মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
৪. ইলমের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৮১ টি
হাদীস নং: ২১
আন্তর্জাতিক নং: ২২৮৮৮
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ ইল্ম শিক্ষা দানে উৎসাহ প্রদান এবং শিক্ষকের সম্মান প্রসঙ্গে
(২১) আবূ যায়দ আল-আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করে মিম্বরে আরোহণ করেন এবং আমাদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করতে থাকেন। এদিকে জোহরের সময় ঘনিয়ে আসে। তখন তিনি মিম্বর থেকে অবতরণ করেন এবং জোহরের সালাত আদায় করেন এবং পুনরায় মিম্বরে আরোহণ করে বক্তৃতা করতে থাকেন, এমনকি আসরের সময় ঘনিয়ে আসে। তখন তিনি মিম্বর থেকে অবতরণ করে আসর আদায় করেন এবং আবারো মিম্বরে আরোহণ করে ভাষণ দিতে থাকেন এবং যতক্ষণ না সূর্য অস্তমিত হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তা চালিয়ে যান। (তিনি তাঁর এই সুদীর্ঘ ভাষণে) আমাদেরকে যা কিছু হয়েছে (অতীতে) এবং যা কিছু সংঘটিত হবে (ভবিষ্যতে) তার সবই সবিস্তারে বর্ণনা করেন। সুতরাং আমাদের মধ্যে যিনি যত বেশী জ্ঞানী তিনি তত বেশী স্মৃতিতে ধারণ করে রেখেছেন।
كتاب العلم
(3) باب الحث على تعليم العلم واداب المعلم
(21) وعن ابى زيد الانصارى رضى الله عنه قال صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الصبح ثم صعد المنبر فخطبنا حتى حضرت صلاة الظهر ثم نزل فصلى الظهر ثم صعد المنبر فخطبنا حتى حضرت صلاة العصر ثم نزل فصلى العصر فصعد المنبر فخطبنا حتى غابت الشمس فحدثنا بما كان وما هو كائن فأعلمنا احفظنا
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২
আন্তর্জাতিক নং: ১৯০৪৫
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ ইল্ম শিক্ষা দানে উৎসাহ প্রদান এবং শিক্ষকের সম্মান প্রসঙ্গে
(২২) হানযালা আল কাতিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূল (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম । ঐ সময় তিনি আমাদের জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেন (এমনভাবে এর বর্ণনা আমাদের সামনে তুলে ধরেন) এ দু'টি যেন আমাদের দৃষ্টিগোচরে এসে গিয়েছে। এরপর আমি আমার পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসি, আমার ছেলে ও পরিজনের সাথে হাসাহাসি ও খেলা-তামাশা করি। পরে রাসূল (ﷺ)-এর সাথে থাকাকলীন সময়ের অবস্থার কথা স্মরণে আসে এবং বের হয়ে পড়ি। (প্রথমেই) সাক্ষাত পাই আবূ বকর (রা)-এর এবং তাঁকে বলি, হে আবূ বকর! আমি (হানযালা) মুনাফিক হয়ে গেছে। তিনি বললেন, তা কি করে? আমি বললাম, আমরা রাসূল (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি আমাদেরকে জান্নাত ও নরকের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন (এবং এমন নিখুঁত বর্ণনা দিয়েছিলেন) যে, তা যেন আমাদের দৃষ্টিরগোচরে এসে গিয়েছিল। কিন্তু আমি যখন আমার পরিবারের কাছে ফিরে যাই, (তখন সবকিছু ভুলে গিয়ে) এবং আমার ছেলে ও পরিজনের সাথে হাসি-তামাশা করি। হযরত আবূ বকর (রা) বলেন, আমরা তো অবশ্যই এইরূপ করে থাকি। হানযালা (রা) বলেন, এরপর আমি (পুনরায়) নবীজী (ﷺ)-এর কাছে যাই এবং ঘটনা খুলে বলি। তখন রাসূল (ﷺ) বলেন, শোন হানযালা, তোমরা আমার কাছে থাকাকালীন সময়ে (মন-মানসিকতার দিক থেকে) যে অবস্থায় থাক, সে অবস্থায় যদি তোমরা তোমাদের ঘরে থাকতে (জান্নাত প্রাপ্তি ও নরকের ভীতি নিয়ে), তাহলে ফিরিশতাগণ তোমাদের সাথে মুসাহাফা করতেন (অন্য বর্ণনায় আছে, তাঁদের পাখা দ্বারা) তোমরা বিছানায় কিংবা রাস্তায় যেখানে যে অবস্থায়ই থাক না কেন।
كتاب العلم
(3) باب الحث على تعليم العلم واداب المعلم
(22) وعن حنظلة الكاتب رضى الله عنه قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرنا (1) الجنة والنار حتى كانا رأى العين فقمت إلى أهلي فضحكت
-[تأثير الموعظة فى القلب اذا صدرت من مخلص]-
ولعبت مع أهلي وولدى فذكرت ما كنت عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فخرجت فلقيت ابا بكر (رضى الله عنه) فقلت يا ابا بكر نافق حنظلة قال وما ذاك قلت كنا عند رسول صلى الله عليه وسلم فذكرنا الجنة والنار حتى كانا رأى عين فذهبت الى النبى صلى الله عليه وسلم فذكرت ذلك له فقال يا حنظلة لو كنتم تكونون فى بيوتكم (1) كما تكونون عندى لصافحتكم الملائكة (وفى رواية بأجنحتها) وانتم على فرشكم وبالطرق , يا حنظلة ساعة وساعة
-[تأثير الموعظة فى القلب اذا صدرت من مخلص]-
ولعبت مع أهلي وولدى فذكرت ما كنت عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فخرجت فلقيت ابا بكر (رضى الله عنه) فقلت يا ابا بكر نافق حنظلة قال وما ذاك قلت كنا عند رسول صلى الله عليه وسلم فذكرنا الجنة والنار حتى كانا رأى عين فذهبت الى النبى صلى الله عليه وسلم فذكرت ذلك له فقال يا حنظلة لو كنتم تكونون فى بيوتكم (1) كما تكونون عندى لصافحتكم الملائكة (وفى رواية بأجنحتها) وانتم على فرشكم وبالطرق , يا حنظلة ساعة وساعة
হাদীস নং: ২৩
আন্তর্জাতিক নং: ১২৭৯৬
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদঃ ইল্ম শিক্ষা দানে উৎসাহ প্রদান এবং শিক্ষকের সম্মান প্রসঙ্গে
(২৩) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সাহাবীগণ (একদা) আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ), আমরা যখন আপনার সান্নিধ্যে থাকি এবং আপনি আমাদের সাথে কথা-বার্তা বলেন (হাদীস বর্ণনা করেন), তখন আমাদের অন্তঃকরণ বিনম্র থাকে। (কিন্তু) আমরা যখন আপনার দরবার থেকে বের হয়ে যাই, তখন আমরা স্ত্রীলোক ও শিশু সন্তানদের সাথে (কথা-বার্তায়) বিভোর হয়ে যাই, আমরা এই করি, সেই করি (নানাবিধ কাজ-কর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়ি এবং অন্তরের সেই নম্রতা বিদূরিত হয়ে যায়)। তখন নবী করীম (ﷺ) বলেন, যদি তোমরা ঐ সময়ের ন্যায় (আমার সান্নিধ্যে থাকাকালীন সময়ের ন্যায়) সর্বদা থাকতে পারতে, তাহলে ফিরিশতাগণ তোমাদের সাথে মুসাফাহা করতেন, (তোমাদের সম্মানার্থে)।
كتاب العلم
(3) باب الحث على تعليم العلم واداب المعلم
(23) وعن أنس بن مالك رضى الله عنه أن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قالوا للنبي صلى الله عليه وسلم إنا إذا كنا عندك فحدثتنا رقت قلوبنا فإذا خرجنا من عندك عافنا (2) النساء والصبيان وفعلنا وفعلنا فقال النبي صلى الله عليه وسلم إن تلك الساعة لو تدومون عليها لصافحتكم الملائكة.
-[في مجالس العلم وادابها واداب المتعلم]-
-[في مجالس العلم وادابها واداب المتعلم]-
হাদীস নং: ২৪
আন্তর্জাতিক নং: ২১৯০৭
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদঃ ইলমের বৈঠক ও তার শিষ্টাচার এবং ইলম শিক্ষার্থীদের আদব প্রসঙ্গে
(২৪) হযরত আবূ ওয়াকিদ আল-লাইসী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূল (ﷺ)-এর সান্নিধ্যে ছিলাম। এমন সময় তিনজন লোক আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তাদের একজন আমাদের কাছে এলেন এবং বৈঠকের মধ্যে বসার স্থান পেয়ে সেখানে বসে গেল। অন্য একজন সবার পেছনে বসে গেল এবং তৃতীয়জন (পাশ কাটিয়ে) চলে গেল। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এই তিনজনের অবস্থার খবর জানাব না? তাঁরা (সাহাবীগণ) বললেন, হ্যাঁ অবশ্যই, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! তিনি বললেন, যে লোকটি এখানে আসল, বসল এবং স্থান করে নিল, আল্লাহ তাকে তাঁর আশ্রয়ে নিয়ে নিয়েছেন এবং যে লোকটি তোমাদের পেছনে বসেছিল, সে (সম্মুখে আসতে) লজ্জা পাচ্ছিল, আল্লাহও তার কাছে লজ্জা বোধ করছেন। (সুতরাং সে আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে বেঁচে গেল) কিন্তু যে লোকটি চলে গেল, সে তার মুখ ফিরিয়ে নিল, আল্লাহও তাকে (তাঁর রহমত থেকে) বিমুখ করলেন।
كتاب العلم
(4) باب في مجالس العلم وادابها وآداب المتعلم
(24) عن أبي واقد الليثي قال:-بينما نحن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ مر ثلاثة نفر فجاء أحدهم فوجد فرجة (1) في الحلقة فجلس وجلس الآخر من ورائهم وانطلق الثالث فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ألا أخبركم بخير هؤلاء النفر قالوا: بلى يا رسول الله قال: أما الذي جاء فجلس فأوى (2) فآواه الله والذي جلس من ورائكم فاستحى (3) فاستحى الله منه وأما الذي انطلق رجل أعرض فأعرض الله عنه. (4)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫
আন্তর্জাতিক নং: ২৩২৬৩
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদঃ ইলমের বৈঠক ও তার শিষ্টাচার এবং ইলম শিক্ষার্থীদের আদব প্রসঙ্গে
(২৫) হুযায়ফা বিন আল-ইয়ামান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বৈঠকের মধ্যস্থলে বসে, সে আল্লাহর নবী (ﷺ)-এর অথবা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর ভাষায় অভিশপ্ত। (অর্থাৎ সভাস্থলের মধ্যস্থানে বসে অপরের জন্য স্থান করে দিতে অস্বীকার করে, কিংবা অন্যের কষ্টের কারণ হয়, সে অভিশপ্ত।)
كتاب العلم
(4) باب في مجالس العلم وادابها وآداب المتعلم
25) عن أبي مجلز عن حذيفة (بن اليمان) -في الذي يقعد في وسط الحلقة قال: ملعون على لسان النبي صلى الله عليه وسلم أو لسان محمد صلى الله عليه وسلم.
হাদীস নং: ২৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৫১
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদঃ ইলমের বৈঠক ও তার শিষ্টাচার এবং ইলম শিক্ষার্থীদের আদব প্রসঙ্গে
(২৬) আব্দুল্লাহ বিন আব্দির রহমান বিন আবী হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, লুকমান বলতেন, হে বৎস! (পুত্র) তুমি ইলম শিক্ষা করো না আলিমগণের সাথে গর্ব করার উদ্দেশ্য। অথবা মূর্খদের সাথে বিতর্ক কিংবা বিভিন্ন বৈঠকে ইলমের অহংকার প্রদর্শন করতে।
كتاب العلم
(4) باب في مجالس العلم وادابها وآداب المتعلم
(26) وعن عبد الله بن عبدالرحمن بن ابى حسين قال بلغنى أن لقمان كان يقول يا بنى لا تعلم العلم لتباهى (1) به العلماء أو تمارى به السفهاء وترائى به فى المجالس
হাদীস নং: ২৭
আন্তর্জাতিক নং: ৮৬৩৯
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৪) পরিচ্ছেদঃ ইলমের বৈঠক ও তার শিষ্টাচার এবং ইলম শিক্ষার্থীদের আদব প্রসঙ্গে
(২৭) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি (ইমের) মজলিসে বসে এবং হিকমত (বা তত্ত্বজ্ঞানের কথা) শ্রবণ করে, কিন্তু পরে তার সঙ্গী-সাথীকে সে কথা বর্ণনা না করে কেবল তার শ্রুত খারাপ বিষয়গুলো তুলে ধরে, তার উদাহরণ হচ্ছে ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে কোন একজন রাখালের কাছে গিয়ে তার ছাগলের পাল থেকে একটি বকরি প্রার্থনা করে, এবং রাখাল তাকে বলে, তুমি পাল থেকে সর্বোত্তম একটি বরি কান ধরে নিয়ে যাও। কিন্তু সে পালে গিয়ে পালের (পাহারায় নিয়োজিত) কুকুরের কান ধরে নিয়ে যায় ।
كتاب العلم
(4) باب في مجالس العلم وادابها وآداب المتعلم
(27) وعن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل الذى يجلس فيسمع الحكمة ثم لا يحدث عن صاحبة الا بشر ما سمع كمثل رجل اتى راعيا فقال يا راعى اجزرنى (1) شاة من غنمك قال اذهب فخذ بأذن خيرها فذهب فأخذ بأذن كلب الغنم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮
আন্তর্জাতিক নং: ২১৫৮৭
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদঃ আরবী ভাষা ছাড়া অন্য ভাষা শেখা প্রসঙ্গে
(২৮) যায়েদ ইবন্ ছাবিত (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) (একদা) আমাকে বললেন, তুমি কি সুরইয়ানী ভাষা জান? আমার কাছে (ঐ ভাষায়) পত্রাদি এসে থাকে । আমি বললাম, জ্বি না (জানি না)। তিনি বললেন, তাহলে শিখে ফেল । এরপর আমি সতের দিনে ঐ ভাষা শিখে ফেলি।
كتاب العلم
فصل فيما جاء فى تعلم لغة غير العرب
(28) عن زيد بن ثابت رضى الله عنه قال قال لى رسول الله صلى الله عليه وسلم
-[فيما جاء فى ذم كثرة السؤال فى العلم لغير حاجة]-
تحسن السريانية؟ إنها تأتينى كتب , قال قلت لا , قال فتعلمها , فاعلمتها فى سبعة عشر يوما
-[فيما جاء فى ذم كثرة السؤال فى العلم لغير حاجة]-
تحسن السريانية؟ إنها تأتينى كتب , قال قلت لا , قال فتعلمها , فاعلمتها فى سبعة عشر يوما
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯
আন্তর্জাতিক নং: ৭৩৬৭
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ ইলম শিক্ষায় বিনা প্রয়োজনে অধিক প্রশ্ন করা নিন্দনীয়
(২৯) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমরা অধিক প্রশ্ন করা থেকে আমাকে রেহাই দাও এবং যা তোমাদেরকে (শিক্ষা) দিয়েছি, তাকে যথেষ্ট মনে করো। নিশ্চয় তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো অধিক প্রশ্ন করার কারণে এবং তাদের নবীগণের সাথে মত বিরোধের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। আমি যা করতে নিষেধ করেছি, তা থেকে বিরত থাকবে এবং যে বিষয়ে আদেশ করেছি, যথাসাধ্য তা পালন করবে।
كتاب العلم
(5) باب فيما جاء فى ذم كثرة السؤال فى العلم لغير حاجة
(29) عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ذرونى (1) ما تركتكم فأنما هلك من كان قبلكم بكثرة سؤالهمواختلافهم على انبيائهم , ما نهيتكم عنه فانتهوا وما امرتكم فأتوا منه ما استطعتم
হাদীস নং: ৩০
আন্তর্জাতিক নং: ১৫২০ - ১
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ ইলম শিক্ষায় বিনা প্রয়োজনে অধিক প্রশ্ন করা নিন্দনীয়
(৩০) সা'দ ইবন্ আবী ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, মুসলিমগণের মধ্যে সবচেয়ে বড় গোনাহগার (অপরাধী) হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করেছে এবং তাতে খুঁটিনাটি অনুসন্ধানী প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, তার সেই (সব) প্রশ্নের কারণে ঐ বিষয়টি হারাম হওয়া প্রসঙ্গে ওহী অবতীর্ণ হয়েছে।
(একই বর্ণনাকারী থেকে অন্য একটি সূত্রে বর্ণিত আছে,) রাসূল (ﷺ) বলেছেন, গোনাহর বিচারে মুসলমানদের মধ্যে সেই ব্যক্তি হচ্ছে সবচেয়ে বেশী অপরাধী, যে এমন কোন বিষয়ে প্রশ্ন করে যা হারাম ছিল না, কিন্তু তার প্রশ্নের কারণে তা হারাম হয়ে গিয়েছে।
(একই বর্ণনাকারী থেকে অন্য একটি সূত্রে বর্ণিত আছে,) রাসূল (ﷺ) বলেছেন, গোনাহর বিচারে মুসলমানদের মধ্যে সেই ব্যক্তি হচ্ছে সবচেয়ে বেশী অপরাধী, যে এমন কোন বিষয়ে প্রশ্ন করে যা হারাম ছিল না, কিন্তু তার প্রশ্নের কারণে তা হারাম হয়ে গিয়েছে।
كتاب العلم
(5) باب فيما جاء فى ذم كثرة السؤال فى العلم لغير حاجة
(30) وعن سعد بن ابى وقاص رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن من اكبر المسلمين فى المسلمين جرما (2) رجلا سأل عن شئ
-[فيما جاء فى ذم كثرة السؤال لغير حاجة]-
ونقر (1) عنه حتى انزل فى ذلك الشئ تحريم من اجل مسألته
(وعنه فى طريق اخر) (2) يرفعه الى النبى صلى الله عليه وسلم اعظم المسلمين فى المسلمين جرما من سأل عن اجر لم يحرم فحرم على الناس من اجل مسألته
-[فيما جاء فى ذم كثرة السؤال لغير حاجة]-
ونقر (1) عنه حتى انزل فى ذلك الشئ تحريم من اجل مسألته
(وعنه فى طريق اخر) (2) يرفعه الى النبى صلى الله عليه وسلم اعظم المسلمين فى المسلمين جرما من سأل عن اجر لم يحرم فحرم على الناس من اجل مسألته
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩১
আন্তর্জাতিক নং: ৯০২৭
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ ইলম শিক্ষায় বিনা প্রয়োজনে অধিক প্রশ্ন করা নিন্দনীয়
(৩১) আমর বিন আবী সালামা তাঁর পিতা থেকে এবং তাঁর পিতা আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, (মানুষজন) প্রশ্নের পর প্রশ্ন করতে থাকে, এক পর্যায়ে তারা বলে, তিনি (আল্লাহ) আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু আল্লাহকে কে সৃষ্টি করলো? হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি একদিন বসেছিলাম, এমন সময় ইরাকবাসী এক লোক আমাকে বললো, এ আল্লাহই আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন! কিন্তু আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, তখন আমি আমার কানে অঙ্গুলি দিয়ে চিৎকার করে বলে উঠলাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন, আল্লাহ এক ও একক, অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেন নি এবং তিনিও কারো জাতক নন এবং কেউ তাঁর সমকক্ষ নয়।
كتاب العلم
(5) باب فيما جاء فى ذم كثرة السؤال فى العلم لغير حاجة
(31) وعن عمرو بن أبى سلمه عن ابيه عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يزالون يسألون حتى يقال هذا الذى خلقنا فمن خلق الله عز وجل قال ابو هريرة فو الله إنى لجالس يوما اذ قال لى رجل من اهل العراق هذا الله خلقنا فمن خلق الله عز وجل (3) قال ابو هريرة فجعلت اصبعى فى اذنى ثم صحت فقلت صدق الله ورسوله , الله الواحد الصمد لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا احد
হাদীস নং: ৩২
আন্তর্জাতিক নং: ৭৭৯০
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ ইলম শিক্ষায় বিনা প্রয়োজনে অধিক প্রশ্ন করা নিন্দনীয়
(৩২) মুহাম্মাদ বিন সীরীন বলেন, আমি একদা হযরত আবূ হুরায়রা (রা)-এর কাছে ছিলাম, তখন তাঁকে জনৈক প্রশ্নকারী একটি প্রশ্ন করলো, প্রশ্নটি কী তা আমি জানতে পারি নি, তবে আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, আল্লাহু আকবার! এ বিষয়ে ইতিমধ্যে দু'জন প্রশ্ন করেছে, এ তৃতীয়। আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, কিছু লোকের মধ্যে প্রশ্ন করার প্রবণতা এত বৃদ্ধি পাবে যে, শেষ পর্যন্ত তারা বলবে, আল্লাহ সমগ্র সৃষ্ট সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু তাঁকে কে সৃষ্টি করেছে?
كتاب العلم
(5) باب فيما جاء فى ذم كثرة السؤال فى العلم لغير حاجة
(32) وعن محمد بن سيرين قال كنت عند ابى هريرة فسأله رجل لم أدر ما هو قال فقال ابو هريرة الله اكبر سأل عنها وهذا الثالث
-[فيما جاء فى ذم كثرة السؤال فى العلم لغير حاجة]-
سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إن رجالا سترتفع بهم المسألة حتى يقولوا الله خلق الخلق فمن خلقه (1)
-[فيما جاء فى ذم كثرة السؤال فى العلم لغير حاجة]-
سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إن رجالا سترتفع بهم المسألة حتى يقولوا الله خلق الخلق فمن خلقه (1)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৩
আন্তর্জাতিক নং: ১০৫৩১
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ ইলম শিক্ষায় বিনা প্রয়োজনে অধিক প্রশ্ন করা নিন্দনীয়
(৩৩) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহ তাদের প্রশ্নের আধিক্য এবং তাদের নবীগণের সাথে মতবিরোধের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। আমি তোমাদেরকে (প্রয়োজনীয় বিষয়ে) অবগত করানোর বাইরে তোমরা আমাকে কোন প্রশ্ন করবে না। আব্দুল্লাহ ইবন্ হুযায়ফা (রা) তখন প্রশ্ন করেন, আমার পিতা কে ইয়া রাসূলাল্লাহ্? রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমার পিতা হচ্ছেন হুযায়ফা ইবন্ কায়স । অতঃপর সে তাঁর মাতার কাছে ফিরে গেলে, তাঁর মা তাকে বলেন, ধ্বংস হও- কেন তুমি এরূপ (প্রশ্ন) করতে গেলে? আমরা জাহিলিয়্যাহ যুগে ছিলাম, অনেক নীচ কাজ আমরা করতাম, তখন আব্দুল্লাহ বলেন, আমি আসলে জানতে চেয়েছিলাম আমার পিতা কে, তিনি কেমন লোক।
كتاب العلم
(5) باب فيما جاء فى ذم كثرة السؤال فى العلم لغير حاجة
(33) وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ لَا تَسْأَلُونِي عَنْ شَيْءٍ إِلَّا أَخْبَرْتُكُمْ بِهِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حُذَافَةَ مَنْ أَبِي يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ أَبُوكَ حُذَافَةُ بْنُ قَيْسٍ فَرَجَعَ إِلَى أُمِّهِ فَقَالَتْ وَيْحَكَ مَا حَمَلَكَ عَلَى الَّذِي صَنَعْتَ فَقَدْ كُنَّا أَهْلَ جَاهِلِيَّةٍ وَأَهْلَ أَعْمَالٍ قَبِيحَةٍ فَقَالَ لَهَا إِنْ كُنْتُ لَأُحِبُّ أَنْ أَعْلَمَ مَنْ أَبِي مَنْ كَانَ مِنْ النَّاسِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৪
আন্তর্জাতিক নং: ১২০৪৪
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ ইলম শিক্ষায় বিনা প্রয়োজনে অধিক প্রশ্ন করা নিন্দনীয়
(৩৪) হুমাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণনা করেন রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আমি তোমাদের উদ্দেশ্যে যা কিছু বর্ণনা করেছি এর বাইরে কিয়ামত পর্যন্ত কোন প্রশ্ন করবে না। এই সময় আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা (রা) প্রশ্ন করেন, আমার পিতা কে, ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বলেন, তোমার পিতা হুযায়ফা, তখন তাঁর মাতা বললেন, এ প্রশ্নের তোমার উদ্দেশ্য কী? তিনি বললেন, আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রশান্তি লাভ করা। (বর্ণনাকারী) বলেন, আব্দুল্লাহ সম্পর্কে (তাঁর পিতার) কিছু বিরূপ কথাবার্তা চালু ছিল ।
(হুমাইদ বলেন, আমি মনে করি আনাস (রা) থেকে বর্ণিত) বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূল (ﷺ) রাগান্বিত হয়ে উঠলেন । (অর্থাৎ এ সব অবাঞ্ছিত প্রশ্ন ও কথাবার্তা শুনে রাসূল (ﷺ) রাগান্বিত হন)। তখন হযরত উমর (রা) বলে উঠেন, আমরা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি আল্লাহকে রব হিসেবে, আল-ইসলামকে দীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে আমাদের নবী হিসেবে। আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর ক্রোধ থেকে মুক্তি চাই।
(হুমাইদ বলেন, আমি মনে করি আনাস (রা) থেকে বর্ণিত) বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূল (ﷺ) রাগান্বিত হয়ে উঠলেন । (অর্থাৎ এ সব অবাঞ্ছিত প্রশ্ন ও কথাবার্তা শুনে রাসূল (ﷺ) রাগান্বিত হন)। তখন হযরত উমর (রা) বলে উঠেন, আমরা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি আল্লাহকে রব হিসেবে, আল-ইসলামকে দীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে আমাদের নবী হিসেবে। আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর ক্রোধ থেকে মুক্তি চাই।
كتاب العلم
(5) باب فيما جاء فى ذم كثرة السؤال فى العلم لغير حاجة
(34) وعَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَسْأَلُونِي عَنْ شَيْءٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلَّا حَدَّثْتُكُمْ قَالَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حُذَافَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَبِي قَالَ أَبُوكَ حُذَافَةُ فَقَالَتْ أُمُّهُ مَا أَرَدْتَ إِلَى هَذَا قَالَ أَرَدْتُ أَنْ أَسْتَرِيحَ قَالَ وَكَانَ يُقَالُ فِيهِ قَالَ حُمَيْدٌ وَأَحْسَبُ هَذَا عَنْ أَنَسٍ قَالَ فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عُمَرُ رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا
-[في وجوب السؤال عن كل ما يحتاجه لدينه ودنياه]-
وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ غَضِبِ اللَّهِ وَغَضِبِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم
-[في وجوب السؤال عن كل ما يحتاجه لدينه ودنياه]-
وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ غَضِبِ اللَّهِ وَغَضِبِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৫
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৬৮৭
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ ইলম শিক্ষায় বিনা প্রয়োজনে অধিক প্রশ্ন করা নিন্দনীয়
(৩৫) আল-আওযা'য়ী থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ বিন সা'দ, আস্-সুনাবিহী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রাসূল (ﷺ)-এর জনৈক সাহাবী (অন্য বর্ণনায়, হযরত মু'আবিয়া (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) তীর্যক ও নিরর্থক প্রশ্ন উত্থাপন করতে নিষেধ করেছেন। আল-আওযা'য়ী বলেন, 'গুলুতাত' হচ্ছে কঠিন ও নিরর্থক প্রশ্ন।
كتاب العلم
(5) باب فيما جاء فى ذم كثرة السؤال فى العلم لغير حاجة
(35) وعن الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ عَنِ الصُّنَابِحِيِّ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (وفى رواية عن الصنابحى عن معاوية (1) رضى الله عنه) قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْغُلُوطَاتِ (2) قَالَ الْأَوْزَاعِّيُّ الْغُلُوطَاتِ شِدَادُ الْمَسَائِلِ وَصِعَابُهَا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩০৫৬
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদঃ দীন ও দুনিয়ার প্রয়োজনে প্রশ্ন করা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে
(৩৬) ইবন্ আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূলের সময়কালে একদা এক ব্যক্তি আহত (আঘাতপ্রাপ্ত) হয় । আহতকে গোসল করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। (গোসলের পরে) লোকটি মৃত্যুবরণ করে। এ সংবাদ রাসূল (ﷺ)-এর নিকট পৌঁছালে তিনি বলেন, ওরা (যারা গোসলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল) লোকটিকে হত্যা করেছে। আল্লাহ ওদের ধ্বংস করুন । এই অজ্ঞতার প্রতিকার কি প্রশ্ন ছিল না? (অর্থাৎ ওরা যা জানে না, সে সম্পর্কে প্রশ্ন করে জেনে নেয়া ছিল তাদের কর্তব্য। সেই কর্তব্যে অবহেলার কারণেই আহত লোকটির মৃত্যু হয়।)
كتاب العلم
فصل فى وجوب السؤال عن كل ما يحتاجه لدينه ودنياه
(36) عن ابْنَ عَبَّاسٍ رضى الله عنهما أَنَّ رَجُلًا أَصَابَهُ جُرْحٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ أَصَابَهُ احْتِلَامٌ فَأُمِرَ بِالِاغْتِسَالِ فَمَاتَ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ قَتَلُوهُ (3) قَتَلَهُمْ اللَّهُ أَلَمْ يَكُنْ شِفَاءَ الْعِيِّ (4) السُّؤَالُ
-[وعيد من تعلم علما فكتمه]-
-[وعيد من تعلم علما فكتمه]-
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৭
আন্তর্জাতিক নং: ৭৫৭১
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদঃ ইলম শিক্ষার পর তা গোপন করা, কিংবা তদানুসারে আমল না করা অথবা গায়রুল্লাহর উদ্দেশ্যে ইলম হাসিল করার পরিণতি প্রসঙ্গে
(৩৭) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যদি কাউকে কোন ‘ইলম' বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয় (সে তা জানা সত্ত্বেও) তা গোপন করে, তবে কিয়ামতের দিনে তার মুখে আগুনের তৈরী লাগাম পরিয়ে দেয়া হবে। (অন্য বর্ণনায় আল্লাহ তা'আলা লাগাম পরিয়ে দিবেন)।
كتاب العلم
(6) باب في وعيد من تعلم علما فكتمه أو لم يعمل به او تعلم لغير الله
(37) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ فَكَتَمَهُ أُلْجِمَ (1) (وفى رواية الجمه الله عز وجل) بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৮
আন্তর্জাতিক নং: ১০৪৭৬
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদঃ ইলম শিক্ষার পর তা গোপন করা, কিংবা তদানুসারে আমল না করা অথবা গায়রুল্লাহর উদ্দেশ্যে ইলম হাসিল করার পরিণতি প্রসঙ্গে
(৩৮) তাঁর [আবূ হুরায়রা (রা)] থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে ইলম দ্বারা কোন উপকার সাধিত হয় না, সেই ইলমের উদাহরণ হচ্ছে সেই খনির ন্যায়, যা থেকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা হয় না।
كتاب العلم
(6) باب في وعيد من تعلم علما فكتمه أو لم يعمل به او تعلم لغير الله
(38) وعنه أيضا قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن سئل علما لا ينفع كمثل كنز لا ينفق فى سبيل الله عز وجل
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৯
আন্তর্জাতিক নং: ১২২১১
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদঃ ইলম শিক্ষার পর তা গোপন করা, কিংবা তদানুসারে আমল না করা অথবা গায়রুল্লাহর উদ্দেশ্যে ইলম হাসিল করার পরিণতি প্রসঙ্গে
(৩৯) আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেন, যখন আমাকে উর্ধ্বলোকে নিয়ে যাওয়া হয়, (মি'রাজ রজনীতে), আমি (এক সময়) এমন একদল লোককে অতিক্রম করছিলাম, যাদের মুখ আগুনের করাত দিয়ে কর্তন করা হচ্ছে । তখন আমি বললাম, এরা কারা হে জিবরাঈল! তিনি বললেন, এরা হচ্ছে আপনার উম্মতের খতীব বা ওয়ায়িয, যারা মানুষকে সৎ কাজের নির্দেশ দিত, কিন্তু তা নিজেরা করতো না, অথচ তারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করতো, তবু কি তারা বুঝতে পারে না?
كتاب العلم
(6) باب في وعيد من تعلم علما فكتمه أو لم يعمل به او تعلم لغير الله
(39) عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا أُسْرِيَ بِي مَرَرْتُ بِرِجَالٍ تُقْرَضُ (2) شِفَاهُهُمْ بِمَقَارِيضَ مِنْ نَارٍ قَالَ فَقُلْتُ
-[وعيد من تعلم علما فكتمه]-
مَنْ هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيلُ قَالَ هَؤُلَاءِ خُطَبَاءُ مِنْ أُمَّتِكَ يَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَيَنْسَوْنَ أَنْفُسَهُمْ وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلَا يَعْقِلُونَ
-[وعيد من تعلم علما فكتمه]-
مَنْ هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيلُ قَالَ هَؤُلَاءِ خُطَبَاءُ مِنْ أُمَّتِكَ يَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَيَنْسَوْنَ أَنْفُسَهُمْ وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلَا يَعْقِلُونَ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪০
আন্তর্জাতিক নং: ২১৩৭২
ইলমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদঃ ইলম শিক্ষার পর তা গোপন করা, কিংবা তদানুসারে আমল না করা অথবা গায়রুল্লাহর উদ্দেশ্যে ইলম হাসিল করার পরিণতি প্রসঙ্গে
(৪০) আবূ যর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা এমন এক সময়ে বসবাস করছ যে, এখন 'উলামার সংখ্যা অনেক, খতীবের সংখ্যা কম, তাই (এই সময়ে) এখন যদি কেউ যা জানে তার এক দশমাংশ ছেড়ে দেয় (আমল না করে) তবে সে পথভ্রষ্ট হবে অথবা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে এবং (ভবিষ্যতে) এমন এক সময় আসবে যখন মানুষের মধ্যে আলিমগণের সংখ্যা কমে যাবে, আর খতীবের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। সেই সময় যদি কেউ যা সে জানে তার এক দশমাংশ ধারণ করতে পারে (অর্থাৎ তার ইলমের দশ ভাগের একভাগও আমল করতে পারে) তবে সে কৃতকার্য হবে ।
كتاب العلم
(6) باب في وعيد من تعلم علما فكتمه أو لم يعمل به او تعلم لغير الله
(40) عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّكُمْ فِي زَمَانٍ عُلَمَاؤُهُ كَثِيرٌ وَخُطَبَاؤُهُ قَلِيلٌ مَنْ تَرَكَ فِيهِ عُشَيْرَ مَا يَعْلَمُ هَوَى أَوْ قَالَ هَلَكَ وَسَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَقِلُّ عُلَمَاؤُهُ وَيَكْثُرُ خُطَبَاؤُهُ مَنْ تَمَسَّكَ فِيهِ بِعُشَيْرِ مَا يَعْلَمُ نَجَا
-[في وعيد من تعلم علما فكتمه]-
-[في وعيد من تعلم علما فكتمه]-
তাহকীক: