সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আবাসা (عبس) | তিনি ভ্রুকুটি করলেন

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৪২

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

عَبَسَ وَتَوَلّٰۤی ۙ ١

‘আবাছা ওয়া তাওয়াল্লা-।

(রাসূল) মুখ বিকৃত করল ও চেহারা ফিরিয়ে নিল।

তাফসীরঃ

১. এ আয়াতসমূহ একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছিল। ঘটনাটি এইরূপ, একদিন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ গোত্রের কয়েকজন বড়-বড় নেতাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন। তিনি তাদের সাথে দাওয়াতী কথাবার্তায় মশগুল ছিলেন, ঠিক এই মুহূর্তে প্রসিদ্ধ অন্ধ সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রাযি.) সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি যেহেতু অন্ধ ছিলেন, তাই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কার-কার সাথে কথায় ব্যস্ত আছেন তা দেখতে পাচ্ছিলেন না। কাজেই এসেই তিনি তাকে কিছু শিক্ষা দানের জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুরোধ করলেন। যেহেতু অন্যের কথা কেটে মাঝখানে তিনি ঢুকে পড়েছিলেন, তাই তাঁর এ পন্থা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পছন্দ হল না। এ অসন্তুষ্টির ছাপ তাঁর চেহারায়ও ফুটে উঠল। তিনি তাঁর কথার কোন উত্তরও দিলেন না; বরং সেই কাফেরদের সাথেই যথারীতি আলোচনা চালিয়ে গেলেন। কিন্তু তাঁর এ কার্যক্রম আল্লাহ তাআলার পছন্দ হল না। সুতরাং লোকগুলো চলে যাওয়ার পর পরই এ সূরা নাযিল করলেন এবং তাঁকে তাঁর এ কাজের জন্য সতর্ক করে দিলেন। সূরাটির প্রথম শব্দ হল عَبَس (আবাস), এর অর্থ ভ্রু কুঞ্চিত করা, মুখ বিকৃত করা। এরই থেকে সূরাটির নাম হয়েছে সূরা আবাস। এতে মৌলিকভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, যার অন্তরে সত্যের অনুসন্ধিৎসা আছে, খাঁটি মনে সে নিজেকে সংশোধনও করতে চায়, তাকে কিছুতেই অগ্রাহ্য করা চলে না; বরং তাঁরই এ অধিকার বেশি যে, শিক্ষা দানের জন্য তাকে সময় দেওয়া হবে। পক্ষান্তরে যাদের অন্তরে সত্য জানার কোন আগ্রহ নেই এবং নিজেদেরকে সংশোধন করারও কোন প্রয়োজন মনে করে না, সত্য-সন্ধানীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে তাদের প্রতি মনোযোগী হওয়া ও তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া কিছুতেই যুক্তিযুক্ত নয়। এরূপ কাজ মোটেই সমীচীন নয়।

اَنۡ جَآءَہُ الۡاَعۡمٰی ؕ ٢

আন জাআহুল আ‘মা-।

কারণ তার কাছে অন্ধ লোকটি এসে পড়েছিল।

وَمَا یُدۡرِیۡکَ لَعَلَّہٗ یَزَّکّٰۤی ۙ ٣

ওয়ামা-ইউদরীকা লা‘আল্লাহু ইয়াঝঝাক্কা-।

(হে রাসূল!) তোমার কি জানা আছে? হয়ত সে শুধরে যেত!

اَوۡ یَذَّکَّرُ فَتَنۡفَعَہُ الذِّکۡرٰی ؕ ٤

আও ইয়াযযাক্কারু ফাতানফাআহুযযিকরা-।

অথবা উপদেশ গ্রহণ করত এবং উপদেশ দান তার উপকারে আসত!

اَمَّا مَنِ اسۡتَغۡنٰی ۙ ٥

আম্মা-মানিছ তাগনা-।

আর যে ব্যক্তি অগ্রাহ্য করছিল

فَاَنۡتَ لَہٗ تَصَدّٰی ؕ ٦

ফাআনতা লাহূতাসাদ্দা-।

তুমি তার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছ

وَمَا عَلَیۡکَ اَلَّا یَزَّکّٰی ؕ ٧

ওয়ামা-‘আলাইকা আল্লা-ইয়াঝঝাক্কা-।

অথচ সে নিজেকে না শোধরালে তোমার উপর কোন দায়িত্ব আসে না।

وَاَمَّا مَنۡ جَآءَکَ یَسۡعٰی ۙ ٨

ওয়া আম্মা-মান জাআকা ইয়াছ‘আ-।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি শ্রম ব্যয় করে তোমার কাছে আসল

وَہُوَ یَخۡشٰی ۙ ٩

ওয়া হুওয়া ইয়াখশা-।

এ অবস্থায় যে, সে আল্লাহকে ভয় করে,
১০

فَاَنۡتَ عَنۡہُ تَلَہّٰی ۚ ١۰

ফাআনতা ‘আনহু তালাহহা-।

তার প্রতি তুমি অবজ্ঞা প্রদর্শন করছ!
১১

کَلَّاۤ اِنَّہَا تَذۡکِرَۃٌ ۚ ١١

কাল্লাইন্নাহা-তাযকিরাহ।

কিছুতেই এরূপ উচিত নয়। এ কুরআন তো এক উপদেশবাণী।
১২

فَمَنۡ شَآءَ ذَکَرَہٗ ۘ ١٢

ফামান শাআ যাকরাহ ।

যার ইচ্ছা সে একে স্মরণ রাখবে।

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ কুরআন মাজীদের নির্দেশনা মেনে নিয়ে সে অনুযায়ী চলবে।
১৩

فِیۡ صُحُفٍ مُّکَرَّمَۃٍ ۙ ١٣

ফী সুহুফিম মুকাররামাহ

এটা লিপিবদ্ধ আছে এমন সহীফাসমূহে, যা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ

তাফসীরঃ

৩. এর দ্বারা লাওহে মাহফুজ বোঝানো হয়েছে। তাতে অন্যান্য বিষয় ছাড়া কুরআন মাজীদও লিপিবদ্ধ আছে।
১৪

مَّرۡفُوۡعَۃٍ مُّطَہَّرَۃٍۭ ۙ ١٤

মারফূ‘আতিম মুতাহহারাহ।

উচ্চ স্তরের, পবিত্র।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি ও মলিনতা হতে পবিত্র এবং শয়তানের হাত থেকেও পবিত্র। তারা সেখানে পৌঁছতে ও তাতে কোন রকম হস্তক্ষেপ করতে পারে না। -অনুবাদক
১৫

بِاَیۡدِیۡ سَفَرَۃٍ ۙ ١٥

বিআইদী ছাফারাহ।

এমন লিপিকরদের হাতে লিপিবদ্ধ,
১৬

کِرَامٍۭ بَرَرَۃٍ ؕ ١٦

কিরা-মিম বারারাহ।

যারা অতি মর্যাদাসম্পন্ন, পুণ্যবান।

তাফসীরঃ

৫. এর দ্বারা যেসব ফেরেশতা লাওহে মাহফুজের দায়িত্বে নিয়োজিত তাদেরকে বোঝানো হয়েছে।
১৭

قُتِلَ الۡاِنۡسَانُ مَاۤ اَکۡفَرَہٗ ؕ ١٧

কুতিলাল ইনছা-নুমা-আকফারাহ।

ধ্বংস হোক মানুষ, সে কত অকৃতজ্ঞ!
১৮

مِنۡ اَیِّ شَیۡءٍ خَلَقَہٗ ؕ ١٨

মিন আইয়ি শাইয়িন খালাকাহ।

(একটু চিন্তা করে দেখুক) আল্লাহ তাকে কিসের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন?
১৯

مِنۡ نُّطۡفَۃٍ ؕ  خَلَقَہٗ فَقَدَّرَہٗ ۙ ١٩

মিন নুতফাতিন খালাকাহূফাকাদ্দারাহ।

শুক্রবিন্দু হতে, তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে এক বিশেষ পরিমিতিও দান করেছেন।

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ মাতৃগর্ভে তাকে এমন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করেছেন, যা অত্যন্ত পরিমিত ও সুসমঞ্জস। এর আরেক ব্যাখ্যা হল, তার জন্য তাকদীর নির্ধারণ করেছেন।
২০

ثُمَّ السَّبِیۡلَ یَسَّرَہٗ ۙ ٢۰

ছু ম্মাছ ছাবীলা ইয়াছছরাহ।

অতঃপর তার জন্য পথ সহজ করে দিয়েছেন।

তাফসীরঃ

৭. এর এক তাফসীর হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে এ রকম বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলা মাতৃগর্ভ হতে শিশুর বের হয়ে আসার পথ অত্যন্ত সুগম করে দিয়েছেন। ফলে এক সঙ্কীর্ণ স্থান থেকে সে সহজেই বের হয়ে আসে। কেউ কেউ এর ব্যাখ্যা করেছেন, আল্লাহ তাআলা দুনিয়ায় মানুষের জীবন যাপনের পথ সহজ করে দিয়েছেন এবং এখানে তার সব রকম প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা রেখেছেন।
২১

ثُمَّ اَمَاتَہٗ فَاَقۡبَرَہٗ ۙ ٢١

ছু ম্মা আমা-তাহূফাআকবারাহ।

অতঃপর তার মৃত্যু ঘটিয়ে তাকে কবরস্থ করেছেন,
২২

ثُمَّ اِذَا شَآءَ اَنۡشَرَہٗ ؕ ٢٢

ছু ম্মা ইযা-শাআ আনশারাহ।

তারপর যখন ইচ্ছা করবেন, তাকে পুনরায় উত্থিত করবেন।
২৩

کَلَّا لَمَّا یَقۡضِ مَاۤ اَمَرَہٗ ؕ ٢٣

কাল্লা-লাম্মা-ইয়াকদিমাআমারাহ।

কখনও নয়, আল্লাহ তাকে যে বিষয়ে আদেশ করেছিলেন, এখনও পর্যন্ত সে তা পালন করেনি।

তাফসীরঃ

৮. এর দ্বারা কাফেরকেও বোঝানো হতে পারে এবং মুসলিমকেও। কাফেরকে বোঝানো হলে তার আদেশ পালন না করার বিষয়টা তো স্পষ্ট। আর যদি মুসলিমকে বোঝানো হয়, তবে তার দ্বারাও তো আল্লাহ তাআলার আদেশ মাঝে মধ্যে অমান্য হয়ে যায়। আর হক আদায় করে তাঁর আদেশ পুরোপুরি পালন কার দ্বারাই বা সম্ভব?
২৪

فَلۡیَنۡظُرِ الۡاِنۡسَانُ اِلٰی طَعَامِہٖۤ ۙ ٢٤

ফালাইয়ানজুরিল ইনছা-নুইলা-তা‘আ-মিহ।

অতঃপর মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক!
২৫

اَنَّا صَبَبۡنَا الۡمَآءَ صَبًّا ۙ ٢٥

আন্না-সাবাবনাল মাআ সাব্বা-।

আমি উপর থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেছি।
২৬

ثُمَّ شَقَقۡنَا الۡاَرۡضَ شَقًّا ۙ ٢٦

ছু ম্মা শাকাকনাল আরদা শাক্কা-।

তারপর ভূমিকে বিস্ময়করভাবে বিদীর্ণ করেছি।

তাফসীরঃ

৯. দানা ফুঁড়ে কচি চারার কোমল অঙ্কুর যেভাবে শক্ত মাটি ভেদ করে বের হয়ে আসে, তার প্রতি লক্ষ্য করলে আল্লাহ তাআলার কুদরত উপলব্ধি করা ও তাঁর প্রতি ঈমান আনার জন্য আর কোন দলীলের দরকার পড়ে না। এই এক নিদর্শনই যথেষ্ট।
২৭

فَاَنۡۢبَتۡنَا فِیۡہَا حَبًّا ۙ ٢٧

ফাআমবাতনা-ফীহা-হাব্বা-।

তারপর আমি তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য,
২৮

وَّعِنَبًا وَّقَضۡبًا ۙ ٢٨

ওয়া ‘ইনাবাওঁ ওয়া কাদবা-।

আঙ্গুর, শাক-সব্জি,
২৯

وَّزَیۡتُوۡنًا وَّنَخۡلًا ۙ ٢٩

ওয়া ঝাইতূনাওঁ ওয়া নাখলা-।

যয়তুন, খেজুর,
৩০

وَّحَدَآئِقَ غُلۡبًا ۙ ٣۰

ওয়া হাদাইকা গুলবা-।

নিবিড়-ঘন বাগান,
৩১

وَّفَاکِہَۃً وَّاَبًّا ۙ ٣١

ওয়া ফা-কিহাতাওঁ ওয়া আব্বা-।

এবং ফলমূল ও ঘাস-পাতা।
৩২

مَّتَاعًا لَّکُمۡ وَلِاَنۡعَامِکُمۡ ؕ ٣٢

মাতা-‘আল্লাকুম ওয়ালি আন‘আ-মিকুম।

তোমাদের নিজেদের ও তোমাদের গবাদি পশুর ভোগের জন্য।
৩৩

فَاِذَا جَآءَتِ الصَّآخَّۃُ ۫ ٣٣

ফাইযা-জাআতিসসা-খখাহ।

পরিশেষে যখন কান বিদীর্ণকারী আওয়াজ এসেই পড়বে। ১০ (তখন এ অকৃতজ্ঞতার পরিণাম টের পাবে।)

তাফসীরঃ

১০. এর দ্বারা কিয়ামত বোঝানো হয়েছে, যার সূচনা হবে শিঙ্গার ফুঁৎকার দ্বারা।
৩৪

یَوۡمَ یَفِرُّ الۡمَرۡءُ مِنۡ اَخِیۡہِ ۙ ٣٤

ইয়াওমা ইয়াফিররুল মারউ মিন আখীহ।

(তা ঘটবে সেই দিন), যে দিন মানুষ তার ভাই থেকেও পালাবে
৩৫

وَاُمِّہٖ وَاَبِیۡہِ ۙ ٣٥

ওয়া উম্মিহী ওয়া আবীহ।

এবং নিজ পিতা-মাতা থেকেও
৩৬

وَصَاحِبَتِہٖ وَبَنِیۡہِ ؕ ٣٦

ওয়া সা-হিবাতিহী ওয়া বানীহ।

এবং নিজ স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি থেকেও
৩৭

لِکُلِّ امۡرِیًٴ مِّنۡہُمۡ یَوۡمَئِذٍ شَاۡنٌ یُّغۡنِیۡہِ ؕ ٣٧

লিকুল্লিম রিইম মিনহুম ইয়াওমাইযিন শা’নুইঁ ইউগনীহ।

(কেননা) সে দিন তাদের প্রত্যেকের এমন দুশ্চিন্তা দেখা দেবে, যা তাকে অন্যের থেকে ব্যস্ত করে রাখবে। ১১

তাফসীরঃ

১১. ফলে নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে ভাবতে পারবে না। এমন কি নবী-রাসূলগণও সেদিনের বিভীষিকায় সন্ত্রস্ত হয়ে বলতে থাকবে হায়, আমার কী উপায় হবে, আমার কী উপায় হবে! -অনুবাদক
৩৮

وُجُوۡہٌ یَّوۡمَئِذٍ مُّسۡفِرَۃٌ ۙ ٣٨

উজূহুইঁ ইয়াওমাইযিমমুছফিরাহ।

সে দিন অনেক মুখমণ্ডল হবে উজ্জ্বল।
৩৯

ضَاحِکَۃٌ مُّسۡتَبۡشِرَۃٌ ۚ ٣٩

দা-হিকাতুমমুছতাবশিরাহ।

সহাস্য, প্রফুল্ল।
৪০

وَوُجُوۡہٌ یَّوۡمَئِذٍ عَلَیۡہَا غَبَرَۃٌ ۙ ٤۰

ওয়া উজূহুইঁ ইয়াওমাইযিন ‘আলাইহা-গাবারাহ।

এবং সে দিন অনেক মুখমণ্ডল হবে ধুলোমলিন,
৪১

تَرۡہَقُہَا قَتَرَۃٌ ؕ ٤١

তারহাকুহা-কাতারাহ।

কালিমা সেগুলোকে আচ্ছন্ন করে রাখবে। ১২

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ কুফরের কালিমায় তাদের চেহারা কালো হয়ে থাকবে এবং পাপাচারের মলিনতা সে কালোকে আরও ঘনীভূত করে তুলবে। -অনুবাদক
৪২

اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡکَفَرَۃُ الۡفَجَرَۃُ ٪ ٤٢

উলাইকা হুমুল কাফারাতুল ফাজারাহ।

এরাই তারা, যারা ছিল কাফের, পাপিষ্ঠ।
সূরা আবাসা | মুসলিম বাংলা