আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

৫. অধ্যায়ঃ নামাজ

হাদীস নং: ৫১২
অধ্যায়ঃ নামাজ
পিঁয়াজ অথবা রসুন অথবা গো রসুন অথবা মূলা ইত্যাদি দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু খেয়ে মসজিদে আসার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫১২. হযরত হুযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: যে ব্যক্তি কিবলার দিকে থুথু ফেলে, কিয়ামতের দিন সে তা কপালে নিয়ে উত্থিত হবে। আর যে ব্যক্তি এই দুর্গন্ধযুক্ত সবজি খাবে, সে যেন আমাদের মসজিদের কাছেও না আসে। এ কথা তিনি তিনবার বলেছেন।
(ইবন খুযায়মা এ হাদীসখানা তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصَّلَاة
التَّرْهِيب من إتْيَان الْمَسْجِد لمن أكل بصلا أَو ثوما أَو كراثا أَو فجلا وَنَحْو ذَلِك مِمَّا لَهُ رَائِحَة كريهة
512 - وَعَن حُذَيْفَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من تفل تجاه الْقبْلَة جَاءَ يَوْم الْقِيَامَة وتفله بَين عَيْنَيْهِ وَمن أكل من هَذِه البقلة الخبيثة فَلَا يقربن مَسْجِدنَا ثَلَاثًا
رَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه

হাদীসের ব্যাখ্যা:

মসজিদকে সব ধরনের দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত রাখা মসজিদের ধর্মীয় গুরুত্ব ও আল্লাহ্ তা'আলার সাথে এর সম্পর্কের অনিবার্য দাবি। বলাবাহুল্য, পিয়াজ-রসূনে রয়েছে এক ধরনের দুর্গন্ধ। কোন কোন এলাকায় উৎপাদিত পিয়াজ রসূনের দুর্গন্ধ অত্যন্ত উৎকট। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর যামানায় লোকেরা কাঁচা পিয়াজ-রসুন খেত। এজন্যই তিনি এ মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন যে, কেউ যেন তা খেয়ে মসজিদে না আসে। তিনি এর কারণ বর্ণনা করে বলেন': যে বস্তু সুস্থ স্বাভাবিক মানুষকে কষ্ট দেয় তা আল্লাহর ফিরিশতাদেরও কষ্ট দেয়। ফিরিশতারা অধিক হারে মসজিদে আনাগোনা করে থাকেন। বিশেষ করে সালাত আদায়ের সময় মানুষের সাথে তাদের এক বিরাট জামা'আত শরীক হয়। কাজেই এহেন সম্মানিত অতিথিদের যাতে দুর্গন্ধ কষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা একান্ত জরুরী।

অপর এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ পিয়াজ-রসুন সম্পর্কে বলেছেন: এ দু'টি বস্তু খেয়ে যেন কেউ আমাদের মসজিদের কাছেও না আসে। এই হাদীসে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, "কারো যদি এগুলো বস্তু খেতেই হয়, তবে যেন পাক করে খায় যাতে দুর্গন্ধ দূর হয়ে যায়"।১

এ সব হাদীসে যদিও পিয়াজ-রসুনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লিখিত হয়েছে তবুও সুস্থ মানুষকে কষ্টদায়ক সর্ববিধ দুর্গন্ধযুক্ত বস্তুর ক্ষেত্রে এ নির্দেশ কার্যকর হবে।

১. টিকা: এ রিওয়ায়াতটি মু'আবিয়া ইবনে কুররা (রা) সূত্রে ইমাম আবু দাউদ (র) বর্ণনা করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান