সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আত মুত্বাফ্‌ফিফীন (المطـفـفين) | প্রতারণা করা

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৩৬

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَیۡلٌ لِّلۡمُطَفِّفِیۡنَ ۙ ١

ওয়াইলুলিললমুতাফফিফীন।

বহু দুর্ভোগ আছে তাদের, যারা মাপে কম দেয়,

الَّذِیۡنَ اِذَا اکۡتَالُوۡا عَلَی النَّاسِ یَسۡتَوۡفُوۡنَ ۫ۖ ٢

আল্লাযীনা ইয়াকতা-লূ‘আলান্না-ছি ইয়াছতাওফূন।

যারা মানুষের নিকট থেকে যখন মেপে নেয়, পূর্ণমাত্রায় নেয়

وَاِذَا کَالُوۡہُمۡ اَوۡ وَّزَنُوۡہُمۡ یُخۡسِرُوۡنَ ؕ ٣

ওয়া ইযা-কা-লূহুম আও ওয়াঝানূহুম ইউখছিরূন।

আর যখন অন্যকে মেপে বা ওজন করে দেয় তখন কমিয়ে দেয়।

তাফসীরঃ

১. এক শ্রেণীর লোক আছে, যারা অন্যের থেকে নিজের প্রাপ্য উসূল করার ব্যাপারে বড়ই তৎপর থাকে, একটুও সময় দেয় না এবং মাপেও কোন ছাড় দেয় না; পূর্ণমাত্রায় মেপে নেয়। কিন্তু অন্যের হক দেওয়ার বেলা গড়িমসি করে এবং মাপেও হেরফের করে। আয়াতসমূহে তাদেরকে সতর্কবাণী শোনানো হয়েছে। এ সতর্কবাণী কেবল মাপের সাথেই সম্পৃক্ত নয়;বরং যে কোনও হকই এর আওতাভুক্ত। মাপে হেরফের করাকে আরবীতে ‘তাতফীফ’ বলে এবং যারা এটা করে তাদেরকে বলে ‘মুতাফফিফীন’। এ জন্যই এ সূরার নাম সূরা তাতফীফ বা মুতাফফিফীন।

اَلَا یَظُنُّ اُولٰٓئِکَ اَنَّہُمۡ مَّبۡعُوۡثُوۡنَ ۙ ٤

আলা-ইয়াজু ননুউলাইকা আন্নাহুম মাব‘ঊছূন।

তারা কি চিন্তা করে না, তাদেরকে জীবিত করে ওঠানো হবে?

لِیَوۡمٍ عَظِیۡمٍ ۙ ٥

লিয়াওমিন ‘আজীমি।

এক মহা দিবসে

یَّوۡمَ یَقُوۡمُ النَّاسُ لِرَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ ٦

ইয়াওমা ইয়াকূমুন্না-ছূলিরাব্বিল ‘আ-লামীন।

যে দিন সমস্ত মানুষ রাব্বুল আলামীনের সামনে দাঁড়াবে

کَلَّاۤ اِنَّ کِتٰبَ الۡفُجَّارِ لَفِیۡ سِجِّیۡنٍ ؕ ٧

কাল্লাইন্না কিতা-বাল ফুজ্জা-রি লাফী ছিজ্জীন।

কখনই এটা সমীচীন নয়। নিশ্চয়ই পাপিষ্ঠদের আমলনামা আছে সিজ্জীনে।

তাফসীরঃ

২. ‘সিজ্জীন’-এর শাব্দিক অর্থ কারাগার। এটা সেই স্থানের নাম, কাফেরদের মৃত্যুর পর তাদের রূহ যেখানে নিয়ে রাখা হয় এবং সেখানেই তাদের আমলনামাও সংরক্ষিত রাখা হয়।

وَمَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا سِجِّیۡنٌ ؕ ٨

ওয়ামাআদরা-কা মা-ছিজ্জীন।

তুমি কি জান ‘সিজ্জীন’ (-এ রক্ষিত আমলনামা) কী?

کِتٰبٌ مَّرۡقُوۡمٌ ؕ ٩

কিতা-বুমমারকুম।

তা এক লিপিবদ্ধ দফতর
১০

وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُکَذِّبِیۡنَ ۙ ١۰

ওয়াইলুইঁ ইয়াওমাইযিল লিলমুকাযযিবীন।

সে দিন অনেক দুর্ভোগ আছে তাদের, যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে।
১১

الَّذِیۡنَ یُکَذِّبُوۡنَ بِیَوۡمِ الدِّیۡنِ ؕ ١١

আল্লাযীনা ইউকাযযিবূনা বিইয়াওমিদ্দীন।

যারা কর্মফল দিবসকে অস্বীকার করে।
১২

وَمَا یُکَذِّبُ بِہٖۤ اِلَّا کُلُّ مُعۡتَدٍ اَثِیۡمٍ ۙ ١٢

ওয়ামা-ইউকাযযিবুবিহীইল্লা-কুল্লুমু‘তাদিন আছীম।

সে দিনকে অস্বীকার করে প্রত্যেক এমন লোক, যে সীমালঙ্ঘনকারী গুনাহগার।
১৩

اِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِ اٰیٰتُنَا قَالَ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ ؕ ١٣

ইযা-তুতলা-‘আলাইহি আ-য়া-তুনা-কা-লা আছা-তীরুল আওওয়ালীন।

তার সামনে আমার আয়াত পড়া হলে সে বলে এসব তো অতীত লোকদের কিসসা-কাহিনী।
১৪

کَلَّا بَلۡ ٜ رَانَ عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ مَّا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ١٤

কাল্লা-বাল রা-না ‘আলা-কুলূবিহিম মা-কা-নূইয়াকছিবূন।

কখনও নয়! বরং তাদের কৃতকর্ম তাদের অন্তরে জং ধরিয়ে দিয়েছে।
১৫

کَلَّاۤ اِنَّہُمۡ عَنۡ رَّبِّہِمۡ یَوۡمَئِذٍ لَّمَحۡجُوۡبُوۡنَ ؕ ١٥

কাল্লাইন্নাহুম ‘আর রাব্বিহিম ইয়াওমাইযিল লামাহজূবূন।

কখনও নয়! বস্তুত তারা সে দিন তাদের প্রতিপালকের দীদার (দর্শন) থেকে বঞ্চিত থাকবে।
১৬

ثُمَّ اِنَّہُمۡ لَصَالُوا الۡجَحِیۡمِ ؕ ١٦

ছু ম্মা ইন্নাহুম লাসা-লুল জাহীম।

তারপর তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করতে হবে।
১৭

ثُمَّ یُقَالُ ہٰذَا الَّذِیۡ کُنۡتُمۡ بِہٖ تُکَذِّبُوۡنَ ؕ ١٧

ছু ম্মা ইউকা-লূহা-যাল্লাযী কুনতুম বিহী তুকাযযিবূন।

তারপর বলা হবে, এটাই সেই বস্তু, যাকে তোমরা মিথ্যা সাব্যস্ত করতে।
১৮

کَلَّاۤ اِنَّ کِتٰبَ الۡاَبۡرَارِ لَفِیۡ عِلِّیِّیۡنَ ؕ ١٨

কাল্লাইন্না কিতা-বাল আবরা-রি লাফী ‘ইলিলইঈন।

জেনে রেখ, পুণ্যবানদের আমলনামা থাকে ইল্লিয়্যীনে।

তাফসীরঃ

৩. ‘ইল্লিয়্যীন’-এর শাব্দিক অর্থ অট্টালিকা। মুমিনদের রূহ যেখানে নিয়ে রাখা হয় এটা সেই স্থানের নাম। তাদের আমলনামাও এখানেই হেফাজত করা হয়।
১৯

وَمَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا عِلِّیُّوۡنَ ؕ ١٩

ওয়ামাআদরা-কা মা-‘ইলিলইয়ূন।

তুমি কি জান ইল্লিয়্যীন (-এ রক্ষিত আমলনামা) কী?
২০

کِتٰبٌ مَّرۡقُوۡمٌ ۙ ٢۰

কিতা-বুমমারকূম

তা এক লিপিবদ্ধ দফতর।
২১

یَّشۡہَدُہُ الۡمُقَرَّبُوۡنَ ؕ ٢١

ইয়াশহাদুহুল মুকাররাবূন।

যা দেখে (আল্লাহর) সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ।

তাফসীরঃ

৪. আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ যে মুমিনদের আমলনামা দেখে, তার মানে তারা তাকে বিশেষ সম্মান দেখায়, তাকে সমীহের চোখে দেখে, এটা এ কারণে যে, তাতে মুমিনদের পুণ্যসমূহ লিপিবদ্ধ থাকে। এ দেখার আরেক অর্থ হতে পারে, দেখাশোনা করা। অর্থাৎ সেই বিশিষ্ট ফেরেশতাগণ তা হেফাজত করে।
২২

اِنَّ الۡاَبۡرَارَ لَفِیۡ نَعِیۡمٍ ۙ ٢٢

ইন্নাল আবরা-রা লাফী না‘ঈম।

নিশ্চয়ই পুণ্যবানগণ থাকবে প্রভূত নি‘আমতের মধ্যে।
২৩

عَلَی الۡاَرَآئِکِ یَنۡظُرُوۡنَ ۙ ٢٣

‘আলাল আরাইকি ইয়ানজু রুন।

আরামদায়ক আসনে বসে অবলোকন করতে থাকবে।
২৪

تَعۡرِفُ فِیۡ وُجُوۡہِہِمۡ نَضۡرَۃَ النَّعِیۡمِ ۚ ٢٤

তা‘রিফুফী উজূহিহিম নাদরাতান্না‘ঈম।

তাদের চেহারায় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের দীপ্তি দেখতে পাবে।
২৫

یُسۡقَوۡنَ مِنۡ رَّحِیۡقٍ مَّخۡتُوۡمٍ ۙ ٢٥

ইউছকাওনা মির রাহীকিমমাখতূম।

তাদেরকে পান করানো হবে বিশুদ্ধ পানীয়, যাতে মোহর করা থাকবে।
২৬

خِتٰمُہٗ مِسۡکٌ ؕ  وَفِیۡ ذٰلِکَ فَلۡیَتَنَافَسِ الۡمُتَنَافِسُوۡنَ ؕ ٢٦

খিতা-মুহূমিছকুওঁ ওয়া ফী যা-লিকা ফালইয়াতানা-ফাছিল মুতানা-ফিছূন।

তার মোহর হবে কেবল মিস্ক। এটাই এমন জিনিস, লুব্ধজনদের উচিত এর প্রতি অগ্রগামী হয়ে লোভ প্রকাশ করা,
২৭

وَمِزَاجُہٗ مِنۡ تَسۡنِیۡمٍ ۙ ٢٧

ওয়া মিঝা-জুহূমিন তাছনীম।

সে পানীয়ে ‘তাসনীম’-এর পানি মেশানো থাকবে।

তাফসীরঃ

৫. তাসনীম হল জান্নাতের একটি প্রস্রবণ। তার পানি যখন সেই শরাবে মেলানো হবে, তার স্বাদ অনেক বেড়ে যাবে।
২৮

عَیۡنًا یَّشۡرَبُ بِہَا الۡمُقَرَّبُوۡنَ ؕ ٢٨

‘আইনাইঁ ইয়াশরাবুবিহাল মুকাররাবূন।

তা একটি প্রস্রবণ, যা থেকে আল্লাহর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত বান্দাগণ পানি পান করে।
২৯

اِنَّ الَّذِیۡنَ اَجۡرَمُوۡا کَانُوۡا مِنَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا یَضۡحَکُوۡنَ ۫ۖ ٢٩

ইন্নাল্লাযীনা আজরামূকা-নূমিনাল্লাযীনা আ-মানূইয়াদহাকূন।

নিশ্চয়ই যারা অপরাধে লিপ্ত ছিল তারা মুমিনদের নিয়ে হাসত।
৩০

وَاِذَا مَرُّوۡا بِہِمۡ یَتَغَامَزُوۡنَ ۫ۖ ٣۰

ওয়া ইযা-মাররূ বিহিম ইতাগা-মাঝূন।

যখন তাদের কাছ দিয়ে যেত, তখন একে অন্যকে চোখ টিপে ইশারা করত।
৩১

وَاِذَا انۡقَلَبُوۡۤا اِلٰۤی اَہۡلِہِمُ انۡقَلَبُوۡا فَکِہِیۡنَ ۫ۖ ٣١

ওয়া ইযানকালাবূ-ইলাআহলিহিমুনকালাবূফাকিহীন।

যখন নিজ পরিবারবর্গের কাছে ফিরে যেত তখন ফিরত হর্ষোৎফুল্ল হয়ে।
৩২

وَاِذَا رَاَوۡہُمۡ قَالُوۡۤا اِنَّ ہٰۤؤُلَآءِ لَضَآلُّوۡنَ ۙ ٣٢

ওয়া ইযা-রাআওহুম কা-লূইন্না হাউলাই লাদাললূন।

এবং যখন তাদেরকে (অর্থাৎ মুমিনদেরকে) দেখত, তখন বলত, নিশ্চয়ই এরা পথভ্রষ্ট।
৩৩

وَمَاۤ اُرۡسِلُوۡا عَلَیۡہِمۡ حٰفِظِیۡنَ ؕ ٣٣

ওয়ামাউরছিলূ‘আলাইহিম হা-ফিজীন।

অথচ তাদেরকে মুমিনদের তত্ত্বাবধায়ক করে পাঠানো হয়নি।
৩৪

فَالۡیَوۡمَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنَ الۡکُفَّارِ یَضۡحَکُوۡنَ ۙ ٣٤

ফালইয়াওমাল্লাযীনা আ-মানূমিনাল কুফফা-রি ইয়াদহাকূন।

তার পরিণাম এই যে, আজ মুমিনগণ কাফেরদেরকে নিয়ে হাসবে।
৩৫

عَلَی الۡاَرَآئِکِ ۙ  یَنۡظُرُوۡنَ ؕ ٣٥

‘আলাল আরাইকি ইয়ানজু রূন।

আরামদায়ক আসনে বসে দেখবে
৩৬

ہَلۡ ثُوِّبَ الۡکُفَّارُ مَا کَانُوۡا یَفۡعَلُوۡنَ ٪ ٣٦

হাল ছুওব্বিাল কুফফা-রু মা-কা-নূইয়াফ‘আলূন।

যে, কাফেরগণ বাস্তবিকই তাদের কৃতকর্মের ফল পেয়ে গেছে।
সূরা আত মুত্বাফ্‌ফিফীন | মুসলিম বাংলা