সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আন নাযিয়াত (الـنازعات) | প্রচেষ্টাকারী

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৪৬

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَالنّٰزِعٰتِ غَرۡقًا ۙ ١

ওয়ান্না-ঝি‘আ-তি গারকা-।

শপথ তাদের (অর্থাৎ সেই ফেরেশতাদের), যারা (কাফেরদের প্রাণ) কঠোরভাবে টেনে বের করে।

তাফসীরঃ

১. কুরআন মাজীদে যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তার অর্থ কেবল এতটুকু ‘শপথ তাদের, যারা কঠোরভাবে টেনে বের করে’। কিন্তু হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে যে, এর দ্বারা জান কবজকারী ফেরেশতাদের বোঝানো হয়েছে, যারা (সাধারণত কাফেরদের) রূহ দেহ থেকে কঠোরভাবে টেনে বের করে এবং কারও কারও (সাধারণত মুমিনদের) রূহ মৃদুভাবে বের করে, যেন রশির বাঁধন খুলে দেয়। তারপর তারা সেই রূহ নিয়ে শূন্যমণ্ডলে সাতার কেটে চলে যায় এবং খুব দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছে, রূহদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার যে হুকুম হয় তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই হল প্রথম চার আয়াতের মর্ম। এসব ফেরেশতার শপথ করে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের পরিস্থিতি ব্যক্ত করছেন যে, যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে, তখন বহু হৃদয় প্রকম্পিত হবে। পূর্বে বলা হয়েছে, নিজ কথা বিশ্বাস করানোর জন্য আল্লাহ তাআলার কোন শপথ করার প্রয়োজন নেই, কিন্তু তা সত্ত্বেও কুরআন মাজীদে যে বিভিন্ন বস্তুর শপথ করা হয়েছে, তা কেবলই কথাকে শক্তিশালী করে তোলার জন্য। আরবী অলংকার শাস্ত্রে কথায় বলিষ্ঠতা আনয়নের জন্য শপথ করার নিয়ম আছে। সাধারণত যে বস্তুর শপথ করা হয়, তা পরবর্তী যে দাবির উল্লেখ থাকে, তার পক্ষে সাক্ষী হয়ে থাকে। এস্থলে বোঝানো হচ্ছে যে, ফেরেশতাগণ সাক্ষী, আল্লাহ তাআলা তাদের মাধ্যমে যেমন জান কবজ করান, তেমনি তাদের মাধ্যমে শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ানোর পর মৃতদেরকে পুনরায় জীবিতও করা হবে।

وَّالنّٰشِطٰتِ نَشۡطًا ۙ ٢

ওয়ান্না-শিতা-তি নাশতা-।

এবং যারা (মুমিনদের প্রাণের) বন্ধন খোলে কোমলভাবে।

وَّالسّٰبِحٰتِ سَبۡحًا ۙ ٣

ওয়াছছা-বিহা-তি ছাবহা-।

তারপর (শূন্যে) তীব্রগতিতে সাতার কেটে যায়।

فَالسّٰبِقٰتِ سَبۡقًا ۙ ٤

ফাছছা-বিকা-তি ছাবকা-।

তারপর দ্রুতগতিতে এগিয়ে যায়।

فَالۡمُدَبِّرٰتِ اَمۡرًا ۘ ٥

ফাল মুদাব্বিরা-তি আমরা-।

তারপর যে আদেশ পায় তার (বাস্তবায়নের) ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

یَوۡمَ تَرۡجُفُ الرَّاجِفَۃُ ۙ ٦

ইয়াওমা তারজুফুররা-জিফাহ।

যে দিন প্রকম্পিতকারী (শিঙ্গাধ্বনি সবকিছু) কাঁপিয়ে দেবে।

তাফসীরঃ

২. এর দ্বারা শিঙ্গার প্রথম ফুঁৎকার বোঝানো হয়েছে। প্রথমবার ফুঁ দেওয়া হলে সমস্ত প্রাণীর মৃত্যু ঘটবে এবং বিশ্ব জগত সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।

تَتۡبَعُہَا الرَّادِفَۃُ ؕ ٧

তাতবা‘উহার রা-দিফাহ।

তার পেছনে আসবে পরবর্তীটি।

তাফসীরঃ

৩. এর দ্বারা শিঙ্গার দ্বিতীয় ফুঁ বোঝানো হয়েছে। প্রথম ফুঁৎকারে সকলের মৃত্যু ঘটবে আর দ্বিতীয় ফুঁৎকারে সকলে জীবিত হয়ে হাশরের মাঠে একত্র হবে।

قُلُوۡبٌ یَّوۡمَئِذٍ وَّاجِفَۃٌ ۙ ٨

কূলূবুইঁ ইয়াওমাইযিওঁ ওয়া-জিফাহ।

সে দিন বহু হৃদয় হবে প্রকম্পিত।

اَبۡصَارُہَا خَاشِعَۃٌ ۘ ٩

আবসা-রুহা-খা-শি‘আহ।

তাদের চোখ থাকবে অবনত।
১০

یَقُوۡلُوۡنَ ءَاِنَّا لَمَرۡدُوۡدُوۡنَ فِی الۡحَافِرَۃِ ؕ ١۰

ইয়াকূ লূনা আ ইন্না-লামারদূদূনা ফিল হা-ফিরাহ।

তারা (কাফেরগণ) বলে, আমাদেরকে কি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে?

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ আমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় আগের মত জীবিতাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে?
১১

ءَاِذَا کُنَّا عِظَامًا نَّخِرَۃً ؕ ١١

আইযা-কুন্না-‘ইজা-মান নাখিরাহ।

আমরা যখন গলিত অস্থিতে পরিণত হব তখনও কি?
১২

قَالُوۡا تِلۡکَ اِذًا کَرَّۃٌ خَاسِرَۃٌ ۘ ١٢

কা-লূতিলকা ইযান কাররাতুন খা-ছিরাহ।

তারা বলে, তাহলে তো সেটা বড় ক্ষতির প্রত্যাবর্তন।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ বাস্তবিকই যদি আমাদেরকে পুনরায় জীবিত করা হয়, তবে আমরা বড়ই ক্ষতিগ্রস্ত হব। কেননা আমরা দ্বিতীয় জীবনের জন্য কোন রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করিনি।
১৩

فَاِنَّمَا ہِیَ زَجۡرَۃٌ وَّاحِدَۃٌ ۙ ١٣

ফাইন্নামা-হিয়া ঝাজরাতুওঁ ওয়া-হিদাহ ।

বস্তুত তা একটি মাত্র বিকট আওয়াজই হবে।
১৪

فَاِذَا ہُمۡ بِالسَّاہِرَۃِ ؕ ١٤

ফাইযা-হুম বিছছা-হিরাহ।

অমনি তারা খোলা মাঠে আবির্ভূত হবে।
১৫

ہَلۡ اَتٰىکَ حَدِیۡثُ مُوۡسٰی ۘ ١٥

হাল আতা-কা হাদীছুমূছা-।

(হে রাসূল!) তোমার কাছে কি মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে?
১৬

اِذۡ نَادٰىہُ رَبُّہٗ بِالۡوَادِ الۡمُقَدَّسِ طُوًی ۚ ١٦

ইযনা-দা-হু রাব্বুহূবিলওয়া-দিল মুকাদ্দাছি তুওয়া-।

যখন তার প্রতিপালক তাকে পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় ডাক দিয়ে বলেছিলেন

তাফসীরঃ

৬. ‘তুওয়া উপত্যকা’ দ্বারা সিনাই মরুভূমির সেই উপত্যকা বোঝানো হয়েছে, যেখানে হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে নবুওয়াত দান করা হয়েছিল। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য সূরা তোয়াহা (২০ : ৯-৪৮) টীকাসহ দেখুন।
১৭

اِذۡہَبۡ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ اِنَّہٗ طَغٰی ۫ۖ ١٧

ইযহাব ইলা-ফির‘আওনা ইন্নাহূতাগা-।

ফির‘আউনের কাছে যাও, সে বড় ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে।
১৮

فَقُلۡ ہَلۡ لَّکَ اِلٰۤی اَنۡ تَزَکّٰی ۙ ١٨

ফাকুল হাল্লাকা ইলাআন তাঝাক্কা-।

তাকে বল, তোমার কি এ আগ্রহ আছে যে, তুমি শুধরে যাবে?
১৯

وَاَہۡدِیَکَ اِلٰی رَبِّکَ فَتَخۡشٰی ۚ ١٩

ওয়া আহদিয়াকা ইলা-রাব্বিকা ফাতাখশা-।

এবং আমি তোমাকে দেখাব তোমার প্রতিপালকের পথ, যাতে তুমি তাকে ভয় কর?
২০

فَاَرٰىہُ الۡاٰیَۃَ الۡکُبۡرٰی ۫ۖ ٢۰

ফাআরা-হুল আ-য়াতাল কুবরা-।

অতঃপর মূসা তাকে দেখাল মহা নিদর্শন।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ এই মোজেযা ও নিদর্শন দেখালেন যে, তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা বিশাল সাপ হয়ে গেল আর বগলের মধ্যে হাত রাখলেন, অমনি তা চমকাতে শুরু করল। দেখুন তোয়াহা (২০ : ১৭-২২)।
২১

فَکَذَّبَ وَعَصٰی ۫ۖ ٢١

ফাকাযযাবা ওয়া‘আসা-।

তবুও সে (তাকে) অস্বীকার করল ও অমান্য করল।
২২

ثُمَّ اَدۡبَرَ یَسۡعٰی ۫ۖ ٢٢

ছু ম্মা আদবারা ইয়াছ‘আ-।

তারপর প্রতিবিধানের চেষ্টা করতে ফিরে গেল।

তাফসীরঃ

৮. এর আরেক অর্থ হতে পারে, ‘সে ফিরে গেল ছুটতে ছুটতে’, অর্থাৎ বিশাল অজগর দেখে সে ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। তাই প্রাণ নিয়ে ছুটে পালাল। -অনুবাদক
২৩

فَحَشَرَ فَنَادٰی ۫ۖ ٢٣

ফাহাশারা ফানা-দা-।

তারপর সকলকে সমবেত করল এবং উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করল,
২৪

فَقَالَ اَنَا رَبُّکُمُ الۡاَعۡلٰی ۫ۖ ٢٤

ফাকা-লা আনা রাব্বুকুমুল আ‘লা-।

বলল, আমি তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক।
২৫

فَاَخَذَہُ اللّٰہُ نَکَالَ الۡاٰخِرَۃِ وَالۡاُوۡلٰی ؕ ٢٥

ফাআখাযাহুল্লা-হু নাকা-লাল আ-খিরাতি ওয়াল ঊলা-।

পরিণামে আল্লাহ তাকে পাকড়াও করলেন আখেরাত ও দুনিয়ার শাস্তিতে।

তাফসীরঃ

৯. ফির‘আউনকে দুনিয়ায় তো এই শাস্তি দেওয়া হল যে, গোটা বাহিনীসহ তাকে সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হল। বিস্তারিত দেখুন সূরা শুআরা (২৬ : ৬১-৬৪) আর আখেরাতের শাস্তি হবে জাহান্নামে।
২৬

اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَعِبۡرَۃً لِّمَنۡ یَّخۡشٰی ؕ٪ ٢٦

ইন্না ফী যা-লিকা লা‘ইবরাতাল লিমাইঁ ইয়াখশা-।

বস্তুত যে আল্লাহর ভয় করে তার জন্য এ ঘটনার মধ্যে অবশ্যই শিক্ষা আছে।
২৭

ءَاَنۡتُمۡ اَشَدُّ خَلۡقًا اَمِ السَّمَآءُ ؕ  بَنٰہَا ٝ ٢٧

আ আনতুম আশাদ্দুখালকান আমিছ ছামাউ বানা-হা-।

(হে মানুষ!) তোমাদেরকে সৃষ্টি করা বেশি কঠিন, না আকাশকে। ১০ আল্লাহ তা নির্মাণ করেছেন।

তাফসীরঃ

১০. আরবের কাফেরগণ মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়ার বিষয়টাকে অস্বীকার করত কেবল এ কারণে যে, তারা মৃত ব্যক্তিদের জীবিত হওয়াকে অসম্ভব মনে করত। আল্লাহ তাআলা বলছেন, আসমান বা জগতের এ রকম আরও বড়-বড় বস্তু অপেক্ষা মানুষ সৃষ্টি করা অনেক সহজ। যদি তোমরা স্বীকার কর আসমানকে আল্লাহ তাআলাই সৃষ্টি করেছেন, তবে মানুষকে পুনরায় সৃষ্টি করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হবে কেন?
২৮

رَفَعَ سَمۡکَہَا فَسَوّٰىہَا ۙ ٢٨

রাফা‘আ ছামকাহা-ফাছাওয়া-হা-।

তিনি তার উচ্চতা উত্তোলন করেছেন, তারপর তা সুবিন্যস্ত করেছেন।
২৯

وَاَغۡطَشَ لَیۡلَہَا وَاَخۡرَجَ ضُحٰہَا ۪ ٢٩

ওয়া আগতাশা লাইলাহা-ওয়া আখরাজা দুহা-হা-।

তিনি তার রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং তার দিনের আলো প্রকাশ করেছেন।
৩০

وَالۡاَرۡضَ بَعۡدَ ذٰلِکَ دَحٰىہَا ؕ ٣۰

ওয়াল আর দা বা‘দা যা-লিকা দাহা-হা-।

এবং তারপর পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন।
৩১

اَخۡرَجَ مِنۡہَا مَآءَہَا وَمَرۡعٰہَا ۪ ٣١

আখরাজা মিনহা-মাআহা-ওয়া মার‘আ-হা-।

তা থেকে তার পানি ও তৃণ বের করেছেন।
৩২

وَالۡجِبَالَ اَرۡسٰہَا ۙ ٣٢

ওয়াল জিবা-লা আরছা-হা।

এবং পর্বতসমূহকে প্রোথিত করেছেন।
৩৩

مَتَاعًا لَّکُمۡ وَلِاَنۡعَامِکُمۡ ؕ ٣٣

মাতা-‘আল্লাকুম ওয়ালি আন‘আ-মিকুম।

তোমাদের নিজেদের ও তোমাদের পশুদের ভোগের জন্য।
৩৪

فَاِذَا جَآءَتِ الطَّآمَّۃُ الۡکُبۡرٰی ۫ۖ ٣٤

ফাইযা-জাআত্তিত্তাম্মাতুল কুবরা-।

অতঃপর যখন মহা বিপর্যয় সংঘটিত হবে।
৩৫

یَوۡمَ یَتَذَکَّرُ الۡاِنۡسَانُ مَا سَعٰی ۙ ٣٥

ইয়াওমা ইয়াতাযাক্কারুল ইনছা-নুমা-ছা‘আ-।

যে দিন মানুষ তার যাবতীয় কৃতকর্ম স্মরণ করবে
৩৬

وَبُرِّزَتِ الۡجَحِیۡمُ لِمَنۡ یَّرٰی ٣٦

ওয়া বুররিঝাতিল জাহীমুলিমাইঁ ইয়ারা-।

এবং প্রত্যেক দর্শকের সামনে জাহান্নামকে প্রকাশ করা হবে।
৩৭

فَاَمَّا مَنۡ طَغٰی ۙ ٣٧

ফাআম্মা-মান তাগা-।

তখন যে ব্যক্তি অবাধ্যতা করেছিল,
৩৮

وَاٰثَرَ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا ۙ ٣٨

ওয়া আ-ছারাল হায়া-তাদ্দুনইয়া-।

এবং পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দিয়েছিল
৩৯

فَاِنَّ الۡجَحِیۡمَ ہِیَ الۡمَاۡوٰی ؕ ٣٩

ফাইন্নাল জাহীমা হিয়াল মা’ওয়া-।

জাহান্নামই হবে তার ঠিকানা।
৪০

وَاَمَّا مَنۡ خَافَ مَقَامَ رَبِّہٖ وَنَہَی النَّفۡسَ عَنِ الۡہَوٰی ۙ ٤۰

ওয়া আম্মা-মান খা-ফা মাকা-মা রাব্বিহী ওয়া নাহান্নাফছা ‘আনিল হাওয়া-।

আর যে ব্যক্তি নিজ প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ভয় পোষণ করত এবং নিজেকে মন্দ চাহিদা হতে বিরত রাখত
৪১

فَاِنَّ الۡجَنَّۃَ ہِیَ الۡمَاۡوٰی ؕ ٤١

ফাইন্নাল জান্নাতা হিয়াল মা’ওয়া।

জান্নাতই হবে তার ঠিকানা।
৪২

یَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنِ السَّاعَۃِ اَیَّانَ مُرۡسٰہَا ؕ ٤٢

ইয়াছা‘আলূনাকা ‘আনিছ ছা-‘আতি আইইয়া-না মুরছা-হা-।

তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে যে, তা কখন সংঘটিত হবে?
৪৩

فِیۡمَ اَنۡتَ مِنۡ ذِکۡرٰىہَا ؕ ٤٣

ফীমা আনতা মিন যিকরা-হা-।

এ বিষয়ে আলোচনা করার সাথে তোমার কী সম্পর্ক? ১১

তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ ঠিক কখন কিয়ামত হবে তা কেবল আল্লাহ তাআলাই জানেন। এ সম্পর্কে তিনি কাউকে অবহিত করেননি। তোমাকেও নয়। তা তুমি যখন জান না, তখন এ সম্পর্কে সওয়াল-জওয়াব করা ও এ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তোমার কোথায় যে, তুমি তাতে লিপ্ত হবে? -অনুবাদক
৪৪

اِلٰی رَبِّکَ مُنۡتَہٰىہَا ؕ ٤٤

ইলা-রাব্বিকা মুনতাহা-হা-।

এর চূড়ান্ত জ্ঞান তো তোমার প্রতিপালকেরই।
৪৫

اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مُنۡذِرُ مَنۡ یَّخۡشٰہَا ؕ ٤٥

ইন্নামাআনতা মুনযিরু মাইঁ ইয়াখশা-হা-।

যে ব্যক্তি তার ভয় রাখে তুমি কেবল তার সতর্ককারী। ১২

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ আখেরাতে পৌঁছার পর তার বিভীষিকা দেখে দুনিয়ার জীবন বা কবরে অবস্থানকালীন জীবনকে খুবই সংক্ষিপ্ত মনে হবে।
৪৬

کَاَنَّہُمۡ یَوۡمَ یَرَوۡنَہَا لَمۡ یَلۡبَثُوۡۤا اِلَّا عَشِیَّۃً اَوۡ ضُحٰہَا ٪ ٤٦

কাআন্নাহুম ইয়াওমা ইয়ারাওনাহা-লাম ইয়ালবাছূইল্লা-‘আশিইইয়াতান আও দুহা- হা।

যে দিন তারা তা দেখতে পাবে সে দিন তাদের মনে হবে, যেন তারা (দুনিয়ায় বা কবরে) এক সন্ধ্যা বা এক সকালের বেশি অবস্থান করেনি। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. অর্থাৎ তোমার কাজ কিয়ামতের দিন-ক্ষণ জানানো নয়; বরং কিয়ামত যে অবশ্যম্ভাবী তা জানানো এবং তার বিভীষিকা সম্পর্কে সতর্ক করা। যদিও এ সতর্কীকরণ সকলের জন্যই ব্যাপক, কিন্তু এর দ্বারা উপকৃত হয় কেবল তারাই, যারা সে দিনকে ভয় করে। এ কারণেই বিশেষভাবে তাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। -অনুবাদক
সূরা আন নাযিয়াত | মুসলিম বাংলা