প্রবন্ধ
লালনের মাজারই কাবা! বাউল মতবাদ! পর্ব—২১
৯ জানুয়ারী, ২০২৬
১৩৮৩
০
লালন একাডেমীর সাবেক পরিচালত ডক্টর আনোয়ারুল করীম লিখেছেন—
এরা লালন ফকিরকে নবী হিসাবে দাবী করে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কুষ্টিয়া কোর্টে মামলা করেছে। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট অভিযোগ পেশ করা লালনভক্তদের মূখপাত্র হয়ে জনৈক মন্টু শাহ যা বলেন....সাঁইজির মাজার আমাদের তীর্থভূমি (কাবা)। [দ্রঃ সুধীর চক্রবর্তী, ব্রাত্য লোকায়ত লালন, ২য় সংস্করণ, আগস্ট ১৯৯৮ পৃঃ ৪-৯৫] —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ২৩)
প্রত্যেক বাউলকে মাজারে ‘নজরানা' দিতে হয়। এটা তাদের ধর্মের অঙ্গ। প্রতি বাউল-গুরুই শিষ্য এবং অনুসারীদের কাছ থেকে 'নজরানা' পেয়ে থাকে। আমার জানামতে বেশ কয়েকজন বাউল-গুরু এবং তাদের স্ত্রীকে কয়েক লক্ষ টাকার সম্পত্তির মালিক হতে দেখেছি। এর ফলে বাউল-গুরুদের তেমন কোনো আর্থিক অসচ্ছলতা থাকে না। —বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ২১
লালন শাহের মাজারেও অনেকে মানৎ করে থাকে। —বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ৪১০
কেউ কেউ তাদের সন্তান-সন্ততির অসুখে লালন মাজারের মাটি গায়ে মাখিয়ে দেয়। —বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ৪১০
অর্থাৎ বাউলরা লালনের মাজারকে ‘কাবা’ বলে বিশ্বাস করে। অথচ পবিত্র কাবা শরীফ একমাত্র আল্লাহ তাআলার ঘর। সেই কাবাকে উপেক্ষা করে লালনের মাজারকে কাবা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা কোনো মুসলমানের পক্ষেই বরদাশতযোগ্য হতে পারে না। তদুপরি, লালন নিজে ছিল ধর্মহীন এবং চরম পর্যায়ের ইসলামবিদ্বেষী। তার এই ধর্মহীন মানসিকতার প্রমাণ তার গানেই স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। দেখুন সে যে ধর্মহীন ছিল, তা তার নিজস্ব রচনাতেই ফুটে উঠেছে—
সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে,
লালন বলে জেতের কী রূপ দেখলাম না এ নজরে। জগৎ বেড়ে জেতের কথা লোকে গৌরব করে যথাতথা, লালন সে জেতের ফাতা ডুবায়েছে (বিকায়েছে) সাধ বাজারে। —(বাউলসাধনা, পৃ. ৩১)
বাউল সম্প্রদায় লিখেছে—
অধার্মিকতা বা ধর্ম নিরপেক্ষতাই মানবের বন্ধনমুক্তির একক উপায়—এটাই লালনদর্শনের মূল প্রতিপাদ্য। যাঁরা অধার্মিক তাঁরা 'লা শেরেক' এবং পরিপূর্ণ ধর্মশূন্য বা ধর্ম নিরপেক্ষ। They Know THE NOT। কেবল তাঁদের শিক্ষাকে (The School of Great No) গ্রহণ করতে পারলেই মানব সমাজের সত্যিকার কল্যাণসাধন আশা করা যায়। আদিতেও এর কোনো বিকল্প ছিল না। আজও নেই এবং অনাগতকালেও থাকবে না। এ মহাসত্যই লালনদর্শনের সারবস্তু। —(লালনদর্শন, পৃ. ১০৪)
বুঝে নেওয়া যায়—লালন কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসরণ করত না; শুধু তাই নয়, বরং তার মধ্যে চরম পর্যায়ের ইসলামবিদ্বেষী মনোভাবও বিদ্যমান ছিল। দেখুন—
জাত না গেলে পাইনে হরি
কী ছার জাতের গৌরব করি
ছুঁসলে বলিয়ে লালন কয় জাত (ধর্ম) হাতে পেলে, পুড়াতাম আগুন দিয়ে। —(মহাত্মা লালন, পৃ. ১১৮)
প্রিয় পাঠক, এত বড় বেঈমান ও ইসলামবিদ্বেষীর মাজারকে ‘কাবা’ মনে করা, সেখানে নজরানা দেওয়া, মাজারের মাটি বরকত হিসেবে গ্রহণ করা—এই ধরনের কাজ কি কোনো সুস্থ, বিবেকবান মানুষের কল্পনাতেও ধারণযোগ্য? আর যদি এমন হয় যে কোনো খাঁটি বুযুর্গের নামের সঙ্গে মান্নত শিরক হিসেবে গণ্য হয়, তাহলে কি সেই একই আচরণ একজন ধর্মদ্রোহী ও বেঈমানের মাজারে করার যোগ্য? সত্য বলতে, ধর্মের নামে এই অধার্মিকতা ঈমানকে ধ্বংস করে। তাই আমাদের প্রতিটি মুসলমানের জন্য জরুরি—এ বিষয়ে সম্পূর্ণ জাগ্রত থাকা, বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থাকা এবং নিজের অন্তরকে আল্লাহর পথে স্থির রাখা।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
ঝাড়ফুঁক-তাবীয : একটি দালীলিক বিশ্লেষণ (১ম পর্ব)
...
বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির কবলে শাবান ও শবে বরাত
এতদিন পর্যন্ত শবে বরাতকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর মানুষ বাড়াবাড়িতে লিপ্ত ছিল। তারা এ রাতটি উপলক্ষে ন...
ঝাড়ফুঁক-তাবীয : একটি দালীলিক বিশ্লেষণ (৩য় পর্ব)
...
শবে বরাত বিষয়ক ভিত্তিহীন যত রেওয়ায়েত এবং বর্জনীয় প্রথা
হাদীস শরীফে শবে বরাতঃ শবে বরাত সম্পর্কেও আছে চিন্তাগত ও কর্মগত প্রান্তিকতা। সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ কথা...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন