সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল হাক্কাহ (الـحاقّـة) | নিশ্চিত সত্য

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৫২

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اَلۡحَآقَّۃُ ۙ ١

আলহাক্কাহ।

অবশ্যম্ভাবী সত্য!

مَا الۡحَآقَّۃُ ۚ ٢

মাল হাক্কাহ ।

কি সেই অবশ্যম্ভাবী সত্য?

وَمَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا الۡحَآقَّۃُ ؕ ٣

ওয়ামাআদরা-কা মাল হাক্কাহ ।

তোমার কি জানা আছে সেই অবশ্যম্ভাবী সত্য কী?

তাফসীরঃ

১. এ সত্য হচ্ছে কিয়ামত। আরবী বাগধারা অনুযায়ী এটি অত্যন্ত বলিষ্ঠ প্রকাশভঙ্গি। কোন ঘটনার বিভীষিকা তুলে ধরার জন্য আরবীতে এ ভঙ্গিটির ব্যাপক ব্যবহার আছে। তাই কিয়ামতের ভয়াল অবস্থার চিত্রাঙ্কণের জন্য কুরআন মাজীদের বিভিন্ন স্থানে এটি প্রযুক্ত হয়েছে। অনুবাদের মাধ্যমে এর যথাযথ তাছীর ও আবেদন অন্য কোন ভাষায় প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। অন্ততপক্ষে এর ভাবটুকু যাতে অনুমান করা যায়, তাই এখানে আয়াতের অনেকটা আক্ষরিক অনুবাদ করে দেওয়া হয়েছে।

کَذَّبَتۡ ثَمُوۡدُ وَعَادٌۢ بِالۡقَارِعَۃِ ٤

কাযযাবাত ছামূদুওয়া ‘আ-দুম বিল কা-রি‘আহ।

আদ ও ছামূদ জাতি সেই প্রকম্পিতকারী (সত্য)কে অস্বীকার করেছিল।

فَاَمَّا ثَمُوۡدُ فَاُہۡلِکُوۡا بِالطَّاغِیَۃِ ٥

ফাআম্মা- ছামূদুফাউহলিকূবিত্তা-গিয়াহ।

সুতরাং ছামূদ জাতি(-এর বৃত্তান্ত হল), তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল (মহানাদ-এর) ভীষণ বিপর্যয় দ্বারা।

তাফসীরঃ

২. ছামুদ জাতির পরিচিতি সূরা আরাফে (৭ : ৭৩) গত হয়েছে। এ জাতি তাদের নবী হযরত সালেহ আলাইহিস সালামকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। পরিণামে তাদেরকে এক ভীষণ শব্দ দ্বারা শাস্তি দেওয়া হয়। সে শব্দের আঘাতে তাদের কলজে ফেটে গিয়েছিল এবং এভাবে গোটা জাতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

وَاَمَّا عَادٌ فَاُہۡلِکُوۡا بِرِیۡحٍ صَرۡصَرٍ عَاتِیَۃٍ ۙ ٦

ওয়া আম্মা- ‘আ-দুন ফাউহলিকূবিরীহিন সারসারিন ‘আ-তিয়াহ।

আর আদ জাতি (এর বৃত্তান্ত হল), তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এমন প্রচণ্ড ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা

سَخَّرَہَا عَلَیۡہِمۡ سَبۡعَ لَیَالٍ وَّثَمٰنِیَۃَ اَیَّامٍ ۙ  حُسُوۡمًا ۙ  فَتَرَی الۡقَوۡمَ فِیۡہَا صَرۡعٰی ۙ  کَاَنَّہُمۡ اَعۡجَازُ نَخۡلٍ خَاوِیَۃٍ ۚ ٧

ছাখখারাহা-‘আলাইহিম ছাব‘আ লাইয়া-লিওঁ ওয়া ছামা-নিয়াতা আইইয়া-মিন হুছূমান ফাতারাল কাওমা ফীহা-সার‘আ- কাআন্নাহুম আ‘জা-ঝুনাখলিন খা-বিয়াহ।

যা আল্লাহ তাদের উপর প্রবাহিত রেখেছিলেন (একটানা) সাত রাত, আট দিন বিরামহীনভাবে। তখন তুমি (সেখানে থাকলে) দেখতে পেতে তারা সেখানে লুটিয়ে পড়ে আছে ফাঁপা খেজুর কাণ্ডের মত।

তাফসীরঃ

৩. আদ জাতির লোকজন বিশাল দেহবিশিষ্ট ছিল। তাই তাদের ভূপাতিত দেহকে খেজুর গাছের কাণ্ডের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

فَہَلۡ تَرٰی لَہُمۡ مِّنۡۢ بَاقِیَۃٍ ٨

ফাহাল তারা-লাহুম মিম বা-কিয়াহ।

এখন কি তুমি তাদের কাউকে অবশিষ্ট দেখতে পাও?

وَجَآءَ فِرۡعَوۡنُ وَمَنۡ قَبۡلَہٗ وَالۡمُؤۡتَفِکٰتُ بِالۡخَاطِئَۃِ ۚ ٩

ওয়া জাআ ফির‘আওনুওয়া মান কালাহূওয়াল মু’তাফিকা-তুবিল খা- তিআহ।

ফির‘আউন, তার পূর্ববর্তীরা এবং (লূত আলাইহিস সালামের) উল্টে যাওয়া জনপদও লিপ্ত হয়েছিল অপরাধে
১০

فَعَصَوۡا رَسُوۡلَ رَبِّہِمۡ فَاَخَذَہُمۡ اَخۡذَۃً رَّابِیَۃً ١۰

ফা‘আসাও রাছূলা রাব্বিহিম ফাআখাযাহুম আখযাতাররা-বিয়াহ।

তারা তাদের প্রতিপালকের রাসূলের অবাধ্যতা করেছিল। ফলে তিনি তাদেরকে কঠোরভাবে পাকড়াও করলেন।
১১

اِنَّا لَمَّا طَغَا الۡمَآءُ حَمَلۡنٰکُمۡ فِی الۡجَارِیَۃِ ۙ ١١

ইন্না- লাম্মা-তাগালমাউ হামালনা-কুম ফিল জা-রিয়াহ।

যখন পানি নিয়ন্ত্রণহারা হয়ে গিয়েছিল, তখন আমি তোমাদেরকে আরোহণ করিয়েছিলাম নৌযানে,

তাফসীরঃ

৫. এর দ্বারা হযরত নূহ আলাইহিস সালামের কওমকে শাস্তি দেওয়ার জন্য যে মহা প্লাবন সৃষ্টি করা হয়েছিল তার পানি বোঝানো হয়েছে। হযরত নূহ আলাইহিস সালামের উপর যারা ঈমান এনেছিল তারা ছাড়া বাকি সকলে সেই পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। যারা ঈমান এনেছিল আল্লাহ তাআলা তাদেরকে একটি নৌযানে চড়িয়ে হেফাজত করেছিলেন। বিস্তারিত ঘটনা দেখুন সূরা হুদ (১১ : ৩৬-৪৮)। [‘নিয়ন্ত্রণহারা হয়েছিল’ এর অর্থ, পানি ফিরিশতাদের নিয়ন্ত্রণ অগ্রাহ্য করে আল্লাহ তাআলার নির্দেশে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিল। অথবা এর অর্থ তা স্ফীত হয়ে উচ্চতার স্বাভাবিক সীমানা অতিক্রম করেছিল এবং সর্বোচ্চ পাহাড়েরও পনের হাত উপরে উঠে গিয়েছিল। -অনুবাদক]
১২

لِنَجۡعَلَہَا لَکُمۡ تَذۡکِرَۃً وَّتَعِیَہَاۤ اُذُنٌ وَّاعِیَۃٌ ١٢

লিনাজ‘আলাহা-লাকুম তাযকিরাতাওঁ ওয়া তা‘ইয়াহাউযু নুওঁ ওয়া-‘ইয়াহ।

এই ঘটনাকে তোমাদের জন্য শিক্ষণীয় বানানোর জন্য এবং যাতে এটা (শুনে) সংরক্ষণ করে সংরক্ষণকারী কান

তাফসীরঃ

৬. সংরক্ষণ করা দ্বারা যথাযথভাবে স্মরণ রাখা, প্রচার করা, তাতে চিন্তা করা ও সে অনুযায়ী আমল করা বোঝানো হয়েছে। এসব কাজ কান নয়; বরং ব্যক্তি নিজে ও তার মন করে থাকে। তা সত্ত্বেও কানকে এর কর্তা সাব্যস্ত করা হয়েছে রূপকার্থে, যেহেতু কানের মাধ্যমে শুনেই তা করা হয়ে থাকে। -অনুবাদক
১৩

فَاِذَا نُفِخَ فِی الصُّوۡرِ نَفۡخَۃٌ وَّاحِدَۃٌ ۙ ١٣

ফাইযা- নুফিখা ফিসসুরি নাফখাতুওঁ ওয়া- হিদাহ।

অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে একটি মাত্র ফুঁ,
১৪

وَّحُمِلَتِ الۡاَرۡضُ وَالۡجِبَالُ فَدُکَّتَا دَکَّۃً وَّاحِدَۃً ۙ ١٤

ওয়া হুমিলাতিল আরদুওয়াল জিবা-লুফাদুক্কাতা- দাক্কাতাওঁ ওয়া-হিদাহ।

এবং পৃথিবী ও পর্বতসমূহকে উত্তোলিত করে একই আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলা হবে,
১৫

فَیَوۡمَئِذٍ وَّقَعَتِ الۡوَاقِعَۃُ ۙ ١٥

ফাইয়াওমাইযিওঁ ওয়াকা‘আতিল ওয়া-কি‘আহ।

সেই দিন ঘটবে অবশ্যম্ভাবী ঘটনা।
১৬

وَانۡشَقَّتِ السَّمَآءُ فَہِیَ یَوۡمَئِذٍ وَّاہِیَۃٌ ۙ ١٦

ওয়ানশাক্কাতিছছামাউ ফাহিয়া ইয়াওমাইযিওঁ ওয়া-হিয়াহ।

এবং আকাশ ফেটে যাবে আর সেদিন তা সম্পূর্ণ জীর্ণ হয়ে যাবে
১৭

وَّالۡمَلَکُ عَلٰۤی اَرۡجَآئِہَا ؕ  وَیَحۡمِلُ عَرۡشَ رَبِّکَ فَوۡقَہُمۡ یَوۡمَئِذٍ ثَمٰنِیَۃٌ ؕ ١٧

ওয়াল মালাকু‘আলাআরজাইহা- ওয়া ইয়াহমিলু‘আরশা রাব্বিকা ফাওকাহুম ইয়াওমাইযিন ছামা-নিয়াহ।

এবং ফেরেশতাগণ থাকবে তার কিনারায় এবং তোমার প্রতিপালকের আরশ সে দিন আটজন ফেরেশতা তাদের উপরে বহন করে রাখবে।
১৮

یَوۡمَئِذٍ تُعۡرَضُوۡنَ لَا تَخۡفٰی مِنۡکُمۡ خَافِیَۃٌ ١٨

ইয়াওমাইযিন তু‘রাদূনা লা- তাখফা- মিনকুম খা-ফিয়াহ।

সে দিন তোমাদের হাজিরা হবে এমনভাবে যে, তোমাদের কোন গুপ্ত বিষয় গোপন থাকবে না।
১৯

فَاَمَّا مَنۡ اُوۡتِیَ کِتٰبَہٗ بِیَمِیۡنِہٖ ۙ  فَیَقُوۡلُ ہَآؤُمُ اقۡرَءُوۡا کِتٰبِیَہۡ ۚ ١٩

ফাআম্মা-মান ঊতিয়া কিতা-বাহূবিইয়ামীনিহী ফাইয়াকূলুহাউমুকরাঊ কিতা-বিয়াহ।

অতঃপর যাকে আমলনামা দেওয়া হবে তার ডান হাতে, সে বলবে, হে লোকজন! এই যে আমার আমলনামা, তোমরা পড়ে দেখ।

তাফসীরঃ

৭. যারা সৎকর্মশীল, তাদেরকে আমলনামা দেওয়া হবে তাদের ডান হাতে আর পাপীদেরকে দেওয়া হবে তাদের বাম হাতে।
২০

اِنِّیۡ ظَنَنۡتُ اَنِّیۡ مُلٰقٍ حِسَابِیَہۡ ۚ ٢۰

ইন্নী জানানতুআন্নী মুলা-কিন হিছা-বিয়াহ।

আমি আগেই বিশ্বাস করেছিলাম আমাকে অবশ্যই হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে।
২১

فَہُوَ فِیۡ عِیۡشَۃٍ رَّاضِیَۃٍ ۙ ٢١

ফাহুওয়া ফী ‘ঈশাতিররা-দিয়াহ।

সুতরাং সে থাকবে মনঃপুত জীবনে।
২২

فِیۡ جَنَّۃٍ عَالِیَۃٍ ۙ ٢٢

ফী জান্নাতিন ‘আ-লিয়াহ।

সেই সমুন্নত জান্নাতে
২৩

قُطُوۡفُہَا دَانِیَۃٌ ٢٣

কুতূফুহা- দা-নিয়াহ।

যার ফল থাকবে ঝুঁকে (নিকটবর্তী)।
২৪

کُلُوۡا وَاشۡرَبُوۡا ہَنِیۡٓـئًۢا بِمَاۤ اَسۡلَفۡتُمۡ فِی الۡاَیَّامِ الۡخَالِیَۃِ ٢٤

কুলূওয়াশরাবূহানীআম বিমাআছলাফতুম ফিল আইয়া-মিল খা-লিয়াহ।

(বলা হবে) তোমরা বিগত দিনগুলোতে যেসব কাজ করেছিলে, তার বিনিময়ে খাও ও পান কর স্বাচ্ছন্দ্যে।
২৫

وَاَمَّا مَنۡ اُوۡتِیَ کِتٰبَہٗ بِشِمَالِہٖ ۬ۙ  فَیَقُوۡلُ یٰلَیۡتَنِیۡ لَمۡ اُوۡتَ کِتٰبِیَہۡ ۚ ٢٥

ওয়া আম্মা-মান ঊতিয়া কিতা-বাহূবিশিমা-লিহী ফাইয়াকূলুইয়া- লাইতানী লাম ঊতা কিতা-বিয়াহ।

আর সেই ব্যক্তি, যার আমলনামা দেওয়া হবে তার বাম হাতে; সে বলবে, আহা! আমাকে যদি আমলনামা দেওয়াই না হত!
২৬

وَلَمۡ اَدۡرِ مَا حِسَابِیَہۡ ۚ ٢٦

ওয়া লাম আদরি মা-হিছা-বিয়াহ।

আর আমি জানতেই না পারতাম, আমার হিসাব কী?
২৭

یٰلَیۡتَہَا کَانَتِ الۡقَاضِیَۃَ ۚ ٢٧

ইয়া-লাইতাহা- কা-নাতিল কা-দিয়াহ।

আহা! মৃত্যুতেই যদি আমার সব শেষ হয়ে যেত!
২৮

مَاۤ اَغۡنٰی عَنِّیۡ مَالِیَہۡ ۚ ٢٨

মা আগনা- ‘আন্নী মা- লিয়াহ।

আমার অর্থ-সম্পদ আমার কোন কাজে আসল না!
২৯

ہَلَکَ عَنِّیۡ سُلۡطٰنِیَہۡ ۚ ٢٩

হালাকা ‘আন্নী ছুলতা-নিয়াহ।

আমার থেকে আমার সব ক্ষমতা লুপ্ত হয়ে গেল!
৩০

خُذُوۡہُ فَغُلُّوۡہُ ۙ ٣۰

খুযূহু ফাগুললূহ।

(এরূপ ব্যক্তি সম্পর্কে হুকুম দেওয়া হবে) ধর ওকে এবং ওর গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও।
৩১

ثُمَّ الۡجَحِیۡمَ صَلُّوۡہُ ۙ ٣١

ছু ম্মাল জাহীমা সাললূহ।

তারপর ওকে জাহান্নামে নিক্ষেপ কর।
৩২

ثُمَّ فِیۡ سِلۡسِلَۃٍ ذَرۡعُہَا سَبۡعُوۡنَ ذِرَاعًا فَاسۡلُکُوۡہُ ؕ ٣٢

ছু ম্মা ফী ছিলছিলাতিন যার‘উহা- ছাব‘ঊনা যিরা-‘আন ফাছলুকূহ।

তারপর ওকে এমন শিকলে গেঁথে দাও, যার পরিমাণ হবে সত্তর হাত।
৩৩

اِنَّہٗ کَانَ لَا یُؤۡمِنُ بِاللّٰہِ الۡعَظِیۡمِ ۙ ٣٣

ইন্নাহূকা-না লা-ইউ’মিনুবিল্লা-হিল ‘আজীম।

সে মহান আল্লাহর উপর ঈমান রাখত না।
৩৪

وَلَا یَحُضُّ عَلٰی طَعَامِ الۡمِسۡکِیۡنِ ؕ ٣٤

ওয়ালা-ইয়াহদ্দু ‘আলা- তা‘আ-মিল মিছকীন।

এবং গরীবকে খাদ্য দানে উৎসাহ দিত না।
৩৫

فَلَیۡسَ لَہُ الۡیَوۡمَ ہٰہُنَا حَمِیۡمٌ ۙ ٣٥

ফালাইছা লাহুল ইয়াওমা হা-হুনা- হামীম।

সুতরাং আজ এখানে তার নাই কোন বন্ধু
৩৬

وَّلَا طَعَامٌ اِلَّا مِنۡ غِسۡلِیۡنٍ ۙ ٣٦

ওয়ালা- তা‘আ-মুন ইল্লা-মিন গিছলীন।

এবং না কোন খাদ্য গিসলীন ছাড়া

তাফসীরঃ

৮. ‘গিসলীন’ বলা হয় মূলত সেই পানিকে, যা কোন ক্ষতস্থান ধোয়ার সময় তা থেকে ঝরে পড়ে। কোন কোন মুফাসসির বলেন, এটা সম্ভবত জাহান্নামীদের কোন খাদ্য, যা ক্ষতস্থান থেকে ঝরা পানি-সদৃশ হবে।
৩৭

لَّا یَاۡکُلُہٗۤ اِلَّا الۡخَاطِـُٔوۡنَ ٪ ٣٧

লা-ইয়া’কুলুহূইল্লাল খা-তিঊন।

যা পাপিষ্ঠরা ছাড়া কেউ খাবে না।
৩৮

فَلَاۤ اُقۡسِمُ بِمَا تُبۡصِرُوۡنَ ۙ ٣٨

ফালাউকছিমুবিমা-তুবসিরূন।

আমি কসম করছি তোমরা যা দেখছ তার
৩৯

وَمَا لَا تُبۡصِرُوۡنَ ۙ ٣٩

ওয়ামা-লা-তুবসিরূন।

এবং তোমরা যা দেখছ না তারও,

তাফসীরঃ

৯. এর দ্বারা বিশ্ব-জগতের সৃষ্টিরাজিকে বোঝানো হয়েছে, যার কতক মানুষ দেখতে পায় এবং কতক দেখা যায় না, যেমন ঊর্ধ্বজগতের বস্তুরাজি। কোন কোন মুফাসসির বলেন, ‘তোমরা যা দেখছ’ দ্বারা বোঝানো হয়েছে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আর ‘যা দেখছ না’ দ্বারা হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে, যিনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ওহী নিয়ে আসতেন।
৪০

اِنَّہٗ لَقَوۡلُ رَسُوۡلٍ کَرِیۡمٍ ۚۙ ٤۰

ইন্নাহূলাকাওলুরাছূলিন কারীম।

এটা (অর্থাৎ কুরআন) এক সম্মানিত বার্তা বাহকের বাণী ১০

তাফসীরঃ

১০. এর দ্বারা উদ্দেশ্য কাফেরদেরকে রদ করা, যারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কখনও বলত কবি এবং কখনও অতীন্দ্রিয়বাদী, যাদের দাবি ছিল তারা গায়েব জানে।
৪১

وَّمَا ہُوَ بِقَوۡلِ شَاعِرٍ ؕ  قَلِیۡلًا مَّا تُؤۡمِنُوۡنَ ۙ ٤١

ওয়ামা-হুওয়া বিকাওলি শা-‘ইরিন কালীলাম মা-তু’মিনূন।

এটা কোন কবির বাণী নয়, (কিন্তু) তোমরা অল্পই ঈমান আন
৪২

وَلَا بِقَوۡلِ کَاہِنٍ ؕ  قَلِیۡلًا مَّا تَذَکَّرُوۡنَ ؕ ٤٢

ওয়ালা-বিকাওলি কা- হিনিন কালীলাম মা-তাযাক্কারূন।

এবং না কোন অতীন্দ্রিয়বাদীর বাণী, (কিন্তু) তোমরা অল্পই শিক্ষা গ্রহণ কর।
৪৩

تَنۡزِیۡلٌ مِّنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٤٣

তানঝীলুম মিররাব্বিল ‘আ-লামীন।

এ বাণী অবতীর্ণ করা হচ্ছে জগত-সমূহের প্রতিপালকের পক্ষ হতে।
৪৪

وَلَوۡ تَقَوَّلَ عَلَیۡنَا بَعۡضَ الۡاَقَاوِیۡلِ ۙ ٤٤

ওয়ালাও তাকাওওয়ালা ‘আলাইনা-বা‘দাল আকা-বীল।

আর যদি সে (অর্থাৎ রাসূল কথার কথা) কোন (মিথ্যা) বাণী রচনা করে আমার প্রতি আরোপ করত
৪৫

لَاَخَذۡنَا مِنۡہُ بِالۡیَمِیۡنِ ۙ ٤٥

লাআখাযনা-মিনহু বিলইয়ামীন।

তবে আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম
৪৬

ثُمَّ لَقَطَعۡنَا مِنۡہُ الۡوَتِیۡنَ ۫ۖ ٤٦

ছু ম্মা লাকাতা‘না-মিনহুল ওয়াতীন।

তারপর তার জীবন-ধমনি কেটে দিতাম।
৪৭

فَمَا مِنۡکُمۡ مِّنۡ اَحَدٍ عَنۡہُ حٰجِزِیۡنَ ٤٧

ফামা-মিনকুম মিন আহাদিন ‘আনহু হা-জিঝীন।

তখন তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারত না। ১১

তাফসীরঃ

১১. বলা হচ্ছে, কেউ যদি নবুওয়াতের মিথ্যা দাবি করতঃ নিজের থেকে কোনও বাণী রচনা করে এবং আল্লাহ তা‘আলার ওপর তা আরোপ করে বলে, এ বাণী তিনি অবতীর্ণ করেছেন, তবে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতেই তাকে লাঞ্ছিত করেন। ফলে তাকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়। সুতরাং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত যদি মিথ্যা হত (নাউযুবিল্লাহ) এবং তিনি নিজের থেকে কোনও বাণী রচনা করে আল্লাহ তাআলার নামে চালানোর চেষ্টা করতেন, তবে আল্লাহ তা‘আলা তার সংগে সেই আচরণই করতেন, যেমনটা আয়াতে বলা হয়েছে।
৪৮

وَاِنَّہٗ لَتَذۡکِرَۃٌ لِّلۡمُتَّقِیۡنَ ٤٨

ওয়া ইন্নাহূলাতাযকিরাতুল লিলমুত্তাকীন।

নিশ্চয়ই এটা মুত্তাকীদের জন্য এক উপদেশবাণী।
৪৯

وَاِنَّا لَنَعۡلَمُ اَنَّ مِنۡکُمۡ مُّکَذِّبِیۡنَ ٤٩

ওয়া ইন্না-লানা‘লামুআন্না মিনকুম মুকাযযিবীন।

আমি ভালো করে জানি তোমাদের মধ্যে কিছু লোক অবিশ্বাসীও আছে।
৫০

وَاِنَّہٗ لَحَسۡرَۃٌ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ ٥۰

ওয়া ইন্নাহূলাহাছরাতুন ‘আলাল কা-ফিরীন।

এবং এটা (অর্থাৎ কুরআন) এরূপ কাফেরদের জন্য আক্ষেপের কারণ। ১২

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ আখেরাতে যখন তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে তখন আক্ষেপ করে বলবে, আহা! আমরা যদি কুরআনের উপর ঈমান আনতাম!
৫১

وَاِنَّہٗ لَحَقُّ الۡیَقِیۡنِ ٥١

ওয়া ইন্নাহূলাহাক্কুল ইয়াকীন।

এবং এটাই নিশ্চিত সত্য বাণী।
৫২

فَسَبِّحۡ بِاسۡمِ رَبِّکَ الۡعَظِیۡمِ ٪ ٥٢

ফাছাব্বিহবিছমি রাব্বিকাল ‘আজীম।

সুতরাং তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ঘোষণা কর।