আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

হাদীস নং: ৪২১৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
সম্পর্কোচ্ছেদ, ঘৃণা-বিদ্বেষ এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শনের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪২১৪. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন। প্রত্যেক সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহর কাছে) মানুষের আমল পেশ করা হয়। এরপর যে ব্যক্তি ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাকে ক্ষমা করা হয়, আর যে ব্যক্তি তাওবা করে, তার তাওবা কবুল করা হয়। তবে হিংসুকের দু'আ তাওবা না করা পর্যন্ত কবুল করা হয় না।
(তাবারানীর আওসাত গ্রন্থে বর্ণিত। তাঁর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من التهاجر والتشاحن والتدابر
4214- وَعَن جَابر رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ تعرض الْأَعْمَال يَوْم الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيس فَمن مُسْتَغْفِر فَيغْفر لَهُ وَمن تائب فيتاب عَلَيْهِ وَيرد أهل الضغائن بضغائنهم حَتَّى يتوبوا

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَرُوَاته ثِقَات
الضغائن بالضاد والغين المعجمتين هِيَ الأحقاد

হাদীসের ব্যাখ্যা:

সপ্তাহে দু'দিন আল্লাহ সুবহানাহুর সমীপে তাঁর বান্দাদের আমল পেশ করা হয়। যেসব মু'মিন বান্দা আল্লাহর কাছে তওবা করেন, আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন এবং তাদের গুনাহ মাফ করে দেন। কিন্তু যারা পরস্পর শত্রুতা পোষণ করে বা পরস্পর ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করে, তাদের পারস্পরিক বিরোধ মীমাংসিত না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন না। তাই শয়তানের প্ররোচনায় দু'জন মুসলমানের মধ্যে কোন বিরোধ বাঁধলে তা সত্বর মীমাংসা করা উভয় ব্যক্তির কর্তব্য। যদি তাদের কোন ব্যক্তি বিরোধ মীমাংসা করার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, তাহলে সে সওয়াব পাবে। যদি আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও তার প্রচেষ্টা সফল না হয় অর্থাৎ অপর ভাইকে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হয়, তাহলেও সে গুনাহগার হবে না। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে মহব্বত করে, সে কখনো মুসলমান ভাইয়ের বিরুদ্ধে শত্রুতা করতে পারে না; বরং কোন কারণে মুসলমান ভাই নারায হলে তাকে শীঘ্র সন্তষ্ট করা ঈমানদার ব্যক্তির কর্তব্য। এ ব্যাপারে যে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি, সম্মান এবং ব্যক্তিত্বের উপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করে, সে সহজে অন্যের সাথে বিরোধ মীমাংসা করতে পারে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান