সূরা
পারা
Loading verses...
সূরা
পারা
Loading verses...
অন্যান্য
অনুবাদ
তেলাওয়াত
সূরা আল মুরসালাত (الـمرسلات) | প্রেরিত পুরুষগণ
মাক্কী
মোট আয়াতঃ ৫০
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
وَّالنّٰشِرٰتِ نَشۡرًا ۙ ٣
ওয়ান্না- শিরা- তি নাশরা- ।
এবং শপথ (মেঘমালাকে) ইতস্তত বিক্ষিপ্তকারী বায়ুর। ১
তাফসীরঃ
১. দুনিয়ায় যে বায়ু প্রবাহিত হয় তা দু’রকমের। (ক) এক বায়ু তো এমন যা মানুষের কল্যাণ সাধন করে এবং জীবনের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর যোগান দেয়। (খ) কোন কোন বায়ু এমন, যা ঝড়-ঝঞ্ঝা হয়ে মানুষের দুর্যোগ-দুর্বিপাকের কারণ হয়। এমনিভাবে ফেরেশতাগণ মানুষের কাছে যে বাণী নিয়ে আসে তাও একদিকে সৎ লোকদের সুসংবাদ দান করে, অন্য দিকে অসৎ লোকদের জন্য তা হয় ভীতি প্রদর্শনকারী। এজন্যই প্রথম তিন আয়াতে বায়ুর শপথ করা হয়েছে এবং পরের তিন আয়াতে ফেরেশতাদের।
عُذۡرًا اَوۡ نُذۡرًا ۙ ٦
‘উযরান আও নুযরা- ।
যা মানুষের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার কারণ হয় অথবা হয় সতর্ককারী। ২
তাফসীরঃ
২. অর্থাৎ যারা নেককার, তাদেরকে এ বাণীর মাধ্যমে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয় আর যারা পাপাচারী তাদেরকে শাস্তির সতর্কবাণী শোনানো হয়, যাতে তারাও সৎপথে ফিরে আসে। [عذرا--এর আরেক অর্থ হতে পারে ‘অজুহাতস্বরূপ’, অর্থাৎ ওহী নাযিল করা হয় আল্লাহর পক্ষ হতে অজুহাতস্বরূপ, যাতে কেউ বলতে না পারে যে, আমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ হতে কোনো পথনির্দেশ আসেনি বলেই আমরা বিপথগামী হয়েছিলাম। -অনুবাদক]
فَقَدَرۡنَا ٭ۖ فَنِعۡمَ الۡقٰدِرُوۡنَ ٢٣
ফাকাদারনা- ফানি‘মাল কা-দিরূন।
তারপর আমি তাতে পরিমিত রূপ দান করি। সুতরাং আমি কতই না উত্তম রূপদাতা! ৮
তাফসীরঃ
৮. অর্থাৎ আমি মানুষকে কেবল সৃষ্টিই করিনি। তার গঠন-আকৃতি এমন পরিমিত ও সুসমঞ্জস করেছি, যা আমা ভিন্ন অন্য কারও পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে গভীরভাবে লক্ষ করলে এ সত্য বুঝতে কোন কষ্ট হয় না।
وَّجَعَلۡنَا فِیۡہَا رَوَاسِیَ شٰمِخٰتٍ وَّاَسۡقَیۡنٰکُمۡ مَّآءً فُرَاتًا ؕ ٢٧
ওয়া জা‘আলনা-ফীহা-রাওয়া-ছিয়া শা-মিখা-তিওঁ ওয়া আছকাইনা-কুমমাআন ফুরাতা- ।
এবং আমি তাতে স্থাপন করেছি সুদৃঢ় উঁচু-উঁচু পাহাড় এবং আমি তোমাদেরকে সুমিষ্ট পানি দ্বারা সিঞ্চিত করার ব্যবস্থা করেছি। ৯
তাফসীরঃ
৯. অর্থাৎ তোমরা নিজেরা যাতে সুমিষ্ট পানি পান করতে পার, গবাদি পশুকে পান করাতে পার ও চাষাবাদের জন্য ভূমিতে সেচ দিতে পার, সে লক্ষ্যে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করি, পাহাড় থেকে ঝর্নাধারা প্রবাহিত করি, মাটির নিচ থেকে প্রস্রবণ উৎসারিত করি এবং নদী-নালা প্রবাহিত করি। -অনুবাদক