সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল ইনশিরাহ (الـشرح) | বক্ষ প্রশস্তকরণ

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اَلَمۡ نَشۡرَحۡ لَکَ صَدۡرَکَ ۙ ١

আলাম নাশরাহলাকা সাদরাক।

(হে রাসূল!) আমি কি তোমার কল্যাণে তোমার বক্ষ খুলে দেইনি?

তাফসীরঃ

১. ‘বক্ষ খোলা’-এর অর্থ মন ও মননের সম্প্রসারণ অর্থাৎ ঈমান ও হিদায়াতের আলোয় অন্তঃকরণকে আলোকিত করা, অন্তর্দৃষ্টির সামনে জ্ঞান-প্রজ্ঞার জগতকে উন্মোচিত করা এবং সর্বপ্রকার কুণ্ঠা ও সংকীর্ণতার অবসান ঘটিয়ে অন্তরে হিম্মত ও উদারতা প্রভৃতি মহৎ গুণের বিকাশ ঘটানো। -অনুবাদক

وَوَضَعۡنَا عَنۡکَ وِزۡرَکَ ۙ ٢

ওয়া ওয়াদা‘না-‘আনকা বিঝরাক

এবং আমি তোমার থেকে অপসারণ করেছি সেই ভার

الَّذِیۡۤ اَنۡقَضَ ظَہۡرَکَ ۙ ٣

আল্লাযীআনকাদা জাহরাক।

যা তোমার পিঠ ভেঙ্গে দিচ্ছিল

তাফসীরঃ

২. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর যখন নবুওয়াতের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়, তখন প্রথম দিকে তাঁর কাছে এটি এক সুকঠিন বোঝা মনে হচ্ছিল এবং এর চাপে তিনি সর্বক্ষণ অস্থির থাকতেন, ‘পিঠ ভাঙ্গা’ দ্বারা সেই গুরুভারজনিত কষ্ট ও অস্থিরতা বোঝানো হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাকে এমনই হিম্মত দান করেন যে, যত বড় কঠিন কাজই হোক না কেন তা তার কাছে সহজ মনে হতে লাগল। ফলে অত্যন্ত ধীর-স্থিরভাবে তা সম্পাদন করতে পারতেন। এ অনুগ্রহের কথাই এ সূরায় স্মরণ করানো হয়েছে।

وَرَفَعۡنَا لَکَ ذِکۡرَکَ ؕ ٤

ওয়া রাফা‘না-লাকা যিকরাক।

এবং আমি তোমার কল্যাণে তোমার চর্চাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছি।

তাফসীরঃ

৩. আল্লাহ তাআলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুবারক নামের অতি উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন। দুনিয়ার এমন কোন অঞ্চল নেই, যেখানে তাঁর নামের ধ্বনি শোনা যায় না। প্রতিটি মসজিদে রোজ পাঁচবার আল্লাহ তাআলার নামের সঙ্গে তাঁর নামও উচ্চারিত হয়। তাছাড়া সারা দুনিয়ায় অত্যন্ত ভক্তি-শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে আলোচনা হয়ে থাকে এবং এ আলোচনাকে অতি উচ্চ স্তরের ইবাদত গণ্য করা হয়ে থাকে। সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলা আলিহী ওয়া আসহাবিহী ওয়া বারাকা ওয়া সাল্লাম।

فَاِنَّ مَعَ الۡعُسۡرِ یُسۡرًا ۙ ٥

ফাইন্না মা‘আল ‘উছরি ইউছরা-।

প্রকৃতপক্ষে কষ্টের সাথে স্বস্তিও থাকে।

اِنَّ مَعَ الۡعُسۡرِ یُسۡرًا ؕ ٦

ইন্না মা‘আল ‘উছরি ইউছরা-।

নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তিও থাকে

তাফসীরঃ

৪. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দেওয়া হচ্ছে যে, রিসালাতের দায়িত্ব পালনে এ যাবৎ যে কষ্ট-ক্লেশের সম্মুখীন হতে হয়েছে, অচিরেই তার অবসান হবে এবং দায়িত্ব পালনের পথ সুগম হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে সমস্ত মানুষকে মূলনীতি হিসেবে একটি বাস্তবতার শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে যে, দুনিয়ায় কোন কষ্ট-ক্লেশ দেখা দিলে বুঝতে হবে তার পর স্বস্তির সময়ও আসবে।

فَاِذَا فَرَغۡتَ فَانۡصَبۡ ۙ ٧

ফাইযা-ফারাগতা ফানসাব।

সুতরাং তুমি যখন অবসর পাও, তখন (ইবাদতে) নিজেকে পরিশ্রান্ত কর।

তাফসীরঃ

৫. বলাবাহুল্য, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল প্রচেষ্টা ও ব্যস্ততা দীনকে কেন্দ্র করেই ছিল। তাবলীগ, তালীম, জিহাদ, প্রশাসন ইত্যাদি সমস্ত কাজই দীনের জন্যই হত এবং এ কারণে তাঁর সব কাজ ইবাদতেরও মর্যাদা রাখত। কিন্তু তা সত্ত্বেও বলা হচ্ছে, আপনি যখন এসব কাজ শেষে অবসর পাবেন, তখন খালেস ইবাদত, যেমন নফল নামায, মৌখিক যিকির ইত্যাদি এ পরিমাণ করবেন, যাতে দেহ ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এর দ্বারা বোঝা গেল, যারা দীনের খেদমতে নিয়োজিত আছে, তাদেরও কিছুটা সময় খালেস নফল ইবাদতের জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত। এর দ্বারাই আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় ও ঘনিষ্ঠ হয় এবং এর দ্বারাই অন্যান্য দীনী কাজে বরকত সৃষ্টি হয়।

وَاِلٰی رَبِّکَ فَارۡغَبۡ ٪ ٨

ওয়া ইলা- রাব্বিকা ফারগাব।

এবং নিজ প্রতিপালকের প্রতিই মনোযোগী হও।