সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল লাইল (اللـيـل) | রাত্রি

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ২১

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَالَّیۡلِ اِذَا یَغۡشٰی ۙ ١

ওয়াল্লাইলি ইযা-ইয়াগশা-।

শপথ রাতের, যখন তা আচ্ছন্ন করে।

وَالنَّہَارِ اِذَا تَجَلّٰی ۙ ٢

ওয়ান্নাহা-রি ইযা-তাজাল্লা-।

এবং দিনের, যখন তা উদ্ভাসিত হয়।

وَمَا خَلَقَ الذَّکَرَ وَالۡاُنۡثٰۤی ۙ ٣

ওয়ামা-খালাকায যাকারা ওয়াল উনছা।

এবং সেই সত্তার, যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন।

اِنَّ سَعۡیَکُمۡ لَشَتّٰی ؕ ٤

ইন্না ছা‘ইয়াকুম লাশাত্তা-।

বস্তুত তোমাদের প্রচেষ্টা বিভিন্ন রকমের

তাফসীরঃ

১. প্রচেষ্টা দ্বারা মানুষের আমল বোঝানো হয়েছে, অর্থাৎ মানুষের কর্ম বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে; কিছু ভালো, কিছু মন্দ। আবার এর ফলাফলও হয় বিভিন্ন রকম, যেমন সামনে আসছে। এ কথাটি বলার জন্য যে রাত ও দিনের শপথ করা হয়েছে, এর তাৎপর্য হয়ত এই যে, যেভাবে রাত ও দিনের ফলাফল বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে, তেমনি পাপ ও পুণ্যের ফলও বিভিন্ন রকম। এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা নর ও নারীর বৈশিষ্ট্যাবলীতে যেমন পার্থক্য করেছেন, তেমনি মানুষের কর্মের বৈশিষ্ট্যেও পার্থক্য আছে।

فَاَمَّا مَنۡ اَعۡطٰی وَاتَّقٰی ۙ ٥

ফাআম্মা-মান আ‘তা-ওয়াত্তাকা-।

সুতরাং যে ব্যক্তি (আল্লাহর পথে অর্থ-সম্পদ) দান করেছে ও তাকওয়া অবলম্বন করেছে

وَصَدَّقَ بِالۡحُسۡنٰی ۙ ٦

ওয়া সাদ্দাকা বিলহুছনা-।

এবং সর্বোত্তম বিষয় মনে-প্রাণে স্বীকার করে নিয়েছে,

তাফসীরঃ

২. ‘সর্বাপেক্ষা উত্তম বিষয়’ হল ইসলাম এবং এর ফলে প্রাপ্তব্য জান্নাত।

فَسَنُیَسِّرُہٗ لِلۡیُسۡرٰی ؕ ٧

ফাছানুইয়াছছিরুহূলিল ইউছরা-।

আমি তাকে স্বস্তিময় গন্তব্যে পৌঁছার ব্যবস্থা করে দেব

তাফসীরঃ

৩. ‘স্বস্তিময় গন্তব্য’ বলে জান্নাত বোঝানো উদ্দেশ্য। কেননা প্রকৃত সুখ, শান্তি ও আরামের জায়গা সেটাই। দুনিয়ায় যে-কোন আরামের সাথে কোনও না কোনও কষ্ট থাকে। ‘ব্যবস্থা করে দেওয়া’ -এর অর্থ, আল্লাহ তাআলা এমন আমলের তাওফীক দেবেন, যার বদৌলতে জান্নাতে পৌঁছা যাবে। প্রকাশ থাকে যে, কুরআন মাজীদে ব্যবহৃত نُيَسِّرُه শব্দের অর্থ যে করা হয়েছে ‘ব্যবস্থা করে দেওয়া’, তা করা হয়েছে আল্লামা আলুসী (রহ.)-এর ব্যাখ্যার অনুসরণে। দেখুন (রূহুল মাআনী, ৩০:৫১২)।

وَاَمَّا مَنۡۢ بَخِلَ وَاسۡتَغۡنٰی ۙ ٨

ওয়া আম্মা-মাম বাখিলা ওয়াছতাগনা-।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কৃপণতা করল এবং (আল্লাহর প্রতি) বেপরোয়াভাব দেখাল

وَکَذَّبَ بِالۡحُسۡنٰی ۙ ٩

ওয়া কাযযাবা বিল হুছনা-।

এবং সর্বোত্তম বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করল।
১০

فَسَنُیَسِّرُہٗ لِلۡعُسۡرٰی ؕ ١۰

ফাছানুইয়াছছিরুহূলিল‘উছরা-।

আমি তার যাতনাময় স্থানে পৌঁছার ব্যবস্থা করে দেব।

তাফসীরঃ

৪. ‘যাতনাময় স্থান’ দ্বারা জাহান্নাম বোঝানো হয়েছে। কেননা প্রকৃত কষ্ট সেখানেই। সেখানে পৌঁছার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অর্থ যেসব গুনাহ করলে জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যায়, সেগুলো করার অবকাশ দেওয়া এবং সৎকাজের তাওফীক না দেওয়া। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে এ ভয়ানক পরিণাম থেকে রক্ষা করুন।
১১

وَمَا یُغۡنِیۡ عَنۡہُ مَالُہٗۤ اِذَا تَرَدّٰی ؕ ١١

ওয়ামা-ইউগনী ‘আনহু মা-লুহূইযা-তারাদ্দা-।

সে যখন ধ্বংস-গহ্বরে পতিত হবে, তখন তার সম্পদ তার কোন কাজে আসবে না।
১২

اِنَّ عَلَیۡنَا لَلۡہُدٰی ۫ۖ ١٢

ইন্না ‘আলাইনা-লালহুদা-।

বস্তুত, পথ দেখিয়ে দেওয়া আমারই দায়িত্ব
১৩

وَاِنَّ لَنَا لَلۡاٰخِرَۃَ وَالۡاُوۡلٰی ١٣

ওয়া ইন্না লানা-লালআ-খিরাতা ওয়ালঊলা-।

এবং অবশ্যই, আখেরাত ও দুনিয়া আমারই কর্তৃত্বাধীন।

তাফসীরঃ

৫. সুতরাং আমারই এ অধিকার আছে যে, মানুষের প্রতি বিধি-বিধান আরোপ করব, যা দুনিয়ার জীবনে মেনে চলতে তারা বাধ্য থাকবে। যারা তা মানবে আখেরাতে তাদেরকে পুরস্কৃত করব আর যারা অমান্য করবে তাদেরকে শাস্তি দান করব।
১৪

فَاَنۡذَرۡتُکُمۡ نَارًا تَلَظّٰی ۚ ١٤

ফাআনযারতুকুম না-রান তালাজ্জা-।

অতএব আমি তোমাদেরকে সতর্ক করে দিলাম এক লেলিহান আগুন সম্পর্কে।
১৫

لَا یَصۡلٰىہَاۤ اِلَّا الۡاَشۡقَی ۙ ١٥

লা-ইয়াসলা-হাইল্লাল আশকা-

তাতে প্রবেশ করবে কেবল সেই, যে নিতান্ত হতভাগ্য
১৬

الَّذِیۡ کَذَّبَ وَتَوَلّٰی ؕ ١٦

আল্লাযী কাযযাবা ওয়া তাওয়াল্লা-।

যে সত্য প্রত্যাখ্যান করেছে ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
১৭

وَسَیُجَنَّبُہَا الۡاَتۡقَی ۙ ١٧

ওয়া ছাইউজান্নাবুহাল আতকা-।

এবং তা থেকে দূরে রাখা হবে পরম মুত্তাকীকে
১৮

الَّذِیۡ یُؤۡتِیۡ مَالَہٗ یَتَزَکّٰی ۚ ١٨

আল্লাযী ইউ’তী মা-লাহূইয়াতাঝাক্কা-।

যে আত্মশুদ্ধি অর্জনের জন্য নিজ সম্পদ (আল্লাহর পথে) দান করে

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার পথে তারা যা-কিছু ব্যয় করে, তাতে তাদের উদ্দেশ্য মানুষকে দেখানো নয়; বরং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করাই হয়ে থাকে। এরূপ দান-খয়রাতের ফলে মানুষের আত্মশুদ্ধি লাভ হয় ও আখলাক-চরিত্র পরিশুদ্ধ হয়। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, এ আয়াতসমূহ হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযি.)-এর প্রশংসায় নাযিল হয়েছে। তিনি আল্লাহ তাআলার পথে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতেন। অবশ্য আয়াতের শব্দাবলী সাধারণ। সুতরাং যারা আয়াতে বর্ণিত গুণাবলী অর্জন করবে, তাদের প্রত্যেকের জন্যই এর সুসংবাদ প্রযোজ্য।
১৯

وَمَا لِاَحَدٍ عِنۡدَہٗ مِنۡ نِّعۡمَۃٍ تُجۡزٰۤی ۙ ١٩

ওয়ামা-লিআহাদিন ‘ইনদাহূমিন নি‘মাতিন তুজঝা।

অথচ তার উপর কারও অনুগ্রহ ছিল না, যার প্রতিদান দিতে হত,
২০

اِلَّا ابۡتِغَآءَ وَجۡہِ رَبِّہِ الۡاَعۡلٰی ۚ ٢۰

ইল্লাবতিগাআ ওয়াজহি রাব্বিহিল আ‘লা-।

বরং সে (দান করে) কেবল তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টির প্রত্যাশায়।
২১

وَلَسَوۡفَ یَرۡضٰی ٪ ٢١

ওয়া লাছাওফা ইয়ারদা-।

নিশ্চয়ই সে অচিরেই খুশী হয়ে যাবে।

তাফসীরঃ

৭. এই সংক্ষিপ্ত বাক্যটির মধ্যে নি‘আমতের এক জগৎ লুকায়িত আছে। বলা হয়েছে যে, এরূপ ব্যক্তি জান্নাতে নিজ আমলের এমন পুরস্কার লাভ করবে, যা দ্বারা সে যথার্থভাবে খুশী হয়ে যাবে।