করতে পারবে না। কেননা সিজদা করার ক্ষমতা যখন ছিল, তখন তারা সিজদা করতে অস্বীকার করেছিল। সহীহ হাদীস দ্বারাও এ ব্যাখ্যার সমর্থন মেলে।
৪৩

خَاشِعَۃً اَبۡصَارُہُمۡ تَرۡہَقُہُمۡ ذِلَّۃٌ ؕ وَقَدۡ کَانُوۡا یُدۡعَوۡنَ اِلَی السُّجُوۡدِ وَہُمۡ سٰلِمُوۡنَ ٤٣

খা-শি‘আতান আবসা-রুহুম তারহাকুহুম যিল্লাতুওঁ ওয়াকাদ কা-নূইউদ‘আওনা ইলাছছুজূদি ওয়াহুম ছা-লিমূন।

তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনত। হীনতা তাদেরকে আচ্ছন্ন করে রাখবে, অথচ যখন তারা সুস্থ ও নিরাপদ ছিল, তখনও তাদেরকে সিজদার জন্য ডাকা হত (তখন ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা সিজদা করত না)।
৪৪

فَذَرۡنِیۡ وَمَنۡ یُّکَذِّبُ بِہٰذَا الۡحَدِیۡثِ ؕ  سَنَسۡتَدۡرِجُہُمۡ مِّنۡ حَیۡثُ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ۙ ٤٤

ফাযারনী ওয়া মাইঁ ইউকাযযি বুবিহা-যাল হাদীছি ছানাছতাদরিজুহুম মিন হাইছুলাইয়া‘লামূন।

সুতরাং (হে রাসূল!) যারা এ বাণীকে প্রত্যাখ্যান করছে তাদেরকে আমার উপর ছেড়ে দাও। আমি তাদেরকে এমনভাবে ক্রমান্বয়ে (ধ্বংসের দিকে) নিয়ে যাব যে, তারা জানতেও পারবে না।
৪৫

وَاُمۡلِیۡ لَہُمۡ ؕ اِنَّ کَیۡدِیۡ مَتِیۡنٌ ٤٥

ওয়া উমলী লাহুম ইন্না কাইদী মাতীন।

আর আমি তাদেরকে অবকাশ দিয়ে যাচ্ছি। নিশ্চয়ই আমার কৌশল বড় শক্ত।
৪৬

اَمۡ تَسۡـَٔلُہُمۡ اَجۡرًا فَہُمۡ مِّنۡ مَّغۡرَمٍ مُّثۡقَلُوۡنَ ۚ ٤٦

আম তাছআলুহুম আজরান ফাহুম মিম মাগরামিম মুছকালূন।

তুমি কি তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছ যে, তারা জরিমানা-ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়ছে?
৪৭

اَمۡ عِنۡدَہُمُ الۡغَیۡبُ فَہُمۡ یَکۡتُبُوۡنَ ٤٧

আম ‘ইনদাহুমুল গাইবুফাহুম ইয়াকতুবূন।

না কি তাদের কাছে গায়েবের জ্ঞান আছে, যা তারা লিখে রাখছে।
৪৮

فَاصۡبِرۡ لِحُکۡمِ رَبِّکَ وَلَا تَکُنۡ کَصَاحِبِ الۡحُوۡتِ ۘ  اِذۡ نَادٰی وَہُوَ مَکۡظُوۡمٌ ؕ ٤٨

ফাসবির লিহুকমি রাব্বিকা ওয়ালা-তাকুন কাসা-হিবিল হূত । ইয না -দা- ওযা হুওয়া মাকজূম।

মোদ্দাকথা তুমি তোমার প্রতিপালকের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সবর করতে থাক এবং মাছ-সম্পর্কিত ব্যক্তির মত হয়ো না, ১৭ যখন সে (আমাকে) ডেকেছিল বেদনার্ত অবস্থায়।

তাফসীরঃ

১৭. ইশারা হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের প্রতি, যাঁর ঘটনা সূরা ইউনুস (১০ : ৯৮), সূরা আম্বিয়া (২১ : ৮৭) ও সূরা সাফফাত (২৭ : ১৪০)-এ গত হয়েছে।
৪৯

لَوۡلَاۤ اَنۡ تَدٰرَکَہٗ نِعۡمَۃٌ مِّنۡ رَّبِّہٖ لَنُبِذَ بِالۡعَرَآءِ وَہُوَ مَذۡمُوۡمٌ ٤٩

লাওলা আন তাদা-রাকাহূনি‘মাতুম মিররাব্বিহী লানুবিযা বিল‘আরাইওযাহুওয়া মাযমূম।

তাঁর প্রতিপালকের অনুগ্রহ যদি তাকে না আগলাত, তবে সে খোলা ময়দানে নিক্ষিপ্ত হত নিকৃষ্ট অবস্থায়। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. এর দ্বারা সেই মাঠকে বোঝানো হয়েছে, মাছ যেখানে হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে উগরে ফেলে দিয়েছিল। বোঝানো হচ্ছে যে, তিনি যখন মাছের পেট থেকে বের হন তখন ভীষণ কমজোর হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর জীবিত থাকাটাই কঠিন ছিল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে তাঁকে রক্ষা করেন এবং তিনি পুনরায় সুস্থ-সবল হয়ে ওঠেন।
৫০

فَاجۡتَبٰہُ رَبُّہٗ فَجَعَلَہٗ مِنَ الصّٰلِحِیۡنَ ٥۰

ফাজতাবা- হু রাব্বুহূফাজা‘আলাহূমিনাসসা-লিহীন।

অতঃপর তার প্রতিপালক তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন।
৫১

وَاِنۡ یَّکَادُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَیُزۡلِقُوۡنَکَ بِاَبۡصَارِہِمۡ لَمَّا سَمِعُوا الذِّکۡرَ وَیَقُوۡلُوۡنَ اِنَّہٗ لَمَجۡنُوۡنٌ ۘ ٥١

ওয়া ইয়ঁ ইয়াকা- দুল্লাযীনা কাফারূ লাইউঝলিকূনাকা বিআবসা-রিহিম লাম্মাছামি‘উযযিকরা ওয়া ইয়াকূলূনা ইন্নাহূলামাজনূন।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা যখন উপদেশ-বাণী শোনে, তখন মনে হয় তারা যেন তাদের (তীব্র) দৃষ্টি দ্বারা তোমাকে আছড়িয়ে দেবে ১৯ এবং তারা বলে, এই ব্যক্তি তো পাগল।

তাফসীরঃ

১৯. এটা তাদের চরম শত্রুভাবাপন্নতার বহিঃপ্রকাশ। ইবন কাছীর (রহ.) বলেন, এ আয়াত প্রমাণ করে ‘নজর লাগা’-এর বিষয়টা সত্য। এক হাদীসে আছে, কোনো জিনিস যদি নিয়তিকে টপকে যেতে পারত, তবে ‘নজর’ অবশ্যই পারত। (তিরমিযী, আহমদ) -অনুবাদক
৫২

وَمَا ہُوَ اِلَّا ذِکۡرٌ لِّلۡعٰلَمِیۡنَ ٪ ٥٢

ওয়ামা-হুওয়া ইল্লা- যিকরুলিলল‘আ- লামীন।

অথচ এটা তো বিশ্বজগতের জন্য কেবলই উপদেশ।