সূরা
পারা
Loading verses...
সূরা
পারা
Loading verses...
অন্যান্য
অনুবাদ
তেলাওয়াত
সূরা আল ইন্শিকাক (الانشقاق) | খন্ড-বিখন্ড করণ
মাক্কী
মোট আয়াতঃ ২৫
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
وَاَلۡقَتۡ مَا فِیۡہَا وَتَخَلَّتۡ ۙ ٤
ওয়া আল কাত মা-ফীহা-ওয়া তাখাল্লাত।
এবং তার অভ্যন্তরে যা-কিছু আছে তা বাইরে নিক্ষেপ করে সে শূন্যগর্ভ হয়ে যাবে ৩
তাফসীরঃ
৩. এর দ্বারা সেই সব মৃতদের বোঝানো হয়েছে, যাদেরকে কবরে দাফন করা হয়েছে। তাদেরকে কবর থেকে বের করে ফেলা হবে। অবশ্য আয়াতের শব্দাবলী সাধারণ। কাজেই এর অর্থ এ রকমও হতে পারে যে, ভূগর্ভে যত খনিজদ্রব্য আছে, তাও বের করে ফেলা হবে।
یٰۤاَیُّہَا الۡاِنۡسَانُ اِنَّکَ کَادِحٌ اِلٰی رَبِّکَ کَدۡحًا فَمُلٰقِیۡہِ ۚ ٦
ইয়াআইয়ুহাল ইনছা-নুইন্নাকা কা-দিহুন ইলা-রাব্বিকা কাদহান ফামুলা-কীহ।
হে মানুষ! তুমি নিজ প্রতিপালকের কাছে না পৌঁছা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিশ্রম করে যাবে, পরিশেষে তুমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করবে। ৪
তাফসীরঃ
৪. মানুষের গোটা আয়ুই কোনও না কোন শ্রমে ব্যয় করা হয়ে থাকে। যারা নেককার তারা আল্লাহ তাআলার আদেশ-নিষেধ পালনে শ্রম ব্যয় করে আর যারা দুনিয়াদার, তারা কেবল পার্থিব সুযোগ-সুবিধা লাভের পেছনে চেষ্টারত থাকে। এভাবে প্রতিটি মানুষই আপন-আপন পথে পরিশ্রম করতে থাকে। পরিশেষে সকলেই আল্লাহ তাআলার কাছে পৌঁছে যায়।
وَاَمَّا مَنۡ اُوۡتِیَ کِتٰبَہٗ وَرَآءَ ظَہۡرِہٖ ۙ ١۰
ওয়া আম্মা-মান ঊতিয়া কিতা-বাহূওয়ারাআ জাহরিহ।
কিন্তু যাকে তার আমলনামা দেওয়া হবে তার পিঠের পিছন থেকে, ৫
তাফসীরঃ
৫. সূরা আল-হাক্কায় (৬৯ : ২৫) বলা হয়েছে, পাপিষ্ঠদেরকে আমলনামা দেওয়া হবে তাদের বাম হাতে। এ আয়াত দ্বারা বোঝা যায় বাম হাতেও দেওয়া হবে পিছন দিক থেকে।
وَالَّیۡلِ وَمَا وَسَقَ ۙ ١٧
ওয়াল্লাইলি ওয়ামা-ওয়াছাক।
এবং রাতের আর তা যা-কিছুকে জড়িয়ে রাখে তার ৬
তাফসীরঃ
৬. অর্থাৎ রাত যেসব বস্তু নিজের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। এখানে সান্ধ্য লালিমা, রাত ও চাঁদের শপথ করা হয়েছে, এসবই আল্লাহ তাআলার হুকুমে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হতে থাকে। এদের শপথ করে বলা হচ্ছে, মানুষও এক মনযিল থেকে অন্য মনযিলে সফর করতে থাকবে। পরিশেষে সে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে গিয়ে মিলিত হবে।
لَتَرۡکَبُنَّ طَبَقًا عَنۡ طَبَقٍ ؕ ١٩
লাতারকাবুন্না তাবাকান ‘আন তাবাক।
তোমরা এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে আরোহণ করতে থাকবে। ৭
তাফসীরঃ
৭. মানুষ তার যাপিত জীবনে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে থাকে। শৈশব, যৌবন, পৌড়ত্ব ও বার্ধক্য। তার চিন্তা-ভাবনার মধ্যেও অনবরত পরিবর্তন ঘটতে থাকে। এ সব রকমের ধাপ ও পরিবর্তনই এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত।