সূরা
পারা
Loading verses...
সূরা
পারা
Loading verses...
অন্যান্য
অনুবাদ
তেলাওয়াত
সূরা আল হাক্কাহ (الـحاقّـة) | নিশ্চিত সত্য
মাক্কী
মোট আয়াতঃ ৫২
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
وَمَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا الۡحَآقَّۃُ ؕ ٣
ওয়ামাআদরা-কা মাল হাক্কাহ ।
তোমার কি জানা আছে সেই অবশ্যম্ভাবী সত্য কী? ১
তাফসীরঃ
১. এ সত্য হচ্ছে কিয়ামত। আরবী বাগধারা অনুযায়ী এটি অত্যন্ত বলিষ্ঠ প্রকাশভঙ্গি। কোন ঘটনার বিভীষিকা তুলে ধরার জন্য আরবীতে এ ভঙ্গিটির ব্যাপক ব্যবহার আছে। তাই কিয়ামতের ভয়াল অবস্থার চিত্রাঙ্কণের জন্য কুরআন মাজীদের বিভিন্ন স্থানে এটি প্রযুক্ত হয়েছে। অনুবাদের মাধ্যমে এর যথাযথ তাছীর ও আবেদন অন্য কোন ভাষায় প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। অন্ততপক্ষে এর ভাবটুকু যাতে অনুমান করা যায়, তাই এখানে আয়াতের অনেকটা আক্ষরিক অনুবাদ করে দেওয়া হয়েছে।
فَاَمَّا ثَمُوۡدُ فَاُہۡلِکُوۡا بِالطَّاغِیَۃِ ٥
ফাআম্মা- ছামূদুফাউহলিকূবিত্তা-গিয়াহ।
সুতরাং ছামূদ জাতি(-এর বৃত্তান্ত হল), তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল (মহানাদ-এর) ভীষণ বিপর্যয় দ্বারা। ২
তাফসীরঃ
২. ছামুদ জাতির পরিচিতি সূরা আরাফে (৭ : ৭৩) গত হয়েছে। এ জাতি তাদের নবী হযরত সালেহ আলাইহিস সালামকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। পরিণামে তাদেরকে এক ভীষণ শব্দ দ্বারা শাস্তি দেওয়া হয়। সে শব্দের আঘাতে তাদের কলজে ফেটে গিয়েছিল এবং এভাবে গোটা জাতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
سَخَّرَہَا عَلَیۡہِمۡ سَبۡعَ لَیَالٍ وَّثَمٰنِیَۃَ اَیَّامٍ ۙ حُسُوۡمًا ۙ فَتَرَی الۡقَوۡمَ فِیۡہَا صَرۡعٰی ۙ کَاَنَّہُمۡ اَعۡجَازُ نَخۡلٍ خَاوِیَۃٍ ۚ ٧
ছাখখারাহা-‘আলাইহিম ছাব‘আ লাইয়া-লিওঁ ওয়া ছামা-নিয়াতা আইইয়া-মিন হুছূমান ফাতারাল কাওমা ফীহা-সার‘আ- কাআন্নাহুম আ‘জা-ঝুনাখলিন খা-বিয়াহ।
যা আল্লাহ তাদের উপর প্রবাহিত রেখেছিলেন (একটানা) সাত রাত, আট দিন বিরামহীনভাবে। ৩ তখন তুমি (সেখানে থাকলে) দেখতে পেতে তারা সেখানে লুটিয়ে পড়ে আছে ফাঁপা খেজুর কাণ্ডের মত। ৪
তাফসীরঃ
৩. আদ জাতির লোকজন বিশাল দেহবিশিষ্ট ছিল। তাই তাদের ভূপাতিত দেহকে খেজুর গাছের কাণ্ডের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
اِنَّا لَمَّا طَغَا الۡمَآءُ حَمَلۡنٰکُمۡ فِی الۡجَارِیَۃِ ۙ ١١
ইন্না- লাম্মা-তাগালমাউ হামালনা-কুম ফিল জা-রিয়াহ।
যখন পানি নিয়ন্ত্রণহারা হয়ে গিয়েছিল, তখন আমি তোমাদেরকে আরোহণ করিয়েছিলাম নৌযানে, ৫
তাফসীরঃ
৫. এর দ্বারা হযরত নূহ আলাইহিস সালামের কওমকে শাস্তি দেওয়ার জন্য যে মহা প্লাবন সৃষ্টি করা হয়েছিল তার পানি বোঝানো হয়েছে। হযরত নূহ আলাইহিস সালামের উপর যারা ঈমান এনেছিল তারা ছাড়া বাকি সকলে সেই পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। যারা ঈমান এনেছিল আল্লাহ তাআলা তাদেরকে একটি নৌযানে চড়িয়ে হেফাজত করেছিলেন। বিস্তারিত ঘটনা দেখুন সূরা হুদ (১১ : ৩৬-৪৮)। [‘নিয়ন্ত্রণহারা হয়েছিল’ এর অর্থ, পানি ফিরিশতাদের নিয়ন্ত্রণ অগ্রাহ্য করে আল্লাহ তাআলার নির্দেশে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিল। অথবা এর অর্থ তা স্ফীত হয়ে উচ্চতার স্বাভাবিক সীমানা অতিক্রম করেছিল এবং সর্বোচ্চ পাহাড়েরও পনের হাত উপরে উঠে গিয়েছিল। -অনুবাদক]
لِنَجۡعَلَہَا لَکُمۡ تَذۡکِرَۃً وَّتَعِیَہَاۤ اُذُنٌ وَّاعِیَۃٌ ١٢
লিনাজ‘আলাহা-লাকুম তাযকিরাতাওঁ ওয়া তা‘ইয়াহাউযু নুওঁ ওয়া-‘ইয়াহ।
এই ঘটনাকে তোমাদের জন্য শিক্ষণীয় বানানোর জন্য এবং যাতে এটা (শুনে) সংরক্ষণ করে সংরক্ষণকারী কান ৬।
তাফসীরঃ
৬. সংরক্ষণ করা দ্বারা যথাযথভাবে স্মরণ রাখা, প্রচার করা, তাতে চিন্তা করা ও সে অনুযায়ী আমল করা বোঝানো হয়েছে। এসব কাজ কান নয়; বরং ব্যক্তি নিজে ও তার মন করে থাকে। তা সত্ত্বেও কানকে এর কর্তা সাব্যস্ত করা হয়েছে রূপকার্থে, যেহেতু কানের মাধ্যমে শুনেই তা করা হয়ে থাকে। -অনুবাদক
فَاَمَّا مَنۡ اُوۡتِیَ کِتٰبَہٗ بِیَمِیۡنِہٖ ۙ فَیَقُوۡلُ ہَآؤُمُ اقۡرَءُوۡا کِتٰبِیَہۡ ۚ ١٩
ফাআম্মা-মান ঊতিয়া কিতা-বাহূবিইয়ামীনিহী ফাইয়াকূলুহাউমুকরাঊ কিতা-বিয়াহ।
অতঃপর যাকে আমলনামা দেওয়া হবে তার ডান হাতে, সে বলবে, ৭ হে লোকজন! এই যে আমার আমলনামা, তোমরা পড়ে দেখ।
তাফসীরঃ
৭. যারা সৎকর্মশীল, তাদেরকে আমলনামা দেওয়া হবে তাদের ডান হাতে আর পাপীদেরকে দেওয়া হবে তাদের বাম হাতে।
وَمَا لَا تُبۡصِرُوۡنَ ۙ ٣٩
ওয়ামা-লা-তুবসিরূন।
এবং তোমরা যা দেখছ না তারও, ৯
তাফসীরঃ
৯. এর দ্বারা বিশ্ব-জগতের সৃষ্টিরাজিকে বোঝানো হয়েছে, যার কতক মানুষ দেখতে পায় এবং কতক দেখা যায় না, যেমন ঊর্ধ্বজগতের বস্তুরাজি। কোন কোন মুফাসসির বলেন, ‘তোমরা যা দেখছ’ দ্বারা বোঝানো হয়েছে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আর ‘যা দেখছ না’ দ্বারা হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে, যিনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ওহী নিয়ে আসতেন।
فَمَا مِنۡکُمۡ مِّنۡ اَحَدٍ عَنۡہُ حٰجِزِیۡنَ ٤٧
ফামা-মিনকুম মিন আহাদিন ‘আনহু হা-জিঝীন।
তখন তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারত না। ১১
তাফসীরঃ
১১. বলা হচ্ছে, কেউ যদি নবুওয়াতের মিথ্যা দাবি করতঃ নিজের থেকে কোনও বাণী রচনা করে এবং আল্লাহ তা‘আলার ওপর তা আরোপ করে বলে, এ বাণী তিনি অবতীর্ণ করেছেন, তবে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতেই তাকে লাঞ্ছিত করেন। ফলে তাকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়। সুতরাং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত যদি মিথ্যা হত (নাউযুবিল্লাহ) এবং তিনি নিজের থেকে কোনও বাণী রচনা করে আল্লাহ তাআলার নামে চালানোর চেষ্টা করতেন, তবে আল্লাহ তা‘আলা তার সংগে সেই আচরণই করতেন, যেমনটা আয়াতে বলা হয়েছে।