আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ

হাদীস নং: ৪৯৩০
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৪৯৩০. হযরত আবূ মূসা আশ'আরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে তার দুনিয়াকে ভালবাসলো, সে তার আখিরাতের সম্পদের ক্ষতি করলো। সুতরাং যা বাকী থাকবে, তাকে তোমরা যা ফানা (ধ্বংসা) হয়ে যাবে তার উপর অগ্রাধিকার দাও।
(আহমদ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। বাযযার, ইবন হিব্বান স্বীয় 'সহীহ'-এ হাকিম বায়হাকী 'কিতাবুয যুহদ' ইত্যাদিতে-সকলেই হাদীসটি মুত্তালিব ইবন আব্দুল্লাহ ইবন হান্‌তাব সূত্রে আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। হাকিম (র) বলেন: হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।
[হাফিয (র) বলেনঃ] মুত্তালিব হাদীসটি আবূ মূসা (রা) থেকে শুনেনি আল্লাহই সমধিক জ্ঞাত।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
4930- وَعَن أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول لله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من أحب دُنْيَاهُ أضرّ بآخرته وَمن أحب آخرته أضرّ بدنياه فآثروا مَا يبْقى على مَا يفنى

رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته ثِقَات وَالْبَزَّار وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ فِي الزّهْد وَغَيره كلهم من
رِوَايَة الْمطلب بن عبد الله بن حنْطَب عَن أبي مُوسَى وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح على شَرطهمَا
قَالَ الْحَافِظ الْمطلب لم يسمع من أبي مُوسَى وَالله أعلم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন যেমন এক ও অভিন্ন নয়, ঠিক তেমনি উভয় স্থানের সুখ-শান্তি লাভের পদ্ধতিও এক নয়। দুনিয়ার সুখ-শান্তি-ঐশ্বর্য হাসিল করার জন্য যে নিজেকে নিয়োজিত করে এবং যে মনে করে দুনিয়াই তার সর্বস্ব, সে কখনো আখিরাতের জীবনের সুখ-শান্তি আহরণের জন্য কঠিন মেহনত করতে পারে না। যারা অদূরদর্শী তারা কখনো আখিরাতের ফায়দার জন্য দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ফায়দা বিসর্জন দিতে পারে না। তাই তারা যে শ্রম ও মেহনত করে, তার দ্বারা শুধু দুনিয়ার আসবাবপত্র ও ধন-দৌলত হাসিল করা যায়, তার দ্বারা আখিরাতের সামান্য পাথেয়ও অর্জন করা যায় না।

অপরদিকে আখিরাতকে যে চিরস্থায়ী মনে করে এবং তার সুখ-শান্তি লাভের জন্য কঠোর চেষ্টা করে, সে দুনিয়ার সুখ-শান্তি ও ধন-দৌলত লাভ করার জন্য কি করে তার মূল্যবান সময় ব্যয় করতে পারে? ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার ততোধিক ক্ষণস্থায়ী জিনিসের গুরুত্ব তার কাছে মোটেই নেই। সে দুনিয়া ততটুকু হাসিল করতে চায় যতটুকু না করলে তার সংসার জীবন চালাতে সে অক্ষম হয়। তাই আখিরাত লাভকারীরা যে চেষ্টা করে, তার দ্বারা দুনিয়ার ঐশ্বর্য লাভ করা যায় না। এর অর্থ এ নয় যে, দুনিয়ার হিস্সা থেকে তারা বঞ্চিত থাকে। তাদের ভাগ্যে দুনিয়ার যে হিস্সা রয়েছে, অবশ্যই আল্লাহ তাদেরকে তা দান করেন।

হাদীসের শেষাংশে অস্থায়ী জিনিসকে স্থায়ী জিনিসের জন্য পরিহার করতে বলা হয়েছে। যে বুদ্ধিমান, দূরদর্শী ও ভবিষ্যতের ভাবনা বেশি করে, সে আখিরাতের জীবনকে বেছে নিতে পারে। যে দুর্বল, অদুরদর্শী ও বর্তমানের চিন্তায় বেশি মশগুল থাকে, সে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জিনিসকে আখিরাতের স্থায়ী জিনিসের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এ ধরনের অপরিণামদর্শী লোক এবং নির্বোধ শিশুর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। শিশুরা প্রয়োজনীয় জিনিসের চেয়ে খেলার সামগ্রীর প্রতিই বেশি গুরুত্ব আরোপ করে থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান