আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ

হাদীস নং: ৪৮৮০
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৮০. ইবন মাজাহ ও হাকিম প্রথম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তারা উভয়ে বলেন: "আমার কাছে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঈর্ষারপাত্র………অবশিষ্টাংশ আগের হাদীসের মতই।
(হাকিম বলেনঃ এর সনদ সহীহ।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4880- وروى ابْن مَاجَه وَالْحَاكِم الحَدِيث الأول إِلَّا أَنَّهُمَا قَالَا أغبط النَّاس عِنْدِي
وَالْبَاقِي بِنَحْوِهِ

قَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد كَذَا قَالَ قَوْله خَفِيف الحاذ بحاء مُهْملَة وذال مُعْجمَة مُخَفّفَة خَفِيف الْحَال قَلِيل المَال

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর এ বাণীর মর্ম এই যে, যদিও আমার বন্ধুদের এবং আল্লাহর প্রিয়পাত্রদের অবস্থা ও রং বিভিন্ন হয়ে থাকে, কিন্তু তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ঈর্ষণীয় জীবনের অধিকারী হচ্ছে ঐসব ঈমানদার বান্দারা, যাদের অবস্থা এই যে, তাদের দুনিয়ার জীবন-উপকরণ এবং সম্পদ ও পোষ্য কম, কিন্তু নামায ও অন্যান্য এবাদতে তাদের অংশ উল্লেখযোগ্য। এতদসত্ত্বেও তারা এমন অপরিচিত ও অখ্যাত যে, তাদের চলাফেরার সময় কেউ তাদের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করে একথা বলে না যে, ইনি অমুক বুযুর্গ বা অমুক সাহেব। তাদের জীবিকা কেবল জীবন ধারণের মত, কিন্তু তারা এতে অন্তর থেকেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত। যখন মৃত্যুর সময় এসে গেল, তখন একেবারে সহজে বিদায়। তাদের পশ্চাতে না থাকে প্রচুর সম্পদ, না থাকে আসবাবপত্র, বাড়ী-ঘর ও বাগান-খামার বন্টনের ঝামেলা, আর না দেখা যায় তাদের উপর ক্রন্দনকারীণী মহিলাদের ভীড়।
নিঃসন্দেহে আল্লাহর এসব বান্দাদের জীবন খুবই ঈর্ষণীয়। আর আল্লাহর শোকর যে, এ ধরনের জীবনের অধিকারী মানুষ থেকে আমাদের এ পৃথিবী এখনও খালি নয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান