সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল আ'লা (الأعـلى) | সর্বোন্নত

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ১৯

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

سَبِّحِ اسۡمَ رَبِّکَ الۡاَعۡلَی ۙ ١

ছাব্বিহিছমা রাব্বিকাল আ‘লা-।

তোমার সমুচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা কর।

الَّذِیۡ خَلَقَ فَسَوّٰی ۪ۙ ٢

আল্লাযী খালাকা ফাছওওয়া-।

যিনি (সবকিছু) সৃষ্টি করেছেন ও সুগঠিত করেছেন।

وَالَّذِیۡ قَدَّرَ فَہَدٰی ۪ۙ ٣

ওয়াল্লাযী কাদ্দারা ফাহাদা-।

এবং যিনি (সবকিছুকে এক বিশেষ) পরিমিতি দিয়েছেন, তারপর পথ প্রদর্শন করেছেন।

তাফসীরঃ

১. আল্লাহ তাআলা বিশ্ব জগতের প্রতিটি বস্তুকে এক বিশেষ পরিমাপে সৃষ্টি করেছেন। তারপর প্রত্যেককে দুনিয়ায় তার অবস্থানের জন্য যথোপযোগী পন্থাও শিখিয়ে দিয়েছেন।

وَالَّذِیۡۤ اَخۡرَجَ الۡمَرۡعٰی ۪ۙ ٤

ওয়াল্লাযীআখরাজাল মার‘আ-।

এবং যিনি (ভূমি থেকে সবুজ) তৃণ উদগত করেছেন

فَجَعَلَہٗ غُثَآءً اَحۡوٰی ؕ ٥

ফাজা‘আলাহূগুছাআন আহওয়া-।

তারপর তাকে কালো আবর্জনায় পরিণত করেছেন।

তাফসীরঃ

২. ইশারা করা হয়েছে যে, দুনিয়ার কোন জিনিসের রূপ ও সৌন্দর্য স্থায়ী নয়। প্রতিটি বস্তুই প্রথমে কিছুকাল তার সৌন্দর্যের চমক দেখায়, তারপর তার সৌন্দর্যের ক্রমোবনতি দেখা দেয় এবং এক সময় সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

سَنُقۡرِئُکَ فَلَا تَنۡسٰۤی ۙ ٦

ছানুকরিউকা ফালা-তানছা-।

(হে নবী!) আমি তোমাকে দিয়ে পাঠ করাব, ফলে তুমি ভুলবে না,

اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰہُ ؕ  اِنَّہٗ یَعۡلَمُ الۡجَہۡرَ وَمَا یَخۡفٰی ؕ ٧

ইল্লা-মা-শাআল্লা-হু ইন্নাহূইয়া‘লামুল জাহরা ওয়ামা-ইয়াখফা-।

আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। নিশ্চয়ই তিনি প্রকাশ্য বিষয়াবলীও জানেন এবং গুপ্ত বিষয়াবলীও।

তাফসীরঃ

৩. পাছে কুরআন মাজীদের কোন অংশ ভুলে যান এই চিন্তা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সব সময়ই থাকত। আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে তাঁকে আশ্বস্ত করছেন যে, আমি আপনাকে ভুলতে দেব না। তবে আল্লাহ তাআলা যেসব বিধান রহিত করতে চান, তা আপনি ভুলে যেতে পারেন, যেমন সূরা বাকারায় (২ : ১০৬) বলা হয়েছে।

وَنُیَسِّرُکَ لِلۡیُسۡرٰی ۚۖ ٨

ওয়া নুইয়াছছিরুকা লিল ইউছরা-।

আমি তোমার জন্য সহজ শরীয়ত (-এর অনুসরণ) সোজা করে দেব।

তাফসীরঃ

৪. আল্লাহ তাআলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে শরীয়ত দান করেছেন তা এমনিতেই সহজ। তার অনুসরণ আদৌ কষ্টসাধ্য নয়। তারপরও এ আয়াতে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, আমি তার অনুসরণ আপনার জন্য সহজ করে দেব। [আক্ষরিক অর্থ আমি সহজ বিষয়ের জন্য তোমাকে তাওফীক দেব, দিক-নির্দেশ করব ও সাহায্য করব। সহজ বিষয়টি কী, সে সম্পর্কে বিভিন্ন মত আছে। কেউ বলেন, ইসলামী শরীআত, কেউ বলেন জান্নাত, কেউ বলেন, ওহী মুখস্থকরণ। অথবা এর দ্বারা যাবতীয় কল্যাণকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ সকল সংকট ও অন্তরায়ের অবসান ঘটিয়ে সর্বপ্রকার কল্যাণ অর্জন ও লক্ষে উপনীত হওয়ার পথকে তোমার জন্য সুগম করে দেব। -অনুবাদক]

فَذَکِّرۡ اِنۡ نَّفَعَتِ الذِّکۡرٰی ؕ ٩

ফাযাক্কির ইন নাফা‘আতিযযিকরা-।

সুতরাং তুমি উপদেশ দিতে থাক, যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয়,

তাফসীরঃ

৫. ‘যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয়’ এ কথা বলার কারণ, উপদেশ দান কেবল তখনই অবশ্য কর্তব্য, যখন শ্রোতার পক্ষ হতে গ্রহণ করার সম্ভাবনা থাকে। সে সম্ভাবনা যেখানে বোধ হয় না, সেখানে নসীহত করা জরুরি নয়; বরং বেমওকা নসীহত অনেক সময় ক্ষতির কারণ হয়ে যায়। তাই এটা সকলের কাজও নয়। অবশ্য দীনের জরুরি বিষয়ের তাবলীগ এবং আল্লাহর আযাব সম্পর্কে সতর্কীকরণের ব্যাপারটা ভিন্ন। কেননা আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে প্রমাণ প্রতিষ্ঠা এবং অজ্ঞজনদের অজুহাত দেখানোর পথ বন্ধ করার জন্য সকলের ক্ষেত্রেই তা জরুরি। -অনুবাদক, তাফসীরে উছমানী থেকে সংক্ষেপে
১০

سَیَذَّکَّرُ مَنۡ یَّخۡشٰی ۙ ١۰

ছাইয়াযযাক্কারু মাইঁ ইয়াখশা-।

যার অন্তরে আল্লাহর ভয় আছে সে উপদেশ গ্রহণ করবে।
১১

وَیَتَجَنَّبُہَا الۡاَشۡقَی ۙ ١١

ওয়া ইয়াতাজান্নাবুহাল আশকা-।

আর তা থেকে দূরে থাকবে কেবল সেই, যে চরম হতভাগা।
১২

الَّذِیۡ یَصۡلَی النَّارَ الۡکُبۡرٰی ۚ ١٢

আল্লাযী ইয়াসলান্না-রাল কুবরা-।

যে প্রবেশ করবে সর্ববৃহৎ আগুনে
১৩

ثُمَّ لَا یَمُوۡتُ فِیۡہَا وَلَا یَحۡیٰی ؕ ١٣

ছু ম্মা লা-ইয়ামূতুফীহা-ওয়ালা-ইয়াহইয়া-।

তারপর সে তাতে মরবেও না এবং বাঁচবেও না।

তাফসীরঃ

৬. ‘বাঁচবেও না’ এর মানে জীবিত থাকার যে শান্তি ও আরাম, জাহান্নামে তারা তা কখনওই পাবে না। কাজেই বেঁচেও তা না বাঁচাই বটে।
১৪

قَدۡ اَفۡلَحَ مَنۡ تَزَکّٰی ۙ ١٤

কাদ আফলাহা মান তাঝাকা-।

সফলতা অর্জন করেছে সেই, যে পবিত্রতা অবলম্বন করেছে।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ অন্তঃকরণকে কুফর ও শিরক থেকে, আমলকে রিয়া ও প্রদর্শনেচ্ছা থেকে এবং আখলাক-চরিত্রকে সকল অবগুণ থেকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করেছে। -অনুবাদক
১৫

وَذَکَرَ اسۡمَ رَبِّہٖ فَصَلّٰی ؕ ١٥

ওয়া যাকারাছমা রাব্বিহী ফাসাল্লা-।

এবং নিজ প্রতিপালকের নাম নিয়েছে ও নামায পড়েছে।
১৬

بَلۡ تُؤۡثِرُوۡنَ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا ۫ۖ ١٦

বাল তু’ছিরূনাল হায়া-তাদ্দুনইয়া-।

কিন্তু তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও
১৭

وَالۡاٰخِرَۃُ خَیۡرٌ وَّاَبۡقٰی ؕ ١٧

ওয়াল আ-খিরাতুখাইরুওঁ ওয়া আবকা-।

অথচ আখেরাত কত বেশি উৎকৃষ্ট ও কত বেশি স্থায়ী।
১৮

اِنَّ ہٰذَا لَفِی الصُّحُفِ الۡاُوۡلٰی ۙ ١٨

ইন্না হা-যা-লাফিসসুহুফিল উলা-।

নিশ্চয়ই এ কথা পূর্ববর্তী (আসমানী) গ্রন্থসমূহেও লিপিবদ্ধ আছে
১৯

صُحُفِ اِبۡرٰہِیۡمَ وَمُوۡسٰی ٪ ١٩

সুহুফি ইবরা-হীমা ওয়া মূছা।

ইবরাহীম ও মূসার গ্রন্থসমূহে।
সূরা আল আ'লা | মুসলিম বাংলা