আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১৪. অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ

হাদীস নং: ২৫৯৪
অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ
সর্বদা বেশি করে নবী করীম (ﷺ) -এর প্রতি দরূদ পাঠের ব্যাপারে উৎসাহ দান ও তাঁর আলোচনার সময় যে ব্যক্তি দরূদ পাঠ করে না, তার সম্পর্কে সতর্কবাণী
২৫৯৪. হযরত আউস ইবন আউস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ তোমাদের সর্বোত্তম দিবস হ'ল জুমুআর দিন। এ দিনেই আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এদিনেই তাঁকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, এ দিনেই শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে এবং এ দিনেই সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে। অতএব এ দিবসে তোমরা আমার উপর বেশি করে দরূদ পাঠ করবে। কেননা তোমাদের দরূদ আমার নিকট পেশ করা হবে। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের দরূদ কিভাবে আপনার নিকট পেশ করা হবে অথচ আপনি মাটিতে মিশে যাবেন? তিনি তখন বললেনঃ মহান আল্লাহ্ নবীদের দেহ ভক্ষণ করা মাটির পক্ষে হারাম করে দিয়েছেন।
(হাদীসটি আহমদ, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ এবং ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এবং হাকিমও বর্ণনা করেছেন। হাকিম হাদীসটি সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।)
كتاب الذّكر وَالدُّعَاء
التَّرْغِيب فِي إكثار الصَّلَاة على النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم والترهيب من تَركهَا عِنْد ذكره صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كثيرا دَائِما
2594- وَعَن أَوْس بن أَوْس رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من أفضل أيامكم يَوْم الْجُمُعَة فِيهِ خلق آدم وَفِيه قبض وَفِيه النفخة وَفِيه الصَّفْقَة فَأَكْثرُوا عَليّ من الصَّلَاة فِيهِ فَإِن صَلَاتكُمْ معروضة عَليّ
قَالُوا يَا رَسُول الله وَكَيف تعرض صَلَاتنَا عَلَيْك وَقد أرمت يَعْنِي بليت فَقَالَ إِن الله عز وَجل حرم على الأَرْض أَن تَأْكُل أجساد الْأَنْبِيَاء

رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَصَححهُ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

أرمت بِفَتْح الْهمزَة وَالرَّاء وَسُكُون الْمِيم وَرُوِيَ بِضَم الْهمزَة وَكسر الرَّاء

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরে বর্ণিত হযরত আওস ইবনে আওস সাকাফীর হাদীসে জুমু'আর দিনে সংঘটিত অসাধারণ ঘটনাসমূহের বিবরণ দিয়ে মূলতঃ জুমু'আর দিনের গুরুত্ব ও ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। হাদীসে এও বর্ণনা করা হয়েছে যে, এদিনে বেশি বেশি দুরূদ পড়া চাই। রমাযানুল মুবারকের বিশেষ আমল যেমন কুরআন তিলাওয়াত এবং তা যেমন রমাযানের সাথে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত, হজ্জের সফরে তালবীয়া যেমন বিশেষ আমল তদ্রুপ হাদীসের আলোকে জুমু'আর দিনের বিশেষ আমল হল দুরূদ পাঠ। তাই এ দিনে বেশি বেশি দুরূদ পাঠ করা উচিত।

ইন্তিকালের পর নবী কারীম ﷺ এর প্রতি দুরূদ পাঠ এবং হায়াতুন্নবী প্রসঙ্গ
এই হাদীসে নবী কারীম ﷺ তাঁর প্রতি অধিক দুরূদ পাঠের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আল্লাহ্ তা'আলা উম্মাতের দুরূদ আমার কাছে পৌছে দেন এবং এ পদ্ধতি আমার ইন্তিকালের পরেও অব্যাহত থাকবে। অন্য হাদীসে এও বর্ণিত আছে যে, "নবী কারীম ﷺ এর কাছে ফিরিশতা দুরূদ পৌছিয়ে দেন।” একথা শুনবার অব্যবহিত পরেই সাহাবা কিরামের মনে এই প্রশ্ন উঠল যে, আপনার জীবদ্দশায় ফিরিশতার মাধ্যমে আমাদের দুরূদ পেশ করা হবে একথা আমাদের বোধগম্য হল, কিন্তু আপনার ইন্তিকালের পর যখন আপনাকে দাফন করা হবে এবং সাধারণ নিয়ম অনুসারে আপনার শরীর মাটিতে একাকার হয়ে যাবে, তখন আমাদের দুরূদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে? নবী কারীম ﷺ বললেন: আল্লাহর নির্দেশে নবী-রাসূলদের শরীর কবরে পূর্ববৎ অবস্থায় অটুট থাকে। মাটির স্বাভাবিক প্রভাব নবীদের দেহে কার্যকর হয় না। যেভাবে পৃথিবীতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায়ও ঔষধের সাহায্যে মৃত্যুর পর মরদেহ অটুট রাখা হয়, ঠিক একইভাবে আল্লাহ্ তাঁর বিশেষ কুদরত ও নির্দেশে নবী-রাসূলদের তিরোধানের পর তাঁদের শরীর অটুট ও অক্ষুন্ন রাখেন এবং সেখানে তাঁদের এক বিশেষ ধরনের জীবন দান করেন (যেরূপ পৃথিবীতে থাকাকালীন সময় ছিল)। তাই ইন্তিকালের পরেও দুরূদ পৌঁছাবার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান