আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

الترغيب والترهيب للمنذري

২০. অধ্যায়ঃ হদ্দ - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ২৬৭ টি

হাদীস নং: ৩৫৫২
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ শরী'আতের বিধান কার্যকর না করা এবং নিষিদ্ধ বিষয় অমান্য করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩৫৫২. হযরত নাওয়াস ইবনে সাম'আন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা সীরাতে মুস্তাকীমের একটি দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন। সীরাতে মুস্তাকীমের রয়েছে দু'টো পার্শ্ব। এ দু'টোর থাকবে অনেকগুলো উন্মুক্ত দরজা এবং দরজাগুলোর উপর পর্দা থাকবে। একজন আহ্বানকারীর উপর থেকে তাকে ডাকবে وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ আর আল্লাহ্ শান্তির আবাসের দিকে ডাকেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন"। (সূরা ইউনুসঃ ২৫) সীরাতে মুস্তাকীমের উপর যে সকল দরজা থাকবে সেগুলো হলঃ হুদুদুল্লাহ্ (আল্লাহর আইনের সীমারেখা)।
কেউ কারো গোপনীয়তা ফাঁস না করা পর্যন্ত সে আল্লাহর আইন লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত হবে না। আর উপর থেকে আহ্বানকারী হলেন উপদেশদানকারী তার প্রতিপালক।
(ইমাম তিরমিযী (র) বাকীয়া সূত্রে বুজায়র ইবনে সা'দ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান গরীব।
كنفا الصراط সীরাতে মুস্তাকীমের দুই পার্শ্ব।)
كتاب الحدود
التَّرْهِيب من مواقعة الْحُدُود وانتهاك الْمَحَارِم
3552- وَعَن النواس بن سمْعَان رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن الله ضرب مثلا صراطا مُسْتَقِيمًا على كنفي الصِّرَاط داران لَهما أَبْوَاب مفتحة على الْأَبْوَاب ستور وداع يَدْعُو فَوْقه وَالله يَدْعُو إِلَى دَار السَّلَام وَيهْدِي من يَشَاء إِلَى صِرَاط مُسْتَقِيم يُونُس 52
والأبواب الَّتِي على كنفي الصِّرَاط حُدُود الله فَلَا يَقع أحد فِي حُدُود الله حَتَّى يكْشف السّتْر وَالَّذِي يَدْعُو من فَوْقه واعظ ربه عز وَجل

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ من رِوَايَة بَقِيَّة عَن بجير بن سعد وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب
كنفا الصِّرَاط بالنُّون جانباه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫৫৩
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ শরী'আতের বিধান কার্যকর না করা এবং নিষিদ্ধ বিষয় অমান্য করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩৫৫৩. হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর উপর অবিচল থাক এবং বক্রপথ অবলম্বন করো না। তার উপরে একজন আহ্বানকারী আছেন। তিনি আহ্বান করছেন। যখনই বান্দা একটি দরজার পর্দা উন্মোচিত করতে চায়, তখন তিনি বলেন: তোমার ধ্বংস হোক, তুমি তা উন্মুক্ত করো না। যদি তুমি উন্মুক্ত কর, তবে তুমি তাতে ঢুকে পড়বে। এরপর তিনি তার ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি জানালেন যে, সীরাত হল ইসলাম। উন্মুক্ত দরজাসমূহ হল, আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু, ঝুলন্ত পর্দা হল আল্লাহর আইনের সীমারেখা, সীরাতের মাথায় আহবানকারী হল কুরআন এবং উপর থেকে আহবানকারী হলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যেক মু'মিনের অন্তরে উপদেশদানকারী।
(রাযীন বর্ণিত। আমি মনে করি বর্ণনাটি নীতিমালা বহির্ভূত। উক্ত হাদীসটি বাযযার ও আহমাদ সংক্ষেপে উপরোক্ত শব্দ ব্যতীত উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الحدود
التَّرْهِيب من مواقعة الْحُدُود وانتهاك الْمَحَارِم
3553- وَعَن ابْن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ ضرب الله مثلا صراطا مُسْتَقِيمًا وَعَن جنبتي الصِّرَاط سوران فيهمَا أَبْوَاب مفتحة وعَلى الْأَبْوَاب ستور مرخاة وَعند رَأس الصِّرَاط يَقُول اسْتَقِيمُوا على الصِّرَاط وَلَا تعوجوا وَفَوق ذَلِك دَاع يَدْعُو كلما هم عبد أَن يفتح شَيْئا من تِلْكَ الْأَبْوَاب قَالَ وَيحك لَا تفتحه فَإنَّك إِن تفتحه تلجه ثمَّ فسره فَأخْبر أَن الصِّرَاط هُوَ الْإِسْلَام وَأَن الْأَبْوَاب المفتحة محارم الله وَأَن الستور المرخاة حُدُود الله والداعي على رَأس الصِّرَاط هُوَ الْقُرْآن والداعي من فَوْقه هُوَ واعظ الله فِي قلب كل مُؤمن

ذكره رزين وَلم أره فِي أُصُوله إِنَّمَا رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَزَّار مُخْتَصرا بِغَيْر هَذَا اللَّفْظ بِإِسْنَاد حسن
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫৫৪
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ শরী'আতের বিধান কার্যকর না করা এবং নিষিদ্ধ বিষয় অমান্য করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩৫৫৪. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে নিম্নোক্ত উপদেশ আমার থেকে গ্রহণ করবে। এবং তা আমল করবে অথবা যে আমল করতে চায়, তাকে শিক্ষা দেবে? হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি। এরপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং পাঁচটি উপদেশ গণনা করে শুনালেন। তিনি বললেন, তা হলঃ ১. আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু থেকে বেঁচে থাকলে তুমি সর্বোত্তম ইবাদতকারীরূপে গণ্য হবে, ২. আল্লাহ্ তোমার জন্য যা নির্ধারন করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকলে তুমি মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ধনী হবে, ৩. তুমি তোমার প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ করলে তুমি খাঁটি মু'মিন হবে, ৪. তুমি যা নিজের জন্য পসন্দ কর, তা অন্যের জন্যও পসন্দ করলে তবে তুমি খাঁটি মুসলমান হবে, এবং ৫. তুমি অধিক হাসি ঠাট্টা করো না, কেননা অধিক হাসি-ঠাট্টা অন্তরকে নিষ্প্রাণ করে দেয়।
(তিরমিযী বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হাদীসটি হাসান গরীব। আমি কেবল জা'ফর ইবনে সুলায়মান সূত্রে হাদীসটি জানি। হাসান (র) আবু হুরায়রা (রা) থেকে হাদীসটি শুনেন। ইবনে মাজাহ, বায়হাকী এবং অন্যান্যগণ ওয়াসিলা সূত্রে আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণনা করেন। এই গ্রন্থের প্রথম দিকে তাকওয়ার ফযীলত সম্পর্কে বহু হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং অপরাপর হাদীস সামনে আসবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।)
كتاب الحدود
التَّرْهِيب من مواقعة الْحُدُود وانتهاك الْمَحَارِم
3554- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من يَأْخُذ مني هَذِه الْكَلِمَات فَيعْمل بِهن أَو يعلم من يعْمل بِهن فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَة قلت أَنا يَا رَسُول الله فَأخذ بيَدي وعد خمْسا قَالَ اتَّقِ الْمَحَارِم تكن أعبد النَّاس وَارْضَ بِمَا قسم الله لَك تكن أغْنى النَّاس وَأحسن إِلَى جَارك تكن مُؤمنا وَأحب للنَّاس مَا تحب لنَفسك تكن مُسلما وَلَا تكْثر الضحك فَإِن كَثْرَة الضحك تميت الْقلب

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب لَا نعرفه إِلَّا من حَدِيث جَعْفَر بن سُلَيْمَان وَالْحسن لم يسمع من أبي هُرَيْرَة وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ وَغَيرهمَا من حَدِيث وَاثِلَة عَن أبي هُرَيْرَة وَتقدم فِي هَذَا الْكتاب أَحَادِيث كَثِيرَة جدا فِي فضل التَّقْوَى وَيَأْتِي أَحَادِيث أخر وَالله أعلم
হাদীস নং: ৩৫৫৫
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ হুদূদ (আল্লাহর আইন) প্রতিষ্ঠার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং শিথীলতা প্রদর্শন করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩৫৫৫. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এক মাস বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার চেয়ে আল্লাহর আইন তাঁর যমীনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া পৃথিবীবাসীর জন্য উত্তম।
كتاب الحدود
التَّرْغِيب فِي إِقَامَة الْحُدُود والترهيب من المداهنة فِيهَا
3555- عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لحد يُقَام فِي الأَرْض خير لأهل الأَرْض من أَن يمطروا ثَلَاثِينَ صباحا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫৫৬
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ হুদূদ (আল্লাহর আইন) প্রতিষ্ঠার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং শিথীলতা প্রদর্শন করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩৫৫৬. অন্য বর্ণনায় আছেঃ হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেছেন: চল্লিশ দিন (রাত) বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার চেয়ে আল্লাহর একটি আইন তাঁর যমীনে প্রতিষ্ঠা করা পৃথিবীবাসীর জন্য উত্তম।
(ইমাম নাসাঈ (র) অনুরূপ মারফু' ও মাওকুফ সনদে বর্ণনা করেন এবং ইবনে মাজা। ইবনে মাজা (র) তাঁর নিজ শব্দযোগে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "চল্লিশ দিন বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার চেয়ে আল্লাহর একটি আইন তার যমীনে বাস্তবায়ন করা উত্তম"। ইমাম ইবনে মাজা (র) তাঁর সহীহ গ্রন্থে নিজ শব্দে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "চল্লিশ দিন বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার চেয়ে আল্লাহর একটি আইন তাঁর যমীনে কায়েম করা জগদ্বাসীর জন্য উত্তম"।)
كتاب الحدود
التَّرْغِيب فِي إِقَامَة الْحُدُود والترهيب من المداهنة فِيهَا
3556- وَفِي رِوَايَة قَالَ أَبُو هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ إِقَامَة حد فِي الأَرْض خير لأَهْلهَا من أَن يمطروا أَرْبَعِينَ لَيْلَة

رَوَاهُ النَّسَائِيّ هَكَذَا مَرْفُوعا وموقوفا وَابْن مَاجَه وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حد يعْمل بِهِ فِي الأَرْض خير لأهل الأَرْض من أَن يمطروا أَرْبَعِينَ صباحا
وَابْن مَاجَه فِي صَحِيحه وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِقَامَة حد بِأَرْض خير لأَهْلهَا من مطر أَرْبَعِينَ صباحا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫৫৭
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ হুদূদ (আল্লাহর আইন) প্রতিষ্ঠার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং শিথীলতা প্রদর্শন করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩৫৫৭. ইমাম ইবনে মাজা (র) সূত্রে ও ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর যমীনে তাঁর একটি আইন কায়েম করা, চল্লিশ দিন বৃষ্টি বর্ষিত হওয়া থেকে জগদ্বাসীর জন্য উত্তম।
كتاب الحدود
التَّرْغِيب فِي إِقَامَة الْحُدُود والترهيب من المداهنة فِيهَا
3557- وروى ابْن مَاجَه أَيْضا عَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِقَامَة حد من حُدُود الله خير من مطر أَرْبَعِينَ لَيْلَة فِي بِلَاد الله
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫৫৮
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ হুদূদ (আল্লাহর আইন) প্রতিষ্ঠার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং শিথীলতা প্রদর্শন করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩৫৫৮. হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন,ন্যায়পরায়ণ শাসকের অধীনে একদিন অতিবাহিত করা, ষাট বছরের ইবাদত অপেক্ষা উত্তম। আল্লাহর যমীনে তাঁর একটি আইন যথাযথভাবে কায়েম করা, চল্লিশ বছর বৃষ্টি বর্ধিত হওয়ার চেয়েও উত্তম।
(তাবারানী উত্তম সনদে একশ শব্দে হাদীসটি বর্ণনা করেন।)
كتاب الحدود
التَّرْغِيب فِي إِقَامَة الْحُدُود والترهيب من المداهنة فِيهَا
3558- وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَوْم من إِمَام عَادل أفضل من عبَادَة سِتِّينَ سنة وحد يُقَام فِي الأَرْض بِحقِّهِ أزكى فِيهَا من مطر أَرْبَعِينَ عَاما

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد حسن وَهُوَ غَرِيب بِهَذَا اللَّفْظ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫৫৯
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ হুদূদ (আল্লাহর আইন) প্রতিষ্ঠার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং শিথীলতা প্রদর্শন করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩৫৫৯. হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা নিকট ও দূর নির্বিশেষে সবার মধ্যে আল্লাহর আইন কায়েম কর। এ ব্যাপারে যেন কোন নিন্দুকের নিন্দা তোমাদের অন্তরায় না হয়।
(ইবনে মাজা বর্ণিত, তাঁর বর্ণনাসূত্র বিশুদ্ধ, কেবলমাত্র রাবী'আ ইবনে নাজিদ ব্যতীত। যেহেতু আমার জানামতে আবু সাদিক ব্যতীত কোন বর্ণনাকারী তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেন নি।)
كتاب الحدود
التَّرْغِيب فِي إِقَامَة الْحُدُود والترهيب من المداهنة فِيهَا
3559- وَعَن عبَادَة بن الصَّامِت رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أقِيمُوا حُدُود الله فِي الْقَرِيب والبعيد وَلَا تأخذكم فِي الله لومة لائم

رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَرُوَاته ثِقَات إِلَّا أَن ربيعَة بن ناجد لم يرو عَنهُ إِلَّا أَبَا صَادِق فِيمَا أعلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫৬০
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ হুদূদ (আল্লাহর আইন) প্রতিষ্ঠার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং শিথীলতা প্রদর্শন করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩৫৬০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: মাখযুমী গোত্রীয় চোরের শাস্তি বিধানের ব্যাপারে কুরায়শরা চিন্তিত হয়ে পড়ল। এরপর তারা বলল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে এ ব্যাপারে কে কথা বলতে পারে? তারা বললঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর প্রিয়পাত্র উসামা ইবনে যায়িদ (রা) ব্যতীত এ সাহসের কাজ আর কে করবে। পরে উসামা (রা) তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেন: হে উসামা! তুমি কি আল্লাহর আইন লংঘনের সুপারিশ করতে চাও? এরপর তিনি বলেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতের শরীফ খান্দানের কেউ চুরি করলে তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যদি দুর্বল ব্যক্তি চুরি করত, তবে তারা তার উপর আল্লাহর বিধান কার্যকর করত। আল্লাহর শপথ! যদি ফাতিমা বিনত মুহাম্মাদ চুরি করত, তবে আমি তার হাত কেটে দিতাম।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণিত।)
كتاب الحدود
التَّرْغِيب فِي إِقَامَة الْحُدُود والترهيب من المداهنة فِيهَا
3560- وَعَن عَائِشَة رَضِي الله عَنْهَا أَن قُريْشًا أَهَمَّهُمْ شَأْن المخزومية الَّتِي سرقت فَقَالُوا من يكلم فِيهَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ثمَّ قَالُوا من يجترىء عَلَيْهِ إِلَّا أُسَامَة بن زيد حب
رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَكَلمهُ أُسَامَة فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَا أُسَامَة أَتَشفع فِي حد من حُدُود الله ثمَّ قَامَ فَاخْتَطَبَ فَقَالَ إِنَّمَا هلك الَّذين من قبلكُمْ أَنهم كَانُوا إِذا سرق فيهم الشريف تَرَكُوهُ وَإِذا سرق فيهم الضَّعِيف أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَد وَايْم الله لَو أَن فَاطِمَة بنت مُحَمَّد سرقت لَقطعت يَدهَا

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه
হাদীস নং: ৩৫৬১
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ হুদূদ (আল্লাহর আইন) প্রতিষ্ঠার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং শিথীলতা প্রদর্শন করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩৫৬১. হযরত নু'মান ইবনে বাশীর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী এবং সীমালংঘনকারীর দৃষ্টান্ত হলঃ একদল লোক লটারী করে একটি সমুদ্রযানে উঠলো। তাদের কতক নিচের তলায়, আর কতক উপরের তলায় স্থান পেল। নিচের তলার লোকদের পানির প্রয়োজন হলে তারা তাদের উপরের তলার লোকদের কাছ দিয়ে পানি আনতে যায়। পরে তার (নিচের তলার লোকেরা) পরস্পর বলল: আমরা যদি আমাদের এখান দিয়ে একটি ছিদ্র করে নেই, তবে উপরের তলার লোকদের কষ্ট দেওয়া থেকে বাঁচা যেত। এখন যদি তারা (উপরের তলার লোকেরা) তাদেরকে একাজ করতে দেয়, তবে সবাই ধ্বংস হবে, আর যদি তারা তাদেরকে বাধা দেয়, তবে নিজেরাও বাঁচতে পারবে এবং সবাইকে বাঁচাতেও পারবে।
(বুখারী নিজ শব্দে তিরমিযী ও অন্যান্যগণ কর্তৃক বর্ণিত। الشفاعة المانعة من حد من حدود الله تعالی অনুচ্ছেদে এ পর্যায়ে হাদীস পেছনে অতিবাহিত হয়েছে।)
كتاب الحدود
التَّرْغِيب فِي إِقَامَة الْحُدُود والترهيب من المداهنة فِيهَا
3561- وَعَن النُّعْمَان بن بشير رَضِي الله عَنْهُمَا أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ مثل الْقَائِم فِي حُدُود الله وَالْوَاقِع فِيهَا كَمثل قوم استهاموا على سفينة فَأصَاب بَعضهم أَعْلَاهَا وَبَعْضهمْ أَسْفَلهَا فَكَانَ الَّذين فِي أَسْفَلهَا إِذا استقوا من المَاء مروا على من فَوْقهم فَقَالُوا لَو أَنا خرقنا فِي نصيبنا خرقا وَلم نؤذ من فَوْقنَا فَإِن تركوهم وَمَا أَرَادوا هَلَكُوا جَمِيعًا وَإِن أخذُوا على أَيْديهم نَجوا ونجوا جَمِيعًا

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَالتِّرْمِذِيّ وَغَيره وَتَقَدَّمت أَحَادِيث فِي الشَّفَاعَة الْمَانِعَة من حد من حُدُود الله تَعَالَى
হাদীস নং: ৩৫৬২
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ মদ পান করা, বেচা-কেনা, মদ তৈরি করা, বহন করা ও তার মূল্য ভোগ করার ব্যাপারে কঠোরতা ও তার প্রতি ভীতিপ্রদর্শন এবং তা বর্জন করা ও তা থেকে তাওবা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩৫৬২. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: ব্যভিচারীর ব্যভিচার করার সময় ঈমান থাকে না, মদপানকারীর মদ পান করার সময় ঈমান থাকে না, চোরের চুরি করার সময় ঈমান থাকে না।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ বর্ণিত। ইমাম মুসলিম (র) আরও বেশী শব্দযোগে বর্ণনা করেন। আবু দাউদ (ব)-এর অন্য বর্ণনায় আছে: "ولا يشرب الخمر حين يشربها وهو مؤمن মদপানকারীর মদ পান কালে ঈমান থাকে না। কিন্তু তারপরেও তাওবার দরজা উন্মুক্ত থাকে।)
كتاب الحدود
التَّرْهِيب من شرب الْخمر وَبَيْعهَا وشرائها وعصرها وَحملهَا وَأكل ثمنهَا وَالتَّشْدِيد فِي ذَلِك وَالتَّرْغِيب فِي تَركه وَالتَّوْبَة مِنْهُ
3562- عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَا يَزْنِي الزَّانِي حِين يَزْنِي وَهُوَ مُؤمن وَلَا يسرق السَّارِق حِين يسرق وَهُوَ مُؤمن وَلَا يشرب الْخمر حِين يشْربهَا وَهُوَ مُؤمن

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَزَاد مُسلم وَفِي رِوَايَة وَأَبُو دَاوُد بعد قَوْله وَلَا يشرب الْخمر حِين يشْربهَا وَهُوَ مُؤمن وَلَكِن التَّوْبَة معروضة بعد
হাদীস নং: ৩৫৬৩
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ মদ পান করা, বেচা-কেনা, মদ তৈরি করা, বহন করা ও তার মূল্য ভোগ করার ব্যাপারে কঠোরতা ও তার প্রতি ভীতিপ্রদর্শন এবং তা বর্জন করা ও তা থেকে তাওবা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩৫৬৩. নাসাঈর বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন। ব্যভিচারীর ব্যভিচারকালে ঈমান থাকে না, চোরের চুরির সময় ঈমান থাকে না, মদপানকারীর মদ পানের সময় ঈমান থাকে না। চতুর্থটি তিনি উল্লেখ করেন, কিন্তু আমি তা ভুলে গেছি। এরপর তিনি বলেনঃ সে যখন এরূপ করে, তখন ইসলামের রশি তার গর্দান থেকে খসে পড়ে। পরে সে তাওবা করলে আল্লাহ্ তার তাওবা কবুল করেন।
كتاب الحدود
التَّرْهِيب من شرب الْخمر وَبَيْعهَا وشرائها وعصرها وَحملهَا وَأكل ثمنهَا وَالتَّشْدِيد فِي ذَلِك وَالتَّرْغِيب فِي تَركه وَالتَّوْبَة مِنْهُ
3563- وَفِي رِوَايَة النَّسَائِيّ قَالَ لَا يَزْنِي الزَّانِي وَهُوَ مُؤمن وَلَا يسرق السَّارِق وَهُوَ مُؤمن وَلَا يشرب الْخمر وَهُوَ مُؤمن وَذكر رَابِعَة فنسيتها فَإِذا فعل ذَلِك فقد خلع ربقة الْإِسْلَام من عُنُقه فَإِن تَابَ تَابَ الله عَلَيْهِ
হাদীস নং: ৩৫৬৪
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ মদ পান করা, বেচা-কেনা, মদ তৈরি করা, বহন করা ও তার মূল্য ভোগ করার ব্যাপারে কঠোরতা ও তার প্রতি ভীতিপ্রদর্শন এবং তা বর্জন করা ও তা থেকে তাওবা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩৫৬৪. হযরত ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মদ মদপানকারী, যে মদপান করায়, তার ক্রেতা ও বিক্রেতা, তা প্রস্তুতকারী, পাত্রে পরিবেশনকারী, তা বহনকারী এবং যার কাছে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়, তার প্রতি আল্লাহ তা'আলার লা'নত।
(আবু দাউদ তাঁর নিজ শব্দে ও ইবনে মাজাহ বর্ণিত। ইবনে মাজাহ (র) এর বর্ণনায়: وآكل ثمنها (যে তার মূল্য ভোগ করে) অতিরিক্ত এসেছে।)
كتاب الحدود
التَّرْهِيب من شرب الْخمر وَبَيْعهَا وشرائها وعصرها وَحملهَا وَأكل ثمنهَا وَالتَّشْدِيد فِي ذَلِك وَالتَّرْغِيب فِي تَركه وَالتَّوْبَة مِنْهُ
3564- وَعَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لعن الله الْخمر وشاربها وساقيها ومبتاعها وبائعها وعاصرها ومعتصرها وحاملها والمحمولة إِلَيْهِ

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَاللَّفْظ لَهُ وَابْن مَاجَه وَزَاد وآكل ثمنهَا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫৬৫
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ মদ পান করা, বেচা-কেনা, মদ তৈরি করা, বহন করা ও তার মূল্য ভোগ করার ব্যাপারে কঠোরতা ও তার প্রতি ভীতিপ্রদর্শন এবং তা বর্জন করা ও তা থেকে তাওবা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩৫৬৫. হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) মদের ব্যাপারে দশ ব্যক্তির প্রতি লা'নত করেছেন। তারা হল: ১. মদ প্রস্তুতকারী, ২. পাত্রে পরিবেশনকারী ৩. পানকারী, ৪. বহনকারী, ৫. যার কাছে বহন করা হয়, ৬. যে পান করায়, ৭. বিক্রেতা, ৮. মূল্য ভোগকারী, ৯. ক্রেতা এবং ১০. যার জন্য ক্রয় করা হয়।
(ইবনে মাজা, তিরমিযী (র) নিজ শব্দে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ হাদীসটি গরীব।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন): এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।)
كتاب الحدود
التَّرْهِيب من شرب الْخمر وَبَيْعهَا وشرائها وعصرها وَحملهَا وَأكل ثمنهَا وَالتَّشْدِيد فِي ذَلِك وَالتَّرْغِيب فِي تَركه وَالتَّوْبَة مِنْهُ
3565 - وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِك رَضى اللهُ عَنْهُ قَالَ : لَعَنَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي الْخَمْرِ عَشْرَة :عَاصِرَهَا وَمُعْتَصِرَهَا ، وَشَارِبَهَا وَحَامِلَهَا ، وَالمَحمُولَةَ إِلَيْهِ وَسَاقِبهَا وَبَائِعَهَا وَآكِلَ ثَمَنِهَا والمُشْتَرِي لَهَا ، وَالْمُشْتَرَى لَهُ .
رواه ابن ماجه والترمذى واللفظ له ، وقال : حديث غريب -
قال الحافظ : ورواته ثقات -
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫৬৬
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ মদ পান করা, বেচা-কেনা, মদ তৈরি করা, বহন করা ও তার মূল্য ভোগ করার ব্যাপারে কঠোরতা ও তার প্রতি ভীতিপ্রদর্শন এবং তা বর্জন করা ও তা থেকে তাওবা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩৫৬৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ্ তা'আলা মদ ও তার মূল্য হারাম করেছেন, তিনি হারাম করেছেন মৃত এবং তার মূল্য এবং হারাম করেছেন শূকর ও তার মূল্য।
(আবু দাউদ ও অপরাপর হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত।)
كتاب الحدود
التَّرْهِيب من شرب الْخمر وَبَيْعهَا وشرائها وعصرها وَحملهَا وَأكل ثمنهَا وَالتَّشْدِيد فِي ذَلِك وَالتَّرْغِيب فِي تَركه وَالتَّوْبَة مِنْهُ
3566- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الله حرم الْخمر وَثمنهَا وَحرم الْميتَة وَثمنهَا وَحرم الْخِنْزِير وثمنه

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَغَيره
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫৬৭
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ মদ পান করা, বেচা-কেনা, মদ তৈরি করা, বহন করা ও তার মূল্য ভোগ করার ব্যাপারে কঠোরতা ও তার প্রতি ভীতিপ্রদর্শন এবং তা বর্জন করা ও তা থেকে তাওবা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩৫৬৭. হযরত ইবনে আব্বাস (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আল্লাহ্ তা'আলা ইয়াহুদীদের উপর তিনবার লা'নত করেছেন। তা হলঃ আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর চর্বি হারাম করেছেন, অথচ তারা তা বিক্রি করছে, তার মূল্য ভোগ করছে। আল্লাহ্ তা'আলা যখন কোন জাতির জন্য কোন বস্তু হারাম করেন, তখন তাদের উপর তার মূল্যও হারাম করেন।
(আবু দাউদ বর্ণিত।)
كتاب الحدود
التَّرْهِيب من شرب الْخمر وَبَيْعهَا وشرائها وعصرها وَحملهَا وَأكل ثمنهَا وَالتَّشْدِيد فِي ذَلِك وَالتَّرْغِيب فِي تَركه وَالتَّوْبَة مِنْهُ
3567- وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لعن الله الْيَهُود ثَلَاثًا إِن الله حرم عَلَيْهِم الشحوم فَبَاعُوهَا فَأَكَلُوا أثمانها إِن الله إِذا حرم على قوم أكل شَيْء حرم عَلَيْهِم ثمنه

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫৬৮
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ মদ পান করা, বেচা-কেনা, মদ তৈরি করা, বহন করা ও তার মূল্য ভোগ করার ব্যাপারে কঠোরতা ও তার প্রতি ভীতিপ্রদর্শন এবং তা বর্জন করা ও তা থেকে তাওবা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩৫৬৮. হযরত মুগীরা ইবনে শু'বা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি মদ কেনা-বেচা করে, সে যেন শূকরের গোশত মানুষের মধ্যে বণ্টন করে দিল।
(আবু দাউদ বর্ণিত।
[ইমাম খাত্তাবী (র) বলেন: এই হাদীসের অর্থ হলঃ হারামের প্রতি গুরুত্বারোপ করা ও তার প্রতি কঠোরতা প্রকাশ করা। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মদ বেচা-কেনা বৈধ মনে করে, সে যেন শূকরের গোশত খাওয়া বৈধ মনে করল। কেননা, উভয় বস্তু হারাম ও গুনাহ হওয়ার ব্যাপারে সমান। সুতরাং তুমি শূকরের গোশত ভক্ষণ হালাল মনে কর না। কাজেই মদ পান করাও হালাল মনে করবে না।)
كتاب الحدود
التَّرْهِيب من شرب الْخمر وَبَيْعهَا وشرائها وعصرها وَحملهَا وَأكل ثمنهَا وَالتَّشْدِيد فِي ذَلِك وَالتَّرْغِيب فِي تَركه وَالتَّوْبَة مِنْهُ
3568- وَعَن الْمُغيرَة بن شُعْبَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من بَاعَ الْخمر فليشقص الْخَنَازِير

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد أَيْضا
قَالَ الْخطابِيّ معنى هَذَا توكيد التَّحْرِيم والتغليظ فِيهِ
يَقُول من اسْتحلَّ بيع الْخمر
فيستحل أكل الْخَنَازِير فَإِنَّهُمَا فِي الْحُرْمَة وَالْإِثْم سَوَاء فَإِذا كنت لَا تستحل أكل لحم الْخِنْزِير فَلَا تستحل ثمن الْخمر
انْتهى
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫৬৯
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ মদ পান করা, বেচা-কেনা, মদ তৈরি করা, বহন করা ও তার মূল্য ভোগ করার ব্যাপারে কঠোরতা ও তার প্রতি ভীতিপ্রদর্শন এবং তা বর্জন করা ও তা থেকে তাওবা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩৫৬৯. হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: আমার কাছে জিব্‌রাঈল (আ) এলেন। তিনি বলেন, হে মুহাম্মদ! মদ, মদপ্রস্তুতকারী, মদ প্রক্রিয়াজাতকারী, মদপানকারী, মদ বহনকারী, মদ বিক্রেতা, মদের ব্যবসা, যে পান করায়, যাকে পান করায় তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত।
(আহমাদ বিশুদ্ধ সনদ সূত্রে, ইবনে হিব্বানের সহীহ গ্রন্থে এবং হাকিম বর্ণনা করেন। ইমাম হাকিম (র) বলেন: হাদীসটি সনদসূত্রে বিশুদ্ধ।)
كتاب الحدود
التَّرْهِيب من شرب الْخمر وَبَيْعهَا وشرائها وعصرها وَحملهَا وَأكل ثمنهَا وَالتَّشْدِيد فِي ذَلِك وَالتَّرْغِيب فِي تَركه وَالتَّوْبَة مِنْهُ
3569- وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول أَتَانِي جِبْرِيل فَقَالَ يَا مُحَمَّد إِن الله لعن الْخمر وعاصرها ومعتصرها وشاربها والمحمولة إِلَيْهِ وبائعها ومبتاعها وساقيها ومسقاها

رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد صَحِيح وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫৭০
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ মদ পান করা, বেচা-কেনা, মদ তৈরি করা, বহন করা ও তার মূল্য ভোগ করার ব্যাপারে কঠোরতা ও তার প্রতি ভীতিপ্রদর্শন এবং তা বর্জন করা ও তা থেকে তাওবা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩৫৭০. হযরত আবু উমামা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ)- থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: এই উম্মাতের একটি দল (শরী'আত পরিপন্থী নিয়মে) পানাহার করবে ও খেল তামাসায় বিভোর থাকবে, তাদের চেহারা বানর ও শূকরে পরিণত করা হবে। তাদের এলাকায় জমি ধসে যাবে এবং পাথরের বৃষ্টি হবে, এমন কি মানুষ সকাল বেলা বলাবলি করবে, অমুক এলাকা ধসে গেছে, অমুক বাড়ী ধসে লূত সম্প্রদায়ের উপর যেমন পাথরের বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, তেমনি বর্ষিত হবে তাদের গোত্রের তাদের বাড়ীতে। ধ্বংসাত্মক বায়ু যা কাওমে আ'দকে ধ্বংস করেছে, অনুরূপ তাদের গোত্রের উপর তা প্রবাহিত হবে এবং যে সকল বাড়ীতে তারা মদপান করত সে সব বাড়ীতে। আর রেশমী বস্ত্র পরিধানের কারণে, যে নর্তকীদের তত্ত্বাবধান করায়, তাদের সুদ খাওয়া ও আত্মীয়তার ছিন্ন করায় (তাদের উপরও ধ্বংসলীলা চেপে বসবে।) উল্লেখ্য আরেকটির কথা জা'ফর ভুলে গেছেন।
(আহমাদ সংক্ষেপে, ইবনে আবুদ দুনিয়া ও বায়হাকী বর্ণনা করেন।)
كتاب الحدود
التَّرْهِيب من شرب الْخمر وَبَيْعهَا وشرائها وعصرها وَحملهَا وَأكل ثمنهَا وَالتَّشْدِيد فِي ذَلِك وَالتَّرْغِيب فِي تَركه وَالتَّوْبَة مِنْهُ
3570- وَرُوِيَ عَن أبي أُمَامَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ يبيت قوم من هَذِه الْأمة على طعم وَشرب وَلَهو وَلعب فيصبحوا قد مسخوا قردة وَخَنَازِير وليصيبهم خسف وَقذف حَتَّى يصبح النَّاس فَيَقُولُونَ خسف اللَّيْلَة ببني فلَان وَخسف اللَّيْلَة بدار فلَان خَواص ولترسلن عَلَيْهِم حِجَارَة من السَّمَاء كَمَا أرْسلت على قوم لوط على قبائل فِيهَا وعَلى دور ولترسلن عَلَيْهِم الرّيح الْعَقِيم الَّتِي أهلكت عادا على قبائل فيهاوعلى دور بشربهم الْخمر ولبسهم الْحَرِير واتخاذهم الْقَيْنَات وأكلهم الرِّبَا وقطيعتهم الرَّحِم وخصلة نَسِيَهَا جَعْفَر

رَوَاهُ أَحْمد مُخْتَصرا وَابْن أبي الدُّنْيَا وَالْبَيْهَقِيّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫৭১
অধ্যায়ঃ হদ্দ
পরিচ্ছেদঃ মদ পান করা, বেচা-কেনা, মদ তৈরি করা, বহন করা ও তার মূল্য ভোগ করার ব্যাপারে কঠোরতা ও তার প্রতি ভীতিপ্রদর্শন এবং তা বর্জন করা ও তা থেকে তাওবা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩৫৭১. হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ পনেরটি অপরাধের কারণে আমার উম্মাতের উপর বালা-মুসীবত অবধারিত হয়ে পড়বে। বলা হলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে গুলো কি কি? তিনি জবাবে বললেন: তাহল: ১. যখন গণীমতকে নিজ সম্পদ মনে করবে, ২. আমানতকে গনীমত মনে করবে। ৩. যাকাতকে জরিমানা মনে করবে, ৪. স্বামী তার স্ত্রীর অনুগত হবে, ৫. সন্তান মায়েদের সাথে অসদাচরণ করবে, আর বন্ধুর সাথে সদাচরণ করবে, ৬. পিতাকে কষ্ট দেবে ৭. মসজিদে উচ্চস্বরে কথাবার্তা হবে, ৮. নিকৃষ্ট ব্যক্তি জাতির নেতা হবে, ৯. অনিষ্টের আশংকায় যালিমকে সম্মান করবে, ১০. ব্যাপাকভাবে মদ পান করবে, ১১. রেশমী বস্ত্র পরিধান করবে, ১২. নর্তকী ও বাদ্যযন্ত্র প্রসার লাভ করবে, ১৩, উম্মাত তার পূর্ববর্তীদের অভিশাপ দেবে। আর তখন তোমরা আগুনের বাতাসের অপেক্ষা করবে অথবা তোমরা ধসে যাওয়া ও আকৃতি বিকৃতের অপেক্ষা করবে।
(তিরমিযী বর্ণিত। তিনি বলেন: হাদীসটি গরীব।)
كتاب الحدود
التَّرْهِيب من شرب الْخمر وَبَيْعهَا وشرائها وعصرها وَحملهَا وَأكل ثمنهَا وَالتَّشْدِيد فِي ذَلِك وَالتَّرْغِيب فِي تَركه وَالتَّوْبَة مِنْهُ
3571- وَرُوِيَ عَن عَليّ بن أبي طَالب رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا فعلت أمتِي خمس عشرَة خصْلَة حل بهَا الْبلَاء
قيل مَا هن يَا رَسُول الله قَالَ إِذا كَانَ الْمغنم دولا وَالْأَمَانَة مغنما وَالزَّكَاة مغرما وأطاع الرجل زَوجته وعق أمه وبر صديقه وجفا أَبَاهُ وَارْتَفَعت الْأَصْوَات فِي الْمَسَاجِد وَكَانَ زعيم الْقَوْم أرذلهم وَأكْرم الرجل مَخَافَة شَره وشربت الْخُمُور وَلبس الْحَرِير واتخذت الْقَيْنَات وَالْمَعَازِف وَلعن آخر هَذِه الْأمة أَولهَا فليرتقبوا عِنْد ذَلِك ريحًا حَمْرَاء أَو خسفا ومسخا

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب
tahqiq

তাহকীক: