সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আত্ ত্বারিক্ব (الـطارق) | রাতের আগন্তুক

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ১৭

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَالسَّمَآءِ وَالطَّارِقِ ۙ ١

ওয়াছ ছামাই ওয়াততা-রিক।

শপথ আকাশের ও রাতের আগমনকারীর।

তাফসীরঃ

১. ‘রাতের আগমনকারী’ এটা ‘তারিক’ -এর তরজমা। এরই দ্বারা সূরার নামকরণ করা হয়েছে। পরের দুই আয়াতে এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, এর দ্বারা উজ্জ্বল নক্ষত্র বোঝানো উদ্দেশ্য; যেহেতু তা রাতের বেলাই দৃষ্টিগোচর হয়। এর শপথ করার পর বলা হয়েছে, এমন কোন মানুষ নেই, যার উপর কোন তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত নেই। নক্ষত্রের শপথ করার তাৎপর্য এই যে, আকাশের নক্ষত্র যেমন পৃথিবীর সর্বত্র থেকে পরিদৃষ্ট হয় এবং পৃথিবীর সবকিছুই তার সামনে থাকে, তেমনি আল্লাহ তাআলা নিজেও প্রতিটি মানুষের প্রতিটি কথা ও কাজ লক্ষ রাখছেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও এ কাজে নিয়োজিত আছে।

وَمَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا الطَّارِقُ ۙ ٢

ওয়া মাআদরা-কা মাত্তা-রিক।

তুমি কি জান রাতের আগমনকারী কী?

النَّجۡمُ الثَّاقِبُ ۙ ٣

আন্নাজমুছছা-কিব।

উজ্জ্বল নক্ষত্র!

اِنۡ کُلُّ نَفۡسٍ لَّمَّا عَلَیۡہَا حَافِظٌ ؕ ٤

ইন কুল্লুনাফছিল লাম্মা-‘আলাইহা-হা-ফিজ।

এমন কোন জীব নেই, যার কোন তত্ত্বাবধানকারী নেই।

فَلۡیَنۡظُرِ الۡاِنۡسَانُ مِمَّ خُلِقَ ؕ ٥

ফালইয়ানযুরিল ইনছা-নুমিম্মা খুলিক।

সুতরাং মানুষ লক্ষ করুক তাকে কিসের দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে।

خُلِقَ مِنۡ مَّآءٍ دَافِقٍ ۙ ٦

খুলিকা মিম্মাইন দা-ফিকি।

তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি দ্বারা।

তাফসীরঃ

২. এর দ্বারা শুক্রবিন্দু বোঝানো হয়েছে, যা দ্বারা মানুষ সৃষ্টি হয়। এ সম্পর্কে যে বলা হয়েছে, ‘মানুষের পৃষ্ঠদেশ ও পঞ্জরাস্থির মধ্য হতে নির্গত হয়’-এর মানে মানবদেহের মধ্যবর্তী অংশই বীর্যের কেন্দ্রস্থল।

یَّخۡرُجُ مِنۡۢ بَیۡنِ الصُّلۡبِ وَالتَّرَآئِبِ ؕ ٧

ইয়াখরুজুমিম বাইনিসসুলবি ওয়াত্তারাইব।

যা পৃষ্ঠদেশ ও পঞ্জরাস্থির মধ্য হতে নির্গত হয়।

اِنَّہٗ عَلٰی رَجۡعِہٖ لَقَادِرٌ ؕ ٨

ইন্নাহূ‘আলা-রাজ‘ইহী লাকা-দির।

নিশ্চয়ই তিনি তাকে পুনর্বার সৃষ্টি করতে সক্ষম।

یَوۡمَ تُبۡلَی السَّرَآئِرُ ۙ ٩

ইয়াওমা তুবলাছ ছারাইর।

যে দিন সমস্ত গোপনীয় বিষয়ের যাচাই-বাছাই হবে।

তাফসীরঃ

৩. অর্থাৎ মানুষের অন্তরস্থ হক-নাহক বিশ্বাস, নিয়তের শুদ্ধাশুদ্ধি এবং সর্বপ্রকার গুপ্ত কথা ও কাজ প্রকাশ করে দেওয়া হবে এবং ভালো ও মন্দকে পৃথক করে ফেলা হবে। -অনুবাদক
১০

فَمَا لَہٗ مِنۡ قُوَّۃٍ وَّلَا نَاصِرٍ ؕ ١۰

ফামা-লাহূমিন কুওওয়াতিওঁ ওয়ালা-না-সির।

সে দিন মানুষের কোন শক্তি থাকবে না এবং কোন সাহায্যকারীও নয়।
১১

وَالسَّمَآءِ ذَاتِ الرَّجۡعِ ۙ ١١

ওয়াছ ছামাই যা-তির রাজ‘ই।

শপথ বৃষ্টিপূর্ণ আকাশের
১২

وَالۡاَرۡضِ ذَاتِ الصَّدۡعِ ۙ ١٢

ওয়াল আরদিযা-তিসসাদ‘ই।

এবং সেই ভূমির যা বিদীর্ণ হয়।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ সেই ভূমির শপথ, যা বৃষ্টিপাতের পর বীজ থেকে অঙ্কুর উদগত করার জন্য ফেটে যায়। বৃষ্টিপাত ও ভূমির বিদীর্ণ হওয়ার শপথ করার দ্বারা ইশারা করা উদ্দেশ্য যে, বৃষ্টির পানি সব জায়গায় সমানভাবে বর্ষিত হয়, কিন্তু সব ভূমিই তা দ্বারা উপকৃত হয় না। তা দ্বারা উপকৃত হয় কেবল সেই ভূমিই যার উর্বরা শক্তি আছে, ফসল ফলানোর যোগ্যতা আছে। এমনিভাবে কুরআন মাজীদও সকলের জন্যই হেদায়েতের বাণী ও পথের দিশারী, কিন্তু এর দ্বারা উপকৃত হয় কেবল এমন লোক, যার অন্তরে সত্য গ্রহণের যোগ্যতা আছে।
১৩

اِنَّہٗ لَقَوۡلٌ فَصۡلٌ ۙ ١٣

ইন্নাহূলাকাওলুন ফাসল।

এটা (অর্থাৎ কুরআন) এক মীমাংসাকারী বাণী।
১৪

وَّمَا ہُوَ بِالۡہَزۡلِ ؕ ١٤

ওয়ামা-হুওয়া বিল হাঝলি।

এবং এটা কোন পরিহাস নয়।
১৫

اِنَّہُمۡ یَکِیۡدُوۡنَ کَیۡدًا ۙ ١٥

ইন্নাহুম ইয়াকীদূনা কাইদাওঁ।

নিশ্চয়ই তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) চাল চালছে
১৬

وَّاَکِیۡدُ کَیۡدًا ۚۖ ١٦

ওয়া আকীদুকাইদা-।

এবং আমিও চাল চালছি।
১৭

فَمَہِّلِ الۡکٰفِرِیۡنَ اَمۡہِلۡہُمۡ رُوَیۡدًا ٪ ١٧

ফামাহহিলিল কা-ফিরীনা আমহিলহুম রুওয়াইদা-।

সুতরাং হে রাসূল! তুমি কাফেরদেরকে অবকাশ দাও। তাদেরকে কিছু কালের জন্য আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত কাফেরদেরকে শাস্তি দেওয়ার সময় আসেনি। কাজেই এখন তাদের আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও। সময় হলে আল্লাহ তাআলা নিজেই তাদেরকে কঠিনভাবে ধরবেন। তখন তারা পালানোর পথ পাবে না।