আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৪. অধ্যায়ঃ জানাযা
হাদীস নং: ৫২৬৫
অধ্যায়ঃ জানাযা
এমন কিছু বাক্য পাঠে উদ্বুদ্ধকরণ, যা কোন কিছু দ্বারা শরীরে কষ্টপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলে
৫২৬৫. হযরত উসমান ইবন আবুল আ'স (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এমন এক ব্যাখার অভিযোগ করলেন, যা তিনি ইসলাম গ্রহণ অবধি তাঁর শরীরে অনুভব করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে বললেন, তোমার শরীরের যে অংশে ব্যথা অনুভূত হয় সেখানে তোমার হাত রাখবে এবং তিনবার বিসমিল্লাহ বলবে, অতঃপর সাতবার বলবে: أَعُوذُ باللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِن شَرِّ ما أَجِدُ وَأُحَاذِرُ "আমি যে ব্যাথা অনুভব করছি এবং যে আশংকা করছি তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ্ তা'আলা ও তাঁর কুদরতের অশ্রয় প্রার্থনা করছি।"
(মালিক, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মালিক বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষা এই: 'أعوذُ بعزَّةِ اللهِ وقدْرَتِهِ مِنْ شرِّ ما أجدُ "আমি যে ব্যথা অনুভব করছি, তার অনিষ্ট থেকে আমি আল্লাহ্ তা'আলার সম্মান ও কুদরাতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি"।
বর্ণনাকারী বলেন, আমি তা-ই করলাম। ফলে আমার যে ব্যাথা ছিল আল্লাহ তা'আলা তা দূর করে দিলেন। এরপর থেকে আমি এ দু'আটি আমার পরিবার পরিজন ও অন্যান্যদেরকে পড়তে বলে থাকি। তিরমিযী ও আবু দাউদের রিওয়ায়েতে ও অনুরূপই। তবে তাঁরা উভয়ে তাঁদের বর্ণিত রিওয়ায়েতের শুরুতে বলেছেন: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার (উসমান ইবন আবুল আ'স-এর) কাছে এলেন। তখন আমার শরীরে এমন ব্যাথা ছিল, যে আমাকে ধ্বংস করার উপক্রম হয়েছিল। এ দেখে রাসূলুল্লাহ বললেন, তুমি তোমার ডান হাতকে (তোমার ব্যাথাযুক্ত স্থানে) সাতবার বুলাবে। তারপর বলবে - أعوذُ بعزَّةِ اللهِ وقدْرَتِهِ………. الحديث ।
(মালিক, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মালিক বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষা এই: 'أعوذُ بعزَّةِ اللهِ وقدْرَتِهِ مِنْ شرِّ ما أجدُ "আমি যে ব্যথা অনুভব করছি, তার অনিষ্ট থেকে আমি আল্লাহ্ তা'আলার সম্মান ও কুদরাতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি"।
বর্ণনাকারী বলেন, আমি তা-ই করলাম। ফলে আমার যে ব্যাথা ছিল আল্লাহ তা'আলা তা দূর করে দিলেন। এরপর থেকে আমি এ দু'আটি আমার পরিবার পরিজন ও অন্যান্যদেরকে পড়তে বলে থাকি। তিরমিযী ও আবু দাউদের রিওয়ায়েতে ও অনুরূপই। তবে তাঁরা উভয়ে তাঁদের বর্ণিত রিওয়ায়েতের শুরুতে বলেছেন: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার (উসমান ইবন আবুল আ'স-এর) কাছে এলেন। তখন আমার শরীরে এমন ব্যাথা ছিল, যে আমাকে ধ্বংস করার উপক্রম হয়েছিল। এ দেখে রাসূলুল্লাহ বললেন, তুমি তোমার ডান হাতকে (তোমার ব্যাথাযুক্ত স্থানে) সাতবার বুলাবে। তারপর বলবে - أعوذُ بعزَّةِ اللهِ وقدْرَتِهِ………. الحديث ।
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي كَلِمَات يقولهن من آلمه شَيْء من جسده
5265- عَن عُثْمَان بن أبي العَاصِي رَضِي الله عَنهُ أَنه شكا إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وجعا يجده فِي جسده مُنْذُ أسلم
فَقَالَ لَهُ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ضع يدك على الَّذِي يألم من جسدك وَقل بِسم الله ثَلَاثًا وَقل سبع مَرَّات أعوذ بِاللَّه وَقدرته من شَرّ مَا أجد وأحاذر
رَوَاهُ مَالك
وَالْبُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَعند مَالك أعوذ بعزة الله وَقدرته من شَرّ مَا أجد
قَالَ فَفعلت ذَلِك فَأذْهب الله مَا كَانَ بِي فَلم أزل آمُر بهَا أَهلِي وَغَيرهم
وَعند التِّرْمِذِيّ وَأبي دَاوُد مثل ذَلِك وَقَالا فِي أول حَدِيثهمَا أَتَانِي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَبِي وجع قد كَاد يهلكني فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم امسح بيمينك سبع مَرَّات ثمَّ قل أعوذ بعزة الله وَقدرته
الحَدِيث
فَقَالَ لَهُ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ضع يدك على الَّذِي يألم من جسدك وَقل بِسم الله ثَلَاثًا وَقل سبع مَرَّات أعوذ بِاللَّه وَقدرته من شَرّ مَا أجد وأحاذر
رَوَاهُ مَالك
وَالْبُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَعند مَالك أعوذ بعزة الله وَقدرته من شَرّ مَا أجد
قَالَ فَفعلت ذَلِك فَأذْهب الله مَا كَانَ بِي فَلم أزل آمُر بهَا أَهلِي وَغَيرهم
وَعند التِّرْمِذِيّ وَأبي دَاوُد مثل ذَلِك وَقَالا فِي أول حَدِيثهمَا أَتَانِي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَبِي وجع قد كَاد يهلكني فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم امسح بيمينك سبع مَرَّات ثمَّ قل أعوذ بعزة الله وَقدرته
الحَدِيث
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত উছমান ইবন আবুল 'আস রাযি. যখন তায়েফ গোত্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মদীনা মুনাউওয়ারায় গমন করেন এবং কিছুদিন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে কাটান, সেই সময়ের কথা। তাঁর শরীরের একটি অঙ্গে ব্যথা ছিল। তিনি সে কথা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালে তাঁকে এই রুকয়া শিখিয়ে দেন যে, ব্যথার জায়গায় হাত রেখে তিনবার বিসমিল্লাহ বলবে, তারপর সাতবার পড়বে– أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأَحَاذِرُ (আমি আল্লাহর পরাক্রম ও তাঁর কুদরতের আশ্রয় গ্রহণ করছি সেই বিষয়ের অনিষ্ট থেকে, যা আমি অনুভব করছি এবং যার আশঙ্কাবোধ করছি)। এ দু'আর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার কুদরত ও অসীম ক্ষমতার কথা স্বীকার করার দ্বারা বোঝানো হচ্ছে যে, সবরকম রোগ-বালাই ও বিপদ-আপদও তাঁরই ক্ষমতাধীন। তাঁর ইচ্ছায়ই তা দেখা দেয় এবং তাঁর ইচ্ছায়ই তা দূর হয়। তাই আমি তাঁর ক্ষমতার আশ্রয় গ্রহণ করছি, যাতে তিনি আমার বর্তমান ব্যথা-বেদনা ও কষ্ট-ক্লেশ দূর করে দেন এবং ভবিষ্যতে যে দুঃখ-কষ্ট ও ভয়ভীতির আশঙ্কা আমি করছি, তা থেকেও যেন তিনি আমাকে হেফাজত করেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপশমলাভের এ রুকয়া হযরত উছমান ইবন আবুল 'আস রাযি.- কে শিক্ষা দিলেও এটি কেবল তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট নয়; সকলের জন্যই অনুসরণীয়। কাজেই যে-কেউ ব্যথা-বেদনার নিরাময় লাভ করার জন্য পরম বিশ্বাসের সঙ্গে এ রুকয়া অবলম্বন করবে, আশা করা যায় সে এর উপকার পাবে। সুন্নতের অনুসরণ করার কারণে ছাওয়াব তো পাবেই। তাছাড়া এর মধ্যে আল্লাহ তা'আলার যে যিকির আছে তার বরকতও অবশ্যই হাসিল হবে।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. রোগ-ব্যাধির কথা এ উদ্দেশ্যে অন্যের কাছে প্রকাশ করা যেতে পারে, যাতে এ বিষয়ে উপযুক্ত পরামর্শ লাভ হয় এবং নিরাময়ের জন্য তার দু'আও পাওয়া যায়।
খ. বেদনার স্থানে হাত রেখে দু'আপাঠের দ্বারা নিশ্চিত উপকার লাভ হয়, যদিও সে উপকারের ধরন-ধারণ সর্বদা উপলব্ধি করা যায় না। উপকার তো আল্লাহ তা'আলা নিজ ইচ্ছামতোই দিয়ে থাকেন, যা সর্বদা বান্দার বোধগম্য হওয়া অপরিহার্য নয়।
গ. রুকয়া ও দু'আপাঠে তিন, সাত ইত্যাদি সংখ্যার বিশেষ আছর আছে। তাই হাদীছে যে ক্ষেত্রে যে সংখ্যার উল্লেখ আছে তা রক্ষা করা চাই।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. রোগ-ব্যাধির কথা এ উদ্দেশ্যে অন্যের কাছে প্রকাশ করা যেতে পারে, যাতে এ বিষয়ে উপযুক্ত পরামর্শ লাভ হয় এবং নিরাময়ের জন্য তার দু'আও পাওয়া যায়।
খ. বেদনার স্থানে হাত রেখে দু'আপাঠের দ্বারা নিশ্চিত উপকার লাভ হয়, যদিও সে উপকারের ধরন-ধারণ সর্বদা উপলব্ধি করা যায় না। উপকার তো আল্লাহ তা'আলা নিজ ইচ্ছামতোই দিয়ে থাকেন, যা সর্বদা বান্দার বোধগম্য হওয়া অপরিহার্য নয়।
গ. রুকয়া ও দু'আপাঠে তিন, সাত ইত্যাদি সংখ্যার বিশেষ আছর আছে। তাই হাদীছে যে ক্ষেত্রে যে সংখ্যার উল্লেখ আছে তা রক্ষা করা চাই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)