সূরা
পারা
Loading verses...
সূরা
পারা
Loading verses...
অন্যান্য
অনুবাদ
তেলাওয়াত
সূরা আন্ নাবা (الـنبإ) | মহাসংবাদ
মাক্কী
মোট আয়াতঃ ৪০
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
الَّذِیۡ ہُمۡ فِیۡہِ مُخۡتَلِفُوۡنَ ؕ ٣
আল্লাযী হুম ফীহি মুখতালিফূন।
যে সম্বন্ধে তারা বিভিন্ন রকম কথা বলে। ১
তাফসীরঃ
১. এর দ্বারা কিয়ামত ও আখেরাত বোঝানো হয়েছে। কাফেরগণ কিয়ামত সম্পর্কে নানা রকম কথা বলত। কেউ তা নিয়ে ঠাট্টা করত। কেউ তার বিরুদ্ধে যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করত এবং কেউ তার খুঁটিনাটি সম্পর্কে প্রশ্ন করে মুসলিমদেরকে উত্যক্ত করত। প্রশ্নের উদ্দেশ্যও সত্যানুসন্ধান ছিল না। উদ্দেশ্য ছিল কেবল ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা। এ আয়াতের ইঙ্গিত তাদের সেই কার্যকলাপেরই দিকে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বিশ্ব জগতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তাঁর বিভিন্ন নিদর্শনের উল্লেখপূর্বক বলছেন, তোমরা যখন স্বীকার কর এসব আল্লাহ তাআলাই সৃষ্টি করেছেন, তখন তিনি যে এ জগত ধ্বংস করে দেওয়ার পর পুনরায় সৃষ্টি করতে পারবেন তা স্বীকার করতে তোমাদের কষ্ট হচ্ছে কেন?
لّٰبِثِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَحۡقَابًا ۚ ٢٣
লা-বিছীনা ফীহাআহকা-বা-।
যাতে তারা যুগ-যুগ ধরে এভাবে অবস্থান করবে ২
তাফসীরঃ
২. আয়াতে শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে احقاب এটি حقبة -এর বহুবচন। حقبة অর্থ সুদীর্ঘ কাল। বোঝানো হচ্ছে, জাহান্নামে তাদের অবস্থান কাল ক্রমশ বৃদ্ধিই পেতে থাকবে। এ শব্দের প্রতি লক্ষ্য করে কেউ কেউ বলতে চেয়েছেন, এখানে যে অবাধ্যদের কথা বলা হচ্ছে, তারাও সুদীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পর জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। কেননা কুরআন মাজীদ বিভিন্ন স্থানে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, তারা জাহান্নাম থেকে কোনও দিনই বের হতে পারবে না, যেমন দেখুন সূরা মায়েদা (৫ : ৩৭)।
جَزَآءً مِّنۡ رَّبِّکَ عَطَآءً حِسَابًا ۙ ٣٦
জাঝাআম মির রাব্বিকা ‘আতাআন হিছা-বা-।
তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে পুরস্কারস্বরূপ, (আল্লাহর) এমন দান, যা মানুষের কর্ম হিসাবে দেওয়া হবে। ৩
তাফসীরঃ
৩. এ তরজমা করা হয়েছে হযরত আতা (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি ব্যাখ্যা অনুযায়ী। এর মর্ম এই যে, মুত্তাকীদের এই যা-কিছু দেওয়া হবে, এটা আল্লাহ তাআলার দান, যা তারা তাদের কোন অধিকার ছাড়াই লাভ করবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এটা প্রত্যেককে দেবেন তার আমল হিসাবে। এর দ্বিতীয় তরজমা হতে পারে এ রকম, (আল্লাহর) এমন দান হবে, যা প্রত্যেকের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে, অর্থাৎ তাদের প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণের জন্য তা যথেষ্ট হবে।
رَّبِّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا الرَّحۡمٰنِ لَا یَمۡلِکُوۡنَ مِنۡہُ خِطَابًا ۚ ٣٧
রাব্বিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়ামা-বাইনাহুমাররাহমা-নি লা-ইয়ামলিকূনা মিনহু খিতা-বা-।
সেই প্রতিপালকের পক্ষ থেকে, যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এর মধ্যবর্তী সবকিছুর মালিক, দয়াময়! তার সামনে কিছু বলার সাধ্য তাদের হবে না। ৪
তাফসীরঃ
৪. অর্থাৎ যাকে যা দেওয়া হবে তার বিপরীতে কারও কিছু বলার শক্তি হবে না।
یَوۡمَ یَقُوۡمُ الرُّوۡحُ وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ صَفًّا ؕ٭ۙ لَّا یَتَکَلَّمُوۡنَ اِلَّا مَنۡ اَذِنَ لَہُ الرَّحۡمٰنُ وَقَالَ صَوَابًا ٣٨
ইয়াওমা ইয়াকূমুর রূহুওয়াল মালাইকাতুসাফফাল লা-ইয়াতাকাল্লামূনা ইল্লা-মান আযিনা লাহুর রাহমা-নুওয়া কা-লা সাওয়া-বা-।
যে দিন রূহ ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে, সে দিন দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দেবেন, সে ছাড়া কেউ কথা বলতে পারবে না এবং সে বলবে সঠিক কথা। ৫
তাফসীরঃ
৫. অর্থাৎ কোন মানুষ বা ফেরেশতা কারও অনুকূলে সুপারিশ করার জন্য আল্লাহ তাআলার অনুমতি ছাড়া কিছু বলতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা অনুমতি দিলেই বলতে পারবে এবং তাও সেই সময়, যখন সঠিকভাবে সুপারিশ করবে অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা যে পন্থা ঠিক করে দেবেন সেই পন্থায় করবে।
اِنَّاۤ اَنۡذَرۡنٰکُمۡ عَذَابًا قَرِیۡبًا ۬ۚۖ یَّوۡمَ یَنۡظُرُ الۡمَرۡءُ مَا قَدَّمَتۡ یَدٰہُ وَیَقُوۡلُ الۡکٰفِرُ یٰلَیۡتَنِیۡ کُنۡتُ تُرٰبًا ٪ ٤۰
ইন্নাআনযারনা-কুম ‘আযা-বান কারীবাইঁ ইয়াওমা ইয়ানযু রুল মারউ মা-কাদ্দামাত ইয়াদা-হু ওয়া ইয়াকূলুল কা-ফিরু ইয়া-লাইতানী কুনতুতুরা-বা।
বস্তুত আমি এক আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করে দিলাম। সে দিন প্রত্যেক ব্যক্তি তার স্বহস্তে সামনে পাঠানো কর্মসমূহ প্রত্যক্ষ করবে আর কাফের ব্যক্তি বলবে, হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম। ৬
তাফসীরঃ
৬. কোন কোন বর্ণনায় আছে, যে সকল জীবজন্তু দুনিয়ায় একে অন্যের উপর জুলুম করেছিল, হাশরের ময়দানে তাদেরকেও একত্র করতঃ তাদের জুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণ করিয়ে দেওয়া হবে। এমনকি কোন শিং বিশিষ্ট ছাগল যদি শিংবিহীন ছাগলকে গুঁতো দিয়ে থাকে, তবে হাশরে তারও প্রতিশোধ গ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে। যখন প্রতিশোধ গ্রহণ শেষ হয়ে যাবে, সমস্ত পশুকে মাটিতে পরিণত করা হবে। সে দিন কাফেরগণ যখন জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন আক্ষেপ করে বলবে, আহা! আমরাও যদি মাটি হয়ে যেতাম (মুসলিম, তিরমিযী)।