আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
الترغيب والترهيب للمنذري
২৫. অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১১১ টি
হাদীস নং: ৫৫২০
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: হাওযে কাওসার, পাল্লা ও পুলসিরাত সম্পর্কে আলোচনা
৫৫২০. হযরত সালমান (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন মীযান বা পাল্লা কায়েম করা হবে। যদি তাতে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী রেখে দেওয়া হয়, তাও তাতে সংকুলান হবে। তখন ফিরিশতাগণ বলবে, প্রভু এ পাল্লা কাকে মাপবে? আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, আমার মাখলুক থেকে যাকে ইচ্ছা মাপবে। তারা বলবে, আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমরা আপনার ইবাদত করার মত ইবাদত করতে পারি নি।
(হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ্।)
(হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ্।)
كتاب البعث
فصل فِي الْحَوْض وَالْمِيزَان والصراط
5520- وَعَن سلمَان رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ يوضع الْمِيزَان يَوْم الْقِيَامَة فَلَو دري فِيهِ السَّمَوَات وَالْأَرْض لوسعت فَتَقول الْمَلَائِكَة يَا رب لمن يزن هَذَا فَيَقُول الله لمن شِئْت من خلقي فَيَقُولُونَ سُبْحَانَكَ مَا عبدناك حق عبادتك
رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم
رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫২১
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: হাওযে কাওসার, পাল্লা ও পুলসিরাত সম্পর্কে আলোচনা
৫৫২১. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহান্নামের মাঝে ধারালো তরবারির তীক্ষ্ণধারের মত পুলসিরাত কায়েম করা হবে, যা পিচ্ছিল ও পদস্খলনের স্থান। তাতে রয়েছে আগুনের হুক। তদ্দ্বারা সে ছোঁ মেরে ধরে রাখবে। যে আটক হবে, সে জাহান্নামে পড়ে যাবে এবং সাজা পাবে। তন্মধ্যে কেউ বিদ্যুতের গতিতে পার হবে। সুতরাং তার মুক্তি পেতে বিলম্ব হবে না। এরপর কেউ বায়ুর গতিতে পার হবে। কাজেই তার মুক্তি পেতে বিলম্ব হবে না। এরপর কেউ ঘোড়ার চলার মত, তারপর কেউ মানুষের দ্রুতগতিতে হাঁটার মত, তারপর কেউ স্বাভাবিক হাঁটার মত চলবে। সর্বশেষ বাক্তি হবে এমন এক লোক, যাতে জাহান্নামের আগুন পুড়িয়ে বিবর্ণ করে দিয়েছে এবং সে জাহান্নামে দুর্ভোগের সমুখীন হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাকে নিজ রহমতের গুণে জান্নাতে দাখিল করবেন। তাকে বলা হবে, তুমি আকাঙ্খা কর এবং যা কর! যখন তার সকল আকাঙ্খা শেষ হয়ে যাবে তখন তিনি বলবেন, যাও। তুমি যা যাঞ্ছা করেছ, তা এবং তার সাথে আরও ততটুকু তোমাকে দান করলাম।
(তাবরানী হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আমার 'আসল'-এ হাদীসটি মারস্ সূত্রে বর্ণিত হয়নি। এ মর্মের একটি দীর্ঘ হাদীস আবু হুরায়রা (রা)-এর রিওয়ায়েতে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।)
(তাবরানী হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আমার 'আসল'-এ হাদীসটি মারস্ সূত্রে বর্ণিত হয়নি। এ মর্মের একটি দীর্ঘ হাদীস আবু হুরায়রা (রা)-এর রিওয়ায়েতে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب البعث
فصل فِي الْحَوْض وَالْمِيزَان والصراط
5521- وَعَن عبد الله بن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ قَالَ يوضع الصِّرَاط على سَوَاء جَهَنَّم مثل حد السَّيْف المرهف مدحضة مزلة عَلَيْهِ كلاليب من نَار يخطف بهَا فممسك يهوي فِيهَا ومصروع وَمِنْهُم من يمر كالبرق فَلَا ينشب ذَلِك أَن ينجو ثمَّ كَالرِّيحِ فَلَا ينشب ذَلِك أَن ينجو ثمَّ كجري الْفرس ثمَّ كرمل الرجل ثمَّ كمشي الرجل ثمَّ يكون آخِرهم إنْسَانا رجل قد لوحته النَّار وَلَقي فِيهَا شرا حَتَّى يدْخلهُ الله الْجنَّة بِفضل رَحمته فَيُقَال لَهُ تمن وسل فَيَقُول أَي رب أتهزأ مني وَأَنت رب الْعِزَّة فَيُقَال لَهُ تمن وسل حَتَّى إِذا انْقَطَعت بِهِ الْأَمَانِي قَالَ لَك مَا سَأَلت وَمثله مَعَه
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد حسن وَلَيْسَ فِي أُصَلِّي رَفعه وَتقدم بِمَعْنَاهُ فِي حَدِيث أبي هُرَيْرَة الطَّوِيل
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد حسن وَلَيْسَ فِي أُصَلِّي رَفعه وَتقدم بِمَعْنَاهُ فِي حَدِيث أبي هُرَيْرَة الطَّوِيل
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫২২
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: হাওযে কাওসার, পাল্লা ও পুলসিরাত সম্পর্কে আলোচনা
৫৫২২. হযরত উম্মু মুবাশশির আনসারিয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে হাফসা (রা)-এর কাছে বলতে শুনেছেন বৃক্ষের নিচে বায়'আত গ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে কেউ ইনশাআল্লাহ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।* তিনি (উম্মু মুবাশশিরা) বললেন, জ্বী হ্যা, ইয়া রাসুলাল্লাহ। তখন তিনি তাঁকে ধমক দিলেন। হাফসা (রা) বললেন, তোমাদের কেউই জাহান্নামে প্রবেশ না করে থাকবে না। নবী (ﷺ) বললেন, আল্লাহ বলেছেন
ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا
অত:পর আমি মুত্তাকীদেরকে মুক্তি দেব এবং যালিমদেরকে তাতে উপুড় করে রেখে দেব। (১৯ঃ ৭২)।
(মুসলিম ও ইবন মাজাহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
*হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় যারা বকুল বৃক্ষের নিচে বায়’আত গ্রহণ করেছিলেন
তাদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দশত।
ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا
অত:পর আমি মুত্তাকীদেরকে মুক্তি দেব এবং যালিমদেরকে তাতে উপুড় করে রেখে দেব। (১৯ঃ ৭২)।
(মুসলিম ও ইবন মাজাহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
*হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় যারা বকুল বৃক্ষের নিচে বায়’আত গ্রহণ করেছিলেন
তাদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দশত।
كتاب البعث
فصل فِي الْحَوْض وَالْمِيزَان والصراط
5522- وَعَن أم مُبشر الْأَنْصَارِيَّة رَضِي الله عَنْهَا أَنَّهَا سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول عِنْد حَفْصَة لَا يدْخل النَّار إِن شَاءَ الله من أهل الشَّجَرَة أحد الَّذين بَايعُوا تحتهَا
قَالَت بلَى يَا رَسُول الله فانتهرها
فَقَالَت حَفْصَة وَإِن مِنْكُم إِلَّا واردها مَرْيَم 17 فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قد قَالَ الله تَعَالَى ثمَّ ننجي الَّذين اتَّقوا وَنذر الظَّالِمين فِيهَا جثيا مَرْيَم 27
رَوَاهُ مُسلم وَابْن مَاجَه
قَالَت بلَى يَا رَسُول الله فانتهرها
فَقَالَت حَفْصَة وَإِن مِنْكُم إِلَّا واردها مَرْيَم 17 فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قد قَالَ الله تَعَالَى ثمَّ ننجي الَّذين اتَّقوا وَنذر الظَّالِمين فِيهَا جثيا مَرْيَم 27
رَوَاهُ مُسلم وَابْن مَاجَه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫২৩
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: হাওযে কাওসার, পাল্লা ও পুলসিরাত সম্পর্কে আলোচনা
৫৫২৩. হযরত আবু সুমায়্যা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (জাহান্নামে) প্রবেশ করার ব্যাপারে আমাদের মতবিরোধ হল। আমাদের মধ্যে কেউ বলল, তাতে কোন মু'মিন প্রবেশ করবে না এবং কিছু লোক বলল, সবাই তাতে প্রবেশ করবে। এরপর যারা তাকওয়া অবলম্বন করল, তাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা মুক্তি দেবেন। তারপর জাবির ইবন আব্দুল্লাহ্ (রা)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হল। আমি তাঁকে বললাম, এখানে (জাহান্নামে) প্রবেশ করার ব্যাপারে আমাদের মধ্যে মতবিরোধ হয়েছে। তিনি বললেন, তোমরা সবাই তাতে প্রবেশ করবে। আমি তাঁকে বললাম, এ ব্যাপারে আমাদের মতবিরোধ হয়েছে। আমাদের কেউ বলেছে, মু'মিন তাতে প্রবেশ করবে না, আর কেউ বলেছে, সবাই তাতে প্রবেশ করবে। তখন তিনি তাঁর দুই কানে তাঁর দুই আঙুল তুলে বললেন, কান দু'টি বধির হয়ে যাক, যদি আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনে না থাকি যে, (আয়াতে বর্ণিত) 'ওরূদ' মানে প্রবেশ করা। নেককার অথবা বদকার জাহান্নামে প্রবেশ করা ব্যতীত কেউই অবশিষ্ট থাকবে না। তবে মু'মিনদের জন্য জাহান্নাম শীতল ও আরামদায়ক হয়ে যাবে, যেমন ইব্রাহীম (আ)-এর জন্য হয়ে গিয়েছিল। এমন কি তাদের শীতলতার দরুন অগ্নির অথবা বলেছেন, জাহান্নামের চিৎকার বের হবে। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা মুত্তাকীদেরকে মুক্তি দেবেন এবং যালিমদেরকে সেখানে রেখে দেবেন।
(আহমাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সমস্ত বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য এবং বায়হাকী ও হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(আহমাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সমস্ত বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য এবং বায়হাকী ও হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب البعث
فصل فِي الْحَوْض وَالْمِيزَان والصراط
5523- وَعَن أبي سميَّة قَالَ اخْتَلَفْنَا فِي الْوُرُود فَقَالَ بَعْضنَا لَا يدخلهَا مُؤمن وَقَالَ بَعْضنَا يدْخلُونَهَا جَمِيعًا ثمَّ يُنجي الله الَّذين اتَّقوا فَلَقِيت جَابر بن عبد الله فَقُلْنَا إِنَّا اخْتَلَفْنَا هَهُنَا فِي الْوُرُود فَقَالَ تردونها جَمِيعًا فَقلت لَهُ إِنَّا اخْتَلَفْنَا فِي ذَلِك فَقَالَ بَعْضنَا لَا يدخلهَا مُؤمن وَقَالَ بَعْضنَا يدْخلُونَهَا جَمِيعًا فَأَهوى بِأُصْبُعَيْهِ إِلَى أُذُنَيْهِ وَقَالَ صمتا إِن لم أكن سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول الْوُرُود الدُّخُول لَا يبْقى بر وَلَا فَاجر إِلَّا دَخلهَا فَتكون على الْمُؤمنِينَ بردا وَسلَامًا كَمَا كَانَت على إِبْرَاهِيم حَتَّى إِن للنار أَو قَالَ لِجَهَنَّم ضَجِيجًا من بردهمْ ثمَّ يُنجي الله الَّذين اتَّقوا ويذر الظَّالِمين
رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته ثِقَات وَالْبَيْهَقِيّ بِإِسْنَاد حسنه
رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته ثِقَات وَالْبَيْهَقِيّ بِإِسْنَاد حسنه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫২৪
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: হাওযে কাওসার, পাল্লা ও পুলসিরাত সম্পর্কে আলোচনা
৫৫২৪. হযরত কায়স ইব্ন আবু হাযিম (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবন রাওয়াহা (রা)-এর মাথা তাঁর স্ত্রীর কোলে ছিল। তখন তিনি কাঁদলেন, ফলে তাঁর স্ত্রীও কেঁদে দিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কাঁদছ কেন? তাঁর স্ত্রী বললেন, আমি আপনাকে কাঁদতে দেখলাম। তাই কেঁদে ফেললাম। তিনি বললেন, আমি আল্লাহ্ তা'আলার এ বাণীটি স্মরণ করলামঃ "তোমাদের প্রত্যেকেই জাহান্নামে প্রবেশ করতে হবে।” (১৯ঃ ৭১) আমি জানি না, আমি তা থেকে মুক্তি পাব, না-কি পাব না?
(হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
(হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
كتاب البعث
فصل فِي الْحَوْض وَالْمِيزَان والصراط
5524- وَعَن قيس هُوَ ابْن أبي حَازِم قَالَ كَانَ عبد الله بن رَوَاحَة وَاضِعا رَأسه فِي حجر امْرَأَته فَبَكَتْ امْرَأَته فَقَالَ مَا يبكيك قَالَت رَأَيْتُك تبْكي فَبَكَيْت قَالَ إِنِّي ذكرت قَول الله تَعَالَى وَإِن مِنْكُم إِلَّا واردها مَرْيَم 17 وَلَا أَدْرِي أنجو مِنْهَا أم لَا
رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا كَذَا قَالَ
رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا كَذَا قَالَ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫২৫
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: হাওযে কাওসার, পাল্লা ও পুলসিরাত সম্পর্কে আলোচনা
৫৫২৫. হযরত হুযায়ফা ও আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা মানব জাতিকে সমবেত করবেন।..... এরপর হাদীসটি বর্ণনা করে এক পর্যায়ে তাঁরা বলেন, অতঃপর লোকজন মুহাম্মদ-এর কাছে আসবে। তিনি দাঁড়াবেন, তাঁকে অনুমতি দেওয়া হবে এবং তাঁর সাথে আমানত ও আত্মীয়তার বন্ধনকে পাঠানো হবে। তারা পুলসিরাতের দু'পাশে ডানে ও বামে দাঁড়াবে। তখন তোমাদের সর্বপ্রথম ব্যক্তিটি বিদ্যুতের গতিতে পার হয়ে যাবে।
বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। বিদ্যুতের গতি কি? তিনি বললেন, তোমরা কি বিদ্যুতের গতি দেখনা, কিভাবে চোখের পলকের মধ্যে বিদ্যুত চলে যায় এবং আবার ফিরে আসে? এরপর কেউ বায়ু গতিতে, তারপর কেউ পাখির গতিতে এবং কেউ পায়ে হাঁটার গতিতে চলবে। তাদের আমল তাদেরকে নিয়ে যাবে। তোমদের নবী (ﷺ) পুলসিরাতের গোড়ায় দাঁড়ানো থাকবেন। তিনি বলবেন, হে আমার প্রতিপালক! নিরাপদে রাখ, নিরাপদে রাখ। তারপর ক্রমান্বয়ে বান্দাদের আমল দুর্বল হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত এমন এক ব্যক্তি আসবে, যে হামাগুড়ি না দিয়ে চলতে পারবে না। তিনি বলেন, পুলসিরাতের দুইপাশে থাকবে অনেক জ্বলন্ত হুক, যাকে ধরতে বলা হয়, তাকে ধরতে তারা আদিষ্ট থাকবে। তন্মধ্যে আঁচড় খাওয়া লোক মুক্তি প্রাপ্ত হবে এবং আটক ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয় জাহান্নামের গভীরতা হবে সত্তর বছরের দূরত্ব।
(মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সম্পূর্ণ হাদীসটি "শাফা'আত” অধ্যায়ে ইনশাআল্লাহ্ বর্ণিত হবে। ইবন মাসউদ (রা)-এর হাদীসটি "হাশর"-আরে বর্ণনার পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। তাতে আছেঃ "পুলসিরাত তরবারির ধারের মত ধারালো, পিচ্ছিল ও পদস্খলনের স্থান। তিনি বলেন, মানুষ তাদের (আমলের) দূর অনুপাতে চলবে। তন্মধ্যে কেউ নক্ষত্র পতনের গতিতে চলবে, কেউ পলক গতিতে চলবে, কেউ বায়ুর গতিতে চলবে, কেউ পায়ে হাঁটার গতিতে এবং কেউ দ্রুতবেগে চলার গতিতে চলবে। তারা তাদের আমল অনুপাতে চলবে। অবশেষে যার নূর তার পদযুগলের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে রয়েছে, সে এভাবে চলবে যে, তার এক হাত পড়বে, অপর হাত ঝুলে থাকবে এবং একপা পড়বে, অপর পর ঝুলে থাকবে এবং তার আশে-পাশে আগুনের স্পর্শ লাগবে।"
আমি একবার আল্লাহ তা'আলার বাণী وَإِن مِّنكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا "তোমাদের কেউই জাহান্নামে প্রবেশ না করে থাকবে না।” (১৯ঃ ৭১) প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, যে ইবন মাসউদ (রা) তাদেরকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, মানুষ জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তারপর তাদের আমলের সাহায্যে তারা সেখান থেকে পার হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি বিদ্যুতের গতিতে, তারপর বায়ুর গতিতে, তারপর দ্রুতগামী ঘোড়ার গতিতে তারপর হাওদায় আরোহণকারীর গতিতে, তার পর দ্রুত হাঁটার গতিতে, তারপর স্বাভাবিক পায়ে হাঁটার গতিতে চলবে।)
বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। বিদ্যুতের গতি কি? তিনি বললেন, তোমরা কি বিদ্যুতের গতি দেখনা, কিভাবে চোখের পলকের মধ্যে বিদ্যুত চলে যায় এবং আবার ফিরে আসে? এরপর কেউ বায়ু গতিতে, তারপর কেউ পাখির গতিতে এবং কেউ পায়ে হাঁটার গতিতে চলবে। তাদের আমল তাদেরকে নিয়ে যাবে। তোমদের নবী (ﷺ) পুলসিরাতের গোড়ায় দাঁড়ানো থাকবেন। তিনি বলবেন, হে আমার প্রতিপালক! নিরাপদে রাখ, নিরাপদে রাখ। তারপর ক্রমান্বয়ে বান্দাদের আমল দুর্বল হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত এমন এক ব্যক্তি আসবে, যে হামাগুড়ি না দিয়ে চলতে পারবে না। তিনি বলেন, পুলসিরাতের দুইপাশে থাকবে অনেক জ্বলন্ত হুক, যাকে ধরতে বলা হয়, তাকে ধরতে তারা আদিষ্ট থাকবে। তন্মধ্যে আঁচড় খাওয়া লোক মুক্তি প্রাপ্ত হবে এবং আটক ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয় জাহান্নামের গভীরতা হবে সত্তর বছরের দূরত্ব।
(মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সম্পূর্ণ হাদীসটি "শাফা'আত” অধ্যায়ে ইনশাআল্লাহ্ বর্ণিত হবে। ইবন মাসউদ (রা)-এর হাদীসটি "হাশর"-আরে বর্ণনার পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। তাতে আছেঃ "পুলসিরাত তরবারির ধারের মত ধারালো, পিচ্ছিল ও পদস্খলনের স্থান। তিনি বলেন, মানুষ তাদের (আমলের) দূর অনুপাতে চলবে। তন্মধ্যে কেউ নক্ষত্র পতনের গতিতে চলবে, কেউ পলক গতিতে চলবে, কেউ বায়ুর গতিতে চলবে, কেউ পায়ে হাঁটার গতিতে এবং কেউ দ্রুতবেগে চলার গতিতে চলবে। তারা তাদের আমল অনুপাতে চলবে। অবশেষে যার নূর তার পদযুগলের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে রয়েছে, সে এভাবে চলবে যে, তার এক হাত পড়বে, অপর হাত ঝুলে থাকবে এবং একপা পড়বে, অপর পর ঝুলে থাকবে এবং তার আশে-পাশে আগুনের স্পর্শ লাগবে।"
আমি একবার আল্লাহ তা'আলার বাণী وَإِن مِّنكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا "তোমাদের কেউই জাহান্নামে প্রবেশ না করে থাকবে না।” (১৯ঃ ৭১) প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, যে ইবন মাসউদ (রা) তাদেরকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, মানুষ জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তারপর তাদের আমলের সাহায্যে তারা সেখান থেকে পার হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি বিদ্যুতের গতিতে, তারপর বায়ুর গতিতে, তারপর দ্রুতগামী ঘোড়ার গতিতে তারপর হাওদায় আরোহণকারীর গতিতে, তার পর দ্রুত হাঁটার গতিতে, তারপর স্বাভাবিক পায়ে হাঁটার গতিতে চলবে।)
كتاب البعث
فصل فِي الْحَوْض وَالْمِيزَان والصراط
5525- وَعَن حُذَيْفَة وَأبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَا قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يجمع الله النَّاس فذكرا الحَدِيث إِلَى أَن قَالَا فَيَأْتُونَ مُحَمَّدًا صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَيقوم وَيُؤذن لَهُ وَترسل مَعَه الْأَمَانَة وَالرحم فيقومان جنبتي الصِّرَاط يَمِينا وَشمَالًا فيمر أولكم كالبرق
قَالَ قلت بِأبي أَنْت وَأمي أَي شَيْء كمر الْبَرْق قَالَ ألم تروا إِلَى الْبَرْق كَيفَ يمر وَيرجع فِي طرفَة عين ثمَّ كمر الرّيح ثمَّ كمر الطير وَشد الرِّجَال تجْرِي بهم أَعْمَالهم ونبيكم صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَائِم على الصِّرَاط يَقُول رب سلم سلم حَتَّى تعجز أَعمال الْعباد حَتَّى يَجِيء الرجل فَلَا يَسْتَطِيع السّير إِلَّا
زاحفا قَالَ وَفِي حافتي الصِّرَاط كلاليب معلقَة مأمورة تَأْخُذ من أمرت بِهِ فمخدوش نَاجٍ ومكدوش فِي النَّار وَالَّذِي نفس أبي هُرَيْرَة بِيَدِهِ إِن قَعْر جَهَنَّم لسَبْعين خَرِيفًا
رَوَاهُ مُسلم وَيَأْتِي بِتَمَامِهِ فِي الشَّفَاعَة إِن شَاءَ الله وَتقدم حَدِيث ابْن مَسْعُود فِي الْحَشْر وَفِيه والصراط كَحَد السَّيْف دحض مزلة قَالَ فيمرون على قدر نورهم فَمنهمْ من يمر كانقضاض الْكَوْكَب وَمِنْهُم من يمر كالطرف وَمِنْهُم من يمر كَالرِّيحِ وَمِنْهُم من يمر كشد الرجل ويرمل رملا فيمرون على قدر أَعْمَالهم حَتَّى يمر الَّذِي نوره على إِبْهَام قَدَمَيْهِ تَخِر يَد وَتعلق يَد وتخر رجل وَتعلق رجل فتصيب جوانبه النَّار
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم وَاللَّفْظ لَهُ وروى الْحَاكِم أَيْضا بِإِسْنَاد ذكر أَنه على شَرط مُسلم عَن الْمسيب قَالَ سَأَلت مرّة عَن قَوْله تَعَالَى وَإِن مِنْكُم إِلَّا واردها فَحَدثني أَن ابْن مَسْعُود حَدثهمْ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ يرد النَّاس ثمَّ يصدرون عَنْهَا بأعمالهم وأولهم كلمح الْبَرْق ثمَّ كلمح الرّيح ثمَّ كحضر الْفرس ثمَّ كالراكب فِي رَحْله ثمَّ كشد الرجل ثمَّ كمشيه
قَالَ قلت بِأبي أَنْت وَأمي أَي شَيْء كمر الْبَرْق قَالَ ألم تروا إِلَى الْبَرْق كَيفَ يمر وَيرجع فِي طرفَة عين ثمَّ كمر الرّيح ثمَّ كمر الطير وَشد الرِّجَال تجْرِي بهم أَعْمَالهم ونبيكم صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَائِم على الصِّرَاط يَقُول رب سلم سلم حَتَّى تعجز أَعمال الْعباد حَتَّى يَجِيء الرجل فَلَا يَسْتَطِيع السّير إِلَّا
زاحفا قَالَ وَفِي حافتي الصِّرَاط كلاليب معلقَة مأمورة تَأْخُذ من أمرت بِهِ فمخدوش نَاجٍ ومكدوش فِي النَّار وَالَّذِي نفس أبي هُرَيْرَة بِيَدِهِ إِن قَعْر جَهَنَّم لسَبْعين خَرِيفًا
رَوَاهُ مُسلم وَيَأْتِي بِتَمَامِهِ فِي الشَّفَاعَة إِن شَاءَ الله وَتقدم حَدِيث ابْن مَسْعُود فِي الْحَشْر وَفِيه والصراط كَحَد السَّيْف دحض مزلة قَالَ فيمرون على قدر نورهم فَمنهمْ من يمر كانقضاض الْكَوْكَب وَمِنْهُم من يمر كالطرف وَمِنْهُم من يمر كَالرِّيحِ وَمِنْهُم من يمر كشد الرجل ويرمل رملا فيمرون على قدر أَعْمَالهم حَتَّى يمر الَّذِي نوره على إِبْهَام قَدَمَيْهِ تَخِر يَد وَتعلق يَد وتخر رجل وَتعلق رجل فتصيب جوانبه النَّار
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم وَاللَّفْظ لَهُ وروى الْحَاكِم أَيْضا بِإِسْنَاد ذكر أَنه على شَرط مُسلم عَن الْمسيب قَالَ سَأَلت مرّة عَن قَوْله تَعَالَى وَإِن مِنْكُم إِلَّا واردها فَحَدثني أَن ابْن مَسْعُود حَدثهمْ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ يرد النَّاس ثمَّ يصدرون عَنْهَا بأعمالهم وأولهم كلمح الْبَرْق ثمَّ كلمح الرّيح ثمَّ كحضر الْفرس ثمَّ كالراكب فِي رَحْله ثمَّ كشد الرجل ثمَّ كمشيه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫২৬
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: হাওযে কাওসার, পাল্লা ও পুলসিরাত সম্পর্কে আলোচনা
৫৫২৬. হযরত উবায়দ ইবন উমায়র (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পুলসিরাত জাহান্নামের উপর, এবং তরবারির ধারের মত। তার দুই পার্শ্বে রয়েছে আলেক হুক ও সা'দান বৃক্ষ। মানুষ তার উপর চড়বে। তখন তারা ছোঁ মেরে আটকে রাখবে। সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয় একটি হুক দিয়ে রাবী'আ ও মুযার গোত্র দু'টির লোকজনের চেয়ে অধিক সংখ্যক লোককে আটকানো হবে।
(বায়হাকী মুরসাল ও উবায়দ ইবন উমায়র-এর উপর মাওকুফ উভয় সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বায়হাকী মুরসাল ও উবায়দ ইবন উমায়র-এর উপর মাওকুফ উভয় সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب البعث
فصل فِي الْحَوْض وَالْمِيزَان والصراط
5526- وَعَن عبيد بن عُمَيْر رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ الصِّرَاط على جَهَنَّم مثل حرف السَّيْف بجنبتيه الكلاليب والحسك فيركبه النَّاس فيختطفون وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ وَإنَّهُ ليؤخذ بالكلوب الْوَاحِد أَكثر من ربيعَة وَمُضر
رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ مُرْسلا وموقوفا على عبيد بن عُمَيْر أَيْضا
رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ مُرْسلا وموقوفا على عبيد بن عُمَيْر أَيْضا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫২৭
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: হাওযে কাওসার, পাল্লা ও পুলসিরাত সম্পর্কে আলোচনা
৫৫২৭. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কিয়ামতের দিন নিজ পিতার সাথে এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ হবে। তখন সে বলবে, পিতা: আমি আপনার কেমন পুত্র ছিলাম? পিতা বলবে, (তুমি আমার) উত্তম পুত্র ছিলে। তারপর বলবে, তুমি কি আজ আমার কথা রাখবে? সে বলবে, হ্যাঁ, পিতা বলবে, তুমি আমার লুঙ্গির খুঁট ধর।* সে তার লুঙ্গির খুঁটি ধরবে। এরপর সে চলতে চলতে আল্লাহ্ তা'আলার কাছে যাবে। তখন তিনি মানুষের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন। তিনি বলবেন, হে আমার বান্দা। তুমি জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ কর। সে বলবে, প্রভু। আমার সাথে আমার পিতা রয়েছেন, তুমি আমাকে ওয়াদা দিয়েছ যে, তুমি আমাকে লাঞ্ছিত করবে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তারপর আল্লাহ্ তা'আলা তার পিতাকে দুই সাপের আকৃতিতে রূপান্তরিত করে দেবেন এবং সে জাহান্নামে পড়ে যাবে এবং সে তার নাক ধরে রাখবে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, হে আমার বান্দা। তোমার পিতা (জাহান্নামে) পড়ে গেছে? সে বলবে, না, তোমার সম্ভ্রমের কসম।
(হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। হাদীসটি বুখারীতেও বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, "আপন পিতা আযরের সাথে ইবরাহীম (আ)-এর সাক্ষাৎ হবে।" তারপর কাহিনীটি পূর্ববৎ বর্ণনা করেছেন।)
*যাতে তুমি আমাকে টেনে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে পার।
(হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। হাদীসটি বুখারীতেও বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, "আপন পিতা আযরের সাথে ইবরাহীম (আ)-এর সাক্ষাৎ হবে।" তারপর কাহিনীটি পূর্ববৎ বর্ণনা করেছেন।)
*যাতে তুমি আমাকে টেনে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে পার।
كتاب البعث
فصل فِي الْحَوْض وَالْمِيزَان والصراط
5527- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يلقى رجل أَبَاهُ يَوْم الْقِيَامَة فَيَقُول يَا أَبَت أَي ابْن كنت لَك فَيَقُول خير ابْن فَيَقُول هَل أَنْت مطيعي الْيَوْم فَيَقُول نعم فَيَقُول خُذ بأزرتي فَيَأْخُذ بأزرته ثمَّ ينْطَلق حَتَّى يَأْتِي الله تَعَالَى وَهُوَ يعرض بَين الْخلق فَيَقُول يَا عَبدِي ادخل من أَي أَبْوَاب الْجنَّة شِئْت فَيَقُول أَي رب وَأبي معي فَإنَّك وَعَدتنِي أَن لَا تخزيني
قَالَ فيمسخ الله أَبَاهُ ضبعا فَيهْوِي فِي النَّار فَيَأْخُذ بِأَنْفِهِ فَيَقُول الله يَا عَبدِي أَبوك هوى فَيَقُول لَا وَعزَّتك
رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم وَهُوَ فِي البُخَارِيّ إِلَّا أَنه قَالَ يلقى إِبْرَاهِيم أَبَاهُ آزر فَذكر الْقِصَّة بِنَحْوِهِ
قَالَ فيمسخ الله أَبَاهُ ضبعا فَيهْوِي فِي النَّار فَيَأْخُذ بِأَنْفِهِ فَيَقُول الله يَا عَبدِي أَبوك هوى فَيَقُول لَا وَعزَّتك
رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم وَهُوَ فِي البُخَارِيّ إِلَّا أَنه قَالَ يلقى إِبْرَاهِيم أَبَاهُ آزر فَذكر الْقِصَّة بِنَحْوِهِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫২৮
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শাফা'আত ইত্যাদির বর্ণনা
হাফিয (র) বলেন, পুলসিরাতের আলোচনার পূর্বে শাফা'আতের আলোচনা করা উচিত ছিল। কেননা, সাধারণ শাফা'আতের অনুমতি প্রদানের পর পুলসিরাত কায়েম করা হবে। কিন্তু ঘটনাক্রমে এভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
হাফিয (র) বলেন, পুলসিরাতের আলোচনার পূর্বে শাফা'আতের আলোচনা করা উচিত ছিল। কেননা, সাধারণ শাফা'আতের অনুমতি প্রদানের পর পুলসিরাত কায়েম করা হবে। কিন্তু ঘটনাক্রমে এভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
৫৫২৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, প্রত্যেক নবী এক আবেদন করেছেন। অথবা বলেছেন, প্রত্যেক নবীর একটি দু'আ ছিল, যা তিনি তাঁর উম্মতের জন্য করেছেন। এবং আমি একটি দু'আ সংরক্ষিত রেখেছি, তা হচ্ছে আমার উম্মাতের জন্য শাফা'আত।
(বুখারী ও মুসলিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বুখারী ও মুসলিম (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب البعث
فصل فِي الشَّفَاعَة وَغَيرهَا
قَالَ الْحَافِظ كَانَ الأولى أَن يقدم ذكر الشَّفَاعَة على ذكر الصِّرَاط لِأَن وضع الصِّرَاط مُتَأَخّر عَن الْإِذْن فِي الشَّفَاعَة الْعَامَّة من حَيْثُ هِيَ وَلَكِن هَكَذَا اتّفق الْإِمْلَاء وَالله الْمُسْتَعَان
قَالَ الْحَافِظ كَانَ الأولى أَن يقدم ذكر الشَّفَاعَة على ذكر الصِّرَاط لِأَن وضع الصِّرَاط مُتَأَخّر عَن الْإِذْن فِي الشَّفَاعَة الْعَامَّة من حَيْثُ هِيَ وَلَكِن هَكَذَا اتّفق الْإِمْلَاء وَالله الْمُسْتَعَان
5528- عَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كل نَبِي سَأَلَ سؤالا أَو قَالَ لكل نَبِي دَعْوَة قد دَعَاهَا لأمته وَإِنِّي اخْتَبَأْت دَعْوَتِي شَفَاعَة لأمتي
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫২৯
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শাফা'আত ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫২৯. হযরত উম্মু হাবীবা (রা) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমার পর আমার উম্মাত যা কিছুর সম্মুখীন হবে, তা আমাকে দেখানো হয়েছে এবং তাদের পরস্পরে রক্তপাতের ব্যাপারটিও আমাকে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি আমাকে দুঃখিত করেছে। এটা আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে সুনির্ধারিত হয়ে রয়েছে, যেমনটি পূর্ববর্তী উম্মাতের ব্যাপারে সুনির্ধারিত হয়ে রয়েছিল। (সুতরাং এ ব্যাপারে আমার আর করণীয় কিছু ছিল না) তাই আমি তাঁর দরবারে প্রার্থনা করলাম যেন তিনি আমাকে তাদের ব্যাপারে কিয়ামতের দিন সুপারিশ করার অধিকার দেন। তিনি তাই করেছেন।
(বায়হাকী (র) 'আল-বাস' অধ্যায়ে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহীহ্ সাব্যস্ত করেছেন।
(বায়হাকী (র) 'আল-বাস' অধ্যায়ে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহীহ্ সাব্যস্ত করেছেন।
كتاب البعث
فصل فِي الشَّفَاعَة وَغَيرهَا
5529- وَعَن أم حَبِيبَة رَضِي الله عَنْهَا عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَنه قَالَ أريت مَا تلقى أمتِي من بعدِي وَسَفك بَعضهم دِمَاء بعض فأحزنني وَسبق ذَلِك من الله عز وَجل كَمَا سبق فِي الْأُمَم قبلهم فَسَأَلته أَن يوليني فيهم شَفَاعَة يَوْم الْقِيَامَة فَفعل
رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي الْبَعْث وَصحح إِسْنَاده
رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي الْبَعْث وَصحح إِسْنَاده
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫৩০
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শাফা'আত ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৩০. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাবুক যুদ্ধের সময় একদা রাত্রে সালাতে দাঁড়ালেন। তাঁর কিছু সাহাবী তাঁকে পাহারা দেওয়ার জন্য সমবেত হলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন এবং তাদের দিকে ফিরলেন, তখন তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, আজ রাত্রে আমাকে পাঁচটি বিষয় দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি। (১) আমাকে ব্যাপকভাবে সমস্ত মানবজাতির প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে আমার পূর্ববর্তী কেবল তাঁদের স্ব স্বগোত্রের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। (২) আমাকে শত্রুর মুকাবিলায় প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে। যদি আমার ও তার মাঝে একমাসের দূরত্ব থাকে, তবুও সে আমার প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে যায়, (৩) আমার জন্য গণীমতের মাল খাওয়া হালাল করে দেওয়া হয়েছে; কিন্তু আমার পূর্বে যারা ছিল, তারা গণীমতের মাল খাওয়া মহা গুণাহ মনে করত। তারা তা জ্বালিয়ে ফেলত। (৪) আমার জন্য সমগ্র পৃথিবীকে মসজিদ স্বরূপ এবং সমগ্র পৃথিবীর মাটিকেই পবিত্রতার মাধ্যম করেছেন। যেখানেই আমার সালাতের সময় হয়, আমি (উযূর জন্য পানি না পেলে) তায়াম্মুম করি এবং সালাত আদায় করে নিতে পারি। কিন্তু আমার পূর্বে যারা ছিল, তারা এটাকে মহা গুণাহ মনে করত। তারা কেবল তাদের গির্জা ও উপাসনালয়ে প্রার্থনা করত। এবং পঞ্চমটা তো পশ্চিমটাই। আমাকে বলা হল, আপনি যা ইচ্ছে পোষণ করুন কেননা, প্রত্যেক নবীই বিশেষ বিশেষ যাজ্ঞা করেছেন। আমি আমার সে বিশেষ যাজ্ঞাটি কিয়ামত পর্যন্ত বিলম্বিত করেছি। তা হচ্ছে তোমাদের জন্য এবং যারা "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ 'আল্লাহ ব্যতীত কোন মা'বুদ নেই।"-এর সাক্ষ্য দেয়, তাদের জন্য।
(আহমাদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(আহমাদ সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب البعث
فصل فِي الشَّفَاعَة وَغَيرهَا
5530- وَعَن عبد الله بن عَمْرو رَضِي الله عَنْهُمَا أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَام غَزْوَة تَبُوك قَامَ من اللَّيْل يُصَلِّي فَاجْتمع رجال من أَصْحَابه يحرسونه حَتَّى إِذا صلى وَانْصَرف إِلَيْهِم فَقَالَ لَهُم لقد أَعْطَيْت اللَّيْلَة خمْسا مَا أعطيهن أحد قبلي أما أَنا فَأرْسلت إِلَى النَّاس كلهم عَامَّة وَكَانَ من قبلي إِنَّمَا يُرْسل إِلَى قومه ونصرت على الْعَدو بِالرُّعْبِ وَلَو كَانَ بيني وَبَينه مسيرَة شهر لملىء مِنْهُ وَأحلت لي الْغَنَائِم أكلهَا وَكَانَ من قبلي يعظمون أكلهَا وَكَانُوا يحرقونها وَجعلت لي الأَرْض مَسَاجِد وَطهُورًا أَيْنَمَا أدركتني الصَّلَاة تمسحت وَصليت وَكَانَ من قبلي يعظمون ذَلِك إِنَّمَا كَانُوا يصلونَ فِي كنائسهم وبيعهم وَالْخَامِسَة هِيَ مَا هِيَ قيل لي سل فَإِن كل نَبِي قد سَأَلَ فأخرت مَسْأَلَتي إِلَى يَوْم الْقِيَامَة فَهِيَ لكم وَلمن شهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله
رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد صَحِيح
رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد صَحِيح
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫৩১
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শাফা'আত ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৩১. হযরত আব্দুর রহমান ইব্ন আবি আকীল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম এবং তাঁর কাছে পৌছে দরজায় উট বসালাম। তখন আমরা যার কাছে যাচ্ছি আমাদের কাছে তাঁর চেয়ে ঘৃণ্যতম কোন মানুষ ছিল না। কিন্তু আমরা (তাঁর ওখান থেকে) বের হয়ে সারিনি, ততক্ষণে আমরা যার কাছে গেলাম, আমাদের কাছে তার চেয়ে প্রিয়তম আর কেউই ছিল না। আমাদের মধ্য থেকে একটি ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনি কেন আপনার প্রতিপালকের কাছে সুলায়মানের রাজত্বের মত রাজত্ব চাইলেন না? রাবী (আব্দুর রহমান) বলেন তিনি হেসে দিয়ে বললেন, হয়ত তোমাদের সাথীর (আমার) জন্য আল্লাহর কাছে সুলায়মানের রাজত্বের চেয়ে উত্তম কিছু রয়েছে। আল্লাহ তাআলা যে নবীকেই প্রেরণ করেছেন, তাকে একটি বিশেষ দু'আর অধিকার দিয়েছেন। তন্মধ্যে কেউ তার বদৌলতে দুনিয়া চেয়েছেন, তাঁকে তাই দেওয়া হয়েছে। কেউ তদ্বারা নিজ সম্প্রদায়ের জন্য বদ দু'আ করেছেন, যখন তারা তাঁর অবাধ্যচরণ করেছিল। ফলে তাদেরকে সে বদ দু'আর কারণে ধ্বংস করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা আমাকেও একটি বিশেষ দু'আর অধিকার দিয়েছেন, আমি তা আমার প্রতিপালকের কাছে কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতের জন্য সুপারিশরূপে সংরক্ষিত রেখেছি।
كتاب البعث
فصل فِي الشَّفَاعَة وَغَيرهَا
5531- وَعَن عبد الرَّحْمَن بن أبي عقيل رَضِي الله عَنهُ قَالَ انْطَلَقت فِي وَفد إِلَى
رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فأتيناه فأنخنا بِالْبَابِ وَمَا فِي النَّاس أبْغض إِلَيْنَا من رجل نلج عَلَيْهِ فَمَا خرجنَا حَتَّى مَا كَانَ فِي النَّاس أحب إِلَيْنَا من رجل دخل عَلَيْهِ فَقَالَ قَائِل منا يَا رَسُول الله أَلا سَأَلت رَبك ملكا كملك سُلَيْمَان قَالَ فَضَحِك ثمَّ قَالَ فَلَعَلَّ لصاحبكم عِنْد الله أفضل من ملك سُلَيْمَان إِن الله لم يبْعَث نَبيا إِلَّا أعطَاهُ دَعْوَة مِنْهُم من اتخذها دنيا فأعطيها وَمِنْهُم من دَعَا بهَا على قومه إِذْ عصوه فأهلكوا بهَا فَإِن الله أَعْطَانِي دَعْوَة فاختبأتها عِنْد رَبِّي شَفَاعَة لأمتي يَوْم الْقِيَامَة
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَالْبَزَّار بِإِسْنَاد جيد
رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فأتيناه فأنخنا بِالْبَابِ وَمَا فِي النَّاس أبْغض إِلَيْنَا من رجل نلج عَلَيْهِ فَمَا خرجنَا حَتَّى مَا كَانَ فِي النَّاس أحب إِلَيْنَا من رجل دخل عَلَيْهِ فَقَالَ قَائِل منا يَا رَسُول الله أَلا سَأَلت رَبك ملكا كملك سُلَيْمَان قَالَ فَضَحِك ثمَّ قَالَ فَلَعَلَّ لصاحبكم عِنْد الله أفضل من ملك سُلَيْمَان إِن الله لم يبْعَث نَبيا إِلَّا أعطَاهُ دَعْوَة مِنْهُم من اتخذها دنيا فأعطيها وَمِنْهُم من دَعَا بهَا على قومه إِذْ عصوه فأهلكوا بهَا فَإِن الله أَعْطَانِي دَعْوَة فاختبأتها عِنْد رَبِّي شَفَاعَة لأمتي يَوْم الْقِيَامَة
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَالْبَزَّار بِإِسْنَاد جيد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫৩২
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শাফা'আত ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৩২. হযরত আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমাকে এমন পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি। (১) আমার জন্য সমগ্র ভূ-ভাগকে পবিত্রতার উপায় ও মসজিদ স্বরূপ করে দেওয়া হয়েছে। (২) আমার জন্য গণীমতের মাল হালাল করা হয়েছে, অথচ আমার পূর্বে কোন নবীর জন্য তা হালাল হয়নি। (৩) আমার শত্রুর বিরুদ্ধে আমাকে এক মাসের দূরত্ব পর্যন্ত প্রভাব দান করে সাহায্য করা হয়েছে। (৪) আমাকে লাল-কালো সবার কাছে প্রেরণ করা হয়েছে এবং (৫) আমাকে শাফা'আতের অধিকার প্রদান করা হয়েছে। আমার উম্মতের মধ্য যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে না, তারাই আমার এ শাফা'আত লাভ করবে।
(বাযযার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির সনদ উৎকৃষ্ট। তবে এতে সনদ বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। সিহাহ ইত্যাদিতে এতদসম্পর্কিত বহু হাদীস রয়েছে।)
(বাযযার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির সনদ উৎকৃষ্ট। তবে এতে সনদ বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। সিহাহ ইত্যাদিতে এতদসম্পর্কিত বহু হাদীস রয়েছে।)
كتاب البعث
فصل فِي الشَّفَاعَة وَغَيرهَا
5532- وَعَن أبي ذَر رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَعْطَيْت خمْسا لم يُعْطهنَّ أحد قبلي جعلت لي الأَرْض طهُورا ومسجدا وَأحلت لي الْغَنَائِم وَلم تحل لنَبِيّ كَانَ قبلي ونصرت بِالرُّعْبِ مسيرَة شهر على عدوي وَبعثت إِلَى كل أَحْمَر وأسود وَأعْطيت الشَّفَاعَة وَهِي نائلة من أمتِي من لَا يُشْرك بِاللَّه شَيْئا
رَوَاهُ الْبَزَّار وَإِسْنَاده جيد إِلَّا أَن فِيهِ انْقِطَاعًا وَالْأَحَادِيث من هَذَا النَّوْع كَثِيرَة جدا فِي الصِّحَاح وَغَيرهَا
رَوَاهُ الْبَزَّار وَإِسْنَاده جيد إِلَّا أَن فِيهِ انْقِطَاعًا وَالْأَحَادِيث من هَذَا النَّوْع كَثِيرَة جدا فِي الصِّحَاح وَغَيرهَا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫৩৩
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শাফা'আত ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৩৩. হযরত আওফ ইবন মালিক আল আশজাঈ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সঙ্গে এক সফরে গেলাম। যখন রাত্রে আমার চোখ দু'টি বিনিদ্র হল এবং আমার ঘুম এল না, তখন আমি দাঁড়িয়ে দেখি, সৈন্যদলে এমন কোন প্রাণী নেই, যে ভূমিতে গণ্ডদেশ রেখে ঘুমিয়ে পড়ে এবং আমার মনে প্রতিটি বস্তুর শব্দ অনুভূত হচ্ছে। তখন আমি (মনে মনে) বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ-এর কাছে যাব এবং ভোর হওয়া পর্যন্ত তাঁকে পাহারা দেব। সুতরাং আমি মানুষের ফাঁকে ফাঁকে চলতে চলতে সেনাদল থেকে বের হয়ে পড়লাম এবং হঠাৎ একটি আবছায়া দেখে, সে আর ছায়ার উদ্দেশ্যে এগুলাম। এগিয়ে দেখি, আবু উবায়দা ইব্ন জাররাহ ও মু'আয ইবন জাবাল। তাঁরা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন বের হয়েছ? আমি বললাম, তোমরা যে কারণে বের হয়েছ। দেখি, আমাদের অদূরে রয়েছে ঘন গাছ-গাছালি। আমরা সে গাছ-গাছালির দিকে হাঁটলাম এবং তার ভেতরে মৌমাছির গুঞ্জরণ ও বাতাসের হু হু'র মত শব্দ শুনতে পেলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, এখানে আবু উবায়দা ইব্ন জাররাহ আছে? আমরা বললাম, জ্বী হ্যাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস; করলেন, মু'আয ইবন জাবাল আছে? আমরা বললাম জ্বী, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, আওফ ইবন মালিক আছে? আমরা বললাম, জ্বী হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে বের হয়ে এলেন। আমরা তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করছি না এবং তিনিও আমাদেরকে কিছু জিজ্ঞেস করছেন না। এরপর তিনি তার হাওদায় ফিরে গেলেন। তখন বললেন, এক্ষুণি আমার প্রতিপালক আমাকে যে ইখতিয়ার দিয়েছেন, সে সম্পর্কে কি আমি তোমাদেরকে অবহিত করব না? আমরা বললাম, জ্বী হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে আমার দুই তৃতীয়াংশ উম্মত হিসাব ও আযাব ব্যতিরেকে জান্নাতে দাখিল করা এবং শাফা'আতের মাঝে ইখতিয়ার দিয়েছেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি কোনটি গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন, আমি শাফা'আত গ্রহণ করেছি। আমরা সবাই বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমাদেরকে আপনার শাফা'আতপ্রাপ্তদের মধ্যে শামিল করুন। তিনি বললেন, নিশ্চয় আমার শাফা'আত প্রত্যেক মুসলমানের জন্য।
(তাবারানী একাধিক সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি সনদ উৎকৃষ্ট। ইবন হিব্বান ও আপন 'সহীহ' কিতাবে অনুরূপ সনদে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতে দুই ব্যক্তি হচ্ছেন মু'আয ইবন জাবাল ও আবু মুসা। তাবারানীর কোন কোন রিওয়ায়েতেও এমনি বলা হয়েছে। এটাই প্রসিদ্ধ। ইবন হিব্বান তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতে বলেন, "তখন মু'আয (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনার উপর আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। আপনি তো আমার অবস্থান জানেন। সুতরাং আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। জবাবে তিনি বললেন, তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আওফ ইবন মালিক ও আবু মূসা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি জানেন, আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনে আমাদের ধন-সম্পদ, পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি পরিত্যাগ করেছি। সুতরাং আমাদেরকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। তিনি বললেন, তোমারাও তাদের অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।
মু'আয (রা) বলেন, এরপর আমরা উপস্থিত লোকজনের কাছে গেলাম। তখন নবী (ﷺ) বললেন, আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একজন বাহক আমার কাছে এসেছে এবং আমার অর্ধেক উম্মতকে জান্নাতে দাখিল করা ও শাফা'আতের মাঝে আমাকে ইখতিয়ার দিয়েছে। উপস্থিত লোকজন বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। তিনি বললেন, তোমরা চুপ কর। তারা এভাবে নীরব হয়ে গেল যে, যেন কেউ কথা বলতে পারে না। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এটা (শাফা'আত) সে ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহর সাথে কিছু শরীক না করে মৃত্যুবরণ করেছে।)
(তাবারানী একাধিক সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি সনদ উৎকৃষ্ট। ইবন হিব্বান ও আপন 'সহীহ' কিতাবে অনুরূপ সনদে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতে দুই ব্যক্তি হচ্ছেন মু'আয ইবন জাবাল ও আবু মুসা। তাবারানীর কোন কোন রিওয়ায়েতেও এমনি বলা হয়েছে। এটাই প্রসিদ্ধ। ইবন হিব্বান তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতে বলেন, "তখন মু'আয (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আপনার উপর আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। আপনি তো আমার অবস্থান জানেন। সুতরাং আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। জবাবে তিনি বললেন, তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আওফ ইবন মালিক ও আবু মূসা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি জানেন, আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনে আমাদের ধন-সম্পদ, পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি পরিত্যাগ করেছি। সুতরাং আমাদেরকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। তিনি বললেন, তোমারাও তাদের অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।
মু'আয (রা) বলেন, এরপর আমরা উপস্থিত লোকজনের কাছে গেলাম। তখন নবী (ﷺ) বললেন, আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একজন বাহক আমার কাছে এসেছে এবং আমার অর্ধেক উম্মতকে জান্নাতে দাখিল করা ও শাফা'আতের মাঝে আমাকে ইখতিয়ার দিয়েছে। উপস্থিত লোকজন বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। তিনি বললেন, তোমরা চুপ কর। তারা এভাবে নীরব হয়ে গেল যে, যেন কেউ কথা বলতে পারে না। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এটা (শাফা'আত) সে ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহর সাথে কিছু শরীক না করে মৃত্যুবরণ করেছে।)
كتاب البعث
فصل فِي الشَّفَاعَة وَغَيرهَا
5533- وَعَن عَوْف بن مَالك الْأَشْجَعِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ سافرنا مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم سفرا حَتَّى إِذا كَانَ فِي اللَّيْل أرقت عَيْنَايَ فَلم يأتني النّوم فَقُمْت فَإِذا لَيْسَ فِي الْعَسْكَر دَابَّة إِلَّا وَاضع خَدّه إِلَى الأَرْض وَأرى وَقع كل شَيْء فِي نَفسِي فَقلت لَآتِيَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فلأكلأنه اللَّيْلَة حَتَّى أصبح
فَخرجت أتخلل الرِّجَال حَتَّى خرجت من الْعَسْكَر فَإِذا أَنا بسواد فَتَيَمَّمت ذَلِك السوَاد فَإِذا هُوَ أَبُو عُبَيْدَة بن الْجراح ومعاذ بن جبل فَقَالَا لي مَا الَّذِي أخرجك فَقلت الَّذِي أخرجكما فَإِذا نَحن بغيضة منا غير بعيدَة فمشينا إِلَى الغيضة فَإِذا نَحن نسْمع فِيهَا كَدَوِيِّ النَّحْل وكخفيق الرِّيَاح فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم هَهُنَا أَبُو عُبَيْدَة بن الْجراح قُلْنَا نعم
قَالَ ومعاذ بن جبل قُلْنَا نعم قَالَ وعَوْف بن مَالك قُلْنَا نعم فَخرج إِلَيْنَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَا نَسْأَلهُ عَن شَيْء وَلَا يسألنا عَن شَيْء حَتَّى رَجَعَ إِلَى رَحْله فَقَالَ أَلا أخْبركُم بِمَا خيرني رَبِّي آنِفا قُلْنَا بلَى يَا رَسُول الله
قَالَ خيرني بَين أَن يدْخل ثُلثي أمتِي الْجنَّة بِغَيْر حِسَاب وَلَا عَذَاب وَبَين الشَّفَاعَة قُلْنَا يَا رَسُول الله مَا الَّذِي اخْتَرْت قَالَ اخْتَرْت الشَّفَاعَة قُلْنَا جَمِيعًا يَا رَسُول الله اجْعَلْنَا من أهل شفاعتك قَالَ إِن شَفَاعَتِي لكل مُسلم
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بأسانيد أَحدهَا جيد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه بِنَحْوِهِ إِلَّا أَن عِنْده الرجلَيْن معَاذ بن جبل وَأَبا مُوسَى وَهُوَ كَذَلِك فِي بعض رِوَايَات الطَّبَرَانِيّ وَهُوَ الْمَعْرُوف وَقَالَ ابْن حبَان فِي حَدِيثه فَقَالَ معَاذ رَضِي الله عَنهُ بِأبي أَنْت وَأمي يَا رَسُول الله قد عرفت منزلتي فَاجْعَلْنِي
مِنْهُم قَالَ أَنْت مِنْهُم
قَالَ عَوْف بن مَالك وَأَبُو مُوسَى يَا رَسُول الله قد عرفت أَنا تركنَا أَمْوَالنَا وأهلينا وذرارينا نؤمن بِاللَّه وَرَسُوله فاجعلنا مِنْهُم قَالَ أَنْتُمَا مِنْهُم
قَالَ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَوْم فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَتَانِي آتٍ من رَبِّي فخيرني بَين أَن يدْخل نصف أمتِي الْجنَّة وَبَين الشَّفَاعَة فَقَالَ الْقَوْم يَا رَسُول الله اجْعَلْنَا مِنْهُم فَقَالَ أَنْصتُوا فأنصتوا حَتَّى كَأَن أحدا لم يتَكَلَّم فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم هِيَ لمن مَاتَ لَا يُشْرك بِاللَّه شَيْئا
فَخرجت أتخلل الرِّجَال حَتَّى خرجت من الْعَسْكَر فَإِذا أَنا بسواد فَتَيَمَّمت ذَلِك السوَاد فَإِذا هُوَ أَبُو عُبَيْدَة بن الْجراح ومعاذ بن جبل فَقَالَا لي مَا الَّذِي أخرجك فَقلت الَّذِي أخرجكما فَإِذا نَحن بغيضة منا غير بعيدَة فمشينا إِلَى الغيضة فَإِذا نَحن نسْمع فِيهَا كَدَوِيِّ النَّحْل وكخفيق الرِّيَاح فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم هَهُنَا أَبُو عُبَيْدَة بن الْجراح قُلْنَا نعم
قَالَ ومعاذ بن جبل قُلْنَا نعم قَالَ وعَوْف بن مَالك قُلْنَا نعم فَخرج إِلَيْنَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَا نَسْأَلهُ عَن شَيْء وَلَا يسألنا عَن شَيْء حَتَّى رَجَعَ إِلَى رَحْله فَقَالَ أَلا أخْبركُم بِمَا خيرني رَبِّي آنِفا قُلْنَا بلَى يَا رَسُول الله
قَالَ خيرني بَين أَن يدْخل ثُلثي أمتِي الْجنَّة بِغَيْر حِسَاب وَلَا عَذَاب وَبَين الشَّفَاعَة قُلْنَا يَا رَسُول الله مَا الَّذِي اخْتَرْت قَالَ اخْتَرْت الشَّفَاعَة قُلْنَا جَمِيعًا يَا رَسُول الله اجْعَلْنَا من أهل شفاعتك قَالَ إِن شَفَاعَتِي لكل مُسلم
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بأسانيد أَحدهَا جيد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه بِنَحْوِهِ إِلَّا أَن عِنْده الرجلَيْن معَاذ بن جبل وَأَبا مُوسَى وَهُوَ كَذَلِك فِي بعض رِوَايَات الطَّبَرَانِيّ وَهُوَ الْمَعْرُوف وَقَالَ ابْن حبَان فِي حَدِيثه فَقَالَ معَاذ رَضِي الله عَنهُ بِأبي أَنْت وَأمي يَا رَسُول الله قد عرفت منزلتي فَاجْعَلْنِي
مِنْهُم قَالَ أَنْت مِنْهُم
قَالَ عَوْف بن مَالك وَأَبُو مُوسَى يَا رَسُول الله قد عرفت أَنا تركنَا أَمْوَالنَا وأهلينا وذرارينا نؤمن بِاللَّه وَرَسُوله فاجعلنا مِنْهُم قَالَ أَنْتُمَا مِنْهُم
قَالَ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَوْم فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَتَانِي آتٍ من رَبِّي فخيرني بَين أَن يدْخل نصف أمتِي الْجنَّة وَبَين الشَّفَاعَة فَقَالَ الْقَوْم يَا رَسُول الله اجْعَلْنَا مِنْهُم فَقَالَ أَنْصتُوا فأنصتوا حَتَّى كَأَن أحدا لم يتَكَلَّم فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم هِيَ لمن مَاتَ لَا يُشْرك بِاللَّه شَيْئا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫৩৪
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শাফা'আত ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৩৪. হযরত সালমান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন সূর্যকে দশ বছরের তাপ প্রদান করা হবে এরপর তাকে মানুষের মাথার কাছাকাছি করে দেওয়া হবে। রাবী বলেন, তারপর হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (সালমান) বলেন, তারপর তারা নবী (ﷺ) এর কাছে যাবে এবং বলবে, হে আল্লাহর নবী। আপনাকে আল্লাহ তা'আলা বিজয় দান করেছেন, আপনার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ত্রুটিবিচ্যুতি ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমরা যে অবস্থার শিকার হয়েছি, তা আপনি দেখছেন। সুতরাং আপনার প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। তিনি বলবেন, আমি তোমাদের সঙ্গী। এবলে তিনি মানুষের সমাবেশ ছিড়ে বের হবেন এবং জান্নাতের দরজায় পৌছবেন। তারপর দরজার একটি সোনার কড়া ধরে দরজায় করাঘাত করবেন। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, কে তুমি? তিনি বলবেন, মুহাম্মদ। তখন তাঁর জন্য দরজা খোলা হবে। তিনি আল্লাহ্ তা'আলার সামনে দাঁড়াবেন এবং তাঁকে সিজদা করবেন। তাঁকে ডেকে বলা হবে, আপনি আপনার মাথা তুলুন। আপনি যাজ্ঞা করুন, আপনার যাজ্ঞা পূর্ণ করা হবে। আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে। এটাই হচ্ছে 'মাকামে মাহমূদ (প্রশংসিত মর্যাদা)।
(তাবারানী সহীহ্ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(তাবারানী সহীহ্ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب البعث
فصل فِي الشَّفَاعَة وَغَيرهَا
5534- وَعَن سلمَان رَضِي الله عَنهُ قَالَ تُعْطى الشَّمْس يَوْم الْقِيَامَة حر عشر سِنِين ثمَّ تدنى من جماجم النَّاس
قَالَ فَذكر الحَدِيث قَالَ فَيَأْتُونَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَيَقُولُونَ يَا نَبِي الله أَنْت الَّذِي فتح الله لَك وَغفر لَك مَا تقدم من ذَنْبك وَمَا تَأَخّر وَقد ترى مَا نَحن فِيهِ فاشفع لنا إِلَى رَبك فَيَقُول أَنا صَاحبكُم فَيخرج يجوس بَين النَّاس حَتَّى يَنْتَهِي إِلَى بَاب الْجنَّة فَيَأْخُذ بِحَلقَة فِي الْبَاب من ذهب فيقرع الْبَاب فَيَقُول من هَذَا فَيَقُول مُحَمَّد فَيفتح لَهُ حَتَّى يقوم بَين يَدي الله عز وَجل فَيسْجد فينادى ارْفَعْ رَأسك سل تعطه وَاشْفَعْ تشفع فَذَلِك الْمقَام الْمَحْمُود
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد صَحِيح
قَالَ فَذكر الحَدِيث قَالَ فَيَأْتُونَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَيَقُولُونَ يَا نَبِي الله أَنْت الَّذِي فتح الله لَك وَغفر لَك مَا تقدم من ذَنْبك وَمَا تَأَخّر وَقد ترى مَا نَحن فِيهِ فاشفع لنا إِلَى رَبك فَيَقُول أَنا صَاحبكُم فَيخرج يجوس بَين النَّاس حَتَّى يَنْتَهِي إِلَى بَاب الْجنَّة فَيَأْخُذ بِحَلقَة فِي الْبَاب من ذهب فيقرع الْبَاب فَيَقُول من هَذَا فَيَقُول مُحَمَّد فَيفتح لَهُ حَتَّى يقوم بَين يَدي الله عز وَجل فَيسْجد فينادى ارْفَعْ رَأسك سل تعطه وَاشْفَعْ تشفع فَذَلِك الْمقَام الْمَحْمُود
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد صَحِيح
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫৩৫
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শাফা'আত ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৩৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেন, আমি আমার উম্মাতের (পুলসিরাত) অতিক্রম করার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকব। তখন ঈসা (আ) আসবেন। তিনি বলেন, ঈসা (আ) বলবেন, হে মুহাম্মদ! এসব নবী আপনার কাছে এসেছেন, তাঁরা প্রার্থনা করছেন, অথবা বলেছেন, তাঁরা আপনার কাছে সমবেত হচ্ছেন, তাঁরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন, মানুষ যেহেতু মহা সংকটে পতিত, তাই তিনি যেন জাতিসমূহের যেরূপ ইচ্ছে অর্থাৎ যেখানে ইচ্ছে দিয়ে ফায়সালা করে দেন। তখন মানুষ আকর্ণ ঘামে ডুবে থাকবে। কিন্তু মু'মিনের জন্য তা হবে (সর্দি জনিত শ্লেষ্মার মত, পক্ষান্তরে কাফিরের উপর মৃত্যুর অবস্থা বিরাজ করবে। তিনি বলবেন, হে ঈসা। আমি আপনার কাছে ফিরে আসা পর্যন্ত আপনি অপেক্ষা করুন। রাবী বলেন, তারপর আল্লাহর নবী বেরিয়ে যাবেন এবং আরশের নিচে গিয়ে দাঁড়াবেন। তিনি সেখানে এমন মর্যাদা লাভ করবেন, যা কোন মনোনীত ফিরিশতা অথবা কোন প্রেরিত রাসূল লাভ করেন নি। তখন আল্লাহ্ তা'আলা জিবরীল (আ)-এর কাছে ওহী প্রেরণ করবেন যে, মুহাম্মদ-এর কাছে যাও এবং তাঁকে বল, আপনি আপনার মাথা তুলুন। আপনি প্রার্থনা করুন। আপনার প্রার্থনা মঞ্জুর করা হবে। আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে। তিনি বলেন, তখন আমি আমার উম্মাতের ব্যাপারে সুপারিশ করব, যেন প্রতি নিরানব্বই জন থেকে একজন মানুষ বের করা হয়। তিনি বলেন, আমি আমার প্রতিপালকের কাছে বারবার যেতে থাকব। যেখানেই আমি দাঁড়াব, সেখানে আমি সুপারিশ করব, যে পর্যন্ত না আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে এ ব্যাপারে এ বলে অধিকার দেন যে, আপনার উম্মত তথা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে যে ব্যক্তি একদিন নিষ্ঠার সাথে সাক্ষ্য দিয়েছে যে, "আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন মা'বুদ নেই” এবং এরই উপর মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে, তাকে আপনি (জান্নাতে) দাখিল করুন।
(আহমাদ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সহীহ্ হাদীসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য।)
(আহমাদ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সহীহ্ হাদীসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য।)
كتاب البعث
فصل فِي الشَّفَاعَة وَغَيرهَا
5535- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ حَدثنِي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِنِّي لقائم أنْتَظر أمتِي تعبر إِذْ جَاءَ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلَام قَالَ فَقَالَ هَذِه الْأَنْبِيَاء قد جاءتك يَا مُحَمَّد يسْأَلُون أَو قَالَ يَجْتَمعُونَ إِلَيْك يدعونَ الله أَن يفرق بَين جمع الْأُمَم إِلَى حَيْثُ يَشَاء لعظم مَا هم فِيهِ فالخلق ملجمون فِي الْعرق فَأَما الْمُؤمن فَهُوَ عَلَيْهِ كالزكمة وَأما الْكَافِر فيتغشاه الْمَوْت قَالَ يَا عِيسَى انْتظر حَتَّى أرجع إِلَيْك
قَالَ وَذهب نَبِي الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَامَ تَحت الْعَرْش فلقي مَا لم يلق ملك مصطفى وَلَا نَبِي مُرْسل فَأوحى الله إِلَى جِبْرِيل عَلَيْهِ السَّلَام أَن اذْهَبْ إِلَى مُحَمَّد فَقل لَهُ ارْفَعْ رَأسك سل تعطه وَاشْفَعْ تشفع
قَالَ فشفعت فِي أمتِي أَن أخرج من كل تِسْعَة وَتِسْعين إنْسَانا وَاحِدًا
قَالَ فَمَا زلت أتردد على رَبِّي فَلَا أقوم فِيهِ مقَاما إِلَّا شفعت حَتَّى أَعْطَانِي الله من ذَلِك أَن قَالَ أَدخل من أمتك من خلق الله من شهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله يَوْمًا وَاحِدًا مخلصا وَمَات على ذَلِك
رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح
قَالَ وَذهب نَبِي الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَامَ تَحت الْعَرْش فلقي مَا لم يلق ملك مصطفى وَلَا نَبِي مُرْسل فَأوحى الله إِلَى جِبْرِيل عَلَيْهِ السَّلَام أَن اذْهَبْ إِلَى مُحَمَّد فَقل لَهُ ارْفَعْ رَأسك سل تعطه وَاشْفَعْ تشفع
قَالَ فشفعت فِي أمتِي أَن أخرج من كل تِسْعَة وَتِسْعين إنْسَانا وَاحِدًا
قَالَ فَمَا زلت أتردد على رَبِّي فَلَا أقوم فِيهِ مقَاما إِلَّا شفعت حَتَّى أَعْطَانِي الله من ذَلِك أَن قَالَ أَدخل من أمتك من خلق الله من شهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله يَوْمًا وَاحِدًا مخلصا وَمَات على ذَلِك
رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫৩৬
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শাফা'আত ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৩৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, এই কিবলার অনুসারীগণ, আল্লাহর নাফরমানী করা, তাঁর বিরুদ্ধাচরণে দুঃসাহস প্রদর্শন করা এবং তাঁর আনুগত্যের বিরোধিতা করার কারণে তাদের এতলোক জাহান্নামে প্রবেশ করবে, যাদের সংখ্যা আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত কেউ গুণতে পারবে না। তখন আমাকে শাফা'আতের অনুমতি দেওয়া হবে। আমি সিজদাবনত হয়ে আল্লাহর প্রশংসা করব, যেভাবে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রশংসা করে থাকি। তারপর আমাকে বলা হবে, আপনি আপনার মাথা তুলুন। আপনি প্রার্থনা করুন, তা মঞ্জুর করা হবে। আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে।
(তাবারানী (র) 'আল-কাবীর ও 'আস-সাগীর' গ্রন্থদ্বয়ে হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(তাবারানী (র) 'আল-কাবীর ও 'আস-সাগীর' গ্রন্থদ্বয়ে হাসান সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب البعث
فصل فِي الشَّفَاعَة وَغَيرهَا
5536- وَعَن عبد الله بن عَمْرو بن العَاصِي رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
يدْخل من أهل هَذِه الْقبْلَة النَّار من لَا يحصي عَددهمْ إِلَّا الله بِمَا عصوا الله واجترؤوا على مَعْصِيَته وخالفوا طَاعَته فَيُؤذن لي فِي الشَّفَاعَة فأثني على الله سَاجِدا كَمَا أثني عَلَيْهِ قَائِما فَيُقَال لي ارْفَعْ رَأسك وسل تعطه وَاشْفَعْ تشفع
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَالصَّغِير بِإِسْنَاد حسن
يدْخل من أهل هَذِه الْقبْلَة النَّار من لَا يحصي عَددهمْ إِلَّا الله بِمَا عصوا الله واجترؤوا على مَعْصِيَته وخالفوا طَاعَته فَيُؤذن لي فِي الشَّفَاعَة فأثني على الله سَاجِدا كَمَا أثني عَلَيْهِ قَائِما فَيُقَال لي ارْفَعْ رَأسك وسل تعطه وَاشْفَعْ تشفع
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَالصَّغِير بِإِسْنَاد حسن
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫৩৭
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শাফা'আত ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৩৭. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে এ মর্মে প্রশ্ন করলাম, যে ইয়া রাসুলাল্লাহ। শাফা'আতের ব্যাপারে আপনার প্রতিপালক আপনাকে কি উত্তর দিয়েছেন। তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম। যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ রয়েছে, আমি যেহেতু ইলমের প্রতি তোমার আগ্রহ লক্ষ্য করেছি, তাই আমি অবশ্যই ধারণা করেছিলাম যে, তুমিই আমার উম্মতের মধ্যে সর্বপ্রথম আমাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করবে। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ রয়েছে, জান্নাতের দরজাসমূহে মানুষের ভিড় হওয়ার কারণে আমার যে পেরেশানী হবে, তা আমার কাছে আমার সুপারিশপূর্ণ হওয়ার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমার শাফা'আত হবে সে ব্যক্তির জন্য, যে নিষ্ঠার সাথে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, যখন তার স্বীকারোক্তিকে তার অন্তর সমর্থন করে এবং তার অন্তরকে তার স্বীকারোক্তি সমর্থন করে।
(আহমাদ ও ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(আহমাদ ও ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب البعث
فصل فِي الشَّفَاعَة وَغَيرهَا
5537 - وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَأَلت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قلت يَا رَسُول الله مَاذَا رد إِلَيْك رَبك فِي الشَّفَاعَة قَالَ وَالَّذِي نفس مُحَمَّد بِيَدِهِ لقد ظَنَنْت أَنَّك أول من يسألني عَن ذَلِك من أمتِي لما رَأَيْت من حرصك على الْعلم وَالَّذِي نفس مُحَمَّد بِيَدِهِ لما يهمني من انقصافهم على أَبْوَاب الْجنَّة أهم عِنْدِي من تَمام شَفَاعَتِي لَهُم وشفاعتي لمن شهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله مخلصا وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله يصدق لِسَانه قلبه وَقَلبه لِسَانه
رَوَاهُ أَحْمد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
رَوَاهُ أَحْمد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫৩৮
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শাফা'আত ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৩৮. হযরত আবু বকর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ভোর বেলায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সালাত আদায় করলেন। তারপর বসে থাকলেন, যখন পূর্বাহ্ন হল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসলেন এবং স্বস্থানে বসে থাকলেন। তারপর (ক্রমান্বয়ে) যোহর, আসর ও মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। এপুরো সময়টুকু কথা না বলে অবশেষে ইশা'র সালাত আদায় করলেন। এরপর তাঁর পরিবার-পরিজনের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়ালেন। লোকজন আবু বকর (রা)-কে বলল, আপনি রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে একটু জিজ্ঞেস করুন না। তার অবস্থা কি? তিনি আজ এমন কিছু করেছেন, যা ইতিপূর্বে কখনোও করেন নি। তখন তিনি (রাসুলুল্লাহ সা) বললেন, হাঁ, দুনিয়া ও আখিরাতে যা কিছু সংঘটিত হবে, তা আমার সামনে পেশ করা হয়েছে। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মানুষকে একটি ভূমিতে সমবেত করা হল। তারপর তারা সবাই আদম (আ)-এর কাছে গেল। ঘাম তাদের মুখের লাগাম পর্যন্ত হওয়ার উপক্রম হল। তারা বলল, হে আদম (আ)। আপনি হচ্ছেন মানব জাতির পিতা। আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে মনোনীত করেছেন। আপনি আপনার প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। তিনি বললেনঃ তোমরা যেরূপ অবস্থার সম্মুখীন হয়েছ আমিও তা তদ্রূপ অবস্থার সম্মুখীন হয়েছি। তোমাদের (প্রথম) পিতার (আমার)পর তোমার (দ্বিতীয়) পিতা নুহের কাছে যাও। "নিশ্চয় আল্লাহ্ তা'আলা আদম, নূহ, ইব্রাহীমের পরিবার ও ইমরান পরিবারকে সমগ্র বিশ্ববাসীর মধ্যে মনোনীত করেছেন।" (৩ঃ ৩২)
তারপর তারা নূহ (আ)-এর কাছে যাবে এবং বলবে আপনি আপনার প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। কেননা, আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে মনোনীত করেছেন এবং আপনার দু'আ তিনি কবুল করেছেন। পৃথিবীর উপর কোন কাফির গৃহবাসীকে ছেড়ে দেন নি। তিনি বলেন সে অধিকার আমার নেই। তোমরা ইবরাহীম (আ)-এর কাছে যাও। কেননা, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে 'খলীল-অন্তরঙ্গ' রূপে গ্রহণ করেছেন। সেমতে তারা ইব্রাহীম (আ)-এর কাছে যাবে। তিনি বলবেন, সে অধিকার আমার নেই। তোমরা বরং মূসা (আ)-এর কাছে যাও। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর সাথে একান্ত কথা বলেছেন। তারা তখন মুসা (আ)-এর কাছে যাবে। তিনি বলবেন, আমার সে অধিকার নেই। তোমরা ঈসা ইবন মারইয়াম (আ)-এর কাছে যাও। কেননা, তিনি অন্ধ ও শ্বেত রুগীর রোগ নিরাময় করতেন এবং মৃতকে জীবিত করতেন। ঈসা (আ) বলবেন, সে অধিকার আমার নেই। তবে তোমরা আদম (আ)- এর সন্তানদের নেতা (মুহাম্মদ সা)-এর কাছে যাও। কেননা কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম তাঁর উপর থেকেই ভূমি বিদীর্ণ হবে। তোমরা মুহাম্মদ -এর কাছে যাও। তিনি অবশ্যই তোমাদের প্রতিপালকের কাছে তোমাদের জন্য সুপারিশ করবেন। তিনি বলেন, তখন তারা আমার কাছে আসবে। আমি জিব্রীলের কাছে যাব। তখন জিবরীল (আ) আল্লাহ তা'আলার কাছে যাবেন। তিনি বলবেন, তাকে (সুপারিশের) অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তিনি বলেন, অতঃপর জিবরীল (আ) তাঁকে নিয়ে যাবেন। তারপর তিনি এক সপ্তাহ পরিমাণ সিজদাবনত হয়ে পড়ে থাকবেন। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, হে মুহাম্মদ। আপনি আপনার মাথা তুলুন এবং আপনি (যা বলার) বলুন, আপনার কথা শোনা হবে। আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ মঞ্জুর করা হবে। তখন তিনি তাঁর মাথা তুলবেন। তারপর যখন তিনি তার প্রতিপালকের দিকে তাকাবেন, তখন তিনি আরেক সপ্তাহ পর্যন্ত সিজদায় পড়ে থাকবেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, হে মুহাম্মদ। আপনি আপনার মাথা তুলুন এবং আপনি (যা বলার) বলুন, আপনার কথা শোনা হবে। আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ মঞ্জুর করা হবে। তিনি (আবার) তিনি সিজদাবনত হতে যাবেন, তখন জিব্রীল (আ) তাঁর বাহুদ্বয় ধরে ফেলবেন এবং আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে এমন সব দু'আ শিখিয়ে দেবেন, যা কখনও কোন মানুষকে তিনি শিখান নি। তিনি বলবেন, হে আমার প্রতিপালক। আপনি আমাকে আদম সন্তানদের সর্দার বানিয়েছেন। এতে (আমার কোন) গর্ববোধ নেই এবং আমাকে সেই ব্যক্তি বানিয়েছেন, যার উপর থেকে কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম ভূমি বিদীর্ণ হবে। এতে (আমার কোন) গর্ব নেই। তারপর সান'আ ও আয়লার মধ্যবর্তী স্থানে যত লোক ধরে তার চেয়ে অধিক লোক হাওযে কাওসারে পানি পানের জন্য হাযির হবে। এরপর বলা হবে, সিদ্দীকদেরকে ডাক, তখন তারা সুপারিশ করবে। এরপর বলা হবে, নবীদেরকে ডাক, তখন একজন নবী আসবেন তাঁর সাথে থাকবে একটি ক্ষুদ্রদল। কোন নবীর সাথে থাকবে পাঁচ-ছয়জন, কোন নবী এমনও আসবেন যার সাথে একজনও থাকবে না। এরপর বলা হবে, শহীদদেরকে ডাক, তখন তারা যাদের ব্যাপারে ইচ্ছা সুপারিশ করবে।।
যখন শহীদরা তাদের সুপারিশ শেষ করবে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, আমি দয়াশীলদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াশীল। যারা আমার সাথে কিছুকে শরীক করত না, তাদের সবাইকে আমার জান্নাতে দাখিল কর। তখন তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।
তারপর আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, তোমরা জাহান্নামের দিকে তাকিয়ে দেখ, সেখানে কি এমন কেউ রয়েছে, যে কখনও কোন সৎকর্ম করেছে। তখন তারা জাহান্নামে একটি লোক পাবে, তাকে জিজ্ঞেস করা হবে ওহে। তুমি কি কখনও কোন সৎকর্ম করেছ। সে বলবে, না। তবে আমি বেচা-বিক্রির সময় মানুষের সাথে উদার আচরণ করতাম। তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, আমার বান্দার সাথে উদারতা প্রদর্শন কর, যেমনটা সে আমার বান্দাদের সাথে উদারতা প্রদর্শন করেছে এরপর জাহান্নাম থেকে আরেক ব্যক্তিকে বের করা হবে, তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, ওহে। তুমি কি কখনও কোন সৎকর্ম করেছ? সে বলবে, না। তবে আমি আমার পুত্রকে বলতাম, যখন আমি মারা যাব, তখন তোমরা আমাকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে এবং তারপর তোমরা আমাকে পিষে ফেলবে। যখন আমি সুরমার মত হয়ে
যাব, তখন তোমরা আমাকে সমুদ্রে নিয়ে যাবে এবং আমাকে বাতাসে উড়িয়ে দেবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন,
এটা তুমি কেন করেছ হে। সে বলবে, আপনার ভয়ে। তিনি বলবেন, তুমি কোন মহারাজার রাজত্বের দিকে তাকাও। আমি তোমাকে তার সমান ও তার দশগুণ দিলাম। সে বলবে, আপনি আমার সাথে কেন উপহাস করছেন প্রভু! অথচ আপনি হচ্ছেন রাজাধিরাজ। একারণেই আমি পূর্বাহ্নের হেসেছি।
(আহমাদ, বাযযার, আবু ইয়া'লা ও ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন হিব্বান বলেন, ইসহাক ইবন ইবরাহীম বলেছেন, এটা সর্বশ্রেষ্ঠ হাদীসসমূহের অন্যতম। অনেকেই নবী থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে হুযায়ফা, আবু মাসউদ, আবূ হুরায়রা প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
হাদীসে উক্ত العصابة অর্থ দল। এর কোন একবচন নেই। আখফাশের অভিমত তাই। কেউ কেউ বলেছেন, দশ অথবা বিশ থেকে চল্লিশ পর্যন্ত লোকের দলকে বলা হয়।)
তারপর তারা নূহ (আ)-এর কাছে যাবে এবং বলবে আপনি আপনার প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। কেননা, আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে মনোনীত করেছেন এবং আপনার দু'আ তিনি কবুল করেছেন। পৃথিবীর উপর কোন কাফির গৃহবাসীকে ছেড়ে দেন নি। তিনি বলেন সে অধিকার আমার নেই। তোমরা ইবরাহীম (আ)-এর কাছে যাও। কেননা, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে 'খলীল-অন্তরঙ্গ' রূপে গ্রহণ করেছেন। সেমতে তারা ইব্রাহীম (আ)-এর কাছে যাবে। তিনি বলবেন, সে অধিকার আমার নেই। তোমরা বরং মূসা (আ)-এর কাছে যাও। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর সাথে একান্ত কথা বলেছেন। তারা তখন মুসা (আ)-এর কাছে যাবে। তিনি বলবেন, আমার সে অধিকার নেই। তোমরা ঈসা ইবন মারইয়াম (আ)-এর কাছে যাও। কেননা, তিনি অন্ধ ও শ্বেত রুগীর রোগ নিরাময় করতেন এবং মৃতকে জীবিত করতেন। ঈসা (আ) বলবেন, সে অধিকার আমার নেই। তবে তোমরা আদম (আ)- এর সন্তানদের নেতা (মুহাম্মদ সা)-এর কাছে যাও। কেননা কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম তাঁর উপর থেকেই ভূমি বিদীর্ণ হবে। তোমরা মুহাম্মদ -এর কাছে যাও। তিনি অবশ্যই তোমাদের প্রতিপালকের কাছে তোমাদের জন্য সুপারিশ করবেন। তিনি বলেন, তখন তারা আমার কাছে আসবে। আমি জিব্রীলের কাছে যাব। তখন জিবরীল (আ) আল্লাহ তা'আলার কাছে যাবেন। তিনি বলবেন, তাকে (সুপারিশের) অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তিনি বলেন, অতঃপর জিবরীল (আ) তাঁকে নিয়ে যাবেন। তারপর তিনি এক সপ্তাহ পরিমাণ সিজদাবনত হয়ে পড়ে থাকবেন। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, হে মুহাম্মদ। আপনি আপনার মাথা তুলুন এবং আপনি (যা বলার) বলুন, আপনার কথা শোনা হবে। আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ মঞ্জুর করা হবে। তখন তিনি তাঁর মাথা তুলবেন। তারপর যখন তিনি তার প্রতিপালকের দিকে তাকাবেন, তখন তিনি আরেক সপ্তাহ পর্যন্ত সিজদায় পড়ে থাকবেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, হে মুহাম্মদ। আপনি আপনার মাথা তুলুন এবং আপনি (যা বলার) বলুন, আপনার কথা শোনা হবে। আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ মঞ্জুর করা হবে। তিনি (আবার) তিনি সিজদাবনত হতে যাবেন, তখন জিব্রীল (আ) তাঁর বাহুদ্বয় ধরে ফেলবেন এবং আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে এমন সব দু'আ শিখিয়ে দেবেন, যা কখনও কোন মানুষকে তিনি শিখান নি। তিনি বলবেন, হে আমার প্রতিপালক। আপনি আমাকে আদম সন্তানদের সর্দার বানিয়েছেন। এতে (আমার কোন) গর্ববোধ নেই এবং আমাকে সেই ব্যক্তি বানিয়েছেন, যার উপর থেকে কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম ভূমি বিদীর্ণ হবে। এতে (আমার কোন) গর্ব নেই। তারপর সান'আ ও আয়লার মধ্যবর্তী স্থানে যত লোক ধরে তার চেয়ে অধিক লোক হাওযে কাওসারে পানি পানের জন্য হাযির হবে। এরপর বলা হবে, সিদ্দীকদেরকে ডাক, তখন তারা সুপারিশ করবে। এরপর বলা হবে, নবীদেরকে ডাক, তখন একজন নবী আসবেন তাঁর সাথে থাকবে একটি ক্ষুদ্রদল। কোন নবীর সাথে থাকবে পাঁচ-ছয়জন, কোন নবী এমনও আসবেন যার সাথে একজনও থাকবে না। এরপর বলা হবে, শহীদদেরকে ডাক, তখন তারা যাদের ব্যাপারে ইচ্ছা সুপারিশ করবে।।
যখন শহীদরা তাদের সুপারিশ শেষ করবে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, আমি দয়াশীলদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াশীল। যারা আমার সাথে কিছুকে শরীক করত না, তাদের সবাইকে আমার জান্নাতে দাখিল কর। তখন তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।
তারপর আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, তোমরা জাহান্নামের দিকে তাকিয়ে দেখ, সেখানে কি এমন কেউ রয়েছে, যে কখনও কোন সৎকর্ম করেছে। তখন তারা জাহান্নামে একটি লোক পাবে, তাকে জিজ্ঞেস করা হবে ওহে। তুমি কি কখনও কোন সৎকর্ম করেছ। সে বলবে, না। তবে আমি বেচা-বিক্রির সময় মানুষের সাথে উদার আচরণ করতাম। তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন, আমার বান্দার সাথে উদারতা প্রদর্শন কর, যেমনটা সে আমার বান্দাদের সাথে উদারতা প্রদর্শন করেছে এরপর জাহান্নাম থেকে আরেক ব্যক্তিকে বের করা হবে, তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, ওহে। তুমি কি কখনও কোন সৎকর্ম করেছ? সে বলবে, না। তবে আমি আমার পুত্রকে বলতাম, যখন আমি মারা যাব, তখন তোমরা আমাকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে এবং তারপর তোমরা আমাকে পিষে ফেলবে। যখন আমি সুরমার মত হয়ে
যাব, তখন তোমরা আমাকে সমুদ্রে নিয়ে যাবে এবং আমাকে বাতাসে উড়িয়ে দেবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন,
এটা তুমি কেন করেছ হে। সে বলবে, আপনার ভয়ে। তিনি বলবেন, তুমি কোন মহারাজার রাজত্বের দিকে তাকাও। আমি তোমাকে তার সমান ও তার দশগুণ দিলাম। সে বলবে, আপনি আমার সাথে কেন উপহাস করছেন প্রভু! অথচ আপনি হচ্ছেন রাজাধিরাজ। একারণেই আমি পূর্বাহ্নের হেসেছি।
(আহমাদ, বাযযার, আবু ইয়া'লা ও ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন হিব্বান বলেন, ইসহাক ইবন ইবরাহীম বলেছেন, এটা সর্বশ্রেষ্ঠ হাদীসসমূহের অন্যতম। অনেকেই নবী থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে হুযায়ফা, আবু মাসউদ, আবূ হুরায়রা প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
হাদীসে উক্ত العصابة অর্থ দল। এর কোন একবচন নেই। আখফাশের অভিমত তাই। কেউ কেউ বলেছেন, দশ অথবা বিশ থেকে চল্লিশ পর্যন্ত লোকের দলকে বলা হয়।)
كتاب البعث
فصل فِي الشَّفَاعَة وَغَيرهَا
5538- وَعَن أبي بكر الصّديق رَضِي الله عَنهُ قَالَ أصبح رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ذَات يَوْم فصلى الْغَدَاة ثمَّ جلس حَتَّى إِذا كَانَ من الضُّحَى ضحك رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَجلسَ مَكَانَهُ حَتَّى صلى الأولى وَالْعصر وَالْمغْرب كل ذَلِك لَا يتَكَلَّم حَتَّى صلى الْعشَاء الْآخِرَة ثمَّ قَامَ إِلَى أَهله فَقَالَ النَّاس لأبي بكر رَضِي الله عَنهُ سل رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا شَأْنه صنع الْيَوْم شَيْئا لم يصنعه قطّ فَقَالَ نعم عرض عَليّ مَا هُوَ كَائِن من أَمر الدُّنْيَا وَالْآخِرَة فَجمع الْأَولونَ وَالْآخرُونَ بصعيد وَاحِد حَتَّى انْطَلقُوا إِلَى آدم عَلَيْهِ السَّلَام والعرق يكَاد يلجمهم فَقَالُوا يَا آدم أَنْت أَبُو الْبشر اصطفاك الله اشفع لنا إِلَى رَبك فَقَالَ قد لقِيت مثل الَّذِي لَقِيتُم انْطَلقُوا إِلَى أبيكم بعد أبيكم إِلَى نوح إِن الله اصْطفى آدم ونوحا وَآل إِبْرَاهِيم وَآل عمرَان على الْعَالمين آل عمرَان 33 فَيَنْطَلِقُونَ إِلَى نوح عَلَيْهِ السَّلَام فَيَقُولُونَ اشفع لنا إِلَى رَبك فَأَنت اصطفاك الله واستجاب لَك فِي دعائك فَلم يدع على الأَرْض من الْكَافرين ديارًا فَيَقُول لَيْسَ ذاكم عِنْدِي فَانْطَلقُوا إِلَى إِبْرَاهِيم فَإِن الله اتَّخذهُ خَلِيلًا فَيَنْطَلِقُونَ إِلَى إِبْرَاهِيم عَلَيْهِ السَّلَام فَيَقُول لَيْسَ ذاكم عِنْدِي فَانْطَلقُوا إِلَى مُوسَى فَإِن الله كَلمه تكليما فَيَنْطَلِقُونَ إِلَى مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَام فَيَقُول لَيْسَ ذاكم عِنْدِي وَلَكِن انْطَلقُوا إِلَى عِيسَى ابْن مَرْيَم فَإِنَّهُ كَانَ يبرىء الأكمه والأبرص ويحيي الْمَوْتَى فَيَقُول عِيسَى لَيْسَ ذاكم عِنْدِي وَلَكِن انْطَلقُوا إِلَى سيد
ولد آدم فَإِنَّهُ أول من تَنْشَق عَنهُ الأَرْض يَوْم الْقِيَامَة انْطَلقُوا إِلَى مُحَمَّد فليشفع لكم إِلَى ربكُم قَالَ فَيَنْطَلِقُونَ إِلَيّ وَآتِي جِبْرِيل فَيَأْتِي جِبْرِيل ربه فَيَقُول ائْذَنْ لَهُ وبشره بِالْجنَّةِ قَالَ فَينْطَلق بِهِ جِبْرِيل فيخر سَاجِدا قدر جُمُعَة ثمَّ يَقُول الله تبَارك وَتَعَالَى يَا مُحَمَّد ارْفَعْ رَأسك وَقل يسمع وَاشْفَعْ تشفع فيرفع رَأسه فَإِذا نظر إِلَى ربه خر سَاجِدا قدر جُمُعَة أُخْرَى فَيَقُول الله يَا مُحَمَّد ارْفَعْ رَأسك وَقل تسمع وَاشْفَعْ تشفع فَيذْهب ليَقَع سَاجِدا فَيَأْخُذ جِبْرِيل بضبعيه وَيفتح الله عَلَيْهِ من الدُّعَاء مَا لم يفتح على بشر قطّ فَيَقُول أَي رب جَعَلتني سيد ولد آدم وَلَا فَخر وَأول من تَنْشَق عَنهُ الأَرْض يَوْم الْقِيَامَة وَلَا فَخر حَتَّى إِنَّه ليرد على الْحَوْض أَكثر مَا بَين صنعاء وأيلة ثمَّ يُقَال ادعوا الصديقين فيشفعون ثمَّ يُقَال ادعوا الْأَنْبِيَاء فَيَجِيء النَّبِي مَعَه الْعِصَابَة وَالنَّبِيّ مَعَه الْخَمْسَة والستة وَالنَّبِيّ لَيْسَ مَعَه أحد ثمَّ يُقَال ادعوا الشُّهَدَاء فيشفعون فِيمَن أَرَادوا فَإِذا فعلت الشُّهَدَاء ذَلِك يَقُول الله جلّ وَعلا أَنا أرْحم الرَّاحِمِينَ أدخلُوا جنتي من كَانَ لَا يُشْرك بِي شَيْئا فَيدْخلُونَ الْجنَّة ثمَّ يَقُول الله تبَارك وَتَعَالَى انْظُرُوا فِي النَّار هَل فِيهَا من أحد عمل خيرا قطّ فيجدون فِي النَّار رجلا فَيُقَال لَهُ هَل عملت خيرا قطّ فَيَقُول لَا غير أَنِّي كنت أسامح النَّاس فِي البيع فَيَقُول الله اسمحوا لعبدي كإسماحه إِلَى عَبِيدِي ثمَّ يخرج من النَّار آخر فَيُقَال لَهُ هَل عملت خيرا قطّ فَيَقُول لَا غير أَنِّي كنت أمرت وَلَدي إِذا مت فأحرقوني بالنَّار ثمَّ اطحنوني حَتَّى إِذا كنت مثل الْكحل اذْهَبُوا بِي إِلَى الْبَحْر فذروني فِي الرّيح فَقَالَ الله لم فعلت ذَلِك قَالَ من مخافتك فَيَقُول انْظُر إِلَى ملك أعظم ملك فَإِن لَك مثله وَعشرَة أَمْثَاله فَيَقُول لم تسخر بِي وَأَنت الْملك فَذَلِك الَّذِي ضحِكت بِهِ من الضُّحَى
رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَزَّار وَأَبُو يعلى وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَقَالَ قَالَ إِسْحَاق يَعْنِي ابْن إِبْرَاهِيم هَذَا من أشرف الحَدِيث وَقد روى هَذَا الحَدِيث عدَّة عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نَحْو هَذَا مِنْهُم حُذَيْفَة وَأَبُو مَسْعُود وَأَبُو هُرَيْرَة وَغَيرهم انْتهى
ولد آدم فَإِنَّهُ أول من تَنْشَق عَنهُ الأَرْض يَوْم الْقِيَامَة انْطَلقُوا إِلَى مُحَمَّد فليشفع لكم إِلَى ربكُم قَالَ فَيَنْطَلِقُونَ إِلَيّ وَآتِي جِبْرِيل فَيَأْتِي جِبْرِيل ربه فَيَقُول ائْذَنْ لَهُ وبشره بِالْجنَّةِ قَالَ فَينْطَلق بِهِ جِبْرِيل فيخر سَاجِدا قدر جُمُعَة ثمَّ يَقُول الله تبَارك وَتَعَالَى يَا مُحَمَّد ارْفَعْ رَأسك وَقل يسمع وَاشْفَعْ تشفع فيرفع رَأسه فَإِذا نظر إِلَى ربه خر سَاجِدا قدر جُمُعَة أُخْرَى فَيَقُول الله يَا مُحَمَّد ارْفَعْ رَأسك وَقل تسمع وَاشْفَعْ تشفع فَيذْهب ليَقَع سَاجِدا فَيَأْخُذ جِبْرِيل بضبعيه وَيفتح الله عَلَيْهِ من الدُّعَاء مَا لم يفتح على بشر قطّ فَيَقُول أَي رب جَعَلتني سيد ولد آدم وَلَا فَخر وَأول من تَنْشَق عَنهُ الأَرْض يَوْم الْقِيَامَة وَلَا فَخر حَتَّى إِنَّه ليرد على الْحَوْض أَكثر مَا بَين صنعاء وأيلة ثمَّ يُقَال ادعوا الصديقين فيشفعون ثمَّ يُقَال ادعوا الْأَنْبِيَاء فَيَجِيء النَّبِي مَعَه الْعِصَابَة وَالنَّبِيّ مَعَه الْخَمْسَة والستة وَالنَّبِيّ لَيْسَ مَعَه أحد ثمَّ يُقَال ادعوا الشُّهَدَاء فيشفعون فِيمَن أَرَادوا فَإِذا فعلت الشُّهَدَاء ذَلِك يَقُول الله جلّ وَعلا أَنا أرْحم الرَّاحِمِينَ أدخلُوا جنتي من كَانَ لَا يُشْرك بِي شَيْئا فَيدْخلُونَ الْجنَّة ثمَّ يَقُول الله تبَارك وَتَعَالَى انْظُرُوا فِي النَّار هَل فِيهَا من أحد عمل خيرا قطّ فيجدون فِي النَّار رجلا فَيُقَال لَهُ هَل عملت خيرا قطّ فَيَقُول لَا غير أَنِّي كنت أسامح النَّاس فِي البيع فَيَقُول الله اسمحوا لعبدي كإسماحه إِلَى عَبِيدِي ثمَّ يخرج من النَّار آخر فَيُقَال لَهُ هَل عملت خيرا قطّ فَيَقُول لَا غير أَنِّي كنت أمرت وَلَدي إِذا مت فأحرقوني بالنَّار ثمَّ اطحنوني حَتَّى إِذا كنت مثل الْكحل اذْهَبُوا بِي إِلَى الْبَحْر فذروني فِي الرّيح فَقَالَ الله لم فعلت ذَلِك قَالَ من مخافتك فَيَقُول انْظُر إِلَى ملك أعظم ملك فَإِن لَك مثله وَعشرَة أَمْثَاله فَيَقُول لم تسخر بِي وَأَنت الْملك فَذَلِك الَّذِي ضحِكت بِهِ من الضُّحَى
رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَزَّار وَأَبُو يعلى وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَقَالَ قَالَ إِسْحَاق يَعْنِي ابْن إِبْرَاهِيم هَذَا من أشرف الحَدِيث وَقد روى هَذَا الحَدِيث عدَّة عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نَحْو هَذَا مِنْهُم حُذَيْفَة وَأَبُو مَسْعُود وَأَبُو هُرَيْرَة وَغَيرهم انْتهى
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫৩৯
অধ্যায়ঃ পুনরুত্থান ও কিয়ামাত
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শাফা'আত ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৩৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় কিয়ামতের দিন প্রত্যেক নবীর একটি নূরের মিম্বর থাকবে এবং তন্মধ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বোজ্জ্বল মিম্বরের উপর আমি থাকব। তখন একজন ঘোষক ডেকে বলবে, উম্মী নবী কোথায়? তিনি বলেন, তখন নবীগণ বলবেন, আমরা সবাই তো উম্মী নবী। তবে তিনি কোথায় প্রেরিত হয়েছিলেন। তারপর দ্বিতীয়বার বলবে, আরবী উম্মী নবী কোথায়? তিনি বলেন, তারপর মুহাম্মদ (ﷺ) অবতরণ করবেন এবং জান্নাতের দরজায় গিয়ে দরজায় করাঘাত করবেন। বলবেন কে? তিনি বলবেন, (আমি) মুহাম্মদ অথবা বলবেন আহমাদ। জিজ্ঞেস করা হবে, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বলবেন, জ্বী হ্যাঁ। তখন তাঁর সাথে দরজা খোলা হবে। তিনি প্রবেশ করবেন এর সাথে সাথে আল্লাহ্ তাবারাকা ও তা'আলাও তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন। অথচ এরপূর্বে তিনি কারও সামনেই আত্মপ্রকাশ করবেন না। তখন তিনি আল্লাহ্ তা'আলার সামনে সিজদাবনত হবেন, তিনি আল্লাহ তা'আলার এমন প্রশংসা করবেন, যে প্রশংসা না তার পূর্ববর্তী কেউ কোনদিন করেছে আর না তাঁর পরবর্তী কেউ কোনদিন করবে। তাঁকে বলা হবে, হে মুহাম্মদ। আপনি আপনার মাথা তুলুন। আপনি কথা বলুন; আপনার কথা শোনা হবে। আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ মঞ্জুর করা হবে..... অতঃপর পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করা হয়েছে।
(ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب البعث
فصل فِي الشَّفَاعَة وَغَيرهَا
5539- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن لكل نَبِي يَوْم
الْقِيَامَة منبرا من نور وَإِنِّي لعلى أطولها وأنورها فَيَجِيء مُنَاد يُنَادي أَيْن النَّبِي الْأُمِّي قَالَ فَتَقول الْأَنْبِيَاء كلنا نَبِي أُمِّي فَإلَى أَيْن أرسل فَيرجع الثَّانِيَة فَيَقُول أَيْن النَّبِي الْأُمِّي الْعَرَبِيّ قَالَ فَينزل مُحَمَّد صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حَتَّى يَأْتِي بَاب الْجنَّة فيقرعه فَيَقُول من فَيَقُول مُحَمَّد أَو أَحْمد فَيُقَال أوقد أرسل إِلَيْهِ فَيَقُول نعم فَيفتح لَهُ فَيدْخل فيتجلى لَهُ الرب تبَارك وَتَعَالَى وَلَا يتجلى لشَيْء قبله فيخر لله سَاجِدا وَيَحْمَدهُ بِمَحَامِد لم يحمده بهَا أحد مِمَّن كَانَ قبله وَلنْ يحمده بهَا أحد مِمَّن كَانَ بعده فَيُقَال لَهُ يَا مُحَمَّد ارْفَعْ رَأسك تكلم تسمع وَاشْفَعْ تشفع
فَذكر الحَدِيث
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه
الْقِيَامَة منبرا من نور وَإِنِّي لعلى أطولها وأنورها فَيَجِيء مُنَاد يُنَادي أَيْن النَّبِي الْأُمِّي قَالَ فَتَقول الْأَنْبِيَاء كلنا نَبِي أُمِّي فَإلَى أَيْن أرسل فَيرجع الثَّانِيَة فَيَقُول أَيْن النَّبِي الْأُمِّي الْعَرَبِيّ قَالَ فَينزل مُحَمَّد صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حَتَّى يَأْتِي بَاب الْجنَّة فيقرعه فَيَقُول من فَيَقُول مُحَمَّد أَو أَحْمد فَيُقَال أوقد أرسل إِلَيْهِ فَيَقُول نعم فَيفتح لَهُ فَيدْخل فيتجلى لَهُ الرب تبَارك وَتَعَالَى وَلَا يتجلى لشَيْء قبله فيخر لله سَاجِدا وَيَحْمَدهُ بِمَحَامِد لم يحمده بهَا أحد مِمَّن كَانَ قبله وَلنْ يحمده بهَا أحد مِمَّن كَانَ بعده فَيُقَال لَهُ يَا مُحَمَّد ارْفَعْ رَأسك تكلم تسمع وَاشْفَعْ تشفع
فَذكر الحَدِيث
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه
তাহকীক: