সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল ইন্‌শিকাক (الانشقاق) | খন্ড-বিখন্ড করণ

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ২৫

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اِذَا السَّمَآءُ انۡشَقَّتۡ ۙ ١

ইযাছ ছামাউন শাক্কাত।

যখন আকাশ ফেটে যাবে

তাফসীরঃ

১. পূর্বের সূরাগুলোর মত এ সূরায়ও কিয়ামতের অবস্থা বর্ণিত হয়েছে। আরবীতে ফেটে যাওয়াকে ইনশিকাক (انشقاق যা থেকে انشقت ক্রিয়াটি উৎপন্ন হয়েছে) বলে। সে কারণেই এ সূরার নাম ইনশিকাক।

وَاَذِنَتۡ لِرَبِّہَا وَحُقَّتۡ ۙ ٢

ওয়া আযিনাত লিরাব্বিহা-ওয়া হুক্কাত।

এবং তার প্রতিপালকের আদেশ শুনে তা পালন করবে এবং তা তার জন্য অপরিহার্য

وَاِذَا الۡاَرۡضُ مُدَّتۡ ۙ ٣

ওয়া ইযাল আরদুমুদ্দাত।

এবং পৃথিবীকে যখন সম্প্রসারিত করা হবে।

তাফসীরঃ

২. বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, কিয়ামতে পৃথিবীকে রবারের মত টেনে বর্তমান পরিমাণ থেকে অনেক বড় করে ফেলা হবে, যাতে তাতে আগের ও পরের সমস্ত মানুষের স্থান সঙ্কুলান হতে পারে।

وَاَلۡقَتۡ مَا فِیۡہَا وَتَخَلَّتۡ ۙ ٤

ওয়া আল কাত মা-ফীহা-ওয়া তাখাল্লাত।

এবং তার অভ্যন্তরে যা-কিছু আছে তা বাইরে নিক্ষেপ করে সে শূন্যগর্ভ হয়ে যাবে

তাফসীরঃ

৩. এর দ্বারা সেই সব মৃতদের বোঝানো হয়েছে, যাদেরকে কবরে দাফন করা হয়েছে। তাদেরকে কবর থেকে বের করে ফেলা হবে। অবশ্য আয়াতের শব্দাবলী সাধারণ। কাজেই এর অর্থ এ রকমও হতে পারে যে, ভূগর্ভে যত খনিজদ্রব্য আছে, তাও বের করে ফেলা হবে।

وَاَذِنَتۡ لِرَبِّہَا وَحُقَّتۡ ؕ ٥

ওয়া আযিনাত লিরাব্বিহা-ওয়া হুক্কাত।

এবং সে তার প্রতিপালকের আদেশ শুনে তা পালন করবে এবং তা তার জন্য অপরিহার্য। (তখন মানুষ তার পরিণাম জানতে পারবে)।

یٰۤاَیُّہَا الۡاِنۡسَانُ اِنَّکَ کَادِحٌ اِلٰی رَبِّکَ کَدۡحًا فَمُلٰقِیۡہِ ۚ ٦

ইয়াআইয়ুহাল ইনছা-নুইন্নাকা কা-দিহুন ইলা-রাব্বিকা কাদহান ফামুলা-কীহ।

হে মানুষ! তুমি নিজ প্রতিপালকের কাছে না পৌঁছা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিশ্রম করে যাবে, পরিশেষে তুমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করবে।

তাফসীরঃ

৪. মানুষের গোটা আয়ুই কোনও না কোন শ্রমে ব্যয় করা হয়ে থাকে। যারা নেককার তারা আল্লাহ তাআলার আদেশ-নিষেধ পালনে শ্রম ব্যয় করে আর যারা দুনিয়াদার, তারা কেবল পার্থিব সুযোগ-সুবিধা লাভের পেছনে চেষ্টারত থাকে। এভাবে প্রতিটি মানুষই আপন-আপন পথে পরিশ্রম করতে থাকে। পরিশেষে সকলেই আল্লাহ তাআলার কাছে পৌঁছে যায়।

فَاَمَّا مَنۡ اُوۡتِیَ کِتٰبَہٗ بِیَمِیۡنِہٖ ۙ ٧

ফাআম্মা-মান ঊতিয়া কিতা-বাহূবিয়ামীনিহ।

অতঃপর যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে,

فَسَوۡفَ یُحَاسَبُ حِسَابًا یَّسِیۡرًا ۙ ٨

ফাছাওফা ইউহা-ছাবুহিছা-বাইঁ ইয়াছীরা-।

তার থেকে তো হিসাব নেওয়া হবে সহজ হিসাব।

وَّیَنۡقَلِبُ اِلٰۤی اَہۡلِہٖ مَسۡرُوۡرًا ؕ ٩

ওয়া ইয়ানকালিবুইলা-আহলিহী মাছরূরা-।

এবং সে তার পরিবারবর্গের কাছে ফিরে যাবে আনন্দচিত্তে।
১০

وَاَمَّا مَنۡ اُوۡتِیَ کِتٰبَہٗ وَرَآءَ ظَہۡرِہٖ ۙ ١۰

ওয়া আম্মা-মান ঊতিয়া কিতা-বাহূওয়ারাআ জাহরিহ।

কিন্তু যাকে তার আমলনামা দেওয়া হবে তার পিঠের পিছন থেকে,

তাফসীরঃ

৫. সূরা আল-হাক্কায় (৬৯ : ২৫) বলা হয়েছে, পাপিষ্ঠদেরকে আমলনামা দেওয়া হবে তাদের বাম হাতে। এ আয়াত দ্বারা বোঝা যায় বাম হাতেও দেওয়া হবে পিছন দিক থেকে।
১১

فَسَوۡفَ یَدۡعُوۡا ثُبُوۡرًا ۙ ١١

ফাছাওফা ইয়াদ‘ঊ ছুবূরা-।

সে মৃত্যুকে ডাকবে।
১২

وَّیَصۡلٰی سَعِیۡرًا ؕ ١٢

ওয়া ইয়াসলা-ছা‘ঈরা-।

এবং সে প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে
১৩

اِنَّہٗ کَانَ فِیۡۤ اَہۡلِہٖ مَسۡرُوۡرًا ؕ ١٣

ইন্নাহূকা-না ফীআহলিহী মাছরূরা-।

পূর্বে সে তার পরিবারবর্গের মধ্যে বেশ আনন্দে ছিল।
১৪

اِنَّہٗ ظَنَّ اَنۡ لَّنۡ یَّحُوۡرَ ۚۛ ١٤

ইন্নাহূজান্না আল্লাইঁ ইয়াহূরা।

সে মনে করেছিল, কখনই (আল্লাহর কাছে) ফিরে যাবে না।
১৫

بَلٰۤی ۚۛ  اِنَّ رَبَّہٗ کَانَ بِہٖ بَصِیۡرًا ؕ ١٥

বালা-ইন্না রাব্বাহূকা-না বিহী বাসীরা-।

কেন নয়? নিশ্চয়ই তার প্রতিপালক তার উপর দৃষ্টি রাখছিলেন।
১৬

فَلَاۤ اُقۡسِمُ بِالشَّفَقِ ۙ ١٦

ফালাউকছিমুবিশশাফাক।

আমি শপথ করছি সান্ধ্য-লালিমার
১৭

وَالَّیۡلِ وَمَا وَسَقَ ۙ ١٧

ওয়াল্লাইলি ওয়ামা-ওয়াছাক।

এবং রাতের আর তা যা-কিছুকে জড়িয়ে রাখে তার

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ রাত যেসব বস্তু নিজের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। এখানে সান্ধ্য লালিমা, রাত ও চাঁদের শপথ করা হয়েছে, এসবই আল্লাহ তাআলার হুকুমে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হতে থাকে। এদের শপথ করে বলা হচ্ছে, মানুষও এক মনযিল থেকে অন্য মনযিলে সফর করতে থাকবে। পরিশেষে সে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে গিয়ে মিলিত হবে।
১৮

وَالۡقَمَرِ اِذَا اتَّسَقَ ۙ ١٨

ওয়ালকামারি ইযাত্তাছাক।

এবং চাঁদের, যখন তা ভরাট হয়ে পরিপূর্ণতা লাভ করে,
১৯

لَتَرۡکَبُنَّ طَبَقًا عَنۡ طَبَقٍ ؕ ١٩

লাতারকাবুন্না তাবাকান ‘আন তাবাক।

তোমরা এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে আরোহণ করতে থাকবে।

তাফসীরঃ

৭. মানুষ তার যাপিত জীবনে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে থাকে। শৈশব, যৌবন, পৌড়ত্ব ও বার্ধক্য। তার চিন্তা-ভাবনার মধ্যেও অনবরত পরিবর্তন ঘটতে থাকে। এ সব রকমের ধাপ ও পরিবর্তনই এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত।
২০

فَمَا لَہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ۙ ٢۰

ফামা-লাহুম লা-ইউ’মিনূন।

সুতরাং তাদের কী হল যে, তারা ঈমান আনে না?
২১

وَاِذَا قُرِئَ عَلَیۡہِمُ الۡقُرۡاٰنُ لَا یَسۡجُدُوۡنَ ؕٛ ٢١

ওয়া ইযা-কুরিআ ‘আলাইহিমুল কুরআ-নুলা-ইয়াছজুদূন (ছিজদাহ-১৩)।

এবং যখন তাদের সামনে কুরআন পড়া হয়, তখন সিজদা করে না?

তাফসীরঃ

৮. এটা সিজদার আয়াত। আরবীতে এ আয়াত পড়লে বা শুনলে সিজদা করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
২২

بَلِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا یُکَذِّبُوۡنَ ۫ۖ ٢٢

বালিল্লাযীনা কাফারূইউকাযযিবূন।

বরং কাফেরগণ সত্য প্রত্যাখ্যান করে।
২৩

وَاللّٰہُ اَعۡلَمُ بِمَا یُوۡعُوۡنَ ۫ۖ ٢٣

ওয়াল্লা-হু আ‘লামুবিমা-ইয়ূ‘ঊন।

তারা যা-কিছু জমা করছে আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।

তাফসীরঃ

৯. এর এক অর্থ হল, তারা কর্মের যে পুঁজি সংগ্রহ করছে আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন। দ্বিতীয় অর্থ এটাও হতে পারে যে, তারা তাদের অন্তরে যা গোপন রাখে তাও আল্লাহ তাআলার জানা।
২৪

فَبَشِّرۡہُمۡ بِعَذَابٍ اَلِیۡمٍ ۙ ٢٤

ফাবাশশিরহুম বি‘আযা-বিন আলীম।

সুতরাং তুমি তাদেরকে এক যন্ত্রণাময় শাস্তির সুসংবাদ দাও
২৫

اِلَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَہُمۡ اَجۡرٌ غَیۡرُ مَمۡنُوۡنٍ ٪ ٢٥

ইল্লাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুস সা-লিহা-তি লাহুম আজরুন গাইরু মামনূন।

তবে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারা লাভ করবে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।