আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

৪১- চিকিৎসা অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৫৪৭
আন্তর্জাতিক নং: ২২০১-৩
- চিকিৎসা অধ্যায়
২৩. কুরআন শরীফ এবং অন্যান্য দুআ যিক্‌র দিয়ে ঝার-ফুঁক করে বিনিময় গ্রহণ জায়েয
৫৫৪৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একটি মনযিলে অবতরণ করলাম। তখন আমাদের কাছে একটি স্ত্রীলোক এসে বলল, মহল্লার সর্দার সর্প-দংশিত হয়েছে, তোমাদের মাঝে কি কোন ঝাড়-ফুঁককারী আছে? তখন আমাদের এক ব্যক্তি উঠে তার সঙ্গে গেল, সে উত্তম ঝাড়-ফুঁক করতে পারে বলে আমাদের ধারণা ছিল না। সে সূরা ফাতিহা দিয়ে তাকে ঝাড়-ফুঁক করল। তাতে সে ভাল হয়ে গেল। তখন তারা তাকে একপাল ছাগল দিল এবং আমাদের দুধপান করাল। আমরা বললাম, তুমি কি উত্তম ঝাড়-ফুঁক করতে? সে বলল, আমি তো সূরা ফাতিহা ছাড়া আর কিছু দিয়ে তাকে ঝাড়-ফুঁক করিনি।

রাবী বলেন, তখন আমি বললাম, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে না যাওয়া পর্যন্ত (ঐ ছাগল)-গুলিকে স্থানান্তরিত কর না। পরে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে তার কাছে তার আলোচনা করলাম। তিনি বললেন, সে কি করে বুঝল যে, এ সূরাটি দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করা যায়? তোমরা ছাগলগুলো ভাগ করে নাও এবং আমার জন্যও তোমাদের সঙ্গে একটি ভাগ রেখ।
كتاب الطب
باب جَوَازِ أَخْذِ الأُجْرَةِ عَلَى الرُّقْيَةِ بِالْقُرْآنِ وَالأَذْكَارِ
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَخِيهِ، مَعْبَدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ نَزَلْنَا مَنْزِلاً فَأَتَتْنَا امْرَأَةٌ فَقَالَتْ إِنَّ سَيِّدَ الْحَىِّ سَلِيمٌ لُدِغَ فَهَلْ فِيكُمْ مِنْ رَاقٍ فَقَامَ مَعَهَا رَجُلٌ مِنَّا مَا كُنَّا نَظُنُّهُ يُحْسِنُ رُقْيَةً فَرَقَاهُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَبَرَأَ فَأَعْطَوْهُ غَنَمًا وَسَقَوْنَا لَبَنًا فَقُلْنَا أَكُنْتَ تُحْسِنُ رُقْيَةً فَقَالَ مَا رَقَيْتُهُ إِلاَّ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ . قَالَ فَقُلْتُ لاَ تُحَرِّكُوهَا حَتَّى نَأْتِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم . فَأَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْنَا ذَلِكَ لَهُ . فَقَالَ " مَا كَانَ يُدْرِيهِ أَنَّهَا رُقْيَةٌ اقْسِمُوا وَاضْرِبُوا لِي بِسَهْمٍ مَعَكُمْ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ ঘটনার অনুরূপ অন্য এক ঘটনা মুসনাদে আহমদ ও সুনানে আবু দাউদে বর্ণনা করা হয়েছে। তাতে উল্লিখিত হয়েছে যে, এ জাতীয় এক সফরে এক পাগলের উপর লোকজন ফুঁক দেওয়াল। জনৈক সাহাবী সূরা ফাতিহা সকাল-সন্ধ্যা পাঠ করে তিন দিন ফুঁক দেন, আল্লাহ তা'আলার করুণায় সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। তিনিও বিনিময় গ্রহণ করেছিলেন। তবে উক্ত সাহাবীর সংশয় দেখা দেয় যে, বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ হবে, না অবৈধ। সুতরাং প্রত্যাবর্তন করে হুজুরকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তা সঠিক ও বৈধ বলে অভিমত দিলেন।

এসব হাদীসের আলোকে উলামা কিরাম ও ফকীহবৃন্দ প্রায় ঐকমত্য পোষণ করেন যে, এরূপ ফুঁক দিয়ে বা তাবীজ লিখে বিনিময় গ্রহণ বৈধ, যেভাবে কবিরাজ ও ডাক্তারের জন্যে চিকিৎসার ফিস গ্রহণ করা বৈধ। তবে যদি পারিশ্রমিক ছাড়া ফিসাবিলিল্লাহ আল্লাহর বান্দাদের সেবা করা হয় তবে তা উঁচুস্তরের বিষয়। আর নবীগণের সাথে প্রতিনিধিত্বের সম্পর্কশীলদের পন্থা এটাই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)