আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ

হাদীস নং: ৪৯৮২
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৪৯৮২. হযরত সাহল ইবন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ(ﷺ)কে রাসুলরূপে প্রেরণের পর থেকে, আল্লাহ তা'আলা তাঁকে তুলে নেয়া পর্যন্ত তিনি ময়দার রুটি দেখেননি। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর যুগে কি আপনারা চালুনি ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন: আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ(ﷺ)-কে প্রেরণের পর থেকে, আল্লাহ তা'আলা তাকে তুলে নেয়া পর্যন্ত তিনি চালুনি দেখেন নি। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, তবে আপনারা কিভাবে অচালা যবের রুটি খেতেন? তিনি বললেন, আমরা যব ভাঙ্গিয়ে নিতাম; অতপর তাতে ফুঁ দিতাম। এতে যা উড়ার উড়ে যেত, আর যা বাকি থাকত তা ভিজিয়ে খামির বানিয়ে নিতাম।
(বুখারী বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
4982- وَعَن سهل بن سعد رَضِي الله عَنهُ قَالَ مَا رأى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم النقي من حِين ابتعثه الله تَعَالَى حَتَّى قَبضه الله فَقيل هَل كَانَ لكم فِي عهد رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم منخل قَالَ مَا رأى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم منخلا من حِين ابتعثه الله حَتَّى قَبضه الله فَقيل فَكيف كُنْتُم تَأْكُلُونَ الشّعير غير منخول قَالَ كُنَّا نطحنه وننفخه فيطير مَا طَار وَمَا بَقِي ثريناه

رَوَاهُ البُخَارِيّ
النقي هُوَ الْخبز الْأَبْيَض الْحوَاري
ثريناه بثاء مُثَلّثَة مَفْتُوحَة وَرَاء مُشَدّدَة بعْدهَا مثناة ثمَّ نون أَي بللناه وعجناه

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীছে হযরত সাহল ইবন সা'দ রাযি. আমাদের জানাচ্ছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত লাভের পর থেকে ওফাত পর্যন্ত কখনও মিহি আটার রুটি দেখেননি। নবুওয়াত লাভের আগে হয়তো দেখে থাকবেন। কেননা তখন তিনি একাধিকবার শাম এলাকায় সফর করেছেন। তখন শাম ছিল রোমানদের অধীন। তারা মিহি আটার রুটি খাওয়াতে অভ্যস্ত ছিল। কাজেই ওই এলাকায় যখন তিনি একাধিকবার গিয়েছেন, তখন ওখানে প্রচলিত খাবার-দাবারও তাঁর চোখে পড়ারই কথা।

হযরত সাহল রাযি. আরও বলছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত লাভের পর থেকে কখনও চালনি দেখেননি। তার মানে তিনি যে আটার রুটি খেতেন তা কখনও চালা হতো না। সাধারণত যবের রুটিই খেতেন। যব ভাঙানোর পর তার দানা গমের আটার মতো মিহি হয় না। সঙ্গে মোটা মোটা ভূসি থেকে যায়। ভুসিসহ সে আটা খাওয়া অনেক কঠিন। তাই প্রশ্ন জাগে, যদি না-ই চালা হয় তবে ভুসিসহ যবের আটা কিভাবে খাওয়া সম্ভব হতো? হযরত সাহল রাযি.-কে সে প্রশ্ন করাও হল। তিনি উত্তরে বললেন-
(আমরা তা পিষতাম, তারপর ফুঁ দিতাম। তাতে যা উড়ে যাওয়ার তা উড়ে যেত। তারপর যা বাকি থাকত তা পানিতে মিশিয়ে খেতাম)। বোঝাই যাচ্ছে চালনি দ্বারা চাললে যেমন সবটা ভূসি আলাদা হয়ে যায়, ফুঁ দেওয়ার দ্বারা তা কখনওই হতো না। আটার সঙ্গে অনেক ভুসি থেকেই যেত। সেই ভুসিযুক্ত যবের আটাই তাঁরা খেতেন। আজ কেউ তা খাবে না। খেলে তা হজমও হবে না। কিন্তু তাঁদের হজম হতো। তাঁরা কষ্টসহিষ্ণুতায় অভ্যস্ত ছিলেন। তাঁদের পক্ষে এসব সম্ভব ছিল। সম্ভব ছিল বলেই যে-কোনও পরিস্থিতি মানিয়ে নিতে পারতেন। অতি অল্প সময়ের ভেতর রোম, পারস্য, আফ্রিকা, স্পেন জয় করে ফেলার পেছনে সন্দেহ নেই এ কষ্টসহিষ্ণুতারও একটা ভূমিকা ছিল। আজ যে আমাদের দ্বারা তেমন কিছুই হয় না, বিলাসপ্রিয়তাও তার একটা কারণ বৈকি।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

পানাহারে কষ্টসহিষ্ণুতা ছিল নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের শান। আমাদেরও তা রপ্ত করা উচিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান