দ্বীন ধারনে অন্তরের পবিত্রতা
দ্বীন ধারনে অন্তরের পবিত্রতা
কোনো পাত্র যখন কিছু ধারণ করে তাকে ظرف (যরফ) বলে।
আর যাকে ধারণ করে তাকে مظروف (মাযরুফ) বলে।
তো পাত্র আর পাত্র যেটাকে ধারণ করে, এ দুটোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।
এতবেশি সম্পর্ক যে, কখনো একটির জন্য আরেকটির নাম ব্যবহার করা হয়।
অনেক সময় স্টেশন ইত্যাদিতে যারা চা বিক্রি করে, তাদের নিকট যখন চা চাওয়া হয়, তখন ‘চা’ না বলে বলে আমাকে এক ‘পেয়ালা’ দিন।
পেয়ালা বলছে অথচ এটি চা। সেও বুঝে যে, এখানে পেয়ালা মানে চা।
আর যিনি বলছেন, তিনিও পেয়ালা শব্দকে ব্যবহার করছেন চায়ের জন্যে আর বিক্রেতাও ঠিকঠাক বুঝতে পারছে।
কারণ, পাত্র এবং পাত্র যা ধারণ করে, এ দুটোর মধ্যে এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক যে, একটির সাথে আরেকটি মিলে যায়।
আল্লাহ তাআলা দ্বীন দিয়েছেন এবং এই দ্বীন যে ধারণ করে, তাদের উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক আছে।
আর দ্বীন যেরকম পাক, যে ধারণ করে তার মধ্যে যদি ওরকম সিফাতগুলো না থাকে, তাহলে ওখান থেকে যা বের হবে সেটি দ্বীন নয়।
ذلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيْهِ-‘এই কিতাবের মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই।
’ যে এই কিতাবটি নিচ্ছে, তার মনেও যেন কোনো সন্দেহ না থাকে। সে যদি সন্দেহ করে, তাহলে কিতাব যে শুদ্ধ, নিশ্চিত; কিন্তু ওই ব্যক্তি যখন এই কিতাবকে বের করবে, তার থেকে সন্দেহসহ বের হবে।
সে জন্যে আল্লাহ তাআলা দ্বীন দেওয়ার সময় ওই মাত্রায় দ্বীন দেন, যেটুকু বহন করতে সে প্রস্তুত। নিজের মধ্যে যে মাকাম ও নিশ্চয়তা সে অর্জন করতে পারবে, আল্লাহ তাআলা দ্বীনের হাকিকত তাকে ওই মাত্রায় দিয়ে থাকেন।
আল্লাহ তাআলার কথার মধ্যে ওজন আছে। ইরশাদ করেছেন :
إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا ○
অর্থ : ‘আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি ভারী (গুরুত্বপূর্ণ) বাণী।’
বড় ভারী কথা। এই ভারীকে যে বহন করতে পারবে, তাকেই দেওয়া হবে। অন্যথায় ধ্বসে যাবে, বহন করতে পারবে না।
সম্ভবত বাকীবিল্লাহ রহ.-এর ঘটনা... একজন মেহমান এসেছেন। সব যামানার আল্লাহওয়ালাদের সিফাত যে, তাদের কাছে মেহমান আসলে তাদের কদর করেন।
আল্লাহর নবী সা. ইরশাদ করেন :
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ.
‘মেহমানের কদর করা ঈমানি সিফাত।’
মেহমান এসেছেন... এখন মন তো খুব করে চাচ্ছে যে, ইকরাম করবো; কিস্তু আল্লাহওয়ালাদের জীবন এরকম হয়ে থাকে যে, হাত থাকে খালি।
এখন বাকী বিল্লাহ রহ. মেহমানের ইকরাম কীভাবে করবেন? কাছেই একজন দোকানদার ছিল, দ্বীনদার লোক। বাকী বিল্লাহ রহ.-কে খুব ভালোবাসত, শ্রদ্ধা করত। ও যখন মেহমানকে আসতে দেখেছে, তখন বুঝতে পেরেছে যে, এই মেহমানের মেহমানদারি করা দরকার; এদিকে বাকী বিল্লাহ রহ.-এর নিকট কিছুই নেই।
দোকানদার হরেক খাবার প্লেটে সাজিয়ে বাকী বিল্লাহ রহ.-এর নিকট উপস্থিত হলো। এমন তীব্র প্রয়োজনের সময় এত সুন্দর খাবারের আয়োজন নিয়ে এসেছে, ওনি খুশিতে আত্মহারা হয়ে দোকানদারকে বললেন, চাও, তোমার কী চাওয়ার আছে? দোকানদার যখন এত বড় সুযোগ পেয়ে গেল, তখন সে বড় একটি জিনিস চেয়ে বসল। সে বলল, ‘আমাকে আপনার মতো বানিয়ে দিন।’
বাকী বিল্লাহ রহ.-এর খুশির জযবা কেটে গিয়ে হুঁশ ফিরে আসলো যখন সে বলল যে, আমাকে আপনার মতো বানিয়ে দিন। তিনি বললেন, না, এটি না; বরং অন্য কিছু চাও। কিন্তু দোকানদার তো সুযোগ পেয়ে গিয়েছে, তাই বলল, না, আমি এটিই চাই।
যেহেতু তিনি কথায় আটকা পড়ে গিয়েছেন ওয়াদা করে আর দোকানদার কিছুতেই মানছে না, তাই দোকানদারকে উনার খাছ কামরায় নিয়ে গেলেন এবং কিছু নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করলেন। তারপর উভয়ে বের হয়ে এলেন। যখন বের হয়ে এলেন, তখন যেন দুই বাকী বিল্লাহ বের হয়েছেন।
একজনকে অপরজন থেকে আলাদা করে চেনা মুশকিল; কিন্তু একটি পার্থক্য ছিল যে, আসল বাকী বিল্লাহ তো স্বাভাবিকভাবেই আছেন, কিন্তু নতুন বাকী বিল্লাহ বেহুঁশ তথা অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছে। এই অবস্থায় কিছুদিন... হয়তো বা দুই-তিন দিন পরে সে দোকানদার মারা গেল।
মূলত পাত্রটি এখানে প্রস্তুত ছিল না। এসে গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু পাত্র প্রস্তুত ছিল না। আর যদি প্রস্তুত নাই থাকে, তবে তো সেটি বহন করতে পারবে না।
চিটাগাং এ স্টিল মিল ছিল.. এখনো আছে কি না, জানি না; কখনো বন্ধ হয়, কখনো খোলে। ওখানে লোহাকে এমন করে গরম করে গলিয়ে ঢালা হয় যে, যেন পাইপ থেকে পানি পড়ছে। একেবারে তরল। তো ওই তরল লোহাকে ধারণ করতে তো উপযুক্ত পাত্র থাকতে হবে। সাধারণ টুকরি ধরলে কী হবে? আমাদের রান্নাবান্নার জন্য যেসব পাতিল থাকে সেগুলো ধরলে হবে নাকি? ধরার সাথে সাথে সে পাতিলও গলে যাবে। তো সেই গলিত লোহা ধারন করার জন্য সেরকম পাত্রও বানাতে হবে
। আল্লাহ তাআলা দ্বীন দেওয়ার জন্য তার পাত্রকে পস্তুত করান। মক্কা শরিফের তেরো বছরে শরিয়তের হুকুম একটিও আসেনি। বারো বছর পরে নামাযের হুকুম এসেছে। তাও সম্পূর্ণ আসেনি; বরং যোহরের নামায দুই রাকাত ছিল। এশা ও আসরও দুই রাকাত করে ছিল। চার রাকাত পরবর্তীতে বাড়ানো হয়েছে। আর নামাযের মধ্যে যেসব ‘সিফাত’ প্রযোজ্য হওয়া উচিত ছিল, সেগুলোও ছিল না।
যেমন নামাযের মধ্যে সালাম দিলে সালামের উত্তর দিতেন; এদিক ওদিক তাকাতেন ইত্যাদি। অর্থাৎ, হালকাভাবে নামাযের কিছুটা তাদের দেওয়া হয়েছিল বলা যায়। তাও আবার বারো বছর পরে। তাহলে এই বারো বছর কী করা হলো? ওই পাতিল বা পাত্র বানানো হলো। পাত্র প্রস্তুত করা হলো।
এই দ্বীন বহন করার জন্য যে পাত্র বহন করবে, তার মধ্যে দুটি সিফাতের প্রয়োজন। এক. তাকে পাক-পবিত্র হতে হবে। দুই. তাকে শক্তিশালী হতে হবে। পাক যদি না হয় তবে নাপাক করে দিবে। আর যথেষ্ট মজবুত না হয় তবে ভেঙে যাবে। আর এ দুটোর জন্যই পাত্র মেহনত করে গড়ে তুলতে হয়। আর যদি গড়া না হয় তবে ভাঙার সাথে সাথে ওলটপালট হয়ে কোথাও চলে যাবে।
ছোট ডিঙি নৌকা যে হয়ে থাকে, তাতে যদি এক বস্তা আটা-ময়দা জাতীয় কিছু ওঠনো হয় তখন নৌকা প্রায় কাৎ হয়ে যায়; উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়। আর বড় ফেরিতে ভারী লোড সম্পন্ন ট্রাকও যখন ওঠে তবে ফেরি কাঁপেও না। আর ডিঙি নৌকাতে যদি ট্রাক ওঠাতে যায় তবে বেচারার কী অবস্থা হবে! এক বস্তা যে বহন করতে সক্ষম তার ওপরে যদি ট্রাক ওঠে তবে ট্রাকও তলিয়ে যাবে, নৌকাও তলিয়ে যাবে, সবই তলিয়ে যাবে।
আল্লাহ তাআলা إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا ○ আয়াতে যাকে ছাকিল (ثقيل-ভারী) বলছেন, সেটা কত ভারী হবে?
শীত মৌসুমে রাসূল সা.-এর ঘাম ছুটে যেত যখন অহি নাযিল হতো। রাসূল সা. উটের ওপর থাকলে উট বসে যেত। উট তো হালকা ওজনে বসে যায় না। ওই ওজন সহকারে যদি একজন সাধারণ মানুষের ওপর নাযিল হয় তবে তাকে তো খুঁজেই পাওয়া যাবে না।
বাকীবিল্লাহ রহ. হয়তো কোনো ফু দিলেন, তো ওনার ফু-তে বেচারার এই অবস্থা হলো যে, মরেই গেল।
আল্লাহ তাআলা কুরআনের কথার মধ্যে যে আসল ওজন রেখেছেন, এই ওজনসহ যদি আসে, তো বহন করতে পারবে। আর যদি একেবারে কোনো ওজনই যদি না থাকে, তাহলে কোনো অর্থই থাকলো না।
সুতরাং সেজন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। যে মাত্রায় সে প্রস্তুত হবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ওই মাত্রায় ধীর ধীরে দান করবেন।
আর তা না হলে নিজেকে স্থিরই রাখতে পারবে না। ঠিক সেই ছোট নৌকার মতো হবে যেটি ওলটপালট হয়ে যায় একটু ওজন পড়লেই। মুসলমানদের সিফাতের মধ্যে আল্লাহ তাআলা এটাও পছন্দ করেন যে, তার সিফাতের মধ্যে এই সিফাতটিও হওয়া চাই :
لِكَيْلَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ.
‘যাতে কিছু হারালে তুমি যেন নিরাশ না হও, আর পেলে যেন উল্লাসিত না হও।’
আল্লাহ তাআলা যাকে দ্বীন দান করবেন, তার নিকট দুনিয়ার বড় থেকে বড় সম্পদ যেকোনো মুহূর্তে আসবে আর যেকোনো মুহূর্তে চলে যাবে।
অবস্থা উঠবে-নামবে¬... এগুলো যেন তাকে স্পর্শই না করে। সাহাবাদের এমন দিনও অতিবাহিত হয়েছে যে, তাদের নিকট কোনো খাবারই ছিল না; আর আশেপাশের মানুষ তাকে জুতো দিয়ে মারছে।
এরপর খুব বেশিদিন অতিবাহিত হয়নি যে, সম্পূর্ণ আরব অঞ্চল, রোম সাম্রাজ্য, পারস্য সাম্রাজ্য ওই ব্যক্তিদেরই অধীনে এসে গিয়েছে।
যিনি কিছুদিন পূর্বেও নিজের এলাকাতে জুতার মার খাচ্ছিলেন, কিছুদিন পর এই বিশাল এলাকা, এই বিশাল সা¤্রাজ্য তার অধীনে এসে গেল। যখন চারপাশ থেকে জুতা মারলো, তখন যে আচরণ আর যখন সব সাম্রাজ্য তার অধীনে এলো তখনো এই একই আচরণÑ কোনোদিকে নড়চড় হলো না।
তো যা বলছিলাম, ছোট ডিঙি নৌকার মতো যে, যদি একজন মানুষও তাকে চড় মারে তাহলে দশ দিন কাঁদত; এটি নিয়ে নালিশ করতো; রাগে ফুলে থাকত; কী না কি করতো আর এটি নিয়েই পেরেশান থাকতো। আর দুদিন পর যদি তার প্রশংসা করে হাত তালি দিয়ে বলতো যে, বাহ বাহ কি সুন্দর! তখন আধপাগল হয়ে বাজারে বাজারে লাফাত; কিন্তু সাহাবাদেরকে আল্লাহ তাআলা এত ভারী পাত্র বানিয়েছেন যে, দুনিয়ার ভারী থেকে ভারী সব সম্মান-মর্যাদা-ক্ষমতা হাতে এসে উপচে পড়ছে অথচ এতে তাদের কোনো আসর পড়েনি। বড় থেকে বড় মুসিবতে পড়ছেন, তাও কোনো আসর করতে পারেনি।
উমর রা. নামায পড়াচ্ছিলেন... তখন তাকে সেই আঘাতটি করা হয়, যে আঘাতে তিনি শহিদ হয়েছিলেন। আঘাতটি ছিল বড় গভীর। পেটের মধ্যে করা হয়েছিল আর তাতে পেটের আঁতগুলো কেটে গিয়েছে। পরে উমর রা.-কে সাথিরা দুধ খাওয়ালেন। দুধগুলো সব পেটের ক্ষত দিয়ে বের হয়ে গেল। এতে বোঝা গেল, আঘাতটি কত গভীর ছিল যে, শুধু চামড়া নয়; বরং স্টমাক ও নাড়িভুড়িÑসব কেটে গিয়েছে।
নামায পড়ানো অবস্থায় আঘাত করা হয়ছিল আর তিনি ওই অবস্থায় পড়ে গেলেন; কিন্তু পড়ে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আব্দুর রহমান রা.-কে পেছন থেকে টেনে এনে ইমামতিতে দাড় করিয়ে দিলেন। তখনো পুরোপুরি হুঁশ আছে যে, আমি নামায পড়াচ্ছিলাম; নামায যেন নষ্ট না হয়। তাই আব্দুর রহমান রা.-কে পেছনের কাতার থেকে টেনে এনে নামাযের দায়িত্ব দিয়ে লুটিয়ে পড়লেন।
আবু লুলু যে আঘাত করেছে, সে আঘাত করে ফিরে যাওয়ার সময় কয়েকজন বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আরো কয়েকজনকে আঘাত করে। এরপর সে ধরা পড়ে। আব্দুর রহমান নামায পড়লেন আর আবু লুলু যেদিক দিয়ে গিয়েছে, সেটিকে কিছু ডিস্টাব হলেও বাকিরা কিছুই টের পায়নি।
শুধু এইটা বুঝতে পেরেছে যে, ইমাম বদল হয়েছে, এখন ইমাম অন্যজন। কারণ, কণ্ঠস্বর বদলে গিয়েছে। আর লম্বা কেরাত না করে সংক্ষিপ্ত কেরাতে নামায শেষ করে দিয়েছে।
কিন্তু এটি কেউ-ই টের পেল না যে, কী ঘটেছে। নামায শেষ হওয়ার পরই সবাই বুঝতে পারল। এত বড় একটি ঘটনা ঘটে গেল, অথচ জামাতের নামাযই নষ্ট হলো না। আর উমর রা. নিজে এত বড় আঘাত প্রাপ্ত হয়েও ইমাম স্থলাভিষিক্ত করে ঢলে পড়লেন।
আমাদের মতো দুর্বল মানুষ যদি হতো আর হঠাৎ করে যদি কোনো একটি ব্যাঙ লাফ দিয়ে উঠত তবে সেই ব্যাঙের লাফে শুধু এক ইমামই ঘাবড়ে যাবে না; বরং পিছনের পুরো নামাযের জামাতই ভ-ুল হয়ে যাবে। অথচ উমর রা. অন্যজনকে নামাযের দায়িত্ব দিয়ে ঢলে পড়লেন।
অথচ বাকি জামাত টেরই পেল না যে, কী হয়েছে। এত মজবুত ছিলেন যে, কোনো কিছু তাকে স্পর্শ করতে পারেনি; এক চুল নাড়াতে পারেনি। যদি ছোট্ট হালকা কোনো জিনিস হয়, তবে বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যায়। আর পাহাড়ের মতো ভারী পাথর যদি হয়, তবে তা কোনোভাবেই নাড়ানো যাবে না।
আল্লাহ তাআলা এই ভারী কালিমা তাদেরকে দিয়েছেন, কারণ তারা নিজেদেরকে মজবুত পাত্র বানিয়েছেন।
যে মাত্রার পাত্র হবে... আল্লাহ তাআলা তো দেওয়ার জন্যই প্রস্তুত, দিতেই চান; কিন্তু বান্দা যেন নিজেকে প্রস্তুত করে। তবে এর প্রসেসিংটা বেশ লম্বা।
সম্পূর্ণ দ্বীনের মেহনতই হচ্ছে নিজেকে প্রস্তুত করা।
প্রস্তুতির মধ্যে দুটো সিফাতের প্রয়োজন :
১. শক্তিশালী হতে হবে;
২. পাক হতে হবে।
আতর ক্রয় করতে গিয়েছে। তো আতরবিক্রেতার নিকট শিশি এগিয়ে দিয়ে বলল, আমাকে এই শিশিতে আতর দিন।
ভালো আত্তার (আতর বিক্রেতা) শিশির গন্ধ না নিয়ে আতর ঢালবে না। গন্ধ নিলো... বললো, এতে দুর্গন্ধ আছে, এতে আতর দেওয়া যাবে না। শিশি ধুয়ে আনো। ক্রেতা বলল, আমি গরম পানি দিয়ে শিশি ভালো করে ধুয়ে এনেছি।
বিক্রেতা বলবে, হ্যাঁ, কিন্তু গন্ধ এখনো আছে। ক্রেতা নিজের নাকে শুকে বলল, কই, না তো, কোনো গন্ধই তো নেই। আতর বিক্রেতা বলল, না আছে। মূলত ক্রেতার নাক এতো প্রখর নয়, এজন্য তার নাকে গন্ধ ধরা পড়ছে না; কিন্তু আত্তারের নাক অনেক বেশি প্রখর, তার কাছে ঠিকই ধরা পড়ছে।
আর ওটি শুধু গরম পানি আর সাবান দিয়ে ধুলেই চলবে না, আরো অনেককিছু ফলো করতে হবে। এক বছর আগে কেরাসিন ঢালা হয়েছিল, এক বছর পরও তার কাছে সে গন্ধ ধরা পড়বে। অন্য কারো নিকট ধরা পড়বে না।
গাঙ্গুহী রহ.-কে চা পরিবেশন করা হলো। চায়ের যে পেয়ালা, সেটা ধুয়ে গামছা দিয়ে মুছে তারপর চা দিয়েছে। উনি বললেন, এতে কাঁচা পানির গন্ধ। তো পেয়ালা ধুয়েছে গরম পানি দিয়ে, কাঁচা পানি আসবে কোত্থেকে! পরে তাহকিক করে জানা গেল, পেয়ালা ধুয়ে যে গামছা দিয়ে মুছেছে, ওই গামছাতে কাঁচা পানি ছিল। সেই কাঁচা পানির গন্ধ চায়ের পেয়ালাতে এসে গেছে। এটি সবার নাকে ধরা পড়বে না, কিন্তু অনেকের নিকট ধরা পড়ে যায়।
ঢাকায় ছিলেন হাজি আব্দুল মুকিত সাহেব রহ.। ওনার বাড়িতে দাওয়াতে এসেছিলেন পাকিস্তানের আমির শফিক কুরাইশী রহ.। রান্না করেছেন টিউবওয়েলের পানি দিয়ে। খেতে গিয়ে শফিক কুরাইশী রহ. বললেন, ‘তোমাদের এখানে কি পানির সাপ্লাই নেই?’ অর্থাৎ, উনার নাকেও কাঁচা গন্ধ লেগে গিয়েছে। তো সবার নাকে ধরা পড়ে না, কিন্তু অনেকের নামে ধরা পড়ে যায়। আত্তারের নাক সাধারণ মানুষের নাকের মতো নয়। নিশ্চিত না হয়ে ওই শিশিতে আতর দিবে না।
কারণ, ওই আতর যখন বের হবে, শিশির গন্ধ নিয়ে বের হবে। আর ওর আতরের বদনাম হবে।
আত্তারের আরেকটি বিষয় হলো : হোমিওপ্যাথির অষুধ দেওয়া হয় নরম শিশিতে। একটু লেগে গেলেই ভেঙে যায়। আত্তার ওরকম শিশিতেও আতর দিবে না। কারণ, ওরকম মূল্যবান আতর, দু টাকার শিশির কারণে এত টাকার আতর নষ্ট হবে! তাই শিশি মজবুত হতে হবে আবার পাকও হতে হবে। অতএব, এই মজবুত এবং পাক যে মাত্রায় হবে, আল্লাহ তাআলা ওই মাত্রায় তার কাছে এই ভারী কালেমা ঢালবেন। আর তা না হলে ওই কালিমার হক সে আদায় করতে পারবে না।
একটি গল্প বা ঘটনা বলা হয় যে, এক মুরিদ শায়েখের কাছে আবেদন করেছেন, আমাকে ইসমে আজম শেখান। ইসমে আজম শেখার খুব শখ যে, ইসমে আজম পড়ে দুআ করলে দুআ কবুল হয়; কিন্তু শায়খ ওনাকে ইসমে আজম শেখাবেন না। শায়খ ওনাকে কোনো একটি কাজে বাজারে পাঠিয়েছেন।
মুরিদ ওখানে একটি ঘটনা দেখলো, এক গরিব বৃদ্ধ লোক, পাহাড় থেকে খড়ি-কাঠ ইত্যাদি কেটে এনে বেচারা হাটে বিক্রি করে। দু চার টাকা যা পাবে, তা দিয়ে তার ঘরের প্রয়োজন মিটবে। হাটে যখন আনলো, পুলিশ এসে ধমক দিয়ে ওর খড়িগুলো নিয়ে নিলো। আর তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো।
খড়িগুলো বিক্রি করে টাকাগুলো নিয়ে চলে গেল। এ তো যালিম... মুরিদ এই সবকিছুই দেখলো কিন্তু পুলিশের বিরুদ্ধে কিছু বলার তার কোনো সাহসে কুলালো না। ফিরে এসে শায়খকে বললো, হুজুর আমাকে তো আপনি ইসমে আজম শেখালেন না। আজ এই ইসমে আজমের বড়ই দরকার ছিলো। শায়খ বললেন, কেন? মুরিদ তখন ঘটনাটি সবিস্তার বলল।
এরপর বলল, আজ যদি আমি ইসমে আজম জানতাম তবে এই ইসমে আজম পড়ে তার ওপর বদদোয়া দিতাম। শায়খ বললেন, ওই বৃদ্ধের কাছ থেকেই আমি ইসমে আজম শিখেছি। ওর-ই ইসমে আজম জানা আছে। চাইলেই বলতে পারত; কিন্তু ইসমে আজম হাতে পাওয়ার আগে তার ব্যবহার আগে শিখতে হয়। ছোটোখাটো জিনিসের জন্য ওটি ছুড়ে মারবে না। তো আল্লাহ তাআলা অস্ত্র হাতে দিবেন, কিন্তু নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হতে হবে। যে কারো হাতে বন্দুক পিস্তল দিয়ে দিলে নিজেরও ক্ষতি, অন্যেরও ক্ষতি।
আল্লাহ তাআলা দ্বীন দেওয়ার জন্য উপযুক্ত পাত্র চান। আর ওই পাত্র বানাবার মেহনত হলো আমল।
মদিনা শরিফে শরিয়তের আহকামাদি নাযিল হয়েছে দশ বছরে। আর মক্কা শরীফের তেরো বছর কোনো হুকুমই নাযিল হয়নি; বরং শুধু পাত্র ধোয়া হয়েছে। لَا يَمَسُّهُ إلاَّ الْمُطَّهَّرُوْنَ - অযু করানো হয়েছে
অর্থাৎ, আল্লাহর কিতাব স্পর্শ করার আগে পাকি অর্জন করানো হয়েছে তেরো বছর। যাহেরিভাবে যেমন এই কিতাবকে স্পর্শ করতে পারবে না নাপাক অবস্থায়, তেমনিভাবে আল্লাহ তাআলা এই কিতাবের হাকিকতও দিলের মধ্যে ঢালবেন না দিল নাপাক অবস্থায়।
যাহেরি পাকি অর্জন করা হয় গোসল করে কিংবা অযু করে, আর দিলকে তৈরি করতে হবে তাকওয়া অর্জন করে।
কারণ দ্বীন হলো, هُدًى لِّلْمُتَّقِيْنَ। এই তাকওয়া দাবি করে অন্যান্য সম্পর্ক থেকে নিজেকে মুক্ত করা। শরীর নাপাক হয় কোনো ময়লা-নাপাকি লেগে গেলে আর দিল নাপাক হয় আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো সাথে অন্তর সংযুক্ত হলে। কাপড়ে নাপাক লেগে গেলে পবিত্র করতে হলে যে নাপাকি লেগেছিল ওটাকে দূর করতে হয়। আর অন্তর নাপাক হয় অন্যের মহাব্বতে। আল্লাহ ছাড়া যদি কারো মহব্বত অন্তরে জাগে তবে অন্তর নাপাক হয়। ওই নাপাক দিলকে পাক করতে হলে ওই মহ্ববত দূর করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা দ্বীন এবং দ্বীনের মেহনত দিয়েছেন, যেন সেটি বহনের উপযুক্ত হয়। উপযুক্ত বহনকারী যখন হতে পারবে, তখন দ্বীনের আসল রূপ প্রকাশ পাবে।
মুসা আ. যখন সমুদ্রের সামনে, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে বললেন, সমুদ্রে লাঠি দ্বারা আঘাত করো। ওনি উনার লাঠি দ্বারা যখন আঘাত করলেন, সমুদ্র ভাগ হয়ে উনার রাস্তা তৈরি হয়ে গেল। যে কেউ আঘাত করলেই কি এমনটি হতো? ওই লাঠি নিয়ে যদি আমি আঘাত করি, সমুদ্র কি আমাকে রাস্তা দিবে? না, ওইটার জন্য মুসা আ.-এর ‘হাত’ই লাগবে।
জরবে কালিমুল্লাহ তথা কালিমুল্লাহর হাতে আঘাত হতে হবে। তখনই সমুদ্রও রাস্তা দিবে আর পাথরও ঝরনা দিবে। আবার আঘাত করেছেন আর পাথরও ঝরনার প্রবাহ শুরু করে দিয়েছে। সুতরাং ওই লাঠিরও প্রয়োজন আর ওই বাহনেরও প্রয়োজন। ওই ‘হাতে’র ওই ‘লাঠি’ দিয়েই আঘাত করলে হবে, যেকোনো হাত দিয়ে হবে না, যেকোনো লাঠি দিয়েও হবে না। ওই হাত বানাবার জন্য মুসা আ.-কে তৈরি করা হয়েছে।
আর বড় কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে তাঁকে বারবার যেতে হয়েছে।
কুরআনের ভাষায় : وَفَتَنَّاكَ فتُوْنَا - ‘পরীক্ষার মতো পরীক্ষা করে দেখেছি।’
যদি শুধু وَفَتَنَّاكَ বলতেন তবুও যথেষ্ট হতো।
যেহেতু নুনে তাকিদ আছে; কিন্তু শুধু তাও নয়, সাথে আবার فتُوْنَا-ও আছে। অর্থাৎ, পরীক্ষার মতো পরীক্ষা করে দেখেছি। তারপর উনাকে পাক করা হয়েছে।
এরপরে গিয়ে আল্লাহ তাআলা এই লাঠির ক্ষমতা ওনার হাতে দিয়েছেন। এখন ওই লাঠি সাপের সামনে রাখলে সাপ খেয়ে ফেলে। সমুদ্রে আঘাত করলে সমুদ্র শুকিয়ে যায়। পাথরে আঘাত করলে ঝরনা বের হয়ে আসে; কিন্তু এরজন্যে ওই লাঠি ধারণকারীকে কালিমুল্লাহ হতে হবে।
আল্লাহ তাআলা মুসা আ.-কে তৈরি করেছেন আর ওনার লাঠিকেও তৈরি করেছেন। অতপর ওই লাঠি তাঁর হাতে দিয়েছেন। আর মুসা আ.-এর হাতে যে লাঠি, সেটি ওই লাঠি নয় যেটা আগে তার হাতে ছিল। ওই লাঠি তো আগেই ফেলে দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, فَاَلْقِ عَصَاكَ হে মুসা! তোমার হাতে লাঠি ফেলে দাও।
ফেলে দেওয়ার পরে আল্লাহ তাআলা যাহেরিভাবে ওই লাঠিকে দিলেও ওটাকে ওলটপালট করে সাপে রূপান্তরিত করে নতুন করে বানিয়ে দিয়েছেন।
আগের লাঠি নয় আর। থাকলেও হয়তো যাহেরিভাবে আছে। মূল অদলবদল হয়ে গিয়েছে।
মানুষের শরীর যেরকম... ডাক্তাররা বলে, কিছুদিন আগে আমার শরীরে যে কোষগুলো ছিল, আজকে তার একটাও বাকি নেই। সবগুলো বদলে দেওয়া হয়েছে। রক্তের সেলগুলো প্রতিমুহূর্তে কতগুলো ভাঙছে, কতগুলো গড়ছে। শরীরের অভ্যন্তরে যে মেডিসিনগুলো আছে, এগুলো কত ভাঙছে, কত গড়ছে।
যেগুলো ভাঙছে, ওগুলোকে শরীর থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন নতুন সেল (কোষ) গড়া হচ্ছে। যদিও নাম সেই একই রয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে।
তো মূসা আ.-এর লাঠিও এরকম... নাম আগেরটি থাকলেও সেই লাঠি আর আগেরটি নয়। লাঠিও নতুন করে বানানো হয়েছে। মুসা আ.-কেও তৈয়ার করা হয়েছে। ওই আগের লাঠি আর আগের মুসায় আর কোনো কাজ হবে না। লাঠিও নতুন, মুসা আ.ও নতুন। তারপরে যখন আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন তো কাজ হয়েছে। এর মধ্যে বড় জবরদস্ত একটি দেওয়া, আল্লাহ তাআলা তার শক্তি দিয়েছেন।
বদরের ময়দানে রাসূলে কারীম সা. সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রা.-এর হাতে একটি খেজুরের ডাল দিলেন। লড়াই করার জন্যে।
কারণ, মুসলমানদের হাতে লড়াই করার মতো অস্ত্র ছিল না। অপ্রস্তুত অবস্থায় মোকাবেলার সম্মুখীন হয়ে গিয়েছেন। কাফেরদের কাছে অস্ত্রও আছে, সৈন্য সংখ্যাও অধিক। আর অস্ত্রই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু ঢাল তলোয়ারই নয়; বরং নিজের সুরক্ষার জন্য লোহার জামা, মাথায় লোহার টুপি। আর এর মোকাবেলা সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. করবেন একটি খেজুরের ডাল দিয়ে।
মোকাবেলা করলেন ঠিকই... লড়াইও করলেন... সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রা. আল্লাহর মেহেরবানীতে ময়দান থেকে জিন্দা ফিরে আসলেন। আর ওনার হাতে আল্লাহ জানে কতলোক মারা গেল এই খেজুরের ডালের বাড়ি খেয়ে; অথচ তাদের হাত ঢাল তোলায়ারসহ যুদ্ধাস্ত্রে সুসজ্জিত ছিল।
তো খেজুরের ডাল হলেও তা নিছক ডাল নয়; বরং ওটা রাসূল সা.-এর হাত দিয়ে দেওয়া ডাল। আর যে বাহু ওই ডাল ধরেছে, সেও যেনতেন কেউ নন; তিনি সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রা.। আর এই দুটি মিলে, এই ডাল দিয়েই যুদ্ধ হয়েছে।
একটি যদি না থাকতো, তবে হতো না। যেকোনো ডাল হলেও হতো না; আবার যেকোনো ধারণকারী হলেও হতো না। তো আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীন দিয়েছেন। দ্বীন তো আমাদেরকে ধারণ করতে হবে; তবে দ্বীনের উপযুক্ত ধারণকারী হিসেবে নিজেদের বানাতে হবে। তবেই তার হাকিকত প্রকাশ পাবে। আর তা না হলে দ্বীনের মৃত সুরত থাকবে যার ভেতর প্রাণ নেই।
রাসূলে কারীম সা. চিঠি দিয়ে পাঠালেন পারস্য স¤্রাটের কাছে সম্ভবত শুজা বিন ওয়াহহাব রা.-কে। বললেন, চিঠিটি নিজ হাতে পৌছে দিবে। চিঠি নিয়ে গেলেন।
সম্রাটের অনুমতির জন্য তারা ভেতরে গিয়েছে যে, বার্তাবাহক নিজ হতে চিঠি দিতে চান, অন্যথায় চিঠি দিবেন না। বাইরে যারা, তারা শুজা‘ বিন ওয়াহহাব রা.-এর সাথে কথা বলছে। উনার কাছে যে তলোয়ার ছিল, সেই তলোয়ারের খাপও ছিলনা।
তেনা দিয়ে পেচিয়ে রাখা। কারণ একেবারে খোলা তলোয়ার রাখা নিষেধ। কারো গায়ে লেগে যেতে পারে। শরিয়তেও এর নিষেধ আছে। তো তার তলোয়ারটি কোনোরকমে কয়েকটি ত্যানা দিয়ে পেচিয়ে রাখা আর তিনি এই অবস্থায় গিয়েছেন পারস্য সম্রাটের দরবারে।
সেখানে এ তলোয়ার নিয়ে কথা হচ্ছে যে, এই তলোয়ার দিয়ে কী হবে! যার খাপই নেই। অর্থাৎ, বিদ্রƒপ করছে। উনি বললেন, তোমাদের ঢাল আনো। ঢাল যা তলোয়ার আঘাত ঠেকাবে, সেরকম ঢাল আনো। তো তারা তাদের উৎকৃষ্ট ঢালটি আনলো।
ওখানে রাখলো। উনি তলোয়ার দিয়ে আঘাত করলেন, আর ঢালটি দু টুকরো হয়ে উড়ে গেল। ওরা তো অবাক! এত মজবুত ঢাল যদি দু টুকরো হয়ে উড়ে যায়, তবে উনি কী করবে! যে ঢালের ওপরে ভরসা, সে ঢালই যদি টিকতে না পারে, তাহলে কীভাবে এই তলোয়ারধারীদের সাথে লড়বে! তাদের সামনে অগ্রসর হওয়ার কী সাহস পাবে! ওরা নির্বাক হয়ে গেল। শুজা’ বিন ওয়াহহাব রা. বললেন, এই ঢালের সাথে এই বাহুরও প্রয়োজন। তবেই তার শক্তি প্রকাশ পাবে।
আরবিতে একটি কথা আছে :
لِكُلِّ فَنٍّ رِجَالٌ.
‘প্রত্যেক শাস্ত্রে তার উপযুক্ত ব্যক্তির প্রয়োজন।’ তবেই তো তার হাতে ফলাফল প্রকাশ হবে।
আল্লাহ তাআলা যে দ্বীন দিয়েছেন, সে দ্বীনের জন্য উপযুক্ত বহনকারী আর ধারণকারী প্রয়োজন। ধারণকারীর যতবেশি ধারণযোগ্যতা থাকবে, ততবেশি সে ধারণ করতে পারবে। রাসূলে কারীম সা.-এর ঘরের জন্য যাদেরকে নির্বাচন করা হয়েছে, তারা অন্যান্যদের তুলনায় অনেক ভিন্ন। রাসূল সা. এর স্ত্রীরা আর অন্যান্যরা সমান নয়; পার্থক্য আছে।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে :
يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ.
‘হে নবীপতিœগণ! তোমরা সাধারণ মহিলাদের মতো নও।’
সেজন্য প্রথম থেকে নির্বাচনের শর্তই আলাদা। সাধারণ মুসলমানরা চাচাতো বোন, খালাতো বোনদেরকে বিয়ে করতে পারে।
রাসূলে সা.-এর জন্যও এরকমই।
তবে, وَبَنَاتِ عَمِّكَ وَبَنَاتِ عَمَّاتِكَ وَبَنَاتِ خَالِكَ وَبَنَاتِ خَالَاتِكَ اللَّاتِي هَاجَرْنَ مَعَكَ
অর্থাৎ, আরেকটি অতিরিক্ত শর্ত আছে যে, ‘যিনি আপনার সাথে হিজরত করেছেন।’ এ গুন ছাড়া রাসূল সা.-এর ঘরের জন্য জায়েয না। সাধারণ মুসলমানের জন্যে মামাতো বোন, চাচাতো বোনকে বিয়ে করা সব জায়েয।
আর ‘মুহাজির হতে হবে, তা নাহলে বিয়ে করা যাবে না’Ñএটি কোনো মুসলমানের জন্য শর্ত না। কিন্তু রাসূল সা.-এর জন্যে এটি অতিরিক্ত শর্ত।
কারণ, রাসূল সা. এর ঘরে যিনি আসবেন, সেই পাত্রকে অন্যান্য পাত্রের তুলনায় অনেক বেশি পাক হতে হবে। হিজরত যিনি করেননি তার অন্তরে নিজ অঞ্চলের মুহাব্বত বাকি রয়েই যায়। আর হিজরতের দ্বারাই তা পাক হয়। যে জিনিস হিজরতের দ্বারা পাক হবে, ওই পবিত্রতা যে অর্জন করেনি, রাসূল কারীম সা.-এর ঘরের জন্য সে উপযুক্ত নয়। আর যদি অনুপযুক্ত কেউ রাসূল সা.-এর ঘরণী হয়, তো তার কাছে যখন রাসূল সা. এর খাস তাআল্লুক আসবে, ওটা তার উপযুক্ত মর্যাদা পাবে না। এজন্য উপযুক্ত একটি পবিত্রতা প্রয়োজন যা হিজরতের মাধ্যমে অর্জন হয়। প্রথম তো নিবার্চনই আলাদা। তারপর নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আরোও প্রস্তুত করা হয়েছে।
একজন মহিলা যিনি একজন গৃহিণী। তার থাকা-খাওয়ার প্রয়োজন আছে। যদি উপবাসের মধ্যে থাকে, তবে তার এ কথা বলার অধিকার আছে যে, কষ্ট হচ্ছে। কিছু যোগাড় করে দিন। তো রাসূলে কারীম সা.-এর ঘরের যে বিবিরা ছিলেন, তারাও এই অভাবে পড়ে একটু কষ্ট প্রকাশ করেছিলেন যে, ‘আমাদেরও তো খাওয়া-দাওয়ার দরকার আছে।’ সাথে সাথে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হুকুম এসে গেল যে, আপনি এক এক করে প্রত্যেকের ঘরে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন যে, তারা দুনিয়াওয়ালা হবেন নাকি আপনার ঘরণী হবেন?
যদি তারা এখতিয়ার চায়, তাহলে তালাক দিয়ে দিন আর তারা আম মহিলাদের মতো খাওয়া-দাওয়া করুক। অসুবিধা নেই। কিন্তু এই ঘরে থাকলে খাওয়া-দাওয়া হবে না। এই হুকুম নাজিল হওয়ার পর রাসূল সা. এক একজনের নিকট গেলেন এবং আল্লাহর হুকুমমতো তাদের জিজ্ঞাসা করলেন।
আল্লাহর মেহেরবানী, সবাই নবীজির ওপর রাজি। অর্থাৎ, একটু মুখ ফসকে কথা বের হয়ে গিয়েছিল। ক্ষুধা যখন লাগে, তখন মানুষ তো খেতে চায়ই। এটি কোনো নাজায়েয চাওয়া ছিল না। খিদে পেয়েছে, শুধু এইটুকু কথাই বের হয়েছিল।
কিন্তু, এই কথাটুকুও প্রকাশ করা যাবে না। কারণ, তাদেরকে এই দ্বীন বহন করে নিয়ে যেতে হবে। সবার ব্যাপারে কোনো অসুবিধা ছিল না, রাসূল সা. সোজাসুজিভাবে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। আয়েশা রা.-এর বয়স কম ছিল, আবার একটু রাগীও ছিলেন। বলা যায় না, রাগের বসে কখন কী বলে ফেলে। তো রাসূল সা. ওনাকে আসল প্রশ্ন করার আগে বললেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আমি তোমাকে করব, তুমি নিজ থেকে উত্তর দিয়ো না।
উত্তর দেওয়ার আগে তুমি তোমার বাবার সাথে পরামর্শ করে নিয়ো। তারপর রাসূল সা. এই একই প্রশ্ন তাকেও করলেন যে, তুমি তালাক নিয়ে চলে যেতে চাও নাকি এখানে থাকবে? এখানে থাকলে কিন্তু এই অভাবের মধ্যেই থাকতে হবে। আয়েশা রা. এমনিতে ছটফট করলেও বুদ্ধিমতী ঠিকই ছিলেন। উনি বললেন, ‘কোনো পরামর্শের দরকার নেই। আমি থাকবো।’ উনাদেরকে এভাবে তৈয়ার করা হয়েছে।
পরবর্তীতে -তাৎক্ষণিকভাবে নয়- মুআবিয়া রা.-এর জামানায় আয়েশা রা.-এর কাছে হাদিয়া এসেছে উট বোঝাই জিনিসপত্র। অল্পসল্প নয়, আস্ত উট বোঝাই জিনিসপত্র। তিনি সবগুলো দান-সদকা করতে লাগলেন।
ওই যামানায় কাউকে কিছু দিতে চাইলে বেশি দেওয়াও মুশকিল ছিল। কারণ, গ্রহণকারীরা নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিতে চাইতো না। সেজন্যে শেষ করাও মুশকিল ছিল। যাইহোক, দান করে করে দিন শেষে জিনিসপত্র শেষ হয়েছে। শেষ করার পরে উনার খাদেমা বললো, একটু কিছু রেখে দিতে পারতেন।
যাতে আপনি ইফতার করতেন, আমিও ইফতার করতাম। আয়েশা রা. বললেন, ‘এখন বলে কী হবে, আগে বললে রেখে দিতাম।’ ঘরে খাবার কিছুই নেই... নিজে ও নিজের খাদেমা রোজাদার... ইফতার করতে হবে... লাখো টাকা সদকা করে দিলেন অথচ ইফতার যে করতে হবেÑমনেই ছিল না।
সাখাওয়াত তথা দানশীলতারও তো একটি সীমা আছে। বড় দানশীল লোক, নিজে না খেয়ে দান করে দিলে... দান করলো তো ঠিকই, কিন্তু এ কথা তো মনে থাকবে যে, আমি তো খাইনি। এমনও হয়েছে যে, খেতে বসেছেন, এমন সময় সাহায্যপার্থী প্রার্থনা করলো। নিজে না খেয়ে দিয়ে দিলেন। আরে! মনে তো থাকবে যে, আমিও খাইনি! তো আয়েশা রা. না খেয়ে দিয়ে দিলেন।
অথচ আয়েশা রা.-এর মনেই নেই যে, রোযা রেখেছেন... ইফতারের সময় হয়েছে... আরেকজন মনে করিয়ে দেওয়ায় বললেন, আগে মনে করিয়ে দাওনি কেন! তো ওই বেচারির মনে করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল নাকি নিজের রোযার কথা নিজেও মনে রাখতে পারতেন? তো এমন পবিত্রতা অর্জন করা। তারপর দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ ঢেলে দেওয়া হলেও কোনো আসর হয় না।
কিন্তু এটি পূর্বেই অর্জন করতে হয়। এগুলো একেবারে জন্মগত ছিল না, কিছু যোগ্যতা ছিল আগে থেকেই, তার সাথে আবার প্রস্তুতও করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা রাসূল কারীম সা.-এর ঘরকে আলাদা করে তৈয়ার করেছেন।
সব মুসলমানদের মধ্যে যিনি এই দ্বীনের যতটুকু ভাগ চায়, তাকে সে পরিমাণ ভাগের জন্য তৈয়ার হতে হবে। আজও... যদি কেউ বড় ভাগ চায়, তবে তাকে বড় ভাবে তৈয়ার করতে হবে। আর যদি কেউ ছোট ভাগ চায়, তবে তাকেও সে মাপে তৈয়ার করতে হবে। যদি কেউ পীর মাশায়েখ হতে চায় তবে তাকে সে মাত্রায় নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।
যদি আলেম হতে চায় তবে প্রস্তুত হতে হবে। দাঈ হতে চায়, মুবাল্লিগ হতে চায় প্রস্তুত হতে হবে। যে সাধারণ মুসলমান হতে চায়, তাকেও সে মাত্রায় প্রস্তুত হতে হবে। যে যে মাত্রার আশা করে, যার যতটুকু আশা, তার প্রস্তুতিও তত মাত্রার লাগবে। তবে প্রস্তুতি লাগবেই; অল্প হলেও লাগবে।
আর এজন্য আল্লাহ তাআলা এ মেহনত দিয়েছেন যে, আল্লাহর পথে বের হয়ে মেহনত করবে যে, দিলকে পাক করি। যেন আল্লাহ তাআলা যে কথা দিয়েছেন সে কথা আমি বহন করতে পারি, ধারণ করতে পারি। প্রথম কথা তো হলো, আল্লাহর কথা বুঝতে পারা। যদি দিল পাক না থাকে তবে বুঝতেই পারবে না। বলবে এক কথা, আর বুঝবে আরেক কথা। তার বোঝার জন্য আল্লাহর সাথে সম্পর্ক প্রয়োজন।
কোনো কথা বোঝার ক্ষেত্রে ‘কে বলছে’, ‘কাকে বলছে এসব বিস্তারিত প্রাসঙ্গিক অবস্থা জানা না থাকলে তার কথা বোঝা মুশকিল।
وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ.
‘তাদের কাছে যখন কোনো খবর আসতো, নিরাপত্তা অথবা ভয়ের, তো যা খবর পেয়েছে, তাই বলতে আরম্ভ করতো। কেন তারা আল্লাহর রাসূলের কাছে অথবা উলিল আমর (যাদের আল্লাহ তাআলা জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়েছেন) বা উলামা-সমঝদার লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করতো না যে, এর কী অর্থ!
তারা বলে দিতেন এর অর্থ কী।
যারা এ কথাগুলো শুনেছেন এবং যারা বলেছেন, তারা সবাই আরব, তারা সাহাবাও; কিন্তু আরব হওয়া সত্ত্বেও এবং কুরআন আরবি ভাষায় হওয়া সত্ত্বেও অর্থ বোঝার জন্য আবার উলিল আমরের নিকট যেতে হতো!
অনেক জায়গায় যাহেরিভাবে যে অর্থ মনে হয়, প্রকৃত অর্থে সেটা নয়। উলিল আমর কেন বুঝবে? কারণ তারা আল্লাহর সাথে খাস সম্পর্ক রাখেন। সেই সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে তারা বুঝতে পারেন যে, এর অর্থ কী। তা না হলে ভুল বুঝবে। শুধু শব্দের ওপর ফয়সালা দিয়ে বসবে।
হারুনুর রশিদ রহ.-এর যমানায় বারমেকি নামক একটি গোত্র ছিল। সে পরিবারের লোক ধীরে ধীরে রাজপ্রাশাসনে বহু উপরের মর্যাদায় পৌছেছিল। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তাদের কাছে যেন প্রায় হস্তান্তর হবে হবে।
পরবর্তীতে এমন কিছু ঘটনা ঘটলো যার পরিপ্রেক্ষিতে এই বারমেকিদেরকে কতল করে দেওয়া হলো। তাদের মধ্যে একজন নামকরা, সম্ভবত ইয়াহইয়া বারমেকি। পরবর্তীতে বারমেকি পরিবারের এক মহিলা হারুনুর রশীদ রহ.-এর দরবারে আসলো। সালাম করে প্রচলিত কিছু সংবর্ধনা পাঠ করলো।
তখন এই কথাটিও বললো যে,
أقرَّ اللهُ عيْنكَ، وفرَّحكَ بما آتاكَ، وأتمَّ سعدكَ، لقد حكَمْتَ فقَسَطتَّ،
এরপর অন্যকিছু কথাও বললো। মহিলাটি চলে যাওয়ার পরে হারুনুর রশীদ রহ.-এর দরবারের একজনকে যিনি গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তি নন, কোনো মন্ত্রীও নন জিজ্ঞাসা করলেন, ও মহিলা কী বললো?
লোকটি বলল, ভালো কথাই তো বলেছে أقرَّ اللهُ عيْنكَ - ‘আল্লাহ তাআলা আপনার চক্ষুকে শান্ত করুক’, চক্ষু শীতলতার জন্য দোয়া করেছে।
حكَمْتَ فقَسَطتَّ - ‘আপনি হুকুম দিয়েছেন এবং ন্যায় বিচার করেছেন।’
হারুনুর রশীদ বললেন, তুমি বোঝোনি। ও আমার বিরুদ্ধে বলে গিয়েছে।
লোকটি বললো, বাদশাহ! এটি কীভাবে?
হারুনুর রশীদ রহ. বললেন, أقرَّ اللهُ عيْنكَ ‘তোমার চক্ষুকে শান্ত করুন’ এটি মৃত্যুর বদদোয়া।
حكَمْتَ فقَسَطتَّ - ‘হুকুম দিয়েছেন এবং ন্যায় করেছেন’
এই فقَسَطتَّ শব্দটির বিপরীত অর্থও হয়ে থাকে।
مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ مِنَ الْقَاسِطِيْنَ এখানে কুফুরির অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
এর অর্থ হলো, ‘হুকুম দিয়েছেন এবং অন্যায় করেছেন।
’ হারুনুর রশীদ বুঝতে পেরেছেন।
যেহেতু তিনি হাকিম ছিলেন এবং তার মনোভাব সম্পর্কে জ্ঞান আছে। অথচ উনার কাছের লোক তার বিপরীত অর্থ বুঝলেন। সুতরাং বুঝতে হবে ‘কে বলছে, কাকে বলছে’ ইত্যাদি শব্দ যদি না জানে, তার সাথে যদি পরিচয় না থাকে তবে তার কথা কি বুঝবে!
সূরা নাসর নাযিল হলো :
إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ (১) وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا (২) فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا (৩)
সাদাসিধা অর্থ : ‘আল্লাহর সাহায্য যখন হলো, তুমি দেখবে দলে দলে মানুষ ইসলামের মধ্যে আসছে। তাসবিহ পড়, তাহমিদ পড়, ইসতেগফার পড়, আল্লাহ গুনাহকে মাফ করবেন।’
সাহাবারা, বিশেষ করে রাসূল সা.-এর ঘনিষ্ঠ সাহাবারা বুঝতে পারলেন যে, এই আয়াতগুলো রাসূল সা.-এর দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার সংবাদ।
কোন শব্দের মধ্যে, কোন বাক্যের মধ্যে রাসূল সা.-এর বিদায় সংবাদটি আছে?
إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ ○
এখানে নাই।
وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا ○
এখানেও নাই।
فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ
এখানেও নাই।
إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا ○
এখানেও নাই।
তাহলে কোথায় মৃত্যুর সংবাদ!
কোন শব্দের মধ্যে কোন আয়াতের মধ্যে রাসূল সা.-এর বিদায়ের সংবাদ?
কিন্তু যারা আপন, যারা ঘনিষ্ঠ, তারা ঠিকই বুঝতে পারলেন।
ঠিক এমনটিই ঘটেছিল।
তাফসীর খুললে এটিই পাওয়া যাবে।
মূলত সরাসরি না থাকলেও কথার ভাজে আছে, আড়ালে আছে, পরোক্ষভাবে আছে।
যে জানে, যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখে সে ঠিকই বুঝতে পারবে। আর যার ওই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কটি নেই, সে বুঝতে পারবে না। ওই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কেউ পাবে না, যদি না সে তার দিলকে অন্যান্য সম্পর্ক থেকে মুক্ত না করে।
যতবেশি সে দিলকে অন্য সম্পর্ক থেকে মুক্ত করবে, কাজ করবে, আল্লাহ তাআলা ততবেশি তাকে ওই খাস সম্পর্ক নসিব করবেন।
ইরশাদ করেছেন :
إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا (৩৩).
পবিত্রতার মতো পবিত্র করবেন, وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا। তারপরে?
তারপরে অর্থাৎ পবিত্রতার পরে আল্লাহ তাআলা তোমাদের ঘরে যা নাযিল করেছেন, সেটি স্মরণ করো।
وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ لَطِيفًا خَبِيرًا ○ - ‘তোমাদের কাছে যা নাযিল হচ্ছে আল্লাহ তাআলার আয়াত এবং হেকমত, ওগুলোর চর্চা করো।’
কিন্তু এই চর্চার কথা এসেছে, وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا এর পরে। নিজের মধ্যে পাকি (পবিত্রতা) অর্জন করতে হবে। আর পবিত্রতা আমাদের নিকট দাবি করে যে, আমার অন্তরকে অন্যান্য আকর্ষণ থেকে মুক্ত করি।
মালের মোহ, অভাবের ভয়, শত্রুর ভয়Ñসব ভয় থেকে, সব মোহ থেকে নিজেকে পাক করতে হবে। তবেই আল্লাহ তাআলার ভয় অন্তরে প্রোথিত হবে আর আল্লাহর তাআলার আগ্রহ অন্তরে সৃষ্টি হবে ঠিকমতো। আল্লাহ তাআলার ভয় আসবে তখনই যখন অন্যান্য ভয় থেকে সে মুক্ত হয়ে যাবে।
আর তা না হলে আল্লাহ তাআলার ভয় যেভাবে হওয়া উচিত, সেভাবে হবে না। আল্লাহ তাআলা ওয়াদা করেছেন ইহতেসাবের। আল্লাহ তাআলার প্রতিটি হুকুমের আড়ালে ইহতেসাব আছে। আল্লাহ তাআলা কিছু ওয়াদা করেছেন, এই ওয়াদার ব্যাপারে আকাক্ষী হতে হবে। যদি দিলের মধ্যে অন্য কোনো আকাক্ষা ও থাকে, তবে আল্লাহ তাআলা যে ওয়াদা করেছেন, সে ওয়াদার আকাক্ষা যেভাবে যে পাকির সাথে দিলের মধ্যে আসার কথা, এটি আসবে না; বরং অন্যান্য আকাক্সক্ষা এসে আল্লাহর ওয়াদার আকাক্ষাকে নাপাক করে দিবে।
অর্থাৎ, ‘আল্লাহ তাআলা যে ওয়াদা করেছেন, সেটিও আমি চাই; সাথে সাথে আরো কিছু আমি চাই।’ এজন্য বড় জবরদস্ত মেহমতের ভেতর দিয়ে সব ভয় থেকে মনকে মুক্ত করা, সব আশা থেকে অন্তরকে পাক করা, তবেই আল্লাহ তাআলার ভয় আসবে, আল্লাহ তাআলার ওয়াদার আগ্রহ আসবে। আর সেই অন্তরে আল্লাহ তাআলা দ্বীন ঢেলে দিবেন, যে মাত্রায় নিজেকে পাক করতে পারবে। তবেই আল্লাহ তাআলা তাফাক্কুহ দান করবেন।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
مَنْ يُّرِدِ اللهُ بِهِ خَيْرًا يُّفَقِّهْهُ فِي الدِّيْنِ.
‘আল্লাহ তাআলা যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের তাফাক্কুহ দান করেন।’
‘তাফাক্কুহ’ এটি শব্দের ভেতর পাওয়া যাবে না।
আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে দান করবেন যাকে আল্লাহ তাআলা বিশেষ সম্পর্ক দান করেছেন।
যাহেরিভাবে কথার শব্দ এক দিকে, আর ফকিহের সমঝ (চিন্তাধারা) থাকে অন্যদিকে।
ইয়েমেনে এক ইহুদির ভাই মারা গেল। ওই ইহুদির ওয়ারিস তার ভাই ছিল। প্রশ্ন হলো, মুসলমান মুমিন ব্যক্তি ইহুদির ওয়ারিস হতে পারবে কি না? তার সম্পত্তি পাবে কি না?
রাসূল সা. যা বলেছেন যার মর্মার্থ মোটামুটি এমন যে,
المُؤْمِنُ لَا يَرِثُ الْكَافِرَ، وَالْكَافِرُ لَا يَرِثُ الْمُؤْمِنَ.
‘মুমিন কাফেরের ওয়ারিস তথা সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় না আর কাফের মুমিনের উত্তরাধিকারী হয় না।’
এ কারণে সবাই বললো যে, ফয়সালা তো পরিষ্কার : মুমিন কাফেরের উত্তরাধিকারী হবে না।
মুআয বিন জাবাল রা. বললেন, উত্তরাধিকারী হবে।
কারণ, রাসূল সা. বলেছেন, الدِّيْنُ يَزِيْدُ وَلَا يَنْقُصُ ‘দ্বীন বৃদ্ধি করে, কমিয়ে দেয় না।’
যেখানে মিরাসের ব্যাপারে সরাসরি হাদীস রয়েছে, সেখান থেকে ফতোয়া না নিয়ে, যেটি আ‘ম (সাধারণ) একটি কথা, সেখান থেকে ফতোয়া নিলেন!
আর যে শুধু নিলেন তাই নয়; বরং অনেক সাহাবারা ছিলেন, তারা কেউই এর ফতোয়া অস্বীকার করলেন না।
অস্বীকার কেন করলেন না?
কারণ, রাসূল সা.-এর আস্থা ওনার উপরই আছে। তো তাফাক্কুহ এমন ভিন্ন একটি জিনিস, যার সাথে আল্লাহ তাআলার তাআল্লুক আছে, আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে তাকেই দান করেন।
আর এটি অনেক সময় যাহেরির বিপরীতও হয়ে থাকে। যাহেরিভাবে কথা একদিকের মনে হয়, কিন্তু মর্মার্থ ভিন্ন দিকের। এমনিভাবে অনেক শব্দ আ‘মভাবে শব্দের বিপরীত অর্থও হয়ে থাকে। যেমন, মজা দেখাবো। কে বলেছে? কিভাবে বলেছে? এর উপর নির্ভর করে মজাটা কী ধরনের।
আল্লাহ তাআলাও বলেন :
فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ آلِيْمٍ.
বাশ্শির অর্থ তো সুসংবাদ।
কিন্তু আজাবুন আলিমের অর্থ ‘যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’
এইটুকু তো বোঝা কঠিন নয়, কিন্তু অনেক জায়গায় অনেক সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে, যা কোন অর্থে ব্যবহার করা হয়ছে, বা এই হুকুমের অর্থ কী, সেটা সবার নিকট ধরা পড়বে না।
মুআয ইবনে জাবাল রা. যাহেরি দৃষ্টিতে রাসূল সা.-এর হাদীসের খেলাফ ফয়সালা করলেন, কিন্তু আল্লাহ তাআলা ওনাকেই বেশি সমঝ দিয়েছেন।
এজন্য অনেক সাহাবারা এই ফয়সালা ছাড়া মানবে না। বলবে, এটাই ঠিক। কেন? কারণ, আল্লাহ তাআলা তাকে তাফাক্কুহ দান করেছেন। আর এটি শব্দের অর্থের চেয়েও বেশি। এটি আল্লাহ তাআলার খাস নেয়ামত, আল্লাহ তাআলা দান করেন।
مَنْ يُّرِدِ اللهُ بِهِ خَيْرًا يُّفَقِّهْهُ فِي الدِّيْنِ.
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বক্ষের এই প্রশস্ততা আসে। আল্লাহ তাআলা অন্তরে এই তাফাক্কুহ ঢেলে দেন। কখন? যখন অন্তর পাক-পবিত্র হবে।
এইজন্য আল্লাহর পথে বের হয়ে অন্তরকে পাক-পবিত্র করা। এই কাকরাইলের সূরত ছাড়াও সব জামানায় কোনো না কোনোভাবে বের হতে হয়েছে স্বীয় পরিবেশ ছেড়ে।
আর অন্তরের পবিত্রতা অর্জন করতে হয়েছে। সাহাবাদের জামানায় অনেক বেশি কঠিন ছিল। মক্কায় তের বছর, মক্কায় থেকেও যেন ছিল মক্কার বাইরে। বাইরে থাকাও তো বড় নেয়ামত।
কারণ মক্কায় থাকায় তো কোনো নিরাপত্তাই নেই। নিজের বাড়িতে নিজের মা-বাবাই যেন মেরে ফেলে। অর্থাৎ, তাদের অবস্থা ছিল মক্কায় থেকেও যেন তারা মক্কার বাইরে ছিলেন। আর মক্কার বাইরে যেতে পারলেই যেন তাদের জান বাঁচে।
কিন্তু কাফেররা আবার মক্কার বাইরে যেতেও দিচ্ছে না। সুতরাং তাদের মক্কার ভেতরে থাকাটাও মক্কার ভেতরে ছিল না, বরং মারাত্মকভাবে মক্কার বাইরে ছিল। অর্থাৎ, মক্কার বাইরে এমনকি মরুভূমিতেও তারা নিরাপদ।
অথচ মক্কাতে তাদের মা-বাবা সবাই ছিলেন। সুতরাং এমন পরিস্থিতি আর পরিবেশ থেকে তাদের বের হতে হয়েছে। আর সব জামানাতেই এভাবে বের হয়ে নিজের অন্তরকে পাক-পবিত্র করতে হয়েছে। তবেই আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরে এই খাস তাফাক্কুহ দান করেছেন।
আল্লাহর খাস তাআল্লুক তথা সম্পর্ক দান করেছেন। আমরাও আল্লাহর পথে বের হয়ে আল্লাহর এই দ্বীনকে নিজের অন্তরে গ্রহণ করি। বের হবো না ইনশাআল্লাহ? ইনশাআল্লাহ।
প্রথম যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম যে, আল্লাহ তাআলা দেবেন ঠিকই, কিন্তু আমার জরফ (পাত্র)-কে পাক করতে হবে।
কারণ, এটি দুটো মিলেই সম্পন্ন হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
وَلَكُمْ فِيهَا جَمَالٌ حِينَ تُرِيحُونَ وَحِينَ تَسْرَحُونَ (৬)
গবাদি পশু সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘এর মধ্যে তোমাদের জন্য সৌন্দর্য্য রয়েছে যখন সকালবেলা যায় আর সন্ধ্যাবেলা ফেরে।’
কিসের মধ্যে? গবাদি পশুর মধ্যে। সৌন্দর্যটা কোথায়? পশুর মধ্যে নাকি সকাল-সন্ধ্যার মধ্যে? এ দুটো আলাদা করলে সৌন্দর্য থাকবে না। দুপুরবেলা যদি দেখা হয় যে, ঘরের মধ্যে বসে জাবর কাটছে, তবে এতে সৌন্দর্য নেই।
বিনা পশুতে যদি সন্ধ্যাবেলা তাকায়, তখনও ওই সৌন্দর্য নেই। ওই দুটো মিলেই সৌন্দর্য। সময় একটি পাত্র, حِينَ تُرِيحُونَ وَحِينَ تَسْرَحُونَ এই সময়ের মধ্যে যখন দেখা যায়, তখনই তার সৌন্দর্য।
একটির সাথে আরেকটি জড়িত। ঠিক তেমনিভাবে এই অন্তর যখন ওই মাত্রার পাক হবে, এর মধ্যে তখন আল্লাহ তাআলা তার কথাকে ঢালবেন, তখন তার সৌন্দর্য প্রকাশ পাবে। এজন্য নিজের দিলকে পাক করা আর আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে আল্লাহর কালামকে নেওয়া। নেব না ভাই ইনশাআল্লাহ? ইনশাআল্লাহ।
সবাই নিয়ত করি, যত বেশি পারি, যত দ্রুত পারি, ইনশাআল্লাহ আল্লাহর পথে বের হয়ে আমরা এই মেহনত করবো যেন আল্লাহ তাআলা এই দ্বীনের উপযুক্ত বহনকারী বানান। (আমিন।)
যে এই দ্বীনের একটি কথা জানে, সেও দ্বীনের বহনকারী। আর ওই ওই মাত্রায় তাকে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। আর যে একশ কথা বা এক হাজার কথা জানে, সে ওই মাত্রার বহনকারী, তাকেও এটি বহন করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
যাকে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের যতবেশি নিকটবর্তী আল্লাহ তাআলা করেছেন বা সে নিজে হতে চায়, তার ওপর ততবেশি এ দায়িত্ব। সেজন্য কেয়ামত পর্যন্ত রাসূল সা.-এর সঙ্গে বিশেষ রক্তের সম্পর্কওয়ালাদের জন্যে যাকাত গ্রহণ জায়েয নয়।
রিজিকের জন্যও উচ্চ দরজার প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবে; উপবাস থাকবে; কিন্তু যাকাত যেন না নেয়। ওই মাত্রায় নিজের মধ্যে পাকি অর্জন করতে হবে। যে মাত্রায় আমি নিজেকে উন্নত রাখতে চাই, সে মাত্রায় আমাকে পবিত্র রাখতে হবে। যদিও এটি সহজ হবে না। ‘যাকাত নেব না? উপবাস করবো?’ ‘হ্যাঁ, তাই করতে হবে।’ যে উপবাস ভয় করে, সে যাকাত নিয়ে নিবে। আর নিলে মর্যাদাটা রক্ষা হবে না
। আর যে উপবাসের ভয়কে অতিক্রম করতে পেরেছে, সে মুসতাগনি (অমুখাপেক্ষী) থাকবে। তো আল্লাহর পথে বের হয়ে নিজের জন্য এই হিম্মত অর্জন করতে হবে। ঠিক আছে না ইনশাআল্লাহ? ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাওফিক নসিব করুন।
নিয়ত করি ইনশাআল্লাহ, যার যে তরতিব, তা পূর্ণ হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা, আলেমদের সালের জন্য বের হয়ে যাওয়া। আর এখানে সেই কথাটি ঘুরে ফিরে আসে যে, সবার জন্য তিন চিল্লা আর উলামাদের জন্য এক বছর কেন? এর উত্তর হলো, উলামা যদি আওয়াম হতে চায়, তবে কোনো অসুবিধা নেই।
তাহলে তিন চিল্লা দিয়ে পাবলিক হয়ে যাক। আর যদি আলেম হিসেবে থাকতে চায় তবে বছরের জন্য বের হতে হবে। এখন এক্তিয়ার যে, আমি আলেম হবো নাকি পাবলিক হবো! আল্লাহ তাআলা আমাদের বহন করার তাওফিক নসিব করুক। হিম্মত করে বলি ইনশাআল্লাহ।
আলেমদের ফারেগ হয়ে যাওয়ার পরে অন্য কাজে হাত দেওয়ার আগে আগেই বের হয়ে পড়বেন। পড়াশোনার অংশে খুরুজে বের হওয়া তো পড়াশোনারই অংশ হিসেবে রয়ে গেল। যদি কেউ ছাত্রাবস্থায় বের হতে চায় তবে সেটি পড়াশোনারই অংশ; কিন্তু ফারেগ হওয়ার পর অন্য কাজে যাওয়ার আগে এক সাল পূর্ণ করাÑএ নিয়ত করি ইনশাআল্লাহ।
আজ হোক আ দু-তিন বছর পরে হোক, ফারেগ হওয়ার পর অন্য কাজে হাত দেওয়ার আগে এক সাল দ্বীনের পথে পুরো করি ইনশাআল্লাহ। হিম্মত করে দাঁড়িয়ে যাই ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা তাওফিক দান করুক ইনশাআল্লাহ।
এ বছর যাদের পড়া শেষ হয়ে যাচ্ছে, অর্থাৎ এ বছরের জন্য যারা সালের জন্য বের হতে পারে, তারা কারা? মাশাআল্লাহ, জাযাকাল্লাহ, তাশরিফ রাখি।
বাকি যারা আছি, আমাদের লম্বা ছুটি আছে রমযানের সময়। প্রায় দু মাস। কমপক্ষে এক চিল্লা, যদি এরচেয়েও বেশি কেউ করতে চান, আলাদা কথা।
রমযানের ছুটিতে পুরোপুরি এক চিল্লার জন্য কারা বের হবো? তারা বিসমিল্লাহ বলে দাঁড়াই। মাশাআল্লাহ।
পুরো মজমার মধ্যে যদি এমন কেউ থাকি যে, বিশেষ কোনো কারণে আমি নাম লেখাতে পারছি না। রমযানে আমার সঙ্গত বিশেষ কোনো ওজর আছে। আর ওজরটি এমন যদি হয় যে, আমার ওজর রয়েছে ঠিকই, আমি চেষ্টা করছি সে ওজরটি কাটিয়ে ওঠার। দোয়া করছি, চেষ্টা করছি।
আল্লাহ তাআলা যদি মেহেরবানি করে সে ওজরটি কাটিয়ে দেন, তবে আমার চিল্লা হয়ে যাবে; কিন্তু এ মুহূর্তে অনিশ্চিত, তবে নাম লেখাতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ নিশ্চয়তা চাওয়া হয় না, চেষ্টা চাওয়া হয়। সুতরাং যারা কোনো কারণে নাম লেখাতে পারছি না, কোনো অসুবিধা সামনের নজরে আসছে; কিন্তু আমি চেষ্টা করবো, তবে এই চেষ্টার ওপরও দাঁড়াই যে, আমি চেষ্টা করবো রমযানে চিল্লা দেওয়ার জন্য।
মাশাআল্লাহ। আমরা সবাই গিয়েও নাম লেখাই। কারণ যারা নামছে, তারাও তো ওই পথে। হওয়া বা না হওয়া তো আল্লাহর হাতে। মাশাআল্লাহ! আল্লাহ কবূল করুক। (আমিন)
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَكَ اللّهُمَّ أسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ.
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন