আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১. ইখলাস-সত্যবাদিতা ও সদিচ্ছা সম্পর্কিত

হাদীস নং: ৪৭
ইখলাস-সত্যবাদিতা ও সদিচ্ছা সম্পর্কিত
রিয়া সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন এবং রিয়ার আশংকাকালীন দু'আ
৪৭. রুবাইহ ইব্ন আবদুর রহমান তাঁর পিতা সূত্রে তাঁর দাদা হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মাসীহ দাজ্জাল সম্পর্কে আলাপরত ছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (সা) আমাদের কাছে এলেন। তিনি বললেন, আমি মাসীহ দাজ্জাল অপেক্ষাও তোমাদের জন্য যা অধিকতর ভয়ংকর মনে করি, সে সম্পর্কে কি তোমাদেরকে অবহিত করব না? আমরা বললামঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেনঃ তা হল গুপ্ত শিরক, আর তা হল, কোন ব্যক্তি সালাতে দাঁড়াল এবং উত্তমরূপে সালাত আদায় করল, যাতে সে অন্য লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
(ইমাম ইব্ন মাজাহ ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الإخلاص
التَّرْهِيب من الرِّيَاء وَمَا يَقُوله من خَافَ شَيْئا مِنْهُ
47 - وَعَن ربيح بن عبد الرَّحْمَن بن أبي سعيد الْخُدْرِيّ عَن أَبِيه عَن جده قَالَ خرج علينا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَنحن نتذاكر الْمَسِيح الدَّجَّال فَقَالَ أَلا أخْبركُم بِمَا هُوَ أخوف عَلَيْكُم عِنْدِي من الْمَسِيح الدَّجَّال فَقُلْنَا بلَى يَا رَسُول الله فَقَالَ الشّرك الْخَفي أَن يقوم الرجل فَيصَلي فيزين صلَاته لما يرى من نظر رجل
رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

ربيح بِضَم الرَّاء وَفتح الْبَاء الْمُوَحدَة بعْدهَا يَاء آخر الْحُرُوف وحاء مُهْملَة وَيَأْتِي الْكَلَام عَلَيْهِ إِن شَاءَ الله تَعَالَى

হাদীসের ব্যাখ্যা:

মসীহ দাজ্জাল ভয়ানক ফিতনা সৃষ্টিকারী। দাজ্জাল দুর্বল মানুষের ঈমান-আমল বরবাদ করবে এবং দুনিয়াবাসীর প্রচুর ক্ষতি সাধন করবে। কিন্তু দাজ্জালের ফিতনার চেয়েও মারাত্মক ও ভয়ঙ্কর হল রিয়া বা গোপন শিরক। আল্লাহর বিশ্বাসী বান্দাগণ মনে-প্রাণে দাজ্জালকে ঘৃণা করেন এবং আশা করা যায় যে, তারা ঘৃণিত দাজ্জাল থেকে নিজেদের ঈমান-আমল রক্ষা করতে পারবেন। কিন্তু লোক দেখানো ইবাদতের অনিষ্টকারিতা সম্পর্কে অজ্ঞতা বা রিয়াকে নগণ্য মনে করার কারণে কিংবা মানুষের বাহবা ও প্রশংসার মোহের জন্য বান্দা নেক আমল করলে কোন সওয়াব পাবে না, বরং অপরাধী হবে। সে এভাবে গোপন শিরকের গোপন পথে এবং কোন কোন সময় সম্পূর্ণ অজ্ঞাতে নিজের ঈমান ও আমল বিনষ্ট করবে।

রিয়া শুধু নামাযের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তা যে কোন ইবাদতে হতে পারে। যেখানে ঈমান ও আমল ধ্বংস করবে।

ইমাম আহমদ মাহমূদ ইবনে লবীদ (রা)-এর হাওয়ালা দিয়ে অনুরূপ এক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে রিয়াকে ছোট শিরক বলে উল্লেখ করা হয়েছে:

أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ» قالول: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ؟ قَالَ: «الرِّيَاءُ»

"নবী করীম ﷺ বলেছেন: আমি তোমাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ছোট শিরকের ভয় করি। সাহাবায়ে-কিরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ছোট শিরক কি? তিনি বললেন: রিয়া।" (মুসনাদে আহমদ)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান