সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল মুয্‌যাম্মিল (الـمـزّمّـل) | বস্ত্রাচ্ছাদনকারী

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ২০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

یٰۤاَیُّہَا الۡمُزَّمِّلُ ۙ ١

ইয়াআইয়ুহাল মুঝঝাম্মিল।

হে চাদরাবৃত!

তাফসীরঃ

১. এ প্রিয়-সম্ভাষণটি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ করে করা হয়েছে। হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম হেরা গুহায় যখন সর্বপ্রথম তাঁর কাছে ওহী নিয়ে আসেন তখন নবুওয়াতের গুরুভারে তাঁর এত বেশি চাপ বোধ হল যে, পুরোদস্তুর তাঁর শীত লাগছিল। তিনি উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদীজা (রাযি.)-এর কাছে গিয়ে বলছিলেন, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও। সুতরাং তাই করা হল। এ আয়াতে সে দিকে ইঙ্গিত করেই অত্যন্ত প্রীতিপূর্ণ ভঙ্গিতে তাকে সম্বোধন করা হয়েছে যে, ‘হে চাদরাবৃত ব্যক্তি!’

قُمِ الَّیۡلَ اِلَّا قَلِیۡلًا ۙ ٢

কুমিল্লাইলা ইল্লা- কালীলা- ।

রাতের কিছু অংশ ছাড়া বাকি রাত (ইবাদতের জন্য) দাঁড়িয়ে যাও,

তাফসীরঃ

২. এ আয়াতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাহাজ্জুদের নামায পড়তে হুকুম করা হয়েছে। অধিকাংশের মতে প্রথম দিকে কেবল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরই নয়; বরং সাহাবীগণের উপরও তাহাজ্জুদের নামায ফরয করে দেওয়া হয়েছিল এবং এর পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল রাতের কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায় এ নির্দেশ এক বছর পর্যন্ত বলবৎ ছিল। পরবর্তীকালে এ সূরারই ২০নং আয়াত নাযিল করা হয় এবং এর মাধ্যমে তাহাজ্জুদের ‘ফরযিয়াত’ রহিত করে দেওয়া হয়, যেমন সামনে আসছে।

نِّصۡفَہٗۤ اَوِ انۡقُصۡ مِنۡہُ قَلِیۡلًا ۙ ٣

নিসফাহূআবিনকু স মিনহু কালীলা- ।

রাতের অর্ধাংশ বা অর্ধাংশ থেকে কিছু কমাও।

اَوۡ زِدۡ عَلَیۡہِ وَرَتِّلِ الۡقُرۡاٰنَ تَرۡتِیۡلًا ؕ ٤

আও ঝিদ ‘আলাইহি ওয়া রাত্তিলিল কুরআ-না তারতীলা- ।

বা তা থেকে কিছু বাড়িয়ে নাও এবং ধীর-স্থিরভাবে স্পষ্টরূপে কুরআন তেলাওয়াত কর।

اِنَّا سَنُلۡقِیۡ عَلَیۡکَ قَوۡلًا ثَقِیۡلًا ٥

ইন্না- ছানুলকী ‘আলাইকা কাওলান ছাকীলা-।

আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করছি এক গুরুভার বাণী।

তাফসীরঃ

৩. ইশারা কুরআন মাজীদের প্রতি। সূরাটি যেহেতু নবুওয়াতের প্রথম দিকে নাযিল হয়েছিল, তাই তখন কুরআন মাজীদের অধিকাংশেরই নাযিল হওয়া বাকি ছিল।

اِنَّ نَاشِئَۃَ الَّیۡلِ ہِیَ اَشَدُّ وَطۡاً وَّاَقۡوَمُ قِیۡلًا ؕ ٦

ইন্না না-শিআতাল্লাইলি হিয়া আশাদ্দুওয়াত‘আওঁ ওয়া আকওয়ামুকীলা-।

অবশ্যই রাত্রিকালের জাগরণ এমন যা কঠিনভাবে প্রবৃত্তি দলন করে এবং যা কথা বলার পক্ষে উত্তম।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ রাতে উঠে তাহাজ্জুদের নামায পড়তে অভ্যস্ত হলে নিজ প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়ে যায়। আর রাতের বেলা যেহেতু পরিবেশ শান্ত থাকে, চারদিকে অখণ্ড নীরবতা বিরাজ করে তাই তখন তেলাওয়াত ও দুআ সুন্দর ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং তাতে মনোযোগও দেওয়া যায় পূর্ণমাত্রায়। দিনের বেলা এ সুবিধা কম থাকে।

اِنَّ لَکَ فِی النَّہَارِ سَبۡحًا طَوِیۡلًا ؕ ٧

ইন্না লাকা ফিন্নাহা-রি ছাবহান তাবিলা- ।

দিনের বেলা তো তোমার থাকে দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ দিনের বেলা যেহেতু অন্যান্য কাজের ব্যস্ততা থাকে, তাই তখন এতটা একনিষ্ঠতার সাথে ইবাদত করা কঠিন।

وَاذۡکُرِ اسۡمَ رَبِّکَ وَتَبَتَّلۡ اِلَیۡہِ تَبۡتِیۡلًا ؕ ٨

ওয়াযকুরিছমা রাব্বিকা ওয়া তাবাত্তাল ইলাইহি তাবতীলা-।

এবং প্রতিপালকের নামের যিকির কর এবং সকলের থেকে পৃথক হয়ে সম্পূর্ণরূপে তাঁরই হয়ে থাক।

তাফসীরঃ

৬. যিকির বলতে উভয়টাই বোঝায় অর্থাৎ মুখে আল্লাহ তাআলার নাম উচ্চারণ করাও এবং অন্তরে তাঁর ধ্যান করাও। সকলের থেকে পৃথক হওয়ার অর্থ দুনিয়ার সব সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়। বরং এর অর্থ হচ্ছে, সকল সম্পর্কের উপর আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সম্পর্ককে প্রাধান্য দেওয়া, যাতে অন্যান্য সম্পর্ক আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের পক্ষে বাধা না হয়; অন্য সব সম্পর্কও আল্লাহ তাআলার হুকুম মোতাবেক পরিচালিত হয় এবং এভাবে সে সব সম্পর্কও তাঁরই জন্য হয়ে যায়।

رَبُّ الۡمَشۡرِقِ وَالۡمَغۡرِبِ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ فَاتَّخِذۡہُ وَکِیۡلًا ٩

রাব্বুল মাশরিকিওয়াল মাগরিবি লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ফাত্তাখিযহু ওয়াকীলা- ।

তিনি উদয়াচল ও অস্তাচলের মালিক। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সুতরাং তাকেই কর্মবিধায়করূপে গ্রহণ কর।
১০

وَاصۡبِرۡ عَلٰی مَا یَقُوۡلُوۡنَ وَاہۡجُرۡہُمۡ ہَجۡرًا جَمِیۡلًا ١۰

ওয়াসবির ‘আলা-মা-ইয়াকূ লূনা ওয়াহজুরহুম হাজরান জামীলা- ।

আর তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) যেসব কথা বলে, তাতে ধৈর্য ধারণ কর এবং তাদেরকে পাশ কাটিয়ে চল উত্তমরূপে।

তাফসীরঃ

৭. মক্কী জীবনে সর্বদা এ নির্দেশই দেওয়া হয়েছে যে, কাফেরদের সকল অত্যাচার-উৎপীড়নের সামনে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং তাদের সাথে কোনও রকমের যুদ্ধ-বিগ্রহ করা যাবে না; বরং উত্তমরূপে তাদেরকে এড়িয়ে চলতে হবে ও সুকৌশলে তাদেরকে অগ্রাহ্য করতে হবে।
১১

وَذَرۡنِیۡ وَالۡمُکَذِّبِیۡنَ اُولِی النَّعۡمَۃِ وَمَہِّلۡہُمۡ قَلِیۡلًا ١١

ওয়া যারনী ওয়াল মুকাযযিবীনা উলিন না‘মাতি ওয়া মাহহিলহুম কালীলা- ।

যে বিলাস সামগ্রীর মালিকগণ তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের ব্যাপার আমার উপর ছেড়ে দাও এবং তাদেরকে কিছু কালের জন্য অবকাশ দাও।
১২

اِنَّ لَدَیۡنَاۤ اَنۡکَالًا وَّجَحِیۡمًا ۙ ١٢

ইন্না লাদাইনাআনকা-লাওঁ ওয়া জাহীমা- ।

নিশ্চয়ই আমার কাছে আছে কঠিন বেড়ি ও প্রজ্বলিত আগুন।
১৩

وَّطَعَامًا ذَا غُصَّۃٍ وَّعَذَابًا اَلِیۡمًا ٭ ١٣

ওয়া তা‘আ-মান যা-গুসসাতিওঁ ওয়া‘আযা-বান আলীমা- ।

এবং এমন খাদ্য, যা গলায় আটকে যায় এবং যন্ত্রণাময় শাস্তি।
১৪

یَوۡمَ تَرۡجُفُ الۡاَرۡضُ وَالۡجِبَالُ وَکَانَتِ الۡجِبَالُ کَثِیۡبًا مَّہِیۡلًا ١٤

ইয়াওমা তারজুফুল আরদুওয়ালজিবা-লুওয়াকা-নাতিল জিবা-লুকাছীবাম মাহীলা-।

(এ শাস্তি হবে সেই দিন) যে দিন যখন ভূমি ও পর্বতমালা প্রকম্পিত হবে এবং সমস্ত পাহাড় বহমান বালুর স্তূপে পরিণত হবে।
১৫

اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلَیۡکُمۡ رَسُوۡلًا ۬ۙ  شَاہِدًا عَلَیۡکُمۡ کَمَاۤ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ رَسُوۡلًا ؕ ١٥

ইন্নাআরছালনাইলাইকুম রাছূলান শা-হিদান ‘আলাইকুম কামাআরছালনাইলাফির‘আওনা রাছূলা-।

(হে অবিশ্বাসীগণ!) নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি এক রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ, যেমন আমি রাসূল পাঠিয়েছিলাম ফির‘আউনের কাছে।
১৬

فَعَصٰی فِرۡعَوۡنُ الرَّسُوۡلَ فَاَخَذۡنٰہُ اَخۡذًا وَّبِیۡلًا ١٦

ফা‘আসা- ফির‘আওনুর রাছূলা ফাআখাযনা- হু আখযাওঁ ওয়া বীলা-।

কিন্তু ফির‘আউন সেই রাসূলের অবাধ্যতা করেছিল। ফলে আমি তাকে ধরি কঠোর ধরায়।
১৭

فَکَیۡفَ تَتَّقُوۡنَ اِنۡ کَفَرۡتُمۡ یَوۡمًا یَّجۡعَلُ الۡوِلۡدَانَ شِیۡبَۨا ٭ۖ ١٧

ফাকাইফা তাত্তাকূনা ইন কাফারতুম ইয়াওমাইঁ ইয়াজ‘আলুল বিলদা-না শীবা- ।

সুতরাং তোমরাও যদি অমান্য কর, তবে সেই দিন থেকে কিভাবে রক্ষা পাবে, যে দিনটি শিশুকে বৃদ্ধে পরিণত করবে

তাফসীরঃ

৮. এর দ্বারা কিয়ামত দিবসের বিভীষিকার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কঠিন দুঃখণ্ডদুর্দশায় মানুষ অকালে বৃদ্ধ হয়ে যায়। কিয়ামতের পরিস্থিতি হবে অকল্পনীয়, আতঙ্কময়। তা শিশুকে বৃদ্ধ করে দেওয়ার মতোই ভয়াবহ হবে। বলা হচ্ছে, হে অবিশ্বাসীরা! দুনিয়ায় তোমরা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে চললে সেই কঠিন দিবসের দুর্গতি থেকে নিজেদেরকে কিভাবে রক্ষা করবে? তখন বাঁচতে চাইলে এখনই অবিশ্বাস ত্যাগ করে সত্যের পথে চলে এসো। -অনুবাদক
১৮

السَّمَآءُ مُنۡفَطِرٌۢ بِہٖ ؕ کَانَ وَعۡدُہٗ مَفۡعُوۡلًا ١٨

আছছামাউ মুনফাতিরুম বিহী কা-না ওয়া‘দুহূমাফ‘ঊলা-।

(এবং) যে দিন আকাশ ফেটে যাবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।
১৯

اِنَّ ہٰذِہٖ تَذۡکِرَۃٌ ۚ  فَمَنۡ شَآءَ اتَّخَذَ اِلٰی رَبِّہٖ سَبِیۡلًا ٪ ١٩

ইন্না হা- যিহী তাযকিরাতুন ফামান শাআত্তাখাযা ইলা- রাব্বিহী ছাবীলা- ।

এটা এক উপদেশ বাণী। সুতরাং যার ইচ্ছা সে তার প্রতিপালকের দিকে যাওয়ার পথ অবলম্বন করুক।
২০

اِنَّ رَبَّکَ یَعۡلَمُ اَنَّکَ تَقُوۡمُ اَدۡنٰی مِنۡ ثُلُثَیِ الَّیۡلِ وَنِصۡفَہٗ وَثُلُثَہٗ وَطَآئِفَۃٌ مِّنَ الَّذِیۡنَ مَعَکَ ؕ  وَاللّٰہُ یُقَدِّرُ الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ ؕ  عَلِمَ اَنۡ لَّنۡ تُحۡصُوۡہُ فَتَابَ عَلَیۡکُمۡ فَاقۡرَءُوۡا مَا تَیَسَّرَ مِنَ الۡقُرۡاٰنِ ؕ  عَلِمَ اَنۡ سَیَکُوۡنُ مِنۡکُمۡ مَّرۡضٰی ۙ  وَاٰخَرُوۡنَ یَضۡرِبُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ یَبۡتَغُوۡنَ مِنۡ فَضۡلِ اللّٰہِ ۙ  وَاٰخَرُوۡنَ یُقَاتِلُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ۫ۖ  فَاقۡرَءُوۡا مَا تَیَسَّرَ مِنۡہُ ۙ  وَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَاٰتُوا الزَّکٰوۃَ وَاَقۡرِضُوا اللّٰہَ قَرۡضًا حَسَنًا ؕ  وَمَا تُقَدِّمُوۡا لِاَنۡفُسِکُمۡ مِّنۡ خَیۡرٍ تَجِدُوۡہُ عِنۡدَ اللّٰہِ ہُوَ خَیۡرًا وَّاَعۡظَمَ اَجۡرًا ؕ  وَاسۡتَغۡفِرُوا اللّٰہَ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٪ ٢۰

ইন্না রাব্বাকা ইয়া‘লামুআন্নাকা তাকূমুআদনা- মিন ছু লুছাইল্লাইলি ওয়া নিসফাহূওয়া ছু লুছাহূওয়া তাইফাতুম মিনাল্লাযীনা মা‘আকা ওয়াল্লা-হু ইউকাদ্দিরুল্লাইলা ওয়ান্নাহা-রা ‘আলিমা আল্লান তুহসূহু ফাতা-বা ‘আলাইকুম ফাকরাঊ মা- তায়াছছারা মিনাল কুরআ-নি ‘আলিমা আন ছাইয়াকূনুমিনকুম মারদা- ওয়া আ-খারূনা ইয়াদরিবূনা ফিল আরদিইয়াবতাগূনা মিন ফাদলিল্লা-হি ওয়া আ- খারূনা ইউকাতিলূনা ফী ছাবীলিল্লা-হি ফাকরাঊ মা-তায়াছছারা মিনহু ওয়া আকীমুসসালা-তা ওয়া আ-তুঝঝাকা-তা ওয়া আকরিদূ ল্লা-হা কারদান হাছানাও ওয়ামা- তুকাদ্দিমূ লিআনফুছিকুম মিন খাইরিন তাজিদূ হু ‘ইনদাল্লা-হি হুওয়া খাইরাওঁ ওয়া আ‘জামা আজরাও ওয়াছতাগফিরুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।

(হে রাসূল!) তোমার প্রতিপালক জানেন, তুমি রাতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে, (কখনও) অর্ধ রাতে এবং (কখনও) রাতের এক-তৃতীয়াংশে (তাহাজ্জুদের নামাযের জন্য) জাগরণ কর এবং তোমার সঙ্গীদের মধ্যেও একটি দল (এ রকম করে)। রাত ও দিনের পরিমাণ আল্লাহই নির্ধারণ করেন। তিনি জানেন, তোমরা এর যথাযথ হিসাব রাখতে পারবে না। কাজেই তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। ১০ সুতরাং কুরআনের যতটুকু (পড়া তোমাদের জন্য) সহজ হয় ততটুকুই পড়। ১১ আল্লাহ জানেন তোমাদের মধ্যে কিছু লোক অসুস্থ হয়ে পড়বে, অপর কিছু লোক এমন থাকবে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানের জন্য পৃথিবীতে ভ্রমণ করবে ১২ এবং কিছু লোক থাকবে এমন, যারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ রত থাকবে। সুতরাং তোমরা তা (অর্থাৎ কুরআন) থেকে ততটুকুই পড়, যা সহজ হয় এবং নামায কায়েম কর, ১৩ যাকাত আদায় কর ও আল্লাহকে ঋণ দাও উত্তম ঋণ। ১৪ তোমরা নিজেদের জন্য উত্তম যাই অগ্রিম পাঠাবে, আল্লাহর কাছে গিয়ে তোমরা তা আরও উৎকৃষ্ট অবস্থায় এবং মহা পুরস্কাররূপে বিদ্যমান পাবে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

৯. এ আয়াতটি পূর্বের আয়াতসমূহের অন্ততপক্ষে এক বছর পর নাযিল হয়েছে। এর মাধ্যমে তাহাজ্জুদের বিধানটি সহজ করে দেওয়া হয়, যেমন পূর্বে বলা হয়েছে। শুরুতে রাতের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ কাল তাহাজ্জুদে লিপ্ত থাকা জরুরী ছিল, কিন্তু যেহেতু ঘড়ি বা সময় নির্ধারক অন্য কিছু তখন ছিল না, তাই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীগণ সতর্কতামূলকভাবে রাতের এক-তৃতীয়াংশ অপেক্ষা অনেক বেশি সময় তাহাজ্জুদে কাটাতেন। কখনও অর্ধরাত্রি এবং কখনও রাতের দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি।