আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

হাদীস নং: ৪৩৭৬
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৭৬. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে মারফু' সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন: বনী আদমের প্রভাত হবে তখন তার শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এই বলে সতর্ক করে দেয় যে, তুমি আমার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। কেননা, আমরা তোমার সাথে সম্পৃক্ত। তুমি অবিচল থাকলে আমরাও অবিচল থাকব এবং তুমি বেঁকে থাকলে আমরাও বেঁকে যাব।
(তিরমিযী, ইব্‌ন আবুদ দুনিয়া ও অন্যান্যগণ কর্তৃক বর্ণিত। ইমাম তিরমিযী (র) বলেনঃ হাম্মাদ ইবন যায়িদ (র) ব্যতীত অন্যান্যগণও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তারা মারফু' সূত্রে বর্ণনা করেননি। আর এ কথাই বিশুদ্ধ।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4376- وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله عَنهُ رَفعه قَالَ إِذا أصبح ابْن آدم فَإِن الْأَعْضَاء كلهَا تفكر اللِّسَان فَتَقول اتَّقِ الله فِينَا فَإِنَّمَا نَحن بك فَإِن اسْتَقَمْت استقمنا وَإِن اعوججت اعوججنا

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن أبي الدُّنْيَا وَغَيرهمَا وَقَالَ التِّرْمِذِيّ رَوَاهُ غير وَاحِد عَن حَمَّاد بن زيد وَلم يرفعوه قَالَ وَهُوَ أصح

হাদীসের ব্যাখ্যা:

জিহ্বার মন্দ আচরণের ফলে শরীরের অপর অংশসমূহ বিপদের সম্মুখীন হয়। তাই তারা প্রত্যেক দিন ভোরবেলা জিহ্বাকে সংযত থাকার জন্য অনুরোধ করে। জিহ্বা আল্লাহকে ভয় করে বক্র রাস্তা অবলম্বন না করলে শরীরের অপরাপর অংশ বিপদমুক্ত থাকবে। আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কিভাবে পরস্পর কথা বলে তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। যেরূপ আমাদের শরীরের এক অংশ অপর অংশের সুখ-দুঃখে অংশগ্রহণ করে, সেরূপ এক অঙ্গ অপর অঙ্গের সাথে নিজেদের ভাবের বিনিময় করতেও সক্ষম। প্রতিদিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে জিহ্বাকে আল্লাহর গুণগানে ব্যবহার করা উচিত। যাতে শয়তান জিহ্বাকে মন্দকাজে ব্যবহার করতে না পারে তার জন্য আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত। বারবার জিহ্বাকে আল্লাহর যিকর এবং আল্লাহর বান্দাদেরকে দীন শিক্ষা দেয়ার কাজে ব্যবহার করলে আশা করা যায় জিহ্বা সংযত থাকবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান