আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
হাদীস নং: ৪৬০৮
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টিকল্পে ভালবাসার প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং দুষ্টলোক ও বিদ'আতপন্থীদের সাথে ভালবাসা রাখার ব্যাপারে সতর্কীকরণ:
কেননা, মানুষ যাকে ভালবাসে তারই সঙ্গী হবে
কেননা, মানুষ যাকে ভালবাসে তারই সঙ্গী হবে
৪৬০৮. হযরত ইরবায ইবন সারিয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ্ (আযযা ও জাল্লা) বলেন, যারা আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালবাসে, তারা সেদিন আমার আরশের ছায়াতলে থাকবে, যেদিন আমার (আরশের) ছায়া ব্যতীত কোন ছায়াই থাকবে না।
(আহমাদ (র) হাদীসটি উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।)
(আহমাদ (র) হাদীসটি উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الْحبّ فِي الله تَعَالَى والترهيب من حب الأشرار وَأهل الْبدع لِأَن الْمَرْء مَعَ من أحب
4608- وَعَن الْعِرْبَاض بن سَارِيَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ الله عز وَجل المتحابون بجلالي فِي ظلّ عَرْشِي يَوْم لَا ظلّ إِلَّا ظِلِّي
رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد جيد
رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد جيد
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহর গৌরব-মহিমার কারণে একে অন্যকে ভালোবাসার অর্থ সে ভালোবাসায় পার্থিব কোনও স্বার্থ না থাকা; বরং কেবলই আল্লাহ তাআলার জন্য ও তাঁরই সন্তুষ্টিলাভের জন্য ভালোবাসা।
গৌরব-মহিমার কথা উল্লেখ দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য তাদের অন্তরে আল্লাহ তাআলার ভয়-ভীতি, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা জাগ্রত আছে। আর সে কারণে তাদের বিশ্বাস আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা ছাড়া অন্য কোনও উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসা যায় না। কাউকে ভালোবাসতে চাইলে কেবল তাঁর জন্যই ভালোবাসা যায়। কাউকে ভালোবাসলে সে ক্ষেত্রেও ভালোবাসার সীমা রক্ষা জরুরি, যাতে আল্লাহ তাআলার কোনও হক নষ্ট না হয়। অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকলে সে সীমা রক্ষা করা সহজ হয়। ফলে ভালোবাসার দাবি আদায়ের পাশাপাশি আল্লাহ তাআলার হকসমূহ যথাসাধ্য আদায় করা হয়। বান্দার ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলার হকসমূহ উপেক্ষিত থেকে যায় না। পারস্পরিক যে মহব্বত ও ভালোবাসা আল্লাহ তাআলার জন্য হয় না এবং সে মহব্বতের সঙ্গে অন্তরে তাঁর ভয়-ভীতি সক্রিয় থাকে না, সে ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার নাফরমানি হয়ে যায়, নানাভাবে শরীআতের বরখেলাফ হয়ে যায়।
যারা পরস্পরকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে, হাশরের ময়দানে তারা তাঁর আরশের ছায়া লাভ করবে।
উল্লেখ্য, এটি একটি 'হাদীছে কুদসী'। এর ভাব আল্লাহ তাআলার, ভাষা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের। তবে তিনি এটি ব্যক্ত করেছেন আল্লাহ তাআলার জবানিতে। এরকম হাদীছকেই হাদীছে কুদসী বলে।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব ও তাঁর মহত্ব অন্তরে জাগ্রত রেখে তাঁরই জন্য পরস্পরকে ভালোবাসা উচ্চতর একটি নেক আমল।
খ. যারা আল্লাহ তাআলার জন্য একে অন্যকে ভালোবাসে, হাশরের ময়দানে সমস্ত মাখলুকের সামনে তাদের মর্যাদা প্রকাশ করা হবে।
গ. হাশরের ময়দানে আল্লাহর রহমত ও তাঁর আরশের ছায়ালাভের আশায় পার্থিব কোনও স্বার্থ ছাড়া কেবল তাঁরই উদ্দেশ্যে একে অন্যকে মহব্বত করা চাই।
গৌরব-মহিমার কথা উল্লেখ দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য তাদের অন্তরে আল্লাহ তাআলার ভয়-ভীতি, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা জাগ্রত আছে। আর সে কারণে তাদের বিশ্বাস আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা ছাড়া অন্য কোনও উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসা যায় না। কাউকে ভালোবাসতে চাইলে কেবল তাঁর জন্যই ভালোবাসা যায়। কাউকে ভালোবাসলে সে ক্ষেত্রেও ভালোবাসার সীমা রক্ষা জরুরি, যাতে আল্লাহ তাআলার কোনও হক নষ্ট না হয়। অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকলে সে সীমা রক্ষা করা সহজ হয়। ফলে ভালোবাসার দাবি আদায়ের পাশাপাশি আল্লাহ তাআলার হকসমূহ যথাসাধ্য আদায় করা হয়। বান্দার ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলার হকসমূহ উপেক্ষিত থেকে যায় না। পারস্পরিক যে মহব্বত ও ভালোবাসা আল্লাহ তাআলার জন্য হয় না এবং সে মহব্বতের সঙ্গে অন্তরে তাঁর ভয়-ভীতি সক্রিয় থাকে না, সে ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার নাফরমানি হয়ে যায়, নানাভাবে শরীআতের বরখেলাফ হয়ে যায়।
যারা পরস্পরকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে, হাশরের ময়দানে তারা তাঁর আরশের ছায়া লাভ করবে।
উল্লেখ্য, এটি একটি 'হাদীছে কুদসী'। এর ভাব আল্লাহ তাআলার, ভাষা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের। তবে তিনি এটি ব্যক্ত করেছেন আল্লাহ তাআলার জবানিতে। এরকম হাদীছকেই হাদীছে কুদসী বলে।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব ও তাঁর মহত্ব অন্তরে জাগ্রত রেখে তাঁরই জন্য পরস্পরকে ভালোবাসা উচ্চতর একটি নেক আমল।
খ. যারা আল্লাহ তাআলার জন্য একে অন্যকে ভালোবাসে, হাশরের ময়দানে সমস্ত মাখলুকের সামনে তাদের মর্যাদা প্রকাশ করা হবে।
গ. হাশরের ময়দানে আল্লাহর রহমত ও তাঁর আরশের ছায়ালাভের আশায় পার্থিব কোনও স্বার্থ ছাড়া কেবল তাঁরই উদ্দেশ্যে একে অন্যকে মহব্বত করা চাই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)