আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
হাদীস নং: ৪৪৬০
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
সত্যাশ্রয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং মিথ্যাশ্রয়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৬০. আবদুল্লাহ্ ইবন কা'ব ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার ব্যাপারে কা'ব ইবন মালিক (রা) থেকে যে বিবরণটি আমি শুনেছি, তা হচ্ছে এইঃ কা'ব ইবন মালিক (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যতগুলো যুদ্ধ পরিচালনা করেন, আমি তাবুক ব্যতীত অন্য কোনটিতে অনুপস্থিত ছিলাম না। তবে, বদর যুদ্ধ থেকে অনুপস্থিত ছিলাম। আর যারা বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিল, তাদের তিরষ্কার করা হয়নি। কেননা, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) কিছু সংখ্যক সাহাবী নিয়ে কুরায়শের একদল বণিককে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে বের হন। আকস্মিকভাবে পূর্ব আলোচনা ব্যতীত আল্লাহ্ তাদের ও শত্রুদের মাঝে পরস্পর মুখোমুখি করেন। অথচ আমি রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট আকাবার রাতে ইসলাম রক্ষার চুক্তিতে উপস্থিত ছিলাম। যদিও বদর যুদ্ধ মানুষের কাছে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ, তথাপি আকাবার তুলনায় বদর যুদ্ধে উপস্থিত হওয়া আমার নিকট ততটা গুরুত্ব পায়নি।
রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে আমার অনুপস্থিত থাকার বিবরণ হচ্ছে এই: অন্যান্য যুদ্ধে আমি যেমন শক্তিশালী ও সামর্থ্যবান ছিলাম, ঐ সমস্ত সময়ের তুলনায় এক্ষেত্রে আমি আরো বেশী শক্তিশালীও সামর্থ্যবান ছিলাম। ইতোপূর্বে কখনো আমি দু'টি বাহন একত্র করতে পারিনি, অথচ এই যুদ্ধের সময় আমি দু'টি বাহন যোগাড় করি। রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিয়ম ছিল, তিনি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে যে দিকে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন, তার বিপরীত দিকের প্রতি দিক নির্দেশ করতেন। এমনকি সেই যুদ্ধের সময় ঘনিয়ে এলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্যের প্রখর তাপের সময় যুদ্ধ যাত্রা করেন। তাঁর যাত্রা ছিল সুদীর্ঘপথ অতিক্রম করা। আর সামনে প্রতীক্ষা করছে বিপুল শত্রুসেনা। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুসলমানদের সামনে তাঁদের কর্তব্য সম্পর্কে আলোকপাত করেন, যাতে তাঁরা যুদ্ধের পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে। তিনি তাঁদের সামনে নিজ অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। মুসলমানের সংখ্যা এত বিপুল ছিল যে, তাঁদের নাম রেজিষ্টারভূক্ত করার মত সুব্যবস্থা ছিল না। বর্ণনাকারী এখানে রেজিষ্টারভূক্ত করার দিকে ইংগিত করেছেন। কা'ব (রা) বলেন: অল্প সংখ্যক লোকই যখন অনুপস্থিত থাকত তার প্রতি এই ধারণাই পোষণ করা হত যে, লোকটি অচিরেই যুদ্ধ থেকে আত্মগোপন করবে, যতক্ষণে তার ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী না আসে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন যুদ্ধ যাত্র করেন, তখন ছিল ফল পাকার এবং পত্র পল্লব আচ্ছাদিত বৃক্ষের মওসুম। আর আমি সে দিকে (বাগানে) বার বার যাতায়াত করতাম। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সংগে মুসলমানগণ যুদ্ধের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। আমি কালক্ষেপণ করতে লাগলাম যে, আমি তাদের সাথে রওনা করব। অথচ আমি ফিরে আসি এবং কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারিনা। আর আমি মনে মনে বলতাম: আমি প্রস্তুতি নিয়ে বের হতে পারব, কেননা আমার সামর্থ্য আছে। এ অবস্থা আমাকে কালক্ষেপণের বাধ্য করে এমনকি মুজাহিদ বাহিনী দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে নেয়। এর পর একদিন সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুসলিম বাহিনী নিয়ে রওনা হন অথচ আমি তখনও কোন রসদ পত্রই যোগড় করিনি। পরের দিনও আমি বের হলাম এবং ফিরে এলাম, তবে চূড়ান্তভাবে কিছুই করিনি। এভাবে কালক্ষেপণ করতে লাগলাম। এমন কি তাঁরা রণাঙ্গনের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। এ সময় আমি বের হওয়ার জন্য দৃঢ় সংকল্প নিলাম, যাতে আমি তাঁদের সাথে একত্র হতে পারি। কিন্তু, হায়! পরিতাপ। আমি যদি তা করতাম। তবে তা আমার ভাগ্যে লেখা হয়নি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) চলে যাওয়ার পরে আমি যখন লোকালয়ে বের হতাম, আমাকে তখন একথা দুশ্চিন্তাগ্রন্থ করে ফেলত যে, আমি কেবল ঘোর মুনাফিক অথবা দুর্বল লোক, যাদের সম্পর্কে আল্লাহর ক্ষমা ঘোষিত হয়েছে, তাদের ব্যতীত কোন ভাল লোক দেখতে পেতাম না। তাবুক পৌঁছা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার কথা আলোচনা করেননি। তাবুক প্রান্তরে সাহাবা ঘেরা এক সমাবেশে তিনি বলেন: কা'ব ইবন মালিক কী করলো। তখন-বনী সালামার এক ব্যক্তি বলল: ইয়া রাসুলাল্লাহ। তার দু'টি চাদরের আঁচলের প্রতি দৃষ্টিপাত, তার আসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এ সময়-মু'আয ইবন জাবাল (রা) তাঁকে বলেন: তুমি খুব মন্দকথা বললে। আল্লাহর শপথ, ইয়া রাসুলাল্লাহ্। আমরা তাঁর ব্যাপারে ভাল ছাড়া মন্দ কিছু জানি না। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এতদশ্রবণে নীরব থাকলেন। পরে তিনি একজন সাদা পোশাকধারী লোককে দেখতে পান, যার পোশাক তুয়ারের চেয়েও সাদা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: তুমি আবূ খায়সামা হও। তখন হঠাৎ দেখা গেল যে, তিনি আবু খায়সামা আনসারী। তিনি ঐ ব্যক্তি, মুনাফিকরা যাকে দোষারোপ করায় তিনি এক সা' খুরমা সাদাকা করেছিলেন। কা'ব (রা) বলেন। এরপর যখন আমার কাছে এই মর্মে সংবাদ এলো যে, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) তাবুক থেকে মদীনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন, তখন আমার মনে দুশ্চিন্তা উদিত হলো। আমি মিথ্যা বানোয়াট কল্পনা করতে লাগলাম এবং কিভাবে আগামীকাল তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে রক্ষা পেতে পারি, তা ভাবতে লাগলাম। আমার পরিবারের প্রত্যেকের কাছে এ ব্যাপারে সাহায্য কামনা করতে লাগলাম। তার পর যখন বলা হল যে, অচিরেই রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনায় এসে পৌছবেন, তখন আমার মধ্যকার যাবতীয় বাতুলতা দূর হতে লাগল এবং আমি এমর্মে পরিষ্কার বুঝতে পারলাম যে, কোনভাবেই আমি কখনো তাঁর থেকে রক্ষা পাব না। কাজেই, আমি সত্যকে অন্তরে বদ্ধমূল করে নিলাম। অবশেষে একদিন সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনায় এসে উপস্থিত হন। তাঁর নিয়ন ছিল, যখন তিনি কোন সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে দু'রাকা'আত সালাত আদায় করতেন। পরে তিনি সকলকে নিয়ে বসতেন। যখন তিনি এসব কাজ থেকে অবসর হন, তখন যুদ্ধে অনুপস্থিত ব্যক্তিবর্গ একে একে তাঁর কাছে এসে মিথ্যা শপথ করে নিজেদের অক্ষমতার কথা অবহিত করে। এদের মোট সংখ্যা ছিল তিরাশি জন। তিনি তাদের প্রাকাশ্য ভাষণ গ্রহণ করেন এবং তাদের বায়'আত করান এবং তাদের ভেতরের ব্যাপার আল্লাহর নিকট সোপর্দ করেন। এমনকি আমি তাঁর কাছে গেলাম। আমি যখন তাঁকে সালাম দিলাম, তখন তিনি ক্রোধ-মিশ্রিত হাসি হেসে বলেন: এসো। তখন আমি হেঁটে হেঁটে তাঁর কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন: তুমি কেন যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলে, তুমি না তোমার বাহন খরিদ করে ছিলে? আমি বলালাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ্। আমি আপনার নিকট না বসে যদি দুনিয়ার অন্য কোন ব্যক্তির কাছে বসতাম, তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মিথ্যা ওযর দেখিয়ে অচিরেই আমি তার ক্রোধ থেকে মুক্তি পেতাম। কেননা, আমাকে যুক্তি পেশ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর শপথ আজ আপনাকে সন্তুষ্ট করার জন্য যদি আমি মিথ্যা কথা বলি, তবে অচিরেই আল্লাহ আপনাকে আমার প্রতি অসন্তুষ্ট করে দেবেন। আর যদি আমি আপনার কাছে সত্য কথা বলি এবং সেই কথায় আপনি আমার প্রতি অসন্তুষ্টও হন, আমি নিশ্চিত আশাবাদী যে, পরিণতিতে আমি আল্লাহর নিকট কামিয়াব হব।
অন্য বর্ণনায় عقبی -এর স্থলে عفو (ক্ষমা) শব্দ রয়েছে। আল্লাহর শপথ! আমার কোন ওযর ছিল না। যখন আমি আপনার কাছ থেকে যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলাম, তখন আমি পূর্বের চেয়েও অধিক সামর্থ্যবান ছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন: হাঁ, এই লোকটি সত্য কথা বলেছে। তুমি চলে যাও, যতক্ষণে তোমার ব্যাপারে আল্লাহর ফয়সালা না আসে। এরপর আমি উঠে গেলাম। আর আমার পেছনে তিরস্কার করতে করতে বনী সালামার কিছু সংখ্যক লোক বলল: আল্লাহর শপথ! ইতোপূর্বে আপনাকে আমরা কোন গুনাহ করতে দেখিনি; অন্যান্য যুদ্ধে অনুপস্থিত ব্যক্তিবর্গ নিজ নিজ ওযর পেশ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর কাছে ক্ষমা পেলেন, আর আপনি তা করতে অপারগ হলেন কেন? আপনার গুনাহের জন্য রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ইসতিগফারই যথেষ্ট ছিল। আল্লাহর শপথ! তারা আমাকে এভাবে তিরস্কার করতে লাগল। এমনকি আমি একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে ভাবলাম যে, আমি কি পূর্বের কথা অস্বীকার করব। তিনি (কা'ব) বলেন: এরপর আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম। আমার মত এরূপ আর কেউ বলেছে কি? তারা বললঃ হাঁ তোমার ন্যায় দুই ব্যক্তি রয়েছে, তুমি যা বলেছ, তারাও তাই বলেছে। আর তাদেরকেও তাই বলা হয়েছে, যা তোমাকে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি জানতে চাইলাম। ঐ দুই ব্যক্তি কে? তাঁরা বলল: তাঁদের একজন হলেন যুরারা ইবন রাবীয়া আমিরী এবং অপর জন হলেন হিলাল ইবন উম্যায়্যা ওয়াকিফী (রা)। তিনি বলেন, তাঁরা আমার নিকট এমন দুইজন সৎ লোকের কথা বলল: যাঁরা বদরী সাহাবী। তাঁদের দু'জনের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। তিনি বলেন, আমি এভাবে বসে থাকলাম, এমনকি তাঁরা আমার কাছে ঐ দু'জনের কথা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, তাদের মধ্যকার কেবল আমাদের তিনজনের সাথে রাসুলুল্লাহ সাহাবীদের কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন: লোকেরা আমাদের বর্জন করে চলল। তিনি আরো বলেন: সকলে আমাদের প্রতি বিগড়ে গেল। এমনকি পৃথিবী আমার নিকট অপরিচিত মনে হল। আমি এখন চিনি না, যা পূর্বে চিনতাম। এরূপে পঞ্চাশ দিন অতিবাহিত করলাম। আমার অপর দুই সাহাবী অবস্থা ছিল এই, তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় ঘরে বসে রোনাজারি করছিল। আর আমি যেহেতু তাদের তুলনায় ছিলাম যুবক এবং শক্তিশালী, তাই আমি সালাতে উপস্থিত হতাম। আমি বাজারের অলি-গলিতে ঘুরাফেরা করতাম। কিন্তু কেউ আমার সাথে কথা বলত না। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সালাত শেষ করে যখন সাহাবীদের মাঝে বসতেন, তখন আমি তাঁর নিকট গিয়ে সালাম দিতাম এবং মনে মনে বলতাম। সালামের উত্তরে তার ঠোঁট নড়াচড়া করছে কিনা, তা দেখতাম। আর আমি তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতাম এবং গোপনে গোপনে তাঁর দিকে তাকাতাম। আমি সালাত শুরু করলে তিনি আমার দিকে তাকাতেন এবং আমি তাঁর দিকে তাকালে তিনি অন্য দিকে চেহারা ফিরিয়ে নিতেন। মুসলমানদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন যখন এরূপ কষ্ট চলতে থাকল, তখণ একদিন আমি আবু কাতাদা (রা)-এর বাড়ীতে গিয়ে তাঁর বাড়ীর দেওয়ালে উঠলাম। তিনি ছিলেন আমার চাচাত ভাই এবং আমার নিকট লোকদের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয়। আমি তাঁকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি আমার সালামের জবাব দিলেন না। আমি তাঁকে বললামঃ হে আবু কাতাদা! আমি তোমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে জিজ্ঞেস করি যে, তুমি কি একথা জান যে, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। তিনি (কা'ব) বলেন: সে নীরব রইল। পুনরায় আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করায় জবাবে সে বলল: এ ব্যাপারে আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল সর্বাধিক জ্ঞাত। এতে আমার দুই চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগল। আমি দেওয়াল টপকিয়ে ফিরে এলাম। এভাবে আমি একদিন মদীনার গলিতে ঘুরাফেরা করছিলাম। হঠাৎ দেখলাম, একজন সিরীয় বণিক খাদ্য-শস্য নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে মদীনায় এসেছে। সে জানতে চাইল, কা'ব ইবন মালিক কে? বর্ণনাকারী বলেন: তখন লোকেরা আমাকে দেখিয়ে দিল। এমনকি লোকটি আমার কাছে এসে গাস্সানের বাদশাহর একটি চিঠি হস্তান্তর করল। আমি লেখা পড়া জানতাম। আমি তা পাঠ করে তাতে পেলাম যে, "আমাদের কাছে এই মর্মে সংবাদ এসেছে যে, আপনার নবী (ﷺ) আপনার উপর যুলম করেছেন, অথচ আল্লাহ্ আপনাকে ছোট বংশে অথবা নিঃস্ব পরিবারে পাঠাননি। আপনি আমাদের কাছে এলে আমরা আপনার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করব। তিনি বলেন: আমি তা পাঠ করে বললাম, এও আরেকটি বিপদ। আমি তা চুলায় দেয়ার ইচ্ছা করলাম এবং চুলায় দিয়ে তা পুড়িয়ে ফেললাম। এরপর যখন পঞ্চাশ দিনের চল্লিশ দিন অতিক্রান্ত হল এবং ওহীও বন্ধ থাকল, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে একজন দূত আমার কাছে এসে বলল: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আপনাকে এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আপনার স্ত্রী থেকে পৃথক থাকেন। বর্ণনাকারী কা'ব (রা) বলেনঃ আমি কি তাতে তালাক দেব, না কি করব? সে বলল: না, বরং আপনি তার সংশ্রব বর্জন করুন এবং তার কাছে যাবেন না। তিনি (রাসূলুল্লাহ্ ﷺ) আমার অপর দুই সাথীর নিকটও অনুরূপ নির্দেশ দিয়ে দূত পাঠান। কা'ব (রা) বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে বললামঃ এ ব্যাপারে যতদিন আল্লাহর পক্ষ থেকে ফয়সালা না আসে, তুমি তোমার পিত্রালয়ে অবস্থান করবে। কা'ব (রা) বলেন,তখন হিলাল ইবন উমায়্যার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলেন: হিলাল ইবন উমায়্যা (রা) একজন আসহায় বৃদ্ধ লোক, যার কোন খাদেমও নেই। এমতাবস্থায় আমি যদি তাঁর খিদমত করি, তা কি আপনি অপসন্দ করবেন? তিনি (রাসুলুল্লাহ্ ﷺ) বলেন: না, তবে সে যেন তোমার (উপর উপগত) নিকটবর্তী না হয়। সে (হিলাল ইবন উমায়্যা (রা) এর স্ত্রী) বলল: আল্লাহর শপথ! কোন বস্তুর প্রতি তার কোন আকর্ষণ নেই। আল্লাহর শপথ! যে দিন থেকে ঐ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত সে কেবলই কান্নাকাটি করছে। কা'ব (রা) বলেন, এসময় আমার আপনজনের কেউ কেউ আমাকে বললঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিলাল ইবন উমায়্যার স্ত্রীকে যে ভাবে খিদমতের অনুমতি দিয়েছেন, আপনি যদি সেভাবে অনুমতি নিতেন, তবে ভালই হতো। হযরত কা'ব (রা) বলেন, আমি বললামঃ আল্লাহর শপথ! আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করব না। আমি অনুমতি চাইলে তিনি কি বলেন, তা আমি জানি না। তাছাড়া আমি একজন যুবক। হযরত কা'ব (রা) বলেনঃ আমি এভাবে আরো দশদিন কাটালাম। আমাদের সাথে কথাবার্তার নিষেধাজ্ঞা জারী করা থেকে ঐ যাবত পঞ্চাশ দিন পরিপূর্ণ হলো। তিনি বলেন: এ সময় আমি আমার বাড়ীর ছাদে ফজরের সালাত আদায় করলাম। আর তখন আমি ঐ অবস্থায় আমার জীবন সংকীর্ণ মনে করছিলাম এবং পৃথিবীকে আমার নিকট খুব ক্ষুদ্র মনে হচ্ছিল যা আল্লাহ্ কুরআনে উল্লেখ করেছেন। ঐ সময় আমি সিলু'আ নামক স্থানের পাহাড় থেকে এক ব্যক্তিকে উচ্চস্বরে ঘোষণা করতে শুনলাম এবং সে উচ্চকণ্ঠে বলছেঃ হে কা'ব ইবন মালিক! তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। তিনি বলেন, আমি সিজদায় লুটিয়ে পড়লাম এবং জানতে পারলাম যে, আমার বিপদ কেটে গেছে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফজরের সালাত আদায়ের পর আমাদের তাওবা আল্লাহর নিকট গৃহীত হওয়ার সংবাদ ঘোষণা করেন। লোকেরা আমাদের সুসংবাদ দানের জন্য ছুটে এলো, আমার অপর দুই সাথীর সুসংবাদদাতাগণ ছুটে গেল। তখন এক ব্যক্তি ঘোড়া হাকিয়ে আমার কাছে এলো। বনী আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি আমার দিকে পায়ে হেঁটে এলো এবং সে পাহাড়ে উঠে আশ্বারোহী অপেক্ষা উচ্চ স্বরে সুসংবাদ নিয়ে তাড়াতাড়ি আমার কাছে এলো। পরে যখন ঐ লোকটি আমার কাছে স্বশরীরে উপস্থিত হল যার সুসংবাদের শব্দ আমি শুনেছিলাম, তাকে আমি আমার পরিধেয় দু'টি কাপড় দান করে দিলাম। আল্লাহর শপথ। ঐ সময় আমার কাছে দু'টি কাপড় ছাড়া আর কিছুই ছিলনা। আমি দু'টি কাপড় ধার করে পরে নিলাম এবং আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সংগে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। তখন লোকেরা আমার তাওবা কবুল হওয়ার জন্য মুবারকবাদ দিতে দিতে আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বলতে লাগল: তোমার তাওবা আল্লাহ কবুল করেছেন বলে তোমাকে মুবারকবাদ। এভাবে আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম। আমি দেখতে পেলাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) লোকদের মাঝে বসে আছেন। তাঁদের' মধ্যে তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রা) দৌড়ে এসে আমার সাথে মুসাফাহা করেন এবং মুবারকবাদ জানান। আল্লাহর শপথ। তিনি ব্যতীত কোন মুহাজির আমার কাছে এগিয়ে আসেন নি। রাবী (আবদুল্লাহ্) বলেনঃ কা'ব (রা) তালহা (রা) এর এ কথা ভুলেননি। কা'ব (রা) বলেনঃ এরপর যখন আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে সালাম দিলাম, এখন তাঁর চেহারা অত্যুজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি বলেনঃ তুমি তোমার মায়ের উদর থেকে ভূমিষ্ট হওয়ার দিন থেকে এ যাবত সর্বাধিক উত্তম দিনের সুসংবাদ গ্রহণ কর। কা'ব (রা) বলেন, আমি বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ্। এ সুসংবাদ কি আপনার পক্ষ থেকে না আল্লাহর পক্ষ থেকে? তিনি বলেনঃ বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে। রাসূলুল্লাহ যখন কোন ব্যাপারে আনন্দিত হতেন, তখন তাঁর চেহারা এমনভাবে উজ্জ্বল হত, যেন তা চাঁদের টুকরা। তিনি বলেন, আমরা তা বুঝতে পারতাম। কা'ব (রা) বলেনঃ এর পর আমি তাঁর সামনে বসে তখন বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমার তাওবার বিনিময় আমি আমার সম্পদ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জন্য সাদাকা হিসেবে দান করতে চাই। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমার সম্পদের কিছু অংশ তোমার নিজের জন্য রেখে দেওয়া ভাল। তিনি (কা'ব) বলেনঃ তখন আমি খায়বারের যুদ্ধে প্রাপ্ত অংশ রেখে দিলাম। তিনি (কা'ব) বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ্। একমাত্র সত্যবাদিতার কারণেই আল্লাহ্ আমাকে নাজাত দিলেন। আমি আমার তাওবায় এও ঘোষণা করতে চাই যে, আমি আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কখনো সত্য ছাড়া মিথ্যা কথা বলব না, আল্লাহর শপথ। আমাকে সত্যকথা বলার ব্যাপারে আল্লাহ যে পরীক্ষা করেন, যা আমি আল্লাহর রাসুলের নিকট পেশ করেছি, কাউকে এমন পরীক্ষার সম্মুখীন পাইনি। আমি নিশ্চিত আশাবাদী যে, আল্লাহ আমাকে আজীবন হিফাযত করবেন। প্রমাণ স্বরূপ তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা নিম্মোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন:
لَقَدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَحِيمٌ (117) وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنْفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَنْ لَا مَلْجَأَ مِنَ اللَّهِ إِلَّا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ (118) يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ (119)
"আল্লাহ্ অনুগ্রহ পরায়ণ হলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি যারা সংকটকালে তার অনুসরণ করেছিল, এমনকি যখন তাদের একদলের চিত্ত-বৈকল্যের উপক্রম হয়েছিল। পরে আল্লাহ্ তাদের ক্ষমা করেন, তিনি তাদের প্রতি দয়ার্দ্র পরম দয়ালু। আর তিনি ক্ষমা করলেন অপর তিনজনকেও যাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল, যে পর্যন্ত না পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য তা সংকুচিত হয়েছিল এবং তাদের জীবন তাদের জন্য দুর্বিসহ হয়েছিল এবং তারা উপলব্ধি করেছিল যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন অশ্রয় স্থল নেই, পরে তিনি তাদের প্রতি অনুগ্রহপরায়ণ হলেন, যাতে তারা তাওবা করে। আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভূক্ত হও।" (সূরা তাওবা: ১১৭-১১৯)
কা'ব (রা) বলেনঃ আল্লাহর শপথ। ইসলাম গ্রহণের পর আল্লাহ্ যত নি'আমত দান করেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে আমার ব্যাপারে সত্য বিবরণ সম্বলিত যে নি'আমত আমি পেয়েছি, তা আমার কাছে সর্বাধিক বড় নি'আমত। (আমি প্রতীজ্ঞা করেছিলাম) আমি মিথ্যা বলব না এবং ধ্বংস হব না, যেভাবে মিথ্যাবাদীরা ধ্বংস হয়। মিথ্যাবাদীদের মিথ্যা বিবরণের পর তাদের উদ্দেশ্যে যে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, তা এতই ভয়াবহ, যা অন্যদের বেলায় আল্লাহ্ অবর্তীর্ণ করেন নি। যেমন আল্লাহ বলেনঃ
سَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ إِذَا انْقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ لِتُعْرِضُوا عَنْهُمْ فَأَعْرِضُوا عَنْهُمْ إِنَّهُمْ رِجْسٌ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ (95) يَحْلِفُونَ لَكُمْ لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنْ تَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَرْضَى عَنِ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ
"তোমরা তাদের কাছে ফিরে এলে তারা আল্লাহর শপথ করবে, যাতে তোমরা তাদের উপেক্ষা কর। সুতরাং তোমরা তাদের উপেক্ষা করবে; তারা অপবিত্র এবং তাদের কৃতকর্মের ফল স্বরূপ জাহান্নাম তাদের আবসস্থল। তারা তোমাদের নিকট শপথ করবে, যাতে তোমরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হও। তোমরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেও আল্লাহ্ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়ের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন না"। (সূরা তাওবা: ১৫-১৬)
কা'ব (রা) বলেন: যুদ্ধে অনুপস্থিতদের মধ্যে কেবল আমরা তিনজনই সত্যবাদী ছিলাম আর ঐ মিথ্যাবাদীদের পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট যখন তারা শপথ করে ওযর পেশ করল, তখন তিনি তাদের বায়'আত করান এবং তাদের জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের ব্যাপারটি আল্লাহর ফয়সালা না আসা পর্যন্ত পিছিয়ে দেন এবং বলেন: وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا "তাদের তিনজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল"।
আল্লাহ্ তা আলা কুরআন মজীদে خُلِّفُوا শব্দ দ্বারা যাদের উল্লেখ করেছেন, এর দ্বারা অনুপস্থিত সকল ব্যক্তিবর্গ উদ্দেশ্য নয়। কেবলমাত্র আমাদের (তিনজনকে) লক্ষ্য করে বলা হয়েছে। যারা মিথ্যা শপথ করে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে ওযর পেশ করেছিল এবং তিনি তাদের ওযর কবুল করেন, আর আমরা ছিলাম তাদের ব্যতিক্রম। পক্ষান্তরে, তিনি আমাদের তাওবা কবুলের বিষয়টি পিছিয়ে দেন।
বুখারী, মুসলিম নিজ শব্দে, আবু দাউদ, নাসাঈ অনুরূপ ভিন্ন ভিন্ন শব্দযোগে সংক্ষেপে বর্ণনা করেন এবং ইমাম তিরমিযী (র) হাদীসের প্রথম অংশ উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বলেন, হাদীসটি এরূপ-
وری عنالشئ : শ্রোতার কাছে বক্তার উদ্দেশ্য অস্পষ্ট রাখার অন্য পরোক্ষভাবে শব্দ ব্যবহার করা।
المفاز: পানি শূন্য মরুময় এলাকা।
یتمادی بی : দীর্ঘ সূত্রিতা।
تفارط الغزو : যুদ্ধে যাওয়ার সময় পার হয়ে যাওয়া।
المغموض : কাউকে সর্বদা দোষী মনে করা।
ويزول به السراب : দৃষ্টি স্পষ্ট হওয়া।
أوفى على سلع : উপরে ওঠা, সাল'আ মদীনার একটি প্রসিদ্ধ পাহাড়।
أيمم- আমি ইচ্ছা করলাম।
أرجأ أمرنا : আমার ব্যাপারটি পিছিয়ে দিলেন।
فأنا إليها أصعر : আমি ফসল তোলার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলাম।
জাওহারী (র) বলেন: ،في الخد خاصة
রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে আমার অনুপস্থিত থাকার বিবরণ হচ্ছে এই: অন্যান্য যুদ্ধে আমি যেমন শক্তিশালী ও সামর্থ্যবান ছিলাম, ঐ সমস্ত সময়ের তুলনায় এক্ষেত্রে আমি আরো বেশী শক্তিশালীও সামর্থ্যবান ছিলাম। ইতোপূর্বে কখনো আমি দু'টি বাহন একত্র করতে পারিনি, অথচ এই যুদ্ধের সময় আমি দু'টি বাহন যোগাড় করি। রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিয়ম ছিল, তিনি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে যে দিকে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন, তার বিপরীত দিকের প্রতি দিক নির্দেশ করতেন। এমনকি সেই যুদ্ধের সময় ঘনিয়ে এলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্যের প্রখর তাপের সময় যুদ্ধ যাত্রা করেন। তাঁর যাত্রা ছিল সুদীর্ঘপথ অতিক্রম করা। আর সামনে প্রতীক্ষা করছে বিপুল শত্রুসেনা। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুসলমানদের সামনে তাঁদের কর্তব্য সম্পর্কে আলোকপাত করেন, যাতে তাঁরা যুদ্ধের পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে। তিনি তাঁদের সামনে নিজ অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। মুসলমানের সংখ্যা এত বিপুল ছিল যে, তাঁদের নাম রেজিষ্টারভূক্ত করার মত সুব্যবস্থা ছিল না। বর্ণনাকারী এখানে রেজিষ্টারভূক্ত করার দিকে ইংগিত করেছেন। কা'ব (রা) বলেন: অল্প সংখ্যক লোকই যখন অনুপস্থিত থাকত তার প্রতি এই ধারণাই পোষণ করা হত যে, লোকটি অচিরেই যুদ্ধ থেকে আত্মগোপন করবে, যতক্ষণে তার ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী না আসে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন যুদ্ধ যাত্র করেন, তখন ছিল ফল পাকার এবং পত্র পল্লব আচ্ছাদিত বৃক্ষের মওসুম। আর আমি সে দিকে (বাগানে) বার বার যাতায়াত করতাম। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সংগে মুসলমানগণ যুদ্ধের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। আমি কালক্ষেপণ করতে লাগলাম যে, আমি তাদের সাথে রওনা করব। অথচ আমি ফিরে আসি এবং কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারিনা। আর আমি মনে মনে বলতাম: আমি প্রস্তুতি নিয়ে বের হতে পারব, কেননা আমার সামর্থ্য আছে। এ অবস্থা আমাকে কালক্ষেপণের বাধ্য করে এমনকি মুজাহিদ বাহিনী দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে নেয়। এর পর একদিন সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুসলিম বাহিনী নিয়ে রওনা হন অথচ আমি তখনও কোন রসদ পত্রই যোগড় করিনি। পরের দিনও আমি বের হলাম এবং ফিরে এলাম, তবে চূড়ান্তভাবে কিছুই করিনি। এভাবে কালক্ষেপণ করতে লাগলাম। এমন কি তাঁরা রণাঙ্গনের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। এ সময় আমি বের হওয়ার জন্য দৃঢ় সংকল্প নিলাম, যাতে আমি তাঁদের সাথে একত্র হতে পারি। কিন্তু, হায়! পরিতাপ। আমি যদি তা করতাম। তবে তা আমার ভাগ্যে লেখা হয়নি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) চলে যাওয়ার পরে আমি যখন লোকালয়ে বের হতাম, আমাকে তখন একথা দুশ্চিন্তাগ্রন্থ করে ফেলত যে, আমি কেবল ঘোর মুনাফিক অথবা দুর্বল লোক, যাদের সম্পর্কে আল্লাহর ক্ষমা ঘোষিত হয়েছে, তাদের ব্যতীত কোন ভাল লোক দেখতে পেতাম না। তাবুক পৌঁছা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার কথা আলোচনা করেননি। তাবুক প্রান্তরে সাহাবা ঘেরা এক সমাবেশে তিনি বলেন: কা'ব ইবন মালিক কী করলো। তখন-বনী সালামার এক ব্যক্তি বলল: ইয়া রাসুলাল্লাহ। তার দু'টি চাদরের আঁচলের প্রতি দৃষ্টিপাত, তার আসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এ সময়-মু'আয ইবন জাবাল (রা) তাঁকে বলেন: তুমি খুব মন্দকথা বললে। আল্লাহর শপথ, ইয়া রাসুলাল্লাহ্। আমরা তাঁর ব্যাপারে ভাল ছাড়া মন্দ কিছু জানি না। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এতদশ্রবণে নীরব থাকলেন। পরে তিনি একজন সাদা পোশাকধারী লোককে দেখতে পান, যার পোশাক তুয়ারের চেয়েও সাদা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: তুমি আবূ খায়সামা হও। তখন হঠাৎ দেখা গেল যে, তিনি আবু খায়সামা আনসারী। তিনি ঐ ব্যক্তি, মুনাফিকরা যাকে দোষারোপ করায় তিনি এক সা' খুরমা সাদাকা করেছিলেন। কা'ব (রা) বলেন। এরপর যখন আমার কাছে এই মর্মে সংবাদ এলো যে, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) তাবুক থেকে মদীনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন, তখন আমার মনে দুশ্চিন্তা উদিত হলো। আমি মিথ্যা বানোয়াট কল্পনা করতে লাগলাম এবং কিভাবে আগামীকাল তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে রক্ষা পেতে পারি, তা ভাবতে লাগলাম। আমার পরিবারের প্রত্যেকের কাছে এ ব্যাপারে সাহায্য কামনা করতে লাগলাম। তার পর যখন বলা হল যে, অচিরেই রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনায় এসে পৌছবেন, তখন আমার মধ্যকার যাবতীয় বাতুলতা দূর হতে লাগল এবং আমি এমর্মে পরিষ্কার বুঝতে পারলাম যে, কোনভাবেই আমি কখনো তাঁর থেকে রক্ষা পাব না। কাজেই, আমি সত্যকে অন্তরে বদ্ধমূল করে নিলাম। অবশেষে একদিন সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনায় এসে উপস্থিত হন। তাঁর নিয়ন ছিল, যখন তিনি কোন সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে দু'রাকা'আত সালাত আদায় করতেন। পরে তিনি সকলকে নিয়ে বসতেন। যখন তিনি এসব কাজ থেকে অবসর হন, তখন যুদ্ধে অনুপস্থিত ব্যক্তিবর্গ একে একে তাঁর কাছে এসে মিথ্যা শপথ করে নিজেদের অক্ষমতার কথা অবহিত করে। এদের মোট সংখ্যা ছিল তিরাশি জন। তিনি তাদের প্রাকাশ্য ভাষণ গ্রহণ করেন এবং তাদের বায়'আত করান এবং তাদের ভেতরের ব্যাপার আল্লাহর নিকট সোপর্দ করেন। এমনকি আমি তাঁর কাছে গেলাম। আমি যখন তাঁকে সালাম দিলাম, তখন তিনি ক্রোধ-মিশ্রিত হাসি হেসে বলেন: এসো। তখন আমি হেঁটে হেঁটে তাঁর কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন: তুমি কেন যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলে, তুমি না তোমার বাহন খরিদ করে ছিলে? আমি বলালাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ্। আমি আপনার নিকট না বসে যদি দুনিয়ার অন্য কোন ব্যক্তির কাছে বসতাম, তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মিথ্যা ওযর দেখিয়ে অচিরেই আমি তার ক্রোধ থেকে মুক্তি পেতাম। কেননা, আমাকে যুক্তি পেশ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর শপথ আজ আপনাকে সন্তুষ্ট করার জন্য যদি আমি মিথ্যা কথা বলি, তবে অচিরেই আল্লাহ আপনাকে আমার প্রতি অসন্তুষ্ট করে দেবেন। আর যদি আমি আপনার কাছে সত্য কথা বলি এবং সেই কথায় আপনি আমার প্রতি অসন্তুষ্টও হন, আমি নিশ্চিত আশাবাদী যে, পরিণতিতে আমি আল্লাহর নিকট কামিয়াব হব।
অন্য বর্ণনায় عقبی -এর স্থলে عفو (ক্ষমা) শব্দ রয়েছে। আল্লাহর শপথ! আমার কোন ওযর ছিল না। যখন আমি আপনার কাছ থেকে যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলাম, তখন আমি পূর্বের চেয়েও অধিক সামর্থ্যবান ছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন: হাঁ, এই লোকটি সত্য কথা বলেছে। তুমি চলে যাও, যতক্ষণে তোমার ব্যাপারে আল্লাহর ফয়সালা না আসে। এরপর আমি উঠে গেলাম। আর আমার পেছনে তিরস্কার করতে করতে বনী সালামার কিছু সংখ্যক লোক বলল: আল্লাহর শপথ! ইতোপূর্বে আপনাকে আমরা কোন গুনাহ করতে দেখিনি; অন্যান্য যুদ্ধে অনুপস্থিত ব্যক্তিবর্গ নিজ নিজ ওযর পেশ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর কাছে ক্ষমা পেলেন, আর আপনি তা করতে অপারগ হলেন কেন? আপনার গুনাহের জন্য রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ইসতিগফারই যথেষ্ট ছিল। আল্লাহর শপথ! তারা আমাকে এভাবে তিরস্কার করতে লাগল। এমনকি আমি একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে ভাবলাম যে, আমি কি পূর্বের কথা অস্বীকার করব। তিনি (কা'ব) বলেন: এরপর আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম। আমার মত এরূপ আর কেউ বলেছে কি? তারা বললঃ হাঁ তোমার ন্যায় দুই ব্যক্তি রয়েছে, তুমি যা বলেছ, তারাও তাই বলেছে। আর তাদেরকেও তাই বলা হয়েছে, যা তোমাকে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি জানতে চাইলাম। ঐ দুই ব্যক্তি কে? তাঁরা বলল: তাঁদের একজন হলেন যুরারা ইবন রাবীয়া আমিরী এবং অপর জন হলেন হিলাল ইবন উম্যায়্যা ওয়াকিফী (রা)। তিনি বলেন, তাঁরা আমার নিকট এমন দুইজন সৎ লোকের কথা বলল: যাঁরা বদরী সাহাবী। তাঁদের দু'জনের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। তিনি বলেন, আমি এভাবে বসে থাকলাম, এমনকি তাঁরা আমার কাছে ঐ দু'জনের কথা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, তাদের মধ্যকার কেবল আমাদের তিনজনের সাথে রাসুলুল্লাহ সাহাবীদের কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন: লোকেরা আমাদের বর্জন করে চলল। তিনি আরো বলেন: সকলে আমাদের প্রতি বিগড়ে গেল। এমনকি পৃথিবী আমার নিকট অপরিচিত মনে হল। আমি এখন চিনি না, যা পূর্বে চিনতাম। এরূপে পঞ্চাশ দিন অতিবাহিত করলাম। আমার অপর দুই সাহাবী অবস্থা ছিল এই, তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় ঘরে বসে রোনাজারি করছিল। আর আমি যেহেতু তাদের তুলনায় ছিলাম যুবক এবং শক্তিশালী, তাই আমি সালাতে উপস্থিত হতাম। আমি বাজারের অলি-গলিতে ঘুরাফেরা করতাম। কিন্তু কেউ আমার সাথে কথা বলত না। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সালাত শেষ করে যখন সাহাবীদের মাঝে বসতেন, তখন আমি তাঁর নিকট গিয়ে সালাম দিতাম এবং মনে মনে বলতাম। সালামের উত্তরে তার ঠোঁট নড়াচড়া করছে কিনা, তা দেখতাম। আর আমি তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতাম এবং গোপনে গোপনে তাঁর দিকে তাকাতাম। আমি সালাত শুরু করলে তিনি আমার দিকে তাকাতেন এবং আমি তাঁর দিকে তাকালে তিনি অন্য দিকে চেহারা ফিরিয়ে নিতেন। মুসলমানদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন যখন এরূপ কষ্ট চলতে থাকল, তখণ একদিন আমি আবু কাতাদা (রা)-এর বাড়ীতে গিয়ে তাঁর বাড়ীর দেওয়ালে উঠলাম। তিনি ছিলেন আমার চাচাত ভাই এবং আমার নিকট লোকদের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয়। আমি তাঁকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি আমার সালামের জবাব দিলেন না। আমি তাঁকে বললামঃ হে আবু কাতাদা! আমি তোমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে জিজ্ঞেস করি যে, তুমি কি একথা জান যে, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। তিনি (কা'ব) বলেন: সে নীরব রইল। পুনরায় আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করায় জবাবে সে বলল: এ ব্যাপারে আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল সর্বাধিক জ্ঞাত। এতে আমার দুই চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগল। আমি দেওয়াল টপকিয়ে ফিরে এলাম। এভাবে আমি একদিন মদীনার গলিতে ঘুরাফেরা করছিলাম। হঠাৎ দেখলাম, একজন সিরীয় বণিক খাদ্য-শস্য নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে মদীনায় এসেছে। সে জানতে চাইল, কা'ব ইবন মালিক কে? বর্ণনাকারী বলেন: তখন লোকেরা আমাকে দেখিয়ে দিল। এমনকি লোকটি আমার কাছে এসে গাস্সানের বাদশাহর একটি চিঠি হস্তান্তর করল। আমি লেখা পড়া জানতাম। আমি তা পাঠ করে তাতে পেলাম যে, "আমাদের কাছে এই মর্মে সংবাদ এসেছে যে, আপনার নবী (ﷺ) আপনার উপর যুলম করেছেন, অথচ আল্লাহ্ আপনাকে ছোট বংশে অথবা নিঃস্ব পরিবারে পাঠাননি। আপনি আমাদের কাছে এলে আমরা আপনার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করব। তিনি বলেন: আমি তা পাঠ করে বললাম, এও আরেকটি বিপদ। আমি তা চুলায় দেয়ার ইচ্ছা করলাম এবং চুলায় দিয়ে তা পুড়িয়ে ফেললাম। এরপর যখন পঞ্চাশ দিনের চল্লিশ দিন অতিক্রান্ত হল এবং ওহীও বন্ধ থাকল, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে একজন দূত আমার কাছে এসে বলল: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আপনাকে এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আপনার স্ত্রী থেকে পৃথক থাকেন। বর্ণনাকারী কা'ব (রা) বলেনঃ আমি কি তাতে তালাক দেব, না কি করব? সে বলল: না, বরং আপনি তার সংশ্রব বর্জন করুন এবং তার কাছে যাবেন না। তিনি (রাসূলুল্লাহ্ ﷺ) আমার অপর দুই সাথীর নিকটও অনুরূপ নির্দেশ দিয়ে দূত পাঠান। কা'ব (রা) বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে বললামঃ এ ব্যাপারে যতদিন আল্লাহর পক্ষ থেকে ফয়সালা না আসে, তুমি তোমার পিত্রালয়ে অবস্থান করবে। কা'ব (রা) বলেন,তখন হিলাল ইবন উমায়্যার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলেন: হিলাল ইবন উমায়্যা (রা) একজন আসহায় বৃদ্ধ লোক, যার কোন খাদেমও নেই। এমতাবস্থায় আমি যদি তাঁর খিদমত করি, তা কি আপনি অপসন্দ করবেন? তিনি (রাসুলুল্লাহ্ ﷺ) বলেন: না, তবে সে যেন তোমার (উপর উপগত) নিকটবর্তী না হয়। সে (হিলাল ইবন উমায়্যা (রা) এর স্ত্রী) বলল: আল্লাহর শপথ! কোন বস্তুর প্রতি তার কোন আকর্ষণ নেই। আল্লাহর শপথ! যে দিন থেকে ঐ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত সে কেবলই কান্নাকাটি করছে। কা'ব (রা) বলেন, এসময় আমার আপনজনের কেউ কেউ আমাকে বললঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিলাল ইবন উমায়্যার স্ত্রীকে যে ভাবে খিদমতের অনুমতি দিয়েছেন, আপনি যদি সেভাবে অনুমতি নিতেন, তবে ভালই হতো। হযরত কা'ব (রা) বলেন, আমি বললামঃ আল্লাহর শপথ! আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করব না। আমি অনুমতি চাইলে তিনি কি বলেন, তা আমি জানি না। তাছাড়া আমি একজন যুবক। হযরত কা'ব (রা) বলেনঃ আমি এভাবে আরো দশদিন কাটালাম। আমাদের সাথে কথাবার্তার নিষেধাজ্ঞা জারী করা থেকে ঐ যাবত পঞ্চাশ দিন পরিপূর্ণ হলো। তিনি বলেন: এ সময় আমি আমার বাড়ীর ছাদে ফজরের সালাত আদায় করলাম। আর তখন আমি ঐ অবস্থায় আমার জীবন সংকীর্ণ মনে করছিলাম এবং পৃথিবীকে আমার নিকট খুব ক্ষুদ্র মনে হচ্ছিল যা আল্লাহ্ কুরআনে উল্লেখ করেছেন। ঐ সময় আমি সিলু'আ নামক স্থানের পাহাড় থেকে এক ব্যক্তিকে উচ্চস্বরে ঘোষণা করতে শুনলাম এবং সে উচ্চকণ্ঠে বলছেঃ হে কা'ব ইবন মালিক! তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। তিনি বলেন, আমি সিজদায় লুটিয়ে পড়লাম এবং জানতে পারলাম যে, আমার বিপদ কেটে গেছে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফজরের সালাত আদায়ের পর আমাদের তাওবা আল্লাহর নিকট গৃহীত হওয়ার সংবাদ ঘোষণা করেন। লোকেরা আমাদের সুসংবাদ দানের জন্য ছুটে এলো, আমার অপর দুই সাথীর সুসংবাদদাতাগণ ছুটে গেল। তখন এক ব্যক্তি ঘোড়া হাকিয়ে আমার কাছে এলো। বনী আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি আমার দিকে পায়ে হেঁটে এলো এবং সে পাহাড়ে উঠে আশ্বারোহী অপেক্ষা উচ্চ স্বরে সুসংবাদ নিয়ে তাড়াতাড়ি আমার কাছে এলো। পরে যখন ঐ লোকটি আমার কাছে স্বশরীরে উপস্থিত হল যার সুসংবাদের শব্দ আমি শুনেছিলাম, তাকে আমি আমার পরিধেয় দু'টি কাপড় দান করে দিলাম। আল্লাহর শপথ। ঐ সময় আমার কাছে দু'টি কাপড় ছাড়া আর কিছুই ছিলনা। আমি দু'টি কাপড় ধার করে পরে নিলাম এবং আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সংগে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। তখন লোকেরা আমার তাওবা কবুল হওয়ার জন্য মুবারকবাদ দিতে দিতে আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বলতে লাগল: তোমার তাওবা আল্লাহ কবুল করেছেন বলে তোমাকে মুবারকবাদ। এভাবে আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম। আমি দেখতে পেলাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) লোকদের মাঝে বসে আছেন। তাঁদের' মধ্যে তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রা) দৌড়ে এসে আমার সাথে মুসাফাহা করেন এবং মুবারকবাদ জানান। আল্লাহর শপথ। তিনি ব্যতীত কোন মুহাজির আমার কাছে এগিয়ে আসেন নি। রাবী (আবদুল্লাহ্) বলেনঃ কা'ব (রা) তালহা (রা) এর এ কথা ভুলেননি। কা'ব (রা) বলেনঃ এরপর যখন আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে সালাম দিলাম, এখন তাঁর চেহারা অত্যুজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি বলেনঃ তুমি তোমার মায়ের উদর থেকে ভূমিষ্ট হওয়ার দিন থেকে এ যাবত সর্বাধিক উত্তম দিনের সুসংবাদ গ্রহণ কর। কা'ব (রা) বলেন, আমি বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ্। এ সুসংবাদ কি আপনার পক্ষ থেকে না আল্লাহর পক্ষ থেকে? তিনি বলেনঃ বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে। রাসূলুল্লাহ যখন কোন ব্যাপারে আনন্দিত হতেন, তখন তাঁর চেহারা এমনভাবে উজ্জ্বল হত, যেন তা চাঁদের টুকরা। তিনি বলেন, আমরা তা বুঝতে পারতাম। কা'ব (রা) বলেনঃ এর পর আমি তাঁর সামনে বসে তখন বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমার তাওবার বিনিময় আমি আমার সম্পদ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জন্য সাদাকা হিসেবে দান করতে চাই। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমার সম্পদের কিছু অংশ তোমার নিজের জন্য রেখে দেওয়া ভাল। তিনি (কা'ব) বলেনঃ তখন আমি খায়বারের যুদ্ধে প্রাপ্ত অংশ রেখে দিলাম। তিনি (কা'ব) বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ্। একমাত্র সত্যবাদিতার কারণেই আল্লাহ্ আমাকে নাজাত দিলেন। আমি আমার তাওবায় এও ঘোষণা করতে চাই যে, আমি আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কখনো সত্য ছাড়া মিথ্যা কথা বলব না, আল্লাহর শপথ। আমাকে সত্যকথা বলার ব্যাপারে আল্লাহ যে পরীক্ষা করেন, যা আমি আল্লাহর রাসুলের নিকট পেশ করেছি, কাউকে এমন পরীক্ষার সম্মুখীন পাইনি। আমি নিশ্চিত আশাবাদী যে, আল্লাহ আমাকে আজীবন হিফাযত করবেন। প্রমাণ স্বরূপ তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা নিম্মোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন:
لَقَدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَحِيمٌ (117) وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنْفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَنْ لَا مَلْجَأَ مِنَ اللَّهِ إِلَّا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ (118) يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ (119)
"আল্লাহ্ অনুগ্রহ পরায়ণ হলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি যারা সংকটকালে তার অনুসরণ করেছিল, এমনকি যখন তাদের একদলের চিত্ত-বৈকল্যের উপক্রম হয়েছিল। পরে আল্লাহ্ তাদের ক্ষমা করেন, তিনি তাদের প্রতি দয়ার্দ্র পরম দয়ালু। আর তিনি ক্ষমা করলেন অপর তিনজনকেও যাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল, যে পর্যন্ত না পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য তা সংকুচিত হয়েছিল এবং তাদের জীবন তাদের জন্য দুর্বিসহ হয়েছিল এবং তারা উপলব্ধি করেছিল যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন অশ্রয় স্থল নেই, পরে তিনি তাদের প্রতি অনুগ্রহপরায়ণ হলেন, যাতে তারা তাওবা করে। আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভূক্ত হও।" (সূরা তাওবা: ১১৭-১১৯)
কা'ব (রা) বলেনঃ আল্লাহর শপথ। ইসলাম গ্রহণের পর আল্লাহ্ যত নি'আমত দান করেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে আমার ব্যাপারে সত্য বিবরণ সম্বলিত যে নি'আমত আমি পেয়েছি, তা আমার কাছে সর্বাধিক বড় নি'আমত। (আমি প্রতীজ্ঞা করেছিলাম) আমি মিথ্যা বলব না এবং ধ্বংস হব না, যেভাবে মিথ্যাবাদীরা ধ্বংস হয়। মিথ্যাবাদীদের মিথ্যা বিবরণের পর তাদের উদ্দেশ্যে যে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, তা এতই ভয়াবহ, যা অন্যদের বেলায় আল্লাহ্ অবর্তীর্ণ করেন নি। যেমন আল্লাহ বলেনঃ
سَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ إِذَا انْقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ لِتُعْرِضُوا عَنْهُمْ فَأَعْرِضُوا عَنْهُمْ إِنَّهُمْ رِجْسٌ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ (95) يَحْلِفُونَ لَكُمْ لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنْ تَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَرْضَى عَنِ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ
"তোমরা তাদের কাছে ফিরে এলে তারা আল্লাহর শপথ করবে, যাতে তোমরা তাদের উপেক্ষা কর। সুতরাং তোমরা তাদের উপেক্ষা করবে; তারা অপবিত্র এবং তাদের কৃতকর্মের ফল স্বরূপ জাহান্নাম তাদের আবসস্থল। তারা তোমাদের নিকট শপথ করবে, যাতে তোমরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হও। তোমরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেও আল্লাহ্ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়ের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন না"। (সূরা তাওবা: ১৫-১৬)
কা'ব (রা) বলেন: যুদ্ধে অনুপস্থিতদের মধ্যে কেবল আমরা তিনজনই সত্যবাদী ছিলাম আর ঐ মিথ্যাবাদীদের পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট যখন তারা শপথ করে ওযর পেশ করল, তখন তিনি তাদের বায়'আত করান এবং তাদের জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের ব্যাপারটি আল্লাহর ফয়সালা না আসা পর্যন্ত পিছিয়ে দেন এবং বলেন: وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا "তাদের তিনজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল"।
আল্লাহ্ তা আলা কুরআন মজীদে خُلِّفُوا শব্দ দ্বারা যাদের উল্লেখ করেছেন, এর দ্বারা অনুপস্থিত সকল ব্যক্তিবর্গ উদ্দেশ্য নয়। কেবলমাত্র আমাদের (তিনজনকে) লক্ষ্য করে বলা হয়েছে। যারা মিথ্যা শপথ করে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে ওযর পেশ করেছিল এবং তিনি তাদের ওযর কবুল করেন, আর আমরা ছিলাম তাদের ব্যতিক্রম। পক্ষান্তরে, তিনি আমাদের তাওবা কবুলের বিষয়টি পিছিয়ে দেন।
বুখারী, মুসলিম নিজ শব্দে, আবু দাউদ, নাসাঈ অনুরূপ ভিন্ন ভিন্ন শব্দযোগে সংক্ষেপে বর্ণনা করেন এবং ইমাম তিরমিযী (র) হাদীসের প্রথম অংশ উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বলেন, হাদীসটি এরূপ-
وری عنالشئ : শ্রোতার কাছে বক্তার উদ্দেশ্য অস্পষ্ট রাখার অন্য পরোক্ষভাবে শব্দ ব্যবহার করা।
المفاز: পানি শূন্য মরুময় এলাকা।
یتمادی بی : দীর্ঘ সূত্রিতা।
تفارط الغزو : যুদ্ধে যাওয়ার সময় পার হয়ে যাওয়া।
المغموض : কাউকে সর্বদা দোষী মনে করা।
ويزول به السراب : দৃষ্টি স্পষ্ট হওয়া।
أوفى على سلع : উপরে ওঠা, সাল'আ মদীনার একটি প্রসিদ্ধ পাহাড়।
أيمم- আমি ইচ্ছা করলাম।
أرجأ أمرنا : আমার ব্যাপারটি পিছিয়ে দিলেন।
فأنا إليها أصعر : আমি ফসল তোলার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলাম।
জাওহারী (র) বলেন: ،في الخد خاصة
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصدْق والترهيب من الْكَذِب
4460- عَن عبد الله بن كَعْب بن مَالك رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت كَعْب بن مَالك يحدث حَدِيثه حِين تخلف عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي غَزْوَة تَبُوك
قَالَ كَعْب بن مَالك لم أَتَخَلَّف عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي غَزْوَة غَزَاهَا قطّ إِلَّا فِي غَزْوَة تَبُوك غير أَنِّي قد تخلفت فِي غَزْوَة بدر وَلم يُعَاتب أحدا تخلف عَنهُ إِنَّمَا خرج رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم والمسلمون يُرِيدُونَ عير قُرَيْش حَتَّى جمع الله بَينهم وَبَين عدوهم على غير ميعاد وَلَقَد شهِدت مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَيْلَة الْعقبَة
حِين تواثقنا على الْإِسْلَام وَمَا أحب أَن لي بهَا مشْهد بدر وَإِن كَانَت بدر أذكر فِي النَّاس مِنْهَا وَكَانَ من خبري حِين تخلفت عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي غَزْوَة تَبُوك أَنِّي لم أكن قطّ أقوى وَلَا أيسر مني حِين تخلفت عَنهُ فِي تِلْكَ الْغَزْوَة وَالله مَا جمعت قبلهَا راحلتين قطّ حَتَّى جمعتهما فِي تِلْكَ الْغَزْوَة وَلم يكن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يُرِيد غَزْوَة إِلَّا ورى بغَيْرهَا حَتَّى كَانَت تِلْكَ الْغَزْوَة فَغَزَاهَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي حر شَدِيد واستقبل سفرا بَعيدا ومفاوز واستقبل عدوا كثيرا فجلا للْمُسلمين أَمرهم لِيَتَأَهَّبُوا أهبة غزوهم وَأخْبرهمْ بوجههم الَّذِي يُرِيد الْمُسلمُونَ مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَكثير لَا يجمعهُمْ كتاب حَافظ يُرِيد بذلك الدِّيوَان
قَالَ كَعْب فَقل رجل يُرِيد أَن يتغيب إِلَّا ظن أَن ذَلِك سيخفى مَا لم ينزل فِيهِ وَحي من الله عز وَجل وغزا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم تِلْكَ الْغَزْوَة حِين طابت الثِّمَار والظلال فَأَنا إِلَيْهَا أصعر فتجهز رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم والمسلمون مَعَه وطفقت أغدو لكَي أتجهز مَعَهم فأرجع وَلم أقض شَيْئا وَأَقُول فِي نَفسِي أَنا قَادر على ذَلِك إِذا أردْت وَلم يزل ذَلِك يتمادى بِي حَتَّى اسْتمرّ بِالنَّاسِ الْجد فَأصْبح رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم غاديا والمسلمون مَعَه وَلم أقض من جهازي شَيْئا ثمَّ غَدَوْت فَرَجَعت وَلم أقض شَيْئا فَلم يزل ذَلِك يتمادى بِي حَتَّى أَسْرعُوا وتفارط الْغَزْو فهممت أَن أرتحل فأدركهم فيا لَيْتَني فعلت ثمَّ لم يقدر لي ذَلِك وطفقت إِذا خرجت فِي النَّاس بعد خُرُوج رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يحزنني أَنِّي لَا أرى لي أُسْوَة إِلَّا رجلا مغموضا عَلَيْهِ فِي النِّفَاق أَو رجلا مِمَّن عذر الله من الضُّعَفَاء وَلم يذكرنِي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حَتَّى بلغ تَبُوك فَقَالَ وَهُوَ جَالس فِي الْقَوْم بتبوك مَا فعل كَعْب بن مَالك فَقَالَ رجل من بني سَلمَة يَا رَسُول الله حَبسه برْدَاهُ وَالنَّظَر فِي عطفيه فَقَالَ لَهُ معَاذ بن جبل بئْسَمَا قلت وَالله يَا رَسُول الله مَا علمنَا عَلَيْهِ إِلَّا خيرا فَسكت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَبَيْنَمَا هُوَ على ذَلِك فَرَأى رجلا مبيضا يَزُول بِهِ السراب فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كن أَبَا خَيْثَمَة فَإِذا هُوَ أَبُو خَيْثَمَة الْأنْصَارِيّ وَهُوَ الَّذِي تصدق بِصَاع التَّمْر حِين لمزه المُنَافِقُونَ
قَالَ كَعْب فَلَمَّا بَلغنِي أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قد توجه قَافِلًا من تَبُوك حضرني بثي فطفقت أَتَذكر الْكَذِب وَأَقُول بِمَا أخرج من سخطه غَدا وأستعين على ذَلِك بِكُل ذِي رَأْي من أَهلِي فَلَمَّا قيل إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قد ظلّ قادما رَاح عني الْبَاطِل حَتَّى عرفت أَنِّي لن أنجو مِنْهُ بِشَيْء أبدا فأجمعت صدقه وصبح رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قادما وَكَانَ إِذا قدم من سفر بَدَأَ بِالْمَسْجِدِ فَرَكَعَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثمَّ جلس للنَّاس فَلَمَّا فعل ذَلِك جَاءَهُ الْمُخَلفُونَ فطفقوا يَعْتَذِرُونَ إِلَيْهِ ويحلفون لَهُ وَكَانُوا بضعَة
وَثَمَانِينَ رجلا فَقبل مِنْهُم علانيتهم وبايعهم واستغفر لَهُم ووكل سرائرهم إِلَى الله عز وَجل حَتَّى جِئْت فَلَمَّا سلمت تَبَسم تَبَسم الْمُغْضب ثمَّ قَالَ تعال فَجئْت أَمْشِي حَتَّى جَلَست بَين يَدَيْهِ فَقَالَ لي مَا خَلفك ألم تكن قد ابتعت ظهرك قلت يَا رَسُول الله إِنِّي وَالله لَو جَلَست عِنْد غَيْرك من أهل الدُّنْيَا لرأيت أَنِّي سأخرج من سخطه بِعُذْر وَلَقَد أَعْطَيْت جدلا وَلَكِنِّي وَالله لقد علمت لَئِن حدثتك الْيَوْم حَدِيث كذب ترْضى بِهِ عني ليوشكن الله أَن يسخطك عَليّ وَلَئِن حدثتك حَدِيث صدق تَجِد عَليّ فِيهِ إِنِّي لأرجو فِيهِ عُقبى الله عز وَجل
وَفِي رِوَايَة عَفْو الله وَالله مَا كَانَ لي من عذر مَا كنت قطّ أقوى وَلَا أيسر مني حِين تخلفت عَنْك
قَالَ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أما هَذَا فقد صدق فَقُمْ حَتَّى يقْضِي الله فِيك فَقُمْت وثار رجال من بني سَلمَة فَاتبعُوني فَقَالُوا وَالله مَا علمناك أذنبت ذَنبا قبل هَذَا لقد عجزت فِي أَن لَا تكون اعتذرت إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بِمَا اعتذر إِلَيْهِ الْمُخَلفُونَ فقد كَانَ كافيك ذَنْبك اسْتِغْفَار رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَك قَالَ فوَاللَّه مَا زَالُوا يؤنبونني حَتَّى أردْت أَن أرجع إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فأكذب نَفسِي قَالَ ثمَّ قلت لَهُم هَل لَقِي هَذَا معي أحد قَالُوا نعم لقِيه مَعَك رجلَانِ قَالَا مثل مَا قلت وَقيل لَهما مَا قيل لَك قَالَ قلت من هما قَالُوا مرَارَة بن ربيعَة العامري وهلال بن أُميَّة الوَاقِفِي
قَالَ فَذكرُوا لي رجلَيْنِ صالحين قد شَهدا بَدْرًا فيهمَا أُسْوَة قَالَ فمضيت حَتَّى ذكروهما لي قَالَ وَنهى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم الْمُسلمين عَن كلامنا أَيهَا الثَّلَاثَة من بَين من تخلف عَنهُ
قَالَ فَاجْتَنَبَنَا النَّاس أَو قَالَ تغيرُوا لنا حَتَّى تنكرت لي فِي نَفسِي الأَرْض فَمَا هِيَ بِالْأَرْضِ الَّتِي أعرف فلبثنا على ذَلِك خمسين لَيْلَة فَأَما صَاحِبَايَ فاستكانا وقعدا فِي بيوتهما يَبْكِيَانِ وَأما أَنا فَكنت أشب الْقَوْم وأجلدهم فَكنت أخرج فَأشْهد الصَّلَاة وأطوف فِي الْأَسْوَاق فَلَا يكلمني أحد وَآتِي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَهُوَ فِي مَجْلِسه بعد الصَّلَاة فَأسلم فَأَقُول فِي نَفسِي هَل حرك شَفَتَيْه برد السَّلَام أم لَا ثمَّ أُصَلِّي قَرِيبا مِنْهُ وأسارقه النّظر فَإِذا أَقبلت على صَلَاتي نظر إِلَيّ فَإِذا الْتفت نَحوه أعرض عني حَتَّى إِذا طَال عَليّ ذَلِك من جفوة الْمُسلمين مشيت حَتَّى تسورت جِدَار حَائِط أبي قَتَادَة وَهُوَ ابْن عمي وَأحب النَّاس إِلَيّ فَسلمت عَلَيْهِ فوَاللَّه مَا رد عَليّ السَّلَام فَقلت يَا أَبَا قَتَادَة أنْشدك بِاللَّه هَل تعلمن أَنِّي أحب الله وَرَسُوله قَالَ فَسكت فعدت فناشدته فَسكت فعدت فناشدته فَقَالَ الله وَرَسُوله أعلم فَفَاضَتْ عَيْنَايَ وتوليت حَتَّى تسورت الْجِدَار فَبينا أَنا أَمْشِي فِي سوق الْمَدِينَة إِذا نبطي من أَنْبَاط
أهل الشَّام مِمَّن قدم بِطَعَام يَبِيعهُ بِالْمَدِينَةِ يَقُول من يدل على كَعْب بن مَالك قَالَ فَطَفِقَ النَّاس يشيرون لَهُ إِلَيّ حَتَّى جَاءَنِي فَدفع إِلَيّ كتابا من ملك غَسَّان وَكنت كَاتبا فَقَرَأته فَإِذا فِيهِ أما بعد فَإِنَّهُ قد بلغنَا أَن صَاحبك قد جفاك وَلم يجعلك الله بدار هوان وَلَا مضيعة فَألْحق بِنَا نواسك
قَالَ فَقلت حِين قرأتها وَهَذِه أَيْضا من الْبلَاء فَتَيَمَّمت بهَا التَّنور فسجرتها حَتَّى إِذا مَضَت أَرْبَعُونَ من الْخمسين واستلبث الْوَحْي وَإِذا رَسُول رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يأتيني فَقَالَ إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَأْمُرك أَن تَعْتَزِل امْرَأَتك
قَالَ فَقلت أطلقها أم مَاذَا أفعل قَالَ لَا
بل اعتزلها فَلَا تَقربهَا وَأرْسل إِلَى صَاحِبي بِمثل ذَلِك قَالَ فَقلت لامرأتي الحقي بأهلك فكوني عِنْدهم حَتَّى يقْضِي الله فِي هَذَا الْأَمر
قَالَ فَجَاءَت امْرَأَة هِلَال بن أُميَّة رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَت يَا رَسُول الله إِن هِلَال بن أُميَّة شيخ ضائع لَيْسَ لَهُ خَادِم فَهَل تكره أَن أخدمه قَالَ لَا وَلَكِن لَا يقربنك
قَالَت إِنَّه وَالله مَا بِهِ حَرَكَة إِلَى شَيْء وَوَاللَّه مَا زَالَ يبكي مُنْذُ كَانَ من أمره مَا كَانَ إِلَى يَوْمه هَذَا
قَالَ فَقَالَ لي بعض أَهلِي لَو اسْتَأْذَنت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فقد أذن لامْرَأَة هِلَال بن أُميَّة أَن تخدمه
قَالَ فَقلت وَالله لَا أَسْتَأْذن فِيهَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَمَا يدريني مَا يَقُول رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا استأذنته فِيهَا وَأَنا رجل شَاب قَالَ فَلَبثت بذلك عشر لَيَال فكمل لنا خَمْسُونَ لَيْلَة من حِين نهى عَن كلامنا
قَالَ ثمَّ صليت صَلَاة الصُّبْح صباح خمسين لَيْلَة على ظهر بَيت من بُيُوتنَا فَبينا أَنا جَالس على الْحَالة الَّتِي ذكر الله عز وَجل منا قد ضَاقَتْ عَليّ نَفسِي وَضَاقَتْ عَليّ الأَرْض بِمَا رَحبَتْ سَمِعت صَوت صارخ أوفى على سلع يَقُول بِأَعْلَى صَوته يَا كَعْب بن مَالك أبشر قَالَ فَخَرَرْت سَاجِدا وَعلمت أَن قد جَاءَ فرج قَالَ وَأذن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم النَّاس بتوبة الله علينا حِين صلى صَلَاة الْفجْر فَذهب النَّاس يبشروننا فَذهب قبل صَاحِبي مبشرون وركض رجل إِلَيّ فرسا وسعى ساع من أسلم من قبلي وأوفى على الْجَبَل فَكَانَ الصَّوْت أسْرع من الْفرس فَلَمَّا جَاءَنِي الَّذِي سَمِعت صَوته يبشرني نزعت لَهُ ثوبي فكسوتهما إِيَّاه ببشارته وَالله مَا أملك غَيرهمَا يَوْمئِذٍ واستعرت ثَوْبَيْنِ فلبستهما وَانْطَلَقت أيمم رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فتلقاني النَّاس فوجا فوجا يهنئوني بِالتَّوْبَةِ وَيَقُولُونَ وليهنك تَوْبَة الله عَلَيْك حَتَّى دَخَلنَا الْمَسْجِد فَإِذا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حوله النَّاس فَقَامَ طَلْحَة بن عبيد الله يُهَرْوِل حَتَّى صَافَحَنِي وَهَنأَنِي وَالله مَا قَامَ إِلَيّ رجل من الْمُهَاجِرين غَيره
قَالَ فَكَانَ كَعْب لَا ينساها لطلْحَة
قَالَ كَعْب فَلَمَّا سلمت على رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ وَهُوَ يَبْرق وَجهه منالسرُور قَالَ أبشر بِخَير يَوْم مر عَلَيْك مُنْذُ وَلدتك أمك
قَالَ فَقلت أَمن عنْدك يَا رَسُول الله أم من عِنْد الله قَالَ بل من عِنْد الله
وَكَانَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا سر استنار وَجهه حَتَّى كَأَن وَجهه قِطْعَة قمر قَالَ وَكُنَّا نَعْرِف ذَلِك
قَالَ فَلَمَّا جَلَست بَين يَدَيْهِ قلت يَا رَسُول الله إِن من تَوْبَتِي أَن أَنْخَلِع من مَالِي صَدَقَة إِلَى الله وَإِلَى رَسُوله فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أمسك عَلَيْك بعض مَالك فَهُوَ خير لَك
قَالَ فَقلت فَإِنِّي أمسك سهمي الَّذِي بِخَيْبَر
قَالَ وَقلت يَا رَسُول الله إِنَّمَا أنجاني الله بِالصّدقِ وَإِن من تَوْبَتِي أَن لَا أحدث إِلَّا صدقا مَا بقيت قَالَ فوَاللَّه مَا علمت أحدا أبلاه الله فِي صدق الحَدِيث مُنْذُ ذكرت ذَلِك لرَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِلَى يومي هَذَا وَإِنِّي لأرجو أَن يحفظني الله فِيمَا بَقِي
قَالَ فَأنْزل الله عز وَجل لقد تَابَ الله على النَّبِي والمهاجرين وَالْأَنْصَار الَّذين اتَّبعُوهُ فِي سَاعَة الْعسرَة حَتَّى بلغ إِنَّه بهم رؤوف رَحِيم
وعَلى الثَّلَاثَة الَّذين خلفوا حَتَّى إِذا ضَاقَتْ عَلَيْهِم الأَرْض بِمَا رَحبَتْ حَتَّى بلغ اتَّقوا الله وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقين التَّوْبَة 711 911
قَالَ كَعْب وَالله مَا أنعم الله عَليّ من نعْمَة قطّ بعد إِذْ هَدَانِي الله لِلْإِسْلَامِ أعظم فِي نَفسِي من صدقي لرَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَن لَا أكون كَذبته فَأهْلك كَمَا هلك الَّذين كذبُوا إِن الله عز وَجل قَالَ للَّذين كذبُوا حِين نزل الْوَحْي شَرّ مَا قَالَ لأحد فَقَالَ سيحلفون بِاللَّه لكم إِذا انقلبتم إِلَيْهِم لتعرضوا عَنْهُم فأعرضوا عَنْهُم إِنَّهُم رِجْس ومأواهم جَهَنَّم جَزَاء بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ يحلفُونَ لكم لترضوا عَنْهُم فَإِن ترضوا عَنْهُم فَإِن الله لَا يرضى عَن الْقَوْم الْفَاسِقين التَّوْبَة 59 69 قَالَ كَعْب كُنَّا خلفنا أَيهَا الثَّلَاثَة عَن أَمر أُولَئِكَ الَّذين قبل مِنْهُم رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حِين حلفوا لَهُ فبايعهم واستغفر لَهُم وأرجأ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أمرنَا حَتَّى قضى الله تَعَالَى فِيهِ بذلك
قَالَ الله عز وَجل وعَلى الثَّلَاثَة الَّذين خلفوا وَلَيْسَ الَّذِي ذكره مَا خلفنا تخلفنا عَن الْغَزْو وَإِنَّمَا هُوَ تخليفه إيانا وإرجاؤه أمرنَا عَمَّن حلف لَهُ وَاعْتذر إِلَيْهِ فَقبل مِنْهُ
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَاللَّفْظ لَهُ وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ بِنَحْوِهِ مفرقا مُخْتَصرا وروى التِّرْمِذِيّ قِطْعَة من أَوله ثمَّ قَالَ وَذكر الحَدِيث
ورى عَن الشَّيْء إِذا ذكره بِلَفْظ يدل عَلَيْهِ أَو على بعضه دلَالَة خُفْيَة عِنْد السَّامعالمفاز والمفازة هِيَ الفلاة لَا مَاء بهَا
يتمادى بِي أَي يَتَطَاوَل ويتأخر
وَقَوله تفارط الْغَزْو أَي فَاتَ وقته من أَرَادَهُ وَبعد عَلَيْهِ إِدْرَاكه
المغموض بالغين وَالضَّاد المعجمتين هُوَ الْمَعِيب الْمشَار إِلَيْهِ بِالْعَيْبِ
وَيَزُول بِهِ السراب أَي يظْهر شخصه خيالا فِيهِ
أوفى على سلع أَي طلع عَلَيْهِ وسلع جبل مَعْرُوف فِي أَرض الْمَدِينَة
أيمم أَي أقصد
أرجأ أمرنَا أَخّرهُ والإرجاء التَّأْخِير
وَقَوله فَأَنا إِلَيْهَا أصعر بِفَتْح الْهمزَة وَالْعين الْمُهْملَة جَمِيعًا وَسُكُون الصَّاد الْمُهْملَة أَي أميل إِلَى الْبَقَاء فِيهَا وأشتهي ذَلِك والصعر الْميل وَقَالَ الْجَوْهَرِي فِي الخد خَاصَّة
قَالَ كَعْب بن مَالك لم أَتَخَلَّف عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي غَزْوَة غَزَاهَا قطّ إِلَّا فِي غَزْوَة تَبُوك غير أَنِّي قد تخلفت فِي غَزْوَة بدر وَلم يُعَاتب أحدا تخلف عَنهُ إِنَّمَا خرج رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم والمسلمون يُرِيدُونَ عير قُرَيْش حَتَّى جمع الله بَينهم وَبَين عدوهم على غير ميعاد وَلَقَد شهِدت مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَيْلَة الْعقبَة
حِين تواثقنا على الْإِسْلَام وَمَا أحب أَن لي بهَا مشْهد بدر وَإِن كَانَت بدر أذكر فِي النَّاس مِنْهَا وَكَانَ من خبري حِين تخلفت عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي غَزْوَة تَبُوك أَنِّي لم أكن قطّ أقوى وَلَا أيسر مني حِين تخلفت عَنهُ فِي تِلْكَ الْغَزْوَة وَالله مَا جمعت قبلهَا راحلتين قطّ حَتَّى جمعتهما فِي تِلْكَ الْغَزْوَة وَلم يكن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يُرِيد غَزْوَة إِلَّا ورى بغَيْرهَا حَتَّى كَانَت تِلْكَ الْغَزْوَة فَغَزَاهَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي حر شَدِيد واستقبل سفرا بَعيدا ومفاوز واستقبل عدوا كثيرا فجلا للْمُسلمين أَمرهم لِيَتَأَهَّبُوا أهبة غزوهم وَأخْبرهمْ بوجههم الَّذِي يُرِيد الْمُسلمُونَ مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَكثير لَا يجمعهُمْ كتاب حَافظ يُرِيد بذلك الدِّيوَان
قَالَ كَعْب فَقل رجل يُرِيد أَن يتغيب إِلَّا ظن أَن ذَلِك سيخفى مَا لم ينزل فِيهِ وَحي من الله عز وَجل وغزا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم تِلْكَ الْغَزْوَة حِين طابت الثِّمَار والظلال فَأَنا إِلَيْهَا أصعر فتجهز رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم والمسلمون مَعَه وطفقت أغدو لكَي أتجهز مَعَهم فأرجع وَلم أقض شَيْئا وَأَقُول فِي نَفسِي أَنا قَادر على ذَلِك إِذا أردْت وَلم يزل ذَلِك يتمادى بِي حَتَّى اسْتمرّ بِالنَّاسِ الْجد فَأصْبح رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم غاديا والمسلمون مَعَه وَلم أقض من جهازي شَيْئا ثمَّ غَدَوْت فَرَجَعت وَلم أقض شَيْئا فَلم يزل ذَلِك يتمادى بِي حَتَّى أَسْرعُوا وتفارط الْغَزْو فهممت أَن أرتحل فأدركهم فيا لَيْتَني فعلت ثمَّ لم يقدر لي ذَلِك وطفقت إِذا خرجت فِي النَّاس بعد خُرُوج رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يحزنني أَنِّي لَا أرى لي أُسْوَة إِلَّا رجلا مغموضا عَلَيْهِ فِي النِّفَاق أَو رجلا مِمَّن عذر الله من الضُّعَفَاء وَلم يذكرنِي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حَتَّى بلغ تَبُوك فَقَالَ وَهُوَ جَالس فِي الْقَوْم بتبوك مَا فعل كَعْب بن مَالك فَقَالَ رجل من بني سَلمَة يَا رَسُول الله حَبسه برْدَاهُ وَالنَّظَر فِي عطفيه فَقَالَ لَهُ معَاذ بن جبل بئْسَمَا قلت وَالله يَا رَسُول الله مَا علمنَا عَلَيْهِ إِلَّا خيرا فَسكت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَبَيْنَمَا هُوَ على ذَلِك فَرَأى رجلا مبيضا يَزُول بِهِ السراب فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كن أَبَا خَيْثَمَة فَإِذا هُوَ أَبُو خَيْثَمَة الْأنْصَارِيّ وَهُوَ الَّذِي تصدق بِصَاع التَّمْر حِين لمزه المُنَافِقُونَ
قَالَ كَعْب فَلَمَّا بَلغنِي أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قد توجه قَافِلًا من تَبُوك حضرني بثي فطفقت أَتَذكر الْكَذِب وَأَقُول بِمَا أخرج من سخطه غَدا وأستعين على ذَلِك بِكُل ذِي رَأْي من أَهلِي فَلَمَّا قيل إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قد ظلّ قادما رَاح عني الْبَاطِل حَتَّى عرفت أَنِّي لن أنجو مِنْهُ بِشَيْء أبدا فأجمعت صدقه وصبح رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قادما وَكَانَ إِذا قدم من سفر بَدَأَ بِالْمَسْجِدِ فَرَكَعَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثمَّ جلس للنَّاس فَلَمَّا فعل ذَلِك جَاءَهُ الْمُخَلفُونَ فطفقوا يَعْتَذِرُونَ إِلَيْهِ ويحلفون لَهُ وَكَانُوا بضعَة
وَثَمَانِينَ رجلا فَقبل مِنْهُم علانيتهم وبايعهم واستغفر لَهُم ووكل سرائرهم إِلَى الله عز وَجل حَتَّى جِئْت فَلَمَّا سلمت تَبَسم تَبَسم الْمُغْضب ثمَّ قَالَ تعال فَجئْت أَمْشِي حَتَّى جَلَست بَين يَدَيْهِ فَقَالَ لي مَا خَلفك ألم تكن قد ابتعت ظهرك قلت يَا رَسُول الله إِنِّي وَالله لَو جَلَست عِنْد غَيْرك من أهل الدُّنْيَا لرأيت أَنِّي سأخرج من سخطه بِعُذْر وَلَقَد أَعْطَيْت جدلا وَلَكِنِّي وَالله لقد علمت لَئِن حدثتك الْيَوْم حَدِيث كذب ترْضى بِهِ عني ليوشكن الله أَن يسخطك عَليّ وَلَئِن حدثتك حَدِيث صدق تَجِد عَليّ فِيهِ إِنِّي لأرجو فِيهِ عُقبى الله عز وَجل
وَفِي رِوَايَة عَفْو الله وَالله مَا كَانَ لي من عذر مَا كنت قطّ أقوى وَلَا أيسر مني حِين تخلفت عَنْك
قَالَ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أما هَذَا فقد صدق فَقُمْ حَتَّى يقْضِي الله فِيك فَقُمْت وثار رجال من بني سَلمَة فَاتبعُوني فَقَالُوا وَالله مَا علمناك أذنبت ذَنبا قبل هَذَا لقد عجزت فِي أَن لَا تكون اعتذرت إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بِمَا اعتذر إِلَيْهِ الْمُخَلفُونَ فقد كَانَ كافيك ذَنْبك اسْتِغْفَار رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَك قَالَ فوَاللَّه مَا زَالُوا يؤنبونني حَتَّى أردْت أَن أرجع إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فأكذب نَفسِي قَالَ ثمَّ قلت لَهُم هَل لَقِي هَذَا معي أحد قَالُوا نعم لقِيه مَعَك رجلَانِ قَالَا مثل مَا قلت وَقيل لَهما مَا قيل لَك قَالَ قلت من هما قَالُوا مرَارَة بن ربيعَة العامري وهلال بن أُميَّة الوَاقِفِي
قَالَ فَذكرُوا لي رجلَيْنِ صالحين قد شَهدا بَدْرًا فيهمَا أُسْوَة قَالَ فمضيت حَتَّى ذكروهما لي قَالَ وَنهى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم الْمُسلمين عَن كلامنا أَيهَا الثَّلَاثَة من بَين من تخلف عَنهُ
قَالَ فَاجْتَنَبَنَا النَّاس أَو قَالَ تغيرُوا لنا حَتَّى تنكرت لي فِي نَفسِي الأَرْض فَمَا هِيَ بِالْأَرْضِ الَّتِي أعرف فلبثنا على ذَلِك خمسين لَيْلَة فَأَما صَاحِبَايَ فاستكانا وقعدا فِي بيوتهما يَبْكِيَانِ وَأما أَنا فَكنت أشب الْقَوْم وأجلدهم فَكنت أخرج فَأشْهد الصَّلَاة وأطوف فِي الْأَسْوَاق فَلَا يكلمني أحد وَآتِي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَهُوَ فِي مَجْلِسه بعد الصَّلَاة فَأسلم فَأَقُول فِي نَفسِي هَل حرك شَفَتَيْه برد السَّلَام أم لَا ثمَّ أُصَلِّي قَرِيبا مِنْهُ وأسارقه النّظر فَإِذا أَقبلت على صَلَاتي نظر إِلَيّ فَإِذا الْتفت نَحوه أعرض عني حَتَّى إِذا طَال عَليّ ذَلِك من جفوة الْمُسلمين مشيت حَتَّى تسورت جِدَار حَائِط أبي قَتَادَة وَهُوَ ابْن عمي وَأحب النَّاس إِلَيّ فَسلمت عَلَيْهِ فوَاللَّه مَا رد عَليّ السَّلَام فَقلت يَا أَبَا قَتَادَة أنْشدك بِاللَّه هَل تعلمن أَنِّي أحب الله وَرَسُوله قَالَ فَسكت فعدت فناشدته فَسكت فعدت فناشدته فَقَالَ الله وَرَسُوله أعلم فَفَاضَتْ عَيْنَايَ وتوليت حَتَّى تسورت الْجِدَار فَبينا أَنا أَمْشِي فِي سوق الْمَدِينَة إِذا نبطي من أَنْبَاط
أهل الشَّام مِمَّن قدم بِطَعَام يَبِيعهُ بِالْمَدِينَةِ يَقُول من يدل على كَعْب بن مَالك قَالَ فَطَفِقَ النَّاس يشيرون لَهُ إِلَيّ حَتَّى جَاءَنِي فَدفع إِلَيّ كتابا من ملك غَسَّان وَكنت كَاتبا فَقَرَأته فَإِذا فِيهِ أما بعد فَإِنَّهُ قد بلغنَا أَن صَاحبك قد جفاك وَلم يجعلك الله بدار هوان وَلَا مضيعة فَألْحق بِنَا نواسك
قَالَ فَقلت حِين قرأتها وَهَذِه أَيْضا من الْبلَاء فَتَيَمَّمت بهَا التَّنور فسجرتها حَتَّى إِذا مَضَت أَرْبَعُونَ من الْخمسين واستلبث الْوَحْي وَإِذا رَسُول رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يأتيني فَقَالَ إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَأْمُرك أَن تَعْتَزِل امْرَأَتك
قَالَ فَقلت أطلقها أم مَاذَا أفعل قَالَ لَا
بل اعتزلها فَلَا تَقربهَا وَأرْسل إِلَى صَاحِبي بِمثل ذَلِك قَالَ فَقلت لامرأتي الحقي بأهلك فكوني عِنْدهم حَتَّى يقْضِي الله فِي هَذَا الْأَمر
قَالَ فَجَاءَت امْرَأَة هِلَال بن أُميَّة رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَت يَا رَسُول الله إِن هِلَال بن أُميَّة شيخ ضائع لَيْسَ لَهُ خَادِم فَهَل تكره أَن أخدمه قَالَ لَا وَلَكِن لَا يقربنك
قَالَت إِنَّه وَالله مَا بِهِ حَرَكَة إِلَى شَيْء وَوَاللَّه مَا زَالَ يبكي مُنْذُ كَانَ من أمره مَا كَانَ إِلَى يَوْمه هَذَا
قَالَ فَقَالَ لي بعض أَهلِي لَو اسْتَأْذَنت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فقد أذن لامْرَأَة هِلَال بن أُميَّة أَن تخدمه
قَالَ فَقلت وَالله لَا أَسْتَأْذن فِيهَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَمَا يدريني مَا يَقُول رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا استأذنته فِيهَا وَأَنا رجل شَاب قَالَ فَلَبثت بذلك عشر لَيَال فكمل لنا خَمْسُونَ لَيْلَة من حِين نهى عَن كلامنا
قَالَ ثمَّ صليت صَلَاة الصُّبْح صباح خمسين لَيْلَة على ظهر بَيت من بُيُوتنَا فَبينا أَنا جَالس على الْحَالة الَّتِي ذكر الله عز وَجل منا قد ضَاقَتْ عَليّ نَفسِي وَضَاقَتْ عَليّ الأَرْض بِمَا رَحبَتْ سَمِعت صَوت صارخ أوفى على سلع يَقُول بِأَعْلَى صَوته يَا كَعْب بن مَالك أبشر قَالَ فَخَرَرْت سَاجِدا وَعلمت أَن قد جَاءَ فرج قَالَ وَأذن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم النَّاس بتوبة الله علينا حِين صلى صَلَاة الْفجْر فَذهب النَّاس يبشروننا فَذهب قبل صَاحِبي مبشرون وركض رجل إِلَيّ فرسا وسعى ساع من أسلم من قبلي وأوفى على الْجَبَل فَكَانَ الصَّوْت أسْرع من الْفرس فَلَمَّا جَاءَنِي الَّذِي سَمِعت صَوته يبشرني نزعت لَهُ ثوبي فكسوتهما إِيَّاه ببشارته وَالله مَا أملك غَيرهمَا يَوْمئِذٍ واستعرت ثَوْبَيْنِ فلبستهما وَانْطَلَقت أيمم رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فتلقاني النَّاس فوجا فوجا يهنئوني بِالتَّوْبَةِ وَيَقُولُونَ وليهنك تَوْبَة الله عَلَيْك حَتَّى دَخَلنَا الْمَسْجِد فَإِذا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حوله النَّاس فَقَامَ طَلْحَة بن عبيد الله يُهَرْوِل حَتَّى صَافَحَنِي وَهَنأَنِي وَالله مَا قَامَ إِلَيّ رجل من الْمُهَاجِرين غَيره
قَالَ فَكَانَ كَعْب لَا ينساها لطلْحَة
قَالَ كَعْب فَلَمَّا سلمت على رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ وَهُوَ يَبْرق وَجهه منالسرُور قَالَ أبشر بِخَير يَوْم مر عَلَيْك مُنْذُ وَلدتك أمك
قَالَ فَقلت أَمن عنْدك يَا رَسُول الله أم من عِنْد الله قَالَ بل من عِنْد الله
وَكَانَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا سر استنار وَجهه حَتَّى كَأَن وَجهه قِطْعَة قمر قَالَ وَكُنَّا نَعْرِف ذَلِك
قَالَ فَلَمَّا جَلَست بَين يَدَيْهِ قلت يَا رَسُول الله إِن من تَوْبَتِي أَن أَنْخَلِع من مَالِي صَدَقَة إِلَى الله وَإِلَى رَسُوله فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أمسك عَلَيْك بعض مَالك فَهُوَ خير لَك
قَالَ فَقلت فَإِنِّي أمسك سهمي الَّذِي بِخَيْبَر
قَالَ وَقلت يَا رَسُول الله إِنَّمَا أنجاني الله بِالصّدقِ وَإِن من تَوْبَتِي أَن لَا أحدث إِلَّا صدقا مَا بقيت قَالَ فوَاللَّه مَا علمت أحدا أبلاه الله فِي صدق الحَدِيث مُنْذُ ذكرت ذَلِك لرَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِلَى يومي هَذَا وَإِنِّي لأرجو أَن يحفظني الله فِيمَا بَقِي
قَالَ فَأنْزل الله عز وَجل لقد تَابَ الله على النَّبِي والمهاجرين وَالْأَنْصَار الَّذين اتَّبعُوهُ فِي سَاعَة الْعسرَة حَتَّى بلغ إِنَّه بهم رؤوف رَحِيم
وعَلى الثَّلَاثَة الَّذين خلفوا حَتَّى إِذا ضَاقَتْ عَلَيْهِم الأَرْض بِمَا رَحبَتْ حَتَّى بلغ اتَّقوا الله وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقين التَّوْبَة 711 911
قَالَ كَعْب وَالله مَا أنعم الله عَليّ من نعْمَة قطّ بعد إِذْ هَدَانِي الله لِلْإِسْلَامِ أعظم فِي نَفسِي من صدقي لرَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَن لَا أكون كَذبته فَأهْلك كَمَا هلك الَّذين كذبُوا إِن الله عز وَجل قَالَ للَّذين كذبُوا حِين نزل الْوَحْي شَرّ مَا قَالَ لأحد فَقَالَ سيحلفون بِاللَّه لكم إِذا انقلبتم إِلَيْهِم لتعرضوا عَنْهُم فأعرضوا عَنْهُم إِنَّهُم رِجْس ومأواهم جَهَنَّم جَزَاء بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ يحلفُونَ لكم لترضوا عَنْهُم فَإِن ترضوا عَنْهُم فَإِن الله لَا يرضى عَن الْقَوْم الْفَاسِقين التَّوْبَة 59 69 قَالَ كَعْب كُنَّا خلفنا أَيهَا الثَّلَاثَة عَن أَمر أُولَئِكَ الَّذين قبل مِنْهُم رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حِين حلفوا لَهُ فبايعهم واستغفر لَهُم وأرجأ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أمرنَا حَتَّى قضى الله تَعَالَى فِيهِ بذلك
قَالَ الله عز وَجل وعَلى الثَّلَاثَة الَّذين خلفوا وَلَيْسَ الَّذِي ذكره مَا خلفنا تخلفنا عَن الْغَزْو وَإِنَّمَا هُوَ تخليفه إيانا وإرجاؤه أمرنَا عَمَّن حلف لَهُ وَاعْتذر إِلَيْهِ فَقبل مِنْهُ
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَاللَّفْظ لَهُ وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ بِنَحْوِهِ مفرقا مُخْتَصرا وروى التِّرْمِذِيّ قِطْعَة من أَوله ثمَّ قَالَ وَذكر الحَدِيث
ورى عَن الشَّيْء إِذا ذكره بِلَفْظ يدل عَلَيْهِ أَو على بعضه دلَالَة خُفْيَة عِنْد السَّامعالمفاز والمفازة هِيَ الفلاة لَا مَاء بهَا
يتمادى بِي أَي يَتَطَاوَل ويتأخر
وَقَوله تفارط الْغَزْو أَي فَاتَ وقته من أَرَادَهُ وَبعد عَلَيْهِ إِدْرَاكه
المغموض بالغين وَالضَّاد المعجمتين هُوَ الْمَعِيب الْمشَار إِلَيْهِ بِالْعَيْبِ
وَيَزُول بِهِ السراب أَي يظْهر شخصه خيالا فِيهِ
أوفى على سلع أَي طلع عَلَيْهِ وسلع جبل مَعْرُوف فِي أَرض الْمَدِينَة
أيمم أَي أقصد
أرجأ أمرنَا أَخّرهُ والإرجاء التَّأْخِير
وَقَوله فَأَنا إِلَيْهَا أصعر بِفَتْح الْهمزَة وَالْعين الْمُهْملَة جَمِيعًا وَسُكُون الصَّاد الْمُهْملَة أَي أميل إِلَى الْبَقَاء فِيهَا وأشتهي ذَلِك والصعر الْميل وَقَالَ الْجَوْهَرِي فِي الخد خَاصَّة
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এটি তাওবা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীছ। এতে হযরত কা'ব ইবনে মালিক রাযি.-এর নিজ জবানীতে তার তাওবা কবুলের বৃত্তান্ত বিবৃত হয়েছে। তাঁর এ ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ও শিক্ষাপ্রদ।
তাবুকের যুদ্ধ
তাবুকের যুদ্ধাভিযান সংঘটিত হয়েছিল হিজরী ৯ সালের রজব মাসে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ পেলেন রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস মদিনা মুনাওয়ারায় এক জোরদার হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনকি সে শাম ও আরবের সীমান্ত এলাকায় এক বিশাল বাহিনীও মোতায়েন করেছে। যদিও সাহাবায়ে কিরান এ যাবতকাল বহু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, কিন্তু তার সবক'টিই হয়েছিল জাযিরাতুল আরবের ভেতরে। কোনও বহিঃশক্তির সাথে এ পর্যন্ত মোকাবেলা হয়নি। এবার তারা সেই পরীক্ষার সম্মুখীন। তাও দুনিয়ার এক বৃহৎ শক্তির সাথে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিরাক্লিয়াসের আক্রমণের অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই সামনে অগ্রসর হয়ে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিলেন। সুতরাং তিনি সকল মুসলিমকে এ যুদ্ধে শরীক হওয়ার হুকুম দিলেন।
মুসলিমদের পক্ষে এটা ছিল এক অগ্নিপরীক্ষা। কেননা দীর্ঘ ১০ বছর উপর্যুপরি যুদ্ধ শেষে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পাওয়া গিয়েছিল। এই যুদ্ধে যাওয়া মানে সেই সুযোগটিও হারানো। দ্বিতীয়ত সময়টা ছিল এমন, যখন বাগানের খেজুর পাকছিল, যেই খেজুরের উপর মদীনাবাসীদের সারা বছরের জীবিকা নির্ভরশীল ছিল। তৃতীয়ত ছিল প্রচণ্ড গরমের মৌসুম। যেন আকাশ থেকে আগুন ঝরছে। ভূমি থেকেও যেন আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে। তদুপরি ছিল তাবুকের সুদীর্ঘ সফর। মদীনা হতে তাবুক প্রায় ৮০০ মাইল দূরে অবস্থিত। দুর্গম মরুভূমির পথ। বাহনের সংখ্যাও খুব কম। যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, সেই বৃহত্তম শক্তির রণকৌশল সম্পর্কেও মুসলিমদের জানাশোনা ছিল না। কিন্তু এতকিছু সংকট সত্ত্বেও শাহাদাতের প্রেরণায় উজ্জীবিত সাহাবীগণ এ অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। তারা দলে দলে এসে নাম লেখালেন। যথাসাধ্য প্রস্তুতি শেষে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ত্রিশ হাজার সাহাবায়ে কিরামের এক বাহিনী নিয়ে তাবুকের উদ্দেশে বের হয়ে পড়লেন। আল্লাহ তা'আলা হিরাক্লিয়াস ও তার বাহিনীর উপর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ দুঃসাহসিক অভিযানের এমন প্রভাব ফেললেন যে, তারা কালবিলম্ব না করে ফেরত চলে গেল। ফলে যুদ্ধ আর হল না। তবে যুদ্ধ না হলেও এ অভিযানে ইসলাম ও মুসলিম বাহিনীর বিজয় ঠিকই অর্জিত হল। কেননা একে তো সেকালের বৃহত্তম শক্তির উপর ইসলামী শক্তির প্রভাব পড়েছিল এবং তারা ইসলাম ও তার অনুসারীদের আমলে নিতে বাধ্য হয়েছিল। দ্বিতীয়ত তাদের ফিরে যাওয়ায় আশপাশের ক্ষুদ্র রাজন্যবর্গ ক্রমবর্ধমান ইসলামী শক্তির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিল। তাই তারা কালবিলম্ব না করে তাবুকে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংগে সাক্ষাত করে এবং তাঁর সংগে সন্ধি স্থাপন করে। তাছাড়া এ অভিযানের মাধ্যমেই কে খাঁটি মুসলিম এবং কে মুনাফিক তা ভালোভাবে পরিষ্কার হয়ে যায়, যা কুরআন মাজীদের সূরা তাওবায় বিস্তারিতভাবে বিবৃত হয়েছে।
মুনাফিকদের অধিকাংশই এ যুদ্ধে যোগদান থেকে বিরত থাকে। তাদের কিছুসংখ্যক দুরভিসন্ধীমূলকভাবে এতে শরীক হয়েছিল। তিনজন খাঁটি মুসলিমেরও এতে যোগদান করা হয়নি। তাদের দ্বারা গড়িমসি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এ গড়িমসির দরুন তারা যারপরনাই অনুতপ্ত হয়েছিলেন এবং এজন্য তাদেরকে এমন কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল, তাওবার ইতিহাসে যা এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। সেই পরীক্ষায় উত্তর এ মহান সাহাবীদেরকে মহত্তর মানবরূপে চিরস্মরণীয় করে তুলেছে। সেই তিনজনের একজন হলেন হযরত কা'ব ইবন মালিক রাযি.। এই সুদীর্ঘ হাদীছখানিতে মূলত তাঁর জবানীতে তাদের তাওবা কবুলের বৃত্তান্তই বিবৃত হয়েছে।
‘আকাবার বাই'আতের ঘটনা
‘আকাবা জামরাতুল-উখরার নিকটবর্তী একটি উপত্যকার নাম। এখানে মদীনার আনসারগণ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাংগে সাক্ষাত করে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিলেন। তারা মদীনার ইহুদীদের কাছ থেকে শেষ নবীর আগমন সম্পর্কে জানতে পেরেছিল। সে নবী কেমন হবেন, তাঁর হুলিয়া ও বৈশিষ্ট্যাবলী কী, তাদের কাছ থেকে তারা তা অবহিত হয়েছিল। আগে থেকেই তাদের হজ্জ উপলক্ষে পবিত্র মক্কা মুকাররামায় আসা-যাওয়া ছিল। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত লাভের পরও তাদের সে যাতায়াত অব্যাহত ছিল।
হজ্জের মৌসুমে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনা-মুযদালিফায় ঘুরে ঘুরে মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। এই দাওয়াতী ব্যস্ততার এক পর্যায়ে একদল আনসারের সংগে তাঁর সাক্ষাত হয়। আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা ছিল তাঁর দীনকে বিজয়ী করবেন এবং তাঁর নবীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের বীজ এই সাক্ষাতকারেই বপন হয়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে কুরআন মাজীদ পড়ে শোনালেন এবং আল্লাহর দীন বোঝালেন। কুরআন মাজীদের আয়াত এবং নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য তাদের অন্তরে রেখাপাত করে। ফলে সেই মুহূর্তেই তারা ইসলাম গ্রহণ করে এবং নিজ দেশে ইসলাম প্রচারের উদ্দীপনা নিয়ে ফিরে যায়। তারা মদীনায় ফিরে এসে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিষয়ে মানুষকে অবহিত করলেন এবং তাদের ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানালেন। সে আহ্বানে মদীনার লোকজন স্বতঃস্ফূর্ত সাড়াদান করে। ফলে মদীনার আনসারদের ভেতর ইসলামের ব্যাপক বিস্তার ঘটে।
পরের বছর হজ্জ মৌসুমে ১২জন আনসার মক্কায় আগমন করেন। তারা ‘আকাবায় নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংগে সাক্ষাত করেন এবং তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন। এটাই ‘আকাবার প্রথম বাই'আত। এ বাই'আতের বিষয়বস্তু ছিল এই যে, তারা আল্লাহর সংগে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না,সন্তান হত্যা করবে না, কারও নামে অপবাদ রটাবে না এবং কোনও সৎকাজে বাধা দেবে না। যদি তারা এগুলো পূরণ করে, তবে জান্নাত লাভ করবে। আর এর অন্যথা করলে বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে। তিনি চাইলে শাস্তি দেবেন অথবা ক্ষমা করবেন। বাইআত শেষে তারা মদীনায় ফিরে গেলেন। তাদেরকে কুরআনের তালীম, ইসলাম শিক্ষা ও দীনী বিধি-বিধান সম্পর্কে অবহিত করার জন্য শিক্ষকরূপে হযরত মুসআব ইবন উমায়র রাযি.-কে পাঠিয়ে দিলেন।
অতঃপর পবিত্র মদীনায় ইসলাম প্রচার বেগবান হয়ে উঠল। মদীনার প্রধান দুই গোত্র আওস ও খাযরাজের নেতৃবর্গসহ প্রায় অধিকাংশ লোকই ইসলাম গ্রহণ করে ফেলল। পরের বছর বিপুল উদ্দীপনায় তাদের একটি বড়সড় দল মক্কা মুকাররামায় আগমন করল। এ দলের লোকসংখ্যা ছিল পঁচাত্তরজন। তিয়াত্তরজন পুরুষ দু’জন মহিলা। এবারে তাদের আগমনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মদীনায় গমনের প্রস্তাব দেওয়া। তাদের জানা ছিল পবিত্র মক্কায় তিনি ইসলাম প্রচারে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন এবং মক্কাবাসীগণ নতুন ধর্ম প্রচারের কারণে তাঁকে ও তাঁর মুষ্টিমেয় অনুসারীকে অবর্ণনীয় জুলুম-নির্যাতন করছে। তাদের লক্ষ্য সেই জুলুম নির্যাতন থেকে তাদের রক্ষা করা এবং মদীনা মুনাওয়ারাকে ইসলাম প্রচারের কেন্দ্রভূমিতে পরিণত করা।
তারা রাতের বেলা ‘আকাবায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংগে সাক্ষাত করলেন। সেখানে জরুরি সব কথার এক পর্যায়ে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরতের দাওয়াত দিলেন। তাদের এই উদ্দেশ্য সম্পর্কে চাচা আব্বাস রাযি. জানতে পেরেছিলেন। যদিও তিনি তখনও পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করেননি, কিন্তু মহান ভাতিজার মর্যাদা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে নিজ ভাই আবূ তালিবের মতই সচেতন ছিলেন। কাজেই তিনি 'আকাবার আলোচনায় নিজের উপস্থিত থাকা জরুরি মনে করলেন। সময়মত তিনি এসেও গেলেন। তিনি আনসারদের লক্ষ্য করে একটি সারগর্ভ বক্তৃতা দিলেন। তাতে বললেন“হে খাযরাজ (ও আওস) গোত্রের লোকেরা! আমাদের কাছে মুহাম্মাদের কী মর্যাদা তা আপনাদের অজানা নয়। আমরা তাঁকে আমাদের সম্প্রদায়ের হাত থেকে এ যাবত রক্ষা করে এসেছি। তাঁর প্রতিপক্ষও আমাদেরই মত ধারণা রাখে। কাজেই তাঁর দেশ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর অবস্থান অত্যন্ত সুরক্ষিত। কিন্তু তবুও তিনি আপনাদের কাছে চলে যেতে এবং আপনাদের মাঝে থাকতে ইচ্ছুক। চিন্তা করে দেখুন, আপনারা যদি তাঁকে প্রদত্ত অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারেন এবং শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করার সামর্থ্য আপনাদের থাকে, তবে এ দায়িত্ব গ্রহণ করুন। পক্ষান্তরে যদি মনে করেন আপনারা তাঁকে রক্ষা করতে পারবেন না এবং তাঁকে শত্রুর হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন, তবে আপনারা এর থেকে বিরত থাকুন। তিনি নিজ দেশে ও নিজ গোত্রে নিরাপদে আছেন।”
আনসারগণ বললেন, আমরা আপনার বক্তব্য শুনলাম। এবার ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কথা বলুন এবং নিজের পক্ষে ও নিজ রব্বের পক্ষে আমাদের থেকে যে অঙ্গীকার নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন তা নিয়ে নিন।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বললেন। তিনি প্রথমে কুরআন তিলাওয়াত করলেন, তারপর তাদের সামনে ইসলামের ব্যাখ্যা দিলেন এবং ইসলামের প্রতি তাদের উৎসাহ দান করলেন। তারপর বললেন, আমি এ মর্মে তোমাদের থেকে বাই'আত (প্রতিশ্রুতি) গ্রহণ করছি যে, তোমরা তোমাদের নারী ও শিশুদের যেভাবে রক্ষা কর তেমনি আমাকেও রক্ষা করবে।
তারা আল্লাহর নামে শপথ করে এই প্রতিশ্রুতি তাঁকে দান করলেন। তারপর বললেন, মদীনার ইহুদীদের সাথে আমাদের বিশেষ সম্পর্ক আছে। এ বাই'আতের মাধ্যমে আমরা তা ছিন্ন করতে চাচ্ছি। পরে এমন তো হবে না যে ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ যখন আপনাকে বিজয় দান করবেন, তখন আপনি আমাদের ছেড়ে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসবেন? নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কথা শুনে মৃদু হাসলেন। তারপর এই বলে তাদের আশ্বস্ত করলেন যে, তোমাদের রক্ত আমার রক্ত। তোমাদের জীবন-মরণের সাথে আমার জীবন-মরণ গাঁথা থাকবে। আমি তোমাদের, তোমরা আমার। তোমরা যাদের সাথে লড়বে, আমি তাদের সাথে লড়ব। তোমরা যাদের সাথে শান্তি স্থাপন করবে, আমিও তাদের সাথে শান্তি স্থাপন করব। এভাবে 'আকাবার দ্বিতীয় বাই'আত সম্পন্ন হল।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আনসারদের পক্ষে এ বাই'আত ছিল এক চ্যালেঞ্জিং পদক্ষেপ। এটা ছিল সমগ্র আরব: বরং সমস্ত বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার নামান্তর। সমগ্র বিশ্ব তখন শিরক-কবলিত। তাওহীদের দাওয়াত ছিল শিরকী আকীদা-বিশ্বাসের উপর প্রত্যক্ষ আঘাত। অন্ধকারাচ্ছন্ন মুশরিকদের সে আঘাত সহ্য করার কথা নয়। বরং এ দাওয়াত আসমানী কিতাবে বিশ্বাসী ইহুদী-খৃষ্টানদের জন্যও প্রীতিকর ছিল না, যেহেতু তারাও প্রকৃত তাওহীদের বিশ্বাস থেকে সরে এসেছিল। ফলে এ দাওয়াতের পক্ষাবলম্বন দ্বারা ইহুদী-খৃষ্টানসহ সারা বিশ্বের সমস্ত পৌত্তলিক ও নাস্তিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত শক্তির মুখোমুখি হওয়া ছিল অনিবার্য। খোদ মদীনার ভেতরই শক্তিশালী ইহুদী গোত্রসমূহের বসবাস। এহেন পরিস্থিতিতে মদীনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আশ্রয় দান করলে যে ভেতরের ও বাইরের সবরকম শক্তির বিরুদ্ধে জানবাজি রেখে লড়তে হবে, মুষ্টিমেয় আনসারদের সে কথা ভালোভাবেই জানা ছিল। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার তো তাঁর দীনকে বিজয় করার ছিল। তিনি আনসারদের অন্তরে হিম্মত দিলেন, ঈমানী উদ্দীপনা দিলেন এবং দিলেন কঠিন থেকে কঠিনতর পরিস্থিতিতে অটল-অবিচল থাকার দৃঢ় সংকল্প। ফলে সম্ভাব্য সকল ঝুঁকি মাথায় নিয়েই তারা ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তার সাথে বাই'আত সম্পন্ন করলেন।
‘আকাবার এই বাই'আত ইসলামী ইতিহাসের এক মহিমময় ঘটনা। মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামের কেন্দ্রীয় মর্যাদালাভ, বদর যুদ্ধে জয়লাভ, মক্কাবিজয়, ইসলামী খেলাফতের বিপুল বিস্তার এবং বিশ্বব্যাপী ইসলাম প্রচারের ভিত্তি এই বাই'আতের মাধ্যমেই স্থাপিত হয়েছিল। যারা এই বাই'আতে অংশগ্রহণ করেছিলেন, সেই সুমহান ব্যক্তিবর্গের অন্তরে এর মূল্য ও মর্যাদাবোধ সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে এটা স্বাভাবিক কথা। মূল্যবোধের সেই অবস্থান থেকেই হযরত কা'ব ইবন মালিক রাযি. বলেছিলেন, ‘আকাবার বাই'আতের বিপরীতে বদর যুদ্ধের উপস্থিতিকে আমি পসন্দ করব না, (অর্থাৎ এমন যদি হত যে, আমি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি কিন্তু ‘আকাবার বাই'আতে শরীক থাকিনি, এটা আমার পক্ষে প্রীতিকর হত না) যদিও বদর যুদ্ধ মানুষের কাছে ‘আকাবা অপেক্ষা বেশি আলোচিত।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. কোনও নেককাজে গড়িমসি করতে নেই। গড়িমসি করলে অনেক সময়ই সেই নেককাজ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে, যেমন হযরত কা'ব রাযি. ও তাঁর দুই সঙ্গী তাবুকের যুদ্ধাভিযানে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছিলেন।
খ. ইসলাম গ্রহণের বাই'আত ছাড়াও দীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাই'আত জায়েয। ‘আকাবার বাই'আত সে রকমেরই ছিল। এর দ্বারা খাঁটি পীরের হাতে বাই'আতের বৈধতা প্রমাণিত হয়।
গ. সর্বাবস্থায় সত্য বলা উচিত। সত্য বললে প্রথমদিকে কষ্ট-ক্লেশের সম্মুখীন হলেও পরিণাম সর্বদা শুভই হয়ে থাকে। হযরত কা'ব রাযি.-এর সত্যবলা সে কথাই প্রমাণ করে। পক্ষান্তরে মিথ্যার পরিণাম সর্বদা অশুভই হয়, তাতে সাময়িক যত সুবিধাই দেখা যাক না কেন।
ঘ. সর্বাবস্থায় আমীর, উসতায ও শায়খের হুকুম শিরোধার্য করা উচিত। তাদের কঠিন থেকে কঠিনতর হুকুম পালন করতে পারলে তা অভাবনীয় সুফল বয়ে আনে।
ঙ. মিথ্যা অজুহাত প্রদর্শন মুনাফিকদের কাজ। তা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।
চ. নিজেদের পরিকল্পনা ও গতিবিধি সম্পর্কে শত্রুপক্ষ যাতে অবহিত হতে না পারে, সেই লক্ষ্যে সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থাগ্রহণ অধিনায়কের যোগ্যতা ও বিচক্ষণতার পরিচায়ক এটা বিজয় ও সাফল্য লাভের পক্ষে সহায়ক।
ছ. কারও দ্বারা কোনও অপরাধ হয়ে গেলে তার সংশোধনকল্পে তার সংগে কথা বন্ধের শাস্তি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
জ. সফর থেকে ফিরে আসার পর প্রথমেই ঘরে না ঢুকে মসজিদে যাওয়া এবং দু' রাক'আত নামায পড়া মুস্তাহাব।
ঝ. কারও ভালো কিছু ঘটলে তাকে সে সম্পর্কে সুসংবাদ শোনানো একটি ইসলামী আদব। এর দ্বারা সুসংবাদদাতার মনের ঔদার্য প্রকাশ পায় এবং পরস্পরে ভালোবাসার সৃষ্টি হয়।
ঞ. সুসংবাদদাতাকে পুরস্কৃত করা মুস্তাহাব।
ট, কারও সুখকর কিছু ঘটলে সেজন্যে তাকে অভিনন্দন জানানো চাই।
ঠ. আগুম্ভককে স্বাগত জানানোর জন্য উঠে এগিয়ে যাওয়া ও তার সাথে মুসাফাহা করা একটি প্রশংসনীয় কাজ।
ড. অমুসলিম শত্রুর তোষামোদে ভুলতে নেই। অনেক সময় তা ঈমান হরণেরও কারণ হয়ে থাকে। সেজন্যই হযরত কা'ব রাযি. গাস্সানের রাজার চিঠিকে ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখেছেন এবং সেটি আগুনে পুড়ে ফেলেছেন।
ঢ. দীনের স্বার্থ আত্মীয়তারও উপরে। কাজেই দীনের কারণে যদি আত্মীয়কে পরিত্যাগ করতে হয়, তবে তা করাই বাঞ্ছনীয়। এজন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাবার্তা বলতে নিষেধ করে দিলে হযরত কা'ব রাযি.-এর সাথে তাঁর চাচাত ভাই কথা বলতে রাজি হননি।
ণ. আমীরের কর্তব্য তার অধীনস্থদের খোঁজখবর রাখা ও তাদের সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
ত. আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে কোনও নি'আমত লাভ হলে তার শোকরস্বরূপ দান-সদাকা করা মুস্তাহাব।
থ. ইসলামের সাধারণ শিক্ষা এটাই যে, যার অর্থ-সম্পদ আছে সে সমস্ত সম্পদ দান-সদাকা না করে একটা অংশ ওয়ারিশদের জন্য রেখে দেবে, যাতে তাদের অন্যদের কাছে হাত পেতে বেড়াতে না হয়।
দ. বিশেষ কোনও আমলের বদৌলতে কোনও নি'আমত লাভ হলে তার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সেই আমলে আরও বেশি যত্নবান হওয়া উচিত, যেমন হযরত কা'ব রাযি. সত্য বলার বদৌলতে আল্লাহর পক্ষ হতে ক্ষমাপ্রাপ্তির নি'আমত লাভ করেছিলেন। ফলে তিনি জীবনভর সত্যবাদিতায় অবিচল থাকবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।
ধ. কারও সামনে অন্য কারও গীবত ও সমালোচনা করা হলে তার কর্তব্য প্রতিবাদ করা এবং তার প্রশংসনীয় দিক তুলে ধরা, যেমন হযরত কা'ব রাযি.-এর সমালোচনা করা হলে হযরত মু'আয ইবন জাবাল রাযি. প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, আমরা তো কা'বকে ভালো বলেই জানি।
ন. কারও পক্ষ থেকে কোনও উপকার ও সদাচরণ পেলে তা ভুলে যাওয়া উচিত নয়। হযরত কা'ব রাযি. হযরত তালহা রাযি.-এর সদাচরণ জীবনভর মনে রেখেছিলেন।
এ হাদীছে এছাড়া আরও বহু শিক্ষা আছে। সংক্ষেপ করার লক্ষ্যে এখানেই ক্ষান্ত করা হল।
তাবুকের যুদ্ধ
তাবুকের যুদ্ধাভিযান সংঘটিত হয়েছিল হিজরী ৯ সালের রজব মাসে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ পেলেন রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস মদিনা মুনাওয়ারায় এক জোরদার হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনকি সে শাম ও আরবের সীমান্ত এলাকায় এক বিশাল বাহিনীও মোতায়েন করেছে। যদিও সাহাবায়ে কিরান এ যাবতকাল বহু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, কিন্তু তার সবক'টিই হয়েছিল জাযিরাতুল আরবের ভেতরে। কোনও বহিঃশক্তির সাথে এ পর্যন্ত মোকাবেলা হয়নি। এবার তারা সেই পরীক্ষার সম্মুখীন। তাও দুনিয়ার এক বৃহৎ শক্তির সাথে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিরাক্লিয়াসের আক্রমণের অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই সামনে অগ্রসর হয়ে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিলেন। সুতরাং তিনি সকল মুসলিমকে এ যুদ্ধে শরীক হওয়ার হুকুম দিলেন।
মুসলিমদের পক্ষে এটা ছিল এক অগ্নিপরীক্ষা। কেননা দীর্ঘ ১০ বছর উপর্যুপরি যুদ্ধ শেষে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পাওয়া গিয়েছিল। এই যুদ্ধে যাওয়া মানে সেই সুযোগটিও হারানো। দ্বিতীয়ত সময়টা ছিল এমন, যখন বাগানের খেজুর পাকছিল, যেই খেজুরের উপর মদীনাবাসীদের সারা বছরের জীবিকা নির্ভরশীল ছিল। তৃতীয়ত ছিল প্রচণ্ড গরমের মৌসুম। যেন আকাশ থেকে আগুন ঝরছে। ভূমি থেকেও যেন আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে। তদুপরি ছিল তাবুকের সুদীর্ঘ সফর। মদীনা হতে তাবুক প্রায় ৮০০ মাইল দূরে অবস্থিত। দুর্গম মরুভূমির পথ। বাহনের সংখ্যাও খুব কম। যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, সেই বৃহত্তম শক্তির রণকৌশল সম্পর্কেও মুসলিমদের জানাশোনা ছিল না। কিন্তু এতকিছু সংকট সত্ত্বেও শাহাদাতের প্রেরণায় উজ্জীবিত সাহাবীগণ এ অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। তারা দলে দলে এসে নাম লেখালেন। যথাসাধ্য প্রস্তুতি শেষে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ত্রিশ হাজার সাহাবায়ে কিরামের এক বাহিনী নিয়ে তাবুকের উদ্দেশে বের হয়ে পড়লেন। আল্লাহ তা'আলা হিরাক্লিয়াস ও তার বাহিনীর উপর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ দুঃসাহসিক অভিযানের এমন প্রভাব ফেললেন যে, তারা কালবিলম্ব না করে ফেরত চলে গেল। ফলে যুদ্ধ আর হল না। তবে যুদ্ধ না হলেও এ অভিযানে ইসলাম ও মুসলিম বাহিনীর বিজয় ঠিকই অর্জিত হল। কেননা একে তো সেকালের বৃহত্তম শক্তির উপর ইসলামী শক্তির প্রভাব পড়েছিল এবং তারা ইসলাম ও তার অনুসারীদের আমলে নিতে বাধ্য হয়েছিল। দ্বিতীয়ত তাদের ফিরে যাওয়ায় আশপাশের ক্ষুদ্র রাজন্যবর্গ ক্রমবর্ধমান ইসলামী শক্তির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিল। তাই তারা কালবিলম্ব না করে তাবুকে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংগে সাক্ষাত করে এবং তাঁর সংগে সন্ধি স্থাপন করে। তাছাড়া এ অভিযানের মাধ্যমেই কে খাঁটি মুসলিম এবং কে মুনাফিক তা ভালোভাবে পরিষ্কার হয়ে যায়, যা কুরআন মাজীদের সূরা তাওবায় বিস্তারিতভাবে বিবৃত হয়েছে।
মুনাফিকদের অধিকাংশই এ যুদ্ধে যোগদান থেকে বিরত থাকে। তাদের কিছুসংখ্যক দুরভিসন্ধীমূলকভাবে এতে শরীক হয়েছিল। তিনজন খাঁটি মুসলিমেরও এতে যোগদান করা হয়নি। তাদের দ্বারা গড়িমসি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এ গড়িমসির দরুন তারা যারপরনাই অনুতপ্ত হয়েছিলেন এবং এজন্য তাদেরকে এমন কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল, তাওবার ইতিহাসে যা এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। সেই পরীক্ষায় উত্তর এ মহান সাহাবীদেরকে মহত্তর মানবরূপে চিরস্মরণীয় করে তুলেছে। সেই তিনজনের একজন হলেন হযরত কা'ব ইবন মালিক রাযি.। এই সুদীর্ঘ হাদীছখানিতে মূলত তাঁর জবানীতে তাদের তাওবা কবুলের বৃত্তান্তই বিবৃত হয়েছে।
‘আকাবার বাই'আতের ঘটনা
‘আকাবা জামরাতুল-উখরার নিকটবর্তী একটি উপত্যকার নাম। এখানে মদীনার আনসারগণ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাংগে সাক্ষাত করে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিলেন। তারা মদীনার ইহুদীদের কাছ থেকে শেষ নবীর আগমন সম্পর্কে জানতে পেরেছিল। সে নবী কেমন হবেন, তাঁর হুলিয়া ও বৈশিষ্ট্যাবলী কী, তাদের কাছ থেকে তারা তা অবহিত হয়েছিল। আগে থেকেই তাদের হজ্জ উপলক্ষে পবিত্র মক্কা মুকাররামায় আসা-যাওয়া ছিল। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত লাভের পরও তাদের সে যাতায়াত অব্যাহত ছিল।
হজ্জের মৌসুমে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনা-মুযদালিফায় ঘুরে ঘুরে মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। এই দাওয়াতী ব্যস্ততার এক পর্যায়ে একদল আনসারের সংগে তাঁর সাক্ষাত হয়। আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা ছিল তাঁর দীনকে বিজয়ী করবেন এবং তাঁর নবীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের বীজ এই সাক্ষাতকারেই বপন হয়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে কুরআন মাজীদ পড়ে শোনালেন এবং আল্লাহর দীন বোঝালেন। কুরআন মাজীদের আয়াত এবং নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য তাদের অন্তরে রেখাপাত করে। ফলে সেই মুহূর্তেই তারা ইসলাম গ্রহণ করে এবং নিজ দেশে ইসলাম প্রচারের উদ্দীপনা নিয়ে ফিরে যায়। তারা মদীনায় ফিরে এসে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিষয়ে মানুষকে অবহিত করলেন এবং তাদের ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানালেন। সে আহ্বানে মদীনার লোকজন স্বতঃস্ফূর্ত সাড়াদান করে। ফলে মদীনার আনসারদের ভেতর ইসলামের ব্যাপক বিস্তার ঘটে।
পরের বছর হজ্জ মৌসুমে ১২জন আনসার মক্কায় আগমন করেন। তারা ‘আকাবায় নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংগে সাক্ষাত করেন এবং তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন। এটাই ‘আকাবার প্রথম বাই'আত। এ বাই'আতের বিষয়বস্তু ছিল এই যে, তারা আল্লাহর সংগে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না,সন্তান হত্যা করবে না, কারও নামে অপবাদ রটাবে না এবং কোনও সৎকাজে বাধা দেবে না। যদি তারা এগুলো পূরণ করে, তবে জান্নাত লাভ করবে। আর এর অন্যথা করলে বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে। তিনি চাইলে শাস্তি দেবেন অথবা ক্ষমা করবেন। বাইআত শেষে তারা মদীনায় ফিরে গেলেন। তাদেরকে কুরআনের তালীম, ইসলাম শিক্ষা ও দীনী বিধি-বিধান সম্পর্কে অবহিত করার জন্য শিক্ষকরূপে হযরত মুসআব ইবন উমায়র রাযি.-কে পাঠিয়ে দিলেন।
অতঃপর পবিত্র মদীনায় ইসলাম প্রচার বেগবান হয়ে উঠল। মদীনার প্রধান দুই গোত্র আওস ও খাযরাজের নেতৃবর্গসহ প্রায় অধিকাংশ লোকই ইসলাম গ্রহণ করে ফেলল। পরের বছর বিপুল উদ্দীপনায় তাদের একটি বড়সড় দল মক্কা মুকাররামায় আগমন করল। এ দলের লোকসংখ্যা ছিল পঁচাত্তরজন। তিয়াত্তরজন পুরুষ দু’জন মহিলা। এবারে তাদের আগমনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মদীনায় গমনের প্রস্তাব দেওয়া। তাদের জানা ছিল পবিত্র মক্কায় তিনি ইসলাম প্রচারে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন এবং মক্কাবাসীগণ নতুন ধর্ম প্রচারের কারণে তাঁকে ও তাঁর মুষ্টিমেয় অনুসারীকে অবর্ণনীয় জুলুম-নির্যাতন করছে। তাদের লক্ষ্য সেই জুলুম নির্যাতন থেকে তাদের রক্ষা করা এবং মদীনা মুনাওয়ারাকে ইসলাম প্রচারের কেন্দ্রভূমিতে পরিণত করা।
তারা রাতের বেলা ‘আকাবায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংগে সাক্ষাত করলেন। সেখানে জরুরি সব কথার এক পর্যায়ে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরতের দাওয়াত দিলেন। তাদের এই উদ্দেশ্য সম্পর্কে চাচা আব্বাস রাযি. জানতে পেরেছিলেন। যদিও তিনি তখনও পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করেননি, কিন্তু মহান ভাতিজার মর্যাদা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে নিজ ভাই আবূ তালিবের মতই সচেতন ছিলেন। কাজেই তিনি 'আকাবার আলোচনায় নিজের উপস্থিত থাকা জরুরি মনে করলেন। সময়মত তিনি এসেও গেলেন। তিনি আনসারদের লক্ষ্য করে একটি সারগর্ভ বক্তৃতা দিলেন। তাতে বললেন“হে খাযরাজ (ও আওস) গোত্রের লোকেরা! আমাদের কাছে মুহাম্মাদের কী মর্যাদা তা আপনাদের অজানা নয়। আমরা তাঁকে আমাদের সম্প্রদায়ের হাত থেকে এ যাবত রক্ষা করে এসেছি। তাঁর প্রতিপক্ষও আমাদেরই মত ধারণা রাখে। কাজেই তাঁর দেশ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর অবস্থান অত্যন্ত সুরক্ষিত। কিন্তু তবুও তিনি আপনাদের কাছে চলে যেতে এবং আপনাদের মাঝে থাকতে ইচ্ছুক। চিন্তা করে দেখুন, আপনারা যদি তাঁকে প্রদত্ত অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারেন এবং শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করার সামর্থ্য আপনাদের থাকে, তবে এ দায়িত্ব গ্রহণ করুন। পক্ষান্তরে যদি মনে করেন আপনারা তাঁকে রক্ষা করতে পারবেন না এবং তাঁকে শত্রুর হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন, তবে আপনারা এর থেকে বিরত থাকুন। তিনি নিজ দেশে ও নিজ গোত্রে নিরাপদে আছেন।”
আনসারগণ বললেন, আমরা আপনার বক্তব্য শুনলাম। এবার ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কথা বলুন এবং নিজের পক্ষে ও নিজ রব্বের পক্ষে আমাদের থেকে যে অঙ্গীকার নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন তা নিয়ে নিন।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বললেন। তিনি প্রথমে কুরআন তিলাওয়াত করলেন, তারপর তাদের সামনে ইসলামের ব্যাখ্যা দিলেন এবং ইসলামের প্রতি তাদের উৎসাহ দান করলেন। তারপর বললেন, আমি এ মর্মে তোমাদের থেকে বাই'আত (প্রতিশ্রুতি) গ্রহণ করছি যে, তোমরা তোমাদের নারী ও শিশুদের যেভাবে রক্ষা কর তেমনি আমাকেও রক্ষা করবে।
তারা আল্লাহর নামে শপথ করে এই প্রতিশ্রুতি তাঁকে দান করলেন। তারপর বললেন, মদীনার ইহুদীদের সাথে আমাদের বিশেষ সম্পর্ক আছে। এ বাই'আতের মাধ্যমে আমরা তা ছিন্ন করতে চাচ্ছি। পরে এমন তো হবে না যে ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ যখন আপনাকে বিজয় দান করবেন, তখন আপনি আমাদের ছেড়ে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসবেন? নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কথা শুনে মৃদু হাসলেন। তারপর এই বলে তাদের আশ্বস্ত করলেন যে, তোমাদের রক্ত আমার রক্ত। তোমাদের জীবন-মরণের সাথে আমার জীবন-মরণ গাঁথা থাকবে। আমি তোমাদের, তোমরা আমার। তোমরা যাদের সাথে লড়বে, আমি তাদের সাথে লড়ব। তোমরা যাদের সাথে শান্তি স্থাপন করবে, আমিও তাদের সাথে শান্তি স্থাপন করব। এভাবে 'আকাবার দ্বিতীয় বাই'আত সম্পন্ন হল।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আনসারদের পক্ষে এ বাই'আত ছিল এক চ্যালেঞ্জিং পদক্ষেপ। এটা ছিল সমগ্র আরব: বরং সমস্ত বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার নামান্তর। সমগ্র বিশ্ব তখন শিরক-কবলিত। তাওহীদের দাওয়াত ছিল শিরকী আকীদা-বিশ্বাসের উপর প্রত্যক্ষ আঘাত। অন্ধকারাচ্ছন্ন মুশরিকদের সে আঘাত সহ্য করার কথা নয়। বরং এ দাওয়াত আসমানী কিতাবে বিশ্বাসী ইহুদী-খৃষ্টানদের জন্যও প্রীতিকর ছিল না, যেহেতু তারাও প্রকৃত তাওহীদের বিশ্বাস থেকে সরে এসেছিল। ফলে এ দাওয়াতের পক্ষাবলম্বন দ্বারা ইহুদী-খৃষ্টানসহ সারা বিশ্বের সমস্ত পৌত্তলিক ও নাস্তিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত শক্তির মুখোমুখি হওয়া ছিল অনিবার্য। খোদ মদীনার ভেতরই শক্তিশালী ইহুদী গোত্রসমূহের বসবাস। এহেন পরিস্থিতিতে মদীনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আশ্রয় দান করলে যে ভেতরের ও বাইরের সবরকম শক্তির বিরুদ্ধে জানবাজি রেখে লড়তে হবে, মুষ্টিমেয় আনসারদের সে কথা ভালোভাবেই জানা ছিল। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার তো তাঁর দীনকে বিজয় করার ছিল। তিনি আনসারদের অন্তরে হিম্মত দিলেন, ঈমানী উদ্দীপনা দিলেন এবং দিলেন কঠিন থেকে কঠিনতর পরিস্থিতিতে অটল-অবিচল থাকার দৃঢ় সংকল্প। ফলে সম্ভাব্য সকল ঝুঁকি মাথায় নিয়েই তারা ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তার সাথে বাই'আত সম্পন্ন করলেন।
‘আকাবার এই বাই'আত ইসলামী ইতিহাসের এক মহিমময় ঘটনা। মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামের কেন্দ্রীয় মর্যাদালাভ, বদর যুদ্ধে জয়লাভ, মক্কাবিজয়, ইসলামী খেলাফতের বিপুল বিস্তার এবং বিশ্বব্যাপী ইসলাম প্রচারের ভিত্তি এই বাই'আতের মাধ্যমেই স্থাপিত হয়েছিল। যারা এই বাই'আতে অংশগ্রহণ করেছিলেন, সেই সুমহান ব্যক্তিবর্গের অন্তরে এর মূল্য ও মর্যাদাবোধ সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে এটা স্বাভাবিক কথা। মূল্যবোধের সেই অবস্থান থেকেই হযরত কা'ব ইবন মালিক রাযি. বলেছিলেন, ‘আকাবার বাই'আতের বিপরীতে বদর যুদ্ধের উপস্থিতিকে আমি পসন্দ করব না, (অর্থাৎ এমন যদি হত যে, আমি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি কিন্তু ‘আকাবার বাই'আতে শরীক থাকিনি, এটা আমার পক্ষে প্রীতিকর হত না) যদিও বদর যুদ্ধ মানুষের কাছে ‘আকাবা অপেক্ষা বেশি আলোচিত।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. কোনও নেককাজে গড়িমসি করতে নেই। গড়িমসি করলে অনেক সময়ই সেই নেককাজ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে, যেমন হযরত কা'ব রাযি. ও তাঁর দুই সঙ্গী তাবুকের যুদ্ধাভিযানে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছিলেন।
খ. ইসলাম গ্রহণের বাই'আত ছাড়াও দীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাই'আত জায়েয। ‘আকাবার বাই'আত সে রকমেরই ছিল। এর দ্বারা খাঁটি পীরের হাতে বাই'আতের বৈধতা প্রমাণিত হয়।
গ. সর্বাবস্থায় সত্য বলা উচিত। সত্য বললে প্রথমদিকে কষ্ট-ক্লেশের সম্মুখীন হলেও পরিণাম সর্বদা শুভই হয়ে থাকে। হযরত কা'ব রাযি.-এর সত্যবলা সে কথাই প্রমাণ করে। পক্ষান্তরে মিথ্যার পরিণাম সর্বদা অশুভই হয়, তাতে সাময়িক যত সুবিধাই দেখা যাক না কেন।
ঘ. সর্বাবস্থায় আমীর, উসতায ও শায়খের হুকুম শিরোধার্য করা উচিত। তাদের কঠিন থেকে কঠিনতর হুকুম পালন করতে পারলে তা অভাবনীয় সুফল বয়ে আনে।
ঙ. মিথ্যা অজুহাত প্রদর্শন মুনাফিকদের কাজ। তা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।
চ. নিজেদের পরিকল্পনা ও গতিবিধি সম্পর্কে শত্রুপক্ষ যাতে অবহিত হতে না পারে, সেই লক্ষ্যে সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থাগ্রহণ অধিনায়কের যোগ্যতা ও বিচক্ষণতার পরিচায়ক এটা বিজয় ও সাফল্য লাভের পক্ষে সহায়ক।
ছ. কারও দ্বারা কোনও অপরাধ হয়ে গেলে তার সংশোধনকল্পে তার সংগে কথা বন্ধের শাস্তি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
জ. সফর থেকে ফিরে আসার পর প্রথমেই ঘরে না ঢুকে মসজিদে যাওয়া এবং দু' রাক'আত নামায পড়া মুস্তাহাব।
ঝ. কারও ভালো কিছু ঘটলে তাকে সে সম্পর্কে সুসংবাদ শোনানো একটি ইসলামী আদব। এর দ্বারা সুসংবাদদাতার মনের ঔদার্য প্রকাশ পায় এবং পরস্পরে ভালোবাসার সৃষ্টি হয়।
ঞ. সুসংবাদদাতাকে পুরস্কৃত করা মুস্তাহাব।
ট, কারও সুখকর কিছু ঘটলে সেজন্যে তাকে অভিনন্দন জানানো চাই।
ঠ. আগুম্ভককে স্বাগত জানানোর জন্য উঠে এগিয়ে যাওয়া ও তার সাথে মুসাফাহা করা একটি প্রশংসনীয় কাজ।
ড. অমুসলিম শত্রুর তোষামোদে ভুলতে নেই। অনেক সময় তা ঈমান হরণেরও কারণ হয়ে থাকে। সেজন্যই হযরত কা'ব রাযি. গাস্সানের রাজার চিঠিকে ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখেছেন এবং সেটি আগুনে পুড়ে ফেলেছেন।
ঢ. দীনের স্বার্থ আত্মীয়তারও উপরে। কাজেই দীনের কারণে যদি আত্মীয়কে পরিত্যাগ করতে হয়, তবে তা করাই বাঞ্ছনীয়। এজন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাবার্তা বলতে নিষেধ করে দিলে হযরত কা'ব রাযি.-এর সাথে তাঁর চাচাত ভাই কথা বলতে রাজি হননি।
ণ. আমীরের কর্তব্য তার অধীনস্থদের খোঁজখবর রাখা ও তাদের সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
ত. আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে কোনও নি'আমত লাভ হলে তার শোকরস্বরূপ দান-সদাকা করা মুস্তাহাব।
থ. ইসলামের সাধারণ শিক্ষা এটাই যে, যার অর্থ-সম্পদ আছে সে সমস্ত সম্পদ দান-সদাকা না করে একটা অংশ ওয়ারিশদের জন্য রেখে দেবে, যাতে তাদের অন্যদের কাছে হাত পেতে বেড়াতে না হয়।
দ. বিশেষ কোনও আমলের বদৌলতে কোনও নি'আমত লাভ হলে তার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সেই আমলে আরও বেশি যত্নবান হওয়া উচিত, যেমন হযরত কা'ব রাযি. সত্য বলার বদৌলতে আল্লাহর পক্ষ হতে ক্ষমাপ্রাপ্তির নি'আমত লাভ করেছিলেন। ফলে তিনি জীবনভর সত্যবাদিতায় অবিচল থাকবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।
ধ. কারও সামনে অন্য কারও গীবত ও সমালোচনা করা হলে তার কর্তব্য প্রতিবাদ করা এবং তার প্রশংসনীয় দিক তুলে ধরা, যেমন হযরত কা'ব রাযি.-এর সমালোচনা করা হলে হযরত মু'আয ইবন জাবাল রাযি. প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, আমরা তো কা'বকে ভালো বলেই জানি।
ন. কারও পক্ষ থেকে কোনও উপকার ও সদাচরণ পেলে তা ভুলে যাওয়া উচিত নয়। হযরত কা'ব রাযি. হযরত তালহা রাযি.-এর সদাচরণ জীবনভর মনে রেখেছিলেন।
এ হাদীছে এছাড়া আরও বহু শিক্ষা আছে। সংক্ষেপ করার লক্ষ্যে এখানেই ক্ষান্ত করা হল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)