আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
হাদীস নং: ৪৮৬৭
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৬৭. হযরত আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, হে আবু যার! তুমি কি অধিক সম্পদকেই ধনাঢ্যতা মনে কর? আমি বললামঃ জ্বী হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। (তাই মনে করি) তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন তবে কি তুমি স্বল্প সম্পদকেই দারিদ্র মনে কর? আমি বললামঃ জ্বী হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। (তাই মনে করি)। তিনি বললেন। আসলে ধনাঢ্যতা মানে হৃদয়ের প্রাচুর্য আর দারিদ্র মানে হৃদয়ের দারিদ্র। অতঃপর তিনি আমাকে কুরায়শের এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, বললেন : তুমি কি অমুক ব্যক্তিকে চিন? আমি বললাম জ্বী হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তাকে কেমন মনে কর? অথবা, তার সম্পর্কে তোমার অভিমত কি? আমি বললামঃ যখন সে কোন কিছু চায়, তখন তাকে তা দেওয়া হয় এবং যখন সে (কোন মজলিসে) উপস্থিত হয়, তখন তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। আবু যার বলেন। তারপর তিনি আমাকে জনৈক সুফাবাসী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, বললেন : তুমি কি অমুক ব্যক্তিকে চিন? আমি বললাম জ্বী, না, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আল্লাহর কসম, আমি তাকে চিনতে পারিনি। তিনি তার পরিচয় দিতে থাকলেন,' আর তার প্রশংসা করতে থাকলেন। ফলে আমি তাকে চিনতে পারলাম। তখন আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্। এবার আমি তাকে চিনতে পেরেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি তাকে কেমন মনে কর? অথবা তার সম্পর্কে তোমার ধারণা কি? আমি বললামঃ সে সুফ্ফার অধিবাসী একজন নিঃস্ব ব্যক্তি। তিনি বললেন। এ লোকটি অপর লোকটির মত পৃথিবী ভরা লোকের চেয়ে উত্তম। আমি বললাম : ইয়া রাসূলাল্লাহ্। অপর ব্যক্তিকে যা প্রদান করা হয়, তার অংশ বিশেষ কেন এ লোকটিকে দেয়া হয় না? তিনি বলেন: যখন তাকে কোন কল্যাণ (সম্পদ) প্রদান করা হয়, তখন তো সে তার অধিকারীই। পক্ষান্তরে যখন তাকে বঞ্চিত করা হয়, তখন তাকে সাওয়াব প্রদান করা হয়।
(নাসাঈ-সংক্ষিপ্তকারে ও ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের উল্লিখিত পাঠ ইবন হিব্বান কর্তৃক বর্ণিত।)
(নাসাঈ-সংক্ষিপ্তকারে ও ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের উল্লিখিত পাঠ ইবন হিব্বান কর্তৃক বর্ণিত।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4867- وَعَن أبي ذَر رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَا أَبَا ذَر أَتَرَى كَثْرَة المَال هُوَ الْغنى قلت نعم يَا رَسُول الله
قَالَ فترى قلَّة المَال هُوَ الْفقر قلت نعم يَا رَسُول الله
قَالَ إِنَّمَا الْغنى غنى الْقلب والفقر فقر الْقلب ثمَّ سَأَلَني عَن رجل من قُرَيْش قَالَ هَل تعرف فلَانا قلت نعم يَا رَسُول الله قَالَ فَكيف ترَاهُ أَو ترَاهُ قلت إِذا سَأَلَ أعطي وَإِذا حضر أَدخل قَالَ ثمَّ سَأَلَني عَن رجل من أهل الصّفة فَقَالَ هَل تعرف فلَانا قلت لَا وَالله مَا أعرفهُ يَا رَسُول الله فَمَا زَالَ يجليه وَيُنْعِتُهُ حَتَّى عَرفته فَقلت قد عَرفته يَا رَسُول الله قَالَ فَكيف ترَاهُ أَو ترَاهُ قلت هُوَ رجل مِسْكين من أهل الصّفة فَقَالَ هُوَ خير من طلاع الأَرْض من الآخر
قلت يَا رَسُول الله أَفلا يعْطى من بعض مَا يعْطى الآخر فَقَالَ إِذا أعطي خيرا فَهُوَ أَهله وَإِذا صرف عَنهُ فقد أعطي حَسَنَة
رَوَاهُ النَّسَائِيّ مُخْتَصرا وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَاللَّفْظ لَهُ
قَالَ فترى قلَّة المَال هُوَ الْفقر قلت نعم يَا رَسُول الله
قَالَ إِنَّمَا الْغنى غنى الْقلب والفقر فقر الْقلب ثمَّ سَأَلَني عَن رجل من قُرَيْش قَالَ هَل تعرف فلَانا قلت نعم يَا رَسُول الله قَالَ فَكيف ترَاهُ أَو ترَاهُ قلت إِذا سَأَلَ أعطي وَإِذا حضر أَدخل قَالَ ثمَّ سَأَلَني عَن رجل من أهل الصّفة فَقَالَ هَل تعرف فلَانا قلت لَا وَالله مَا أعرفهُ يَا رَسُول الله فَمَا زَالَ يجليه وَيُنْعِتُهُ حَتَّى عَرفته فَقلت قد عَرفته يَا رَسُول الله قَالَ فَكيف ترَاهُ أَو ترَاهُ قلت هُوَ رجل مِسْكين من أهل الصّفة فَقَالَ هُوَ خير من طلاع الأَرْض من الآخر
قلت يَا رَسُول الله أَفلا يعْطى من بعض مَا يعْطى الآخر فَقَالَ إِذا أعطي خيرا فَهُوَ أَهله وَإِذا صرف عَنهُ فقد أعطي حَسَنَة
رَوَاهُ النَّسَائِيّ مُخْتَصرا وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَاللَّفْظ لَهُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ধন-দৌলতের আসল উদ্দেশ্য হল প্রয়োজন পূরণ করা এবং নিজের প্রয়োজনের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী না হওয়া। দৌলতের আধিক্য দ্বারা মানুষের তামাম প্রয়োজন পূরণ অসম্ভব। দৌলতের আধিক্যের সাথে সাথে বান্দার প্রয়োজনও বৃদ্ধি পায়। সঞ্চিত দৌলতের দ্বারা এক প্রয়োজন পূরণ করার পূর্বেই বান্দার নফস অসংখ্য প্রয়োজন সৃষ্টি করে। নফসের সৃষ্ট অসংখ্য প্রয়োজন পূরণ করার জন্য বান্দা আরো সম্পদ লাভ করার চেষ্টা করে এবং অধিক সম্পদ অর্জনের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হয়। তাই নফসের গলদ নির্দেশে লোভ-লালসায় বান্দা ধনী হয়েও অন্যের মুখাপেক্ষী। সম্পদের আধিক্য তাকে প্রাচুর্য দান করতে পারেনি অর্থাৎ তাকে অন্যের মুখাপেক্ষিতা থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
সাধারণত সম্পদের অভাবকে দারিদ্র্য বলা হয় এবং দরিদ্র ব্যক্তি তার প্রয়োজন পূরণ করার জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হয়। যদি কোন বান্দা তার অল্প সম্পদ সত্ত্বেও অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়, একটি রুটির পরিবর্তে অর্ধেক রুটির দ্বারা প্রয়োজন পূরণ করে, তাহলে সম্পদের স্বল্পতা সত্ত্বেও তাকে দরিদ্র বলা যাবে না। তাই নবী করীম ﷺ বলেছেন, সম্পদের অভাবের নাম দারিদ্র্য নয়, বরং অন্তরের প্রাচুর্য আসল প্রাচুর্য এবং অন্তরের দারিদ্র্য আসল দারিদ্র।
ইমাম বুখারী আবূ হুরায়রা (রা)-এর হাওয়ালা দিয়ে অনুরূপ এক হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
لَيْسَ الغِنٰى عَنْ كَثْرَةِ الْعُرُوضِ وَلَكِنَّ الْغِنٰى غِنَى النَّفْسِ .
"দৌলতের আধিক্য প্রাচুর্য নয়, বরং প্রাচুর্য হল নফসের প্রাচুর্য।"
নফস বা অন্তরের প্রাচুর্য কিভাবে হাসিল করা যায় তার পন্থাও আল্লাহর রাসূল ﷺ অপর এক হাদীসে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ যা দান করেছেন, তাতে যে তৃপ্ত ও সন্তুষ্ট থাকে, সে অন্তরের প্রাচুর্য হাসিল করতে পারে। যে অন্তরের প্রাচুর্য লাভ করে, সে দুনিয়া ও আখিরাতে কামিয়াব।
ইমাম মুসলিম আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা)-এর হাওয়ালা দিয়ে বর্ণনা করেন; রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَسْلَم وَرُزِقَ كَفَافًا وَقَنَّعَهُ اللهُ بِمَا أَتَاهُ -
"সেই কামিয়াব হয়েছে যে ইসলাম কবুল করেছে, যাকে সামান্য রিযক দেয়া হয়েছে এবং যা তাকে দেয়া হয়েছে তাতে আল্লাহ তাকে কানাআত ও পরিতৃপ্তি দান করেছেন
সাধারণত সম্পদের অভাবকে দারিদ্র্য বলা হয় এবং দরিদ্র ব্যক্তি তার প্রয়োজন পূরণ করার জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হয়। যদি কোন বান্দা তার অল্প সম্পদ সত্ত্বেও অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়, একটি রুটির পরিবর্তে অর্ধেক রুটির দ্বারা প্রয়োজন পূরণ করে, তাহলে সম্পদের স্বল্পতা সত্ত্বেও তাকে দরিদ্র বলা যাবে না। তাই নবী করীম ﷺ বলেছেন, সম্পদের অভাবের নাম দারিদ্র্য নয়, বরং অন্তরের প্রাচুর্য আসল প্রাচুর্য এবং অন্তরের দারিদ্র্য আসল দারিদ্র।
ইমাম বুখারী আবূ হুরায়রা (রা)-এর হাওয়ালা দিয়ে অনুরূপ এক হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
لَيْسَ الغِنٰى عَنْ كَثْرَةِ الْعُرُوضِ وَلَكِنَّ الْغِنٰى غِنَى النَّفْسِ .
"দৌলতের আধিক্য প্রাচুর্য নয়, বরং প্রাচুর্য হল নফসের প্রাচুর্য।"
নফস বা অন্তরের প্রাচুর্য কিভাবে হাসিল করা যায় তার পন্থাও আল্লাহর রাসূল ﷺ অপর এক হাদীসে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ যা দান করেছেন, তাতে যে তৃপ্ত ও সন্তুষ্ট থাকে, সে অন্তরের প্রাচুর্য হাসিল করতে পারে। যে অন্তরের প্রাচুর্য লাভ করে, সে দুনিয়া ও আখিরাতে কামিয়াব।
ইমাম মুসলিম আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা)-এর হাওয়ালা দিয়ে বর্ণনা করেন; রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَسْلَم وَرُزِقَ كَفَافًا وَقَنَّعَهُ اللهُ بِمَا أَتَاهُ -
"সেই কামিয়াব হয়েছে যে ইসলাম কবুল করেছে, যাকে সামান্য রিযক দেয়া হয়েছে এবং যা তাকে দেয়া হয়েছে তাতে আল্লাহ তাকে কানাআত ও পরিতৃপ্তি দান করেছেন
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)