সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল গাশিয়াহ্‌ (الغاشـيـة) | আল গাশিয়াহ্‌ 

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ২৬

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ہَلۡ اَتٰىکَ حَدِیۡثُ الۡغَاشِیَۃِ ؕ ١

হাল আতা-কা হাদীছুল গা-শিয়াহ।

তোমার কাছে কি পৌঁছেছে সেই ঘটনার সংবাদ, যা সবকিছুকে আচ্ছন্ন করবে?

তাফসীরঃ

১. ‘যে ঘটনা সকলকে আচ্ছন্ন করবে’ এটা ‘গাশিয়া’-এর তরজমা। এর মানে কিয়ামত। এ শব্দ থেকেই সূরাটির নাম হয়েছে সূরা ‘গাশিয়া’।

وُجُوۡہٌ یَّوۡمَئِذٍ خَاشِعَۃٌ ۙ ٢

উজূহুইঁ ইয়াওমাইযিন খা-শি‘আহ।

সে দিন বহু চেহারা থাকবে অবনত

عَامِلَۃٌ نَّاصِبَۃٌ ۙ ٣

‘আ-মিলাতুন না-সিবাহ।

বিপর্যস্ত, ক্লান্ত।

تَصۡلٰی نَارًا حَامِیَۃً ۙ ٤

তাসলা-না-রান হা-মিয়াহ।

তারা প্রবেশ করবে জ্বলন্ত আগুনে।

تُسۡقٰی مِنۡ عَیۡنٍ اٰنِیَۃٍ ؕ ٥

তুছকা-মিন ‘আইনিন আ-নিয়াহ।

তাদেরকে টগবগে গরম প্রস্রবণ হতে পানি পান করানো হবে।

لَیۡسَ لَہُمۡ طَعَامٌ اِلَّا مِنۡ ضَرِیۡعٍ ۙ ٦

লাইছা লাহুম তা‘আ-মুন ইল্লা-মিন দারী‘ই।

তাদের জন্য কণ্টকিত গুল্ম ছাড়া কোন খাদ্য থাকবে না।

لَّا یُسۡمِنُ وَلَا یُغۡنِیۡ مِنۡ جُوۡعٍ ؕ ٧

লা-ইউছমিনুওয়ালা-ইউগনী মিন জু‘ই।

যা তাদের পুষ্টি যোগাবে না এবং তাদের ক্ষুধাও মিটাবে না।

وُجُوۡہٌ یَّوۡمَئِذٍ نَّاعِمَۃٌ ۙ ٨

উজূহুইঁ ইয়াওমাইযিন না-‘ইমাহ।

সে দিন বহু চেহারা থাকবে সজীব।

لِّسَعۡیِہَا رَاضِیَۃٌ ۙ ٩

লিছা‘ইহা-রা-দিয়াহ।

(দুনিয়ায়) নিজেদের কৃত শ্রমের কারণে সন্তুষ্ট
১০

فِیۡ جَنَّۃٍ عَالِیَۃٍ ۙ ١۰

ফী জান্নাতিন ‘আ-লিয়াহ।

তারা থাকবে আলিশান জান্নাতে
১১

لَّا تَسۡمَعُ فِیۡہَا لَاغِیَۃً ؕ ١١

লা-তাছমা‘উ ফীহা-লা-গিয়াহ।

যেখানে তারা কোন নিরর্থক কথা শুনবে না।
১২

فِیۡہَا عَیۡنٌ جَارِیَۃٌ ۘ ١٢

ফীহা-‘আইনুন জা-রিয়াহ।

সে জান্নাতে থাকবে বহমান প্রস্রবণ।
১৩

فِیۡہَا سُرُرٌ مَّرۡفُوۡعَۃٌ ۙ ١٣

ফীহা-ছুরুরুমমারফূ‘আহ।

তাতে উঁচু-উঁচু আসন থাকবে।
১৪

وَّاَکۡوَابٌ مَّوۡضُوۡعَۃٌ ۙ ١٤

ওয়া আকওয়া-বুম মাওদূ‘আহ।

সামনে রাখা থাকবে পান-পাত্র
১৫

وَّنَمَارِقُ مَصۡفُوۡفَۃٌ ۙ ١٥

ওয়া নামা-রিকুমাসফূফাহ।

এবং সারি-সারি নরম বালিশ
১৬

وَّزَرَابِیُّ مَبۡثُوۡثَۃٌ ؕ ١٦

ওয়া ঝারা-বিইয়ুমাবছূছাহ।

এবং বিছানো গালিচা।
১৭

اَفَلَا یَنۡظُرُوۡنَ اِلَی الۡاِبِلِ کَیۡفَ خُلِقَتۡ ٝ ١٧

আফালা-ইয়ানজু রুনা ইলাল ইবিলি কাইফা খুলিকাত।

তবে কি তারা লক্ষ করে না উটের প্রতি, কিভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে।

তাফসীরঃ

২. আরবের মানুষ সাধারণত উটে চড়ে মরুভূমিতে চলাফেরা করে। উট-সৃষ্টিতে আল্লাহ তাআলার কুদরতের যে কারিশমা বিদ্যমান এবং অন্যান্য জীব থেকে তার যে আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে, সে সম্পর্কে তারা ওয়াকিফহাল ছিল। তাছাড়া উটে চড়ে চলাফেরার সময় তারা আসমান-যমীন ও পাহাড়-পর্বত দেখতে পেত। তাই আল্লাহ তাআলা বলছেন, তারা যদি তাদের আশপাশের বস্তু রাজিতে চোখ বুলায়, তাহলেই তারা বুঝতে সক্ষম হবে, যেই মহান সত্তা জগতের এসব বিস্ময়কর বস্তু সৃষ্টি করেছেন, নিজ প্রভুত্বে তার কোন অংশীদারের প্রয়োজন নেই, তারা আরও বুঝতে পারবে, যেই আল্লাহ বিশ্বজগতের এতসব বিশাল-বিপুলায়তন বস্তু সৃষ্টি করতে সক্ষম, তিনি অবশ্যই মানুষকে তাদের মৃত্যুর পর নতুন জীবন দান করতে ও তাদের কার্যাবলীর হিসাব নিতেও সক্ষম হবেন। বস্তুত বিশ্বজগতের এই মহাকারখানা আল্লাহ তাআলা এমনি-এমনিই সৃষ্টি করেননি। বরং এর পেছনে আল্লাহ তাআলার এক উদ্দেশ্য আছে, আর তা হল নেককারদেরকে তাদের নেক কাজের জন্য পুরস্কৃত করা এবং বদকারদেরকে তাদের বদ কাজের জন্য শাস্তি দেওয়া।
১৮

وَاِلَی السَّمَآءِ کَیۡفَ رُفِعَتۡ ٝ ١٨

ওয়া ইলাছ ছামাই কাইফা রুফি‘আত।

এবং আকাশের প্রতি, কিভাবে তাকে উঁচু করা হয়েছে?
১৯

وَاِلَی الۡجِبَالِ کَیۡفَ نُصِبَتۡ ٝ ١٩

ওয়া ইলাল জিবা-লি কাইফা নুসিবাত।

এবং পাহাড়সমূহের প্রতি, কিভাবে তাকে প্রোথিত করা হয়েছে?
২০

وَاِلَی الۡاَرۡضِ کَیۡفَ سُطِحَتۡ ٝ ٢۰

ওয়া ইলাল আরদি কাইফা ছুতিহাত।

এবং ভূমির প্রতি, কিভাবে তা বিছানো হয়েছে?
২১

فَذَکِّرۡ ۟ؕ  اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مُذَکِّرٌ ؕ ٢١

ফাযাক্কির ইন্নামাআনতা মুযাক্কির।

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি উপদেশ দিতে থাক, তুমি তো একজন উপদেশদাতাই।
২২

لَسۡتَ عَلَیۡہِمۡ بِمُصَۜیۡطِرٍ ۙ ٢٢

লাছাতা ‘আলইহিম বিমুসাইতির।

তোমাকে তাদের উপর জবরদস্তি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

তাফসীরঃ

৩. কাফেরদের গোঁয়ার্তুমির কারণে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কষ্ট পেতেন, তার জন্য তাঁকে সান্তনা দেওয়া হয়েছে যে, কেবল তাবলীগ দ্বারাই আপনার দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। তাদেরকে জোর করে মুসলিম বানানো আপনার দায়িত্ব না। প্রত্যেক মুবাল্লিগ ও সত্যের প্রচারকের জন্য এর ভেতর এই মূলনীতি রয়েছে যে, তার উচিত তাবলীগের দায়িত্ব আদায়ে রত থাকা। কাউকে জোরপূর্বক মানানোর দায়িত্ব তার নয়।
২৩

اِلَّا مَنۡ تَوَلّٰی وَکَفَرَ ۙ ٢٣

ইল্লা-মান তাওয়াল্লা-ওয়া কাফার।

তবে কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলে ও কুফর অবলম্বন করলে
২৪

فَیُعَذِّبُہُ اللّٰہُ الۡعَذَابَ الۡاَکۡبَرَ ؕ ٢٤

ফাইউ‘আযযিবুহুল্লা-হুল ‘আযা-বাল আকবার।

আল্লাহ তাকে মহা শাস্তি দান করবেন।
২৫

اِنَّ اِلَیۡنَاۤ اِیَابَہُمۡ ۙ ٢٥

ইন্না ইলাইনাইয়া-বাহুম।

নিশ্চয়ই তাদের সকলকে আমারই কাছে ফিরে আসতে হবে।
২৬

ثُمَّ اِنَّ عَلَیۡنَا حِسَابَہُمۡ ٪ ٢٦

ছু ম্মা ইন্না ‘আলাইনা-হিছা-বাহুম।

অতঃপর তাদের হিসাব গ্রহণ অবশ্যই আমার দায়িত্ব।