আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

হাদীস নং: ৪৩৭৫
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৭৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবূ যার (রা)-এর কাছে গিয়ে বলেন: হে আবু যার! আমি কি তোমাকে এমন দু'টি বিষয়ে অবহিত করব না, যা কাজে পরিণত করা তোমার পক্ষে সহজ এবং যা পাল্লায় অত্যন্ত ভারী? সে বলল: জি-হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তিনি বলেন: তুমি নিজের জন্য উত্তম চরিত্র ও দীর্ঘ নীরবতা অপরিহার্য করে নেবে। ঐ সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার জীবন! উক্ত দু'টি গুণে গুণান্বিত ব্যক্তি অপেক্ষা সৃষ্টি জগতে কেউ তার সক্ষম হতে পারে না।
(ইবন আবুন দুনিয়া, বাযযার, তাবারানী ও আবু ই'আলা বর্ণিত। তাঁর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত এবং বায়হাকী ইমাম বায়হাকী (র) আরো বাড়িয়ে বলেন। আবু শায়খ ইব্‌ন হিব্বান (র) হযরত আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন: হে আবু দারদা! আমি কি তোমাকে এমন দু'টি বিষয়ে
অবহিত করব না, যা সাধন করা অতি সহজ অথচ তার পুরস্কার বিরাট। কোন ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাতে এই ধরনের দু'টি আমল নিয়ে যেতে পারবে না। একটি হল দীর্ঘ নীরবতা এবং অপরটি হল উত্তম চরিত্র। ইবন আবুদ দুনিয়া অনুরূপ হাদীস সাফওয়ান ইবন সুলায়ম হতে মুরসাল সূত্রেও বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে সহজতর ইবাদত, যা বাস্তবায়নে শরীরের জন্য খুবই সহজ, তা কি অবহিত করব না? তিনি বলেনঃ তা হল, নীরবতা অবলম্বন করা, এবং উত্তম চরিত্রে অধিকারী হওয়া।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4375- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ لَقِي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَبَا ذَر فَقَالَ يَا أَبَا ذَر أَلا أدلك على خَصْلَتَيْنِ هما خفيفتان على الظّهْر وأثقل فِي الْمِيزَان من غَيرهمَا قَالَ بلَى يَا رَسُول الله قَالَ عَلَيْك بِحسن الْخلق وَطول الصمت فوالذي نَفسِي بِيَدِهِ مَا عمل الْخَلَائق بمثلهما

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالْبَزَّار وَالطَّبَرَانِيّ وَأَبُو يعلى وَرُوَاته ثِقَات وَالْبَيْهَقِيّ بِزِيَادَة وَرَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ ابْن حبَان من حَدِيث أبي الدَّرْدَاء قَالَ قَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَا أَبَا الدَّرْدَاء أَلا أنبئك بأمرين خَفِيف مؤنتهما عَظِيم أجرهما لم تلق الله عز وَجل بمثلهما طول الصمت وَحسن الْخلق
رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا أَيْضا عَن صَفْوَان بن سليم مُرْسلا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَلا أخْبركُم بأيسر الْعِبَادَة وأهونها على الْبدن الصمت وَحسن الْخلق

হাদীসের ব্যাখ্যা:

দীর্ঘ নীরবতার অর্থ হল অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা। যে অপ্রয়োজনীয় ও অন্যায় কথাবার্তা থেকে নিজের জিহ্বার হিফাযত করে, সে নিজেকে অনেক পাপ থেকে রক্ষা করে এবং যে পাপ হতে নিজেকে রক্ষা করে, সে আখিরাতের মীযানে নিজের নেক আমলকে অনেক ভারী পাবে।

মানুষের সাথে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা না বলা বা মানুষের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘরের কোণে আবদ্ধ থাকার দলীল হিসেবে এ হাদীস ব্যবহার করা অনুচিত। স্বয়ং নবী করীম ﷺ দীর্ঘ নীরবতা পালনকারী ছিলেন। অথচ তিনি দিন-রাত আল্লাহর দীনকে বিভিন্নভাবে মানুষের কাছে পেশ করেছেন। আল্লাহর দীনের দাওয়াত পেশ করার জন্য বিভিন্ন স্থানে গিয়েছেন। মানুষের কাছে দাওয়াত পেশ করার সামান্য সুযোগও হারাননি তিনি। তাঁর সঙ্গী-সাথীদেরকে তালীম ও তারবিয়াত দিয়েছেন। ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য বা পরিবার-পরিজনকে সুখী ও সন্তুষ্ট করার জন্য। যতটুকু কথাবর্তা বলার প্রয়োজন হতো, ততটুকু কথা তিনি বলতেন। এছাড়া যে সামান্য সময় থাকত সে সময়ে তিনি নীরবতা পালন করতেন, আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করতেন। তাই নীরবতা পালনের ক্ষেত্রে নবী করীম ﷺ-এর আদর্শ আমাদের জন্য অনুসরণযোগ্য।

বান্দার উত্তম আচরণও আখিরাতের পাল্লায় খুব ভারী। উত্তম আচরণের দ্বারা মানুষের সমাজে মহব্বত ও হৃদ্যতার সৃষ্টি হয় এবং আল্লাহর দীনের প্রচার ও প্রসার খুব সহজ হয়। তাই আল্লাহ কিয়ামতের দিন উত্তম আচরণের প্রতিদান খুব বেশি দিবেন। দীর্ঘ নীরবতা ও উত্তম আচরণ আমল হিসেবে মোটেই কঠিন নয়, বরং যে কোন মানুষ অনায়াসে তা করতে পারে। অথচ আখিরাতের আদালতে এ দুটো সাধারণ কাজের জন্য অনেক সওয়াব দান করা হবে। নবী করীম ﷺ এ দুটো অভ্যাসকে বান্দার অতুলনীয় আমল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান