সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা নূহ (نوح) | নবী নূহ (আঃ)

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ২৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰی قَوۡمِہٖۤ اَنۡ اَنۡذِرۡ قَوۡمَکَ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ١

ইন্নাআরছালনা-নূহান ইলা-কাওমিহীআন আনযিরকাওমাকা মিন কাবলি আইঁ ইয়া’তিয়াহুম ‘আযা-বুন আলীম।

আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম (এই নির্দেশ দিয়ে যে,) নিজ সম্প্রদায়কে সতর্ক কর তাদের প্রতি যন্ত্রণাময় শাস্তি আসার আগে।

তাফসীরঃ

১. এ সূরায় হযরত নূহ আলাইহিস সালামের শুধু দাওয়াতী কার্যক্রম ও তাঁর দুআসমূহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বিস্তারিত ঘটনা জানার জন্য দেখুন সূরা ইউনুস (১০ : ৭১), সূরা হুদ (১১ : ৩৬)।

قَالَ یٰقَوۡمِ اِنِّیۡ لَکُمۡ نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ۙ ٢

কা-লা ইয়া- কাওমি ইন্নী লাকুম নাযীরুম মুবীন।

(সুতরাং) সে (নিজ সম্প্রদায়কে) বলল, আমি তো তোমাদের জন্য এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী।

اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ وَاتَّقُوۡہُ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۙ ٣

আনি‘বুদুল্লা-হা ওয়াত্তাকূহু ওয়া আতী‘ঊন।

এই বিষয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর ও তাকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

یَغۡفِرۡ لَکُمۡ مِّنۡ ذُنُوۡبِکُمۡ وَیُؤَخِّرۡکُمۡ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ اِنَّ اَجَلَ اللّٰہِ اِذَا جَآءَ لَا یُؤَخَّرُ ۘ لَوۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ٤

ইয়াগফিরলাকুম মিন যুনূবিকুম ওয়া ইউআখখিরকুম ইলাআজালিম মুছাম্মা- ইন্না আজালাল্লা-হি ইযা-জাআ লা-ইউআখখার । লাও কুনতুম তা‘লামূন।

আল্লাহ তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত বাকি রাখবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর স্থিরীকৃত কাল যখন এসে যায়, তখন আর তা বিলম্বিত হয় না যদি তোমরা জানতে!

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ তোমাদের আয়ুষ্কাল যে পর্যন্ত নির্ধারিত আছে, সেই পর্যন্ত তোমাদেরকে জীবিত রাখবেন।

قَالَ رَبِّ اِنِّیۡ دَعَوۡتُ قَوۡمِیۡ لَیۡلًا وَّنَہَارًا ۙ ٥

কা-লা রাব্বি ইন্নী দা‘আওতুকাওমী লাইলাওঁ ওয়া নাহা-রা- ।

অতঃপর নূহ (আল্লাহ তাআলাকে) বলল, হে আমার প্রতিপালক!আমি আমার সম্প্রদায়কে রাত-দিন (সত্যের দিকে) ডেকেছি।

فَلَمۡ یَزِدۡہُمۡ دُعَآءِیۡۤ اِلَّا فِرَارًا ٦

ফালাম ইয়াঝিদহুম দু‘আঈইল্লা-ফিরা-রা-।

কিন্তু আমার দাওয়াত কেবল তাদের পলায়নপরতাই বৃদ্ধি করেছে।

وَاِنِّیۡ کُلَّمَا دَعَوۡتُہُمۡ لِتَغۡفِرَ لَہُمۡ جَعَلُوۡۤا اَصَابِعَہُمۡ فِیۡۤ اٰذَانِہِمۡ وَاسۡتَغۡشَوۡا ثِیَابَہُمۡ وَاَصَرُّوۡا وَاسۡتَکۡبَرُوا اسۡتِکۡبَارًا ۚ ٧

ওয়া ইন্নী কুল্লামা-দা‘আওতুহুম লিতাগফিরালাহুম জা‘আলূআসা-বি‘আহুম ফীআ-যানিহিম ওয়াছতাগশাও ছিয়া-বাহুম ওয়া আছাররূ ওয়াছতাকবারুছ তিকবা-রা- ।

আমি যখনই তাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি, যাতে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তখনই তারা তাদের কানে আঙ্গুল রেখেছে, নিজেদের কাপড় দ্বারা নিজেদেরকে ঢেকে ফেলেছে, (নিজেদের কথার উপর) জিদ বজায় রেখেছে এবং শুধু অহমিকাই প্রকাশ করেছে।

ثُمَّ اِنِّیۡ دَعَوۡتُہُمۡ جِہَارًا ۙ ٨

ছু ম্মা ইন্নী- দা‘আওতুহুম জিহা-রা- ।

অতঃপর আমি তাদেরকে জোর কণ্ঠে দাওয়াত দিয়েছি।

তাফসীরঃ

৩. অর্থাৎ সর্বসমক্ষে গিয়ে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছি, নির্ভীক কণ্ঠে সত্যের দিকে ডেকেছি, ‘অতঃপর’ শব্দ দ্বারা বোঝা যায় এর আগে তিনি একান্তে নিভৃতেও দাওয়াত দিয়েছেন। -অনুবাদক

ثُمَّ اِنِّیۡۤ اَعۡلَنۡتُ لَہُمۡ وَاَسۡرَرۡتُ لَہُمۡ اِسۡرَارًا ۙ ٩

ছু ম্মা ইন্নীআ‘লানতুলাহুম ওয়া আছরারতুলাহুম ইছরা-রা-।

তারপর আমি প্রকাশ্যেও তাদের সাথে কথা বলেছি এবং গোপনে-গোপনেও তাদেরকে বুঝিয়েছি।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ মজলিস ও সভা-সমিতি ছাড়া আলাদা-আলাদাভাবেও দাওয়াত দিয়েছি এবং তাতে তাদের সাথে উচ্চকণ্ঠেও কথা বলেছি এবং কানে কানে নিচু আওয়াজেও। -অনুবাদক
১০

فَقُلۡتُ اسۡتَغۡفِرُوۡا رَبَّکُمۡ ؕ  اِنَّہٗ کَانَ غَفَّارًا ۙ ١۰

ফাকুলতুছতাগফিরূ রাব্বাকুম ইন্নাহূকা-না গাফফা-রা-।

আমি তাদেরকে বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল।
১১

یُّرۡسِلِ السَّمَآءَ عَلَیۡکُمۡ مِّدۡرَارًا ۙ ١١

ইউরছিলিছ ছামাআ ‘আলাইকুম মিদরা-রা- ।

তিনি আকাশ থেকে তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।
১২

وَّیُمۡدِدۡکُمۡ بِاَمۡوَالٍ وَّبَنِیۡنَ وَیَجۡعَلۡ لَّکُمۡ جَنّٰتٍ وَّیَجۡعَلۡ لَّکُمۡ اَنۡہٰرًا ؕ ١٢

ওয়া ইউমদিদকুম বিআমওয়া-লিওঁ ওয়াবানীনা ওয়া ইয়াজ‘আল্লাকুমজান্না-তিওঁ ওয়া ইয়াজ‘আল্লাকুম আনহা-রা- ।

এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে উন্নতি দান করবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান আর তোমাদের জন্য নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দিবেন।
১৩

مَا لَکُمۡ لَا تَرۡجُوۡنَ لِلّٰہِ وَقَارًا ۚ ١٣

মা-লাকুম লা-তারজূনা লিল্লা-হি ওয়াকা-রা- ।

তোমাদের কী হল যে, তোমরা আল্লাহর মহিমাকে বিলকুল ভয় পাও না?

তাফসীরঃ

৫. প্রকৃত অর্থ, তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা স্বীকার করছ না কেন? তা করলে তোমরা অবশ্যই তাকে ভয় করতে। অথবা অর্থ হবে, তোমরা আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমার প্রতি লক্ষ রেখে আশাবাদী হচ্ছ না কেন যে, তার আনুগত্য করলে তিনি তোমাদেরকে ইজ্জত সম্মান দান করবেন? -অনুবাদক
১৪

وَقَدۡ خَلَقَکُمۡ اَطۡوَارًا ١٤

ওয়া কাদ খালাকাকুম আতওয়া-রা- ।

অথচ তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন ধাপে ধাপে।

তাফসীরঃ

৬. ইশারা করা হয়েছে যে, শুক্রবিন্দু হতে পূর্ণাঙ্গ মানবরূপ লাভ করা পর্যন্ত মানুষকে বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করতে হয়, যেমন সূরা হজ্জ (২২ : ৫) ও সূরা মুমিনূন (২৩ : ১৪)-এ বিস্তারিত বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমিক এ সৃজন আল্লাহ তাআলার মহা শক্তির পরিচয় বহন করে। এই মহামহিম সত্তা যে তোমাদেরকে পুনরায়ও সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখেন এ বিষয়ে তোমরা কেন সন্দেহ করছ?
১৫

اَلَمۡ تَرَوۡا کَیۡفَ خَلَقَ اللّٰہُ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ طِبَاقًا ۙ ١٥

আলাম তারাও কাইফা খালাকাল্লা-হু ছাব‘আ ছামা-ওয়া-তিন তিবা-কা-।

তোমরা কি দেখনি আল্লাহ কিভাবে সাত আকাশকে উপর-নিচ স্তর বিশিষ্ট করে সৃষ্টি করেছেন?
১৬

وَّجَعَلَ الۡقَمَرَ فِیۡہِنَّ نُوۡرًا وَّجَعَلَ الشَّمۡسَ سِرَاجًا ١٦

ওয়া জা‘আলাল কামারা ফীহিন্না নূরাওঁ ওয়া জা‘আলাশশামছা ছিরা-জা- ।

এবং তাতে চন্দ্রকে আলোরূপে এবং সূর্যকে প্রদীপরূপে স্থাপিত করেছেন?
১৭

وَاللّٰہُ اَنۡۢبَتَکُمۡ مِّنَ الۡاَرۡضِ نَبَاتًا ۙ ١٧

ওয়াল্লা- হু আমবাতাকুম মিনাল আরদিনাবা-তা- ।

এবং তোমাদেরকে ভূমি হতে উৎকৃষ্ট পন্থায় উদ্ভূত করেছেন।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ একটি গাছের চারা যেমন মাটির ভেতর থেকে বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করার পর পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষের রূপ লাভ করে, তেমনি আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকেও ভূমিতে পর্যায়ক্রমে সৃষ্টি করেছেন। এমনিভাবে ভূমি থেকে উদগত উদ্ভিদ যেমন আবার মরে মাটিতে মিশে যায়, ফের আল্লাহ তাআলার যখন ইচ্ছা হয় সেই মাটি থেকেই তাকে উদগত করেন, তেমনি তোমরাও মরে মাটিতে মিশে যাবে, তারপর আল্লাহ তাআলা যখন ইচ্ছা করবেন পুনরায় তোমাদেরকে জীবন দিয়ে মাটির ভেতর থেকে বের করে আনবেন।
১৮

ثُمَّ یُعِیۡدُکُمۡ فِیۡہَا وَیُخۡرِجُکُمۡ اِخۡرَاجًا ١٨

ছু ম্মা ইউ‘ঈদুকুম ফীহা- ওয়া ইউখরিজুকুম ইখরা-জা- ।

তারপর তিনি তোমাদেরকে পুনরায় তার ভেতরই পাঠাবেন এবং (সেখান থেকে পুনরায়) তোমাদেরকে পুরোপুরি বের করে আনবেন।
১৯

وَاللّٰہُ جَعَلَ لَکُمُ الۡاَرۡضَ بِسَاطًا ۙ ١٩

ওয়াল্লা-হু জা‘আলা লাকুমুল আরদা বিছা-তা- ।

আল্লাহই ভূমিকে তোমাদের জন্য বিছানা বানিয়ে দিয়েছেন,
২০

لِّتَسۡلُکُوۡا مِنۡہَا سُبُلًا فِجَاجًا ٪ ٢۰

লিতাছলুকূমিনহা-ছুবুলান ফিজা-জা- ।

যাতে তোমরা তার উন্মুক্ত পথে চলাফেরা করতে পার।
২১

قَالَ نُوۡحٌ رَّبِّ اِنَّہُمۡ عَصَوۡنِیۡ وَاتَّبَعُوۡا مَنۡ لَّمۡ یَزِدۡہُ مَالُہٗ وَوَلَدُہٗۤ اِلَّا خَسَارًا ۚ ٢١

কা-লা নূহুররাব্বি ইন্নাহুম ‘আসাওনী ওয়াত্তাবা‘ঊ মাল্লাম ইয়াঝিদহু মা-লুহূওয়া ওয়ালাদুহূ ইল্লা- খাছা-রা- ।

নূহ বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো আমার অবাধ্যতা করেছে এবং তারা অনুসরণ করেছে এমন লোকের (অর্থাৎ তাদের নেতৃবর্গের) যাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করেনি।
২২

وَمَکَرُوۡا مَکۡرًا کُبَّارًا ۚ ٢٢

ওয়া মাকারূ মাকরান কুব্বা-রা- ।

এবং তারা অনেক বড়-বড় ষড়যন্ত্র করেছে।

তাফসীরঃ

৮. ইশারা সেই সব ষড়যন্ত্রের দিকে, যা হযরত নূহ আলাইহিস সালামের শত্রুগণ তাঁর বিরুদ্ধে চালাচ্ছিল।
২৩

وَقَالُوۡا لَا تَذَرُنَّ اٰلِہَتَکُمۡ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَّلَا سُوَاعًا ۬ۙ  وَّلَا یَغُوۡثَ وَیَعُوۡقَ وَنَسۡرًا ۚ ٢٣

ওয়া কালূলা- তাযারুন্না আ-লিহাতাকুম ওয়ালা- তাযারুন্না ওয়াদ্দাওঁ ওয়ালা-ছুওয়া-‘আওঁ ওয়ালা- ইয়াগূছা ওয়া ইয়া‘ঊকা ওয়া নাছরা- ।

এবং তারা (নিজেদের লোকদেরকে) বলেছে, তোমরা তোমাদের উপাস্যদেরকে কিছুতেই পরিত্যাগ করো না। কিছুতেই পরিত্যাগ করো না ‘ওয়াদ্দ’ ও ‘সুওয়া’-কে এবং না ‘ইয়াগূছ’ ‘ইয়াউক’ ও ‘নাসর’-কে।

তাফসীরঃ

৯. ‘ওয়াদ্দ’, ‘সুওয়া’, ‘ইয়াগূছ’, ‘ইয়াঊক’ ও ‘নাসর’ হল কতগুলো মূর্তির নাম। হযরত নূহ আলাইহিস সালামের কওম এগুলোর পূজা করত।
২৪

وَقَدۡ اَضَلُّوۡا کَثِیۡرًا ۬ۚ وَلَا تَزِدِ الظّٰلِمِیۡنَ اِلَّا ضَلٰلًا ٢٤

ওয়া কাদ আদাল্লুকাছীরাওঁ ওয়ালা-তাঝিদিজ্জা-লিমীনা ইল্লা-দালা-লা- ।

এভাবে তারা বহুজনকে বিপথগামী করেছে। সুতরাং (হে আমার প্রতিপালক!) আপনিও এই জালেমদের কেবল বিপথগামিতাই বৃদ্ধি করে দিন।
২৫

مِمَّا خَطِیۡٓــٰٔتِہِمۡ اُغۡرِقُوۡا فَاُدۡخِلُوۡا نَارًا ۬ۙ فَلَمۡ یَجِدُوۡا لَہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اَنۡصَارًا ٢٥

মিম্মা খাতীআতিহিম উগরিকুফাউদখিলূনা-রান ফালাম ইয়াজিদূলাহুম মিন দূ নিল্লা- হি আনসা-রা- ।

তাদের গুনাহের কারণেই তাদেরকে নিমজ্জিত করা হয়েছিল ১০, তারপর তাদেরকে দাখিল করা হয়েছে আগুনে ১১ আর আল্লাহ ছাড়া তারা অন্য কোন সাহায্যকারী পায়নি। ১২

তাফসীরঃ

১০. مما এর মূল রূপ من ما ; ’ما‘ অব্যয়টি অতিরিক্ত। কথায় জোর সৃষ্টির জন্য এটি ব্যবহৃত। ’من‘ অব্যয়টিকে শুরুতে আনার উদ্দেশ্য জোর সৃষ্টি। বোঝানো হয়েছে, তাদের নিমজ্জিত করা হয়েছে তাদের কুফর ও পাপাচারেরই কারণে। এর অন্য কোনো কারণ নেই। -অনুবাদক
২৬

وَقَالَ نُوۡحٌ رَّبِّ لَا تَذَرۡ عَلَی الۡاَرۡضِ مِنَ الۡکٰفِرِیۡنَ دَیَّارًا ٢٦

ওয়া কা-লা নূহুররাব্বি লা-তাযার ‘আলাল আরদিমিনাল কা-ফিরীনা দাইইয়া-রা- ।

নূহ আরও বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! এই কাফেরদের মধ্য হতে কোন বাসিন্দাকেই পৃথিবীতে বাকি রাখবেন না।
২৭

اِنَّکَ اِنۡ تَذَرۡہُمۡ یُضِلُّوۡا عِبَادَکَ وَلَا یَلِدُوۡۤا اِلَّا فَاجِرًا کَفَّارًا ٢٧

ইন্নাকা ইন তাযারহুম ইউদিল্লু‘ইবা- দাকা ওয়ালা- ইয়ালিদূ ইল্লা- ফা-জিরান কাফফা-রা- ।

আপনি তাদেরকে বাকি রাখলে তারা আপনার বান্দাদেরকে বিপথগামী করবে এবং তাদের যে সন্তানাদি জন্ম নেবে তারাও পাপিষ্ঠ ও ঘোর কাফেরই হবে। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. সূরা হুদে গত হয়েছে (১১ : ৩৬), আল্লাহ তাআলা হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর সম্প্রদায়ের যারা এ পর্যন্ত ঈমান এনেছে তারা ছাড়া আর কেউ ঈমান আনবে না।
২৮

رَبِّ اغۡفِرۡ لِیۡ وَلِوَالِدَیَّ وَلِمَنۡ دَخَلَ بَیۡتِیَ مُؤۡمِنًا وَّلِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَالۡمُؤۡمِنٰتِ ؕ  وَلَا تَزِدِ الظّٰلِمِیۡنَ اِلَّا تَبَارًا ٪ ٢٨

রাব্বিগফিরলী ওয়ালিওয়া-লিদাইইয়া ওয়া লিমান দাখালা বাইতিয়া মু’মিনাওঁ ওয়া লিলমু’মিনীনা ওয়াল মু’মিনা-তি ওয়ালা- তাঝিদিজ্জা-লিমীনা ইল্লা-তাবা-রা-।

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার পিতা-মাতাকেও এবং প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকেও, যে ঈমানের অবস্থায় আমার ঘরে প্রবেশ করেছে ১৪ আর সমস্ত মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীকেও। আর যারা জালেম তাদের শুধু ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন।

তাফসীরঃ

১৪. ঈমানের শর্তারোপ করেছেন এ কারণে যে, তাঁর পরিবারবর্গের মধ্যে তাঁর স্ত্রী শেষ পর্যন্ত কাফেরই ছিল; তাঁর প্রতি ঈমান আনেনি, যেমন সূরা তাহরীমে বর্ণিত হয়েছে (৬৬ : ১০)।
সূরা নূহ | মুসলিম বাংলা