আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ

হাদীস নং: ৫০২৬
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০২৬. হযরত সাহল ইবন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের গোত্রে একজন মহিলা ছিল। সে তার ক্ষেত্রে বীটকপির চাষ করত। যখন শুক্রবার আসত, তখন মহিলাটি বীটের মূল তুলে নিত এবং তা একটি হাঁড়িতে ঢেলে দিত। অতঃপর একট মুষ্টি যব পিষে তাতে মিশিয়ে দিত এবং বীটের মূলে তার ঝোল হত। সাহল বলেন, আমরা জুমু'আর সালাত আদায় করে তাঁর কাছে ফিরে এসে তাকে সালাম দিতাম। সে আমাদের সামনে উক্ত খাবার পরিবেশন করত। অতএব আমরা এ খাবারের জন্যে জুমু'আর দিনের অপেক্ষায় থাকতাম।
অপর এক রিওয়ায়েতে আছ, তাতে চর্বি বা তৈলাক্ত কিছু থাকত না। অথচ আমরা জুমু'আর দিন নিয়ে আনন্দবোধ করতাম।
(বুখারী (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5026- وَعَن سهل بن سعد رَضِي الله عَنهُ قَالَ كَانَت منا امْرَأَة تجْعَل فِي مزرعة لَهَا سلقا فَكَانَت إِذا كَانَ يَوْم الْجُمُعَة تنْزع أصُول السلق فتجعله فِي قدر ثمَّ تجْعَل قَبْضَة من شعير تطحنه فَتكون أصُول السلق عرقه قَالَ سهل كُنَّا ننصرف إِلَيْهَا من صَلَاة الْجُمُعَة فنسلم عَلَيْهَا فتقرب ذَلِك الطَّعَام إِلَيْنَا فَكُنَّا نتمنى يَوْم الْجُمُعَة لطعامها ذَلِك

وَفِي رِوَايَة لَيْسَ فِيهَا شَحم وَلَا ودك وَكُنَّا نفرح بِيَوْم الْجُمُعَة

رَوَاهُ البُخَارِيّ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত সাহ্‌ল রাযি.-এর বর্ণনাটি এখানে সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিস্তারিত বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, জুমু'আর দিন আমরা আনন্দিত হতাম। তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে এখানে উল্লিখিত এ কথাগুলো বলেন। অর্থাৎ জুমু'আর নামাযের পরে ওই বৃদ্ধার কাছে এসে যে খাবার খেতে পারতেন, সেটাই ছিল আনন্দের কারণ। এ বৃদ্ধার নাম জানা যায় না। তবে তিনি তাঁর এক কীর্তিতে স্মরণীয় হয়ে আছেন ও থাকবেন। তিনি জুমু'আর মুসল্লীদের আপ্যায়িত করতেন। আপ্যায়নের উপকরণ ছিল নিতান্তই সাধারণ। চরম ক্ষুধার্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা খেতে চাবে না। বাগান থেকে পালং জাতীয় এক প্রকার সবজি মূলসহ তুলতেন। তারপর সামান্য যবের দানা পিষে তা -এই সবজির সঙ্গে মিশিয়ে পানিতে সেদ্ধ করতেন। না তেল, না কোনও মশলা। মুসুল্লীগণ জুমু'আর নামায পড়ে ফেরার সময় তাকে সালাম দিতেন। তাদের উদ্দেশ্য হত তার অতিথি হিসেবে ওই খাবার খাওয়া। তিনি তাদেরকে পরম স্নেহে ওই খাবার খেতে দিতেন। তারা পরমানন্দে তা খেয়ে নিতেন। তাদের জন্য এটা ছিল অনেক বড় প্রাপ্তি। তাই তারা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে এ কথা মনে রেখেছেন এবং পরবর্তীদের কাছে এটা প্রকাশ ও প্রচারও করেছেন।

এর দ্বারা আঁচ করা যায় সাহাবায়ে কেরাম কত গরীব ছিলেন। তাদের খাদ্যের কত অভাব ছিল। তা না হলে অত তুচ্ছ ও সাধারণ খাবার এমন আনন্দে তারা কেন খাবেন? এমনই কষ্ট-ক্লেশের জীবন তারা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে যাপন করতেন। এরই মধ্য দিয়ে তারা দীন শিখতেন এবং বিপুল উদ্দীপনায় দীনের প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় প্রাণ বিলাতেন। তাদের সে অসামান্য ত্যাগের বদৌলতেই এ মহান দীন আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে।

সাহাবীগণ যখন এ বৃদ্ধার কাছে আসতেন, তখন তারা তাকে সালাম দিতেন। বোঝা গেল বৃদ্ধা নারী মাহরাম না হলেও তাকে সালাম দেওয়া যেতে পারে।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে পরনারীকে সালাম দেওয়া যাবে। বৃদ্ধা নারীর ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য।

খ. আপন সামর্থ্য অনুযায়ী মেহমানকে আপ্যায়ন করা চাই। তাতে খাবারের বস্তু যত সাধারণই হোক না কেন।

গ. আন্তরিকতার সঙ্গে যে খাবার পেশ করা হয় তা যত সাধারণই হোক না কেন, পরম আনন্দের সঙ্গেই তা গ্রহণ করা উচিত।

ঘ. কারও দ্বারা কোনওভাবে উপকৃত হলে তা লুকাতে নেই: অকুণ্ঠভাবে প্রকাশ কর উচিত। এটাও কৃতজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান