আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
৪. অধ্যায়ঃ পবিত্রতা
হাদীস নং: ৩২৮
অধ্যায়ঃ পবিত্রতা
মিসওয়াক করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং এর ফযীলত
৩২৮. হযরত শুরায়হ ইবন হানী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম: নবী (সা) ঘরে প্রবেশ করে প্রথম কি কাজ করতেন? তিনি বললেন: মিসওয়াক করতেন। মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থ হাদীসটি বর্ণনা করেন।
كتاب الطَّهَارَة
التَّرْغِيب فِي السِّوَاك وَمَا جَاءَ فِي فَضله
328 - وَعَن شُرَيْح بن هانىء قَالَ قلت لعَائِشَة رَضِي الله عَنْهَا بِأَيّ شَيْء كَانَ يبْدَأ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا دخل بَيته قَالَت بِالسِّوَاكِ
رَوَاهُ مُسلم وَغَيره
رَوَاهُ مُسلم وَغَيره
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রত্যেক নিদ্রা বিশেষত রাতে তাহাজ্জুদের সালাত আদায়ের জন্য উঠলে ভালোভাবে মিস্ওয়াক করে নিতেন। এতদ্ব্যতীত কোন সফর থেকে ঘরে প্রবেশের পর তার প্রথম কাজ হতো মিস্ওয়াক করা। এর দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে যে, কেবল উযূর সাথে মিস্ওয়াকের সম্পর্ক নয়। ঘুম থেকে ওঠার পর এবং মিস্ওয়াক করার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে, উযূ করা হোক কি নাই হোক, মিস্ওয়াক করা চাই। এসব হাদীসের আলোকে আমাদের পূর্ববর্তী প্রাজ্ঞ আলিমগণ লেখেন, মিসওয়াক করা সব সময়ের জন্যই মুস্তাহাব এবং সাওয়াব প্রাপ্তির মাধ্যম। তবে বিশেষ পাঁচ সময়ে মিস্ওয়াক করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যথাঃ ১. উযূর পূর্বে, ২. উযূ এবং সালাতের মধ্যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে সালাতে দাঁড়ানোর সময়, ৩. কুরআন শরীফ পাঠের পূর্বে ৪. নিদ্রা ভঙ্গ করার পর এবং ৫. মুখ দুর্গন্ধযুক্ত হলে এবং দাঁত ময়লা হয়ে গেলে দাঁত পরিষ্কার করার লক্ষ্যে মিস্ওয়াক করা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)